📘 মুসলিম সমাজে প্রচলিত ১০১ ভুল > 📄 ৫৫. জাহেরি ইলম, বাতেনি ইলম, মারেফতি ইলম

📄 ৫৫. জাহেরি ইলম, বাতেনি ইলম, মারেফতি ইলম


৫৫. কিছু সুফি সাধক ইল্মকে দুইভাগে ভাগ করেন, যাহেরি ইল্ম ও বাতেনি ইল্ম। তারা বলেন, বাতেনি ইল্ম কুরআন হাদিসের ইল্ম থেকে পৃথক। কঠোর সাধনার মাধ্যমেই কেবল এই ইল্ম লাভ করা যায়। এটাকে তারা রূহানি ইল্মও বলে থাকেন। আবার কেউ কেউ এটাকে ইলমে লাদুন্নিও বলেন। ইল্মের এই বিভাগ এবং বাতেনি ইল্মের সত্যতা সম্পর্কে জানতে চাই।

কুরআন হাদিসে ইল্মকে যাহেরি ও বাতেনি নামে কোনো প্রকার ভাগ করা হয়নি। রূহানি ইল্ম এবং ইলমে লাদুন্নির অস্তিত্বও কুরআন হাদিসে নেই। মনে রাখবেন, কুরআন সুন্নাহ পরিপূর্ণ ও নিখুঁত (perfect) জ্ঞানভান্ডার। এর বাইরে ইসলামি জ্ঞানের কোনো অস্তিত্ব নেই। বাকি সবকিছুর মানদন্ড (criterion) কুরআন সুন্নাহ:

الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الْإِسْلَامَ دِينًا

অর্থ: আজ আমি তোমাদের জন্যে তোমাদের দীনকে পূর্ণাঙ্গ (perfect) করে দিলাম, তোমাদের প্রতি সম্পূর্ণ (complete) করে দিলাম আমার অনুগ্রহ (অহি) এবং তোমাদের দীন মনোনীত করলাম ইসলামকে। (সূরা ৫ মায়িদা: আয়াত ৩)

ইসলামকে জানা বুঝা, মানা অনুসরণ করা এবং আল্লাহর সাথে সম্পর্ক স্থাপন ও উন্নত করার জন্যে এর বাইরে আর কোনো ইল্মের অস্তিত্ব নেই। আল্লাহ পাক সুস্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন:

اتَّبِعُوا مَا أُنزِلَ إِلَيْكُم مِّن رَّبِّكُمْ وَلَا تَتَّبِعُوا مِن دُونِهِ أَوْلِيَاءَ قَلِيلاً مَّا تَذَكَّرُونَ .

অর্থ: তোমাদের রব-এর পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে যা নাযিল করা হয়েছে, তোমরা কেবল তারই অনুসরণ করো এবং তাঁকে ছাড়া অন্য অলিদের অনুসরণ করো না। তবে, তোমরা খুব কমই উপদেশ গ্রহণ করো। (সূরা ৭ আ'রাফ: আয়াত ৩)

إِن يَتَّبِعُونَ إِلَّا الظَّنَّ وَإِنَّ الظَّنَّ لَا يُغْنِي مِنَ الْحَقِّ شَيْئًا .

অর্থ: এসব লোক শুধু ধারণা অনুমানেরই অনুসরণ করে। সত্য জ্ঞানের বর্তমানে ধারণা অনুমানের কোনো মূল্যই নেই। (সূরা ৫৩ আন নজম: আয়াত ২৮। আরো দ্রষ্টব্য: ৩:৭, ৬:১১৬, ১০:৬৬, ৫৩:২৩)

সুতরাং কুরআন সুন্নাহর বাইরে যদি কোনো ইসলামি জ্ঞান বা জ্ঞানোৎসের দাবি করা হয়, তবে তা অবশ্যই মনগড়া অথবা শয়তানের প্ররোচনা।

