📘 মুহসিনীন উত্তম পুরুষদের পাঠশালায় > 📄 প্রথম মিলনে স্বামীর করণীয়

📄 প্রথম মিলনে স্বামীর করণীয়


দৈহিক মিলন বিষয়টা মুসলিমদের জন্য যতটা শারীরিক ঠিক ততটাই আত্মিক। কেউ নিজের খায়েশাতের জন্য সহবাসে লিপ্ত হলেও তাদের মাঝে আত্মিক সম্পর্ক হয়েই যায়। সেই সাথে বৈধভাবে সহবাসের সওয়াব হাসিলেরও সুযোগ রয়েছে।

নব-দম্পতির জন্য প্রথম রাত কথাবার্তা, গল্প, খুনসুটি করে কাটিয়ে দেয়া উচিত। এতে উভয়ই একে অপরকে সহজ করে নিতে পারবে। তা ছাড়া এতে সহবাসের প্রতি উভয়েরই আগ্রহ বাড়ে। প্রথমবার সহবাসে দুইজনই কিছুটা ভয়াতুর থাকে। কারণ অপরদিকের মানুষটা নতুন, কাজটাও নতুন। তবে এ ক্ষেত্রে স্বাভাবিকভাবেই নারীদের উদ্বিগ্নতা কিছুটা বেশি কাজ করে। তাই প্রথম মিলন স্ত্রীর পরিচিত পরিবেশে হলে ভালো হয়। যেমন: তার নিজস্ব পিত্রালয়।

দৈহিক মিলনের পূর্বে-বিশেষ করে দাম্পত্য জীবনের প্রাথমিক সময়গুলোতে–পূর্বরাগ বা ফোরপ্লে খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজ। আদর-সোহাগ, আলিঙ্গন, চুমু, সংবেদনশীল অঙ্গ স্পর্শ, মর্দন ইত্যাদির মাধ্যমে স্ত্রীকে সহবাসের জন্য তৈরি করে নিতে হবে। এগুলোর মাধ্যমে স্ত্রীদের যোনিপথ প্রসারিত হয় ও উত্তেজনায় পিচ্ছিল হয়। ফলে খুব সহজেই সহবাস সম্পন্ন হয়। এ ছাড়া উত্তেজনার কারণে ব্যথাও একদমই অনুভূত হয় না। তাই স্বামী হিসেবে পুরুষদের উচিত ফোরপ্লের সময় যোনি পিচ্ছিল হয়েছে কি না খেয়াল রাখা।

দাম্পত্য জীবনের প্রথম কিছুদিন হয়তো সফলভাবে সহবাস করা সম্ভব নাও হতে পারে। সে ক্ষেত্রে সবর করা উচিত। কোনোমতেই নববধূর ওপর চড়াও হওয়া যাবে না। কারণ, এখানে তার কোনো দোষ নেই। কুমারী নারীদের গোপনাঙ্গের ছিদ্র পুরুষদের গোপনাঙ্গের পুরুত্বের তুলনায় ক্ষুদ্র থাকে, তাই প্রথমবার সহবাসের ক্ষেত্রে ব্যথা পাওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা থাকে। এ ক্ষেত্রে ফোরপ্লের পাশাপাশি মিলনের সময় পুরুষাঙ্গে অতিরিক্ত পিচ্ছিল পদার্থ মেখে নেয়া উচিত। সহবাসের জন্য কিছু লুব্রিকেন্ট কিনতে পাওয়া যায়। এ ছাড়া ভ্যাসলিন, ভেষজ তেল (যেমন: অলিভ ওয়েল) ইত্যাদিও ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে কোনো সমস্যা নেই। এ ছাড়া সহবাসের পর যোনিপথে প্রদাহ কিংবা তলপেটে ব্যথা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এ ক্ষেত্রে পেইন কিলার জাতীয় ওষুধ সেবন করা যেতে পারে।

