📘 কুফর ও তাকফির > 📄 জাহিলিয়াত সম্পর্কে জানার প্রয়োজনীয়তা

📄 জাহিলিয়াত সম্পর্কে জানার প্রয়োজনীয়তা


জাহিলিয়াতে লিপ্ত হওয়ার উদ্দেশ্যে আমরা জাহিলিয়াত সম্পর্কে জানব না; বরং আমরা সে সম্পর্কে জানব তার কৌশলী আঘাত ও হিংস্র থাবা থেকে বেঁচে থাকার জন্য। কবি আবু ফিরাস আল হামদানি বলেন,
عَرَفْتُ الشَّر لا للشر ولكن لتوفيه ... ومن لا يعرف الشر يقع فيه আমি অনিষ্ট চিনেছি অনিষ্টের জন্য নয়; বরং তা থেকে বাঁচার জন্য। যে অনিষ্ট চেনে না, সে তো তাতে পতিত হয়েই যায়।
রাসুল বলেন,
أَبْغَضُ النَّاسِ إِلَى اللهِ ثَلَاثَةٌ : مُلْحِدُ فِي الْحَرَمِ، وَمُبْتَغِ فِي الْإِسْلَامِ سُنَّةَ الْجَاهِلِيَّةِ، وَمُطَّلِبُ دَمِ امْرِئٍ بِغَيْرِ حَقٌّ لِيُهَرِيقَ دَمَهُ
আল্লাহর কাছে সবচেয়ে ঘৃণিত ব্যক্তি হচ্ছে তিন জন : যে ব্যক্তি পবিত্র হারাম এলাকায় অন্যায় ও অপকর্মে লিপ্ত হয়। যে ব্যক্তি ইসলামি যুগে জাহিলিয়াতের প্রথা তালাশ করে। যে ব্যক্তি যথার্থ কারণ ব্যতীত কারও রক্তপাত দাবি করে।
এ হাদিস থেকে প্রতিভাত হচ্ছে, যে-কেউ ইসলামে থেকে জাহিলিয়াতের রীতি- নীতি ও আদর্শ-বিশ্বাস অনুসন্ধান করবে, সে হবে আল্লাহর কাছে সবচেয়ে ঘৃণিত মানুষদের অন্যতম। জাহিলিয়াতের প্রথা অনুসন্ধান করাই যদি এত বড় অপরাধ হয়, তবে সরাসরি জাহিলিয়াতে লিপ্ত হওয়া এবং তার প্রচার-প্রসারে সচেষ্ট হওয়া কত বড় জঘন্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে!
আমরা এমন এক সময়ে বাস করছি, যখন জাহিলিয়াতের রোমশ বাহু ও নৃশংস নখরের আওতায় এসে পড়েছে সবকিছু। এ যুগে জাহিলিয়াতের থাবা একটু বেশি হিংস্র আর সারাক্ষণ উদ্যত, যেখানে জাহিলিয়াতের উৎপীড়নে মুসলিমমাত্রই দুচোখ বেয়ে অহর্নিশ বইতে থাকে নোনা অশ্রুর ধারা। যেখানে জাহিলিয়াতের নির্দেশে কোনো সন্ধ্যায় বা শেষ রাতে মুসলিমদের শহরগুলো বন্দি হয়ে পড়ে সামরিক আইন অথবা জরুরি অবস্থার শেকলে। জাহিলিয়াতের নির্দেশে প্রকাশ্যে হরণ করা হয় মুসলিমদের সব অধিকার। সান্ধ্য আইনের কবলে পড়ে রৌদ্রের দিন রূপান্তরিত হয় নিষিদ্ধ নিশীথে। বর্তমান পৃথিবীতে চিহ্নিত অপরাধীরা অবাধ স্বাধীন; আর সকল তাওহিদবাদীর বুকের দিকে উদ্যত আগ্নেয়াস্ত্র। এখানে প্রতিটি ব্যক্তি প্রতিমুহূর্তে আক্রান্ত হয় জাহিলিয়াতের আঘাতে। এমন পৃথিবীতে এমন সময়ে বাস করছি আমরা, যেখানে কুরআনের শিক্ষা জীবনে বাস্তবায়নকে বিবেচনা করা হয় সবচেয়ে অমার্জনীয় অপরাধ বলে। যেখানে তাওহিদের বাণী উঁচু করাকে মনে করা হয় প্রকৃত জঙ্গিবাদ এবং সবচেয়ে জঘন্য সন্ত্রাস ও দুর্বৃত্তি হিসেবে।
ইসলামের সম্পূর্ণ বিপরীত হলো জাহিলিয়াত। ইসলাম পৃথিবীতে আলো বিকিরণ করেছে জাহিলিয়াতের ঘোর অন্ধকার তাড়াতে। যার কারণে জাহিলিয়াতের মোকাবিলা করতে হবে একমাত্র ইসলাম, তাওহিদ ও কুরআন-সুন্নাহ দ্বারা। বর্তমানে এমন মানুষও দেখা যায়, যারা জাহিলিয়াত দিয়ে জাহিলিয়াতের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চায়; অথচ জাহিলিয়াতের প্রতিদ্বন্দ্বিতার একমাত্র কার্যকারী উপায় হলো, তাওহিদের শক্তিকে আগ্নেয়াস্ত্রে পরিণত করা। প্রয়োজন এমন তাওহিদ, যা দুর্জয়, অক্ষয় ও অব্যয়-যা শয়তানকে হারাতে পারে, নফসকে পরাজিত করতে পারে এবং জাহিলিয়াতের দর্পকে চূর্ণ করে দিতে পারে। যা জাহিলি সমাজব্যবস্থার সঙ্গে লড়াই করতে পারে, যা বোমার মতো বিস্ফোরিত হয়ে খোদাদ্রোহিতার প্রাসাদ গুঁড়িয়ে দিতে পারে। যা স্টেনগানের মতো ভয়াবহ আওয়াজে গর্জে উঠে বাতিলের বুক ঝাঁঝরা করে দিতে পারে, আগুনের লকলকে জিহ্বার মতো ফুঁসে উঠে জাহিলিয়াতের ধ্বজাধারীদের কাল্পনিক আস্তানায় আগুন লাগিয়ে দিতে পারে- যেখান থেকে হররোজ ছুটে আসে পৈশাচিক গগনবিদারী হাসির হররা।
এসব কথা তো তার জন্য, যে জাহিলিয়াত চেনে। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি জাহিলিয়াত চেনে না, তার দ্বারা ইসলামের ক্ষতি বই কিছু আশা করা যায় না। আমিরুল মুমিনিন উমর ইবনুল খাত্তাব রা. বলেন,
إِنَّمَا تُنْقَضُ عُرَى الْإِسْلَامِ عُرْوَةً عُرْوَةً إِذَا نَشَأَ فِي الْإِسْلَامِ مَنْ لَا يَعْرِفُ الْجَاهِلِيَّةَ
'নিশ্চয়ই ইসলামের হাতলগুলো এক-এক করে ভেঙে যাবে, যখন ইসলামে এমন প্রজন্ম গড়ে উঠবে, যারা জাহিলিয়াত চেনে না।'

টিকাঃ
* সহিহ বুখারি: ৬৮৮২।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00