৫৫. কিছু সুফি সাধক ইল্মকে দুইভাগে ভাগ করেন, যাহেরি ইল্ম ও বাতেনি ইলুম। তারা বলেন, বাতেনি ইল্ম কুরআন হাদিসের ইল্ম থেকে পৃথক। কঠোর সাধনার মাধ্যমেই কেবল এই ইল্ল্ম লাভ করা যায়। এটাকে তারা রূহানি ইল্মও বলে থাকেন। আবার কেউ কেউ এটাকে ইলমে লাদুন্নিও বলেন। ইল্মের এই বিভাগ এবং বাতেনি ইল্মের সত্যতা সম্পর্কে জানতে চাই।

কুরআন হাদিসে ইল্মকে যাহেরি ও বাতেনি নামে কোনো প্রকার ভাগ করা হয়নি। রূহানি ইল্ম এবং ইলমে লাদুন্নির অস্তিত্বও কুরআন হাদিসে নেই।

মনে রাখবেন, কুরআন সুন্নাহ পরিপূর্ণ ও নিখুঁত (perfect) জ্ঞানভান্ডার। এর বাইরে ইসলামি জ্ঞানের কোনো অস্তিত্ব নেই। বাকি সবকিছুর মানদন্ড (criterion) কুরআন সুন্নাহ:

الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الْإِسْلَامَ دِينًا

অর্থ: আজ আমি তোমাদের জন্যে তোমাদের দীনকে পূর্ণাঙ্গ (perfect) করে দিলাম, তোমাদের প্রতি সম্পূর্ণ (complete) করে দিলাম আমার অনুগ্রহ (অহি) এবং তোমাদের দীন মনোনীত করলাম ইসলামকে। (সূরা ৫ মায়িদা: আয়াত ৩)

ইসলামকে জানা বুঝা, মানা অনুসরণ করা এবং আল্লাহ্র সাথে সম্পর্ক স্থাপন ও উন্নত করার জন্যে এর বাইরে আর কোনো ইল্মের অস্তিত্ব নেই। আল্লাহ পাক সুস্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন: اتَّبِعُوا مَا أُنزِلَ إِلَيْكُم مِّن رَّبِّكُمْ وَلَا تَتَّبِعُوا مِن دُونِهِ أَوْلِيَاءَ قَلِيلًا مَّا تَذَكَّرُونَ .

অর্থ: তোমাদের রব-এর পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে যা নাযিল করা হয়েছে, তোমরা কেবল তারই অনুসরণ করো এবং তাঁকে ছাড়া অন্য অলিদের অনুসরণ করোনা। তবে, তোমরা খুব কমই উপদেশ গ্রহণ করো। (সূরা ৭ আ'রাফ: আয়াত ৩) إِن يَتَّبِعُونَ إِلَّا الظَّنَّ وَإِنَّ الظَّنَّ لَا يُغْنِي مِنَ الْحَقِّ شَيْئًا .

অর্থ: এসব লোক শুধু ধারণা অনুমানেরই অনুসরণ করে। সত্য জ্ঞানের বর্তমানে ধারণা অনুমানের কোনো মূল্যই নেই। (সূরা ৫৩ আন নজম: আয়াত ২৮। আরো দ্রষ্টব্য: ৩:৭, ৬:১১৬, ১০:৬৬, ৫৩:২৩)

সুতরাং কুরআন সুন্নাহর বাইরে যদি কোনো ইসলামি জ্ঞান বা জ্ঞানোৎসের দাবি করা হয়, তবে তা অবশ্যি মনগড়া অথবা শয়তানের প্ররোচনা।

📘 মুসলিম সমাজে প্রচলিত ১০১ ভুল > 📄 ৫৬. ১০০ বার ..... (অস্পষ্ট)

📄 ৫৬. ১০০ বার ..... (অস্পষ্ট)


৫৬. মক্তবে ১৩০ ফরয পড়ানো হয়। ১৩০ ফরযের সূত্র কি? তাতে চার মাযহাবকেও চার ফরয বলা হয়।

১৩০ ফরযের কোনো ভিত্তি নেই। মাযহাব মানা ফরয তো নয়ই। এমনকি সুন্নতও নয়। এটি একটি ভুল শিক্ষা মুসলিম সমাজে প্রবেশ করেছে।

