📘 খালিদ ইবনুল ওয়ালিদ রা: > 📄 মৃত্যুশয্যা ও ইনতিকাল

📄 মৃত্যুশয্যা ও ইনতিকাল


১. মৃত্যুশয্যায় উমর রা. সম্পর্কে খালিদের বক্তব্য
খালিদের অন্তিম অসুস্থতার সময় আবুদ দারদা রা. তাঁকে দেখতে গেলে খালিদ রা. বলেন, 'হে আবুদ দারদা, উমরের মৃত্যু হলে আপনি অপছন্দনীয় অনেক বিষয় দেখতে পাবেন।' আবুদ দারদা বলেন, 'আল্লাহর শপথ, আমি আপনার সঙ্গে একমত পোষণ করছি।' খালিদ বলেন, 'একটা বিষয়ে আমি তাঁর ওপর ক্ষুব্ধ ছিলাম; কিন্তু অসুস্থ হওয়ার পর যখন বিষয়টা নিয়ে ভাবলাম এবং মৃত্যুকে হাতের নাগালে উপলব্ধি করলাম যে, উমর তাঁর যাবতীয় কাজকর্মে আল্লাহর সন্তুষ্টি তালাশ করেন। আমি তাঁর ওপর ক্ষুব্ধ হয়েছিলাম যখন তিনি আমার অর্ধেক সম্পদ নিতে লোক পাঠিয়েছিলেন। এমনকি তিনি একটা জুতা নিয়েছিলেন এবং আমি আরেকটা জুতা নিয়েছিলাম। কিন্তু যাঁরা আমার আগে ইসলামগ্রহণ করেছিলেন, যাঁরা বদরের যুদ্ধে উপস্থিত ছিলেন, তাঁদের সঙ্গেও তিনি অনুরূপ আচরণ করেছিলেন। তিনি আমার সঙ্গে কঠোর; অনুরূপ অন্যদের সঙ্গেও কঠোর ছিলেন। আমাদের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হওয়ায় আমি তাঁর থেকে অন্তরঙ্গ আচরণ প্রত্যাশা করেছিলাম; কিন্তু দেখলাম যে, তিনি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কারও তিরস্কার অথবা কোনো আত্মীয়ের হৃদ্যতা—কোনোকিছুই গ্রাহ্য করতেন না। তাঁর অবস্থা দেখে আমার সব অনুযোগ দূর হয়ে যায়। তিনি আমার সঙ্গে কঠোর আচরণ করতেন, যা আমাদের মতপার্থক্যের কারণেই হয়েছিল। আমি যুদ্ধের ময়দানে অবস্থান করতাম, কঠিন অবস্থা পার করতাম; কিন্তু তিনি তখন সেখানে উপস্থিত থাকতেন না, অবস্থা সম্পর্কে জানতেন না। যারা বেশি কষ্ট করত, আমি তাদের পুরস্কৃত করতাম। আমার এমন আচরণগুলোই মূলত তাঁর অপছন্দনীয় ছিল। ৫২৩

মৃত্যুর সময় তিনি উপলব্ধি করে কাঁদছিলেন আর বলছিলেন, 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলার পর অন্য কোনো কাজ আমাকে এত বেশি আশার আলো দেয়নি, যতটা এক তীব্র শীতের রাতে মুহাজিরদের সঙ্গে অভিযানে দিয়েছিল। সেদিন আমি বৃষ্টির মধ্যে আমার ঢাল বহন করে রাত্রিযাপন করেছি, প্রহর গুনেছি ভোরের, যেন আমরা কাফিরদের আক্রমণ করতে পারি। তোমরাও নিজেদের জন্য জিহাদকে আবশ্যক বানিয়ে নাও।
আমি এত এত যুদ্ধে শরিক হয়েছি—আমার শরীরে এমন কোনো জায়গা খালি নেই, যেখানে তরবারি আঘাত করেনি বা বর্শা-তির বিদ্ধ হয়নি; কিন্তু আজ আমি এখানে। একটা উটের মতো আমার বিছানায় শুয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছি। কাপুরুষরা ভয়ে ঘুমাতে পারে না; অথচ আমাকে দেখো, আমি শাহাদাতবরণ করার আকাঙ্ক্ষা লালন করতাম; কিন্তু তাকদিরের ফায়সালা ছিল আমার বিছানাতেই আমার মৃত্যু হবে।'৫২৪

খালিদ রা. উমর রা.-কে তাঁর অসিয়ত বাস্তবায়ন করতে বলেছিলেন। তাঁর অসিয়তনামায় লেখা ছিল, 'আমি আমার সমস্ত বিষয়, সহায়সম্পত্তি এবং অসিয়তনামা বাস্তবায়নের দায়িত্ব উমর ইবনুল খাত্তাবের ওপর অর্পণ করলাম।'

উমর রা. এ কথা শুনে কাঁদতে শুরু করেন। তখন তালহা ইবনু উবায়দুল্লাহ তাঁকে বলেন, আপনার আর খালিদের দৃষ্টান্তই যেন কোনো কবি এভাবে দিয়েছেন,

তোমাকে এমন অবস্থায় পাওয়ার কোনো ইচ্ছা আমার নেই
যে, আমার মৃত্যুর পর তুমি আমার জন্য অশ্রু ঝরাবে;
অথচ আমার জীবদ্দশায় তুমি কখনো
আমার জন্য সামান্য পাথেয়ও সংগ্রহ করে দাওনি। ৫২৫

খালিদের মৃত্যুতে উমর রা. অশ্রু ঝরান। তাঁর চাচার মেয়েও তাঁর জন্য কাঁদছিলেন। বর্ণিত আছে; তাঁদের কান্না থামাতে উমরকে বলা হলে তিনি বলেছিলেন, 'যতক্ষণ তাঁরা কাপড় ছিঁড়বে, বিলাপ না করবে, ততক্ষণ আবু সুলায়মানের জন্য তাঁদের চোখের পানি ফেলতে দাও। যারা কাঁদতে চায়, আবু সুলায়মানের জন্য তাদের কাঁদা উচিত। '৫২৬

তিনি খালিদ রা. সম্পর্কে বলেন, 'খালিদের মৃত্যুতে ইসলামের কাঠামোতে এমন একটা শূন্যতা তৈরি হয়েছে, যা সহজেই পূর্ণ হবে না। হায়! তিনি যদি জীবিত থাকতেন, কতই-না ভালো হতো! যতদিন জীবিত ছিলেন, ময়দানে অপ্রতিদ্বন্দ্বী যোদ্ধা ছিলেন। আল্লাহর শপথ, শত্রুদের মোকাবিলায় তিনি এক দুর্ভেদ্য প্রাচীর ছিলেন। তাঁর পরামর্শগুলোও অতুলনীয় হতো।'