সাধারণত প্রথম দিকে নারীরা বুঝতেই পারে না যে, সে কী করছে। এ কারণে বিষয়টাকে তেমন একটা উপভোগ করে না। সে শুধু স্বামীর চাহিদা পূরণ করে চলে। তবে একটা সময় তার জন্যও এই সময়গুলো উপভোগ্য হয়। তাই প্রাথমিক সময়গুলোতে স্ত্রীর প্রতিক্রিয়া বা সাড়া না পেলে বিচলিত বা মনঃক্ষুণ্ণ হওয়া যাবে না। মেয়েদের ক্ষেত্রে প্রথমবারের মতো কামজনিত উত্তেজনা (Orgasm) হতে ১৫ থেকে ৩০ দিন সময় লেগে যেতে পারে। তখন থেকেই মূলত নারীরা সহবাসের তৃপ্তি পেতে শুরু করে।

সব সময় চেষ্টা করতে হবে যেন স্ত্রী তৃপ্ত হয়। পূর্ব-অভিজ্ঞতাহীন কুমার পুরুষের ক্ষেত্রে প্রথম সহবাসে খুব অল্প সময়েই বীর্যপাত হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে এবং এটা স্বাভাবিক। তাই অযথা কোনো চিকিৎসা, ওষুধ, হারবাল ইত্যাদির শরণাপন্ন হওয়ার কিছু নেই। অধিকাংশ ক্ষেত্রে ওইসব ভুয়া হয়ে থাকে। শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের সময়কাল বৃদ্ধি করার উদ্দেশ্যে কেগেল এক্সারসাইজ করা যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে প্রস্রাব-পায়খানা আটকে রাখার জন্য পেশি যেভাবে টেনে ধরা হয় সেভাবে ১০ সেকেন্ডের মতো ধরে রেখে দিনে ১০ বার এক্সারসাইজটি করতে হবে। এ ছাড়া শারীরিক ব্যায়ামের মাধ্যমে চর্বি কমানোও এর একটি সমাধান।

📘 মুহসিনীন উত্তম পুরুষদের পাঠশালায় > 📄 মিলনের ক্ষেত্রে নাজায়েয বিষয়সমূহ

📄 মিলনের ক্ষেত্রে নাজায়েয বিষয়সমূহ


আমাদের জীবনযাত্রাকে উন্নত করতে আমরা ইসলামের বিধি-নিষেধগুলো মেনে চলব। আল্লাহ আমাদের দৈহিক ও মানসিক বিফলের অবসান ঘটাতে প্রতিটি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন। যৌনমিলনের ক্ষেত্রে এমন অনেক বিষয় রয়েছে যেগুলো আমাদের জন্য আল্লাহ নিষিদ্ধ করেছেন। আর সেসব মন্দ বিষয়াদির রয়েছে মারাত্মক কুপ্রভাব।

* পায়ুপথে সংগম
এর অনেক ক্ষতিকর দিক রয়েছে, এর মাধ্যমে যৌনবাহিত রোগ ছড়ায়। যোনিপথে যেমন প্রাকৃতিকভাবে পিচ্ছিল পদার্থ উৎপন্ন হয় পায়ুপথের তেমনটা হয় না। এ ছাড়া পায়ুপথের চামড়ার আস্তরণটি যোনিপথের চেয়েও পাতলা। ফলে পায়ুপথে মিলনের সময় ত্বক ছিঁড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। যেহেতু মলদ্বার দিয়েই শরীরের বর্জ্য পদার্থ বের হয়ে আসে তাই খুব সহজেই সেসব ক্ষতস্থানে ব্যাক্টেরিয়াল ইনফেকশন হওয়ার সম্ভাবনা থাকে ব্যাপক। আবার এই একই কারণে যৌনবাহিত রোগ ক্ল্যামিডিয়া, গনোরিয়া, হেপাটাইটিস, এইচআইভি, হার্পস ইত্যাদির মতো জঘন্য রোগগুলো হতে পারে। এই রোগগুলোর অধিকাংশই কোনো চিকিৎসা নেই。
* ওরাল সেক্স অনেক আলিমের মতে এটা মাকরুহ। এর মাধ্যমে যৌনবাহিত রোগ ছড়াতে পারে তাই এটাকে অনুৎসাহিত করা হয়। এইডস, গনোরিয়া, হার্পস ইত্যাদি এসটিডির পাশাপাশি ওরাল সেক্সের মাধ্যমে গলায় ক্যান্সার হওয়ারও ঝুঁকি রয়েছে, এমনটিই জানিয়েছে আমেরিকান ক্যান্সার সোসাইট এর চিফ মেডিকেল অফিসার ওটিস ব্রাওলে。[১]

