📄 কাফেরদেরকে দেশের কোনো উচ্চ পদে নিযুক্ত করা
ইসলামি ভূখণ্ডে অমুসলিমদেরকে গুরুত্বপূর্ণ ও উচ্চতর বিষয়ে অংশীদার বানানো, তাদেরকে মুসলিমদের বিষয়ের কর্তৃত্বকারী ও সিদ্ধান্তদাতা বানানো জায়েয নেই। কুরআনে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন,
يَـٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ لَا تَتَّخِذُواْ بِطَانَةً مِّن دُونِكُمْ لَا يَأْلُونَكُمْ خَبَالًا وَدُّواْ مَا عَنِتُّمْ قَدْ بَدَتِ ٱلْبَغْضَآءُ مِنْ أَفْوَٰهِهِمْ وَمَا تُخْفِى صُدُورُهُمْ أَكْبَرُ قَدْ بَيَّنَّا لَكُمُ ٱلْـَٔايَـٰتِ إِن كُنتُمْ تَعْقِلُونَ
হে ঈমানদারগণ! তোমরা নিজেদের লোকদের ছাড়া কাউকে অন্তরঙ্গ বন্ধু বানিয়ো না। ওরা তোমাদের অনিষ্ট সাধনে কোনো ত্রুটি করে না। ওরা মনে-প্রাণে কামনা করে, তোমরা কষ্ট ভোগ করো। ওদের মুখ থেকে শত্রুতা প্রকাশ হয়ে পড়ে, আর ওদের অন্তর যা (অর্থাৎ যে শত্রুতা) গোপন রাখে, তা আরও গুরুতর। আমি তোমাদের জন্য নিদর্শনাদি স্পষ্টভাবে বর্ণনা করে দিলাম, যদি তোমরা বুদ্ধি রাখো।(১৩৮)
ইমাম জাসসাস রহিমাহুল্লাহ এ আয়াতের ব্যাখ্যায় লেখেন,
وفي هذه الآية دلالة على أنه لا تجوز الاستعانة بأهل الذمة في أمور المسلمين من العمالات والكتبة.(أحكام القرآن ٧٤/٢ ، باب الاستعانة بأهل الذمة، دار الكتب العلمية)
উক্ত আয়াত থেকে প্রতীয়মান হয় যে, মুসলিমদের শাসনসংক্রান্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রে যেমন গভর্নর কেরানি ইত্যাদি পদে জিম্মিদের থেকে সাহায্য নেয়া জায়েয নেই।(১৩৯)
এরপর তিনি উল্লেখ করেন যে, আবু মুসা আশআরি রা. লেখায় পারদর্শী এক জিম্মি কাফেরকে তাঁর লেখার কাজে নিযুক্ত করেছিলেন। উমর রা. এ ব্যাপারে জানতে পারলে তাকে (আবু মুসা আশআরি রা.) নিষেধ করে দেন, আর নিষেধ করার ক্ষেত্রে তিনি উক্ত আয়াতটি দলিল হিসাবে উল্লেখ করেন। এভাবে (আরেকটি ঘটনা রয়েছে যে,) কেউ একজন কোনো এক জিম্মি কাফের সম্পর্কে উমর রা.-এর কাছে সুপারিশ করল যে, সে তো বড় সংরক্ষক এবং দক্ষ লোক, সে এই কাজের জন্য যথেষ্ট যোগ্য। তখন উমর রা. তার কথা প্রত্যাখ্যান করে বললেন, তাকে এই কাজে নিযুক্ত করা এই আয়াতের বিরোধী।
ওসকে রুমি বলেন, আমি উমর রা.-এর গোলাম ছিলাম। তিনি আমাকে বলেছিলেন, তুমি ইসলাম কবুল করলে আমি তোমাকে মুসলিমদের বিভিন্ন বিষয়ে কাজে লাগাব (কাফের থাকলে কাজে লাগাব না)। কারণ এটি কারও দৃষ্টিতেই সঠিক হবে না যে, আমি অমুসলিমকে মুসলিমদের দায়িত্বশীল ও সিদ্ধান্তদাতা বানাব। তখন আমি ইসলাম কবুল না করলে তিনি আমাকে তার মৃত্যু পর্যন্ত কোনো দায়িত্ব দেননি, বরং মৃত্যুর পূর্বে আমাকে স্বাধীন করে বলেন, যেখানে ইচ্ছা চলে যেতে পারো।
আল্লামা কুরতুবি রহিমাহুল্লাহ (মৃত্যু : ৬৭১ হি.) এই আয়াতের ব্যাখ্যায় লেখেন,
نهى الله عز وجل المؤمنين بهذه الآية أن يتخذوا من الكفار واليهود وأهل الأهواء دخلاء وولجاء، يفاوضونهم في الآراء، ويسندون إليهم أمورهم. (تفسير القرطبي ٤/٨٧١، تحت سورة آل عمران : آية ٨١١)
