📘 মাদারিজুস সালিকীন > 📄 মানযিলসমূহের স্তর ও সংখ্যা

📄 মানযিলসমূহের স্তর ও সংখ্যা


সূফিয়ায়ে কেরাম اِيَّاكَ نَعْبُدُ “আমরা কেবল তোমারই দাসত্ব করি”-এর মানযিলসমূহের ব্যাপারে অনেক আলোচনা করেছেন; আল্লাহর পথে চলা অবস্থায় অন্তর এক এক করে সেই মানযিলগুলো অতিক্রম করে আল্লাহর দিকে অগ্রসর হয়।
তাদের কেউ কেউ এর মানযিলসমূহ গণনা করে এর এক হাজারটি মানযিল পেয়েছেন। কেউ কেউ পেয়েছেন একশটি আর কেউ পেয়েছেন এর চেয়ে বেশি কিংবা কম।
মানযিলসমূহ ও এর তারতীবের ব্যাপারে সূফিয়ায়ে কেরামের বেশ মতভেদ রয়েছে। প্রত্যেকেই আপন আপন অবস্থা ও পথচলা অনুসারে তা বিভিন্নভাবে বর্ণনা করেছেন। তাদের মধ্যে কিছু কিছু মানযিলের ক্ষেত্রে এই মতভেদও রয়েছে যে, তা মাকামের অন্তর্ভুক্ত নাকি হাল বা বিশেষ অবস্থার অন্তর্ভুক্ত?
এ দুটির মধ্যে পার্থক্য হলো : মাকাম হচ্ছে অর্জনযোগ্য আর হাল হচ্ছে আল্লাহ-প্রদত্ত।
তাদের কেউ কেউ বলেছেন, হাল হলো মাকামের ফল আর মাকাম হলো আমলের ফল। সুতরাং যে ব্যক্তির আমল উত্তম ও ভালো, সে উচ্চ মাকামের অধিকারী। আর যে উচ্চ মাকামের অধিকারী, তার হাল (অন্তরগত অবস্থা)-ও উচ্চ স্তরের হয়ে থাকে।
তবে এ ক্ষেত্রে সঠিক অভিমত হলো বিভিন্ন অবস্থা অনুসারে মানযিলসমূহের বিভিন্ন নাম রয়েছে। সূচনা ও প্রাথমিক অবস্থায় যেকোনো মানযিলের ঔজ্জ্বল্য, দীপ্তি ও ঝলক প্রকাশ পায়, যেমন দূর থেকে বজ্রমেঘের ঝলক ও দীপ্তি দেখা যায়। অতঃপর যখন বিষয়টি ব্যক্তির মাঝে এসে পড়ে, তখন 'হাল' বা বিশেষ অবস্থার সৃষ্টি হয়। এরপর যখন তা স্থায়ী ও দৃঢ়ভাবে স্থান করে নেয়, তখন তা মাকামে পরিণত হয়।
এটি প্রথমে ঔজ্জ্বল্য ও দীপ্তির পর্যায়ে থাকে, মাঝপথে তা হালে রূপান্তরিত হয় আর শেষে তা মাকামে পরিণত হয়। প্রথমে যেটি ঔজ্জ্বল্য ও দীপ্তি ছিল, পরবর্তী সময়ে হুবহু তা-ই হাল, আর হাল-ই এর পরে মাকামে পরিণত হয়। এই সমস্ত নামগুলো প্রকাশিত হওয়া ও দৃঢ়ভাবে লেগে থাকার দিক দিয়ে অন্তরের সাথে সম্পর্কিত।
সালিক বা আল্লাহর-পথের-পথিক কখনো কখনো তার মাকাম থেকে বেরিয়ে যায়, যেমন তার পরিহিত কাপড় থেকে বেরিয়ে যায়। এরপর সে আগের চেয়ে নিম্নস্তরের মাকামে অবতরণ করে। অতঃপর আবার কখনো সেখানে ফিরে আসতে পারে আবার কখনো পারে না।

