📘 অধিকাংশ নারী জাহান্নামী কেন > 📄 হযরত আছিয়ার জীবন সূত্র

📄 হযরত আছিয়ার জীবন সূত্র


হযরত আছিয়া একজন ঐতিহাসিক মহিলা। তাঁর জীবনাদর্শে রয়েছে আল্লাহ পাকের প্রতি অগাধ বিশ্বাস, আখেরাতের ভয়-ভীতি, ত্যাগ-তিতিক্ষা, পার্থিব শান্তি ও ভোগ বিলাসীতার পরিবর্তে পরকালের সুখ শান্তির কামনা ও জুলুম-নির্যাতনের মুখে হকের উপর দৃঢ় থাকার বাস্তব দৃষ্টান্ত। তার স্বামী ছিল প্রভুত্বের দাবীদার মিসরের প্রতাপশালী জালেম রাষ্ট্রপ্রধান ফিরাউন। স্বামীর নির্যাতন-যাতনা, চাপ ও প্রভাবের মুখে সত্যের উপর দৃঢ় থাকায় ইতিহাস সৃষ্টিকারীনি মহিলা হযরত আছিয়া। তিনি তার অনুপম জীবনাদর্শের কারণে যেমন মানবজাতির জন্য বিরাট আদর্শ হয়ে আছেন ও থাকবেন, তেমনি তিনি বিশ্ববাসীর কাছে অমর হয়ে থাকবেন চিরদিন।

📘 অধিকাংশ নারী জাহান্নামী কেন > 📄 আছিয়ার ঈমান সূত্র

📄 আছিয়ার ঈমান সূত্র


মিরাজের রাত্রে রাসূলে পাক (স.) এক প্রকার সুগন্ধি অনুভব করে জিবরাঈল এর মাধ্যমে অবহিত হন যে, এ সুগন্ধি ফিরাউনের কন্যা মাশিতা ও তার সন্তান-সন্ততির। হযরত মূসা (আ.)-এর প্রতি ঈমান আনার কারণে মাশিতা ও তার সন্তান সন্ততিদেরকে আগুনে নিক্ষেপের পর পূর্ব মুহূর্তে ফিরাউনের নিকট দাবী করেন যে, আমাকে ও আমার সন্তানদের আগুনে পোড়ানোর পর সকলের প্রজ্জ্বলিত অস্থি-মজ্জা ও ছাই একত্রে করে একসাথে দাফন করবেন। ফিরাউন এ দাবী মেনে নিয়ে একটি সন্তানকে জ্বলন্ত আগুনে নিক্ষেপ করতে থাকে। আগুনে নিক্ষিপ্ত হওয়ার পর কোলের শিশু ডাকে, হে আম্মাজান! আগুনে নিক্ষিপ্ত হন, কেননা এটি জাহান্নামের আগুনের তুলনায় অতি নগণ্য। এ ডাক শ্রবণের পর মাও আগুনে নিক্ষিপ্ত হন। হযরত আছিয়া স্বচক্ষে মাশিতা ও তার সন্তানদের প্রতি ফিরাউনের এমন নির্দয় কর্মকাণ্ড দেখতে পান। তিনি দেখতে পান যে, অসংখ্য ফেরেশতাদের সমাগম ঘটেছে। মাশিতা ও তার সন্তানদের আত্মাসমূহকে সসম্মানে তাঁরা স্বাগত জানাচ্ছে। এ দৃশ্য দেখে হযরত আছিয়ার মনে হযরত মূসা (আ.) এর প্রতি ঈমান আরও বৃদ্ধি পায় ও সৃষ্টি হয় আল্লাহ পাকের প্রতি অগাদ বিশ্বাস ও মজবুত ঈমান। মাশিতা ও তার সন্তানদের প্রতি এমন নির্মম কর্মকান্ড দেখে হযরত আছিয়া মর্মাহত হন। তিনি দৃঢ়তার সাথে স্বীয় ঈমানের কথা ঘোষণা করেন এমতাবস্থায় ফিরাউন ক্ষিপ্ত হয়ে আছিয়ার সাথে বাক-বিতণ্ডায় লিপ্ত হয়।
ফিরাউন : হে আছিয়া! মাশিতা ও তার সন্তানদের পরিণাম তুমি লক্ষ্য করেছ।
আছিয়া: হে লক্ষ্য করেছি। তোমার এরূপ আচরণ আল্লাহর সাথে ধৃষ্টতার শামিল। তাই তোমার ধ্বংস নিশ্চয়।
ফিরাউন: হে আছিয়া! মনে হয় তোমাকে মাশিতার উন্মাদনায় আক্রমণ করেছে। তুমিও পাগল হয়ে গেলে।
আছিয়া : আমি পাগল হয়নি, বরং আমার প্রতিপালকের প্রতি ঈমান এনেছি।