আল্লাহ তাআলা উক্ত আয়াতের মাধ্যমে কাফের ইহুদি ও বিদআতিদেরকে এমন ঘনিষ্ঠ ও আপনজন বানাতে নিষেধ করেছেন, যাদের সাথে বিভিন্ন মতামত বিনিময় করা হবে এবং যাদের কাছে মুসলিমদের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছেড়ে দেওয়া হবে। (১৪০)
শাহ ওয়ালিউল্লাহ দেহলবি রহিমাহুল্লাহ (মৃত্যু: ১১৭৬ হি.) 'ইজালাতুল খফা' গ্রন্থে 'শাসকের আবশ্যকীয় দায়িত্ব'-সংক্রান্ত অধ্যায়ে লেখেন, মুসলিম শাসকের জন্য এটাও একটি ওয়াজিব দায়িত্ব যে, মুসলমানদের কোনো দায়িত্ব বা পদ কোনো কাফেরকে নিযুক্ত করবেন না। হজরত উমর রা. এই বিষয়ে কঠোরতার সাথে নিষেধ করেছেন। (১৪১)
টিকাঃ
১৩৮. সুরা আলে ইমরান : ১১৮
১৩৯. আহকামুল কুরআন, ২/৪৭
১৪০. তাফসিরে কুরতুবি, ৪/১৭৮
১৪১. ইজালাতুল খফার উদ্ধৃতিতে আকায়েদে ইসলাম, পৃ. ২১৫
📄 একটি জরুরি সতর্কবার্তা
এই আয়াতটি অবতীর্ণ হওয়ার প্রেক্ষাপট কী? এবং তা কাদের সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে? এ নিয়ে মুফাসসিরদের বিভিন্ন মত রয়েছে, কেউ বলেছেন, আয়াতটি মূলত মদিনার ইহুদিদের সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে, সাহাবায়ে কেরাম তাদের সাথে দুনিয়াবি বিষয়ে পরামর্শ করতেন এবং এ ধারণা রাখতেন যে, ধর্মের পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও তারা অন্তত সামাজিক, রাজনৈতিক ও অন্যান্য দুনিয়াবি বিষয়ে আমাদের সাথে একনিষ্ঠ। কিন্তু আল্লাহ তাআলা ইহুদিদের বাস্তব অবস্থা জানিয়ে মুসলিমদের নিষেধ করেছেন। কিছু মুফাসসির বলেন, আয়াতটি মুনাফিকদের সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে, কারণ মুসলিমরা তাদের কথায় আস্থা রাখে এবং তাদের হিতৈষী মনে করে, তাদের কাছ থেকে পরামর্শ গ্রহণ করে ইত্যাদি।
মোটকথা, অবতীর্ণ হওয়ার প্রেক্ষাপট যাই হোক না কেন, গ্রহণযোগ্য মত হলো, আয়াতের বাণী ব্যাপক এবং এতে সকল কাফেরকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কাফেরকে-চাই সে ইহুদি, খ্রিষ্টান, হিন্দু, মুশরিক অথবা নাস্তিক ইত্যাদি যাই হোক-মুসলমানদের কোনো বিষয়ের প্রধান হিসাবে নিয়োগ করা, অনুরূপ তাদের নিজস্ব কর্তৃত্ব তৈরি হয় ইসলামি দেশে এমন কোনো গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়া শরিয়তে জায়েজ নেই। একইভাবে তাদেরকে মুসলিমদের ধর্মীয় কোনো কাজে নিযুক্ত করা, যেমন ফাতাওয়া প্রদান, বিচারকার্য পরিচালনা ইত্যাদি শরিয়তে নাজায়েজ। যদি অন্তরে কুফর রেখে কেউ তার কুফরকে ইসলামের চাদরে ঢেকে রাখার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালায়, যেমনটি আমাদের মধ্যে কাদিয়ানি ও কুফরি আকিদা লালনকারী শিয়াদের অবস্থা, তাহলে তার বিধান কাফেরের চেয়েও কঠিন।
আল্লামা আলুসি রহিমাহুল্লাহ (মৃত্যু: ১২৭০ হি.) এই আয়াতের ব্যাখ্যায় লিখেছেন,
والمعنى لا تَتَّخِذُوا الكافرين كاليهود والمنافقين أولياء وخواص من غير المؤمنين أو ممن لم تبلغ منزلته، منزلتكم في الشرف والديانة، والحكم عام وإن كان سبب النزول خاصا فإن اتخاذ المخالف وليا مظنة الفتنة والفساد.
