📄 প্রজারা রাজার মতোই হয়
খলিফা ওয়ালিদ বিন আব্দুল মালিক খিলাফতের অধিকাংশ সময় অবকাশতামো নির্মাণে ব্যস্ত ছিলেন। তিনি দামেস্কের মসজিদ, মসজিদে নববীসহ বহু মসজিদ নির্মাণ করেন। মানুষের পানির সুবিধার্তে তিনি বিভিন্ন জায়গায় কূপ নির্মাণ ও পানি প্রবাহিত করার ব্যবস্থা করেন। আল ওয়ালিদ নির্মাণ কাজে বেশি উৎসাহী হওয়ার কারণে তার প্রজারাও সেদিকে ঝুঁকে পড়ে। তার খিলাফতের সময় মানুষ একে অপরের সাথে সাক্ষাৎ হলে বলত, তোমার প্রাসাদ নির্মাণ কতটুকু বাকি আছে? বাগানের কি অবস্থা? আরো অন্যান্য নির্মাণ সম্পর্কে পরস্পরের সাক্ষাতে আলাপ করত।
পরবর্তী খলিফা সুলাইমান বিন মালিক ভোগ-বিলাসিতা, খেলাধুলা ও আরাম আয়েশে ব্যস্ত ছিল। ফলে জনসাধারণও সেদিকে ঝুঁকে পড়ে। তার খিলাফতকালে মানুষ একে অপরের সাথে সাক্ষাৎ জিজ্ঞেস করত, তোমার দাসীর কি অবস্থা? তুমি কবে বিয়ে করবে? পরস্পর দেখা সাক্ষাতে এ সমস্ত বিষয় নিয়ে তারা পর্যালোচনা করত।
আবার যখন দুনিয়া বিরাগী খলিফা ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) শাসন পরিচালনা করতে শুরু করেন, তখন জনসাধারণও পরকালমুখী হয়ে পড়ে।
তখন তারা পরস্পর দেখা হলে বলত, কুরআন শরীফ খতম করার কতটুকু বাকি আছে? তাহাজ্জুদ পড়তে কখন উঠ? মাসে কয়দিন নফল রোজা রাখ? এছাড়াও আরো অন্যান্য ইবাদতের ব্যাপারে কথা বলত।
খলিফা ওয়ালিদ বিন আব্দুল মালিক খিলাফতের অধিকাংশ সময় অবকাশতামো নির্মাণে ব্যস্ত ছিলেন। তিনি দামেস্কের মসজিদ, মসজিদে নববীসহ বহু মসজিদ নির্মাণ করেন। মানুষের পানির সুবিধার্তে তিনি বিভিন্ন জায়গায় কূপ নির্মাণ ও পানি প্রবাহিত করার ব্যবস্থা করেন। আল ওয়ালিদ নির্মাণ কাজে বেশি উৎসাহী হওয়ার কারণে তার প্রজারাও সেদিকে ঝুঁকে পড়ে। তার খিলাফতের সময় মানুষ একে অপরের সাথে সাক্ষাৎ হলে বলত, তোমার প্রাসাদ নির্মাণ কতটুকু বাকি আছে? বাগানের কি অবস্থা? আরো অন্যান্য নির্মাণ সম্পর্কে পরস্পরের সাক্ষাতে আলাপ করত।
পরবর্তী খলিফা সুলাইমান বিন মালিক ভোগ-বিলাসিতা, খেলাধুলা ও আরাম আয়েশে ব্যস্ত ছিল। ফলে জনসাধারণও সেদিকে ঝুঁকে পড়ে। তার খিলাফতকালে মানুষ একে অপরের সাথে সাক্ষাৎ জিজ্ঞেস করত, তোমার দাসীর কি অবস্থা? তুমি কবে বিয়ে করবে? পরস্পর দেখা সাক্ষাতে এ সমস্ত বিষয় নিয়ে তারা পর্যালোচনা করত।
আবার যখন দুনিয়া বিরাগী খলিফা ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) শাসন পরিচালনা করতে শুরু করেন, তখন জনসাধারণও পরকালমুখী হয়ে পড়ে।
তখন তারা পরস্পর দেখা হলে বলত, কুরআন শরীফ খতম করার কতটুকু বাকি আছে? তাহাজ্জুদ পড়তে কখন উঠ? মাসে কয়দিন নফল রোজা রাখ? এছাড়াও আরো অন্যান্য ইবাদতের ব্যাপারে কথা বলত।
📄 খলিফারা তাকে ফিরিয়ে দিত না
একদিন কোরাইশী এক লোক খলিফা ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ)-এর কাছে আসল। সে এমন লোক যে কোনো কিছু চাইলে পূর্ববর্তী খলিফারা খালি হাতে ফিরিয়ে দিত না।
যখন সে ওমর বিন আব্দুল আযীযের কাছে গিয়ে তার প্রয়োজনের কথা বলল।
তখন ওমর বিন আব্দুল আযীয বললেন, তোমাকে কোনোকিছু দেওয়া বৈধ হবে না। এ বলে তিনি তাকে খালি হাতে ফিরিয়ে দিলেন।
