📘 ওভারকামিং ডিপ্রেশন > 📄 শিক্ষার্থীদের বিষণ্ণতার প্রধান কারণসমূহ

📄 শিক্ষার্থীদের বিষণ্ণতার প্রধান কারণসমূহ


১. সময় ও চাপের অসামঞ্জস্য
প্রতিদিনের আইটেম, নিয়মিত কার্ড আর প্রফেসরের চাপে অধিকাংশ মেডিকেল শিক্ষার্থীই নিজের জন্য আলাদা কোনো সময় বের করতে পারে না। প্রতিযোগিতায় নিজেকে মানিয়ে নিতে, দেখা যায়, সারা সপ্তাহই তারা পড়াশোনায় ডুবে থাকে, যা দীর্ঘ সময়ের জন্য তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ভয়ংকর!

২. মেডিকেল পড়াশোনার পাঠ্যক্রম
আমাদের মেডিকেল পড়াশোনার কারিকুলাম যেভাবে পড়ানো হয় এবং যেভাবে পড়া আদায় করা হয়, তার নিজস্ব কারণেই যথেষ্ট ত্রুটিপূর্ণ। নিঃসন্দেহে ডাক্তার হওয়ার জন্য প্রত্যেক শিক্ষার্থীর সবকিছু সম্বন্ধে বেসিক কিছু ধারণা থাকা প্রয়োজন, কিন্তু অনেকাংশেই মেডিকেলের প্রথম, দ্বিতীয়/তৃতীয় বর্ষে আমরা অনেক কিছুই পড়ি, যা আমাদের বর্তমান পেশায় তেমনভাবে কাজে লাগে না, এমনকি আমাদের মনেও থাকে না। মেডিকেল জীবনে এমন কিছু বিষয় রয়েছে, যাতে আমাদের জ্ঞান তো বাড়ে-ইনি, বরং আরও মানসিক চাপ বেড়েছে।

৩. মানসিকতা ও ব্যক্তিত্ব
টাইপ ‘এ’ ব্যক্তিত্বের অধিকারী মানুষের মধ্যে স্বভাবতই অল্পতে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হওয়ার প্রবণতা থাকে। এমন ব্যক্তিত্বের অধিকারী একজন ব্যক্তি যখন মেডিকেলে ভর্তি হন, তখন অনেক সময় মেডিকেলের জীবনযাত্রার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে তার কষ্ট হয়ে যায়। আবার হার মেনে নেওয়া এবং উচ্চ দাঁড়ানোর মতো মানসিকতা না থাকলে যেকোনো ব্যর্থতাই একজন মেডিকেল শিক্ষার্থীর জন্য বিষণ্নতার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

৪. ব্যক্তিগত জীবনের স্ট্রেস
মেডিকেল জীবনের পাশাপাশি প্রতিটি মানুষের ব্যক্তিগত জীবন আছে; যে জীবনে পরিবার আছে, আছে প্রিয় সম্পর্কগুলো। পড়াশোনার চাপের পাশাপাশি যখন এই সম্পর্কগুলোতে অসামঞ্জস্য দেখা যায়, তখন তার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়া আসলেই কষ্টকর। আবার অনেক সময় মেডিকেল শিক্ষার্থীরা ভুলেই যায় তাদের ব্যক্তিগত জীবন আছে এবং সেখানে এমন কিছু মানুষ আছেন, যারা তাদের সময়ের ওপর অধিকার রাখেন!

৫. তুলনা ও দৃষ্টিভঙ্গি
জীবনের প্রতি আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি আমাদের মানসিক অবস্থার অবনতির পেছনে অনেকাংশে দায়ী। উদাহরণস্বরূপ দেখা যায়, যেখানে একটি বিষয়ে দশ পেয়ে পেলেই পাস করা হয়, সেখানে আট/নয় না পেলে আমাদের অনেক সময় মন খারাপ হয়ে যায়।

