📄 কুরবানীর দিন হল তিন দিন
প্রশ্ন: আমার মুহতারাম হাফেয ছাহেব, আল্লাহর কাছে দুআ রইল যে, আল্লাহ আপনাকে সুস্থতা এবং নিষ্কলুতার সাথে দীর্ঘ জীবন দান করুন। আর আল্লাহ আপনার পত্রিকা 'আল-হাদীছ'-কে শনৈঃ শনৈঃ উন্নতি দান করুন। মুহতারাম শায়খ 'আল-হাদীছ' এর প্রতিটি সংখ্যা ইলম এবং তাহক্বীক্ব-এর সমাহার আর তাহক্বীক্বী প্রবন্ধসমূহের সমষ্টি হয়ে থাকে। মুহতারাম শায়েখ! আপনি আপনার পত্রিকার বাৎসরিক মূল্য ২০০ রুপি নির্ধারণ করেছেন। যদি একটি পত্রিকা আমি ২০০ রুপিতেও পাই তবুও আমি এটি নিতে প্রস্তুত। আল্লাহ আপনার মেহনত কবুল করুন (আমীন)। কিন্তু আফসোস! এত তাহক্বীক্বী পত্রিকা আমার আহলে হাদীছ ভাইগণ চিনেন না এবং তারা কুরআন-হাদীছ ভিত্তিক এই পত্রিকাটি সম্পর্কে অবগত নন। আহলে হাদীছ ভাইগণ ব্যতীত পাকিস্তানের সমগ্র আহলে হাদীছ আলেমদের কাছেও এই পত্রিকাটি পৌঁছেনি। স্রেফ কতিপয় আলেমদের কাছে এটি পৌঁছায়। আমি আপনাকে এবং সকল আহলে হাদীছ ভাইকে আবেদন করছি যে, এই পত্রিকাটিকে অধিকাংশ আহলে হাদীছ আলেমদের নিকটে পৌঁছিয়ে দিন। আর আহলে হাদীছ ছাত্রদেরকে, যারা মাদরাসায় অধ্যয়ন করেন তাদের ওখানেও এই পত্রিকাটি পৌঁছানো উচিৎ যেন তরুণ প্রজন্মের কাছে ইলম এবং তাহক্বীক্ব-এর ঢেউ বয়ে যায়। আর তারা এই পত্রিকাটিকে অধ্যয়ন করে তাহক্বীক্বের প্রতি আসেন ও তারা আসমাউর রিজালের ইলম অর্জন করেন এবং তারা আহলে হাদীছ মাসলাকের ব্যাপকভাবে খেদমত করতে সক্ষম হন।
মুহতারাম শায়েখ ছাহেব! আমার এই পত্র এবং আমার নিম্নোক্ত প্রশ্নটি মাসিক 'আল-হাদীছ' পত্রিকায় প্রকাশ করবেন। আপনার কাছে প্রশ্ন এই যে, চতুর্থ দিনে কুরবানী করা কুরআন ও হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত? আমি কতিপয় আলেম হতে শুনেছি যে, চতুর্থ দিনে কুরবানী করার যে হাদীছগুলি রয়েছে সেগুলি যঈফ। আর আব্দুল্লাহ বিন ওমর রাযিআল্লাহু আনহু হতে ছহীহ সনদের সাথে প্রমাণিত আছে যে, তিনি বলেন, 'কুরবানীর মেয়াদ হল তিন দিন'।
এই প্রসঙ্গে সাপ্তাহিক আহলে হাদীছ পত্রিকায় ফযীলাতুশ শায়েখ আব্দুস সাত্তার হাম্মাদ হাফিযাহুল্লাহ দলীলসমূহ দ্বারা প্রমাণ করেছেন যে, কুরবানীর সময় হল চারদিন। তার দলীলসমূহ নিম্নরূপ-
ফযীলাতুশ শায়েখ লিখেছেন, 'ঈদের পর তিন দিন পর্যন্ত কুরবানী করা যেতে পারে। দশ-ই যিল হজের দিনে ঈদ হয়ে থাকে। এরপরের তিন দিনকে আইয়ামে তাশরীক্ব বলা হয়। আইয়ামে তাশরীক্বের দিনগুলিকে যবাই করার দিন বলা হয়েছে। যেমন হযরত জুবাইর বিন মুত্বইম রাযিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণনা আছে যে, নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, 'আইয়ামে তাশরীক্বের সকল দিনগুলি হল যবাই করার দিন' (মুসনাদে আহমাদ ৪/৮২)। যদিও এই বর্ণনাটি সম্পর্কে বলা হয় যে, এটি মুনক্বাত্বি। কিন্তু ইমাম ইবনে হিব্বান এবং ইমাম বায়হাক্বী একে মওছুল হিসাবে বর্ণনা করেছেন। আর আল্লামা আলবানী রহিমাহুল্লাহ একে ছহীহ বলেছেন (ছহীহুল জামে আছ-ছগীর হা/৪৫৩৭)।
