📄 বিয়ে নিয়ে নানারকম কুসংস্কারে বিশ্বাস করার প্রভাব
চৈত্র মাসে বিয়ে করা যাবে না এই মাস অশুভ। এই কুসংস্কার হিন্দুদের থেকে এসেছে।
মহাররম মাসে বিয়ে-শাদী নিষেধ, এই মাস শোকের মাস। এই ধরনের কুসংস্কার শিয়াদের থেকে এসেছে।
শনিবারে বিয়ে করা যাবে না, শনিবার অশুভ, এই ধরনের বিশ্বাস কুসংস্কার।
বিয়ের দিন ধান-ঘাস দিয়ে বধূবরণ করা এবং দুধের উপর দিয়ে বরকনে হেঁটে যাওয়া। মনে রাখবেন এসব হিন্দুদের রীতি।
বিয়ের কাবিনে এক লক্ষ এক টাকা ধার্য্য করা অর্থাৎ মূল অংকের সাথে এক টাকা সংযুক্ত করতেই হবে এটা মনে করা কুসংস্কার।
📄 কুসংস্কারে বিশ্বাস করা ও শুভ-অশুভ মেনে চলা শিরক
ইসলাম থেকে দূরে সরে যাওয়ার কারণে আমাদের জীবন আজ আল্লাহ ও রসূল -এর আদেশ-নিষেধ দিয়ে নয়, বরং অধিকাংশ ক্ষেত্রে কিছু কুসংস্কার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে। আর আমাদের সন্তানরাও জন্মের পর হতে ইসলাম হতে দূরে সরেই থাকছে।
শনির দশা অর্থাৎ শনিবার অলক্ষুণে দিন এবং এই দিনে কোন কাজ শুরু না করা। ভর দুপুরে কাকের কা কা ডাক শুনে বিপদ সংকেত মনে করা।
ঘর থেকে বাইরে বের হওয়ার সময় কেউ হাঁচি দিলে সাথে সাথে বের না হওয়া, একটু পরে বের হওয়া। বা ঘর থেকে বাইরে বের হওয়ার সময় পায়ের সাথে হোঁচট খেলে সাথে সাথে বের না হওয়া, একটু বসে তার পরে বের হওয়া। এছাড়া বাইরে যাওয়ার সময় ঝাঁড় দেখলে অশুভ মনে করা।
Unlucky Thirteen বা Lucky Seven মনে করা শিরক। আবার কোন কাজ ঠিক মতো না হলে আজকের দিনটিই কুফা (অশুভ) এই ধরনের মনে করা। অনেকে নিজেকে নিজে গালি দেয় যেমন 'আমার ভাগ্যটাই খারাপ' বা 'আমার কপালটাই মন্দ'।
বরকতের আশায় দোকান খোলার শুরুতে সোনা-রূপার পানি ছিটানো বা তুলসি পাতার পানি ছিটানো এবং আগরবাতি জ্বালানো। আবার ব্যবসার শুরুতে প্রথম কাষ্টমারের কাছে বিক্রি করতেই হবে এই ধরনের মনে করা।
কেউ গাড়ি কিনলে বা গাড়ির ব্যবসা শুরু করলে ঐ গাড়িটি পীরের দরবারে নিয়ে যাওয়া অথবা কোন মাজারে নিয়ে যাওয়া।
এক্সিডেন্ট থেকে রক্ষা পাবার আশায় গাড়ির লুকিং গ্লাসে বিভিন্ন কুরআনের আয়াত ঝুলানো, কাবা ঘরের ছবি ঝুলানো, তসবি ঝুলানো ইত্যাদি। (খ্রীষ্টানরা যেমন তসবি ও ক্রস ঝুলায়)
পাথরে ভাগ্য পরিবর্তন হয় এই ধরনের বিশ্বাস থাকা। এবং পাথরে নানা রকম বিপদ কেটে যায়, এই ধরনের বিশ্বাস থাকা। এবং গায়ে সেসব পাথরের আংটি অথবা মাদুলি ধারণ করা।
জ্যোতিষের কাছে ভবিষ্যত জানতে যাওয়া (মনে রাখতে হবে ভবিষ্যত জ্ঞান আছে একমাত্র আল্লাহর অন্য কারো নয়।)