৫৬. মক্তবে ১৩০ ফরয পড়ানো হয়। ১৩০ ফরযের সূত্র কি? তাতে চার মাযহাবকেও চার ফরয বলা হয়।

১৩০ ফরযের কোনো ভিত্তি নেই। মাযহাব মানা ফরয তো নয়ই। এমনকি সুন্নতও নয়।

এটি একটি ভুল শিক্ষা মুসলিম সমাজে প্রবেশ করেছে।

📘 মুসলিম সমাজে প্রচলিত ১০১ ভুল > 📄 ৫৭. জনি আংটি ও মাজেজা আংটি ধারণ করা

📄 ৫৭. জনি আংটি ও মাজেজা আংটি ধারণ করা


৫৭. আজকাল ব্যাপকভাবে জন্ম বার্ষিকী ও মৃত্যু বার্ষিকী পালন করার তোড়জোড় দেখা যায়। নিজের, সন্তানের, পীর বুযুর্গের, পিতা মাতার ও নেতাদের মৃত্যু বার্ষিকী পালন করা হয়। -এটা বৈধ কি?

জন্ম মৃত্যু বার্ষিকী পালন করা ইসলামি রেওয়াজ নয়। আল্লাহর রসূল এটা করেননি। সাহাবীগণ রসূলের এবং তাদের নিজেদের জন্ম মৃত্যু বার্ষিকী পালন করেননি। এসব উপলক্ষে তাঁরা কোনো প্রকার অনুষ্ঠানাদির আয়োজন করেননি।

সুতরাং জন্ম মৃত্যু বার্ষিকী পালন করা একটি বিদ'আত, এমনকি সে অনুষ্ঠানে যদি কুরআন তিলাওয়াত, ধর্মীয় আলোচনা এবং দোয়ার আয়োজনও করা হয়। তবে মৃত ব্যক্তিদের উত্তম গুণাবলী সব সময়ই আলোচনা হতে পারে এবং তাদের জন্যে সব সময়ই দোয়া করা যেতে পারে। বিদআত শুধু জন্ম মৃত্যুর তারিখে বা উপলক্ষে অনুষ্ঠান করা বা বার্ষিকী পালন করা।

৫৭. আজকাল ব্যাপকভাবে জন্ম বার্ষিকী ও মৃত্যু বার্ষিকী পালন করার তোড়জোড় দেখা যায়। নিজের, সন্তানের, পীর বুযুর্গের, পিতা মাতার ও নেতাদের মৃত্যু বার্ষিকী পালন করা হয়। -এটা বৈধ কি?

জন্ম মৃত্যু বার্ষিকী পালন করা ইসলামি রেওয়াজ নয়। আল্লাহ্র রসূল এটা করেননি। সাহাবীগণ রসূলের এবং তাদের নিজেদের জন্ম মৃত্যু বার্ষিকী পালন করেননি। এসব উপলক্ষে তাঁরা কোনো প্রকার অনুষ্ঠানাদির আয়োজন করেননি।

সুতরাং জন্ম মৃত্যু বার্ষিকী পালন করা একটা বিদ'আত, এমনকি সে অনুষ্ঠানে যদি কুরআন তিলাওয়াত, ধর্মীয় আলোচনা এবং দোয়ার আয়োজনও করা হয়।

তবে মৃত ব্যক্তিদের উত্তম গুণাবলী সব সময়ই আলোচনা হতে পারে এবং তাদের জন্যে সব সময়ই দোয়া করা যেতে পারে। বিদআত শুধু জন্ম মৃত্যুর তারিখে বা উপলক্ষে অনুষ্ঠান করা বা বার্ষিকী পালন করা।

📘 মুসলিম সমাজে প্রচলিত ১০১ ভুল > 📄 ৫৮. ফোটা দিয়ে চেহারা করা

📄 ৫৮. ফোটা দিয়ে চেহারা করা


৫৮. গ্রামে গঞ্জে দেখা যায় নৈতিক অপরাধের জন্যে ফতোয়া দিয়ে কিংবা সালিশি করে ছেলে বা মেয়েদেরকে, বিশেষ করে মেয়েদেরকে দোররা মারা হয়। এটা কি বৈধ?