কতিপয় ফক্বীহ ঈদের স্রেফ দুদিন পর্যন্ত কুরবানী করার জন্য অনুমতি প্রদান করেছেন। তাদের দলীলগুলি নিম্নরূপ-
ঈদুল আযহার পর কুরবানী করার দিন দুদিন পর্যন্ত রয়েছে (বায়হাক্বী ৯/২৯৭)। কিন্তু এটি হযরত ইবনে ওমর রাযিআল্লাহু আনহু অথবা হযরত ওমর রাযিআল্লাহু আনহুর নিজস্ব উক্তি। এই জন্য রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহu আলাইহি ওয়া সাল্লামের মারফু হাদীছের মোকাবেলায় একে পেশ করা যেতে পারে না। সুতরাং এই হাদীছটি দলীলযোগ্য নয়। আল্লামা শাওকানী এ সম্পর্কে পাঁচটি মাযহাব উল্লেখ করেছেন। অতঃপর নিজের ফায়ছালা এই ভাষায় লিখেছেন যে, সমস্ত আইয়ামে তাশরীক্ব হল যবাই করার দিন। আর সেটি নহরের দিনের পরের তিনদিন' (নায়লুল আওত্বার ৫/১২৫)।
প্রকাশ থাকে যে, প্রথমদিন কুরবানী করা সর্বাধিক ফযীলত সম্পন্ন। কেননা রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর উপরই আমল করেছেন। সুতরাং কারণ ব্যতীত কুরবানী দেরীতে যেন না করা হয়। যদিও কতিপয় হযরতের ধারণা আছে যে, গরীব-মিসকিনদের উপকারার্থে দেরী করা উত্তম। কিন্তু এটি স্রেফ একটি ধারণা। যার পক্ষে কোন হাদীছ বর্ণিত নেই। উপরন্তু যদি কাউকে ১৩ই যিল হজে কুরবানী করতে হয় তবে সূর্য ডোবার আগে আগেই করতে হবে। কেননা সূর্য ডোবার পর আসন্ন দিন শুরু হয়ে যায় (সাপ্তাহিক আহলে হাদীছ খন্ড : ৩৮, ৭-১৩ রবীউছ ছানী ১৪২৮ হিজরী, এপ্রিল-মে ২০০৭ ইং)।
এটি ঐ দলীলসমূহ যেগুলি হাফেয আব্দুস সাত্তার হাম্মাদ হাফিযাহুল্লাহ বর্ণনা করেছেন।
মুহতারাম শায়েখ ছাহেব! উপরোক্ত দলীলগুলি এবং সেগুলি ব্যতীত কুরবানীর চারদিন সংক্রান্ত যত দলীল আছে সেগুলি বর্ণনা করে দিবেন। আর সেগুলির সনদের অবস্থা স্পষ্টভাবে তুলে ধরবেন। এবং কুরবানীর এই মাসআলা সম্পর্কে বিশুদ্ধতম তাহক্বীক্ব বর্ণনা করবেন। আল্লাহ আপনাকে উত্তম পুরস্কার দান করুন (আমীন)।
এই প্রশ্নটি 'আল-হাদীছ' পত্রিকায় প্রকাশ করবেন। আর এর জবাব লিখে 'জবাব' (লেখা সম্বলিত) খামে ভরে পাঠিয়ে দিবেন।
(খুরম আরশাদ মাহমূদ, দওলত নগর, গুজরাট ২৯/৪/২০০৭ ইং)
জবাব:
বর্ণনা-১ : 'মুসনাদে আহমাদ' গ্রন্থের (হা/১৬৭৫২, ৪/৮২) বর্ণনাটি নিশ্চিৎরূপে মুনক্বাত্বি।
'সুলায়মান বিন মূসা' সাইয়েদুনা জুবায়ের বিন মুত্বইম রাযিআল্লাহুকে পান নি। ইমাম বায়হাক্বী এই বর্ণনা সম্পর্কে বলেছেন, 'এটি মুরসাল তথা বিচ্ছিন্ন' (বায়হাক্বী, আস-সুনানুল কুবরা ৫/২৩৯, ৯/২৯৫)।
