📘 কিতাবুল ফারায়েজ > 📄 বৈপিত্রেয় ভাই ও বৈপিত্রেয় বোনের মীরাছ

📄 বৈপিত্রেয় ভাই ও বৈপিত্রেয় বোনের মীরাছ


বৈপিত্রেয় ভাইদের বিধান:
১. যেহেতু বৈপিত্রেয় ভাই তার (মৃতব্যক্তির) আত্মীয় (ভাই) হয়েছে নারীর (মাতার) মাধ্যমে, তাই সে তার ওয়ারিছ হবে এবং বৈপিত্রেয় ভাইয়েরা যেই মায়ের মাধ্যমে আত্মীয় হয়েছে, তার মীরাছের নির্ধারিত অংশকে আংশিক হ্রাস করবে (অর্থাৎ মাতা নির্ধারিত অংশের ভিত্তিতে সম্পদের যতটুকু ভাগ পাবেন, সেই ভাগের কিছু অংশ থেকে তিনি বঞ্চিত হবেন মৃতব্যক্তির এই বৈপিত্রেয় পুরুষ ভাইয়ের দ্বারা)।
২. বৈপিত্রেয় ভাইয়েরা তাদের বোনদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ নয় (অর্থাৎ মৃতব্যক্তির বৈপিত্রেয় ভাই হওয়ার মাসআলায়), আর বৈপিত্রেয় ভাইয়েরা তাদের বোনদেরকে আছাবা করতে পারে না, তাই তারা সকলে (ভাই ও বোন) সমান ভাগ পাবে।

বৈপিত্রেয় ভাইয়ের মীরাছের দুইটি অবস্থা:
১. বৈপিত্রেয় ভাই বা বোন এক ষষ্টাংশের ওয়ারিছ হবে তিনটি শর্তে:
(ক) মৃতব্যক্তির অধস্তন ওয়ারিছ (পুরুষ বা নারী) থাকতে পারবে না (যেমন- পুত্র বা কন্যা বা পুত্রের কন্যা বা পুত্রের পুত্র ইত্যাদি)
(খ) কোনো ঊর্ধ্বতন রক্তসম্পর্কীয় পুরুষ থাকতে পারবে না
(গ) উক্ত বৈপিত্রেয় ভাই বা বোনকে তার মাতার একমাত্র সন্তান হতে হবে (অর্থাৎ তার অন্য কোনো ভাই বা বোন থাকতে পারবে না)।

২. বৈপিত্রেয় ভাই বা বোনেরা এক তৃতীয়াংশের ওয়ারিছ হবে তিনটি শর্তে:
(ক) তাদের সংখ্যা দুই বা ততোধিক হতে হবে
(খ) মৃতব্যক্তির অধস্তন ওয়ারিছ (পুরুষ বা নারী) থাকতে পারবে না
(গ) কোনো ঊর্ধ্বতন রক্তসম্পর্কীয় পুরুষ থাকতে পারবে না।

আল্লাহ তা'আলা বলেন:
{وَإِنْ كَانَ رَجُلٌ يُورَثُ كَلَالَةً أَوِ امْرَأَةٌ وَلَهُ أَخٌ أَوْ أُخْتٌ فَلِكُلِّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا السُّدُسُ فَإِنْ كَانُوا أَكْثَرَ مِنْ ذَلِكَ فَهُمْ شُرَكَاءُ فِي الثُّلُثِ مِنْ بَعْدِ وَصِيَّةٍ يُوصَى بِهَا أَوْ دَيْنٍ غَيْرَ مُضَارٍ وَصِيَّةً مِنَ اللَّهِ وَاللَّهُ عَلِيمٌ حَلِيمٌ}
“আর যদি মৃত্যুবরণকারী পুরুষ বা মহিলা কালালাহ [৪] হয়, আর তার কোনো ভাই অথবা বোন থাকে, তাহলে তাদের প্রত্যেকে এক ষষ্ঠাংশ করে সম্পত্তির ভাগ পাবে। আর যদি তাদের সংখ্যা এর চেয়েও বেশি হয়, তাহলে তারা সকলে এক তৃতীয়াংশের যৌথ অংশীদার হবে। আর এই বণ্টনের কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে মৃতব্যক্তির অসিয়ত সম্পন্ন করার পরে (যদি সে কোনো অসিয়ত করে থাকে), অথবা ঋণ পরিশোধ করার পরে (যদি তার কোনো ঋণ থাকে) কারোর (অর্থাৎ ঋণদাতা, ওয়ারিছ ও যার ব্যাপারে অসিয়ত করা হয়েছে) ক্ষতি না করেই ন্যায়সম্মতভাবে এই কার্যক্রমগুলো সম্পন্ন করতে হবে, এই বিধান আল্লাহর বিধান, আল্লাহ মহাজ্ঞানী ও সর্বোচ্চ সহনশীল”। [আন-নিসা ৪:১২]