আয়াতের অর্থ হলো, মুসলিমদের পরিবর্তে কাফেরদেরকে বন্ধু এবং অন্তরঙ্গ বানাবে না, সে ইহুদি হোক কিংবা মুনাফিক, অথবা এমনসব লোক যারা মর্যাদা ও দ্বীনদারির দিক থেকে তোমাদের পর্যায়ে পৌঁছেনি। এটি একটি ব্যাপক বিধান। যদিও উল্লেখিত আয়াতের প্রেক্ষাপট নির্দিষ্ট। কারণ বিরোধী ব্যক্তিকে বন্ধু বানালে ফিতনা ও বিশৃঙ্খলার সম্ভাবনা প্রবল থাকে। (১৪২)
আল্লামা ফখরুদ্দিন রাজি রহিমাহুল্লাহ (মৃত্যু: ৬০৬ হি.) এই মতকে প্রাধান্য দিয়ে লেখেন,
وأما ما تمسكوا به من أن ما بعد الآية مختص بالمنافقين فهذا لا يمنع عموم أول الآية، فإنه ثبت في أصول الفقه أن أول الآية إذا كان عاما وآخرها إذا كان خاصا لم يكن خصوص آخر الآية مانعا من عموم أولها. (التفسير الكبير ۹۳۳/৮، تحت سورة آل عمران : آية (۸۱۱)
ফিকহের একটি স্বীকৃত মূলনীতি হলো, যদি আয়াতের প্রথম অংশ ব্যাপক হয় এবং শেষ অংশ নির্দিষ্ট হয়, তাহলে তা প্রথম অংশের ব্যাপকতার মাঝে কোনো সমস্যা সৃষ্টি করবে না। (১৪৩)
প্রসিদ্ধ হানাফি আইনবেত্তা ইমাম কাসানি রহিমাহুল্লাহ (মৃত্যু: ৫৮৭ হি.) বিচারক পদসংক্রান্ত বিষয়ে লেখেন যে, ইসলামি শাসনে বিচারক হওয়ার জন্য শর্ত হলো, আকেল, বালেগ, মুসলমান ইত্যাদি হওয়া। এর কারণ হিসাবে উল্লেখ করেন,
لأن القضاء من باب الولاية، بل هو أعظم الولايات، وهؤلاء ليست لهم أهلية أدنى الولايات - وهي الشهادة - فلأن لا يكون لهم أهلية أعلاها أولى. (بدائع الصنائع ۳/۷، کتاب آداب القضاء، فصل في بيان من يفترض عليه قبول تقليد القضاء)
বিচারকের পদ একটি কর্তৃত্বের বিষয়, বরং এটা অনেক বড় পর্যায়ের কর্তৃত্বের অন্তর্ভুক্ত আর জিম্মিদের যেহেতু কর্তৃত্বের নিম্নস্তর তথা মুসলিমদের বিপক্ষে সাক্ষ্য দেওয়ারই যোগ্যতা নেই, তাহলে বড় কর্তৃত্ব না থাকার বিষয়টি আরও স্পষ্টই। (১৪৪)
এ থেকে স্পষ্ট হয় যে-
ক. বিচার ও অন্যান্য শাসনসংক্রান্ত যে পদগুলো রয়েছে, সেগুলোতে পদাসীন ব্যক্তির তার অধীনস্থদের ওপর কর্তৃত্ব অর্জিত হয়।
খ. কাফেররা যেহেতু মুসলমানদের ওপর কোনোরকম কর্তৃত্ব রাখার অধিকার রাখে না, তাই তাদেরকে ইসলামি ভূখণ্ডে মুসলমানদের ওপর কর্তৃত্ব হয় এমন কোনো পদ দেওয়া যাবে না। অথবা মুসলমানদের বিচারসংক্রান্ত কোনো কাজেও তাদেরকে নিয়োগ দেওয়া যাবে না। (১৪৫)
টিকাঃ
১৪২. রুহুল মাআনি, ২/২৫৩
১৪৩. তাফসিরে কাবির, ৮/৩৩৯
১৪৪. বাদায়েউস সানায়ে, ৭/৩
১৪৫. ইবনে জামাআ রহিমাহুল্লাহ (মৃত্যু: ৭৩৩ হি.) এ ক্ষেত্রে স্পষ্ট ও চমৎকার বলেছেন,
