📘 মৃত্যুর কতক্ষণ আগে তওবা গ্রহণযোগ্য > 📄 মৃত্যুর কতক্ষণ আগে তাওবা কবুল হয়

📄 মৃত্যুর কতক্ষণ আগে তাওবা কবুল হয়


দলীলঃ আল্লাহ্ বলেন-
إِلَّا مَنْ تَابَ وَآمَنَ وَعَمِلَ عَمَلًا صَالِحًا فَأُولَئِكَ يُبَدِّلُ اللَّهُ سَيِّئَاتِهِمْ حَسَنَاتٍ
[সূরা ফুরকন, ৬৯]
কবিরা গুনাহের তাওবা মৃত্যুর কতক্ষণ আগে গ্রহণযোগ্য
১. মৃত্যুর এক ঘন্টা আগ পর্যন্ত তাওবা করলে তাওবা গ্রহন করা হবে এবং গুনাহ মাফ হবে। দলীলঃ মহানবী (সঃ) বলেছেন,
- وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا ، ، قَالَ : «مَنْ تَابَ قَبْلَ مَوْتِهِ يُعَاقِبُ عَلَيْهِ ، وَمَنْ تَابَ قَبْلَ مَوْتِهِ بِشَهْرٍ تِيبَ عَلَيْهِ ، وَمَنْ تَابَ قَبْلَ مَوْتِهِ بِجُمُعَةٍ تِيبَ عَلَيْهِ ، وَمَنْ تَابَ قَبْلَ مَوْتِهِ بِيَوْمٍ تِيبَ عَلَيْهِ ، وَمَنْ تَابَ قَبْلَ مَوْتِهِ بِسَاعَةٍ تِيبَ عَلَيْهِ ، فَقُلْتُ لَهُ : إِنَّمَا قَالَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ : {إِنَّمَا التَّوْبَةُ عَلَى اللَّهِ لِلَّذِينَ يَعْمَلُونَ السُّوءَ بِجَهَالَةٍ ...} الْآيَةَ واه أبو داود الطيالسي وأحمد بن حنبل [۱/۷۲۱٤]
অর্থঃ “যে ব্যক্তি মৃত্যুর এক বছর আগে তাওবা করবে, তার তাওবা গ্রহণ হবে। আবার যে ব্যক্তি মৃত্যুর এক মাস আগে তাওবা করবে, তার তাওবা কবুল হবে। যে ব্যক্তি মৃত্যুর সপ্তাহ আগে তাওবা করবে তার তাওবা কবুল করা হবে। যে ব্যক্তি মৃত্যুর একদিন আগে তাওবা করবে তার তাওবা কবুল করা হবে। যে ব্যক্তি মৃত্যুর এক ঘন্টা আগে তাওবা করবে তার তাওবা কবুল করা হবে।” (আবু দাউদ, মুসনাদে আহমদ, হাদীস নং- ১/৭২১৫)
অন্য হাদীসে মহানবী (সা:) বলেন
عن عبادة بن الصامت قال : قال رسول الله ( صلى الله عليه وسلم ) ( من تاب قبل موته بسنة تاب الله عليه ) ثم قال : (إن السنة لكثير ، من تاب قبل موته بشهر تاب الله عليه ) ثم قال : (إن الشهر لكثير ، من تاب قبل موته بجمعة تاب الله عليه ) ثم قال : (إن الجمعة لكثير ، من تاب قبل موته بساعة تاب الله عليه ) ثم قال : (إن الساعة لكثير ، من تاب قبل موته قبل أن يغرغر بها تاب الله عليه ) .
২. অর্থ: হযরত উবাদা বিন সাবেত (রা:) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, মহানবী মুহাম্মদ (সা:) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি মৃত্যুর একবছর পূর্বে তাওবা করবে, তার তাওবা গ্রহণ করা হবে। এরপর তিনি বললেন, নিশ্চয়ই এক বছর সময় অধিক। যে ব্যক্তি মৃত্যুর এক মাস পূর্বে তাওবা করবে, তার তাওবা গ্রহণ করা হবে। এরপর বলেছেন, নিশ্চয় এক মাস সময় অধিক। যে ব্যক্তি মৃত্যুর এক সপ্তাহ পূর্বে তাওবা করবে, তার তাওবা গ্রহণ করা হবে। এরপর তিনি বলেছেন, নিশ্চয় এক সপ্তাহ অধিক হয়। এরপর যে ব্যক্তি মৃত্যুর এক ঘন্টা পূর্বে তাওবা করবে তার তাওবা গ্রহণ করা হবে। নিশ্চয় এক ঘন্টা অধিক হয়। যে ব্যক্তি মৃত্যুর যন্ত্রণা শুরু হওয়ার পূর্বে তাওবা করবে, তার তাওবা গ্রহণ করা হবে। (সূত্রঃ কাশফুল খাফা, নিসায়ি, সূরা নিসা)।
৩. অন্য হাদীসে মহানবী (সা:) বলেছেন,
زيد بن أسلم عن عبد الرحمن ( السلماني ) قال : اجتمع أربعة من أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم ) فقال أحدهم : سمعت رسول الله ( صلى الله عليه وسلم ) يقول : ( إن الله عز وجل يقبل توبة العبد قبل أن يموت بيوم ) .
قال الثاني : وأنا سمعت رسول الله ( صلى الله عليه وسلم ) يقول : ( إن الله عز وجل يقبل توبة العبد قبل أن يموت بنصف يوم ) .
قال الثالث : وأنا سمعت رسول الله ( صلى الله عليه وسلم ) يقول : ( إن الله عز وجل يقبل توبة العبد قبل أن يموت بضحوة ) .
فقال الرابع : وأنا سمعت رسول الله ( صلى الله عليه وسلم ) يقول : ( إن الله عز وجل يقبل توبة العبد ما لم يغرغر بنفسه ) .