যিনা-ব্যভিচার বা অনৈতিক ও অশ্লীল কাজের জন্যে গ্রামে গঞ্জে বিচ্ছিন্ন ফতোয়া দিয়ে বা সালিশি করে দন্ড প্রয়োগ করার অনুমতি ইসলামে নেই। ইসলামি নিয়মানুযায়ী যে কোনো দন্ডযোগ্য অপরাধের জন্যে অপরাধীকে শাস্তি প্রদানের দায়িত্ব হলো সরকারের। এর নিয়ম হলো, যে কোনো অপরাধের জন্যে-
১. সরকারি বা সরকার অনুমোদিত আদালতে অভিযোগ (মকদ্দমা) দায়ের করতে হবে।
২. ঘটনা প্রত্যক্ষকারী নির্ধারিত সংখ্যক সাক্ষী থাকতে হবে।
৩. প্রশাসনের সহযোগিতায় আদালত কর্তৃক ঘটনা তদন্ত করতে হবে।
৪. অতপর সাক্ষ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে বিধি অনুযায়ী আদালত কর্তৃক অভিযুক্তের শাস্তি হবে।
৫. উপযুক্ত সাক্ষ্য প্রমাণ না পাওয়া গেলে অভিযুক্ত অভিযোগ থেকে রেহাই পাবে।

এ নিয়মের বরখেলাফ করে অন্য কোনো ভাবে দন্ড প্রয়োগ করার অনুমতি ইসলামে নেই। তবে পিতা মাতা, অভিভাবক এবং শিক্ষক কর্তৃক সন্তান, অধীনস্ত এবং ছাত্রদেরকে শিক্ষা প্রদান ও সতর্ক করার জন্যে কোনো লঘু শাস্তি প্রদান (তাযীর) করা হলে তা বৈধ।

৫৮. গ্রামে গঞ্জে দেখা যায় নৈতিক অপরাধের জন্যে ফতোয়া দিয়ে কিংবা সালিশি করে ছেলে বা মেয়েদেরকে, বিশেষ করে মেয়েদেরকে দোররা মারা হয়। এটা কি বৈধ?

যিনা-ব্যভিচার বা অনৈতিক ও অশ্লীল কাজের জন্যে গ্রামে গঞ্জে বিচ্ছিন্ন ফতোয়া দিয়ে বা সালিশি করে দন্ড প্রয়োগ করার অনুমতি ইসলামে নেই।

ইসলামি নিয়মানুযায়ী যে কোনো দন্ডযোগ্য অপরাধের জন্যে অপরাধীকে শাস্তি প্রদানের দায়িত্ব হলো সরকারের।

এর নিয়ম হলো, যে কোনো অপরাধের জন্যে-

১. সরকারি বা সরকার অনুমোদিত আদালতে অভিযোগ (মকদ্দমা) দায়ের করতে হবে।
২. ঘটনা প্রত্যক্ষকারী নির্ধারিত সংখ্যক সাক্ষী থাকতে হবে।
৩. প্রশাসনের সহযোগিতায় আদালত কর্তৃক ঘটনা তদন্ত করতে হবে।
৪. অতপর সাক্ষ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে বিধি অনুযায়ী আদালত কর্তৃক অভিযুক্তের শাস্তি হবে।
৫. উপযুক্ত সাক্ষ্য প্রমাণ না পাওয়া গেলে অভিযুক্ত অভিযোগ থেকে রেহাই পাবে। এ নিয়মের বরখেলাফ করে অন্য কোনো ভাবে দন্ড প্রয়োগ করার অনুমতি ইসলামে নেই।

তবে পিতা মাতা, অভিভাবক এবং শিক্ষক কর্তৃক সন্তান, অধীনস্ত এবং ছাত্রদেরকে শিক্ষা প্রদান ও সতর্ক করার জন্যে কোনো লঘু শাস্তি প্রদান (তাযীর) করা হলে তা বৈধ।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00