ولا يجوز تولية الذي في شيء من ولايات المسلمين إلا في جباية الجزية من أهل الذمة أو جباية ما يؤخذ من تجارات المشركين. فأما ما يجبى من المسلمين من خراج أو عشر أو غير ذلك فلا يجوز تولية ( ٨٤ / ب) الذي فيه، ولا تولية شيء من أمور المسلمين، قال تعالى: {ولن يجعل الله للكافرين على المؤمنين سبيلا ومن ولى ذميا على مسلم فقد جعل له سبيلا عليه. وقال تعالى: {ولا تتخذوا اليهود والنصارى أولياء بعضهم أولياء بعض ومن يتولهم منكم فإنه منهم ، ولأن تولية الكافر على المسلم تتضمن إعلاءه عليه، وإعزازه بالولاية، وذلك مخالف للشريعة وقواعدها. وقال تعالى: {لا تتخذوا عدوى وعدوكم أولياء . ونسأل الله العافية في الدنيا والآخرة. تحرير الأحكام في تدبير الإسلام ص ٦٢٤ ، الباب العاشر في وضع الديوان وأقسام ديوان السلطان)
মুসলমানদের ওপর কর্তৃত্ব হয় এমন কোনো পদে জিম্মিদের নিয়োগদান করা জায়েজ নেই। তবে জিম্মিদের থেকে জিজিয়া কর আদায় বা দারুল হরব থেকে আসা কাফের ব্যবসায়ীদের থেকে ব্যবসায়িক ট্যাক্স আদায়সংক্রান্ত পদগুলোতে তাদের নিয়োগে কোনো সমস্যা নেই। মুসলমানদের উশর, খারাজ ইত্যাদি বিভিন্ন রাজস্ব আদায়সংশ্লিষ্ট কোনো পদে কাফেরদের নিয়োগ দেওয়া জায়েজ নেই। আল্লাহ তাআলা বলেন,
ولن يجعل الله للكافرين على المؤمنين سبيلا. আল্লাহ মুমিনদের ওপর কাফেরদের কিছুতেই কর্তৃত্ব দেবেন না।
মুসলমানদের ওপর কর্তৃত্ব হয় এমন কোনো পদে কোনো জিম্মিকে নিয়োগ দেওয়ার অর্থই হলো কাফেরকে মুসলমানদের ওপর কর্তৃত্ব দেওয়া। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন,
ولا تتخذوا اليهود والنصارى أولياء بعضهم أولياء بعض ومن يتولهم منكم فإنه منهم.
তোমরা ইহুদি ও খ্রিষ্টানদের বন্ধু/অভিভাবকরূপে গ্রহণ করো না। তারা একে অপরের বন্ধু/অভিভাবক। আর যে তাদেরকে বন্ধু/অভিভাবকরূপে গ্রহণ করবে সে তাদের অন্তর্ভুক্ত হবে।
একজন কাফেরকে মুসলমানের ওপর শাসনভার অর্পণ করা মানে তাকে মুসলমানের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দেওয়া এবং শাসনের মাধ্যমে তাকে সম্মানিত করা। যা শরিয়ত ও তার মূলনীতিসমূহের সাথে সাংঘর্ষিক। তাহরিরুল আহকাম, পৃ. ৪২৬
📄 কাফেরের অধীনে চাকরি করা
কাফেরের অধীনে চাকরি করার বিধান হলো, যদি নিম্নোক্ত তিনটি শর্ত পাওয়া যায়, তাহলে জায়েজ, অন্যথায় জায়েয নয়।
প্রথম শর্ত : চাকরির প্রকৃত উদ্দেশ্য এবং কর্মপদ্ধতি উভয়টিই শরিয়তসিদ্ধ হতে হবে। তাই যদি কোনো কাজের মূল উদ্দেশ্য বৈধ না হয়, বরং মুসলমানদের মধ্যে অশ্লীলতা ও নগ্নতা ছড়ানো অথবা এ ছাড়া অন্য কোনো আকিদা বা কর্মগত বিভ্রান্তি ছড়ানো উদ্দেশ্য হয়, এবং মুসলমানদেরকে কোনো অবৈধ বিষয়ের প্রতি আকৃষ্ট করা বা তাদের মধ্যে ইসলামবিরোধী উপাদান তৈরি করা হয়, তাহলে এ ধরনের চাকরি করা জায়েয হবে না। এ ক্ষেত্রে সাহায্য-সহায়তা থেকে বিরত থাকা আবশ্যক। তেমনইভাবে চাকরি কোনো ফরজ বা ওয়াজিব বিধান পালনে বাধা না হতে হবে। এ কারণে যে চাকরিতে ফরজ নামাজ পড়া নিষিদ্ধ বা যেখানে দাড়ি কামানো আবশ্যক, সেসব কাজে নিযুক্ত হওয়া জায়েয নেই।