ইমাম তিরমিযীর প্রতি সম্বন্ধিত 'কিতাবুল ইলাল' গ্রন্থে ইমাম বুখারী হতে বর্ণনা আছে যে, তিনি বলেছেন, 'সুলায়মান নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কোন ছাহাবীকে পান নি' (আল-ইলালুল কাবীর ১/৩১৩)।
এর সমর্থন এর দ্বারাও হয়ে থাকে যে, কোন ছহীহ দলীল দ্বারা এটি প্রমাণিত নেই যে, সুলায়মান বিন মূসা সাইয়েদুনা জুবায়ের বিন মুত্বইমকে পেয়েছিলেন। আসন্ন বর্ণনাটিতেও (২ নং) এটাই প্রমাণিত হয় যে, সুলায়মান বিন মূসা সাইয়েদুনা জুবায়ের বিন মুত্বইম রাযিআল্লাহু আনহু হতে এই রেওয়ায়াতটি শ্রবণ করেন নি। দেখুন: নাছবুর রায়াহ (৩/৬১)।
বর্ণনা-২ : ছহীহ ইবনে হিব্বান (আল-ইহসান হা/৩৮৪৩, অন্য সংস্করণ হা/৩৮৫৪) গ্রন্থে এবং ইবনে আদীর আল-কামিল (৩/১১১৮) গ্রন্থে, বায়হাক্বীর আস-সুনানুল কুবরা গ্রন্থে (৯/২৯৫, ২৯৬), মুসনাদুল বাযযার (কাশফুল আসতার হা/১১২৬) ইত্যাদি গ্রন্থে 'সুলায়মান বিন মূসা আব্দুর রহমান বিন আবী হুসাইন হতে, তিনি জুবায়ের বিন মুত্বইম হতে' সনদে বর্ণিত আছে যে, 'এবং প্রতি আইয়ামে তাশরীক্বের দিনে যবাই করা যায়'।
এই রেওয়ায়াতটি দুটি কারণে যঈফ-
(১) হাফেয বায্যার বলেছেন, 'ইবনে আবী হুসাইন জুবায়ের বিন মুত্বইমকে পান নি' (আল-বাহুরুয যাখখার হা/৩৪৪৪; উপরন্তু দেখুন: নাছবুর রায়াহ ৩/৬১; আত-তামহীদ, নতুন নুসখা ১৫/২৮৩)।
(২) আব্দুর রহমান বিন আবী হুসাইন-এর তাওছীক্ব ইবনে হিব্বান (কিতাবুছ ছিক্বাত ৫/১০৯) ব্যতীত আর কারো হতে নেই। সুতরাং ইনি 'মাজহুলুল হাল'।
বর্ণনা-৩ : ত্বাবারানী (আল-মুজামুল কাবীর হা/১৫৮৩), বায্যার (আল-বাহরুয যাখখার হা/৩৪৪৩), বায়হাক্বী (আস-সুনানুল কুবরা ৫/২৩৯, ৯/২৯২) এবং দারাকুনী (আস-সুনান হা/৪৭১১) ইত্যাদি গ্রন্থে 'সুয়াইদ বিন আব্দুল আযীয সাঈদ বিন আব্দুল আযীয আত- তানুখী হতে, তিনি সুলায়মান বিন মূসা হতে, তিনি নাফে বিন জুবায়ের বিন মুত্বইম হতে, তিনি তার পিতা হতে' সনদে মারফু হিসাবে বর্ণনা করেছেন যে, 'আইয়ামে তাশরীক্ব-এর সকল দিনেই যবাই করা যায়'।
এই বর্ণনার বুনিয়াদী রাবী সুয়াইদ বিন আব্দুল আযীয যঈফ (তাক্বরীবুত তাহযীব ক্রমিক ২৬৯২)।
হাফেয হায়ছামী বলেছেন, 'আর তাকে জমহুর ইমামগণ যঈফ বলেছেন' (মাজমাউয যাওয়ায়েদ ৩/১৪৭)।
বর্ণনা-৪: একটি রেওয়ায়াতে এসেছে যে, 'সুলায়মান বিন মূসা হতে, আমর বিন দীনার তাকে হাদীছ বর্ণনা করেছেন জুবায়ের বিন মুত্বইম হতে যে, নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আইয়ামে তাশরীক্বের প্রতিটি দিনেই যবাই করার বিধান রয়েছে' (সুনানে দারাকুতনী হা/৪৭১৩; বায়হাক্বী, আস-সুনানুল কুবরা ৯/২৯৬)।
এই রেওয়ায়াতটি দুটি কারণে প্রত্যাখ্যাত।-
