📄 সকলে অসীয়তনামা লিখিলেন
হাদীস নং ১৪৭ - আতা ইবনে কুররাহ আসসালুলী হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা আবু মাহযূরার সহিত বসা ছিলাম। ইতিমধ্যে তিনি আমাদের জন্য আঙুর নিয়া আসিলেন এবং তাহা সামনে রাখিলেন, অতঃপর একটি কাগজ ও দোয়াত চাইলেন এবং তাহার ওসীয়তনামা লিখিলেন। যখন আবু কারব ইহা দেখিলেন, তিনিও তাহার অসীয়তনামা লিখিলেন। অতঃপর মুক্বাতিল আননাবাতী উঠিলেন এবং তাহার অসীয়তনামা লিখিলেন। অতঃপর আম্মার বিন আবী আইয়ূব উঠিলেন এবং তাহার অসীয়তনামা লিখিলেন। অতঃপর আমরা রুহান নামক স্থানে শত্রুর মুখোমুখী হইলাম। সেই পাঁচজনের প্রত্যেকেই নিহত হইলেন। বর্ণনাকারী বলেন, আমরা আমাদের অসীয়তনামা লিখি নাই ফলে আমরা নিহত হই নাই।
📄 তোমাদের পরিচয় কী?
হাদীস নং ১৪৮ - ইবনে আবী যাকারিয়া হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমাদের এক ভাই বর্ণনা করিয়াছেন যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিরাজের রাত পর্যন্ত হুরে ঈন সচক্ষে দেখেন নাই, যখন ঊর্ধ্ব লোকে আরোহনের সেই রাত হইল তখন তিনি মসজিদের (বাইতুল মুকাদ্দাস) বারান্দায় হাটিতেছিলেন। ইত্যবসরে জিবরাঈল তাহার সহিত সাক্ষাত করিলেন এবং বলিলেন আপনি কি হুরে ঈন দেখিতে ইচ্ছুক? তিনি বলিলেন হ্যাঁ। জিবরাঈল বলিলেন তাহা হইলে আপনি প্রস্তরখণ্ডের নিকটবর্তী সুফফায় (আঙ্গিনায়) আসুন। তিনি সেখানে গিয়া দেখিলেন, কিছু রমণী বসিয়া আছেন। তিনি তাহাদিগকে সালাম দিলেন। তাহারা সালামের জবাবে বলিলঃ আপনার উপরও শান্তি, রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক! তিনি বলিলেন, আল্লাহ তোমাদিগকে রহম করুন! তোমরা কাহারা? তাহারা বলিল, রূপবতী কল্যাণময়ী, সৎকর্মপরায়ণ লোকদের স্ত্রী, যাহারা মৃত্যুবরণ করিয়াছে কিন্তু বার্ধক্যে উপনীত হয় নাই, যাহারা যুবক হইয়াছে, বৃদ্ধ হয় নাই, যাহারা অনাবিল, আবিল যুক্ত হয় নাই।
📄 অপূর্ব ও অনিন্দ্য সুন্দরীর দর্শন লাভ
হাদীস নং ১৪৯ - সাবেত আল বুনানী হইতে বর্ণিত যে এক যুবক দীর্ঘদিন পর্যন্ত অভিযানে অতিবাহিত করিল এবং শাহাদাতের পিছু ধাওয়া করিল কিন্তু শাহাদাত তাহার নসীব হইল না। তখন সে ভাবিল, খোদার কসম আমার মনে হয় স্ত্রীর নিকটে ফিরিয়া গিয়া তাহার সহিত মিলিত হওয়াই উত্তম হইবে। অতঃপর সে তাবুর মধ্যে কাইলুলার জন্য শুইয়া পড়িল। তাহার সঙ্গীগণ যোহরের নামাযের জন্য তাহাকে জাগাইলে সে এমনভাবে কাঁদিয়া উঠিল যে তাহার সঙ্গীগণ তাহার অকল্যাণ ভয়ে ভীত হইয়া পড়িল। সে ইহা বুঝিতে পারিয়া বলিল, না আমার কিছু হয় নাই তবে আমি স্বপ্নে দেখিতেছিলাম যে, একজন আগন্তুক আসিয়া আমাকে বলিল, তুমি তোমার আইনা স্ত্রীর নিকটে চল।
আমি তাহার সহিত চলিলাম, সে আমাকে নিয়া একটি শুভ্র পরিচ্ছন্ন ভূমিতে চলিতে লাগিল। কিছুক্ষণ পর আমরা একটি বাগানে উপস্থিত হইলাম যাহার চেয়ে মনোরম বাগান আমি ইতিপূর্বে কখনো দেখি নাই। সেখানে আমরা দশজন তরুণীকে দেখিতে পাইলাম যাহাদের চেয়ে রূপবতী বা তাহাদের মত রূপবতী তরুণী আমি কখনো দেখি নাই। আমি কামনা করিলাম, সে ইহাদেরই একজন হোক! আমি জিজ্ঞাসা করিলাম, তোমাদের মধ্যে কি আইনা আছে? তাহারা বলিল, তিনি সামনে রহিয়াছেন, আমরা তাহার দাসী মাত্র। আমি আমার সঙ্গীর সহিত চলিলাম হঠাৎ আরেকটি বাগান দেখিতে পাইলাম যাহার সৌন্দর্য পূর্বের বাগানের দ্বিগুণ। সেখানে বিশজন তরুণী রহিয়াছে তাহাদের রূপ সৌন্দর্যও পূর্ববর্তী তরুণীদের তুলনায় দ্বিগুণ। আমি আশা করিলাম সে ইহাদেরই একজন হইবে। আমি জিজ্ঞাসা করিলাম, তোমাদের মধ্যে কি আইনা আছে? তাহারা বলিল, তিনি সামনে রহিয়াছেন, আমরা তাহার দাসী মাত্র।