অর্থ: যায়েদ ইবনে আসলাম ইবনে আব্দুর রহমান (রা:) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, মহানবী (সা:) এর চার জন সাহাবী থেকে এক জন সাহাবী বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ (সা:) থেকে শুনেছি, তিনি বলেনঃ নিশ্চয়ই আল্লাহ্ তা'য়ালা মৃত্যুর একদিন পূর্বে যে তাওবা করবে তার তাওবা গ্রহণ করা হবে। দ্বিতীয় ব্যক্তি বললেনঃ আমি মহানবী (সা:) থেকে শুনেছি, তিনি বলেনঃ অর্ধ দিন পূর্বে যে তাওবা করবে তার তাওবা গ্রহণ করা হবে। তৃতীয় ব্যক্তি বললেন আমি মহানবী (সা:) থেকে শুনেছি, তিনি বলেনঃ মৃত্যুর সামান্য সময়ের বা এক মিনিট পূর্বে যে তাওবা করবে তার তাওবা গ্রহণ করা হবে। চতুর্থ ব্যক্তি বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ (সা:) থেকে শুনেছি, তিনি বলেনঃ মৃত্যুর ভয় হয়নি এমন ব্যক্তির তাওবা গ্রহণ করা হবে। (সূত্রঃ কাশফুল খায়াল, নিশাপুরি, সূরা নিসা)।
وَلَيْسَتِ التَّوْبَةُ لِلَّذِينَ يَعْمَلُونَ السَّيِّئَاتِ حَتَّى إِذَا حَضَرَ أَحَدَهُمُ الْمَوْتُ قَالَ إِنِّي تُبْتُ الْآنَ وَلَا الَّذِينَ يَمُوتُونَ وَهُمْ كُفَّارٌ
আর যারা অসৎকাজ করতেই থাকে তাদের কোন তওবা নেই, একপর্যায়ে তাদের কাছে মৃত্যু এসে যাবার পর তারা বলে এখন আমি তওবা করছি, তাদের তওবা তাদের মৃত্যুর হয় কাফের অবস্থায়।
৪. অন্য হাদীসে নবী করীম (সা.) বলেছেন-
عن إبراهيم ابن ميمون ، عن رجل من بلحارث بن كعب ، ثنا رجل منا يقال له أيوب قال سمعت عبد الله بن عمرو يقول : من تاب قبل موته عاما أو بعام تيب عليه ، حتى قال : بشهر ، حتى قال بجمعة ، حتى قال بيوم ، حتى قال : بساعة ، حتى قال : بفواق ، فقلت : سبحان الله ، لم يقل الله تعالى وليست التوبة للذين يعملون السيئات حتى إذا حضر احدهم الموت فقال : انما احدثك ما سمعت من رسول الله ( صلى الله عليه وسلم ) .
অর্থ: হযরত ইব্রাহীম ইবনে মায়মুন থেকে বর্ণিত, বিল হারেছ বিন কাব থেকে এক ব্যক্তি বলেনঃ আমি আইয়্যুব থেকে শুনেছি, আব্দুল্লাহ বিন আমর (রা:) বলেছেন, যে ব্যক্তি মৃত্যুর এক বছর পূর্বে তাওবা করবে তার তাওবা কবুল করা হবে। এরপর বলেছেন, যে ব্যক্তি একমাস পূর্বে তাওবা করবে তার তাওবা কবুল করা হবে। এরপর বলেছেন, এক সপ্তাহ পূর্বে যে তাওবা করবে তার তাওবা কবুল করা হবে। এরপর বলেছেন, এক দিন পূর্বে যে তাওবা করবে তার তাওবা কবুল করা হবে। এরপর বলেছেন, এক ঘন্টা পূর্বে যে তাওবা করবে তার তাওবা কবুল করা হবে। এক মিনিট পূর্বে যে তাওবা করবে তার তাওবা কবুল করা হবে। এরপর আমি বলেছি সুবহানআল্লাহ! আল্লাহ্ তা'য়ালা বলেননি তাদের তাওবা নেই যারা অপকর্ম করতেই থাকে তাদের কাছে মৃত্যু আসা পর্যন্ত। এরপর বলেছেন, আমি যা রাসূলুল্লাহ্ (সা:) থেকে শুনেছি তাই বর্ণনা করেছি। (সূত্রঃ তাফসিরে ইবনে হাতিম, ইমাম রাজি)
৫. অন্য হাদীসে মহানবী (সা:) বলেনঃ
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ سِنَانٍ ، ثَنَا وَهْبُ بْنُ جَرِيرٍ ، ثَنَا شُعْبَةُ ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ ابْنِ مَيْمُونٍ ، عَنْ رَجُلٍ مِنْ بِلْحَارِثِ بْنِ كَعْبٍ ، ثَنَا رَجُلٌ مِنَّا يُقَالُ لَهُ أَيُّوبُ قَالَ : سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَمْرٍو ، يَقُولُ : " مَنْ تَابَ قَبْلَ مَوْتِهِ عَاماً أَوْ بِعَامٍ تِيبَ عَلَيْهِ ، حَتَّى قَالَ : بِشَهْرٍ ، حَتَّى قَالَ : بِجُمُعَةٍ ، حَتَّى قَالَ : بِيَوْمٍ ، حَتَّى بِسَاعَةٍ ، حَتَّى قَالَ : بِفُوَاقٍ ، فَقُلْتُ : سُبْحَانَ اللَّهِ ، أَلَمْ يَقُلِ اللَّهُ تَعَالَى : " وَلَيْسَتِ التَّوْبَةُ لِلَّذِينَ يَعْمَلُونَ السَّيِّئَاتِ حَتَّى إِذَا حَضَرَ أَحَدَهُمُ الْمَوْتُ " فَقَالَ : " إِنَّمَا أُحَدِّثُكَ مَا سَمِعْتُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ "
অর্থ: হযরত ইব্রাহিম বিন মাইমূন রা: থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি বর্ণনা করেছেন আর তিনি আইয়ুব থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন, আমি আব্দুল্লাহ বিন ওমর থেকে শুনেছি, তিনি বলেছেন, যে ব্যক্তি মৃত্যুর এক বছর পূর্বে তাওবা করবে তার তাওবা গ্রহণ করা হবে। এরপর বলেছেন, যে ব্যক্তি একমাস পূর্বে তাওবা করবে তার তাওবা গ্রহণ করা হবে। এরপর বলেছেন, যে ব্যক্তি মৃত্যুর এক সপ্তাহ পূর্বে তাওবা করবে তার তাওবা গ্রহণ করা হবে। এরপর বলেছেন, যে ব্যক্তি একদিন পূর্বে তাওবা করবে তার তাওবা গ্রহণ করা হবে। এরপর বলেছেন, যে ব্যক্তি এক ঘন্টা পূর্বে তাওবা করবে তার তাওবা গ্রহণ করা হবে। এরপর বলেছেন, যে ব্যক্তি সামান্য সময় বা এক মিনিট পূর্বে তাওবা করবে তার তাওবা গ্রহণ করা হবে। এরপর আমি বলেছি সুবহানআল্লাহ! আল্লাহ্ তা'য়ালা কি বলেননি যারা অসৎকাজ করতেই থাকে তাদের কোন তওবা নেই, একপর্যায়ে তাদের কাছে মৃত্যু এসে যাবার পর তারা বলে এখন আমি তাওবা করছি, আর তাদের মৃত্যু হয় কাফের অবস্থায়। এরপর বলেছেন, আমি তোমার কাছে হাদিস বর্ণনা করছি যা আমি রাসূল সা: থেকে শুনেছি। (তাফসিরে ইবনে হাতেম, ইমাম রাজী, ৫০১৪)
৬. অন্যস্থানে মহানবী (সা:) বলেছেন,
زيد بن أسلم عن عبد الرحمن ( السلماني ) قال : اجتمع أربعة من أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم ) فقال أحدهم : سمعت رسول الله ( صلى الله عليه وسلم ) يقول : ( إن الله عز وجل يقبل توبة العبد قبل أن يموت بيوم ) .
