📘 মুসলিম সমাজে প্রচলিত ১০১ ভুল 📄 ০৬. কাশ্ফ এবং ইলহামের মাধ্যমে নির্দেশ লাভ

📄 ০৬. কাশ্ফ এবং ইলহামের মাধ্যমে নির্দেশ লাভ


৬. কাশফ এবং ইলহামের মাধ্যমে পাওয়া নির্দেশ সম্পর্কে শরিয়তের বিধান কি? অলিগণ নাকি এভাবে নির্দেশ পেয়ে থাকেন? অনেক সময় বিভিন্ন পীর বুযুর্গ সম্পর্কে বলা হয়: অমুকের কাশফ হয়েছে, অমুকের কাছে ইলহাম হয়েছে। কাশফ ও ইলহাম দীনি জ্ঞানের ভিত্তি নয়। এ ধরণের কথাবার্তা সবই দীনের মধ্যে বিভ্রান্তিকারী। এ ব্যাপারে ইসলামের সুস্পষ্ট নীতিমালা হলো:

১. দীনি জ্ঞানের উৎস হলো আল কুরআন এবং সুন্নাহ। পীর বুযুর্গের কাশফ ও ইলহাম দীনি জ্ঞানের উৎস নয়।

২. দীনের ইলম, হুকুম আহকাম, বিধি বিধান, হালাল হারাম, সওয়াব গুনাহ ইত্যাদির ভিত্তি হলো আল কুরআন এবং সুন্নাহ। পীর বুযুর্গের কাশফ এবং ইলহাম নয়।

৩. ইসলামি বিশেষজ্ঞগণের ইজতিহাদ, কিয়াস ও মতামত কুরআন-সুন্নাহর সাথে সাংঘর্ষিক হলে পরিত্যাজ্য। কুরআন সুন্নাহ কর্তৃক অনুমোদিত হলে গ্রহণযোগ্য।

৪. কুরআন সুন্নাহই ইসলাম এবং ইসলামি শরিয়তের উৎস ও মানদন্ড, অন্য কিছু নয়।

📘 মুসলিম সমাজে প্রচলিত ১০১ ভুল 📄 ০৭. স্বপ্নে নির্দেশ লাভ

📄 ০৭. স্বপ্নে নির্দেশ লাভ


৭. অনেকে বলেন, স্বপ্নে নির্দেশপ্রাপ্ত হয়ে একাজ করছি। মনে রাখতে হবে, একমাত্র নবীগণের স্বপ্ন ছাড়া আর কারো স্বপ্নই হিদায়াত লাভের মাধ্যম নয়। শুধু নবীগণই স্বপ্নে ওহি লাভ করতেন। ইসলামের অকাট্য মূলনীতি হলো:

১. একমাত্র কুরআন সুন্নাহই 'আদদীনুল ইসলাম' বা ইসলামি জীবন ব্যবস্থার উৎস এবং মূলসূত্র। অন্য সকলের কথা ও কাজ কুরআন সুন্নাহ সমর্থিত হলেই কেবল গ্রহণযোগ্য নতুবা পরিত্যাজ্য।

২. স্বপ্ন দ্বারা অদৃশ্য জ্ঞান অর্জন হয় না এবং শরিয়তের বিধান নির্ণয় হয় না।

৩. স্বপ্নের চাইতে জাগ্রত অবস্থার চিন্তা গবেষণা বা ইজতিহাদের মূল্য অনেক বেশি- যদি তা কুরআন সুন্নাহর মূলনীতি দ্বারা সমর্থিত হয়।

৪. কোনো সমস্যার সমাধান এবং সংঘটিতব্য বিষয়ে কোনো কোনো স্বপ্নে ইংগিত পাওয়া যেতে পারে। তবে সে সম্পর্কে কুরআন সুন্নাহয় অভিজ্ঞ ব্যক্তির ব্যাখ্যা আবশ্যক।