আবার ডাক্তার হওয়ার পরেও অনেক সময়ে ব্যক্তিগত কারণে ডিগ্রিতে পিছিয়ে পড়ি। কিন্তু অপরকে দেখে ঈর্ষান্বিত হয়ে পড়ার কারণে বিষণ্ণতার সৃষ্টি হয়। কিন্তু ভালোভাবে চিন্তা করলে দেখবেন, জীবনের শেষ সময় আপনার কোন জুড়েল্ট রেজাল্ট কেমন ছিল, সাফ্রি ছিল কি না বা আপনি কবে পোস্টগ্র্যাজুয়েশন শেষ করেছেন, তা খুব একটা গুরুত্ব বহন করে না। নোংরা প্রতিযোগিতার মধ্য থেকে বের হয়ে নিজের চাহিদা মোতাবেক নিজের সুখ খুঁজে নিয়ে মানসিকভাবে ভালো থাকা সম্ভব। যেহেতু এক দিনে রাতারাতি কারিকুলাম পাল্টে ফেলা সম্ভব নয়, তাই আমাদের নিজস্ব ধাপ বাড়ানোর ক্ষমতা বাড়িয়ে এই স্ট্রেস থেকে বের হয়ে আসতে হবে।

১. সময় ও চাপের অসামঞ্জস্য
প্রতিদিনের আইটেম, নিয়মিত কার্ড আর প্রফেসরের চাপে অধিকাংশ মেডিকেল শিক্ষার্থীই নিজের জন্য আলাদা কোনো সময় বের করতে পারে না। প্রতিযোগিতায় নিজেকে মানিয়ে নিতে, দেখা যায়, সারা সপ্তাহই তারা পড়াশোনায় ডুবে থাকে, যা দীর্ঘ সময়ের জন্য তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ভয়ংকর!

২. মেডিকেল পড়াশোনার পাঠ্যক্রম
আমাদের মেডিকেল পড়াশোনার কারিকুলাম যেভাবে পড়ানো হয় এবং যেভাবে পড়া আদায় করা হয়, তার নিজস্ব কারণেই যথেষ্ট ত্রুটিপূর্ণ। নিঃসন্দেহে ডাক্তার হওয়ার জন্য প্রত্যেক শিক্ষার্থীর সবকিছু সম্বন্ধে বেসিক কিছু ধারণা থাকা প্রয়োজন, কিন্তু অনেকাংশেই মেডিকেলের প্রথম, দ্বিতীয়/তৃতীয় বর্ষে আমরা অনেক কিছুই পড়ি, যা আমাদের বর্তমান পেশায় তেমনভাবে কাজে লাগে না, এমনকি আমাদের মনেও থাকে না। মেডিকেল জীবনে এমন কিছু বিষয় রয়েছে, যাতে আমাদের জ্ঞান তো বাড়ে-ইনি, বরং আরও মানসিক চাপ বেড়েছে।

৩. মানসিকতা ও ব্যক্তিত্ব
টাইপ ‘এ’ ব্যক্তিত্বের অধিকারী মানুষের মধ্যে স্বভাবতই অল্পতে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হওয়ার প্রবণতা থাকে। এমন ব্যক্তিত্বের অধিকারী একজন ব্যক্তি যখন মেডিকেলে ভর্তি হন, তখন অনেক সময় মেডিকেলের জীবনযাত্রার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে তার কষ্ট হয়ে যায়। আবার হার মেনে নেওয়া এবং উচ্চ দাঁড়ানোর মতো মানসিকতা না থাকলে যেকোনো ব্যর্থতাই একজন মেডিকেল শিক্ষার্থীর জন্য বিষণ্নতার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

৪. ব্যক্তিগত জীবনের স্ট্রেস
মেডিকেল জীবনের পাশাপাশি প্রতিটি মানুষের ব্যক্তিগত জীবন আছে; যে জীবনে পরিবার আছে, আছে প্রিয় সম্পর্কগুলো। পড়াশোনার চাপের পাশাপাশি যখন এই সম্পর্কগুলোতে অসামঞ্জস্য দেখা যায়, তখন তার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়া আসলেই কষ্টকর। আবার অনেক সময় মেডিকেল শিক্ষার্থীরা ভুলেই যায় তাদের ব্যক্তিগত জীবন আছে এবং সেখানে এমন কিছু মানুষ আছেন, যারা তাদের সময়ের ওপর অধিকার রাখেন!