قال الثاني : وأنا سمعت رسول الله ( صلى الله عليه وسلم ) يقول : ( إن الله عز وجل يقبل توبة العبد قبل أن يموت بنصف يوم ) .
قال الثالث : وأنا سمعت رسول الله ( صلى الله عليه وسلم ) يقول : ( إن الله عز وجل يقبل توبة العبد قبل أن يموت بضحوة ) .
فقال الرابع : وأنا سمعت رسول الله ( صلى الله عليه وسلم ) يقول : ( إن الله عز وجل يقبل توبة العبد ما لم يغرغر بنفسه ) .
{ ثُمَّ يَتُوبُونَ مِنْ قَرِيبٍ } أي من زمان قريب وهو ما قبل حضور الموت كما يجيء عنه ما سيأتي من قوله تعالى : { حَتَّى إِذَا حَضَرَ } [ النساء : ۱۸ ] الخ
অর্থ: যায়েদ বিন আসলাম আব্দুর রহমান আসসালমী থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: মহানবী (সা:) এর চারজন সাহাবী একত্রিত হয়ে তাদের একজন বলেন: আমি মহানবী (সা:) কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, মৃত্যুর একদিন পূর্বে যে তাওবা করবে তার তাওবা কবুল করা হবে।
দ্বিতীয় জন বলেন: আমি রাসূল সা: কে বলতে শুনেছি যে, তিনি বলেছেন, যে ব্যক্তি মৃত্যুর অর্ধ দিন আগে তাওবা করবে তার তাওবা গ্রহণ করা হবে।
তৃতীয় জন বলেছেন, আমি মহানবী সা: থেকে শুনেছি, তিনি বলেন: মৃত্যুর একমিনিট আগে তাওবা করবে তার তাওবা গ্রহণ করা হবে।
চতুর্থ জন বললেন, আমি মহানবী (সা:) কে বলতে শুনেছি যে, মৃত্যুর ভয় হয়নি এমন ব্যক্তির তাওবা গ্রহণ করা হবে।
এরপর যারা অতি দ্রুত তওবা করে অর্থাৎ মালাকুল মাউত বা মৃত্যুর ফেরেশতা আসেনি এমন ব্যক্তির তওবা গ্রহণযোগ্য। (তাফসীরে কাশফুল বায়ান, সূরা নিসা, ২৭৪ পৃ:)
৭. অন্যত্র মহানবী সা: বলেন:
يروى أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال في آخر خطبة خطبها : « من تاب قبل موته بسنة تاب الله تعالى عليه » ثم قال : « وإن السنة لكثيرة من تاب قبل موته بشهر تاب الله تعالى عليه » ثم قال : « وإن الشهر لكثير من تاب قبل موته بيوم تاب الله تعالى عليه » ثم قال : « وإن اليوم لكثير من تاب قبل موته بساعة وقد بلغت نفسه هذه وأهوى بيده الشريفة إلى حلقه تاب الله تعالى عليه » وأخرج أحمد والترمذي
অর্থ: মহানবী (সা:) খুতবা দিতে গিয়ে বলেছেন, যে ব্যক্তি মৃত্যুর এক বছর পূর্বে তাওবা করবে আল্লাহ্ তার তাওবা গ্রহণ করবেন। এরপর বলেছেন, এক বছর অনেক বেশী সময়। যে মৃত্যুর এক মাস পূর্বে তাওবা করবে আল্লাহ্ তায়ালা তার তাওবা গ্রহণ করবেন। এরপর তিনি বলেন: একমাস অনেক বেশী সময়। যে মৃত্যুর এক দিন পূর্বে তাওবা করবে আল্লাহ্ তায়ালা তার তাওবা গ্রহণ করবেন। এরপর তিনি বলেন: এক দিন অনেক বেশী সময়। যে মৃত্যুর এক ঘন্টা পূর্বে তাওবা করবে আল্লাহ্ তায়ালা তার তাওবা গ্রহণ করবেন। এরপর তিনি বলেন: এক ঘন্টা অনেক বেশী সময়। যে ব্যক্তির রুহ্ কণ্ঠনালীতে আসার পূর্বে তাওবা করবে আল্লাহ্ তায়ালা তার গ্রহণ করবেন। (আহমদ, তিরমিজী)
৮. অন্যস্থানে মহানবী (সা:) বলেছেন:
عن ابن عمر عن النبي صلى الله عليه وسلم « إن الله يقبل توبة العبد ما لم يغرغر » وأخرج ابن أبي شيبة عن قتادة قال : كنا عند أنس بن مالك وثم أبو قلابة فحدث أبو قلابة قال : إن الله تعالى لما لعن إبليس سأله النظرة فأنظره إلى يوم الدين فقال وعزتك لا أخرج من قلب ابن آدم ما دام فيه الروح قال : وعزتي لا أحجب عنه التوبة ما دام فيه الروح ، وأخرج ابن جرير عن ابن عباس قال القريب ما بينه وبين أن ينظر إلى ملك الموت