📘 অধিকাংশ নারী জাহান্নামী কেন > 📄 আছিয়ার ওপর নির্যাতন

📄 আছিয়ার ওপর নির্যাতন


ফিরাউনের সিদ্ধান্ত মোতাবেক আছিয়াকে জিঞ্জিরাবাদ করা হয়। তার হাত-পা বেঁধে নির্যাতন নিপীড়ন চালিয়ে তাকে অতিষ্ট করে তোলা হয়। ফিরাউনের নির্দেশে হযরত আছিয়াকে বিরাট পাথরের নিকট চাপা দিয়ে আল্লাহর পরিবর্তে ফিরাউনকে আল্লাহ বলে স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। অন্যথায় চরম জ্বালা-যন্ত্রণা দিয়ে হত্যার হুমকি দেয়া হয়। ঐতিহাসিকদের মতে হযরত আছিয়ার পবিত্র দেহকে পাথরের আঘাতে ক্ষত বিক্ষত করে, অসহনীয় রৌদ্রতাপে জ্বলন্ত পাথরের নিচে চাপ দিয়ে রাখা হয়। তার চক্ষুদ্বয় উৎপাটন করা হয়। কিন্তু হযরত আছিয়ার বিশ্বাসে চুল পরিমাণ নমনীয়তা, আহাজারী অথবা কোনো ভয়ভীতি প্রকাশ পায়নি। বরং এর মধ্য দিয়ে তিনি ইমান ও মারেফতের অকৃত্রিম স্বাদ উপভোগ করেন। তিনি তাঁর জন্য আল্লাহ কর্তৃক নিয়োজিত অসংখ্য ফেরেশতা ও জান্নাতের, সুখ-সামগ্রী অবলোকন করে পরিতৃপ্ত লাভের গৌরব অর্জন করেন এবং আল্লাহর দরবারে কৃতজ্ঞতা আদায় করেন।

📘 অধিকাংশ নারী জাহান্নামী কেন > 📄 ফেরেশতার আগমন

📄 ফেরেশতার আগমন


বস্তুত হযরত আছিয়ার অন্তর্দৃষ্টি উন্মুক্ত করে দেয়া হয়েছিল। তাকে সহায়তা ও সান্ত্বনা দেওয়ার জন্য ছিল অসংখ্য ফেরেশতার সমাগম। তিনি সচক্ষে জান্নাতের সুখ সামগ্রী প্রত্যক্ষ করেছিলেন। এই সুখ-শান্তি ও, আকর্ষণের সম্মুখে ফিরাউনের অত্যাচার নির্যাতন অনুভূত মোটেও হচ্ছিল না। কিন্তু ফিরাউন তা কিভাবে অনুভব করবে? তাই আছিয়াকে প্রশান্তচিত্তে ও হাস্যোজ্জ্বল দেখে অবাক হয়ে গিয়েছিল। আর বলেছিল আছিয়ার উন্মাদনা দেখে দেখে তোমরা কি অবাক হচ্ছো কিনা? আমি তাকে মৃত্যুর ঘাটে পৌঁছেছি, আর সে প্রশান্ত চিত্তে খিল খিলিয়ে হাসছে?

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00