(১) এর রাবী আহমাদ বিন ঈসা আল-খাশশাব অত্যন্ত সমালোচিত। দেখুন : লিসানুল মীযান (১/২৪০, ২৪১)।
(২) আমর বিন দীনারের সাথে জুবায়ের বিন মুত্বইম রাযিআল্লাহু আনহুর সাক্ষাৎ প্রমাণিত নেই। দেখুন : 'আল-মাওসূআতুল হাদীছিইয়া' (২৭/৩১৭)।
বিশেষ দ্রষ্টব্য : একটি বর্ণনার মধ্যে الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، عَنْ حَفْصِ بْنِ غَيْلَانَ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ مُوسَى، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْكَدِرِ، عَنْ جُبَيْرٍ بْنِ مُطْعِمٍ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «عَرَفَاتُ مَوْقِفٌ وَادْفَعُوا مِنْ عُرْنَةَ, وَالْمُزْدَلِفَةُ مَوْقِفٌ وَادْفَعُوا عَنْ مُحَسِّرٍ
'আল-ওয়ালীদ বিন মুসলিম হাফছ বিন গায়লান হতে, তিনি সুলায়মান বিন মূসা হতে, তিনি মুহাম্মাদ ইবনুল মুনকাদির হতে, তিনি জুবায়ের বিন মুত্বইম হতে'-এর সনদে এসেছে যে, আরাফাত হল অবস্থানস্থল ... (মুসনাদুশ শামিঈন হা/১৫৫৬; নাছবুর রায়াহ ৩/৬১ সংক্ষেপিত)।
এই রেওয়ায়াতটির সনদ ওয়ালীদ বিন মুসলিমের তাদলীসের কারণে যঈফ। আর এতে আইয়ামে তাশরীক্বের মধ্যে যবাই করারও উল্লেখ নেই।
তাহক্বীক্বের সারাংশ : আইয়ামে তাশরীক্বের দিনে যবাই সংক্রান্ত রেওয়ায়াতটি স্বীয় সকল সনদের সাথে যঈফ। সুতরাং একে ছহীহ বা হাসান আখ্যা দেয়া ভুল।
আছারে ছাহাবা : প্রশ্নকৃত বর্ণনাটির যঈফ হওয়ার পর আছারের ছাহাবার তাহক্বীক্ব নিম্নরূপ-
(১) সাইয়েদুনা আব্দুল্লাহ বিন ওমর রাযিআল্লাহু আনহু বলেছেন, 'কুরবানীর দিনের পর আরো দুদিন রয়েছে কুরবানী করার জন্য' (মুওয়াত্ত্বা ইমাম মালেক হা/১০৭১, সনদ ছহীহ; বায়হাক্বী, আস-সুনানুল কুবরা ৯/২৯৭)।
(২) সাইয়েদুনা আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস (রা) বলেছেন, 'কুরবানীর দিনের পরে আরো দুদিন রয়েছে। আর নহরের দিনে (প্রথমদিনে) কুরবানী করা সর্বাধিক উত্তম' (ত্বাহাবী, আহকামুল কুরআন হা/১৫৭১, ২/২০৫, সনদ হাসান)।
(৩) সাইয়েদুনা আনাস বিন মালেক রাযিআল্লাহু আনহু বলেছেন, 'কুরবানীর জন্য দিন হল তিন দিন' (তাবাহী, আহকামুল কুরআন হা/১৫৭৬, হাদীছটি ছহীহ)।
(৪) সাইয়েদুনা আলী রাযিআল্লাহু আনহু বলেছেন, 'নহর তথা কুরবানী হচ্ছে তিনদিন' (তাহাবী, আহকামুল কুরআন হা/৫৬৯, এটা হাসান হাদীছ)।
সতর্কীকরণ : 'আহকামুল কুরআন' গ্রন্থে 'হাম্মাদ বিন সালামাহ বিন কুহাইল হতে, তিনি হাজ্জাতিহ হতে, তিনি আলী হতে' -রয়েছে। অথচ ছহীহ হল 'হাম্মাদ সালামা বিন কুহাইল হতে, তিনি হুজাইয়া হতে, তিনি আলী হতে' সনদটি। যেমনটি আসমাউর রিজালের গ্রন্থসমূহে প্রকাশিত আছে। আর হাম্মাদ দ্বারা উদ্দেশ্য হল হাম্মাদ বিন সালামাহ। আল-হামদুলিল্লাহ।