চাকরি ছাড়াও মুসলমানদের জন্য কাফের পিতামাতাকেও শরিয়ত কর্তৃক কোনো অনৈতিক কাজে সাহায্য করা জায়েয নেই। সুতরাং পিতামাতা যদি কাফের হয় আর তারা নিজেদের উপাসনালয়ে যাওয়ার জন্য ছেলের কাছে সাহায্য চায়, তাহলে মুসলিম ছেলের জন্য এ ক্ষেত্রে সাহায্য করা জায়েয নেই। তেমনইভাবে কাফের পিতামাতা যদি মুসলিম সন্তানের কাছে মদ তৈরির জন্য পাত্রের দাবি করে, তাহলে মুসলমান সন্তানের জন্য পিতামাতার এমন আবদার পূরণ করা জায়েয নেই।
'ফাতাওয়ায়ে কাজিখানে' উল্লেখ রয়েছে,
مسلم به أم ذمية أو أب ذمي، ليس للمسلم أن يقود إلى البيعة وله أن يقوده من البيعة إلى منزله، وهذا كما لا يحل للمسلم حمل الخمر إلى الخل للتخليل ولكن يحمل الخل إلى الخمر، ولا يحمل الجيفة إلى الهرة، وله أن يحمل الهرة إلى الجيفة. (فتاوى قاضي خان ۱۷۳/۳، فصل في أهل الذمة وما يؤخذ منهم من الجزية في كل سنة وما يفعل بهم)
একজন মুসলিমের যদি জিম্মি মা কিংবা জিম্মি বাবা থাকে, তাহলে এমন মুসলিমের জন্য তার পিতা বা মাতাকে গির্জায় নিয়ে যাওয়া বৈধ নয়, তবে তার জন্য গির্জা থেকে বাড়িতে নিয়ে আসা জায়েজ আছে। এই মাসআলাটি ওই মাসআলার মতোই যে, মুসলিমের জন্য সিরকা বানানোর উদ্দেশ্যে সিরকার কাছে মদ বহন করে নেওয়া বৈধ নয়, কিন্তু সিরকাকে মদের কাছে বহন করে নিয়ে যাওয়া বৈধ। এমনইভাবে বিড়ালের কাছে মৃত প্রাণী বহন করে নিয়ে যেতে পারবে না, কিন্তু বিড়ালকে মৃত প্রাণীর কাছে নিয়ে যেতে পারবে। (অর্থাৎ, মৃত প্রাণী যদি আপনি বহন করেন তাহলে সরাসরি হারাম জিনিস আপনি বহন করে নিয়ে গেলেন। আর বিড়ালটাকে মৃত প্রাণীর সামনে গিয়ে ছেড়ে দিলে আপনি কোন হারাম জিনিস গ্রহণ করলেন না।) (১৪৬)
'তাকমিলায়ে বাহরুর রায়েকে' উল্লেখ হয়েছে,
ولا يسقي أباه الكافر خمرا ولا يناوله القدح ويأخذه منه ولا يذهب به إلى البيعة، ويرده منها. تكملة البحر الرائق ،٧٠٢/٨ ، كتاب الكراهية، فصل في الأكل والشرب)
কাফের পিতাকে মদ খাওয়ানো মুসলিম সন্তানের জন্য জায়েয নেই। এবং তাদেরকে মদের গ্লাস এগিয়ে দেওয়াও যাবে না। তবে তাদের হাত থেকে পাত্র নেওয়া যাবে। তাদের উপাসনালয়ে নিয়ে যাওয়া যাবে না, তবে সেখান থেকে নিয়ে আসা যাবে। (১৪৭)
দ্বিতীয় শর্ত: এতে ইসলাম ও মুসলমানদের মানহানি বা ক্ষতি থাকতে পারবে না।
তৃতীয় শর্ত: তৃতীয় শর্তটি মূলত সেটিই যা এর আগে বহুবার বলা হয়েছে, অর্থাৎ এর কারণে তার প্রতি মুহাব্বত তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা যেন না থাকে।
যদি কোনো চাকরিতে যুক্ত থাকার ফলে মুসলিমদের অন্তরে কুফর ও কাফেরদের প্রতি মুহাব্বত জাগে, তাহলে সে চাকরি করা জায়েজ নয়।
টিকাঃ
১৪৬. ফাতাওয়ায়ে কাজিখান, ৩/৩৭২
১৪৭. আল-বাহরুর রায়েক, ৮/২০৭
📄 কাফেরের দেশে গিয়ে বসবাস করা