◇ হায়েয অবস্থায় যৌনমিলন হায়েযের সময়টা নারীদের জন্য কষ্টদায়ক। পুরুষদের উচিত স্ত্রীর হায়েযের সময়ে সবর করা। এই সময়টাতে নারীদের মেজাজ খিটখিটে থাকে তাই স্বাভাবিক কথাতেও রেগে যেতে পারে। সবকিছু মিলিয়ে হায়েযের সময় যৌনমিলন তার দৈহিক কিংবা মানসিক কোনো অবস্থার জন্যই উত্তম নয়। এদিকে হায়েযের মাধ্যমে নারীদের শরীর থেকে অশুচি রক্ত বের হয়ে আসে। আর সেই রক্তের মাধ্যমে যৌনবাহিত রোগের সংক্রমণও ঘটতে পারে।

টিকাঃ
[১] https://www.webmd.com/sex-relationships/features/4-things-you-didnt-know-about-oral-sex#1

📘 মুহসিনীন উত্তম পুরুষদের পাঠশালায় > 📄 যৌনমিলনের উপকারিতা

📄 যৌনমিলনের উপকারিতা


* হরমোনাল সেক্রুয়েশনের কারণে মানসিক ক্লান্তি দূর হয়, রক্ত চলাচল ভালো থাকে, হৃৎপিণ্ড ভালো থাকে。
* খিটখিটে মেজাজ কমে; শারীরবৃত্তীয় ও মানসিক চাপ, হতাশা এবং উদ্বেগ দূর হয়。
* ক্যালরি বার্ন করে ওজন কমাতেও সাহায্য করে。
* নিম্ন রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে。
* রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়。
* হৃদরোগের ঝুঁকি কমে。
* নিজের প্রতি যত্নবান হওয়ার ইচ্ছা বাড়ে。
* নিয়মিত সহবাসের মাধ্যমে ধীরে ধীরে বীর্যপাতের সময়কাল বৃদ্ধি করা সম্ভব হয়。
* তাৎক্ষণিকভাবে সাধারণ ব্যথা উপশম হয়。
* ভাল ঘুম হয়。
* স্ত্রীর সাথে ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধি পায়, ফলে সাংসারিক জীবনে সুখ আসে。

📘 মুহসিনীন উত্তম পুরুষদের পাঠশালায় > 📄 বেশ কিছু জন্মনিরন্ত্রণ পদ্ধতির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

📄 বেশ কিছু জন্মনিরন্ত্রণ পদ্ধতির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া


হায়েয শুরু হওয়ার পর থেকেই একজন নারী মা হওয়ার জন্য যোগ্যতা অর্জন করে।

অর্ধশতাব্দী পূর্বেও দশের কোটায় পেরিয়েই নারীরা মা হয়েছে, সেই সাথে তারা অনেক সন্তানের অধিকারিণী হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে পাশ্চাত্যের রীতি অনুসরণ করতে গিয়ে নারীরা কম বয়সে সন্তান নেওয়ার কথা ভাবতে সামান্য ইতস্ততবোধ করে। তাই নিজের ক্যারিয়ার বিল্ডাপ করতে করতে ত্রিশের চৌকাঠে পা রেখে শেষে সন্তান গ্রহণের চিন্তাভাবনা শুরু করে। অনেক নারী বিয়ের জন্য পাত্রই খুঁজতে শুরু করে ত্রিশের পর। কিন্তু প্রতিটি বিষয়ের একটি স্বর্ণমুহূর্ত রয়েছে। সেই মুহূর্তটা অতিবাহিত হয়ে গেলে মাঝে মাঝেই সম্মুখীন হতে হয় ব্যর্থতার। একজন নারীর বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে ধীরে ধীরে তার মা হওয়ার সম্ভাবনা কমতে থাকে এবং সেই সাথে গর্ভপাতের আশঙ্কাও বাড়তে থাকে। ৩০+ বছর বয়সী নারীদের গর্ভপাত হওয়ার আশঙ্কা ২০% বৃদ্ধি পায়।