বনু মাখজুমের কিছু লোকের সঙ্গে কবি হিশাম ইবনুল বাখতারি উমরের কাছে এলে উমর তাকে বলেন, 'তুমি খালিদ সম্পর্কে যা বলেছ, তা আমাকে আবৃত্তি করে শোনাও।' তিনি আবৃত্তি করলে উমর বলেন, 'আবু সুলায়মানের ওপর আল্লাহ রহম করুন। তোমার প্রশংসায় ঘাটতি রয়েছে। তিনি শিরককে ঘৃণা এবং মুশরিকদের লাঞ্ছিত করতে ভালোবাসতেন। তাঁর ব্যাপারে যে মন্দ বলবে, সে আল্লাহর অসন্তুষ্টির উপযুক্ত সাব্যস্ত হবে।'

এরপর কবির কবিতা দিয়ে উপমা দেন,

গত হওয়া জিনিসের বিরুদ্ধাচারের যে খায়েশ রাখে
তাকে বলে দাও, তার মতো যেন অন্য আরেকটা জিনিস তৈরি করে।
কারণ, যা গত হওয়ার, তা তো ইতিমধ্যে গত হয়েছে।

যে আমার পর জীবিত থাকবে,
তাঁর জীবিত থাকাতে আমার কোনো ফায়দা নেই।
আর না আমার পর যে মৃত্যুবরণ করবে,
তার মৃত্যু আমাকে জীবন দান করতে পারবে।

এরপর তিনি বলেন, 'আবু সুলায়মানের ওপর আল্লাহ রহম করুন। আল্লাহর কাছে তাঁর জন্য যা কিছু আছে, তা এই দুনিয়ায় তাঁর যা ছিল তার চেয়ে উত্তম। মৃত্যুর পরও তিনি তাঁর কীর্তিগাথার কারণে স্মরণীয়। তিনি সবাইকে শোকাগ্রস্ত করে গেলেন। আমি দেখিনি, সময় কাউকে পৃথিবীতে সর্বদার জন্য থাকতে দিয়েছে। ৫২৭

২. ইনতিকাল
খলিফাতুল মুসলিমিন উমর রা. খালিদকে সেনাপতির পদ থেকে অপসারণের পর তাঁকে বিভিন্ন প্রদেশে ওয়ালি নিয়োগ দেন। কিছুদিন পর খালিদ রা. স্বেচ্ছায় এ দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিয়ে মদিনায় স্থায়ীভাবে বসবাস করতে থাকেন। ২১ হিজরিতে ৬০ বছর বয়সে তিনি সিরিয়ার হিমসে ইনতিকাল করেন এবং সেখানেই সমাধিস্থ হন। ৫২৮ তবে কোনো কোনো বর্ণনায় ২২ হিজরির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তাতে রয়েছে, খালিদ রা. ইনতিকালের আগে কিছুদিন অসুস্থ ছিলেন। এরপর ২২ হিজরিতে মদিনায় ইনতিকাল করেন। তবে হিমসে তাঁর ইনতিকাল হয়েছে বলে যেসব বর্ণনা রয়েছে, সেসব সঠিক না-ও হতে পারে। কারণ, খলিফা উমর রা. তাঁর জানাজায় শরিক হয়েছিলেন বলে বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ আছে। ৫২৯ উল্লেখ্য, ইসলামগ্রহণের পর মাত্র ১৪ বছর জীবন পেয়েছিলেন তিনি। ৫৩০

মহাবীর খালিদ ইবনুল ওয়ালিদ রা.-এর মৃত্যুর পর উমর রা. বলেছিলেন, 'নারীরা খালিদের মতো সন্তান প্রসবে অক্ষম হয়ে গেছে।' খালিদের মৃত্যুর পর খলিফা অত্যন্ত ব্যাকুলভাবে কেঁদেছিলেন। মানুষ পরে জেনেছিল, শুধু তাঁর বিয়োগব্যথায় তিনি এভাবে কাঁদেননি; বরং খালিদের অপসারণের কারণ দূরীভূত হওয়ায় তিনি তাঁকে আবার সেনাপতির পদে নিয়োগ করতে চেয়েছিলেন। মৃত্যু তাঁর সেই ইচ্ছার প্রতিবন্ধক হওয়ায় তিনি এত কেঁদেছিলেন। ৫৩১

টিকাঃ
৫২৩. খালিদ ইবনুল ওয়ালিদ, সাদিক আরজুন: ৩৪৯; আল-খিলাফাহ ওয়াল-খুলাফা: ১৯৮।
৫২৪. সিয়ারু আলামিন নুবালা : ১/৩৮২; আত-তারিখ ইলাল মাদায়িন: ৩৬৭।
৫২৫. আল-ফারুক: ২৮৭।
৫২৬. আত-তারিখ ইলাল মাদায়িন: ৩৬৭।
৫২৭. আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া: ৭/১২৪।
৫২৮. আল-আলাম, জিরকালি: ২/২৯৫।
৫২৯. উসুদুল গাবাহ: ২/৯৬; আল-ইসাবাহ: ১/৪১৫।
৫৩০. আত-তারিখ ফিল কামিল, ইবনুল আসির: ৪১৮।
৫৩১. রিজালুন হাওলার রাসুল: ৩০৫।

১. মৃত্যুশয্যায় উমর রা. সম্পর্কে খালিদের বক্তব্য
খালিদের অন্তিম অসুস্থতার সময় আবুদ দারদা রা. তাঁকে দেখতে গেলে খালিদ রা. বলেন, 'হে আবুদ দারদা, উমরের মৃত্যু হলে আপনি অপছন্দনীয় অনেক বিষয় দেখতে পাবেন।' আবুদ দারদা বলেন, 'আল্লাহর শপথ, আমি আপনার সঙ্গে একমত পোষণ করছি।' খালিদ বলেন, 'একটা বিষয়ে আমি তাঁর ওপর ক্ষুব্ধ ছিলাম; কিন্তু অসুস্থ হওয়ার পর যখন বিষয়টা নিয়ে ভাবলাম এবং মৃত্যুকে হাতের নাগালে উপলব্ধি করলাম যে, উমর তাঁর যাবতীয় কাজকর্মে আল্লাহর সন্তুষ্টি তালাশ করেন। আমি তাঁর ওপর ক্ষুব্ধ হয়েছিলাম যখন তিনি আমার অর্ধেক সম্পদ নিতে লোক পাঠিয়েছিলেন। এমনকি তিনি একটা জুতা নিয়েছিলেন এবং আমি আরেকটা জুতা নিয়েছিলাম। কিন্তু যাঁরা আমার আগে ইসলামগ্রহণ করেছিলেন, যাঁরা বদরের যুদ্ধে উপস্থিত ছিলেন, তাঁদের সঙ্গেও তিনি অনুরূপ আচরণ করেছিলেন। তিনি আমার সঙ্গে কঠোর; অনুরূপ অন্যদের সঙ্গেও কঠোর ছিলেন। আমাদের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হওয়ায় আমি তাঁর থেকে অন্তরঙ্গ আচরণ প্রত্যাশা করেছিলাম; কিন্তু দেখলাম যে, তিনি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কারও তিরস্কার অথবা কোনো আত্মীয়ের হৃদ্যতা—কোনোকিছুই গ্রাহ্য করতেন না। তাঁর অবস্থা দেখে আমার সব অনুযোগ দূর হয়ে যায়। তিনি আমার সঙ্গে কঠোর আচরণ করতেন, যা আমাদের মতপার্থক্যের কারণেই হয়েছিল। আমি যুদ্ধের ময়দানে অবস্থান করতাম, কঠিন অবস্থা পার করতাম; কিন্তু তিনি তখন সেখানে উপস্থিত থাকতেন না, অবস্থা সম্পর্কে জানতেন না। যারা বেশি কষ্ট করত, আমি তাদের পুরস্কৃত করতাম। আমার এমন আচরণগুলোই মূলত তাঁর অপছন্দনীয় ছিল। ৫২৩

মৃত্যুর সময় তিনি উপলব্ধি করে কাঁদছিলেন আর বলছিলেন, 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলার পর অন্য কোনো কাজ আমাকে এত বেশি আশার আলো দেয়নি, যতটা এক তীব্র শীতের রাতে মুহাজিরদের সঙ্গে অভিযানে দিয়েছিল। সেদিন আমি বৃষ্টির মধ্যে আমার ঢাল বহন করে রাত্রিযাপন করেছি, প্রহর গুনেছি ভোরের, যেন আমরা কাফিরদের আক্রমণ করতে পারি। তোমরাও নিজেদের জন্য জিহাদকে আবশ্যক বানিয়ে নাও।
আমি এত এত যুদ্ধে শরিক হয়েছি—আমার শরীরে এমন কোনো জায়গা খালি নেই, যেখানে তরবারি আঘাত করেনি বা বর্শা-তির বিদ্ধ হয়নি; কিন্তু আজ আমি এখানে। একটা উটের মতো আমার বিছানায় শুয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছি। কাপুরুষরা ভয়ে ঘুমাতে পারে না; অথচ আমাকে দেখো, আমি শাহাদাতবরণ করার আকাঙ্ক্ষা লালন করতাম; কিন্তু তাকদিরের ফায়সালা ছিল আমার বিছানাতেই আমার মৃত্যু হবে।'৫২৪

খালিদ রা. উমর রা.-কে তাঁর অসিয়ত বাস্তবায়ন করতে বলেছিলেন। তাঁর অসিয়তনামায় লেখা ছিল, 'আমি আমার সমস্ত বিষয়, সহায়সম্পত্তি এবং অসিয়তনামা বাস্তবায়নের দায়িত্ব উমর ইবনুল খাত্তাবের ওপর অর্পণ করলাম।'

উমর রা. এ কথা শুনে কাঁদতে শুরু করেন। তখন তালহা ইবনু উবায়দুল্লাহ তাঁকে বলেন, আপনার আর খালিদের দৃষ্টান্তই যেন কোনো কবি এভাবে দিয়েছেন,

তোমাকে এমন অবস্থায় পাওয়ার কোনো ইচ্ছা আমার নেই
যে, আমার মৃত্যুর পর তুমি আমার জন্য অশ্রু ঝরাবে;
অথচ আমার জীবদ্দশায় তুমি কখনো
আমার জন্য সামান্য পাথেয়ও সংগ্রহ করে দাওনি। ৫২৫

খালিদের মৃত্যুতে উমর রা. অশ্রু ঝরান। তাঁর চাচার মেয়েও তাঁর জন্য কাঁদছিলেন। বর্ণিত আছে; তাঁদের কান্না থামাতে উমরকে বলা হলে তিনি বলেছিলেন, 'যতক্ষণ তাঁরা কাপড় ছিঁড়বে, বিলাপ না করবে, ততক্ষণ আবু সুলায়মানের জন্য তাঁদের চোখের পানি ফেলতে দাও। যারা কাঁদতে চায়, আবু সুলায়মানের জন্য তাদের কাঁদা উচিত। '৫২৬

তিনি খালিদ রা. সম্পর্কে বলেন, 'খালিদের মৃত্যুতে ইসলামের কাঠামোতে এমন একটা শূন্যতা তৈরি হয়েছে, যা সহজেই পূর্ণ হবে না। হায়! তিনি যদি জীবিত থাকতেন, কতই-না ভালো হতো! যতদিন জীবিত ছিলেন, ময়দানে অপ্রতিদ্বন্দ্বী যোদ্ধা ছিলেন। আল্লাহর শপথ, শত্রুদের মোকাবিলায় তিনি এক দুর্ভেদ্য প্রাচীর ছিলেন। তাঁর পরামর্শগুলোও অতুলনীয় হতো।'

বনু মাখজুমের কিছু লোকের সঙ্গে কবি হিশাম ইবনুল বাখতারি উমরের কাছে এলে উমর তাকে বলেন, 'তুমি খালিদ সম্পর্কে যা বলেছ, তা আমাকে আবৃত্তি করে শোনাও।' তিনি আবৃত্তি করলে উমর বলেন, 'আবু সুলায়মানের ওপর আল্লাহ রহম করুন। তোমার প্রশংসায় ঘাটতি রয়েছে। তিনি শিরককে ঘৃণা এবং মুশরিকদের লাঞ্ছিত করতে ভালোবাসতেন। তাঁর ব্যাপারে যে মন্দ বলবে, সে আল্লাহর অসন্তুষ্টির উপযুক্ত সাব্যস্ত হবে।'

এরপর কবির কবিতা দিয়ে উপমা দেন,

গত হওয়া জিনিসের বিরুদ্ধাচারের যে খায়েশ রাখে
তাকে বলে দাও, তার মতো যেন অন্য আরেকটা জিনিস তৈরি করে।
কারণ, যা গত হওয়ার, তা তো ইতিমধ্যে গত হয়েছে।

যে আমার পর জীবিত থাকবে,
তাঁর জীবিত থাকাতে আমার কোনো ফায়দা নেই।
আর না আমার পর যে মৃত্যুবরণ করবে,
তার মৃত্যু আমাকে জীবন দান করতে পারবে।

এরপর তিনি বলেন, 'আবু সুলায়মানের ওপর আল্লাহ রহম করুন। আল্লাহর কাছে তাঁর জন্য যা কিছু আছে, তা এই দুনিয়ায় তাঁর যা ছিল তার চেয়ে উত্তম। মৃত্যুর পরও তিনি তাঁর কীর্তিগাথার কারণে স্মরণীয়। তিনি সবাইকে শোকাগ্রস্ত করে গেলেন। আমি দেখিনি, সময় কাউকে পৃথিবীতে সর্বদার জন্য থাকতে দিয়েছে। ৫২৭

২. ইনতিকাল
খলিফাতুল মুসলিমিন উমর রা. খালিদকে সেনাপতির পদ থেকে অপসারণের পর তাঁকে বিভিন্ন প্রদেশে ওয়ালি নিয়োগ দেন। কিছুদিন পর খালিদ রা. স্বেচ্ছায় এ দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিয়ে মদিনায় স্থায়ীভাবে বসবাস করতে থাকেন। ২১ হিজরিতে ৬০ বছর বয়সে তিনি সিরিয়ার হিমসে ইনতিকাল করেন এবং সেখানেই সমাধিস্থ হন। ৫২৮ তবে কোনো কোনো বর্ণনায় ২২ হিজরির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তাতে রয়েছে, খালিদ রা. ইনতিকালের আগে কিছুদিন অসুস্থ ছিলেন। এরপর ২২ হিজরিতে মদিনায় ইনতিকাল করেন। তবে হিমসে তাঁর ইনতিকাল হয়েছে বলে যেসব বর্ণনা রয়েছে, সেসব সঠিক না-ও হতে পারে। কারণ, খলিফা উমর রা. তাঁর জানাজায় শরিক হয়েছিলেন বলে বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ আছে। ৫২৯ উল্লেখ্য, ইসলামগ্রহণের পর মাত্র ১৪ বছর জীবন পেয়েছিলেন তিনি। ৫৩০

মহাবীর খালিদ ইবনুল ওয়ালিদ রা.-এর মৃত্যুর পর উমর রা. বলেছিলেন, 'নারীরা খালিদের মতো সন্তান প্রসবে অক্ষম হয়ে গেছে।' খালিদের মৃত্যুর পর খলিফা অত্যন্ত ব্যাকুলভাবে কেঁদেছিলেন। মানুষ পরে জেনেছিল, শুধু তাঁর বিয়োগব্যথায় তিনি এভাবে কাঁদেননি; বরং খালিদের অপসারণের কারণ দূরীভূত হওয়ায় তিনি তাঁকে আবার সেনাপতির পদে নিয়োগ করতে চেয়েছিলেন। মৃত্যু তাঁর সেই ইচ্ছার প্রতিবন্ধক হওয়ায় তিনি এত কেঁদেছিলেন। ৫৩১

টিকাঃ
৫২৩. খালিদ ইবনুল ওয়ালিদ, সাদিক আরজুন: ৩৪৯; আল-খিলাফাহ ওয়াল-খুলাফা: ১৯৮।
৫২৪. সিয়ারু আলামিন নুবালা : ১/৩৮২; আত-তারিখ ইলাল মাদায়িন: ৩৬৭।
৫২৫. আল-ফারুক: ২৮৭।
৫২৬. আত-তারিখ ইলাল মাদায়িন: ৩৬৭।
৫২৭. আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া: ৭/১২৪।
৫২৮. আল-আলাম, জিরকালি: ২/২৯৫।
৫২৯. উসুদুল গাবাহ: ২/৯৬; আল-ইসাবাহ: ১/৪১৫।
৫৩০. আত-তারিখ ফিল কামিল, ইবনুল আসির: ৪১৮।
৫৩১. রিজালুন হাওলার রাসুল: ৩০৫।

১. মৃত্যুশয্যায় উমর রা. সম্পর্কে খালিদের বক্তব্য
খালিদের অন্তিম অসুস্থতার সময় আবুদ দারদা রা. তাঁকে দেখতে গেলে খালিদ রা. বলেন, 'হে আবুদ দারদা, উমরের মৃত্যু হলে আপনি অপছন্দনীয় অনেক বিষয় দেখতে পাবেন।' আবুদ দারদা বলেন, 'আল্লাহর শপথ, আমি আপনার সঙ্গে একমত পোষণ করছি।' খালিদ বলেন, 'একটা বিষয়ে আমি তাঁর ওপর ক্ষুব্ধ ছিলাম; কিন্তু অসুস্থ হওয়ার পর যখন বিষয়টা নিয়ে ভাবলাম এবং মৃত্যুকে হাতের নাগালে উপলব্ধি করলাম যে, উমর তাঁর যাবতীয় কাজকর্মে আল্লাহর সন্তুষ্টি তালাশ করেন। আমি তাঁর ওপর ক্ষুব্ধ হয়েছিলাম যখন তিনি আমার অর্ধেক সম্পদ নিতে লোক পাঠিয়েছিলেন। এমনকি তিনি একটা জুতা নিয়েছিলেন এবং আমি আরেকটা জুতা নিয়েছিলাম। কিন্তু যাঁরা আমার আগে ইসলামগ্রহণ করেছিলেন, যাঁরা বদরের যুদ্ধে উপস্থিত ছিলেন, তাঁদের সঙ্গেও তিনি অনুরূপ আচরণ করেছিলেন। তিনি আমার সঙ্গে কঠোর; অনুরূপ অন্যদের সঙ্গেও কঠোর ছিলেন। আমাদের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হওয়ায় আমি তাঁর থেকে অন্তরঙ্গ আচরণ প্রত্যাশা করেছিলাম; কিন্তু দেখলাম যে, তিনি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কারও তিরস্কার অথবা কোনো আত্মীয়ের হৃদ্যতা—কোনোকিছুই গ্রাহ্য করতেন না। তাঁর অবস্থা দেখে আমার সব অনুযোগ দূর হয়ে যায়। তিনি আমার সঙ্গে কঠোর আচরণ করতেন, যা আমাদের মতপার্থক্যের কারণেই হয়েছিল। আমি যুদ্ধের ময়দানে অবস্থান করতাম, কঠিন অবস্থা পার করতাম; কিন্তু তিনি তখন সেখানে উপস্থিত থাকতেন না, অবস্থা সম্পর্কে জানতেন না। যারা বেশি কষ্ট করত, আমি তাদের পুরস্কৃত করতাম। আমার এমন আচরণগুলোই মূলত তাঁর অপছন্দনীয় ছিল। ৫২৩

মৃত্যুর সময় তিনি উপলব্ধি করে কাঁদছিলেন আর বলছিলেন, 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলার পর অন্য কোনো কাজ আমাকে এত বেশি আশার আলো দেয়নি, যতটা এক তীব্র শীতের রাতে মুহাজিরদের সঙ্গে অভিযানে দিয়েছিল। সেদিন আমি বৃষ্টির মধ্যে আমার ঢাল বহন করে রাত্রিযাপন করেছি, প্রহর গুনেছি ভোরের, যেন আমরা কাফিরদের আক্রমণ করতে পারি। তোমরাও নিজেদের জন্য জিহাদকে আবশ্যক বানিয়ে নাও।
আমি এত এত যুদ্ধে শরিক হয়েছি—আমার শরীরে এমন কোনো জায়গা খালি নেই, যেখানে তরবারি আঘাত করেনি বা বর্শা-তির বিদ্ধ হয়নি; কিন্তু আজ আমি এখানে। একটা উটের মতো আমার বিছানায় শুয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছি। কাপুরুষরা ভয়ে ঘুমাতে পারে না; অথচ আমাকে দেখো, আমি শাহাদাতবরণ করার আকাঙ্ক্ষা লালন করতাম; কিন্তু তাকদিরের ফায়সালা ছিল আমার বিছানাতেই আমার মৃত্যু হবে।'৫২৪

খালিদ রা. উমর রা.-কে তাঁর অসিয়ত বাস্তবায়ন করতে বলেছিলেন। তাঁর অসিয়তনামায় লেখা ছিল, 'আমি আমার সমস্ত বিষয়, সহায়সম্পত্তি এবং অসিয়তনামা বাস্তবায়নের দায়িত্ব উমর ইবনুল খাত্তাবের ওপর অর্পণ করলাম।'

উমর রা. এ কথা শুনে কাঁদতে শুরু করেন। তখন তালহা ইবনু উবায়দুল্লাহ তাঁকে বলেন, আপনার আর খালিদের দৃষ্টান্তই যেন কোনো কবি এভাবে দিয়েছেন,

তোমাকে এমন অবস্থায় পাওয়ার কোনো ইচ্ছা আমার নেই
যে, আমার মৃত্যুর পর তুমি আমার জন্য অশ্রু ঝরাবে;
অথচ আমার জীবদ্দশায় তুমি কখনো
আমার জন্য সামান্য পাথেয়ও সংগ্রহ করে দাওনি। ৫২৫

খালিদের মৃত্যুতে উমর রা. অশ্রু ঝরান। তাঁর চাচার মেয়েও তাঁর জন্য কাঁদছিলেন। বর্ণিত আছে; তাঁদের কান্না থামাতে উমরকে বলা হলে তিনি বলেছিলেন, 'যতক্ষণ তাঁরা কাপড় ছিঁড়বে, বিলাপ না করবে, ততক্ষণ আবু সুলায়মানের জন্য তাঁদের চোখের পানি ফেলতে দাও। যারা কাঁদতে চায়, আবু সুলায়মানের জন্য তাদের কাঁদা উচিত। '৫২৬

তিনি খালিদ রা. সম্পর্কে বলেন, 'খালিদের মৃত্যুতে ইসলামের কাঠামোতে এমন একটা শূন্যতা তৈরি হয়েছে, যা সহজেই পূর্ণ হবে না। হায়! তিনি যদি জীবিত থাকতেন, কতই-না ভালো হতো! যতদিন জীবিত ছিলেন, ময়দানে অপ্রতিদ্বন্দ্বী যোদ্ধা ছিলেন। আল্লাহর শপথ, শত্রুদের মোকাবিলায় তিনি এক দুর্ভেদ্য প্রাচীর ছিলেন। তাঁর পরামর্শগুলোও অতুলনীয় হতো।'

বনু মাখজুমের কিছু লোকের সঙ্গে কবি হিশাম ইবনুল বাখতারি উমরের কাছে এলে উমর তাকে বলেন, 'তুমি খালিদ সম্পর্কে যা বলেছ, তা আমাকে আবৃত্তি করে শোনাও।' তিনি আবৃত্তি করলে উমর বলেন, 'আবু সুলায়মানের ওপর আল্লাহ রহম করুন। তোমার প্রশংসায় ঘাটতি রয়েছে। তিনি শিরককে ঘৃণা এবং মুশরিকদের লাঞ্ছিত করতে ভালোবাসতেন। তাঁর ব্যাপারে যে মন্দ বলবে, সে আল্লাহর অসন্তুষ্টির উপযুক্ত সাব্যস্ত হবে।'

এরপর কবির কবিতা দিয়ে উপমা দেন,

গত হওয়া জিনিসের বিরুদ্ধাচারের যে খায়েশ রাখে
তাকে বলে দাও, তার মতো যেন অন্য আরেকটা জিনিস তৈরি করে।
কারণ, যা গত হওয়ার, তা তো ইতিমধ্যে গত হয়েছে।

যে আমার পর জীবিত থাকবে,
তাঁর জীবিত থাকাতে আমার কোনো ফায়দা নেই।
আর না আমার পর যে মৃত্যুবরণ করবে,
তার মৃত্যু আমাকে জীবন দান করতে পারবে।

এরপর তিনি বলেন, 'আবু সুলায়মানের ওপর আল্লাহ রহম করুন। আল্লাহর কাছে তাঁর জন্য যা কিছু আছে, তা এই দুনিয়ায় তাঁর যা ছিল তার চেয়ে উত্তম। মৃত্যুর পরও তিনি তাঁর কীর্তিগাথার কারণে স্মরণীয়। তিনি সবাইকে শোকাগ্রস্ত করে গেলেন। আমি দেখিনি, সময় কাউকে পৃথিবীতে সর্বদার জন্য থাকতে দিয়েছে। ৫২৭

২. ইনতিকাল
খলিফাতুল মুসলিমিন উমর রা. খালিদকে সেনাপতির পদ থেকে অপসারণের পর তাঁকে বিভিন্ন প্রদেশে ওয়ালি নিয়োগ দেন। কিছুদিন পর খালিদ রা. স্বেচ্ছায় এ দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিয়ে মদিনায় স্থায়ীভাবে বসবাস করতে থাকেন। ২১ হিজরিতে ৬০ বছর বয়সে তিনি সিরিয়ার হিমসে ইনতিকাল করেন এবং সেখানেই সমাধিস্থ হন। ৫২৮ তবে কোনো কোনো বর্ণনায় ২২ হিজরির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তাতে রয়েছে, খালিদ রা. ইনতিকালের আগে কিছুদিন অসুস্থ ছিলেন। এরপর ২২ হিজরিতে মদিনায় ইনতিকাল করেন। তবে হিমসে তাঁর ইনতিকাল হয়েছে বলে যেসব বর্ণনা রয়েছে, সেসব সঠিক না-ও হতে পারে। কারণ, খলিফা উমর রা. তাঁর জানাজায় শরিক হয়েছিলেন বলে বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ আছে। ৫২৯ উল্লেখ্য, ইসলামগ্রহণের পর মাত্র ১৪ বছর জীবন পেয়েছিলেন তিনি। ৫৩০

মহাবীর খালিদ ইবনুল ওয়ালিদ রা.-এর মৃত্যুর পর উমর রা. বলেছিলেন, 'নারীরা খালিদের মতো সন্তান প্রসবে অক্ষম হয়ে গেছে।' খালিদের মৃত্যুর পর খলিফা অত্যন্ত ব্যাকুলভাবে কেঁদেছিলেন। মানুষ পরে জেনেছিল, শুধু তাঁর বিয়োগব্যথায় তিনি এভাবে কাঁদেননি; বরং খালিদের অপসারণের কারণ দূরীভূত হওয়ায় তিনি তাঁকে আবার সেনাপতির পদে নিয়োগ করতে চেয়েছিলেন। মৃত্যু তাঁর সেই ইচ্ছার প্রতিবন্ধক হওয়ায় তিনি এত কেঁদেছিলেন। ৫৩১

টিকাঃ
৫২৩. খালিদ ইবনুল ওয়ালিদ, সাদিক আরজুন: ৩৪৯; আল-খিলাফাহ ওয়াল-খুলাফা: ১৯৮।
৫২৪. সিয়ারু আলামিন নুবালা : ১/৩৮২; আত-তারিখ ইলাল মাদায়িন: ৩৬৭।
৫২৫. আল-ফারুক: ২৮৭।
৫২৬. আত-তারিখ ইলাল মাদায়িন: ৩৬৭।
৫২৭. আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া: ৭/১২৪।
৫২৮. আল-আলাম, জিরকালি: ২/২৯৫।
৫২৯. উসুদুল গাবাহ: ২/৯৬; আল-ইসাবাহ: ১/৪১৫।
৫৩০. আত-তারিখ ফিল কামিল, ইবনুল আসির: ৪১৮।
৫৩১. রিজালুন হাওলার রাসুল: ৩০৫।

📘 খালিদ ইবনুল ওয়ালিদ রা: > 📄 হাদিস বর্ণনাকারী খালিদ

📄 হাদিস বর্ণনাকারী খালিদ


ইসলামগ্রহণের পর খালিদ ইবনু ওয়ালিদের জীবনের প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত জিহাদের ময়দানে অতিবাহিত হয়েছে। এ কারণে রাসুল -এর সুহবতে থাকার সুযোগ ও সময় খুব কম পেয়েছেন তিনি। খালিদ নিজেই বলেছেন, 'জিহাদের ব্যস্ততা কুরআনের বিরাট একটা অংশ শিক্ষা থেকে আমাকে বঞ্চিত করেছে। ৫৩২ এরপরও সুহবতে নববির ফয়েজ ও ইলমের সৌভাগ্য থেকে তিনি একেবারে বঞ্চিত ছিলেন, এমনটা বলা যাবে না। কেননা, নবিজির ইনতিকালের পর মদিনার আলিম ও মুফতি সাহাবিদের মধ্যে তিনিও ছিলেন একজন। তবে সেনা-স্বভাবের কারণে ফাতওয়ার মসনদে কখনো বসেননি। ফলে তাঁর ফাতওয়ার সংখ্যা দু-চারটির বেশি পাওয়া যায় না। তবে তাঁর থেকে বর্ণিত মোট ১৮টি হাদিস রয়েছে। এর মধ্যে দুটি মুত্তাফাক আলাইহি অর্থাৎ, ইমাম বুখারি ও ইমাম মুসলিম রাহ. তাঁদের কিতাবে উল্লেখ করেছেন এবং ইমাম বুখারি রা. এককভাবে আরেকটি বর্ণনা করেছেন।

টিকাঃ
৫৩২. আল-ইসাবাহ: ১/৪১৫।

ইসলামগ্রহণের পর খালিদ ইবনু ওয়ালিদের জীবনের প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত জিহাদের ময়দানে অতিবাহিত হয়েছে। এ কারণে রাসুল -এর সুহবতে থাকার সুযোগ ও সময় খুব কম পেয়েছেন তিনি। খালিদ নিজেই বলেছেন, 'জিহাদের ব্যস্ততা কুরআনের বিরাট একটা অংশ শিক্ষা থেকে আমাকে বঞ্চিত করেছে। ৫৩২ এরপরও সুহবতে নববির ফয়েজ ও ইলমের সৌভাগ্য থেকে তিনি একেবারে বঞ্চিত ছিলেন, এমনটা বলা যাবে না। কেননা, নবিজির ইনতিকালের পর মদিনার আলিম ও মুফতি সাহাবিদের মধ্যে তিনিও ছিলেন একজন। তবে সেনা-স্বভাবের কারণে ফাতওয়ার মসনদে কখনো বসেননি। ফলে তাঁর ফাতওয়ার সংখ্যা দু-চারটির বেশি পাওয়া যায় না। তবে তাঁর থেকে বর্ণিত মোট ১৮টি হাদিস রয়েছে। এর মধ্যে দুটি মুত্তাফাক আলাইহি অর্থাৎ, ইমাম বুখারি ও ইমাম মুসলিম রাহ. তাঁদের কিতাবে উল্লেখ করেছেন এবং ইমাম বুখারি রা. এককভাবে আরেকটি বর্ণনা করেছেন।

টিকাঃ
৫৩২. আল-ইসাবাহ: ১/৪১৫।

ইসলামগ্রহণের পর খালিদ ইবনু ওয়ালিদের জীবনের প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত জিহাদের ময়দানে অতিবাহিত হয়েছে। এ কারণে রাসুল -এর সুহবতে থাকার সুযোগ ও সময় খুব কম পেয়েছেন তিনি। খালিদ নিজেই বলেছেন, 'জিহাদের ব্যস্ততা কুরআনের বিরাট একটা অংশ শিক্ষা থেকে আমাকে বঞ্চিত করেছে। ৫৩২ এরপরও সুহবতে নববির ফয়েজ ও ইলমের সৌভাগ্য থেকে তিনি একেবারে বঞ্চিত ছিলেন, এমনটা বলা যাবে না। কেননা, নবিজির ইনতিকালের পর মদিনার আলিম ও মুফতি সাহাবিদের মধ্যে তিনিও ছিলেন একজন। তবে সেনা-স্বভাবের কারণে ফাতওয়ার মসনদে কখনো বসেননি। ফলে তাঁর ফাতওয়ার সংখ্যা দু-চারটির বেশি পাওয়া যায় না। তবে তাঁর থেকে বর্ণিত মোট ১৮টি হাদিস রয়েছে। এর মধ্যে দুটি মুত্তাফাক আলাইহি অর্থাৎ, ইমাম বুখারি ও ইমাম মুসলিম রাহ. তাঁদের কিতাবে উল্লেখ করেছেন এবং ইমাম বুখারি রা. এককভাবে আরেকটি বর্ণনা করেছেন।

টিকাঃ
৫৩২. আল-ইসাবাহ: ১/৪১৫।

📘 খালিদ ইবনুল ওয়ালিদ রা: > 📄 খালিদের ফাজিলত

📄 খালিদের ফাজিলত


রাসুল নানা প্রসঙ্গে একাধিকবার তাঁর প্রশংসা করেছেন। মক্কাবিজয়ের সময় একদিন কিছু দূরে খালিদকে দেখা গেলে রাসুল আবু হুরায়রাকে বলেন, 'দেখো তো কে?' তিনি বললেন, 'খালিদ'। রাসুল বললেন, 'আল্লাহর এ বান্দা কতই-না ভালো। 'রাসুল একবার সাহাবিদের উদ্দেশ করে বলেন', তোমরা খালিদকে কষ্ট দেবে না। কারণ, সে কাফিরদের বিরুদ্ধে চালিত আল্লাহর তরবারি।'

একবার আম্মার ইবনু ইয়াসির রা. ও তাঁর মধ্যে ঝগড়া হয়। খালিদ তাঁকে কিছু কটুকথা বলে ফেলেন। আম্মার রা. তখন নবিজির কাছে বিচার দেন। সব শুনে নবিজি বলেন, 'যে আম্মারের সঙ্গে হিংসা ও শত্রুতা রাখে, সে আল্লাহর সঙ্গে হিংসা ও শত্রুতা রাখে।' নবিজির এ কথায় খালিদের ওপর এমন প্রতিক্রিয়া হয় যে, তিনি তখনই আম্মারের কাছে ছুটে যান এবং তাঁকে খুশি করিয়ে নেন। খালিদ রা. নিজেই বলেছেন, 'রাসুল -এর কাছ থেকে ওঠার পর আম্মারের সন্তুষ্টি অর্জন করা ছাড়া আমার কাছে অধিক প্রিয় আর কোনো জিনিস ছিল না।'

খালিদ ইবনুল ওয়ালিদের হৃদয়ে রাসুল -এর প্রতি ভক্তি ও ভালোবাসা এত তীব্র ছিল যে, রাসুলের শানে কেউ সামান্য অমার্জিত কোনো কথা বললে তিনি সহ্য করতে পারতেন না। বলতেন, 'ইয়া রাসুলুল্লাহ, অনুমতি দিন, ওর গর্দান উড়িয়ে দিই।'

রাসুল নানা প্রসঙ্গে একাধিকবার তাঁর প্রশংসা করেছেন। মক্কাবিজয়ের সময় একদিন কিছু দূরে খালিদকে দেখা গেলে রাসুল আবু হুরায়রাকে বলেন, 'দেখো তো কে?' তিনি বললেন, 'খালিদ'। রাসুল বললেন, 'আল্লাহর এ বান্দা কতই-না ভালো। 'রাসুল একবার সাহাবিদের উদ্দেশ করে বলেন', তোমরা খালিদকে কষ্ট দেবে না। কারণ, সে কাফিরদের বিরুদ্ধে চালিত আল্লাহর তরবারি।'

একবার আম্মার ইবনু ইয়াসির রা. ও তাঁর মধ্যে ঝগড়া হয়। খালিদ তাঁকে কিছু কটুকথা বলে ফেলেন। আম্মার রা. তখন নবিজির কাছে বিচার দেন। সব শুনে নবিজি বলেন, 'যে আম্মারের সঙ্গে হিংসা ও শত্রুতা রাখে, সে আল্লাহর সঙ্গে হিংসা ও শত্রুতা রাখে।' নবিজির এ কথায় খালিদের ওপর এমন প্রতিক্রিয়া হয় যে, তিনি তখনই আম্মারের কাছে ছুটে যান এবং তাঁকে খুশি করিয়ে নেন। খালিদ রা. নিজেই বলেছেন, 'রাসুল -এর কাছ থেকে ওঠার পর আম্মারের সন্তুষ্টি অর্জন করা ছাড়া আমার কাছে অধিক প্রিয় আর কোনো জিনিস ছিল না।'

খালিদ ইবনুল ওয়ালিদের হৃদয়ে রাসুল -এর প্রতি ভক্তি ও ভালোবাসা এত তীব্র ছিল যে, রাসুলের শানে কেউ সামান্য অমার্জিত কোনো কথা বললে তিনি সহ্য করতে পারতেন না। বলতেন, 'ইয়া রাসুলুল্লাহ, অনুমতি দিন, ওর গর্দান উড়িয়ে দিই।'

রাসুল নানা প্রসঙ্গে একাধিকবার তাঁর প্রশংসা করেছেন। মক্কাবিজয়ের সময় একদিন কিছু দূরে খালিদকে দেখা গেলে রাসুল আবু হুরায়রাকে বলেন, 'দেখো তো কে?' তিনি বললেন, 'খালিদ'। রাসুল বললেন, 'আল্লাহর এ বান্দা কতই-না ভালো। 'রাসুল একবার সাহাবিদের উদ্দেশ করে বলেন', তোমরা খালিদকে কষ্ট দেবে না। কারণ, সে কাফিরদের বিরুদ্ধে চালিত আল্লাহর তরবারি।'

একবার আম্মার ইবনু ইয়াসির রা. ও তাঁর মধ্যে ঝগড়া হয়। খালিদ তাঁকে কিছু কটুকথা বলে ফেলেন। আম্মার রা. তখন নবিজির কাছে বিচার দেন। সব শুনে নবিজি বলেন, 'যে আম্মারের সঙ্গে হিংসা ও শত্রুতা রাখে, সে আল্লাহর সঙ্গে হিংসা ও শত্রুতা রাখে।' নবিজির এ কথায় খালিদের ওপর এমন প্রতিক্রিয়া হয় যে, তিনি তখনই আম্মারের কাছে ছুটে যান এবং তাঁকে খুশি করিয়ে নেন। খালিদ রা. নিজেই বলেছেন, 'রাসুল -এর কাছ থেকে ওঠার পর আম্মারের সন্তুষ্টি অর্জন করা ছাড়া আমার কাছে অধিক প্রিয় আর কোনো জিনিস ছিল না।'

খালিদ ইবনুল ওয়ালিদের হৃদয়ে রাসুল -এর প্রতি ভক্তি ও ভালোবাসা এত তীব্র ছিল যে, রাসুলের শানে কেউ সামান্য অমার্জিত কোনো কথা বললে তিনি সহ্য করতে পারতেন না। বলতেন, 'ইয়া রাসুলুল্লাহ, অনুমতি দিন, ওর গর্দান উড়িয়ে দিই।'

📘 খালিদ ইবনুল ওয়ালিদ রা: > 📄 দ্বীনের সফল দায়ি

📄 দ্বীনের সফল দায়ি


উম্মাহর গর্ব খালিদ রা. কেবল একজন সেনা-ই ছিলেন না; দক্ষ দায়িও ছিলেন। বনু জুজায়মা ও মালিক ইবন নুওয়াইরার ব্যাপারে ত্বরিত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ফলে যে ক্ষতি হয়, তা লক্ষ করে রাসুল পরবর্তী সময়ে তাঁকে কোথাও পাঠানোর সময় উপদেশ দিতেন— 'শুধু ইসলামের দাওয়াত দেবে, তরবারি ওঠাবে না।' তেমনিভাবে ইয়ামেনে পাঠানোর সময়ও নির্দেশ দেন, 'তোমার পক্ষ থেকে যেন যুদ্ধের সূচনা না হয়।'

এ হিদায়াত লাভের পর যত যুদ্ধে তিনি অংশ নিয়েছেন, কোথাও কোনো প্রকার বাড়াবাড়ি হয়েছে বলে জানা যায়নি। রাসুলের জীবদ্দশায় এবং তাঁর ইনতিকালের পরেও তিনি দীনের দাওয়াতের কাজ আনজাম দিয়েছেন। মক্কাবিজয়ের পর রাসুল- এর নির্দেশে ইসলামপ্রচারের জন্য বিভিন্ন এলাকায় যান এবং তাঁর প্রচেষ্টায় অনেকেই ইসলামগ্রহণ করেন। ইয়ামেনের দাওয়াতি কাজে তিনি আলির রা.-এর সহযোগী ছিলেন। তাঁরই চেষ্টায় মিথ্যা নবুওয়াতের দাবিদার ভণ্ড তুলায়হা আসাদির সহযোগী বনু হাওয়াজিন, সুলাইম ও আমির পুনরায় ইসলামে ফিরে আসে। এ ছাড়া অসংখ্য লোক বিভিন্ন সময় তাঁর দাওয়াতে সাড়া দিয়ে ইসলাম কবুল করে।

প্রতিটা যুদ্ধ শুরুর আগে ইসলামের নিয়মানুযায়ী প্রতিপক্ষকে সবসময় তিনি ইসলামের দাওয়াত দিয়েছেন। ময়দানে প্রচন্ড যুদ্ধের মধ্যেও সফল একজন দায়ির ভূমিকা পালন করেছেন। ইয়ারমুকের রোমান সেনা জারজাহ এর জ্বলন্ত প্রমাণ।

উম্মাহর গর্ব খালিদ রা. কেবল একজন সেনা-ই ছিলেন না; দক্ষ দায়িও ছিলেন। বনু জুজায়মা ও মালিক ইবন নুওয়াইরার ব্যাপারে ত্বরিত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ফলে যে ক্ষতি হয়, তা লক্ষ করে রাসুল পরবর্তী সময়ে তাঁকে কোথাও পাঠানোর সময় উপদেশ দিতেন— 'শুধু ইসলামের দাওয়াত দেবে, তরবারি ওঠাবে না।' তেমনিভাবে ইয়ামেনে পাঠানোর সময়ও নির্দেশ দেন, 'তোমার পক্ষ থেকে যেন যুদ্ধের সূচনা না হয়।'

এ হিদায়াত লাভের পর যত যুদ্ধে তিনি অংশ নিয়েছেন, কোথাও কোনো প্রকার বাড়াবাড়ি হয়েছে বলে জানা যায়নি। রাসুলের জীবদ্দশায় এবং তাঁর ইনতিকালের পরেও তিনি দীনের দাওয়াতের কাজ আনজাম দিয়েছেন। মক্কাবিজয়ের পর রাসুল- এর নির্দেশে ইসলামপ্রচারের জন্য বিভিন্ন এলাকায় যান এবং তাঁর প্রচেষ্টায় অনেকেই ইসলামগ্রহণ করেন। ইয়ামেনের দাওয়াতি কাজে তিনি আলির রা.-এর সহযোগী ছিলেন। তাঁরই চেষ্টায় মিথ্যা নবুওয়াতের দাবিদার ভণ্ড তুলায়হা আসাদির সহযোগী বনু হাওয়াজিন, সুলাইম ও আমির পুনরায় ইসলামে ফিরে আসে। এ ছাড়া অসংখ্য লোক বিভিন্ন সময় তাঁর দাওয়াতে সাড়া দিয়ে ইসলাম কবুল করে।

প্রতিটা যুদ্ধ শুরুর আগে ইসলামের নিয়মানুযায়ী প্রতিপক্ষকে সবসময় তিনি ইসলামের দাওয়াত দিয়েছেন। ময়দানে প্রচন্ড যুদ্ধের মধ্যেও সফল একজন দায়ির ভূমিকা পালন করেছেন। ইয়ারমুকের রোমান সেনা জারজাহ এর জ্বলন্ত প্রমাণ।

উম্মাহর গর্ব খালিদ রা. কেবল একজন সেনা-ই ছিলেন না; দক্ষ দায়িও ছিলেন। বনু জুজায়মা ও মালিক ইবন নুওয়াইরার ব্যাপারে ত্বরিত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ফলে যে ক্ষতি হয়, তা লক্ষ করে রাসুল পরবর্তী সময়ে তাঁকে কোথাও পাঠানোর সময় উপদেশ দিতেন— 'শুধু ইসলামের দাওয়াত দেবে, তরবারি ওঠাবে না।' তেমনিভাবে ইয়ামেনে পাঠানোর সময়ও নির্দেশ দেন, 'তোমার পক্ষ থেকে যেন যুদ্ধের সূচনা না হয়।'

এ হিদায়াত লাভের পর যত যুদ্ধে তিনি অংশ নিয়েছেন, কোথাও কোনো প্রকার বাড়াবাড়ি হয়েছে বলে জানা যায়নি। রাসুলের জীবদ্দশায় এবং তাঁর ইনতিকালের পরেও তিনি দীনের দাওয়াতের কাজ আনজাম দিয়েছেন। মক্কাবিজয়ের পর রাসুল- এর নির্দেশে ইসলামপ্রচারের জন্য বিভিন্ন এলাকায় যান এবং তাঁর প্রচেষ্টায় অনেকেই ইসলামগ্রহণ করেন। ইয়ামেনের দাওয়াতি কাজে তিনি আলির রা.-এর সহযোগী ছিলেন। তাঁরই চেষ্টায় মিথ্যা নবুওয়াতের দাবিদার ভণ্ড তুলায়হা আসাদির সহযোগী বনু হাওয়াজিন, সুলাইম ও আমির পুনরায় ইসলামে ফিরে আসে। এ ছাড়া অসংখ্য লোক বিভিন্ন সময় তাঁর দাওয়াতে সাড়া দিয়ে ইসলাম কবুল করে।

প্রতিটা যুদ্ধ শুরুর আগে ইসলামের নিয়মানুযায়ী প্রতিপক্ষকে সবসময় তিনি ইসলামের দাওয়াত দিয়েছেন। ময়দানে প্রচন্ড যুদ্ধের মধ্যেও সফল একজন দায়ির ভূমিকা পালন করেছেন। ইয়ারমুকের রোমান সেনা জারজাহ এর জ্বলন্ত প্রমাণ।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00