যেকোনো মুসলমানের জন্য উত্তম হলো ইসলামি ভূখণ্ডে বসবাস করা এবং শরিয়তের বিধান অনুযায়ী জীবনযাপন করা। কোনো কারণ ছাড়া কাফেরদের সাথে মিশ্রিত না হওয়া। বিশেষত তাদের দেশে গিয়ে স্থায়ী বসবাস করা কোনোভাবেই উচিত নয়। কিন্তু যদি সেখানে বাধ্য হয়ে যেতে হয়, তাহলে সেটি বৈধ হবে কি না? যদি বৈধ হয়, তাহলে এর জন্য কোনো শর্ত আছে কি না? মাসআলাটি বিস্তর আলোচনা ও গবেষণার দাবি রাখে। তবে এখানে কিছু বিষয় সংক্ষিপ্তভাবে পেশ করছি।
বেশ কয়েকটি হাদিসে কাফেরদের মাঝে অবস্থান করা, তাদের সাথে বসবাস করাকে নিষিদ্ধ ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, ইমাম তিরমিজি রহিমাহুল্লাহ বর্ণনা করেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
أَنَا بَرِيءٌ مِنْ كُلِّ مُسْلِمٍ يُقِيمُ بَيْنَ أَظْهُرِ المُشْرِكِينَ. قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ وَلِمَ؟ قَالَ: لَا تَرَاءَى نَارَاهُمَا. (جامع الترمذي برقم: ٤٠٦١ ، كتاب السير، باب ما جاء في كراهية المقام بين أظهر المشركين)
আমি সে সকল মুসলিমের দায়িত্ব থেকে মুক্ত, যারা মুশরিকদের মাঝে বসবাস করে। সাহাবিরা জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! কেন? তিনি বললেন, (কারণ) তাদের মাঝে এতটাই দূরত্ব থাকা উচিত, যেন একে অপরের (চুলার) আগুন দেখতে না পারে। (১৪৮)
এরপর তিনি সামুরা রা. থেকে এই হাদিসটি বর্ণনা করেন যে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
وَرَوَى سَمُرَةُ بْنُ جُنْدَبٍ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: لَا تُسَاكِنُوا المُشْرِكِينَ، وَلَا تُجَامِعُوهُمْ، فَمَنْ سَاكَنَهُمْ أَوْ جَامَعَهُمْ فَهُوَ مِثْلُهُمْ. (جامع الترمذي برقم: ٤٠٦١ ، كتاب السير، باب ما جاء في كراهية المقام بين أظهر المشركين)
তোমরা কাফেরদের সাথে বসবাস করা এবং তাদের সাথে মিশ্রিত হওয়া থেকে বিরত থাকো, কারণ যে তাদের সাথে বসবাস করে বা মিশ্রিত হয় সে তাদেরই মতো। (১৪৯)
ইমাম হাকেম নিসাপুরি রহিমাহুল্লাহ সামুরা রা. থেকে একটি হাদিস বর্ণনা করেন,
عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: لَا تُسَاكِنُوا الْمُشْرِكِينَ، وَلَا تُجَامِعُوهُمْ، فَمَنْ سَاكَنَهُمْ أَوْ جَامَعَهُمْ فَلَيْسَ مِنَّا». (المستدرك للحاكم برقم: ٣٢٦٢، قال الحاكم: هذا حديث صحيح على شرط البخاري، ولم يخرجاه، وقال الذهبي: على شرط البخاري ومسلم..)
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, তোমরা কাফেরদের সাথে বসবাস করা এবং তাদের সাথে মিলেমিশে থাকা থেকে বিরত থাকো, কারণ যে তাদের সাথে বসবাস করে বা তাদের সাথে মিলেমিশে থাকে, সে আমাদের দলভুক্ত নয়। (১৫০)
আল্লামা বাযযার রহিমাহুল্লাহ (মৃত্যু: ২৯২ হি.) সামুরা রা.-এর হাদিসটি এই শব্দে বর্ণনা করেছেন,
عَنْ سَمُرَةَ ، رَضِيَ اللهُ عَنْهُ ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: لَا تُسَاكِنُوا الْمُشْرِكِينَ فَمَنْ سَاكَنَهُمْ فَهُوَ مِنْهُمْ.