যখন লোকটি ফিরে যেতে চাইল তখন হযরত ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) ডাক দিয়ে বললেন, হে খালিদের বাবা! দুনিয়ার কোনোকিছু দেখে যদি তুমি আর্ষিতও হও তখন মৃত্যুকে স্মরণ কর তাহলে দুনিয়ার প্রতি তোমার আকর্ষণ কমে যাবে। আর যখন দুনিয়ার কোনো ব্যাপারে তোমাকে চিন্তিত করবে তখনও মৃত্যুকে স্মরণ কর তাহলে তা তোমার কাছে সাধারণ মনে হবে।
ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) তাঁর কর্মচারীদের বেতনভাতার ব্যাপারে ছিলেন খুবই উদার। তিনি তাদের কোনো কোনো জনকে মাসে শত দিনার বা তারও বেশি দিতেন।
তিনি মনে করতেন, যখন তাদের বেতনভাতা যথেষ্ট হবে তখন তারা মুসলমানদের জন্য একনিষ্ঠভাবে কাজ করতে পারবে।
কেউ কেউ তাঁকে বলল, আমীরুল মুমিনীন, আপনি কর্মচারীদের জন্য যেমন ব্যয় করে অফুর যদি আপনার পরিবারের সদস্যের জন্যেও ব্যয় করতেন।
ওমর তাদেরকে বললেন, আমি কাউকে অধিকার নেওয়া থেকে বাধা দিতে পারব না আবার একজনের অধিকার অন্যকেও দিতে পারব না।
তারা বলল, খলিফা হওয়ার পূর্বে তো আপনার পরিবার আপনার মধ্যে সমৃদ্ধি ও সম্পদের অধিকারী ছিল।
একদিন কোরাইশী এক লোক খলিফা ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ)-এর কাছে আসল। সে এমন লোক যে কোনো কিছু চাইলে পূর্ববর্তী খলিফারা খালি হাতে ফিরিয়ে দিত না।
যখন সে ওমর বিন আব্দুল আযীযের কাছে গিয়ে তার প্রয়োজনের কথা বলল।
তখন ওমর বিন আব্দুল আযীয বললেন, তোমাকে কোনোকিছু দেওয়া বৈধ হবে না। এ বলে তিনি তাকে খালি হাতে ফিরিয়ে দিলেন।
যখন লোকটি ফিরে যেতে চাইল তখন হযরত ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) ডাক দিয়ে বললেন, হে খালিদের বাবা! দুনিয়ার কোনোকিছু দেখে যদি তুমি আর্ষিতও হও তখন মৃত্যুকে স্মরণ কর তাহলে দুনিয়ার প্রতি তোমার আকর্ষণ কমে যাবে। আর যখন দুনিয়ার কোনো ব্যাপারে তোমাকে চিন্তিত করবে তখনও মৃত্যুকে স্মরণ কর তাহলে তা তোমার কাছে সাধারণ মনে হবে।
ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) তাঁর কর্মচারীদের বেতনভাতার ব্যাপারে ছিলেন খুবই উদার। তিনি তাদের কোনো কোনো জনকে মাসে শত দিনার বা তারও বেশি দিতেন।
তিনি মনে করতেন, যখন তাদের বেতনভাতা যথেষ্ট হবে তখন তারা মুসলমানদের জন্য একনিষ্ঠভাবে কাজ করতে পারবে।
কেউ কেউ তাঁকে বলল, আমীরুল মুমিনীন, আপনি কর্মচারীদের জন্য যেমন ব্যয় করে অফুর যদি আপনার পরিবারের সদস্যের জন্যেও ব্যয় করতেন।
ওমর তাদেরকে বললেন, আমি কাউকে অধিকার নেওয়া থেকে বাধা দিতে পারব না আবার একজনের অধিকার অন্যকেও দিতে পারব না।
তারা বলল, খলিফা হওয়ার পূর্বে তো আপনার পরিবার আপনার মধ্যে সমৃদ্ধি ও সম্পদের অধিকারী ছিল।
📄 ওমর (রহ) ও সুলাইমান বিন আব্দুল মালিকের ছেলে
একদিন সুলাইমান বিন আব্দুল মালিকের ছেলে এসে খলিফা ওমর বিন আব্দুল আযীযের দরবারে প্রবেশের অনুমতি চেয়ে বলল, আমীরুল মুমিনিনের কাছে আমার এক প্রয়োজন আছে।
ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) তাকে আসার অনুমতি দিলেন। সুলাইমানের ছেলে ভেতরে প্রবেশ করে বলল, আমীরুল মুমিনীন আপনি কি আমার সাথে সম্পর্কচ্ছেদ করতে চান?
ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) তাঁর সম্পর্কচ্ছেদ করা দেখে আমি আল্লাহর থেকে আশ্রয় চাই।
সে তার পকেট থেকে একটি দলিল বের করে ওমরের হাতে দিল।
ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) তা পড়ে দেখে বললেন, এ জমিন কার?
সুলাইমানের ছেলে বলল, এটি জালিম হাজ্জাজের।
তিনি বললেন, তবে তার উত্তরাধিকারীরাই তো এর মালিক।
সুলাইমান বলল, কিন্তু এটাতো বাতুল মালির সম্পদ।
তিনি বলল, তবে এটা সাধারণ মুসলমানের অধিকার।
সুলাইমানের ছেলে দেখল, দলিলটা সে হারাতে বসেছে। তাই সে তাৎক্ষণিক বলে উঠল! আমীরুল মুমিনীন দলিলটা আমাকে ফিরিয়ে দিন।
তিনি বললেন, তুমি যদি দলিলটা নিয়ে না আসতে তাহলে হয়তো আমি তা জানতে পারতাম না, কিন্তু যখন তুমি নিয়েই এসেছ তখন আমি তোমাকে অবৈধভাবে এ সম্পদ দখল করার সুযোগ দিতে পারি না।
এতে সুলাইমানের ছেলের চোখের পানি ছেড়ে দিয়ে কাঁদতে লাগল।
তার কান্না দেখে মাজাহিম বলল, হে আমীরুল মুমিনীন সুলাইমানের ছেলে আপনার কত না প্রিয়, আপনি তার সাথে এমন ব্যবহার করছেন?
তিনি বললেন, আমার ছেলের প্রতি আমার ভালোবাসা যেমন তার প্রতিও তেমন, কিন্তু আমি তা আল্লাহর জন্যেই রেখেছি।
একদিন সুলাইমান বিন আব্দুল মালিকের ছেলে এসে খলিফা ওমর বিন আব্দুল আযীযের দরবারে প্রবেশের অনুমতি চেয়ে বলল, আমীরুল মুমিনিনের কাছে আমার এক প্রয়োজন আছে।
ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) তাকে আসার অনুমতি দিলেন। সুলাইমানের ছেলে ভেতরে প্রবেশ করে বলল, আমীরুল মুমিনীন আপনি কি আমার সাথে সম্পর্কচ্ছেদ করতে চান?
ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) তাঁর সম্পর্কচ্ছেদ করা দেখে আমি আল্লাহর থেকে আশ্রয় চাই।
সে তার পকেট থেকে একটি দলিল বের করে ওমরের হাতে দিল।
ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) তা পড়ে দেখে বললেন, এ জমিন কার?
সুলাইমানের ছেলে বলল, এটি জালিম হাজ্জাজের।
তিনি বললেন, তবে তার উত্তরাধিকারীরাই তো এর মালিক।
সুলাইমান বলল, কিন্তু এটাতো বাতুল মালির সম্পদ।
তিনি বলল, তবে এটা সাধারণ মুসলমানের অধিকার।
সুলাইমানের ছেলে দেখল, দলিলটা সে হারাতে বসেছে। তাই সে তাৎক্ষণিক বলে উঠল! আমীরুল মুমিনীন দলিলটা আমাকে ফিরিয়ে দিন।
তিনি বললেন, তুমি যদি দলিলটা নিয়ে না আসতে তাহলে হয়তো আমি তা জানতে পারতাম না, কিন্তু যখন তুমি নিয়েই এসেছ তখন আমি তোমাকে অবৈধভাবে এ সম্পদ দখল করার সুযোগ দিতে পারি না।
এতে সুলাইমানের ছেলের চোখের পানি ছেড়ে দিয়ে কাঁদতে লাগল।
তার কান্না দেখে মাজাহিম বলল, হে আমীরুল মুমিনীন সুলাইমানের ছেলে আপনার কত না প্রিয়, আপনি তার সাথে এমন ব্যবহার করছেন?
