📘 মিরাসুল আম্বিয়াঃ নাবীদের উত্তরাধিকার > 📄 পঞ্চম সংশয়

📄 পঞ্চম সংশয়


ঐ সব লোকের কথাই এখানে প্রযোজ্য, যারা নিজেদেরকে আইন প্রণয়নকারী না হয়েও বিধান রচনা কারী কর্তৃপক্ষ হওয়ার জন্য প্রার্থী হিসাবে দাড় করায়, যাতে তারা এ গুণে গুণান্বিত হতে পারে [অর্থাৎ আইন প্রণয়নকারী হিসাবে নিজেদের আসন সুদৃঢ় করতে পারে] এমনি ভাবে তাদের ব্যাপারেও একথা প্রযোজ্য যারা বলেঃ যে আইন প্রণয়নকারী পরিষদে অংশ গ্রহণ করার সময় তারা নিজেদেরকে আইন প্রণয়নকারী হিসাবে আল্লাহর অংশীদার বানাচ্ছে না। এবং যারা তাদেরকে প্রার্থী ঠিক করেছে তাদের মধ্যেও তাদেরকে রব এবং বিধান দাতা বানানোর কোনো নিয়ম নেই। বরং তারা যা করেছে তা মূলতঃ কল্যান সাধনের নিয়তেই করেছে।
এর জবাবে আমরা বলতে চাই: তারা যে বলছে, তারা আইন প্রণয়নকারী নয় তাদের একথা সম্পূর্নরূপে বাতিল। তারা নিজেরা বলছে যে, তারা আইন প্রণয়কারী নয়, এখানে তাদের একথা বিবেচ্য বিষয় নয়। বরং এখানে বিবেচ্য বিষয় হচ্ছে জ্ঞান, বাস্তবতা, সংবিধান এবং প্রচলিত রীতি-নীতিতে যা প্রমাণিত হয় তা। একজন ব্যক্তি এসে আইন প্রণয়নকারীর চেয়ারে বসলে এবং তার দায়িত্ব পালন করলে সেই আইন প্রণয়নকারী সংস্থা বা পরিষদের একজন সদস্য হিসাবে আইন প্রণয়নকারী। এক্ষেত্রে সে রাজী থাকুক বা না থাকুক, অথবা ইচ্ছা থাকুক বা না থাকুক, তাতে কিছুই যায় আসেনা। [অর্থ্যাৎ কুফরীর ব্যাপারে নিয়ত, ইচ্ছা বা অনিচ্ছার কোনো প্রভাব নেই]। এটি হচ্ছে প্রথম কথা।
দ্বিতীয় কথা হচ্ছেঃ তারা বলে, তারা আইন প্রণেতা নয়, অথচ তারা নিজেদের আইন প্রণেতার পদে আসীন করে রাখে, এটা মূলতঃ জন সাধারনের জ্ঞান-বুদ্ধির সাথে প্রতারণা ও অবজ্ঞা করা ছাড়া আর কিছুই নয়। এ যেনো ঐ ব্যক্তির ন্যায় বলা, যে নিজেকে বিচারকের পদে আসীন করে " আমি বিচারক নই" বলে নিজেকে নেতৃত্বের আসনে বা পদে আসীন করে আমি নেতা নেই বলা। এমনিভাবে প্রেসিডেন্টের পদে আসীন হয়ে "আমি প্রেসিডেন্ট নই বলা" তাদের দাবী বাতিল বলে গন্য করার জন্য এতটুকু কথাই যথেষ্ট। "তারা আইন প্রণয়নকারী নয়" এ কথার জবাবে উপরোক্ত কথাগুলো বলা হয়েছে।
আবার তারা বলেঃ আল্লাহর সাথে আইন প্রণয়নকারী হিসেবে শরীক করা আমাদের নিয়ত নয়, তাদের এ কথাও কয়েক দিক থেকে বাতিল।
একঃ আমরা বলতে চাই, নেক নিয়ত কখনো কি বিবেচনা করা হয় বা উপকারে আসে নিয়তকারীর কাজ যখন অবৈধ হয়? অর্থাৎ কাজ না জায়েয হলে নিয়তের কোনো মূল্য নেই। দ্বীনের নীতির মধ্যে এটাই চুড়ান্ত ও সিদ্ধান্ত মূলক কথা, যে বেদআতী ব্যক্তি আল্লাহর নৈকট্য লাভের জন্য অবৈধ কাজ করে অথচ এ কাজ করার জন্য তার কাছে কোনো দলীল প্রমাণ নেই, শরীয়তের দৃষ্টিতে তার এ কাজ সম্পূর্ণ রূপে বাতিল ও প্রত্যাখ্যাত। রাসূল (সঃ) ইরশাদ করেছেনঃ দলীল ছাড়া যে ব্যক্তি আমাদের দ্বীনের মধ্যে নতুন কিছু উদ্ভাবন করলো সে ব্যক্তির কাজ প্রত্যাখ্যাত। অন্য এক বর্ণনায় আছে রাসূল (সঃ) ইরশাদ করেছেনঃ যে ব্যক্তি এমন কোনো কাজ করে যার মধ্যে আমাদের