من تاب وقد بلغت روحه حلقه تاب الله عليه » ، ومع قوله صلى الله عليه وسلم : « من تاب قبل الغرغرة قبلت توبته » ، رواه الترمذي عن ابن عمر ، وذكر أبو قلابة ، أنه سأل إبليس النظرة ، فأنظره إلى يوم القيامة ، فقال : وعزتك لا أخرج من قلب ابن آدم ما دام فيه روح ، فقال الله عز وجل : وعزتي لا أحجب عند التوبة ما دام فيه الروح ، ويجاب بأن الغرغرة أخطر من الحلق ، وأن الموحد تقبل عنه ما دام فيه الروح والعلم لله تعالى ، وظاهر الآية
অর্থ: হযরত ইবনে ওমর রা: মহানবী সা: থেকে বর্ণনা করেন, আল্লাহ্ তায়ালা বান্দার মৃত্যুর যন্ত্রণা শুরু হওয়ার পূর্বে তাওবা করলে তার তাওবা গ্রহণ করা হবে।
ইবনে আবি শাইবা আবু কাতাদা রা: থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমরা আনাস বিন মালেকের কাছে ছিলাম। আবু ক্বালাবা বর্ণনা করে বলেন: নিশ্চয় আল্লাহ্ শয়তানকে অভিশাপ করেছেন এবং শয়তান আল্লাহ্ তায়ালার কাছে কিয়ামত দিবস পর্যন্ত অবকাশ চেয়েছেন। এরপর তিনি বলেন: তোমার কসম, অবশ্যই আমি আদম সন্তানের রুহ্ থেকে ঈমান বের করব। আমার যাতের কসম করে বলছি, আমি আদম সন্তানের তাওবা থেকে আড়াল হয়ে দাঁড়াব। ইবনে জারির আ: থেকে বর্ণনা করেন: তাওবা এত কাছেবর্তী মৃত্যুর ফেরেশতাকে দেখার পূর্ব পর্যন্ত।
অতপর রুহ্ কণ্ঠনালীতে আসার পূর্বে তাওবা করবে, তার তাওবা কবুল করা হবে। এরপর মহানবী সা: বলেন: মৃত্যুর যন্ত্রণা আসার পূর্বে পর্যন্ত তাওবার সময়। অতপর হলকুমে আসার পূর্ব পর্যন্ত তাওবা করলে তার তাওবা আল্লাহ্ তায়ালা কবুল করবেন, অর্থাৎ মানুষের দেহে রুহ্ যতক্ষন দেহে অবস্থান করবে ততক্ষন তাওবার সময়। (তাফসীরে আরগিস, ৩৭৪ পৃঃ)
৯. অন্য হাদীসে মহানবী সা. বলেছেন-
عَنْ بْنِ عُمَرَ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِنَّ اللَّهَ يَقْبَلُ تَوْبَةَ الْعَبْدِ مَا لَمْ يُغَرْغِرْ
অর্থ: “আল্লাহ্ তার বান্দার তাওবা মৃত্যুর যন্ত্রণা শুরু না হওয়া পর্যন্ত কবুল করেন।” (বুখারী) এতে বুঝা যায় যে, আল্লাহ্ এক ঘন্টার চেয়ে আরো অধিক কম সময়ে বান্দার তাওবা কবুল করেন। মৃত্যু যন্ত্রণায় ছটফট করার আগে তাওবা করলে আল্লাহ্ তার তাওবা কবুল করবেন। (আহমদ)
১০. মহানবী সা. বলেন-
مَنْ تَابَ قَبْلَ أَنْ يُغَرْغِرَ نَفْسَهُ قُبِلَ مِنْهُ
অর্থ: “যে ব্যক্তি গারগারা বা মৃত্যু যন্ত্রণার পূর্বে তাওবা করবে আল্লাহ্ তার তাওবা কবুল করবেন।” (মুসনাদে আহমদ, ৫/৩৬২)
১১. মহানবী সা. বলেন-
، عَنْ مُحَمَّدٍ ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، قَالَ : مَنْ تَابَ قَبْلَ أَنْ تَطْلُعَ الشَّمْسُ مِنْ مَغْرِبِهَا تَابَ اللَّهُ عَلَيْهِ
অর্থ: “যে ব্যক্তি সূর্য পশ্চিম থেকে উদিত হওয়ার পূর্বে তাওবা করবে আল্লাহ্ তাঁর তাওবা কবুল করবেন।” (মুসলিম- ৭০৩৮)
عن أبي هريرة قال : قال رسول الله ( صلى الله عليه وسلم ) ( من تاب قبل طلوع الشمس من مغربها تاب الله عليه
১২. মহানবী সা. বলেন-
أَنَّ الْإِسْلَامَ يَهْدِمُ مَا كَانَ قَبْلَهُ رَوَاهُ مُسْلِمٌ
অর্থ: ইসলাম গ্রহণ করা পূর্ববর্তী সব গুনাহ মাফ করে দেয়। (মুসলিম- ৩৩৬)
১৩. অন্য হাদীসে মহানবী সা. বলেছেন-
عَنِ ابْنِ شِهَابٍ قَالَ : أَخْبَرَنِي عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ ، أَنَّ حَكِيمَ بْنَ حِزَامٍ أَخْبَرَهُ ، أَنَّهُ قَالَ لِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : أَيْ رَسُولَ اللَّهِ أَرَأَيْتَ أُمُورًا كُنْتُ أَتَحَنَّثُ بِهَا فِي الْجَاهِلِيَّةِ مِنْ صَدَقَةٍ أَوْ عَتَاقَةٍ أَوْ صِلَةِ رَحِمٍ ، أَفِيهَا أَجْرٌ؟ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : " أَسْلَمْتَ عَلَى مَا أَسْلَفْتَ مِنْ خَيْرٍ " .
