📘 নফস ও শয়তানের সাথে মোকাবেলা > 📄 শয়তানের কিছু বিরল কৌশল

📄 শয়তানের কিছু বিরল কৌশল


পূর্বের পরিচ্ছেদে ইবলীছ শয়তানের কমন ওয়াছয়াছার বিষয়ে অর্থাৎ, সাধারণত যেসব বিষয়ে সে ওয়াছওয়াছা দিয়ে থাকে তা নিয়ে অল্প-বিস্তর আলোচনা পেশ করা হল। এবার ইবলীছ শয়তানের দু' ধরনের কৌশল— অর্থাৎ, ওয়াছওয়াছার দু' ধরনের কৌশল— প্রসঙ্গে কিছু কথা বলতে যাচ্ছি। ১. নিত্য কৌশল, ২. বিরল কৌশল। নিত্য কৌশল বলতে বুঝাচ্ছি সেসব কৌশল যা সে সচরাচর গ্রহণ করে থাকে এবং সবার বেলায় গ্রহণ করে থাকে। আর বিরল কৌশল বলতে এমন কোন কৌশল যা নতুন, যা পূর্বে ছিল না কিংবা যা সবার বেলায় গ্রহণ করে না, বরং বিশেষ বিশেষ লোকের বেলায় এবং বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে গ্রহণ করে থাকে। অনেকের বেলায় এমন সব কৌশলও অবলম্বন করে যা রীতিমত অভিনব। নিম্নে কয়েকটা বিরল ও অভিনব কৌশল সম্বন্ধে আলোচনা পেশ করা গেল।

• একবার আমাদের গ্রামের (খুলনা জেলার রূপসা থানার মৈশাগুনি গ্রামের) একজন লোক আমার কাছে এসে বলল, হুজুর! আমাদের গ্রামের একজন লোক স্বপ্নে দেখেছে কে যেন অদৃশ্যে থেকে তাকে বলছে, তুই মন্দিরে গিয়ে মনসাকে দুধ কলা দিয়ে আয়, নতুবা তোর ছেলে মারা যাবে। লোকটি আমাকে বলল, হুজুর! এই স্বপ্ন দেখার পর সে খুব দুশ্চিন্তায় আছে, তার একটি মাত্র ছেলে। এখন সে কী করতে পারে? আমি বললাম, এটা শয়তানের দেখানো স্বপ্ন। এভাবে শয়তান তাকে মূর্তি পূজায় লিপ্ত করে কাফের বানিয়ে তাকে চির জাহান্নামী করে দিতে চায়। মানুষকে মারার ক্ষমতা শয়তানের নেই। শয়তান জিন জাতির অন্তর্ভুক্ত তাই সে জিনদের মত আছর করতে পারে মাত্র। লোকটা যদি মনসাকে দুধ কলা না দেয় তাহলে বেশির থেকে বেশি শয়তান তার ছেলের উপর আছর করে তাকে অসুস্থ বানিয়ে ফেলতে পারবে। আর দুধ কলা না দেয়ার পর যখনই সে তার ছেলেকে অসুস্থ হতে দেখবে তখন মনে করবে এই বুঝি আমার ছেলে মরতে যাচ্ছে, তখন সে অবশ্যই মনসাকে দুধ কলা দিয়ে মুশরিক কাফেরে পরিণত হবে। এই হল শয়তানের কৌশল। আমি লোকটিকে বললাম, আপনি গিয়ে আশপাশের কিছু লোক জড় করে তাদের সামনে প্রকাশ্যে আমার নাম নিয়ে বলবেন যে, মাওলানা হেমায়েত সাহেব বলেছেন, মনসাকে দুধ কলা দেয়া যাবে না, যদি তার ছেলে অসুস্থ হয়ে পড়ে তাহলে মাওলানা হেমায়েত সাহেব তাকে জিন শয়তানের আছরের তাবীজ দিবেন, ইনশাআল্লাহ সে আছর-মুক্ত হয়ে সুস্থ হয়ে দাঁড়াবে। আমার চিন্তা ছিল লোকটা এভাবে জনসমক্ষে আমার নাম বললে শয়তানও জানবে বুঝবে যে, এবার এ ঘটনার পেছনে এক কড়া মৌলবী লেগেছে, আমি জিততে পারব না। তখন সে এই মিশন থেকে সরে দাঁড়াবে। শয়তানের চক্রান্ত অত মজবুত হয় না। কুরআনে কারীমের এক আয়াতে বলা হয়েছে, إِنَّ كَيْডَ الشَّيْطَانِ كَانَ ضَعِيفًا . অর্থাৎ, নিশ্চয় শয়তানের কৌশল দুর্বল হয়ে থাকে। (সূরা নিছা: ৭৬) যাহোক আমার কৌশলে কাজ হয়েছিল মনে হয়। কারণ সেই লোকের ছেলের অসুস্থ হওয়ার কোন সংবাদ আমার কাছে পৌঁছেনি।

• পূর্বের মতই আর একটা ঘটনা বলছি। তবে এ ঘটনায় একটু ভিন্নতা রয়েছে। বিগত ৪/৫/২০১৬ তারিখে একজন লোক আমাকে ফোন করেছিল যে, এক ব্যক্তি কয়েকটা সাপ মারার পর তার খুব জ্বর হয়েছিল। কোন ডাক্তার কবিরাজে কাজ হচ্ছিল না। তখন হঠাৎ একজন হিন্দু সাধুর সঙ্গে তার দেখা। সাধু তাকে বলল, তোর জ্বর কেন হয়েছে তা জানিস? মনসা দেবিকে মারার কারণে। তোর জ্বর ভাল হবে না। তুই মন্দিরে গিয়ে মনসা দেবির সামনে হাত জোড় করে ক্ষমা প্রার্থনা কর। তাহলে তোর জ্বর সারবে। এই কথার ভিত্তিতে লোকটা মন্দিরে গিয়ে মনসা দেবীর কাছে ক্ষমা চেয়েছে। ক্ষমা চাওয়ার পর তার জ্বর ভাল হয়ে গেছে। এখন ঐ লোকটার কী করণীয়? আর ব্যাপারটার রহস্যই বা কি একটু খুলে বলুন তো। আমি বললাম, কী করণীয় তা পরে বলছি। আগে শুনুন ঘটনার রহস্য। ঐ যে সাধুর সঙ্গে হঠাৎ দেখা, ও কোন মানুষ নয়। মানুষ গায়েব জানে না। সেই সাধু মানুষ হয়ে থাকলে সে জানল কী করে যে, সাপ মারার পর থেকে তার জ্বর হয়েছে। তাই ও সাধু কোন মানুষ নয়, ও ছিল আসলে জিন শয়তান। ঐ জিন শয়তানই আছর করার ফলে তার জ্বর হয়েছিল। তারপর যখন তার কথামত লোকটা মনসা দেবীর কাছে ক্ষমা চেয়েছে, তখন শয়তান তার আছর তুলে নিয়েছে। আর এভাবে শয়তান লোকটাকে শিরকে লিপ্ত করেছে। এটাই ছিল শয়তানের উদ্দেশ্য। তাকে শিরকে লিপ্ত করার জন্যই শয়তানের এই অভিনব কৌশল। তারপর বললাম, এবার শুনুন লোকটার করণীয় কি। সে শিরক থেকে তওবা করুক এবং ঈমানকে নবায়ন করে নিক।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00