📘 মাদারিজুস সালিকীন > 📄 মাকামের প্রকারভেদ

📄 মাকামের প্রকারভেদ


মাকামসমূহের মধ্যে এমন কিছু মাকামও রয়েছে, যা দুইটি মাকামকে অন্তর্ভুক্ত করে। আবার এমন মাকামও রয়েছে, যা অনেকগুলো মাকামকে অন্তর্ভুক্ত করে। এমন মাকামও রয়েছে, যার মধ্যে সমস্ত মাকাম শামিল। ফলে কোনো ব্যক্তি সেই মাকামের অধিকারী হতে পারে না, যতক্ষণ-না তার মাঝে সমস্ত মাকামের সমাবেশ ঘটে।
তাওবার মাকাম-মুহাসাবা (আত্মসমালোচনা) ও ভয়ের মাকামকে জমা করে। এ দুটি মাকাম ব্যতীত তাওবার মাকামের অস্তিত্ব কল্পনাও করা যায় না।
সন্তুষ্টির মাকাম-সবর ও মহাব্বতের মাকামকে অন্তর্ভুক্ত করে। এ দুটি মাকাম ব্যতীত সন্তুষ্টির মাকামের অস্তিত্ব চিন্তাও করা যায় না।
তাওয়াক্কুলের মাকাম-নিজেকে অর্পণ করা, সাহায্য প্রার্থনা করা এবং সন্তুষ্টির মাকামকে অন্তর্ভুক্ত করে। এগুলো ব্যতীত তাওয়াক্কুলের মাকামের অস্তিত্ব কল্পনাও করা যায় না।
আশার মাকাম-ভয় ও ইচ্ছার মাকামকে অন্তর্ভুক্ত করে।
ভয়ের মাকাম-আশা ও ইচ্ছার মাকামকে অন্তর্ভুক্ত করে।
আল্লাহ-অভিমুখী হওয়ার মাকাম-মহাব্বত ও ভয়ের মাকামকে একত্রিত করে। এ দুটি ছাড়া কেউ আল্লাহ-অভিমুখে অগ্রসর হতে পারে না।
বিনয়ের মাকাম-মহাব্বত, বশ্যতা ও নম্রতার মাকামকে অন্তর্ভুক্ত করে। একটি ব্যতীত অপরটি পাওয়া যায় না।
দুনিয়াবিমুখতার মাকাম-এটি আগ্রহ ও ভীতির মাকামকে অন্তর্ভুক্ত করে। কেউ দুনিয়াবিমুখ হতে পারে না, যতক্ষণ পর্যন্ত-না সে তার জন্য যা উপকারী তার প্রতি আগ্রহী হয় এবং তার জন্য যা ক্ষতিকর সেগুলোকে ভয় পায়।
মহাব্বতের মাকাম-মা'রিফাত বা আল্লাহ সম্পর্কে জানা, ভয়, আশা ও ইচ্ছার মাকামগুলোকে একত্রিত করে। মহাব্বতের মাকাম এই চারটি মাকামের সমন্বয়েই গঠিত।
আল্লাহভীতির মাকাম- আল্লাহ সম্পর্কে জ্ঞান এবং আল্লাহর দাসত্বের হক সম্পর্কে জ্ঞান-এই দুটি মাকামকে অন্তর্ভুক্ত করে। সুতরাং যে ব্যক্তি আল্লাহর পরিচয় পায়, তাঁর হক সম্পর্কে জানে, আল্লাহর প্রতি তার ভয় বেড়ে যায়। যেমন, আল্লাহ তাআলা বলেছেন,
إِنَّمَا يَخْشَى اللَّهَ مِنْ عِبَادِهِ الْعُلَمَاءُ
“আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে কেবল জ্ঞানীরাই তাঁকে ভয় করে।"[৪০]
সুতরাং আল্লাহ তাআলার সম্পর্কে এবং তাঁর আদেশ-নিষেধ সম্পর্কে অধিক অবগত ব্যক্তিরাই আল্লাহকে সবচেয়ে বেশি ভয় করে।
ভক্তির মাকাম-মহাব্বত, শ্রদ্ধা ও তা'যীম বা সম্মানের মাকামকে জমা করে।