অর্থঃ হাকিম ইবনু হিয়াম রা. বলেছেন, আমি রাসূল সা. কে জিজ্ঞেস করেছি, হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে বলুন, জাহিলী যুগে ভাল কাজ মনে করে আমি যে দান খয়রাত করেছি, দাস মুক্ত করেছি বা আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করেছি, তার জন্য কোন প্রতিদান পাওয়া যাবে কি? তখন রাসূল সা. বললেন, তুমি অতীত জীবনে যে সব সওয়াবের কাজ করেছ তা সহকারেই তুমি মুসলিম হয়েছ। (সূত্র: মুসলিম, কিতাবুল ঈমান অধ্যায়, পৃ: ৩৩৬)
১৪. মহানবী সা. বলেন
وَأَنَّ الْهِجْرَةَ تَهْدِمُ مَا كَانَ قَبْلَهَا
অর্থ: হিজরত পূর্ববর্তী সকল গুনাহ মাফ করে দেয়। (মুসলিম- ৩৩৬)
১৫. মহানবী সা. অন্য হাদীসে বলেছেন-
ما حاجتك ؟ قلت : الإسلام فقال : هو خير لك قال وتنهاجر ؟ قلت : نعم قال : هجرة البادية أو هجرة الباتة ؟ قلت : أيهما أفضل ؟ قال : الهجرة الباتة . أن تثبت مع رسول الله صلى الله عليه و سلم وهجرة البادية أن ترجع إلى باديتك
অর্থঃ দ্বীনের জন্য দেশ-দেশান্তরে সফর করা নিঃসন্দেহে হিজরতে বাদিয়ার অন্তর্ভূক্ত। (সূত্র: তাবারানি, হাদীস নং ১৮৬৬, মুসতাখার হাদীস, ৭৯৭)
১৬. অন্য হাদীসে মহানবী সা. বলেন,
عَنْ أَبِي هِنْدٍ عَنْ مُعَاوِيَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- يَقُولُ : « لاَ تَنْقَطِعُ الْهِجْرَةُ حَتَّى تَنْقَطِعَ التَّوْبَةُ وَلاَ تَنْقَطِعُ التَّوْبَةُ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ مِنْ مَغْرِبِهَا
অর্থঃ যতদিন তাওবার দরজা বন্ধ না, ততদিন হিজরতও বন্ধ হবে না। (সূত্র: বায়হাকী, হাদীস নং ১৮২৫৪)
মহানবী সা. বলেছেন,
হিজরত দুই প্রকার: যথা- (ক) হিজরাতুল বাগাহ (খ) হিজরাতুল বাদিয়াহ হিজরাতুল বাগাহ হচ্ছে, তুমি সবকিছু ত্যাগ করে রাসূল সা. এর সাথে অবস্থান করবে। আর হিজরাতুল বাদিয়াহ হচ্ছে, তুমি সবকিছু ত্যাগ করে আল্লাহর রাস্তায় বের হয়ে যাবে, কিন্তু আবার ফিরে আসবে।
১৭. মহানবী সা. বলেন-
وَأَنَّ الْحَجَّ يَهْدِمُ مَا كَانَ قَبْلَهُ
অর্থ: হজ্ব ও ওমরা পূর্ববর্তী সব গুনাহ মাফ করে দেয়। (মুসলিম- ৩৩৬)
১৮. মহানবী সা. বলেন-
( ( ٥٢٩٥ ) ( تابعوا بين الحج والعمرة فإنهما ينفيان الفقر والذنوب كما ينفي الكير خبث الحديد والذهب والفضة وليس للحجة المبرورة ثواب إلا الجنة
অর্থঃ আব্দুল্লাহ্ ইবনু মাসউদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, রাসূল সা. বলেছেন, তোমরা পরস্পর একত্রে হজ্ব ও ওমরা কর। কেননা এ হজ্ব ও ওমরা দারিদ্র ও গুনাহ দূর করে দেয়। যেমন, হাপরের আগুনে লোহা ও সোনা-রূপার ময়লা দূর হয়। একটি কবুল হজ্জের বিনিময় জান্নাত ছাড়া আর কিছু নয়। (সূত্র: ফাতহুল কবির, ৫২৭০, তিরমিযি-৮১০)
১৯. অন্যস্থানে মহানবী সা. বলেছেন-
عَنْ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ رَجُلًا أَتَى النَّبِيَّ ﷺ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي أَصَبْتُ ذَنْبًا عَظِيمًا فَهَلْ لِي تَوْبَةٌ قَالَ : هَلْ لَكَ مِنْ أُمٍّ قَالَ لَا قَالَ هَلْ لَكَ مِنْ خَالَةٍ قَالَ نَعَمْ قَالَ فَبِرَّهَا (۱)
অর্থ: হযরত ইবনু উমার রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, এক ব্যক্তি নবী সা. এর কাছে এসে বলেনঃ আমি একটি বড় গুনাহ করে ফেলেছি, এর কি কোন তাওবা আছে? নবী সা. বললেন, তোমার কি মা আছে? সে বললঃ তোমার কি মাতা- আছেন? লোকটি বলল না। নবী সা. বললেনঃ তোমার কি কোন খালা আছেন? লোকটি বলল জি হ্যাঁ। নবী সা. বললেনঃ তার সাথে উত্তম ব্যবহার কর। তার খিদমত কর। (তিরমিযি, ইবনু হিব্বান, আহমদ, হাকিম)
২০. অন্য হাদীসে মহানবী সা. বলেছেন-
من تاب قبل ان يموت بثلاث ساعات غفرت له-
অর্থ: যে ব্যক্তি মৃত্যুর ৩ মিনিট আগে তাওবা করবে, আল্লাহ্ তার তাওবা কবুল করবেন। (হাদীসে কুদসী, তাফসীরে কাশীর, সূরা কদর)
২১. অন্য হাদীসে নবী করীম সা: বলেছেন:
عَنْ أَبِي خَالِدٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ مَيْمُونٍ، عَنْ أَيُّوبَ الْحَارِثِيِّ قَالَ: سَمِعْتُ عَمْرَو بْنَ الْقَاسِمِ، يَقُولُ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، يَقُولُ: " مَنْ تَابَ قَبْلَ مَوْتِهِ بِفُوَاقِ نَاقَةٍ تَابَ اللَّهُ عَلَيْهِ ".