দ্বীনের কোনো ভিত্তি নেই, সে কাজ প্রত্যাখ্যাত। এ হুকুম ঐ ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যে ব্যক্তি দ্বীনের এমন কোনো বিষয় বা কাজ উদ্ভাবন করলো যার কোনো ভিত্তি বা প্রমাণ কুরআন ও সুন্নাহতে নেই। এ কাজ প্রত্যাখ্যাত। এ কাজ দ্বারা সে গুণাহর অধিকারী হয়েছে। এক্ষেত্রে তার নেক নিয়তের প্রতি কোনো দৃষ্টি দেয়া হবেনা। তাহলে যে ব্যক্তি শেরেকী কাজ করলো এবং আইন প্রণয়নকারী চেয়ারে বসে বিধান দাতা স্রষ্টার ভূমিকায় অবতীর্ন হলো, তার ক্ষেত্রে কি হুকুম বা ফয়সালা হতে পারে? আইন প্রণয়নের যে নিরঙ্কুশ অধিকার একমাত্র আল্লাহ ছাড়া আর কারো নেই, সেই পদবী আকড়ে থাকার মাধ্যমে যে অপরাধ সে করেছে এ জন্যই তার নিয়তের দিকে কোনো দৃষ্টি দেয়া হবেনা। (কারণ শিরকী গুণাহ বা বড় গুনাহের ক্ষেত্রে নিয়তের কোনো প্রভাব নেই)।
দুই : তারা একথা স্বীকার করে, যে ব্যক্তি আইন প্রণয়নকারীর চেয়ারে বসে আইন প্রণয়নকারী হওয়ার নিয়ত করবে, সেই প্রণয়কারী বা বিধান দাতা হিসেবে গণ্য হবে। কিন্তু তারা এ কথা স্বীকার করেন না যে, কল্যাণ সাধনের নিয়তে আইন প্রণয়নকারীর চেয়ারে বসে কাজ করলে বিধান দাতা হিসেবে গণ্য হবে। একথার দ্বারা তারা একজন মানুষ আইন প্রণয়নকারী বা বিধান দাতা হওয়া এবং না হওয়ার মধ্যে নেক নিয়তকে পার্থক্য হিসেবে চিহ্নিত করেছে। নিঃসন্দেহে প্রকৃত বিষয়টি তারা যা বলছে তার বিপরীত। তাই যদি কোনো মানুষ নিজেকে আইন প্রণয়নকারী হিসেবে বিশ্বাস করে অতঃপর মুখে এ বিশ্বাসের কথা উচ্চারণ করে বলে : আমি একজন আইন প্রণয়নকারী, আইন প্রণয়নের অধিকার আমার আছে, তাহলেই সে আইন প্রণেতা হিসেবে বিবেচিত হবে না, যতক্ষণ না সে আইন প্রণেতার পদে আসীন হয়। এখানে মূল কথা হচ্ছে মানুষ আইন প্রণয়নকারী হিসেবে সাব্যস্ত হওয়া নির্ভর করে, তার আইন প্রণেতার স্থানে আসীন হওয়া এবং উক্ত পদবী গ্রহণ করার ওপর। এখানে বিশ্বাস এবং মৌখিক উচ্চারণ বিবেচনার কোনো বিষয় নয়।
তিন : শিরক বিশ্বাস, কথা ও কর্মের মাধ্যমে হয় এ কথা যে বিশ্বাস করে সে এ ধরনের কথা বলতে পারে না। শাইখ মুহাম্মদ বিন আবদুল ওয়াহহাব (রহঃ) বলেন: আল্লাহর দ্বীন হতে হবে অন্তকরণে বিশ্বাস, ভালবাসা (অন্যায় ও পাপের প্রতি) ঘৃনার মাধ্যমে। দ্বীন হতে হবে জবানে হক কথা উচ্চারণ এবং কুফরী কথা বর্জনের মাধ্যমে। দ্বীন হতে হবে অঙ্গে-প্রত্যঙ্গে ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলো কার্যে পরিণত করা এবং কুফরী কর্ম পরিত্যাগ করার মাধ্যমে। এ তিনটি বিষয়ের একটি বিষয়ও যদি বাদ পড়ে যায়, তাহলে (মুসলমান) কাফের এবং মুরতাদ হয়ে যাবে।
