📄 উম্মে কুলসুম রা. ও উসমান রা.-এর বিয়ে
খুব অসুস্থ হওয়ার পর সাইয়্যিদা রুকাইয়া মদিনায় ইন্তিকাল করেন। তাঁর পবিত্র কর অত্যন্ত ভদ্র ও আত্মমর্যাদাবান ছিলেন। তিনি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্যপূর্ণ জীবনযাপন করেছেন। তাঁর মৃত্যুতে উসমান খুবই মর্মাহত হলেন। যেন দুঃখ ও বেদনা তাঁকে চারিদিক থেকে ঘিরে ফেলেছে। তবুও তিনি কঠিন দুঃখ ও মসবৃত তাঁর আহত হৃদয় চেপে রেখেছেন। কাউকে তা বলতেন না। নিজের দুঃখ নিজের মাঝে লুকিয়ে রাখা তিনি পছন্দ করতেন। এভাবে দিনের পর দিন অতিবাহিত হতে লাগল। এরই মধ্যে একদিন উসমান নবী করীম -এর সাথে দেখা করলেন। তখন তিনি তাঁকে বললেন, উসমান! ইনি হচ্ছেন জিবরাঈল, তিনি আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, আল্লাহ তা'আলা রুকাইয়া মোহরানা তোমার মোহরানা স্বরে উম্মে কুলসুমকে তোমার সাথে বিয়ে দিয়েছেন। নবী করীম বললেন, আমি আসমানের অধী পেইয়ে উসমানের সাথে উম্মে কুলসুমকে বিয়ে দিয়েছি。
টিকাঃ
১৮৪ আল মু'জামুল কাবীর, ৪১ খন্ড, ৩১ পৃ.।
১৮৫ ইবনে মাজাহ হাদিসটি দুর্বল সনদে এনেছেন, ১১০।
১৮৬ হাদিসটি আলফাসাত আর মাজমাবে উল্লেখ করেছেন, ১খন্ড, ৮৫ পৃ.
📄 যদি আমার আরেকজন মেয়ে থাকত
হাদী আমার আরেকজন মেয়ে থাকে উমম হিযিরিঁর শাহাবান মানে রাসূল দ.-এর মেয়ে উমম কুলছুম র. যিনি উসমান র.-এর স্ত্রী, তিনি কঠিন অসুস্থ হওয়ার কিছুদিন পর ইন্তিকাল করেন। নবী করীম দ. তাঁর জানাযার নামায আদায় করেন। তিনি তাঁর কবরের পাশে বসলেন। ওহীদিকে তাঁর দুই চোখের অশ্রু অঝোর ধারে ঝরতে লাগল। উসমান র.ও একে একে স্ত্রী উমম কুলছুম র. ও রুকাইয়াকে হারানোর শোকে খুবই মমাহত হলেন। তখন নবী করীম দ. তাঁর কানে কানে বললেন, যদি আমার আরেকজন মেয়ে থাকত তবে তাঁকেও আমি তোমার সাথে বিয়ে দিতাম。
টিকাঃ
২৩০. মাজমাউয যাওয়ায়েদ, ৭ম খণ্ড, ৪১ পৃ.
📄 নাজ্জাশীর পরীক্ষা
ইসলামের সূচনাকালে হযরত উসমান র. ও তাঁর স্ত্রী হাবশায় হিজরত করেন। তিনি নাজজিয়াবুর দরবারে মর্যাদার সাথে প্রবেশ করেন। সবাই নাজজিয়াবুর দরবারে মাথা নিচু করে প্রবেশ করে, কিন্তু উসমান র. এর বিপরীত করলেন। তিনি মাথা নিচু করে প্রবেশ করতে অস্বীকৃতি জানালেন। তখন নাজজিয়াব তাঁকে জিজ্ঞেস করল, তোমার সঙ্গীরা যেভাবে মাথা নিচু করে প্রবেশ করে তুমি কেন তেমন করনি? তিনি বললেন, আমি আল্লাহ ব্যতীত আর কারো সামনে মাথা নতকারী নই。
টিকাঃ
২৩১. আহকামুস সাহাবা ২য় খণ্ড, ২৬ পৃ.
📄 এক লোক যাকে ফেরেশতা লজ্জা করে
উসমান র. সর্বোৎকৃষ্ট চরিত্রের অধিকারী ছিলেন। তাঁর চরিত্র ফুলের মতো সুশোভিত ছিল। একদিন রাসূল দ. আয়েশা রাদি.-এর ঘরে হয়েছিলেন। তখন তাঁর উরু ও ওপর থেকে কাপড় হালকা সরেছিল। এরই মধ্যে আবু বকর রাদি. ঘরে আসতে চাইলে রাসূল দ. তাঁকে অনুমতি দিলেন অথচ তিনি সে অবস্থায় ছিলেন। এরপর যখন উমর রাদি. আসতে চাইলেন তিনি ও অবশ্যই থেকে তাঁকে ও অনুমতি দিলেন, কিন্তু যখন খাত্তাব থেকে ঘরে আসার অনুমতি চাইলেন তখন তিনি তাঁর কাপড় ঠিকঠাক করে স্বাভাবিকভাবে বসলেন। এরপর তাঁকে ঘরে আসার অনুমতি দিলেন। তারপর আল্লাহর ইচ্ছায় তাঁরা যতক্ষণ কথাবার্তা বলার বললেন। কথাবার্তা শেষ হওয়ার পর উসমান রাদি. চলে গেলেন। তাঁর চলে যাওয়ার পর আয়েশা রাদি. অবাক হয়ে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আবু বকর আপনার কাছে আসল তখনো আপনি আগের মতো ছিলেন, তাঁকেও এ ব্যাপারে পরওয়া করেননি। এরপর ওমর আসল তাঁও আপনি আগের মতোই ছিলেন, তাঁকেও এ ব্যাপারে পরওয়া করেননি। কিন্তু উসমান আসার পর আপনি আপনার কাপড় ঠিকঠাক করে বসলেন! তখন মুজিজাকার মিলকামিনর মতো রাসূল দ. তাঁর দুই ঠোঁটে মৃদু হেসে বললেন, আয়েশা! আমি কী সে ব্যক্তিকে লজ্জা করব না যাকে ফেরেশতারা পর্যন্ত লজ্জা করে。
টিকাঃ
২৩২. মুসলিম, হাদীস নং ২৪০১।