অর্থ: হযরত ইব্রাহিম বিন মাইমুন হযরত আইয়ুব আল হারেছ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন, আমি আমর বিন আস থেকে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি রাসূল সা: থেকে শুনেছি, তিনি বলেন: উটনীর স্তনে দুগ্ধপান করে দ্বিতীয় বার দুধ পান করার মাঝখানের সময় যতটুকু অর্থাৎ মৃত্যুর ৫ সেকেন্ড পূর্বে তাওবা করবে তার তাওবা আল্লাহ্ গ্রহণ করবেন। (তাবারানী, মাজমুউল যাওয়ায়েদ, ৪৪১)
২২. মহানবী সা: অন্য হাদীসে বলেছেন:
عن عمر رضي الله عنه قال دخلت على مريض من الأنصار مع النبي صلى الله عليه وسلم وهو في سكرات الموت فقال النبي صلى الله عليه وسلم تب فلم يقدر أن ينطق بلسانه فجال بطرفه نحو السماء فتبسم النبي صلى الله عليه وسلم فسئل عن ذلك فقال لما لم يقدر أومأ بقلبه إلى السماء وندم وقال الله تعالى يا ملائكتي عبدي عجز عن التوبة بلسانه فندم بقلبه أشهدكم أني قد غفرت له ذنوبه ولو كانت أكثر من زبد البحر وعنه صلى الله عليه وسلم أنه جاء جبريل عند موته فقال يا محمد إن ربك يقرؤك السلام ويقول لك من تاب قبل موته بسنة قبلت توبته فقال يا جبريل سنة لأمتي كثيرة فغاب ثم رجع وقال إن ربك يقرؤك السلام ويقول لك من تاب قبل موته بشهر قبلت توبته فقال يا جبريل الشهر لأمتي كثير فغاب ثم رجع وقال إن ربك يقرؤك السلام ويقول لك من تاب قبل موته بجمعة قبلت توبته فقال يا جبريل الجمعة لأمتي كثيرة فغاب ثم رجع وقال إن ربك يقرؤك السلام ويقول لك من تاب قبل موته بيوم قبلت توبته فقال يا جبريل اليوم لأمتي كثير فغاب ثم رجع وقال إن ربك يقرؤك السلام ويقول لك من تاب قبل موته بساعة قبلت توبته فقال يا جبريل الساعة لأمتي كثير فغاب ثم رجع وقال إن ربك يقرؤك السلام ويقول لك إن كانت السنة والشهر والجمعة كثيرة واليوم كثير والساعة كثيرة فمن لم يرجع إلي قبل موته بسنة ولا شهر ولا جمعة ولا يوم ولا ساعة حتى بلغت الروح الحلقوم ولم يمكنه الاعتذار بلسانه فاستحيى وندم بقلبه غفرت له
অর্থ: হযরত ওমর রা: থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, আমি এক রোগগ্রস্ত আনসারীর বাড়িতে প্রবেশ করেছি এবং মহানবী সা: আমার সাথে ছিলেন। আর সে আনসারী মৃত্যুর যন্ত্রণায় ভুগছিলেন, রাসূল সা: বললেন: সে কথা বলতে সক্ষম ছিলেন না, সে আকাশের দিকে তাকিয়ে ছিলেন, এরপর এ সম্পর্কে প্রশ্ন করা হল মহানবী সা: হাসলেন, এরপর বললেন: আর সে লজ্জিত হয়ে তার অন্তর মহানবীকে দিকে এবং আল্লাহ্ তায়ালা বলেন: হে ফেরেশতারা, আমার বান্দা মুখে তাওবা করতে অক্ষম এবং অন্তরের দিক দিয়ে সে লজ্জিত। আমি তোমাদের সাক্ষী দিতেছি যে, তার গুনাহ সমূহ ক্ষমা করে দেয়া হয়েছে। যদিও সমুদ্রর ফেনা পরিমাণ গুনাহ হয়ে থাকে।
মহানবী সা: বলেন: তার কাছে মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে এলে জিব্রাইল আলাইহিস সালাম এলেন। এরপর বললেন, হে মুহাম্মদ সা:! নিশ্চয় আপনার প্রভু আপনাকে সালাম দিয়েছেন এবং আপনাকে বলেছেন, যে ব্যক্তি মৃত্যুর এক বছর পূর্বে তাওবা করবে তার তাওবা কবুল করা হবে। এরপর তিনি বলেন: হে জিব্রাইল, এক বছর আমার উম্মতের জন্য অনেক বেশী হয়। তারপর জিব্রাইল চলে গেলেন। এরপর ফিরে এলেন এবং বললেন: হে মুহাম্মদ সা:! নিশ্চয় আপনার প্রভু আপনাকে সালাম দিয়েছেন এবং আপনাকে বলেছেন, যে ব্যক্তি মৃত্যুর এক মাস পূর্বে তাওবা করবে তার তাওবা কবুল করা হবে। এরপর তিনি বলেন: হে জিব্রাইল, এক মাস আমার উম্মতের জন্য অনেক বেশী হয়। তারপর জিব্রাইল চলে গেলেন এরপর ফিরে এলেন, এবং বললেন: হে মুহাম্মদ সা:! নিশ্চয় আপনার প্রভু আপনাকে সালাম দিয়েছেন এবং আপনাকে বলেছেন, যে ব্যক্তি মৃত্যুর এক সপ্তাহ পূর্বে তাওবা করবে তার তাওবা কবুল হবে। এরপর তিনি বলেন: হে জিব্রাইল, এক সপ্তাহ আমার উম্মতের জন্য অনেক বেশী হয়। তারপর জিব্রাইল চলে গেলেন এরপর ফিরে এলেন, এবং বললেন: হে মুহাম্মদ সা:! নিশ্চয় আপনার প্রভু আপনাকে সালাম দিয়েছেন এবং আপনাকে বলেছেন, যে ব্যক্তি মৃত্যুর এক দিন পূর্বে তাওবা করবে তার তাওবা কবুল হবে। অতপর তিনি বলেন: হে জিব্রাইল, এক দিন আমার উম্মতের জন্য অনেক বেশী হয়। তারপর জিব্রাইল চলে গেলেন। এরপর ফিরে এলেন এবং বললেন: হে মুহাম্মদ সা:! নিশ্চয় আপনার প্রভু আপনাকে সালাম দিয়েছেন এবং আপনাকে বলেছেন, যে ব্যক্তি মৃত্যুর এক ঘন্টা পূর্বে তাওবা করবে তার তাওবা কবুল কর হবে। অতপর তিনি বলেন: হে জিব্রাইল, এক ঘন্টা আমার উম্মতের জন্য অনেক বেশী হয়। এরপর জিব্রাইল চলে গেলেন এরপর ফিরে এলেন, এবং বললেন: যদি এক বছর সময় বেশী হয়, এক মাস বেশী হয়, এক সপ্তাহ বেশী হয়, একদিন বেশী হয় এবং এক ঘন্টা বেশী হয় তাহলে মৃত্যুর এক বছর পূর্বে, এক মাস পূর্বে, এক সপ্তাহ পূর্বে, এক দিন পূর্বে, এবং এক ঘন্টা পূর্বে তাওবা করার প্রয়োজন নেই। বরং রুহ্ হলকুমে পৌঁছার পূর্বে তাওবা করলে তার তাওবা কবুল করা হবে। আর মুখে তাওবা উচ্চারণ করতে না পারলে, অন্তরে সে লজ্জিত হলে এবং অন্তরে অনুতপ্ত হলে, তারপরেও তাকে ক্ষমা করে দেয়া হবে। (তাফসীরে রুহুল বয়ান, সূরা নিসা, ১৪০ পৃঃ)