তাহলে চিন্তা করে দেখি যে, আমরা মুসলিম বলে নিজেকে দাবি করি কিন্তু কুসংস্কার দিয়েও জীবনকে সাজিয়েছি। এভাবে কি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন সম্ভব? কুসংস্কার চর্চার মাধ্যমে কি প্রকৃত মুসলিম হওয়া সম্ভব? অতি দ্রুত এই সকল কুসংস্কার হতে আমাদের বের হয়ে আসতে হবে এবং তাওবা করতে হবে। ইসলাম শুভ-অশুভ এই প্রথাগুলি বাতিল করেছে কারণ এগুলি তাওহীদ আল-আসমা-সিফাত এর ভিত ক্ষয় করে ফেলে এবং মানুষকে আল্লাহ ব্যতীত অন্য শক্তিতে বিশ্বাস করতে শিখায়। কারণ এই প্রথাগুলি:
১) একমাত্র আল্লাহর উপর নির্ভরশীলতা (তাওয়াক্কুল) বাদ দিয়ে মানুষকে অন্য কোন মানুষ বা শক্তির (গায়রুল্লাহ) উপর নির্ভর করতে শেখায়।
২) ভাল-মন্দ আগমনের ভবিষ্যদ্বাণী করার এবং আল্লাহ প্রদত্ত নিয়তি এড়ানোর ক্ষমতা মানুষের অথবা সৃষ্ট জিনিষের (গায়রুল্লাহ) আছে একথা মনে করা এবং नियতি পরিবর্তন করতে এদের উপর নির্ভর করতে শেখায়।
সুতরাং তাওহীদের সকল গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে শুভ-অশুভ সংকেত বিশ্বাস সুস্পষ্ট শিরকের শ্রেণীভুক্ত। সূরা হাদীদের ২২ নং আয়াতে আল্লাহ বলেছেন: "পৃথিবীতে অথবা ব্যক্তিগতভাবে তোমাদের উপর যে বিপর্যয় আসে আমি তা সংঘটিত করার পূর্বেই উহা লিপিবদ্ধ থাকে।”
📄 তাবিজ-কবজের উপর নির্ভর করার প্রভাব
রসূল কুরআনের আয়াত নিজের শরীরে রেখেছেন বা অন্যকে রাখার অনুমতি দিয়েছেন বলে হাদীসের কোথাও কোন দলিল নেই। কুরআনীয় তাবিজ-কবচ শরীরে রাখা এবং রসূল কর্তৃক বর্ণিত শয়তান এড়ানো এবং বান ও যাদু ভেঙ্গে ফেলার পদ্ধতি পরস্পর বিরোধী। যাদু থেকে বেঁচে থাকার জন্য সূরা ফালাক ও সূরা নাস পড়ার অনুমতি রয়েছে।
📄 বিদ্আত পালন করার প্রভাব
বিদ'আত কথাটা আমরা সবাই হয়তো শুনেছি কিন্তু এর অর্থ কি আমরা জানি? যে সব ধরনের কাজ বা অনুষ্ঠান ইবাদত বা সওয়াবের কাজ বলে কুরআন ও সহীহ হাদীস দ্বারা স্বীকৃত নয়, রসূল নিজে যা কখনো করেননি বা কাউকে কখনো করতে বলেননি, তাঁর সাহাবাদের সময়ও তা ইবাদত হিসেবে প্রচলিত ছিলোনা এমন সব কাজ বা অনুষ্ঠানাদি সওয়াবের উদ্দ্যেশে পালন করার নামই বিদ'আত।
বিদ'আত বলতে বুঝায় দ্বীন পরিপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও দ্বীনের মধ্যে পরিবর্তন আনা। আমরা বাংলাদেশের মুসলিমরা ইসলামে যা আছে তা ঠিক মতো পালন না করে ইসলামে যা নেই তা খুব সওয়াবের কাজ মনে করে পালন করে যাচ্ছি। যেমন:
ঈদে মিলাদুন্নবী দিবস পালন করা। মিলাদের মাহফিল করা। শবে বরাতকে ভাগ্য রজনী মনে করে এ রাত্রি পালন করা। শবে মিরাজ দিবস পালন করা। ওরছ করা, ইছালে সওয়াবের মাহফিল করা। মৃত্যু বার্ষিকী পালন করা। মৃত ব্যক্তির উদ্দেশ্যে কুলখানি, চল্লিশা করা। মৃত ব্যক্তিকে সামনে নিয়ে কুরআন তিলাওয়াত করা। মৃত ব্যক্তির উদ্দেশ্যে জিয়াফত, কুরআনখানি, ইছালে সওয়াব অনুষ্ঠান করা। মৃত ব্যক্তির উপর সূরা ইয়াসীন পাঠ করা। সলাতের শুরুতে 'নাউয়াইতুয়ান উসাল্লিয়া ......' বলে মুখে উচ্চারণ করে নিয়ত করা। কাযা নামায (সলাত) আদায় করা।