এর মোকাবেলায় কতিপয় আছার নিম্নরূপ-
(১) 'হাসান বছরী' বলেছেন, 'ঈদুল আযহার পরে তিনদিন রয়েছে কুরবানীর জন্য (ত্বাহাবী, আহকামুল কুরআন হা/১৫৭৭, ২/২০৬, এর সনদটি ছহীহ; বায়হাক্বী, আস-সুনানুল কুবরা ৯/২৯, এর সনদ ছহীহ)।
(২) আত্বা (বিন আবী রাবাহ) বলেছেন, 'আইয়ামে তাশরীক্বের শেষ দিন পর্যন্ত (কুরবানীর সুযোগ রয়েছে)' (তাহাবী, আহকামুল কুরআন হা/১৫৭৮, সনদ হাসান; বায়হাকী, আস-সুনানুল কুবরা ৯/২৯৬, সনদ হাসান)।
(৩) ওমর বিন আব্দুল আযীয বলেছেন, 'ঈদের দিন এবং এরপরের তিনদিন হল কুরবানীর (জন্য) (বায়হাক্বী, আস-সুনানুল কুবরা ৯/২৮, সনদ হাসান)।
ইমাম শাফেঈ এবং সাধারণ আহলে হাদীছ আলেমদের এই ফৎওয়া রয়েছে যে, কুরবানী হল চার দিন। কতিপয় আলেম এই প্রসঙ্গে সাইয়েদুনা জুবায়ের বিন মুত্বইম রাযিআল্লাহু আনহুর প্রতি সম্বন্ধিত বর্ণনাটি দ্বারাও দলীল গ্রহণ করেন। কিন্তু এই সনদটি যঈফ। যেমনটি পূর্বোক্ত পৃষ্ঠাগুলিতে বিস্তারিতভাবে প্রমাণ করা হয়েছে।
(৪) সাইয়েদুনা আবূ উমামাহ বিন সাহল বিন হানীফ রাযিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণনা আছে যে, 'মুসলমান স্বীয় কুরবানীর পশুসমূহ ক্রয় করতেন। অতঃপর সেগুলিকে (খাওয়ায়ে) মোটা করতেন। অতঃপর ঈদুল আযহার শেষ যুল হিজ্জাহ পর্যন্ত যবাই করতেন (বায়হাক্বী, আস- সুনানুল কুবরা ৯/২৯৭, সনদ ছহীহ)!!
এই সকল আছারগুলির মধ্যে সাইয়েদুনা আলী রাযিআল্লাহু আনহু ইত্যাদির প্রণিধানযোগ্য উক্তি হল যে, কুরবানী হল তিন দিন। অর্থাৎ ঈদুল আযহা এবং তারপরের দুদিন।
ইবনে হাযম 'ইবনে আবী শায়বাহ' হতে বর্ণনা করেছেন যে, আমাদেরকে যায়েদ বিন হুবাব সংবাদ প্রদান করেছেন মুআবিয়া বিন ছালেহ হতে। (তিনি বলেছেন) আমাকে আবূ মারইয়াম হাদীছ বর্ণনা করেছেন। (তিনি বলেছেন) আমি শুনেছি যে, আবূ হুরায়রাহ রাযিআল্লাহু আনহু বলেন, 'কুরবানী করার সময় হল তিন দিন' (আল-মুহাল্লা ৭/৩৭৭, মাসআলা নং ৯৮৩)।
এই বর্ণনাটির সনদ হাসান। কিন্তু মুছান্নাফ ইবনে আবী শায়বাহ (মুদ্রিত) গ্রন্থে এই রেওয়ায়াতটি পাইনি। আল্লাহ্ই অধিক জ্ঞাত।
ফায়েদাহ : নবী করীম ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সূচনাতে তিন দিন-এর অধিক গোশত রাখতে নিষেধ করেছিলেন। পরে এই হুকুমটি রহিত হয়ে গিয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞাটি এরই দলীল যে, কুরবানীর তিন দিন সংক্রান্ত উক্তিটিই অগ্রগণ্য। এই সকল তাহক্বীক্বের সারাংশ এই যে, নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে স্পষ্টভাবে এই প্রসঙ্গে কিছুই প্রমাণিত নেই। আর আছারসমূহের মধ্যে ইখতিলাফ আছে। কিন্তু সাইয়েদুনা আলী রাযিআল্লাহু আনহু এবং জমহুর ছাহাবাদের বক্তব্য এই যে, কুরবানী তিন দিন যাবত করা যায় (ঈদুল আযহা এবং তারপরের দুদিন)। আমাদের তাহক্বীক্ব-এ এটাই প্রণিধানযোগ্য। আর ইমাম মালেক এবং অন্যরা একেই অগ্রাধিকার দিয়েছেন। আল্লাহ্ই অধিক জ্ঞাত।