২৩. অন্য হাদীসে মহানবী সা: বলেছেন:
حَدَّثَنَا عَفَّانُ ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ ، قَالَ : إِبْرَاهِيمُ بْنُ مَيْمُونٍ ، أَخْبَرَنِي ، قَالَ : سَمِعْتُ رَجُلًا مِنْ بَنِي الْحَارِثِ ، قَالَ : سَمِعْتُ رَجُلًا يُقَالُ لَهُ : أَيُّوبُ قَالَ : سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَمْرٍو يَقُولُ : مَنْ تَابَ قَبْلَ مَوْتِهِ عَامًا تِيبَ عَلَيْهِ ، وَمَنْ تَابَ قَبْلَ مَوْتِهِ بِشَهْرٍ تِيبَ عَلَيْهِ ، حَتَّى قَالَ : سَاعَةً ، حَتَّى قَالَ : فُوَاقًا ، قَالَ : قَالَ الرَّجُلُ : أَرَأَيْتَ إِنْ كَانَ كَافِرًا أَسْلَمَ ؟ قَالَ : إِنَّمَا أُحَدِّثُكُمْ كَمَا سَمِعْتُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ - صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ - يَقُولُ
অর্থ: আমাদের কে আফফান ওয়বা থেকে বর্ণনা করেছেন: এরপর বলেন: ইব্রাহিম বিন মাইমূন আমাকে এই হাদিস সম্পর্কে অবহিত করেছেন, তিনি বলেন: আমি বনি হারেছের দু ব্যক্তি থেকে শুনেছি তিনি বলেন: সেই দুই ব্যক্তি বলেছেন, আমরা আইয়ুব থেকে শুনেছি। তিনি বলেন: আমি আব্দুল্লাহ বিন আমর থেকে শুনেছি। যে ব্যক্তি মৃত্যুর এক বছর পূর্বে তাওবা করবে তার তাওবা কবুল হবে। এবং যে ব্যক্তি মৃত্যুর এক মাস পূর্বে তাওবা করবে, এরপর বললেন এক দিন, এরপর বললেন: এক ঘন্টা, এর বলেন এক মিনিট পূর্বে তাওবা করলে তার তাওবা কবুল হবে। এক ব্যক্তি বলেছেন, যদি কাফের ইসলাম গ্রহণ করে, তার ক্ষেত্রেও কি? তিনি বলেন: হ্যাঁ, তিনি বলেন: আমি তোমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করছি যেভাবে আমি রাসূল সা: থেকে শুনেছি।
২৪. অন্য হাদীসে রাসূল সা: বলেছেন:
من تاب قبل أن يعاين قبل الله توبته. (فاولئك يتوب الله عليهم وكان الله عليما): يعلم إخلاصهم في التوبة
অর্থ: যে ব্যক্তি মালাকুল মাউতকে দেখার পূর্বেই তাওবা করবে তার তাওবা আল্লাহ্ তায়ালা কবুল করবেন। (আল কাফি, ৩৭৯ পৃঃ)
২৫. অন্য হাদীসে রাসূল সা: বলেন:
أبي عن عبد الله (عليه السلام) قال : قال رسول الله (صلى الله عليه وآله) من تاب قبل موته بسنّة قبل الله توبته ثمّ قال إنّ السّنّة لكثيرة من تاب قبل موته بشهر قبل الله توبته ثمّ قال إنّ الشّهر لكثير من تاب قبل موته بجمعة قبل الله توبته ثمّ قال إنّ الجمعة لكثير من تاب قبل موته بيوم قبل الله توبته ثمّ قال إنّ يوماً لكثير من تاب قبل الله توبته.
অর্থ: হযরত আবু আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সা: বলেছেন: যে ব্যক্তি মৃত্যুর এক বছর পূর্বে তাওবা করবে আল্লাহ্ তায়ালা তার তাওবা কবুল করবেন। এরপর বলেন: নিশ্চয় এক বছর অনেক বেশী হয়, যে ব্যক্তি মৃত্যুর এক মাস পূর্বে তাওবা করবে আল্লাহ্ তায়ালা তার তাওবা কবুল করবেন। নিশ্চয় এক মাস অনেক বেশী হয়, যে ব্যক্তি মৃত্যুর এক সপ্তাহ পূর্বে তাওবা করবে আল্লাহ্ তায়ালা তার তাওবা কবুল করবেন। এরপর বললেন: নিশ্চয় এক সপ্তাহ অনেক বেশী হয়, যে ব্যক্তি মৃত্যুর এক দিন আগে তাওবা করবে আল্লাহ্ তায়ালা তার তাওবা কবুল করবেন। এরপর বললেন: নিশ্চয় এক দিন অনেক বেশী হয়। তারপর যে ব্যক্তি মালাকুল মাউত বা মৃত্যুর ফেরেশতাকে দেখার পূর্বে তাওবা করবে তার তাওবা গ্রহণ করা হবে। (মিশকাতুল আনওয়ার, ৩১৩ পৃঃ)

📘 মৃত্যুর কতক্ষণ আগে তওবা গ্রহণযোগ্য > 📄 পাপ করার কতক্ষণ পর আমলনামায় লিখা হয়

📄 পাপ করার কতক্ষণ পর আমলনামায় লিখা হয়


নবী করীম সা. বলেন-
( ۱۰۹۲۶ ) ( مَا مِنْ مُسْلِمٍ يَعْمَلُ ذَنْبًا إِلَّا وَقَفَهُ الْمَلَكُ ثَلَاثَ سَاعَاتٍ ، فَإِنِ اسْتَغْفَرَ مِنْ ذَنْبِهِ لَمْ يُوقِفْهُ عَلَيْهِ وَلَمْ يُعَذِّبْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ )
অর্থ: আমলনামায় গুনাহ লিখতে ফেরিশতা ৩ ঘন্টা অপেক্ষা করেন। (মুস্তাদরিক, হাকেম ও তারগীব) তিন ঘন্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করেন এবং নামাযে এসে তাওবা করে কি না তার জন্য অপেক্ষা করেন। তা তিন ওয়াক্ত নামাযের জন্য। আসর থেকে মাগরিব এবং মাগরিব থেকে ইশা পর্যন্ত তিন ঘন্টা করে। অর্থাৎ এক ওয়াক্ত থেকে আরেক ওয়াক্ত পর্যন্ত)।