৫. কোনো স্বপ্ন বা স্বপ্নের ব্যাখ্যা গ্রহণ করা জরুরি নয়, ঐচ্ছিক।

📘 মুসলিম সমাজে প্রচলিত ১০১ ভুল 📄 ০৮. পীরের অন্ধ অনুকরণ

📄 ০৮. পীরের অন্ধ অনুকরণ


৮. পীর সাহেব করেছেন তাই আমরাও করি। পীর সাহেব বলেছেন তাই আমরা করি। তিনি আল্লাহর অলি। তাঁর কাজ বা কথা বেঠিক হতে পারে না। এই কথাটি সরাসরি ইসলামের খেলাফ। এটা একজন মুসলিমের কথা হতে পারে না। ইসলামের মূলনীতি হলো:

১. "কুরআন সুন্নাহ দ্বারা ব্যক্তিকে যাচাই করতে হবে, ব্যক্তির কথা বা কাজ দ্বারা কুরআন সুন্নাহকে নয়।"

২. কুরআন সুন্নাহর সাথে সাংঘর্ষিক হলে পীর, দরবেশ, অলি, আলেম, শায়খ, সুফী, কর্তা সকলের কথা ও কাজই বর্জনীয়।

৩. সাহাবীগণও কুরআন সুন্নাহর সাথে সাংঘর্ষিক প্রমাণিত হলে নিজেদের মত পরিবর্তন করেছেন। যেমন: মোহরানা নির্ধারণের বিষয়ে খলিফা উমর রা. নিজের মত পরিবর্তন করেন।

📘 মুসলিম সমাজে প্রচলিত ১০১ ভুল 📄 ০৯. উসিলা ধরে দোয়া করা

📄 ০৯. উসিলা ধরে দোয়া করা


৯. একদল লোক উসিলা ধরে দোয়া করে। তারা মনে করে: উসিলা ছাড়া আল্লাহ গুনাহগারদের দোয়া কবুল করেন না, গুনাহ মাফ করেন না। -এ ধারণা কি ঠিক? এ ধারণা ঠিক নয়। কুরআন মজিদে আল্লাহ দোয়া শিক্ষা দিয়েছেন। নবীগণের দোয়াও কুরআনে উল্লেখ হয়েছে। কিন্তু উসিলা ধরে দোয়া করার কোনো উল্লেখ নেই। হাদিস গ্রন্থাবলীতে দেখুন রসূলুল্লাহ সা.-এর অসংখ্য দোয়া উল্লেখ হয়েছে। কোথাও তিনি উসিলা ধরে দোয়া করেন নাই। উসিলা ধরে দোয়া করার নির্দেশ আল্লাহও দেন নাই, আল্লাহর রসূলও এ ধরণের শিক্ষা দেন নাই। সাহাবীগণ কখনো উসিলা ধরে দোয়া করেন নাই। একমাত্র ইস্তিস্কার (পানি প্রার্থনার) দোয়া এর ব্যতিক্রম। কুরআন মজিদে সবাইকে সরাসরি আল্লাহর কাছে দোয়া করতে বলা হয়েছে:

وَقَالَ رَبُّكُمُ ادْعُونِي أَسْتَجِبْ لَكُمْ

অর্থ: তোমাদের প্রভু বলেছেন: তোমরা আমাকে ডাকো-আমার কাছে দোয়া করো, আমি তোমাদের দোয়া কবুল করবো। (সূরা ৪০ আল মুমিন: আয়াত ৬০)

وَإِذَا سَأَلَكَ عِبَادِي عَنِّي فَإِنِّي قَرِيبٌ أُجِيبُ دَعْوَةَ الدَّاعِ إِذَا دَعَانِ

অর্থ: আমার দাসেরা যখন তোমাকে আমার বিষয়ে প্রশ্ন করে, (তুমি তাদের বলো:) আমি তাদের একেবারে কাছেই আছি। আমি প্রার্থনাকারীর ডাকে সাড়া দিই-যখনই সে আমাকে ডাকে। (সূরা ২ বাকারা: আয়াত ১৮৬)

তবে নিজের কোনো নেক আমলের উল্লেখ করে আল্লাহর কাছে কিছু চাওয়া যেতে পারে।

ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية