📄 মায়ে হামীম বা গরম পানি
হাদীসের উক্তি হতে জানা যায়, জাহান্নামে 'মায়ে হামীম' বা উষ্ণ একটি নহর আছে। উক্ত নহরের পানি এতই গরম যে, জাহান্নামীরা পানির পিপাসায় অস্থির হয়ে আল্লাহর কাছে পানি পানি করে আবেদন নিবেদন করলে তিনি উষ্ণনহর হতে পানি পান করতে আদেশ করবেন। জাহান্নামীরা উক্ত পানি পান করলে উষ্ণতার তীব্রতা হেতু তাদের উপরের ওষ্ঠ কর্ণ ও নাক পর্যন্ত উঠে যাবে এবং নিম্নের ওষ্ঠ পেট ও নাভী পর্যন্ত ঝুলে পড়বে। শুধু কি তাই, এতে জাহান্নামীদের নাড়ি-ভুঁড়ি বিগলিত হয়ে গুহ্যদ্বার দিয়ে বের হতে থাকবে। ওদিকে আওয়াজ আসবে, 'নিস্তার নাই, নাই নিস্তার।' (ইমাম গাজ্জালীর মরণের আগে ও পরে-২৩৮)
আল্লাহ পাক বলেন- . وَسُقُوا مَاءً حَمِيمًا فَقَطَّعَ أَمْعَاءَهُمْ “এবং তাদেরকে (জাহান্নামী) পান করতে দেয়া হবে ফুটন্ত পানি যা তাদের নাড়ি-ভুঁড়ি ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন করে দিবে”। (সূরা মুহাম্মাদ-১৫) তিনি অন্যত্র ইরশাদ করেন, وَإِنْ يَسْتَغِيثُوا يُغَاثُوا بِمَاءِ كَالْمُهْلِ يَشْوِي الْوُجُوهَ بِئْسَ الشَّرَابُ وَسَاءَتْ مُرْتَفَقًا .
“তারা পানীয় চাইলে তাদেরকে দেয়া হবে গলিত ধাতুর ন্যায় পানীয়, যা তাদের মুখমন্ডল দগ্ধ করবে, ইহা নিকৃষ্ট পানীয় ও অগ্নি। উহা কত নিকৃষ্ট আশ্রয়'। (সূরা কাহফঃ-২৯) তিনি অন্যত্র ইরশাদ করেন,
مِنْ وَرَآبِهِ جَهَنَّمُ وَيُسْقَى مِنْ مَّاءٍ صَدِيدٍ - يَتَجَرَّعُهُ وَلَا يَكَادُ يُسِيغُهُ وَ يَأْتِيهِ الْمَوْتُ مِنْ كُلِّ مَكَانٍ وَمَا هُوَ بِمَيِّتِ وَ مِنْ وَرَ آبِهِ عَذَابٌ غَلِيظٌ .
“তাদের প্রত্যেকের জন্য পরিণামে জাহান্নাম রয়েছে এবং প্রত্যেককে পান করানো হবে গলিত পুঁজ, যা সে অতি কষ্টে গলাধঃকরণ করবে এবং উহা গলাধঃকরণ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে। সর্বধিক হতে তার নিকট আসবে মৃত্যু যন্ত্রণা কিন্ত তার মৃত্যু ঘটবে না এবং সে কঠোর শাস্তি ভোগ করতেই থাকবে।” (সূরা ইবরাহীম, ১৬-১৭)
অতএব, উল্লেখিত আয়াতসমূহ থেকে প্রতীয়মান হয় যে, জাহান্নামীদের পানীয় হিসেবে আল্লাহ তা'আলা চার প্রকারের বস্তু নির্ধারণ করেছেন। যেমনঃ
১। গরম পানি। যার উত্তপ্ততা শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে, যার পরে অধিক গরম করা সম্ভব নয়। আল্লাহ তা'আলা বলেন,
يَطُوفُونَ بَيْنَهَا وَبَيْنَ حَمِيمٍ ان .
'তারা জাহান্নামের অগিড়ব ও ফুটন্ত পানির মধ্যে ছুটাছুটি করবে'। (সূরা আর-রাহমান: ৪৪) তিনি আরো বলেন, -انِيَةٍ تُسْقَى مِنْ عَيْنِ انِيَةٍ .