(২/৫/২০০৭ ইং; আল-হাদীছ: ৪৪)
📄 মহিষের কুরবানীর হুকুম
প্রশ্ন : মহিষ কুরবানী করা কি জায়েয? (একজন প্রশ্নকর্তা)
জবাব : উট, গরু, ভেড়া, বকরীর কুরবানী কিতাব ও সুন্নাত দ্বারা প্রমাণিত। এবং এটি একেবারেই ছহীহ যে, মহিষ গরুর শ্রেণীভুক্ত জাত। এর উপর ইসলামের ইমামদের ইজমা আছে।
ইমাম ইবনুল মুনযির (মৃ. ৩১৮ হি.) বলেছেন, 'এই বিষয়টির উপর তারা ইজমা করেছেন যে, মহিষের বিধানে গরুর বিধানের মতই' (আল-ইজমা, কিতাবুয যাকাত পৃ. ৪৩, উদ্ধৃতি নং ৯১)।
ইবনু কুদামা (মৃ. ৬২০ হি.) লিখেছেন, 'এই মাসআলায় আমাদের জানামতে কোন ইখতিলাফ নেই' (আল-মুগনী ২/২৪০, মাসআলা নং ১৭১১)।
যাকাতের প্রসঙ্গে এই মাসআলার উপর ইজমা আছে যে, মহিষ গরুর জাতভূক্ত। আর এটি এই কথাটির দলীল যে, মহিষ গরুর অন্যতম একটি শ্রেণী। তদুপরি রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বা ছাহাবা কেরাম রাযিআল্লাহু আনহু হতে স্পষ্টভাবে মহিষের কুরবানীর কোন প্রমাণ নেই। সেজন্য মহিষের কুরবানী না করাই উত্তম। বরং স্রেফ উট, গরু, ভেড়া এবং বকরীর-ই কুরবানী করা। আর এর মধ্যেই সতর্কতা রয়েছে। আল্লাহই অধিক জ্ঞাত।
(শাহাদাত মার্চ ২০০১ ইং)
মৃতর পক্ষ হতে কুরবানী করার হুকুম
প্রশ্ন : মাতা-পিতা বা মৃত ব্যক্তির নামে কুরবানী করা যাবে কি? প্রসিদ্ধ রয়েছে যে, নবী (ছা) একটি কুরবানী নিজের পক্ষ হতে এবং আরেকটি নিজের উম্মতের পক্ষ হতে দিতেন? (যাফল আলম, লাহোর)।
জবাব : এই প্রসঙ্গে লেখকের তাহক্বীক্ব মাসিক শাহাদাতে প্রকাশিত হয়েছে। সংক্ষিপ্তভাবে আরয রইল যে, মৃতর পক্ষ হতে কুরবানীর জায়েযের বর্ণনাগুলি যঈফ। তা সত্বেও ছদক্বা করার শর্তবিহীন দলীলসমূহের আলোকে মৃতর পক্ষ হতে কুরবানী করা জায়েয আছে। এমন কুরবানীর সকল গোশত ছদক্বা করতে হবে। শায়খুল ইসলাম আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক আল-মারওয়াযী রহিমাহুল্লাহ বলেছেন, আমার নিকটে পছন্দনীয় ব্যাপার এই যে, মৃতর পক্ষ হতে ছদকা করা যাবে। তবে কুরবানী করা যাবে না। তবে কেউ যদি কুরবানী করে তাহলে সে সেই কুরবানীর গোশত হতে কিছু খাবে না। বরং সম্পূর্ণ মাংস ছদকা করে দিবে (সুনানে তিরমিযী হা/১৪৯৫)।
[শাহাদাত আগস্ট ২০০১ ইং]
প্রশ্ন : মৃতর পক্ষ হতে কুরবানীর ক্ষেত্রে শারঈ বিধান কি? (তানবীর সালাফী, জেলা: এ্যাবোটাবাদ)।
জবাব : মৃতর পক্ষ হতে কুরবানীর বৈধতার বর্ণনাটি আবুল হাসনা নামক বর্ণনাকারীর অজ্ঞাত পরিচয় থাকার কারণে যঈফ। যেমনটি লেখকের তাহক্বীক্ব মাসিক শাহাদাত-এ প্রকাশিত হয়েছে। সংক্ষিপ্তভাবে আরয রইল যে, মৃতর পক্ষ হতে কুরবানীর জায়েযের বর্ণনাগুলি যঈফ।