এ ছাড়া অপরিপক্ক সন্তান জন্ম নেওয়ারও সমূহ সম্ভাবনা থাকে। তাই ঝুঁকিমুক্ত থেকে যত জলদি সম্ভব সন্তান গ্রহণের পরিকল্পনা রাখা উচিত। পূর্বের আলোচনায় আমরা বেশ কিছু জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির শরঈ বিধান সম্পর্কে জেনেছি। তন্মধ্যে কিছু পদ্ধতি জায়েয, কিছু পদ্ধতি নাজায়েয। নাজায়েয পদ্ধতিগুলো পরিত্যাজ্য হওয়ার অন্যতম বিশেষ একটি কারণ এই যে, সেসব পদ্ধতি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর বলেই প্রমাণিত।

জন্মনিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে জন্মনিয়ন্ত্রক বড়ি (Contraceptive Pill) এর প্রচলন বর্তমান সময়ে ব্যাপক। কিন্তু এর বেশ কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে। এই ওষুধগুলোতে এমন কিছু হরমোনজনিত উপাদান রয়েছে (যেমন: এস্ট্রোজেন এবং প্রোজেস্টেরন) যা শরীরের কার্যক্ষমতা পরিবর্তন করে গর্ভধারণ থেকে বিরত রাখে। মূলত ডিম্বাশয় ও জরায়ুকে এসব ওষুধ নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। এসব ওষুধ ডিম্বাণু নিঃসরণকে বাধাপ্রাপ্ত করে সেই সাথে সারভিক্সের মাংসপেশিকে মোটা করে তোলে যাতে শুক্রাণু জরায়ুতে প্রবেশ করে কোনো ডিম্বাণুকে নিষিক্ত করতে না পারে। কাজেই বোঝা যাচ্ছে, আল্লাহ প্রদত্ত সাধারণ নিয়মকে এই পদ্ধতির মাধ্যমে অস্বাভাবিক করে তোলা হচ্ছে যা নিঃসন্দেহে অনুচিত।

বর্তমান বিশ্বে আরও একটি জনপ্রিয় জন্মনিয়ন্ত্রণের দীর্ঘস্থায়ী পদ্ধতি হচ্ছে আই.ইউ.ডি (IUD- Intrauterine Device)। এই প্রক্রিয়ায় জরায়ুতে ইংরেজি অক্ষর T আকৃতির একটি যন্ত্র প্রবেশ করানো হয়। এই পদ্ধতিতে ৩-১০ বছর পর্যন্ত দীর্ঘ সময়জুড়ে জন্মনিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। এ রকম আরও বেশ কিছু জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি রয়েছে যেগুলো সত্যিকার অর্থেই বর্জনীয়।

এসব পদ্ধতির বেশ কিছু সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হলো : • অনিয়মিত মাসিক।

* মাসিকের সময় তুলনামূলক অধিক রক্তপ্রবাহ এবং মাসিকের স্থায়িত্বকাল বৃদ্ধি。
* বমি বমি ভাব হওয়া, মাথা ব্যথা, মাথা ঘোরানো এবং স্তন প্রদাহ。
* হঠাৎ মেজাজ পরিবর্তন。
* IUD পদ্ধতি অবলম্বনে মাত্রাতিরিক্ত ব্রন হওয়ার আশঙ্কা থাকে。
* IUD পদ্ধতি অবলম্বনে তলপেট ও কোমড়ে ব্যথা হয়ে থাকে。
* অনেক সময় IUD জরায়ু হয়ে ভেতরে চলে যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে অপারেশন করে বের করতে হয়。

আধুনিক আরেকটি পদ্ধতি হচ্ছে, ইমপ্লান্টেশন, যা বাহুতে ইঞ্জেকশনের মতো করে দেয়া হয়। এটি কয়েক বছরের জন্য জন্মনিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম।

ইমপ্ল্যান্টেশনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হলো:

* কার্ডিওভাস্কুলার ঝুঁকি বাড়ায়। ফলে হৃদযন্ত্রের বিভিন্ন রোগ দেখা দিতে পারে。
* পেটে মেদ জমতে পারে。
* হরমোনাল পরিবর্তনের কারণে মাসিক চক্র পরিবর্তন হয়ে অনিয়মিত মাসিক ও খুব বেশি রক্তপাত হতে পারে。
* ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায় (যেহেতু এইসব হরমোন বারবার exposure হয়)।
* মাইগ্রেন তথা প্রচুর মাথাব্যথার সমস্যা দেখা দিতে পারে。

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00