সামুরা রা. থেকে বর্ণিত আছে যে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, তোমরা কাফেরদের সাথে বাস করা থেকে বিরত থাকো, কারণ যে তাদের সাথে বসবাস করল, সে তাদেরই দলভুক্ত হলো। (১৫১)
এটি এবং এর অনুরূপ রেওয়ায়েতগুলো থেকে স্পষ্ট হয় যে, কাফেরদের সাথে স্থায়ীভাবে বসবাস করা নিষিদ্ধ। যারা ইসলামি শিক্ষাদীক্ষা অনুযায়ী জীবনযাপন করে, তাদের সেখানে বসবাসের কারণে নানা সমস্যা ও প্রতিকূলতার সম্মুখীন হতে হয়। তার মধ্যে গুরুতর হলো, ধীরে ধীরে কাফেরদের সাথে সখ্য ও ভালোবাসার সম্পর্ক তৈরি হয়, যা অনেক আয়াত-হাদিসে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আর প্রকৃতপক্ষে 'কাফেরদের বন্ধু বানানো থেকে বিরত থাকার আদেশ' এমন এক সীমারেখা, যার মাধ্যমে মানুষের দ্বীন ও ইসলাম, চিন্তা-চেতনা, তার আদর্শ, সংস্কৃতি ও কৃষ্টি-কালচার সংরক্ষিত থাকে। মুসলিমদের সাথে বসবাস করলে এবং তাদের সাথে সুসম্পর্ক রাখলে ধর্মীয় বিশ্বাস ও মূল্যবোধ সুদৃঢ় হয়। বিশেষ করে এই বস্তুবাদী যুগে কাফের দেশ ও তাদের সমাজে বসবাস করা নিজ ধর্ম ও বিশ্বাসকে অত্যন্ত কঠিন পরীক্ষায় ও অনিরাপদে ফেলার নামান্তর। এখানে খুব কম লোকই দৃঢ়ভাবে অটল থাকতে পারে।
আল্লামা আবদুর রউফ মুনাবি রহিমাহুল্লাহ (মৃত্যু : ১০৩১ হি.) এমন একটি হাদিসের ব্যাখ্যায় লেখেন,
لأن الإقبال على عدو الله وموالاته توجب إعراضه عن الله ومن أعرض عنه تولاه الشيطان ونقله إلى الكفران قال الزمخشري : وهذا أمر معقول فإن مولاة الولي وموالاة عدوه متنافيان....
وفيه إبرام وإلزام بالتصلب في مجانبة أعداء الله ومباعدتهم والتحرز عن مخالطتهم ومعاشرتهم {لا يتخذ المؤمنون الكافرين أولياء من دون المؤمنين والمؤمن أولى بموالاة المؤمن وإذا والى الكافر جره ذلك إلى تداعي ضعف إيمانه فزجر الشارع عن مخالطته بهذا التغليظ العظيم حسما لمادة الفساد {يا أيها الذين آمنوا إن تطيعوا الذين كفروا يردوكم على أعقابكم فتتقلبوا خاسرين}. (فيض القدير برقم : ٣١٦٨، ١١١/٦، حرف الميم، ط. المكتبة التجارية الكبرى)
আল্লাহর শত্রুদের সাথে মেশা ও বন্ধুত্ব রাখা আল্লাহর প্রতি অনাগ্রহ সৃষ্টি করে। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রতি অনাগ্রহী হয়, শয়তান তার ওপর আধিপত্য বিস্তার করে এবং তাকে কুফরের দিকে নিয়ে যায়। ইমাম যামাখশারি রহিমাহুল্লাহ (মৃত্যু: ৫৩৮ হি.) বলেন, যৌক্তিকভাবেই এটি স্বীকৃত, কারণ একসাথে নিজের বন্ধু এবং বন্ধুর শত্রুর প্রতি ভালোবাসা রাখা সম্ভব না।... উল্লিখিত আয়াতে আল্লাহর শত্রুদের থেকে আলাদা থাকা, তাদের সাথে না মেশা এবং এড়িয়ে চলার প্রতি জোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন,
لَّا يَتَّخِذِ الْمُؤْمِنُونَ الْكَافِرِينَ أَوْلِيَاءَ مِن دُونِ الْمُؤْمِنِينَ
মুমিনরা যেন মুমিনকে বাদ দিয়ে কাফেরদের বন্ধু হিসাবে গ্রহণ না করে।
এই আয়াতেও এটাই বলা হয়েছে যে, মুমিনই হলো মুমিনের বন্ধুত্বের অধিক উপযোগী। কেউ যখন কাফেরকে বন্ধু বানায়, তখন তার ঈমান দুর্বল হওয়ার সমূহ শঙ্কা থাকে। তাই শরিয়ত তাদের সাথে মেলামেশা করতে কঠোরভাবে নিষেধ করেছে, যাতে বিশৃঙ্খলার মূলের অবসান হয়। আল্লাহ তাআলা বলেন,
يَتَأَيُّهَا الَّذِينَ ءَامَنُوا إِن تُطِيعُوا الَّذِينَ كَفَرُوا يَرُدُّوكُمْ عَلَى أَعْقَابِكُمْ فَتَنقَلِبُوا خَاسِرِينَ.