আল্লামা আবদুল্লাহ বিন আবদুর রহমান আবা বাতিন (রহঃ) বলেন : মুসলমান যখন এ কলেমার মহান মর্যাদার কথা এবং বাধ্যবাধকতার কথা জানতে পারলো, তখন তাকে এ কলেমার প্রতিফলন ঘটাতে হবে আন্তরিক বিশ্বাসের মাধ্যমে, জবান দ্বারা উচ্চারণের মাধ্যমে এবং এর মৌলিক বিষয়গুলো আমলে পরিণত করার মাধ্যমে। এ বিষয়গুলোর কোনো একটি যদি বাদ পড়ে যায় তাহলে কোনো ব্যক্তি আল্লাহ তায়ালা তাঁর কিতাবে যা বর্ণনা করেছেন সে মতে মুসলমান হতে পারবে না। ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলো পালনের মাধ্যমে একজন মানুষ যদি মুসলমান হয়, অতঃপর তার মধ্যে যদি এমন কোনো কথা, কাজ, এবং বিশ্বাস পরিলক্ষিত হয় যা ইসলামের বিপরীত, তাহলে এ ধরণের ইসলামে তার কোনো উপকার নেই। (মাজমুআতুত্ তাওহিদ আররিসালাত সালেসা)

📘 মিরাসুল আম্বিয়াঃ নাবীদের উত্তরাধিকার > 📄 ষষ্ঠ সংশয়

📄 ষষ্ঠ সংশয়


এ সংশয় তাদের, যারা বলে: রুবুবিয়্যাতের তাওহীদ হচ্ছে বিশ্বাস ও স্বীকৃতির নাম। এ সব প্রার্থীরা আর ভোটাররা বিশ্বাস করে যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো স্রষ্টা নেই এবং আল্লাহ ছাড়া কোনো আইন দাতা নেই, তাহলে তাদেরকে কেনো আপনারা এ বিশ্বাস থাকার পরও আল্লাহর রুবুবিয়্যাতের শিরককারী বলছেন?

বিভিন্ন দিক থেকে এর জবাব: একঃ আমরা বলবো, নিঃসন্দেহে উপরোক্ত ব্যক্তির কথা ঠিক। অর্থাৎ তাওহীদুর রুবুবিয়্যাতের মূল হচ্ছে বিশ্বাস এবং স্বীকৃতি। এটা শরীয়তের দিক থেকে [বান্দার ওপর চাপিয়ে দেয়া) একটি দ্বায়িত্ব। কেননা আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন তাঁকে এবং তাঁর রুবুবিয়্যাতের সাথে সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকে বিশ্বাস করার জন্য একথা কারো অজানা নয়। কিন্তু এখানে আমরা যে কথাটি বলতে চাই, তা হচ্ছে এইযে, মানুষ আল্লাহর প্রতি মুমিন হতে পারে, তাঁর রুবুবিয়্যাত সংক্রান্ত কর্মের ওয়াহদানিয়্যাতে বিশ্বাসী হতে পারে, এ গুলোর স্বীকৃতিও সে দিতে পারে, তারপরও তার এ বিশ্বাস আর স্বীকৃতি তার কোনো উপকারে নাও আসতে পারে। এটা তখনই হয়, যখন বান্দা গাইরুল্লাহর উদ্দেশ্যে এমন কাজ করে, যে কাজ একমাত্র আল্লাহ তায়ালার জন্যই নির্দিষ্ট। আর তখন সে কর্মের দিক থেকে আল্লাহর সাথে শিরককারীতে পরিণত হয়। এ কথা ইসলামের সমস্ত ওলামায়ে কেরাম স্বীকার করেছেন।
ইমাম শাওকানী (রহঃ) কিছু নামের ওপরে শুধুমাত্র (শিরকী) নাম প্রয়োগ করলেই শিরক হয়ে যায় না, বরং শিরক হচ্ছে গাইরুল্লাহর জন্য এমন কাজ করা যা একমাত্র আল্লাহর জন্যই খাস। চাই গাইরুল্লাহর ওপর সেই নামই প্রয়োগ করে থাকুক যা জাহেলী যুগে প্রয়োগ করা হতো অথবা তার ওপরে অন্য কোনো নামই প্রয়োগ, করা হোক। অতএব এখানে নামটা কোনো বিচার্য বিষয় নয়। (আদ দাররে তাফদীদ দিমনা রিসালাত আসসালাফিয়াত)
এখানে লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে তিনি বলেছেন: বরং শিরক হচ্ছে গাইরুল্লাহর জন্য এমন কাজ করা যা একমাত্র আল্লাহর জন্যই খাস। শাইখ আবদুল্লাহ বিন আবদুর রহমান আবা বাতিনের কথা ইতিপূর্বে আলোচিত হয়েছে। তিনি বলেছেন: যদি একজন মানুষ মুসলমান হয় এবং ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলো পালন করে, অতঃপর তার মধ্যে যদি এমন কোনো কথা, কাজ এবং বিশ্বাস পরিলক্ষিত হয়, যা ইসলামের বিপরীত তাহলে এ ধরণের ইসলাম তার কোনো উপকারে আসবে না। (মাজমুআতুত্ তাওহীদ আররিসালাতে সানিয়া)