অন্য হাদীসে নবী করীম সা. বলেছেন-
( إِنَّ صَاحِبَ الشِّمَالِ لَيَرْفَعُ الْقَلَمَ سِتَّ سَاعَاتٍ عَنِ الْعَبْدِ الْمُسْلِمِ الْمُخْطِئِ ؛ فَإِنْ نَدِمَ وَاسْتَغْفَرَ اللَّهَ مِنْهَا أَلْقَاهَا وَإِلَّا كُتِبَتْ وَاحِدَةً ) ( طب ( عن أبي أمامة
অর্থ: “গুনাহগার মুসলমানের জন্য ছয় ঘন্টা গুনাহ লেখা থেকে বিরত থাকেন।” (তাবরানী, মাজমায়ে ফাওয়ায়েদ)
অন্য হাদীসে নবী করীম সা. বলেন-
(ساعات سبع قلمك امسك طبراني)
অর্থ: “কোন মুসলমান পাপ করলে ফেরেশতা ৭ ঘন্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করেন। তার পাপ আমলনামায় লিখা হয় না, কারণ তাকে সুযোগ দেয়া হয়েছে যে, সে নামাযে এসে তাওবা করে কি না? এ সাত ঘন্টা সময় ইশা থেকে ফযর এবং ফযর থেকে যোহর পর্যন্ত। যে ওয়াক্তে পাপ করে পরের ওয়াক্তে নামায পড়ে তাওবা করলে আমলনামায় লিখা হয় না।

লোকটি নামায পড়েছে কিন্তু তাওবা করেনি তখন কি পাপ লিখা হয়
সেলমান ব্যক্তি যে ওয়াক্তে পাপ করবে, পরের ওয়াক্তে নামায পড়ে তাওবা করবে, তাহলে আমলনামায় পাপ লিখা হয় না। যদি তাওবা না করে নামায পড়ে চলে যায়, তখন তারজন্য শুধু আমলনামায় একটি পাপ লিখা হয়।
নবী করীম সা. বলেন-
ان لم يستغفر الله كتب عليه سيئة واحدة
অর্থ: “যদি নামায পড়ে চলে যায়, তাওবা না করে, তার জন্য একটি পাপ লিখা হয়।” (দারেকুতনী হাকায়েফ-৭৭)

📘 মৃত্যুর কতক্ষণ আগে তওবা গ্রহণযোগ্য > 📄 সীমা অতিক্রমকারীর গুনাহ

📄 সীমা অতিক্রমকারীর গুনাহ


সীমাহিন গুনাহও আল্লাহ মাফ করবেন। আসরফা বলা হয় যে গুনাহকে যে গুনাহ সীমার বাইরে। গুনাহ করতে করতে এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, সে গুনাহ ছাড়া অন্য কিছুই বুঝে না, এমন গুনাহও আল্লাহ্ ক্ষমা করে দেবেন।
দলিলঃ
( قُلْ يَا عِبَادِيَ الَّذِينَ أَسْرَفُوا عَلَى أَنْفُسِهِمْ لَا تَقْنَطُوا مِنْ رَحْمَةِ اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ جَمِيعًا إِنَّهُ هُوَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ ) ( الزمر : ٥٣)
অর্থ: “ বলুন, হে আমার বান্দাগণ যারা নিজেদের ওপর যুলুম করেছে তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ্ সমস্ত গুনাহ মাফ করেন। তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।” (সূরা আয যুমার: ৫৩)
গুনাহের পর তাওবা করলে পুরস্কার আছে। দলীল:
إِلَّا مَنْ تَابَ وَآمَنَ وَعَمِلَ عَمَلًا صَالِحًا فَأُولَئِكَ يُبَدِّلُ اللَّهُ سَيِّئَاتِهِمْ حَسَنَاتٍ وَكَانَ اللَّهُ غَفُورًا رَحِيمًا (الفرقان: ۷۰)
অর্থ: “যারা তাওবা করে, ঈমান আনে এবং সৎকাজ করে। আল্লাহ্ তাদের পাপগুলোকে পুণ্যের দ্বারা পরিবর্তন করে দেবেন।” অর্থাৎ যতগুলো পাপ আছে, সে পাপ সওয়াবে পরিণত করে দেবেন। এ ধরনের গুনাহগার ব্যক্তির জন্য তাওবা পরে বোনাসের ব্যবস্থা রয়েছে। বোনাস হল যত পাপ ততগুলো সওয়াব পাবে। যদি সে তাওবা করে এবং জীবনে আর গুনাহের কাজ করবে না।
إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا ثُمَّ كَفَرُوا ثُمَّ آمَنُوا ثُمَّ كَفَرُوا ثُمَّ ازْدَادُوا كُفْرًا لَمْ يَكُنِ اللَّهُ لِيَغْفِرَ لَهُمْ وَلَا لِيَهْدِيَهُمْ سَبِيلًا [ النساء : ۱۳۷ ]

📘 মৃত্যুর কতক্ষণ আগে তওবা গ্রহণযোগ্য > 📄 যদি মানুষ গুনাহ না করত, তা হলে কি হত?

📄 যদি মানুষ গুনাহ না করত, তা হলে কি হত?


গুনাহ করার যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও তারা গুনাহ থেকে বেঁচে থাকবে। কখনও গুনাহ করবে। একেবারে গুনাহের কাজ না করলে মানুষ সৃষ্টি করে কি লাভ? ফেরেশতারা ভাল ছিল। তারা সব সময় আল্লাহর প্রশংসা করে থাকে। তারা গুনাহ করে না। তাহলে মানুষ সৃষ্টি করার কারণ কি? মানুষ ভুল কাজ করবে ও মাঝে মাঝে ভুলত্রুটি করবে। এ ভুলের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা কামনা। এটা আল্লাহ্রই কামনা।
দলিল-
١٨٧١ وعنه - رضي الله عنه - قال : قال رسول الله - صلى الله عليه وسلم : « وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَوْ لَمْ تُذْنِبُوا ، لَذَهَبَ اللَّهُ تَعَالَى بِكُمْ ، وَلَجَاءَ بِقَوْمٍ يُذْنِبُونَ ، فَيَسْتَغْفِرُونَ اللَّهَ تَعَالَى ، فَيَغْفِرُ لَهُمْ » . رواه مسلم
অর্থ: “যদি তোমরা একেবারে গুনাহ না কর, তাহলে আল্লাহ্ তোমাদের অস্তিত্ব দূর করে দেবেন এবং এমন জাতিকে সৃষ্টি করবেন, যারা গুনাহ করবে। এরপর তারা আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইবে, আল্লাহ্ তাদেরকে ক্ষমা করবেন। (মুসলিম, কিতাবুত তাওবা, হাদীস নং ২৭৪৯)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00