📘 খ্রিস্টান ধর্ম খন্ডন রদ্দে ক্রিশ্চিয়ানিটি > 📄 বাইবেল অনুযায়ী এক স্ত্রী থেকে অন্য স্ত্রীকে বেশি ভালোবাসা বৈধ।

📄 বাইবেল অনুযায়ী এক স্ত্রী থেকে অন্য স্ত্রীকে বেশি ভালোবাসা বৈধ।


বাইবেল অনুযায়ী কারো যদি দুইজন স্ত্রী থাকে তাহলে একজন স্ত্রীর থেকে আরেকজন স্ত্রীকে বেশি ভালোবাসা বৈধ। এবং দুই স্ত্রীই যদি সন্তান প্রসব করে তাহলে অবশ্যই যে স্ত্রীকে সে ভালোবাসে না তার হতে হবে।

আসুন এবার বাইবেল থেকে বিস্তারিত দেখি বাইবেল অমানবিক, অযৌক্তিক বিধানটা।

কোন ব্যক্তির দু'জন স্ত্রী থাকতে পারে এবং সে একজন স্ত্রীকে আরেকজনের থেকে বেশী ভালোবাসতে পারে। কিন্তু যদি দু'জন স্ত্রীই তার জন্য সন্তান প্রসব করে এবং প্রথম সন্তানটি সে যে স্ত্রীকে ভালোবাসে না তার হয়। (দ্বিতীয় বিবরন ২১/১৫)

এটা কেমন বিধান যেখানে ইশ্বর বলেন একজন স্ত্রীর থেকে আরেকজন স্ত্রীকে বেশি ভালোবাসা যাবে! এই কথার দ্বারা বোঝা যাচ্ছে তিনি সুবিচার করতে সক্ষম নন। এবং দুই স্ত্রীই যদি সন্তান প্রসব করে তাহলে প্রথম সন্তান যেন যে স্ত্রীকে ভালোবাসে না তার হয় এটা কেমন বিধান?

এ বিষয়ে মহান আল্লাহ বলেন :-
যদি তোমরা আশঙ্কা কর যে, (নারী) ইয়াতীমদের প্রতি সুবিচার করতে পারবে না, তবে নারীদের মধ্য হতে নিজেদের পছন্দমত দুই-দুই, তিন-তিন ও চার-চার জনকে বিবাহ কর, কিন্তু যদি তোমরা আশঙ্কা কর যে, তোমরা সুবিচার করতে পারবে না, তাহলে একজনকে কিংবা তোমাদের অধীনস্থ দাসীকে! এটাই হবে অবিচার না করার কাছাকাছি। (সূরা নিসা, আয়াত : ০৩)

আলহামদুলিল্লাহ কোরআন স্পষ্ট করে বলেছে যদি সুবিচার করতে না পার তাহলে একটিই বিবাহ করতে হবে। আর বাইবেল অনুযায়ী যতখুশি তত বিয়ে করা যাবে এবং কারো যদি অধিক স্ত্রী থাকে তাদের সাথে সুবিচার না করলেও কোন সমস্যা নাই।

এখন আপনারাই বিবেচনা করেন কোন ধর্মটা শান্তির কথা বলে! কোন ধর্মটা নারীদের সুবিচার দেয়।

📘 খ্রিস্টান ধর্ম খন্ডন রদ্দে ক্রিশ্চিয়ানিটি > 📄 বাইবেল অনুযায়ী স্ত্রীকে তালাক দিয়ে অন্য কোন নারীকে বিবাহ করা ব্যাভিচার।

📄 বাইবেল অনুযায়ী স্ত্রীকে তালাক দিয়ে অন্য কোন নারীকে বিবাহ করা ব্যাভিচার।


বাইবেল অনুযায়ী নিজের স্ত্রীকে তালাক দিয়ে অন্য কাউকে বিবাহ করা ব্যাভিচার এবং স্ত্রী স্বামীকে তালাক দিয়ে অন্য কাউকে বিবাহ করলে সেও ব্যাভিচার করে।

এবার আসেন দেখি বাইবেলের ইশ্বর হাস্যকর বিধানটি দেখে নেই দলিল সহকারে।
যীশু তাদের বললেন, কেউ যদি নিজের স্ত্রীকে ত্যাগ করে অন্য কাউকে বিয়ে করে তবে সে তার বিরুদ্ধে ব্যাভিচার করে। (মার্ক ১০/১১)

যদি সেই স্ত্রীলোকটি নিজের স্বামীকে ত্যাগ করে আর একজনকে বিয়ে করে সেও ব্যাভিচার করে। (মার্ক ১০/১২)

এটা কেমন অযৌক্তিক বিধান? তালাক দেওয়ার পরও অন্য কাউকে বিবাহ করলে সেটা ব্যাভিচার হয়? এসব হাস্যকর বিধান অসংখ্য খ্রীষ্টানরা বাতিল করে জীবন পরিচালনা করছেন।

আপনারাই বিবেচনা করেন এমন অযৌক্তিক বিধান মেনে চলা কি আদৌ সম্ভব?

📘 খ্রিস্টান ধর্ম খন্ডন রদ্দে ক্রিশ্চিয়ানিটি > 📄 বাইবেল অনুযায়ী কোন অজ্ঞাত ব্যাক্তির লাশ পেলে তার বিধান কি?

📄 বাইবেল অনুযায়ী কোন অজ্ঞাত ব্যাক্তির লাশ পেলে তার বিধান কি?


কোন অজ্ঞাত মৃত মানুষের লাশ পাওয়া গেলে সেক্ষেত্রে বাইবেল একটি অযৌক্তিক বিধান দিয়েছেন। যেটা বর্তমান সময়ে কখনো পালন করা কখনোই সম্ভব হবে না।

যদি কোন অজ্ঞাত মৃত মানুষের লাশ পাওয়া যায় সেক্ষেত্রে কি করতে হবে বাইবেল থেকে দলিল সহকারে দেখে নেই।
প্রভ তোমাদের ঈশ্বর, তোমাদের যে দেশ দিচ্ছেন, সেখানকার ক্ষেতে যদি তোমরা কোনো মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখ, কিন্তু কে হত্যা করেছে তা যদি জানা না যায়। (দ্বিতীয় বিবরন ২১/০১)

তখন তোমাদের দলনেতারা এবং বিচারকরা সেখানে যাবে এবং নিহত ব্যক্তির চারদিকের শহরগুলোর দূরত্ব পরিমাপ করবে। (দ্বিতীয় বিবরন ২১/০২)

যখন তোমরা জানতে পারবে কোন শহরটি নিহত ব্যক্তির সবথেকে কাছে, তখন সেই শহরের দলনেতারা তাদের পশুশালা থেকে এমন একটি গোবতস নিয়ে আসবে যাকে কখনই কোন কাজে ব্যবহার করা হয় নি এবং যে যোযালি বহন করে নি। (দ্বিতীয় বিবরন ২১/০৩)

সেই শহরের দলনেতারা তখন গোবতসটিকে এমন একটি উপত্যকায় নামিয়ে আনবে যেখানে সবসময় জলের স্রোত বয়। এটিকে অবশ্যই এমন একটি উপত্যকা হতে হবে যা কখনও চাষ করা হয়নি বা যেখানে কিছু রোপণ করা হয়নি। এরপর নেতারা সেই উপত্যকায় গোবতসটির ঘাড় ভাঙ্গবে। (দ্বিতীয় বিবরন ২১/০৪)

যাজকরা, লেবীর উত্তরপুরুষরা অবশ্যই সেখানে যাবে। (প্রভু তোমাদের ঈশ্বর তাঁর সেবার জন্য এবং তাঁর নামে লোকদের আশীর্বাদ করার জন্য এই যাজকদের নির্বাচিত করেছেন। এবং সমস্ত বিবাদ ও আঘাতের বিচার তারাই করবেন)। (দ্বিতীয় বিবরন ২১/০৫)

নিহত ব্যক্তির সব থেকে কাছের শহরের সমস্ত নেতারা উপত্যকায় যে গোবতসের ঘাড় ভাঙ্গা হয়েছিল তার ওপরে অবশ্যই তাদের হাত ধোবে। (দ্বিতীয় বিবরন ২১/০৬)

এই নেতারা বলবে, আমরা এই ব্যক্তিকে হত্যা করিনি এবং আমরা এটি ঘটতেও দেখিনি। (দ্বিতীয় বিবরন ২১/০৭)

হে প্রভু, তুমি যে ইস্রায়েলকে রক্ষা করেছিলে তাদেরই শুদ্ধ করো। একজন নিরপরাধ লোককে হত্যা করার দোষ আমাদের ওপর চাপিও না। এই ভাবে একজন নিরপরাধ লোককে হত্যা করার জন্য ঐ সমস্ত লোকদের দোষ ক্ষমা করা হবে। (দ্বিতীয় বিবরন ২১/০৮)

এই ভাবে তোমরা প্রভুর চোখে যা যথার্থ তাই করবে এবং তোমাদের জাতি থেকে নিরপরাধের রক্তপাতের দোষ দূর করবে। (দ্বিতীয় বিবরন ২১/০৯)

যদি কোন অজ্ঞাত মৃত মানুষের লাশ পাওয়া সেক্ষেত্রে লাশটি যে শহরের কাছে পাওয়া যাবে সেই শহরের নেতারা গোবৎসের ঘাড় মটকাবে কেন? এসব কেমন অযৌক্তিক বিধান? বর্তমানে এসব উদ্ভট বিধান কি আদৌ সম্ভব?

এই বিধান কার্যকর করা হলে দেশে হত্যা প্রচুর পরিমাণে বেড়ে যাবে। আর হত্যাকারীও পার পেয়ে যাবে।

এখন আপনারাই বিবেচনা করেন এসব কি সব উদ্ভট বিধান দিয়েছেন রেখেছে বাইবেলের ইশ্বর। যা বর্তমান সময়ে আদৌ কার্যকর করা সম্ভব নয়!

📘 খ্রিস্টান ধর্ম খন্ডন রদ্দে ক্রিশ্চিয়ানিটি > 📄 পৃথিবীর সকল কিছু সৃষ্টি করে (ঈশ্বর) ক্লান্ত হয়ে বিশ্রাম নেওয়ার পর (মানুষ) সৃষ্টি করেছে নাকি তার আগেই সৃষ্টি করেছে?

📄 পৃথিবীর সকল কিছু সৃষ্টি করে (ঈশ্বর) ক্লান্ত হয়ে বিশ্রাম নেওয়ার পর (মানুষ) সৃষ্টি করেছে নাকি তার আগেই সৃষ্টি করেছে?


বাইবেলের ইশ্বর বলছে, তিনি পৃথিবীতে সকল প্রকার উদ্ভিদ, জন্তু জানোয়ার, পশুপাখি, চাঁদ সূর্য সৃষ্টি করে বিশ্রাম নেওয়ার আগে মানুষ সৃষ্টি করেছে! আবার পরে বলছে তিনি বিশ্রাম নেওয়ার পর মানুষ সৃষ্টি করেছে যা একটা কথার সাথে আরেকটা কথার বৈপরীত্য হয়ে যাচ্ছে।

এবার আসেন বাইবেল থেকে বিস্তারিত দেখি :-
তখন ঈশ্বর বললেন, এখন এস, আমরা মানুষ সৃষ্টি করি। আমাদের আদলে আমরা মানুষ সৃষ্টি করব। মানুষ হবে ঠিক আমাদের মত। (আদিপুস্তক ০১/২৬)

তাই ঈশ্বর নিজের মতোই মানুষ সৃষ্টি করলেন। মানুষ হল তাঁর ছাঁচে গড়া জীব। ঈশ্বর তাদের পুরুষ ও স্ত্রীরূপে সৃষ্টি করলেন। (আদিপুস্তক ০১/২৭)

ঈশ্বর যা যা তৈরি করলেন, তা তিনি দেখলেন, এবং তা খুবই ভালো হল। আর সন্ধ্যা হল ও সকাল হল এই হল ষষ্ঠ দিন। (আদিপুস্তক ০১/৩১)

এখানে (বাইবেলের ইশ্বর) বিশ্রাম নেওয়ার আগে (ষষ্ঠ দিনে) অর্থাৎ পৃথিবীতে সকল প্রকার উদ্ভিদ, জন্তু জানোয়ার, পশুপাখি, চাঁদ সূর্য সৃষ্টি করার পর (মানুষ) সৃষ্টি করেছে (স্ত্রী ও পুরুষ) রূপে! তবে বলা হয় নাই এই মানুষটি (আদম ও ইভ) কিনা। তবে আমরা ধরে নিই এই মানুষটা হল (আদম ও ইভ)।

আবার দেখেন, অন্য জায়গায় বলা হচ্ছে, (ইশ্বর) পৃথিবী ও পৃথিবীর মধ্যে যাবতীয় জিনিস সৃষ্টি করে (বিশ্রাম নেওয়ার পর) একজন (মানুষ) সৃষ্টি করার পর আরেকজন (মানুষ) সৃষ্টি করেছে। যেটা তার কথার বৈপরীত্য ও ভুল। প্রমান দেখেন, বাইবেলের ইশ্বরের বিশ্রাম নেওয়ার পরের কাহিনিতে :-

এইভাবে পৃথিবী, আকাশ এবং তাদের আভ্যন্তরীণ যাবতীয় জিনিস সম্পূর্ণ হল। (আদিপুস্তক ০২/০১)

যে কাজ ঈশ্বর শুরু করেছিলেন তা শেষ করে সপ্তম দিনে তিনি বিশ্রাম নিলেন। (আদিপুস্তক ০২/০২)

তখন প্রভু ঈশ্বর মাটি থেকে ধুলো তুলে নিয়ে একজন (মানুষ) তৈরী করলেন এবং সেই মানুষের নাকে ফুঁ দিয়ে প্রাণবায়ু প্রবেশ করালেন এবং (মানুষটি) জীবন্ত হয়ে উঠল। (আদিপুস্তক ০২/০৭)

এখানে বাইবেলের ইশ্বর একজন (মানুষ) সৃষ্টি করেছে সেটা হল (আদম) যদিও নাম বলা হয় নাই। আদমকে সৃষ্টি করার অনেক পরে এসে তিনি তার জন্য নারী সৃষ্টি করেছে অর্থাৎ (ইভকে) সৃষ্টি করেছে প্রমান দেখেন :-

প্রভু ঈশ্বর মানুষটির পাঁজরের সেই হাড় দিয়ে তৈরি করলেন একজন স্ত্রী। তখন সেই স্ত্রীকে প্রভু ঈশ্বর মানুষটির সামনে নিয়ে এলেন। (আদিপুস্তক ০২/২২)

অথছ আমরা প্রথমেই দেখেছি বাইবেলের ইশ্বর পৃথিবীর কাজ শেষ করার আগে (ষষ্ঠ) দিনে (নারী পুরুষ) সৃষ্টি করেছিলেন।

এখানে বাইবেলের ইশ্বর পৃথিবীর সকল কাজ শেষ করে বিশ্রাম নেওয়ার পর (আদিপুস্তক ০২/০৭) নং অনুচ্ছেদে এসে একজন মানুষ সৃষ্টি করার পর (আদিপুস্তক ০২/২২) নং অনুচ্ছেদে এসে বলছে, তিনি (নারী) সৃষ্টি করেছে (পুরুষটির) জন্য। হাস্যকর ব্যাপার।

এখানেও বৈপরীত্য দেখা যাচ্ছে তিনি একবার নারী সৃষ্টি করার পর আবার নারী সৃষ্টি করেছে হাস্যকর তথ্য।

এখন আপনারাই বিবেচনা করেন বাইবেলের ইশ্বর একবার বলছে তিনি সকল প্রকার উদ্ভিদ, গাছপালা, জন্তু জানোয়ার, চাঁদ সূর্য সৃষ্টি করার পর অর্থাৎ বাইবেলের (ইশ্বরের বিশ্রাম নেওয়ার) আগে তিনি মানুষ সৃষ্টি করেছে! আবার পরে (দ্বিতীয় অধ্যায়ে) বলছে তার বিশ্রাম নেওয়ার পর মানুষ সৃষ্টি করেছে।

আমার প্রথম প্রশ্ন :- কোনটা বিশ্বাস করবো? তিনি তার বিশ্রাম নেওয়ার আগে মানুষ সৃষ্টি করেছে নাকি বিশ্রাম নেওয়ার পর মানুষ সৃষ্টি করেছে?

আমার দ্বিতীয় প্রশ্ন :- বাইবেলের ইশ্বর মানুষ আগে সৃষ্টি করেছে, নাকি পৃথিবী ও পৃথিবীর মধ্যে সকল প্রকার জিনিস অর্থাৎ চাঁদ, সূর্য, গাছপালা, পশুপাখি, বিভিন্ন প্রকার উদ্ভিদ সৃষ্টি করার পর মানুষ সৃষ্টি করেছে?

আমার তৃতীয় প্রশ্ন :- বাইবেলের ইশ্বর (প্রথম অধ্যায়ের, আদিপুস্তক ০১/২৭) নং অনুচ্ছেদে (নারী ও পুরুষ) দুইজনকে একবারে সৃষ্টি করেছে, নাকি (দ্বিতীয় অধ্যায়ের আদিপুস্তক ০২/২২) নং অনুচ্ছেদে (নারী) সৃষ্টি করেছে?

আমার চতুর্থ প্রশ্ন :- আদমের জন্য বাইবেলের ইশ্বর কতজন নারীকে সৃষ্টি করেছে? এক জনকে নাকি দুই জনকে?

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00