দুই: তাওহীদ অবশ্যই হতে হবে অন্তরে, জবানে এবং আমলের মাধ্যমে। এ ব্যাপারে আমরা একাধিক স্থানে ওলামায়ে কেরামের কথা এবং তাদের সর্ব সম্মত রায় বা "ইজমার" কথা উল্লেখ করছি।
ইমাম মুহাম্মদ বিন আবদুল ওয়াহহাব তাঁর কাশফুল শুবহাত নামক পুস্তিকায় বলেনঃ এতে কোনো দ্বিমত নেই যে, তাওহীদ হতে হবে অন্তরে, জবানে এবং আমলের মাধ্যমে। এর মধ্য থেকে কোনো একটি বিষয় বাদ পড়লে কোনো মানুষ মুসলমান হতে পারবে না।
বিষয়টি যখন সুস্পষ্ট হয়ে উঠেছে তখন জেনে রাখা প্রয়োজন যে, বিষয়টি শুধু তাওহীদুল উলুহিয়্যহ বা এবাদতের তাওহীদের জন্যই খাস (নির্দিষ্ট) নয়। বরং বিষয়টি রুবুবিয়্যাতের তাওহীদেও ক্ষেত্রে ও সমভাবে প্রযোজ্য বরং এ ক্ষেত্রে বুবুবিয়্যাতের তাওহীদের অনুপ্রবেশ বেশী প্রযোজ্য। কেননা আল্লাহর রুবুবিয়্যাতের মধ্যে শিরক করা উলুহিয়‍্যাতের মধ্যে শিরক করার চেয়ে বেশী জঘণ্য অপরাধ। রুবুবিয়্যাতের ক্ষেত্রে শিরক তিন ধরনের।
১। বিশ্বাসের দিক থেকে রুবুবিয়্যাতের শিরক। যেমন : মানুষ অন্তরে এ বিশ্বাস পোষণ করা যে আল্লাহ তায়ালা ছাড়াও আইন বা বিধান দাতা রয়েছে।
২। কথার দিক থেকে রুবুবিয়্যাতের শিরক। যেমন : মানুষ তার জবানে একথা উচ্চারণ করা যে, আল্লাহ ছাড়া অন্যের বিধান প্রণয়নের অধিকার রয়েছে।
৩। আমল বা কর্মের দিক থেকে রুবুবিয়‍্যাতের শিরক। যেমন : মানুষ এমন মাখলুক বা সৃষ্টির জন্য কাজ করা, যে মাখলুকের এমন অধিকার রয়েছে বলে মনে করা (যেমন নিরঙ্কুশ ভাবে আইন প্রণয়ের অধিকার) যা একমাত্র আল্লাহ ছাড়া আর কারো নেই। যেমনটি ইমাম শাওকানী বলেছেন: শিরক হচ্ছে গাইরুল্লাহর জন্য এমন কাজ করা, যা একমাত্র আল্লাহর জন্যই খাস (নির্দিষ্ট)। আমরা ঐ সব লোকদেরকে প্রশ্ন করছি যারা মাখলুককে বাছাই করে তাদেরকে আইন রচনার ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত করেছেন, যদি এটা আমলের দিক থেকে আল্লাহর রুবুবিয়‍্যাতের তাওহীদের মধ্যে শিরক করার উপমা না হয়। যা মূলত মাখলুককে আইন রচনার মসনদে বসানোর মাধ্যমে আইন রচনার নিরঙ্কুশ ক্ষমতা প্রদান। তাহলে আপনাদের কাছে এর উপমা কি হবে? পরিশেষে আমরা বলতে চাই যে, পূর্বের আলোচনায় এটা সুস্পষ্ট ভাবে প্রতিয়মান হয়েছে যে, এ ধরনের আইন প্রণয়নকারী পরিষদের অংশ গ্রহণ শিরকে আকবার বা বড় শিরক। আর যে ব্যক্তি নিজেকে এ পরিষদে জন্য প্রার্থী বানিয়েছে এবং বিধান রচনা কারীর পদকে আকড়ে রেখেছে সে শিরকে পতিত হয়েছে। বরং সে তাগুতে পরিণত হয়েছে, কেননা সে তার নিজের জন্য আমলের মাধ্যমে আল্লাহর একটি বৈশিষ্ট্যকে নির্দিষ্ট করে নিয়েছে। এমনি ভাবে যে ব্যক্তি তাকে ভোট প্রদান করে তাকে আইন প্রণয়নকারীর স্থানে বসিয়েছে, সেও শিরকে পতিত হয়েছে, চাই সে এর জন্য ভাল নিয়ত করে থাকুক অথবা মন্দ নিয়ত করে থাকুক। কিন্তু আমরা এখানে যা বলতে চাই এবং সুস্পষ্ট ভাবে বুঝাতে চাই, তা হচ্ছে এই যে, অনেক মানুষই ভুল করে যখন বলে, এ সব