শোকরের মাকাম—ঈমানের সমস্ত মাকামকে অন্তর্ভুক্ত করে। এ কারণেই এটি সবচেয়ে সম্মান ও মর্যাদার মাকাম। এটি সন্তুষ্টির মাকামের চেয়ে ঊর্ধ্বস্তরের। শোকরের মাকাম সবরের মাকামকেও অন্তর্ভুক্ত করে; কিন্তু সবরের মাকাম শোকরের মাকামকে অন্তর্ভুক্ত করে না। শোকর—তাওয়াক্কুল, আল্লাহর প্রতি ধাবমানতা, ভালোবাসা, বিনয়, ভয়, আশা ইত্যাদি সব মাকামকেই জমা করে। সুতরাং কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত শোকরের গুণে গুণান্বিত হতে পারবে না, যতক্ষণ-না সমস্ত মাকামের অধিকারী হয়।
এ কারণেই (বলা হয়) ঈমানের দুটি অংশ—অর্ধেক সবর আর অর্ধেক শোকর। আবার সবর শোকরের মধ্যে শামিল। তাই বলা যায় ঈমানের পুরোটাই শোকর। শোকরগুজার বান্দা খুবই কম। আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَقَلِيلٌ مِّنْ عِبَادِيَ الشَّكُورُ
"আমার বান্দাদের মধ্যে অল্পসংখ্যকই শোকরগুজার।"[৪১]
লজ্জার মাকাম—মা'রিফাত ও মুরাকাবা (গভীর ধ্যানে নিমগ্ন হওয়া)র মাকামকে অন্তর্ভুক্ত করে।
ঘনিষ্ঠতার মাকাম—নৈকট্যের সাথে ভালোবাসার মাকামকে অন্তর্ভুক্ত করে। সুতরাং কেউ যদি কাউকে ভালোবাসে, কিন্তু তার থেকে দূরে থাকে, তা হলে তাদের মাঝে যেমন ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয় না; ঠিক তেমনি কারও কাছে থেকে তাকে ভালো না বাসলেও ঘনিষ্ঠতা সৃষ্টি হয় না। ঘনিষ্ঠতা সৃষ্টির জন্য শর্ত হলো কাছে থাকা এবং ভালোবাসা।
সত্যবাদিতার মাকাম—ইখলাস ও দৃঢ়তার মাকামকে অন্তর্ভুক্ত করে। এ দুটির সন্নিবেশেই সত্যবাদিতা বিশুদ্ধ হয়।
মুরাকাবা বা গভীর ধ্যানে নিমগ্ন হওয়ার মাকাম—ভয়ের মাকামের সাথে আল্লাহ তাআলার মা'রিফাতের মাকামকেও অন্তর্ভুক্ত করে। এ দুটির অনুপাতেই মুরাকাবার মাকাম বিশুদ্ধ হয়।
নিশ্চিন্ততার মাকাম-ইনাবাত বা আল্লাহ-অভিমুখিতা, তাওয়াক্কুল, নিজেকে অর্পণ করা, সন্তুষ্টি ও আত্মসমর্পণের মাকামকে জমা করে।
এমনিভাবে আগ্রহ ও আশঙ্কা (এর মাকাম)- আশা ও ভয়ের সাথে জড়িত। তবে আশা আগ্রহের ওপর এবং ভয় আশঙ্কার ওপর প্রাধান্য পাবে।
এই সমস্ত মাকামগুলোর প্রত্যেকটির অবস্থা অনুসারে সালিকীন বা আল্লাহর-পথের-পথিকগণ দুই প্রকার: নেককার (الْأَبْرَارُ) এবং নৈকট্যশীল (الْمُقَرَّبُوْنَ)। নেককারগণ সেই মাকামের কিনারায় অবস্থান করেন আর নৈকট্যশীলগণ থাকেন এর সুউচ্চ চূড়ায়। এমনিভাবে ঈমানের সব স্তরের ক্ষেত্রেও একই কথা। এই দুই প্রকার ব্যক্তিদের পার্থক্য ও তাদের মর্যাদার তারতম্য এত অধিক যে, আল্লাহ ছাড়া আর কেউই তা গণনা করতে সক্ষম নয়।

টিকাঃ
[৪০] সূরা ফাতির, ৩৫: ২৮।
[৪১] সূরা সাবা, ৩৪: ১৩।

📘 মাদারিজুস সালিকীন > 📄 ভিন্ন আরেকটি প্রকারভেদ

📄 ভিন্ন আরেকটি প্রকারভেদ


সূফিয়ায়ে কেরাম আল্লাহ-অভিমুখিদেরকে যে তিনটি প্রকারে বিভক্ত করেছেন: ১. সাধারণ, ২. বিশেষ এবং ৩. অতি বিশেষ-তা সৃষ্টি হয়েছে কেবল ফানা বা বিলীন হওয়াকে এই পথের শেষ ও চূড়ান্ত সাব্যস্ত করার কারণে। এবং যে-ইলমের প্রতি তারা বিশেষ আগ্রহী, তার কারণেও এই প্রকারভেদগুলোর সৃষ্টি হয়েছে। আমরা এ বিষয়ে এবং ফানা বা বিলীন হওয়ার প্রকারভেদ; এর প্রশংসনীয়-নিন্দনীয়, উপকারী-অপকারী সব দিক নিয়েই আলোচনা করব, ইন শা আল্লাহ। কারণ তাদের ইশারা-ইঙ্গিত একে কেন্দ্র করেই আবর্তিত এবং এর ওপরেই তাদের সবকিছুর ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত।
মানযিলসমূহের ক্রমবিন্যাস যারা করেছে, তাদের ক্রমবিন্যাস সব ক্ষেত্রে সঠিক নয়। কারণ কোনো বান্দা যখন ইসলামকে নিজের জন্য আবশ্যক করে নেয় এবং ইসলামে পরিপূর্ণভাবে প্রবেশ করে, তখন এর প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য সব ধরনের দায়-দায়িত্ব, অবস্থা ও বিধানাবলিকে সে নিজের জন্য আবশ্যক করে নেয়। (তার জন্য মানযিলসমূহের ক্রমবিন্যাসের কোনো প্রয়োজন পড়ে না।) তার জন্য ইসলামের আমলসমূহের মধ্যে প্রতিটি আমলে, ওয়াজিবসমূহের মধ্যে প্রতিটি ওয়াজিব আমলে অনেকগুলো মাকাম ও হাল বা বিশেষ অবস্থা রয়েছে। যেগুলো ছাড়া সে সেই আমল ও ওয়াজিব আদায় করতে পারবে না। আর যখনই একটি ওয়াজিব আমল পরিপূর্ণরূপে আদায় করবে, তখনই এর পরবর্তী আরেকটি আমল তার জিম্মায় চলে আসবে। এভাবে যখনই সে একটি মানযিল অতিক্রম করবে, তখনই তার সামনে আরেকটি মানযিল এসে হাজির হবে। কখনো পথের শুরুতেই তার সামনে সর্বোচ্চ মাকাম ও হাল চলে আসে; যার ফলে তার জন্য মহাব্বত, সন্তুষ্টি, ঘনিষ্ঠতা, নিশ্চিন্ততার দরজা খুলে যায়; যা কারও কারও ক্ষেত্রে পথের শেষেও অর্জিত হয় না। এই ব্যক্তির জন্য তার পথচলার শেষ পর্যায়ে কিছু বিষয়ের প্রয়োজন হয়—যেমন, বিচক্ষণতা, তাওবা, মুহাসাবা বা নিজের অবস্থার গভীর পর্যবেক্ষণ—যা সূচনাকারী ব্যক্তির প্রয়োজনের চেয়ে বেশি তীব্র। সুতরাং বোঝা গেল, পথচলার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ও আবশ্যকীয় কোনো ক্রমবিন্যাস নেই।

📘 মাদারিজুস সালিকীন > 📄 মানযিলসমূহের ক্রমবিন্যাস নির্ধারণে পূর্ববর্তীদের তরীকা

📄 মানযিলসমূহের ক্রমবিন্যাস নির্ধারণে পূর্ববর্তীদের তরীকা


এই সমস্ত মাকামের ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী সূফিয়ায়ে কেরামের তরীকা বা পদ্ধতি সম্পর্কে সর্বোত্তম কথা হলো প্রতিটি মাকামের (ক্রমবিন্যাস উল্লেখ না করে সেগুলোর) ব্যাপারে আলাদা আলাদা আলোচনা করা; তার প্রকৃত অবস্থা ও দাবি, তা অর্জনে প্রতিবন্ধকতা কী, কোন বস্তু পথিককে সেই মাকাম থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়, এর সাধারণ ও বিশেষ অবস্থা কী ইত্যাদি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা। চিন্তাভাবনা করলে দেখা যায়, সূফিয়ায়ে কেরামের মধ্যে যারা ইমাম ছিলেন, তাদের কথা এই পদ্ধতি অনুসারেই ছিল। যেমন : সাহল ইবনু আবদিল্লাহ তুসতারি, আবূ তালিব মাক্কি, জুনাইদ ইবনু মুহাম্মাদ বাগদাদি, আবূ উসমান নিশাপুরি, ইয়াহইয়া ইবনু মুআয রাযি প্রমূখ।
এবং যারা তাদের চেয়ে উঁচু স্তরের ছিলেন; যেমন, আবূ সুলাইমান দারানি, আওন ইবনু আবদিল্লাহ (যাকে 'হাকীমুল উম্মাহ' বলা হতো) এবং তাদের সমপর্যায়ের ব্যক্তিগণ; তারা সবাই ক্রমবিন্যাস করা ছাড়াই অন্তরের আমল সম্পর্কে আলোচনা করেছেন এবং মাকামসমূহকে নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যায় সীমাবদ্ধ না করে মাকাম ও হাল সম্পর্কে বিস্তৃত, সারগর্ভ ও সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দিয়েছেন। কারণ তারা ছিলেন এর চেয়েও অধিক সম্মানিত, তাদের সংকল্প ছিল অনেক উঁচু ও উন্নত। তারা পিপাসার্ত ছিলেন হিকমত ও মা'রিফাতের জন্য, অন্তর ও নফসের পবিত্রতা অর্জন করার জন্য এবং নিজেদের মুআমালা-লেনদেন সঠিক করার জন্য। আর এ কারণেই তাদের কথা ছিল কম আর তাতে বারাকাহ ছিল বেশি। অপরদিকে, পরবর্তীদের কথা বেশি, কিন্তু বারাকাহ কম।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00