৫. তুলনা ও দৃষ্টিভঙ্গি
জীবনের প্রতি আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি আমাদের মানসিক অবস্থার অবনতির পেছনে অনেকাংশে দায়ী। উদাহরণস্বরূপ দেখা যায়, যেখানে একটি বিষয়ে দশ পেয়ে পেলেই পাস করা হয়, সেখানে আট/নয় না পেলে আমাদের অনেক সময় মন খারাপ হয়ে যায়।

আবার ডাক্তার হওয়ার পরেও অনেক সময়ে ব্যক্তিগত কারণে ডিগ্রিতে পিছিয়ে পড়ি। কিন্তু অপরকে দেখে ঈর্ষান্বিত হয়ে পড়ার কারণে বিষণ্ণতার সৃষ্টি হয়। কিন্তু ভালোভাবে চিন্তা করলে দেখবেন, জীবনের শেষ সময় আপনার কোন জুড়েল্ট রেজাল্ট কেমন ছিল, সাফ্রি ছিল কি না বা আপনি কবে পোস্টগ্র্যাজুয়েশন শেষ করেছেন, তা খুব একটা গুরুত্ব বহন করে না। নোংরা প্রতিযোগিতার মধ্য থেকে বের হয়ে নিজের চাহিদা মোতাবেক নিজের সুখ খুঁজে নিয়ে মানসিকভাবে ভালো থাকা সম্ভব। যেহেতু এক দিনে রাতারাতি কারিকুলাম পাল্টে ফেলা সম্ভব নয়, তাই আমাদের নিজস্ব ধাপ বাড়ানোর ক্ষমতা বাড়িয়ে এই স্ট্রেস থেকে বের হয়ে আসতে হবে।

📘 ওভারকামিং ডিপ্রেশন > 📄 মেডিকেল শিক্ষার্থীদের করণীয়

📄 মেডিকেল শিক্ষার্থীদের করণীয়


মেডিকেল শিক্ষার্থীরা তাদের বিষণ্ণতা ও আত্মহত্যা প্রবণতা কমানোর জন্য যে কাজগুলো করতে পারেন—
* সপ্তাহে অন্তত এক দিন পড়াশোনা ছাড়া কাটানো।
* প্রতিদিন অন্তত আধাঘণ্টা নিজেকে সময় দেওয়া।
* নিয়মিত শারীরিক ব্যায়ام করা।
* অবশ্যই ঘুম ঠিক রাখা। রাতে ঘুমানো ও প্রয়োজনে সকালে ওঠা।
* পরিবার, বন্ধু ও গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্কগুলোকে সময় দেওয়া।
* ব্যর্থতাকে মেনে নেওয়ার মানসিকতা তৈরি।
* নিজের জীবনের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য নির্ধারণ এবং সেই অনুযায়ী সাবজেক্টে গুরুত্ব দেওয়া।
* নিজের জন্য নিজের চাহিদা নির্ধারণ করা এবং তুলনা বন্ধ করা।
* প্রয়োজনে অবশ্যই মনোরোগবিশেষজ্ঞ ও কাউন্সেলরের সহায়তা নেওয়া।
* আশপাশের কারো মধ্যে বিষণ্ণতা বা আত্মহত্যা প্রবণতা লক্ষ করলে সঙ্গে সঙ্গে তাকে সাহায্য করা এবং কর্তৃপক্ষকে জানানো।

মেডিকেল শিক্ষার্থীরা তাদের বিষণ্ণতা ও আত্মহত্যা প্রবণতা কমানোর জন্য যে কাজগুলো করতে পারেন—
* সপ্তাহে অন্তত এক দিন পড়াশোনা ছাড়া কাটানো।
* প্রতিদিন অন্তত আধাঘণ্টা নিজেকে সময় দেওয়া।
* নিয়মিত শারীরিক ব্যায়ام করা।
* অবশ্যই ঘুম ঠিক রাখা। রাতে ঘুমানো ও প্রয়োজনে সকালে ওঠা।
* পরিবার, বন্ধু ও গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্কগুলোকে সময় দেওয়া।
* ব্যর্থতাকে মেনে নেওয়ার মানসিকতা তৈরি।
* নিজের জীবনের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য নির্ধারণ এবং সেই অনুযায়ী সাবজেক্টে গুরুত্ব দেওয়া।
* নিজের জন্য নিজের চাহিদা নির্ধারণ করা এবং তুলনা বন্ধ করা।
* প্রয়োজনে অবশ্যই মনোরোগবিশেষজ্ঞ ও কাউন্সেলরের সহায়তা নেওয়া।
* আশপাশের কারো মধ্যে বিষণ্ণতা বা আত্মহত্যা প্রবণতা লক্ষ করলে সঙ্গে সঙ্গে তাকে সাহায্য করা এবং কর্তৃপক্ষকে জানানো।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00