লোক যারা আইন রচনাকারী পরিষদে অংশ গ্রহণ করে তারা কুফরী করেনা, তাই তাদেরকে কাফের সাব্যস্ত করা যায়না। কারণ তারা তাদের অবস্থার ব্যাখ্যা দিচ্ছে, তারা মনে করছে যে তারা বাধ্য হয়ে এই সব পরিষদে অংশ গ্রহণ করে। তাদের মতে এসব আইন প্রণয়নকারী পরিষদে তারা যোগ না দিলে তাদের বদলে নাস্তিক ও কাফের লোকজন এ সব পরিষদে অংশ গ্রহণ করে, বিপর্যয় ও অশান্তির সৃষ্টি করবে। নিঃসন্দেহে তাদের এ কথা একটি মারাত্মক ভুল। কেননা তাদের বক্তব্য অনুযায়ী বিষয়টি যদি যথার্থই হয় অর্থাৎ তাদের মতে তাদের কাজের (আইন প্রণয়ন কারী পরিষদে অংশ গ্রহণ) একটি ব্যাখ্যা আছে। আমরা দ্বিতীয় প্রবন্ধে একথা সুস্পষ্ট ভাবে বলে দিয়েছি যে, শিরককারীর কোনো ব্যাখ্যাই গ্রহণ যোগ্য নয়। তাদের কথা অনুযায়ী যদি তারা নিজেদেরকে মনে করে যে, তারা জবরদস্তি মূলক ভাবে উক্ত কাজে অংশ গ্রহণ করে এবং এ জবরদস্তি তাদেরকে কাফের আখ্যা দেয়ার ক্ষেত্রে বিরাট অন্তরায়। তাহলে আমরা বলবো এ ব্যাপারে ইতিপূর্বে কথা বলা হয়েছে এবং জবরদস্তি সংক্রান্ত বিষয়ে বিভিন্ন কথার জবাব প্রদান করা হয়েছে। কখন জবরদস্তি মূলক কাজ গ্রহণ যোগ্য আর কখন গ্রহণ যোগ্য নয়, তার সীমাও বলে দেয়া হয়েছে।
জবরদস্তি মূলক কাজ সংক্রান্ত মাসআলার ব্যাপারে যারা সিদ্ধান্তহীনতার আবর্তে রয়েছেন তাদেরকে বলতে চাই যে, আপনারা নিম্নোক্ত দুটি বিষয়ের যে কোনো একটি গ্রহণ করার ক্ষেত্রে আপনি স্বাধীন, আপনার জন্য ৩য় কোনো পথ নেই।
প্রথম বিষয়ঃ হয় তাদের কথিত জবরদস্তিমূলক কাজ [আইন প্রণয়নকারী পরিষদে যোগদান] গ্রহণ যোগ্য হবে নতুবা গ্রহণ যোগ্য হবে না। যদি গ্রহণ যোগ্য হয় তখন তাদের জন্য আপনাকে তাই জায়েয বলতে হবে, যা তারা আইন প্রণয়নকারী পরিষদে অংশ গ্রহণ করার ব্যাপারে নিজেদের জন্য জায়েয করে নিয়েছে। তাদের মতে পরিষদে অংশ গ্রহণ করাকে এ জন্যই নিজেদের ক্ষেত্রে জায়েয করে নিয়েছে, যে, বিষয়টি তারা নিজেরা জবরদস্তির শিকার বলে ধরে নিয়েছে। আপনি আপনার বক্তব্য অনুযায়ী এ জবরদস্তিকে গ্রহণ করে নিয়েছেন, তাই তাদের বর্তমান অবস্থাকে মেনে নিয়ে সম্মতি দিয়েছেন এবং পরিষদে অংশ গ্রহণ করা তাদের জন্য জায়েয বলে দিয়েছেন।
দ্বিতীয় বিষয় : তাদের কথা অনুয়াযী যদি তাদের জবরদস্তিমূলক অবস্থা আপনার কাছে গ্রহণ যোগ্য না হয় তাহলে তাদের ব্যাপারে রায় প্রদানের ক্ষেত্রে কোনো প্রতিবন্ধকও থাকলো না এবং এর কোনো প্রভাব ও পড়লো না। এমতাবস্থায় শর্ত পাওয়া যাওয়ার কারণে এবং প্রতিবন্ধকতা না থাকার কারণে এটা বলা অপরিহার্য যে, "তারা মুশরিক" যদি কেউ বলেঃ তাদের মাঝে এমন কতিপয় সংশয় বিদ্যমান রয়েছে, যে গুলোকে তারা তাদের অবস্থানের জন্য প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করে। এটা অবশ্যই তাদেরকে কাফের বলার ক্ষেত্রে একটি বাধা।