হে ঈমানদারগণ! যদি তোমরা কাফেরদের আনুগত্য করো, তবে ওরা তোমাদেরকে তোমাদের পেছনের দিকে (অর্থাৎ কুফরের দিকে) ফিরিয়ে দেবে, ফলে তোমরা (চরম) ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়বে।(১৫২)
এরপর তিনি ইবনে তাইমিয়া রহিমাহুল্লাহ থেকে একটি খুব গুরুত্বপূর্ণ ও উপকারী কথা উদ্ধৃত করেন,
قال ابن تيمية : المشابهة والمشاكلة في الأمور الظاهرة توجب مشابهة ومشاكلة في الأمور الباطنة والمشاركة في الهدى الظاهر توجب مناسبة وائتلافا وإن بعد المكان والزمان، وهذا أمر محسوس. فمرافقتهم ومساكنتهم ولو قليلا، سبب لوقوع ما مر واكتساب أخلاقهم التي هي ملعونة، ولما كان مظنة الفساد خفي غير منضبط، علق الحكم به وأدير التحريم عليه، فمساكنتهم في الظاهر سبب ومظنة لمشابهتهم في الأخلاق والأفعال المذمومة بل في نفس الاعتقادات فيصير مساكن الكفار مثله وأيضا المشاركة في الظاهر تورث نوع مودة ومحبة وموالاة في الباطن كما أن المحبة في الباطن تورث المشابهة وهذا مما يشهد به الحس فإن الرجلين إذا كانا من بلد واجتمعا في دار غربة كان بينهما من المودة والائتلاف أمر عظيم بموجب الطبع وإذا كانت المشابهة في أمور دنيوية تورث المحبة والمولاة فكيف المشابهة في الأمور الدينية؟.(فيض القدير برقم : ٣١٦٨، ١١١/٦، حرف الميم، ط. المكتبة التجارية الكبرى)
হাফেজ ইবনে তাইমিয়া রহিমাহুল্লাহ (মৃত্যু : ৭২৮ হি.) বলেন, বাহ্যিক কাজে সাদৃশ্য ও বেশভূষা গ্রহণ অভ্যন্তরীণ বিষয়ে সাদৃশ্য সৃষ্টি করে।
অনুরূপভাবে যার বাহ্যিক রূপ ও সাদৃশ্য গ্রহণ করা হয়, তার প্রতি ভালোবাসা ও একধরনের বন্ধন তৈরি হয়, যদিও সময় ও স্থান বিবেচনায় তার থেকে অনেক দূরে থাকে, এটি স্বভাবজাত বিষয়। তাই সাময়িক সময়ের জন্যও কাফেরদের সাথে ওঠাবসা করা, তাদের সাহচর্যে যাওয়ায় একটি অভ্যন্তরীণ সম্পর্ক ও এমন চরিত্র অর্জিত হয়, যা আল্লাহর রহমত থেকে বঞ্চিত হওয়ার অন্যতম কারণ। কাজেই যেহেতু ফিতনা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হওয়া একটি অজানা বিষয়, তাই হুকুম বাহ্যিকের সাথে সম্পর্কিত হবে, আর হারামের ক্ষেত্রটি কেবল বাহ্যিক মিলের ওপরই রাখা হয়েছে। তাই তাদের সাথে বসবাস করা বাহ্যিকভাবে তাদের চরিত্র, নিকৃষ্ট কর্ম, এমনকি আকিদা-বিশ্বাসের সাথে সামঞ্জস্য বোঝায়, ফলত কাফেরদের সাথে বসবাসের কারণে সে তার মতো হয়ে যাবে।
আর বাহ্যিকভাবে সামঞ্জস্য হওয়া অভ্যন্তরীণ বিষয়ে একপ্রকারের ভালোবাসা ও বন্ধনের সম্পর্ক তৈরি করে। কারণ একই শহরের দুইজন যখন বাহিরের কোনো দেশে একত্র হয়, তখন তাদের মধ্যে ভালোবাসা ও বন্ধন থাকে। এটি একটি স্বাভাবিক বিষয়। আর যদি দুনিয়ার বিষয়ে সামঞ্জস্যের ফলে এমন মুহাব্বত তৈরি হয়, তাহলে দ্বীনি বিষয়ে সাদৃশ্য কেমন ফল বয়ে আনবে? (১৫৩)
টিকাঃ
১৪৮. সুনানে তিরমিজি, হাদিস ১৬০৪
১৪৯. প্রাগুক্ত
১৫০. মুসতাদরাকে হাকেম, হাদিস ২৬২৭
১৫১. মুসনাদে বাযযার, বর্ণনা ন. ৪৫৬৯
১৫২. সুরা আলে ইমরান: ১৪৯
১৫৩. ফয়জুল কাদির, ৬/১১১