তিনি বললেন, আমার ছেলের প্রতি আমার ভালোবাসা যেমন তার প্রতিও তেমন, কিন্তু আমি তা আল্লাহর জন্যেই রেখেছি।
📄 মৃত্যুকে আপনার মাথায় রাখুন
একদিন দুনিয়াবিমুখ খোদাদত্ত আবেদ আবু হাজিম খলিফা ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ)-এর দরবারে আসলেন।
ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) তাকে বললেন, আপনি আমাকে কিছু উপদেশ দিন।
আবু হাজিম তাঁকে বললেন, হেলান দিয়ে বসুন, তারপর ভাবুন মৃত্যু এখন আপনার মাথার ওপরে, এ মুহুর্তে কি করতে আপনি অধিক পছন্দ করবেন, তা করুন আর কি করতে অপছন্দ করবেন তা এখনই বর্জন করুন।
পরে আবার হযরত আবু হাজিম খলিফা ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ)-কে চিঠি লিখে উপদেশ দিলেন, সতর্ক থাক যখন এমন অবস্থায় তুমি মুহাম্মদ ﷺ-এর সাথে মিলিত হতে পার, তখন তুমি তার অতীত সত্ত্বার প্রভার করছ।
এমনটি যেন না হয়, তখন তুমি তার উন্মোচকের ও তার জুলুম করছ আর তিনিই উন্মোচক পয়ে তোমার বিরুদ্ধে সাক্ষাদাতা হবেন।
একদিন জনৈক ব্যক্তি খলিফা ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ)-এর সামনে তাঁর প্রশংসা করতে লাগল। তাঁর কাছে বিষয়টা মোটেও ভালো লাগেনি।
তিনি লোকটিকে লক্ষ্য করে বললেন, তুমি যদি আমার অন্তরের অবস্থা জানতে তবে খুশিতে আমার দিকে তাকাতেও পারতে না।
অনুরূপ আরেক লোক তাঁর সাথে কুশল বিনিময় করে জিজ্ঞেস করল, আমীরুল মুমিনীন সকাল কেমন কাটিয়েছেন?
তিনি জবাব দিলেন, আমার সকাল কেটেছে প্রচুর স্বরূপ থেকে গাফেল হয়ে পাপে তাপে, আমি আল্লাহর কাছে পুণ্যবানের মর্যাদা আশা করি অথচ কাজ করি বিপরীত।
একদিন দুনিয়াবিমুখ খোদাদত্ত আবেদ আবু হাজিম খলিফা ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ)-এর দরবারে আসলেন।
ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) তাকে বললেন, আপনি আমাকে কিছু উপদেশ দিন।
আবু হাজিম তাঁকে বললেন, হেলান দিয়ে বসুন, তারপর ভাবুন মৃত্যু এখন আপনার মাথার ওপরে, এ মুহুর্তে কি করতে আপনি অধিক পছন্দ করবেন, তা করুন আর কি করতে অপছন্দ করবেন তা এখনই বর্জন করুন।
পরে আবার হযরত আবু হাজিম খলিফা ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ)-কে চিঠি লিখে উপদেশ দিলেন, সতর্ক থাক যখন এমন অবস্থায় তুমি মুহাম্মদ ﷺ-এর সাথে মিলিত হতে পার, তখন তুমি তার অতীত সত্ত্বার প্রভার করছ।
এমনটি যেন না হয়, তখন তুমি তার উন্মোচকের ও তার জুলুম করছ আর তিনিই উন্মোচক পয়ে তোমার বিরুদ্ধে সাক্ষাদাতা হবেন।
একদিন জনৈক ব্যক্তি খলিফা ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ)-এর সামনে তাঁর প্রশংসা করতে লাগল। তাঁর কাছে বিষয়টা মোটেও ভালো লাগেনি।
তিনি লোকটিকে লক্ষ্য করে বললেন, তুমি যদি আমার অন্তরের অবস্থা জানতে তবে খুশিতে আমার দিকে তাকাতেও পারতে না।
অনুরূপ আরেক লোক তাঁর সাথে কুশল বিনিময় করে জিজ্ঞেস করল, আমীরুল মুমিনীন সকাল কেমন কাটিয়েছেন?
তিনি জবাব দিলেন, আমার সকাল কেটেছে প্রচুর স্বরূপ থেকে গাফেল হয়ে পাপে তাপে, আমি আল্লাহর কাছে পুণ্যবানের মর্যাদা আশা করি অথচ কাজ করি বিপরীত।