এর জবাবে আমরা তাই বলবো, যা আমরা ২য় প্রবন্ধে ওলামায়ে কেরামের বিভিন্ন বক্তব্য পেশের মাধ্যমে বলেছি। আর তা হচ্ছে এই যে, মুসলমানদের মধ্যে এমন কিছু লোক রয়েছে যারা দ্বীন ইসলাম থেকে বের হয়ে যাওয়ার ইচ্ছা ছাড়াই ইসলাম থেকে [আমল দোষে] বের হয়ে যায়। এবং মুরতাদ হয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে সংশয় উপস্থাপিত হওয়ার বিষয়টি বেশীর ভাগ ঘটে থাকে।
আমরা আরেকটি বিষয় সতর্ক করে দিতে চাই, যে বিষয়টি কতিপয় লোক ভুল করেন। তা হচ্ছে কেউ কেউ বলেনঃ এ বিষয়ে যে লক্ষ্যে পৌছে, তার জন্য রয়েছে দুটি সওয়াব, আর যে ভুল করেছে তার জন্য রয়েছে একটি সওয়াব। তারা উভয়েই মুজতাহিদ। [অধ্যাবসায়ী ও সাধনাকারী] প্রত্যেকে মুজাহিদের জন্যই সওয়াব বা পুরষ্কার রয়েছে। প্রথম ব্যক্তি মাগফুর [ক্ষমাপ্রাপ্ত] হিসাবে সওয়াব পাবে।
আল্লাহর দ্বীনের ব্যাপারে নিঃসন্দেহে এ ধরনের কথা মারাত্মক ভুল ছাড়া আর কিছু নয়। শিরকের ক্ষেত্রে মুজাহিদের ভুল ক্ষমা প্রাপ্ত কিভাবে হতে পারে? এটা কখনো হতে পারে না এবং এ ধরনের কথা বলা কখনো ঠিক নয়।
আল্লামা শাইখ আব্দুল্লাহ বিন আবদুর রহমান আবা বাতিন (রহঃ) বলেনঃ আমরা উল্লেখ করেছি যে, শাইখ তাকিউদ্দিন বলেছেনঃ মাগফিরাত বা ক্ষমা একমাত্র ঐ ব্যক্তির জন্যই আশা করা যেতে পারে, যে ব্যক্তি ইজতিহাদ [ কুরআন ও সুন্নাহর ভিত্তিতে চেষ্টা সাধনা] করতে গিয়ে অজ্ঞতা বশতঃ কোনো "বিদআত" করে ফেলেছে। শিরকে আকবার [ বড় ধরনের শিরক] এবং প্রকাশ্য কুফরী কর্মে লিপ্ত ব্যক্তির ক্ষেত্রে এ কথা [ ক্ষমার সুযোগের কথা] বলা হয়নি।
তাঁর বিরোধীদের কথার জবাবে তিনি বলেনঃ শাইখ তাকীউদ্দিন এবং ইবনুল কায়্যিম বলেনঃ যে ব্যক্তি এসব কাজ করবে, সে কাফের ও মুশরিক" এ কথা তার উপর প্রয়োগ করা যাবে না, যতক্ষণ না কুফরীর উপর যথাযথ প্রমাণ পাওয়া যায়। বরং এ কথা বলা উচিৎ; এটা কুফরী কাজ। হতে পারে লোকটির গ্রহণ যোগ্য ওযর রয়েছে, যেমন ইজতিহাদ, তাকলীদ (অনুকরণ) ইত্যাদি। এ কথাগুলো যা তাঁদের কাছে থেকে বর্ণনা করলাম, এর কোনো ভিত্তি নেই। অর্থাৎ তাঁরা এ কথা বলেনি। আমার ধারনা আপনার এ বিশ্বাস দাউদের লিখনী থেকে হয়েছে (দাউদ বিন জারাজিদ আল বাগদাদী ইসলাম বিরোধী লিখক।)
তার লেখা প্রবন্ধে এ ধরনের কিছু বাক্য শাইখ তাকীউদ্দিনের اقْتِضَاءُ الصِّرَاطِ الْمُسْتَقِيم নামক কিতাবের বরাত দিয়ে লিখেছেন। সে যখন দ্বিতীয় বার তার লেখাসহ "ওনাইজায়" [ একটি স্থানের নাম) আসে এবং এ লেখা ওনাইজার লোকজনের কাছে পেশ করতে থাকে আর বলতে থাকে: যদি মেনে নেই কবরের কাছে যা করা হচ্ছে তা শিরক, যেমনটি এ সম্প্রদায় দাবী করছে, তাহলে এটাই হচ্ছে তাদের ইমাম ইবনে তাইমিয়ার কথা, যাকে তারা অনুসরণ করে ও মানে: মুজতাহিদ, অনুকরন কারী এবং অজ্ঞ লোকদের ওযর (অজুহাত) গ্রহণযাগ্য, তারা যা গুণাহ করবে তা ক্ষমার যোগ্য।
আমার কাছে যখন এসব কথা পৌছলো, আমি তার কাছে চিঠি পাঠালাম, যখন সে আমার কাছে আসলো তখন আমি তার ভুলটা বলে দিলাম। সে আসলে শাইখ ইবনে তাইমিয়ার বক্তব্যকে যথা স্থানে ব্যবহার না করে ভিন্ন স্থানে ব্যবহার করেছে। আমি তাকে বললাম, যে তোমার উপস্থাপিত কথাগুলো তিনি শিরকের ব্যাপারে নয় বরং বেদআত সংক্রান্ত বিষয়ে বলেছেন, যেমন আল্লাহর কাছে যা প্রার্থনা করবে তা নবী (সঃ) এর কবরের কাছে অনুসন্ধান করা, অন্যান্য বেদআতী ইবাদত করা। এ সব বেদআতের ব্যাপারে তিনি বলেছেন কোনো ব্যক্তি নেক আমলের বিশ্বাসেই কোনো কাজ করলো, অথচ সে জানেনা যে কাজটি শরীয়তে নিষিদ্ধ। নেক নিয়তের দরুন তার সওয়াব হতেও পারে তার অজ্ঞতার কারণে তাকে মাফ করাও হতে পারে। এটা এক বিস্তৃত অধ্যায়।
নিষিদ্ধ কিছু ইবাদত যা কতিপয় লোকজন করে এবং এর দ্বারা কিছু উপকারিতাও অর্জন করে থাকে। এটা কিন্তু ঐ ইবাদত বৈধ হওয়ার প্রমাণ নয়। তারপর কথা হচ্ছে, একজন আলেম ব্যাখ্যাকারী হতে পারেন, ভূলকারী মুজতাহিদ হতে পারে অথবা অনুকরণকারী হতে পারে, এমতাবস্থায় তার ভুল ক্ষমার যোগ্য হতে পারে এবং বৈধ কাজের সাথে সম্পৃক্ত অবৈধ কাজের জন্যও তিনি সাওয়াব পেতে পারেন। তাঁর একথা সেই সব বিষয়ের জন্য, যে গুলোতে শিরক নেই। (আদদুরার আসসুন্নিয়া ৩৮৭/১০)
তিনি আরো বলেন: প্রত্যেক মাযহাবের ওলামায়ে কেরাম কথা, কর্ম ও বিশ্বাস সম্পর্কে এত অধিক কথা উল্লেখ করেছেন যা সীমাবদ্ধ করা সম্ভব নয়। তাদের কথা হচ্ছে শিরকে আকবার বড় শিরক, ও প্রকাশ্য কুফরী কর্মে লিপ্ত ব্যক্তি কাফের । এ রায় বা অভিমত আল্লাহর দ্বীন অস্বীকার কারীর ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ করা হয়নি।
অতএব যে ব্যক্তি দাবী করে যে, কুফরী কর্মে লিপ্ত ব্যক্তি তাবীলকারী (তার কাজের নিজস্ব ব্যাখ্যা রয়েছে) অথবা মুজতাহীদ (কুরআন সুন্নাহর ভিত্তিতে সাধনকারী) অথবা ভুল কারী অথবা অনুকরনকারী অথবা অজ্ঞ হিসেবে এদের ওযর (অজুহাত) গ্রহণ যোগ্য। নিঃসন্দেহে এ কথা কুরআন-সুন্নাহ এবং ইজমার সম্পূর্ন বিপরীত। উপরন্ত মূলকেই এর দ্বারা ধ্বংস করা হয়। আর মূল যদি বাদ দেয়া হয়, তাহলে কাফের হবে নিঃসন্দেহে। যেমনিভাবে কাফের হয় ঐ ব্যক্তি, যে রাসূল (সঃ) এর রেসালতের ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ কারীকে কাফের বলতে দ্বিধা করে।
আল্লামা শাইখ আবদুর রহমান বিন হাসান আল-শাইখ (রহঃ) বলেন: ওলামায়ে কেরام সব সময়ই দৃঢ় ও মজবুত নীতি অবলম্বন করেছেন এবং মুরতাদের হুকুম সংক্রান্ত অধ্যায়ের কথা উল্লেখ করে বলেন : তাঁদের কেউ এ কথা বলেননি যে, কোনো ব্যক্তি যদি কুফরী কথা বলে, কুফরী কর্ম করে এমতাবস্থায় যে, সে জানেনা যে তার এসব কথা ও কর্ম তার ঈমান ও ইসলামের বিপরীত, তাহলে তার অজ্ঞতার কারণে তাকে কাফের বলা যাবেনা। (আদ্ দুরার আসসুন্নিয়া ৭৭/১৭)
কাজী আইয়াজ (রহঃ) বলেন: ওবায়দুল্লাহ বিন হাসান আল- আম্বরী এ মত গ্রহণ করেন যে, যে সব মুজতাহিদ দ্বীনের মৌলিক বিষয়ে ইজতেহাদ করেন, তাদের যে সব বিষয় ব্যাখ্যার অবকাশ আছে সে সব বিষয়ে তারা সঠিক পথে রয়েছেন বলে ধরে নিতে হবে। (অর্থাৎ যে সব ইজতিহাদের ফলাফল বাহ্যত: ইসলাম বিরোধী বলে মনে হয় এবং ব্যাখ্যার অবকাশ আছে সে সব বিষয়ের মুজতাহিদকে কাফের বলা যাবেনা) তিনি এ ক্ষেত্রে বিরাট পার্থক্য বজায় রেখেছেন। তিনি ছাড়া সমস্ত ওলামায়ে কেরামের মত হচ্ছে, দ্বীনের মৌলিক বিষয়ে হক হচ্ছে একটি, অর্থাৎ দ্বীনের মৌলিক বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করার অবকাশ নেই। অতএব এ ক্ষেত্রে যে ভুল করবে সে গুনাহগার, কাফের ও পাপী। তবে এ ক্ষেত্র যে ভুল করবে তাকে কাফের বলার ব্যাপারে মতভেদ আছে। (আদ্‌ দুরার আসসুন্নিয়া ৪৭৯/১১)
মুসলিম উম্মাহর ইজমা অর্থাৎ সর্বসম্মত রায় হচ্ছে, দ্বীনের মৌলিক বিষয়ে যে ভুল করবে সে পাপী, না ফরমান এবং ফাসেক (বিপর্যয় সৃষ্টিকারী) তাকে কাফের বলার ক্ষেত্রে মতভেদ রয়েছে। দ্বীনের মৌলিক বিষয় বলতে কাজী আইযায এখানে আহলে সুন্নাহর আক্বীদা বিশ্বাসকে বুঝিয়েছেন। যেমন আহলে সুন্নাহর আক্বীদার মধ্যে রয়েছে আল্লাহর তায়ালাকে আখেরাতে দেখা যাবে এবং কুরআন হচ্ছে আল্লাহর তায়ালার বাণী ইত্যাদি।
"মতভেদ শুধু কাফের বলার ক্ষেত্রে এ কথা বলতে ঐ সব বিষয়কে বুঝানো হয়েছে যে গুলোতে ব্যাখ্যার অবকাশ রয়েছে। যেমন আল্লাহর তায়ালার কতিপয় সিফাত বা গুণবাচক নামের ব্যাখ্যা প্রদান। আর সুস্পষ্ট কুফরী বিষয় যেমন, ইবাদতের মধ্যে শিরক করা, আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (সঃ) সম্পর্কে ঠাট্টা বিদ্রোপ করা ইত্যাদি বিষয়ে লিপ্ত ব্যক্তিদের বেলায় আহলে সুন্নাহর কাছে কাফের রায় প্রদানের ক্ষেত্রে কোনো মতভেদ নেই।
উপরোক্ত আলোচনায় আমাদের কাছে ঐ ব্যক্তির ভুল সুস্পষ্টরূপে প্রকাশ পেয়েছে যে ব্যক্তি বলে যে, এ বিষয়ে যে মুজতাহিদ ভুল করে তার ভুলের জন্য রয়েছে সাওয়াব ও ক্ষমা। এটা অবশ্য তখনই হবে, যখন দেখা যাবে যে ইজতেহাদ সম্পন্ন হয়েছে বিষয়টির হুকুম বা রায়ের ক্ষেত্রে, আর তা হচ্ছে আইন প্রণয়নকারী পরিষদে অংশ গ্রহণ অর্থাৎ কাউকে কাফের হিসেবে রায় দেয়ার শর্তের ক্ষেত্রে। আর যদি দেখা যায় যে ইজতিহাদ সম্পন্ন হয়েছে শর্তের মধ্যে নয় বরং কাফের বলার ক্ষেত্রে, তখন [যারা আইন প্রণয়নকারী পরিষদে অংশ গ্রহণকারী) তারা মনে করে যে, তাদের কথিত জবরদস্তি মূলক ভাবে পরিষদে অংশ গ্রহণ করা তাদেরকে কাফের বলার ক্ষেত্রে অন্তরায়। ইতিপূর্বে এর জবাবে বিস্তারিত আলোচনা পেশ করা হয়েছে।
এ সংক্ষিপ্ত উপস্থাপিত আলোচনার মাধ্যমে শরীয়তের প্রমাণাদি, ওলামায়ে ইসলামের বক্তব্য এবং বিভিন্ন সংশয়ের জবাব দানের বাসনাই আমরা পোষণ করেছিলাম।
আমরা আল্লাহ তায়ালার কাছে তাঁর আসমায়ে হুসনা (সুন্দর সুন্দর নাম) এবং মহান গুণাবলীর বদৌলতে এই প্রার্থনা করি, তিনি যেনো আমাদেরকে প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য যাবতীয় ফেতনা থেকে হেফাজত করেন, আমাদেরকে এবং তাদের সঠিক পথ প্রদর্শন করেন, বিশ্বাস, কথা ও আমলের মধ্যে দৃঢ়তা দান করেন, যাবতীয় কুফরী এবং বিচ্যুতি থেকে রক্ষা করেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ এ ব্যাপারে সম্পূর্ন ক্ষমতাবান। মহান আল্লাহ তায়ালা ছাড়া কোনো উপায় নেই, কোনো শক্তি নেই।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00