'তাদের পান করানো হবে ফুটন্ত ঝর্ণা থেকে”। (সূরা গাশিয়াহ : ৫) আয়াতে তাপের শেষ পর্যায়কে বুঝানো হয়েছে যার পরে অধিক গরম করা সম্ভব নয়।
২। জাহান্নামীদের শরীর হতে গড়িয়ে পড়া রক্ত পুঁজ মিশ্রিত গরম তরল পদার্থ অথবা বলা হয়ে থাকে যেনাকারী মহিলাদের লজ্জাস্থান হতে দুর্গন্ধযুক্ত পদার্থ যা বের হয় তা।
৩। জাহান্নামীদের গোশত এবং চামড়া নিঃসৃত দুর্গন্ধযুক্ত পুঁজ।
৪। গলিত তামা। (জাহান্নামের আগুন, মুফতী সালাউদ্দীন মাসউদ-৯৭)
📄 জাহান্নামীদের জন্য আগুনের তৈরি পোশাক-পরিচ্ছদ
ইরশাদ হচ্ছে- فَالَّذِينَ كَفَرُوا قُطِعَتْ لَهُمْ ثِيَابٌ مِّنْ نَّارٍ يُصَبُّ مِنْ فَوْقِ رُءُوسِهِمُ الْحَمِيمُ .
‘যারা কুফরী করে তাদের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে আগুনের পোশাক, আর তাদের মাথার উপর ঢালা হবে ফুটন্ত পানি।” (সূরা হাজ্জ : ১৯) আরো ইরশাদ হচ্ছে, وَ تَرَى الْمُجْرِمِينَ يَوْمَئِذٍ مُقَرَّنِينَ فِي الْأَصْفَادِ . سَرَابِيلُهُمْ مِّنْ قَطِرَانٍ وَتَغْشَى وُجُوهَهُمُ النَّارُ .
‘সেই দিন তুমি অপরাধীদেরকে দেখবে শৃঙ্খলিত অবস্থায়, আর তাদের জামা হবে আলকাতরার এবং অগ্নি আচ্ছন্ন করবে তাদের মুখমণ্ডল।” (সূরা ইবরাহীম ৪৯-৫০) এ সম্পর্কে হাদীসে এসেছে, আবু মালেক আল-আশ'আরী (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, (মৃতের জন্য) বিলাপ করে ক্রন্দনকারিণী তার মৃত্যুর পূর্বে তাওবা না করলে কিয়ামতের দিন তাকে আলকাতরার তৈরি পোশাক এবং লোহার দস্তার তৈরি বর্ম পরিয়ে উঠানো হবে। (মুসলিম, হাদীস নং-২২০৩)
📄 মাথায় গরম পানি ঢেলে শাস্তি প্রদান
আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন, ط فَالَّذِينَ كَفَرُوا قُطِعَتْ لَهُمْ ثِيَابٌ مِّنْ نَارٍ يُصَبُّ مِنْ فَوْقِ رُءُوسِهِمُ الْحَمِيمُ - يُصْهَرُ بِهِ مَا فِي بُطُونِهِمْ وَالْجُلُودُ.
‘যারা কুফরী করে তাদের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে আগুনের, পোশাক, আর তাদের মাথার উপর ঢালা হবে ফুটন্ত পানি, যা দ্বারা তাদের পেটে যা আছে তা এবং তাদের চর্ম বিগলিত করা হবে।" (সূরা হজ্জ : ১৯-২০)
হাদীস শরীফে ইরশাদ হয়েছে,
আবু হুরায়রা রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘জাহান্নামীদের মাথায় গরম পানি ঢালা হবে, এমনকি তা পেটের মধ্যে প্রবেশ করবে। ফলে পেটের ভিতরে যা কিছু আছে সবকিছু গলে পায়ের দিকে গড়িয়ে পড়বে।” (তিরমিযী, হাদীস নং-২৫২০)
📄 জাহান্নামীদের দেহের আকৃতি
অধিক আযাব ভোগ করার জন্য দেহ বিরাট আকৃতি বিশিষ্ট হওয়া যুক্তিসংগত। কারণ আযাব হাড়ে হাড়ে পৌঁছানোর জন্য বিশাল দেহ হওয়া প্রয়োজন। তাই জাহান্নামীদের দেহাকৃতি হবে বিশাল। দেখলে যে কেহই অভক্তি হবে, ভীত হবে দেখলে তাদের বিরাটকায় আকৃতি।
এ বিষয়ে হাদীসে বলা হয়েছে-
হযরত নবী কারীম (সা.) বলেছেন: জাহান্নামী কাফেরদের এক বাহু হতে অপর বাহুর দূরত্ব হবে তিন দিনের পথ, যদিও তার উপর দিয়ে কোন দ্রুতগামী ঘোড়া চলে যায়। কাফেরদের এক একটি দাঁত হবে উহুদ পাহাড়ের সমান, চামড়া হবে তিন দিনের পথ সমতুল্য পুরু বা মোটা। (বুখারী, 'জান্নাত ও জাহান্নামের বিবরণ' হা:/৬৫৫১)।