অতঃপর তিনি ত্রিশজন তরুণীর কথা বলিলেন। অতঃপর বলিলেন, এর পর আমরা একটি গম্বুজের নিকটে পৌঁছলাম যাহা একটি মাত্র লাল রংয়ের ইয়াকুত পাথরে নির্মিত। উহার ঔজ্জ্বল্যে চারপাশ ঝলমল করিতেছে। আমার সঙ্গী আমাকে বলিলঃ প্রবেশ করুন। আমি প্রবেশ করিলাম। সেখানে এমন একজন রমণীকে দেখিলাম যাহার রূপের ছটায় গম্বুজের ঔজ্জ্বল্য ম্লান হইয়া গিয়াছে। আমি বসিলাম এবং কিছুসময় তাহার সহিত কথাবার্তা বলিলাম, তিনিও আমার সহিত কথাবার্তা বলিলেন। এমতাবস্থায় আমার সঙ্গী বলিলেন, বাহির হইয়া আসুন এবং চলুন। আমার পক্ষে তাহার অবাধ্যতা করা সম্ভব ছিল না। আমি উঠিয়া দাঁড়াইলাম, তিনি আমার চাদরের প্রান্ত ধরিলেন এবং বলিলেন, আজ রাত্রে আমাদের নিকটে ইফতার করিবেন। যখন তোমরা আমাকে ঘুম হইতে জাগাইলে তখন আমি বুঝিতে পারিলাম যে, ইহা স্বপ্ন ছিল, ফলে আমি কাঁদিয়া ফেলিয়াছি। ইতিমধ্যেই অভিযানের আহ্বান আসিল। লোকেরা আরোহণ করিল এবং দুশমনের সৈন্য বাহিনীর সহিত আক্রমণ পাল্টা আক্রমণ চলিতে লাগিল। এইভাবে যখন সূর্য অস্তমিত হইল এবং ইফতারের সময় হইল তিনি যখমী হইলেন। তিনি ছিলেন রোযাদার।
📄 নিঃসন্দেহে আমি মুসলমান
হাদীস নং ১৫০- কাসেম ইবনে আব্দুর রহমান আবু আব্দুর রহমান আল মাসউদী হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা ফাদালাহ ইবনে উবাইদ এর সহিত রোমের ভূখণ্ডে অভিযানে বাহির হইলাম। আমরা চলিতেছি হঠাৎ ফাদালাহ দ্রুতগামী হইলেন। তিনি একটি খোলা জায়গায় থামিলেন। সেখানে একটি ছোট টিলা ছিল, তাহার উপরে দুর্গ প্রাচীর এবং উহার বেষ্টনীর মধ্যে একটি দুর্গ ছিল। বর্ণনাকারী বলেনঃ আমাদের মধ্যে কেহ দণ্ডায়মান, কেহ বাহন হইত নামিতেছেন, ইত্যবসরে ফাদালাহ একজন বড় গোঁফ বিশিষ্ট লাল রংয়ের মানুষ লইয়া হাজির হইলেন। আমরা বলিলাম, এই ব্যক্তি কোন অঙ্গীকার বা চুক্তি ছাড়াই দুর্গ হইতে নামিয়া আসিয়াছে।
তখন তিনি তাহার বক্তব্য জিজ্ঞাসা করিলেন, সে বলিল, আমি গত রাতে শুকরের গোশত খাইয়াছি, মদ পান করিয়াছি এবং স্ত্রীর সহিত মিলিত হইয়াছি। যখন ঘুমাইয়া পড়িয়াছি তখন স্বপ্নে আমার নিকটে দুই ব্যক্তি আসিল, তাহারা আমার উদর ধুইয়া পরিষ্কার করিল এবং আমাকে দুইজন রমণীর সহিত বিবাহ করাইয়া দিল যাহারা একে অপরের প্রতি ঈর্ষান্বিত হয় না, এবং আমাকে বলিল ইসলাম গ্রহণ কর। অতঃপর নিঃসন্দেহে আমি মুসলমান। তাহার কথা শেষ হইতে না হইতে আমাদের প্রতি একটি .........¹ নিক্ষিপ্ত হইল এবং উহা আসিয়া সকল লোকের মধ্য হইতে নওমুসলিমটির ঘাড়ের উপরের অংশে বিদ্ধ হইল। তখন ফাদালাহ বলিয়া উঠিলেন আল্লাহ আকবার! সামান্য আমল করিয়াছে এবং বিরাট প্রতিদান পাইয়াছে। তোমরা তোমাদের ভাইয়ের জানাযার নামায আদায় কর। আমরা তাহার জানাযার নামায পড়িলাম অতঃপর তাহাকে আমাদের যাত্রা বিরতির স্থলেই দাফন করিলাম এবং সামনে অগ্রসর হইলাম।
টিকাঃ
১. মূল কিতাবে এ স্থলে অস্পষ্ট। অনুবাদক