তা সত্বেও ছদক্বা করার শর্তবিহীন দলীলসমূহের আলোকে মৃতর পক্ষ হতে কুরবানী করা জায়েয। এমন কুরবানীর সকল গোশত ছদক্বা করতে হবে। শায়খুল ইসলাম আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক আল-মারওয়াযী রহিমাহুল্লাহ বলেছেন, আমার নিকটে পছন্দনীয় ব্যাপার এই যে, মৃতর পক্ষ হতে ছদকা করা যাবে। তবে কুরবানী করা যাবে না। তবে কেউ যদি কুরবানী করে তাহলে সে সেই কুরবানীর গোশত হতে কিছু খাবে না। বরং সম্পূর্ণ মাংস ছদকা করে দিবে (সুনানে তিরমিযী হা/১৪৯৫)।
কুরবানীতে অংশীদারদের জন্য আক্বীদা ছহীহ হওয়ার শর্ত
প্রশ্ন : গরু এবং উটের কুরবানীতে অংশীদারদের সবার আকীদা তাওহীদ ভিত্তিক হওয়া যরূরী নাকি অন্যান্য ফেরকার (ব্রেলভী ও দেওবন্দীদের) সাথে মিলে মিশে কুরবানী করা যাবে? (যাফর আলম, লাহোর)।
জবাব : যদি কুরবানী দাতা ছহীহুল আক্বীদা সম্পন্ন হয়ে থাকেন তবে সাতটি অংশের মধ্য হতে যেই অংশের মালিক ছহীহ আক্বীদা সম্পন্ন, তবে সেই অংশটি ছহীহ এবং গ্রহণীয়। আর যদি অংশীদারদের মধ্যে হতে কোন বিদআতী আক্বীদাসম্পন্ন যেমন দেওবন্দী, ব্রেলভীরাও শরীক হয়ে যান তাহলেও অবশিষ্ট অংশীদারদের কুরবানী হয়ে যাবে। তা সত্বেও উত্তম এই যে, প্রতিটি অংশীদারই ছহীহ আক্বীদা মুসলমানদের মধ্য হতেই তালাশ করতে হবে। সূরা মুদাদ্দিছছিরের ৩৮ নং আয়াতের সার্বজনীন মর্ম এটাই যে, ছহীহ আকীদা সম্পন্ন ব্যক্তির কুরবানী গ্রহণযোগ্য এবং বদ আকীদাধারীর কুরবানী প্রত্যাখ্যাত হবে।
ফিক্বহে হানাফীর একটি মাসআলা আছে যে, অংশীদারদের মধ্যে হতে একজনও খৃস্টান অথবা এমন ব্যক্তি যার উদ্দেশ্য স্রেফ গোশত খাওয়া- শরীক হয়ে যায় তাহলে প্রত্যেক অংশীদারেরই কুরবানী বাতিল হয়ে যায়। দেখুন: আল-হিদায়াহ (২/৪৪৯)।
পক্ষান্তরে শাফেঈগণ এই মতের বিরোধী। দেখুন: আল-ফিকহুল ইসলামী ওয়া আদিল্লাতুহ (৩/৬০৫)। হানাফীদের এই অভিমতটি দলীলবিহীন।
(শাহাদত আগস্ট ২০০১ ইং)
📄 মৃতর পক্ষ হতে কুরবানী করার হুকুম
প্রশ্ন : মাতা-পিতা বা মৃত ব্যক্তির নামে কুরবানী করা যাবে কি? প্রসিদ্ধ রয়েছে যে, নবী (ছা) একটি কুরবানী নিজের পক্ষ হতে এবং আরেকটি নিজের উম্মতের পক্ষ হতে দিতেন? (যাফল আলম, লাহোর)।
জবাব : এই প্রসঙ্গে লেখকের তাহক্বীক্ব মাসিক শাহাদাতে প্রকাশিত হয়েছে। সংক্ষিপ্তভাবে আরয রইল যে, মৃতর পক্ষ হতে কুরবানীর জায়েযের বর্ণনাগুলি যঈফ। তা সত্বেও ছদক্বা করার শর্তবিহীন দলীলসমূহের আলোকে মৃতর পক্ষ হতে কুরবানী করা জায়েয আছে। এমন কুরবানীর সকল গোশত ছদক্বা করতে হবে। শায়খুল ইসলাম আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক আল-মারওয়াযী রহিমাহুল্লাহ বলেছেন, আমার নিকটে পছন্দনীয় ব্যাপার এই যে, মৃতর পক্ষ হতে ছদকা করা যাবে। তবে কুরবানী করা যাবে না। তবে কেউ যদি কুরবানী করে তাহলে সে সেই কুরবানীর গোশত হতে কিছু খাবে না। বরং সম্পূর্ণ মাংস ছদকা করে দিবে (সুনানে তিরমিযী হা/১৪৯৫)।
[শাহাদাত আগস্ট ২০০১ ইং]
প্রশ্ন : মৃতর পক্ষ হতে কুরবানীর ক্ষেত্রে শারঈ বিধান কি? (তানবীর সালাফী, জেলা: এ্যাবোটাবাদ)।
জবাব : মৃতর পক্ষ হতে কুরবানীর বৈধতার বর্ণনাটি আবুল হাসনা নামক বর্ণনাকারীর অজ্ঞাত পরিচয় থাকার কারণে যঈফ। যেমনটি লেখকের তাহক্বীক্ব মাসিক শাহাদাত-এ প্রকাশিত হয়েছে। সংক্ষিপ্তভাবে আরয রইল যে, মৃতর পক্ষ হতে কুরবানীর জায়েযের বর্ণনাগুলি যঈফ।
তা সত্বেও ছদক্বা করার শর্তবিহীন দলীলসমূহের আলোকে মৃতর পক্ষ হতে কুরবানী করা জায়েয। এমন কুরবানীর সকল গোশত ছদক্বা করতে হবে। শায়খুল ইসলাম আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক আল-মারওয়াযী রহিমাহুল্লাহ বলেছেন, আমার নিকটে পছন্দনীয় ব্যাপার এই যে, মৃতর পক্ষ হতে ছদকা করা যাবে। তবে কুরবানী করা যাবে না। তবে কেউ যদি কুরবানী করে তাহলে সে সেই কুরবানীর গোশত হতে কিছু খাবে না। বরং সম্পূর্ণ মাংস ছদকা করে দিবে (সুনানে তিরমিযী হা/১৪৯৫)।
📄 কুরবানীতে অংশীদারদের জন্য আক্বীদা ছহীহ হওয়ার শর্ত
প্রশ্ন : গরু এবং উটের কুরবানীতে অংশীদারদের সবার আকীদা তাওহীদ ভিত্তিক হওয়া যরূরী নাকি অন্যান্য ফেরকার (ব্রেলভী ও দেওবন্দীদের) সাথে মিলে মিশে কুরবানী করা যাবে? (যাফর আলম, লাহোর)।
জবাব : যদি কুরবানী দাতা ছহীহুল আক্বীদা সম্পন্ন হয়ে থাকেন তবে সাতটি অংশের মধ্য হতে যেই অংশের মালিক ছহীহ আক্বীদা সম্পন্ন, তবে সেই অংশটি ছহীহ এবং গ্রহণীয়। আর যদি অংশীদারদের মধ্যে হতে কোন বিদআতী আক্বীদাসম্পন্ন যেমন দেওবন্দী, ব্রেলভীরাও শরীক হয়ে যান তাহলেও অবশিষ্ট অংশীদারদের কুরবানী হয়ে যাবে। তা সত্বেও উত্তম এই যে, প্রতিটি অংশীদারই ছহীহ আক্বীদা মুসলমানদের মধ্য হতেই তালাশ করতে হবে। সূরা মুদাদ্দিছছিরের ৩৮ নং আয়াতের সার্বজনীন মর্ম এটাই যে, ছহীহ আকীদা সম্পন্ন ব্যক্তির কুরবানী গ্রহণযোগ্য এবং বদ আকীদাধারীর কুরবানী প্রত্যাখ্যাত হবে।
ফিক্বহে হানাফীর একটি মাসআলা আছে যে, অংশীদারদের মধ্যে হতে একজনও খৃস্টান অথবা এমন ব্যক্তি যার উদ্দেশ্য স্রেফ গোশত খাওয়া- শরীক হয়ে যায় তাহলে প্রত্যেক অংশীদারেরই কুরবানী বাতিল হয়ে যায়। দেখুন: আল-হিদায়াহ (২/৪৪৯)।
পক্ষান্তরে শাফেঈগণ এই মতের বিরোধী। দেখুন: আল-ফিকহুল ইসলামী ওয়া আদিল্লাতুহ (৩/৬০৫)। হানাফীদের এই অভিমতটি দলীলবিহীন।
(শাহাদত আগস্ট ২০০১ ইং)