উদাহরণ:
১. কোনো ব্যক্তি একজন স্ত্রী, একজন বৈপিত্রেয় ভাই ও আপন চাচাত ভাই রেখে মৃত্যুবরণ করল, তাহলে সম্পত্তি ভাগ করতে হবে ১২ দ্বারা: স্ত্রী পাবে এক চতুর্থাংশ- যার পরিমাণ তিন, বৈপিত্রেয় ভাই পাবে এক ষষ্টাংশ আর অবশিষ্ট সম্পত্তি আপন চাচাত ভাই পাবে।
২. কোনো মহিলা একজন স্বামী, বৈপিত্রেয় দুইভাই ও আপন চাচাকে রেখে মৃত্যুবরণ করল, তাহলে সম্পত্তি ভাগ করতে হবে ৬ দ্বারা: স্বামী পাবে অর্ধাংশ- যার পরিমাণ তিন, বৈপিত্রেয় দুইভাই পাবে এক তৃতীয়াংশ আর অবশিষ্ট সম্পত্তি চাচা পাবে।
৩. কোনো ব্যক্তি মাতা, পিতা ও বৈপিত্রেয় দুইভাই রেখে মৃত্যুবরণ করল, তাহলে সম্পত্তি ভাগ করতে হবে ৬ দ্বারা: মাতা পাবে এক ষষ্টাংশ, অবশিষ্ট পাঁচভাগ সম্পত্তি পিতা পাবে আর বৈপিত্রেয় ভাইয়েরা বাদ পড়ে যাবে পিতা থাকার কারণে।

**টিকাঃ**
[৪] কালালাহ বলা হয় এমন মৃত ব্যক্তিকে, যার কোনো সম্পত্তির উত্তরসূরী পিতা-পুত্র নেই। এই মতটি উমার, আলী ও ইবনু মাস'ঊদ রদ্বিয়াল্লাহু আনহুম থেকে বর্ণিত। আবূ বকর ছিদ্দীক্ব রদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, পিতা-পুত্র ছাড়া অন্য সকলেই হলো কালালাহ। আহমাদ ইবনে হাম্বাল এই মতকেই গ্রহণ করেছেন। তবে আপন, বৈপিত্রেয় বা বৈমাত্রেয় যেকোনো ভাইয়ের ক্ষেত্রেই কালালাহ শব্দটির প্রয়োগ করা যাবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। যে সকল ছাহাবী ও তাবেঈ কালালাহ হওয়ার ক্ষেত্রে "পিতা-পুত্র না থাকাকে" শর্ত করেছেন, তারা হলেন: যায়েদ, ইবনু আব্বাস, জাবির ইবনু যায়েদ, হাসান বাছুরী, ক্বাতাদাহ, নাখা'ঈ রদ্বিয়াল্লাহু আনহুম এবং মদীনা, বাছুরা ও কুফার আলেমগণ। ইবনু আব্বাসরদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: কালালাহ ঐ ব্যক্তি, যার কোনো সন্তান নেই। এটা উমার রদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকেও বর্ণিত। [আল-মুগনী, ইবনু কুদামাহ]

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00