📘 খালিদ ইবনুল ওয়ালিদ রা: > 📄 ‘সাইফুল্লাহ’ উপাধি লাভ

📄 ‘সাইফুল্লাহ’ উপাধি লাভ


মুতার যুদ্ধের ব্যাপারে রাসুলের পক্ষ থেকে একটি মুজিজা ঘটনা প্রকাশ পেয়েছিল। যুদ্ধের সংবাদ মদিনায় পৌঁছার আগেই খালিদ মদিনাবাসীর কাছে জায়েদ, জাফর ইবনু আবি তালিব ও আবদুল্লাহ ইবনু রাওয়াহার মৃত্যুসংবাদ জানিয়ে দেন। ফলে সেনাবাহিনীর অবস্থা নিয়ে রাসুল বিচলিত হয়ে পড়েন। তাঁর চোখ অশ্রুসিক্ত হয়ে ওঠে। তখন তিনি মদিনাবাসীর সামনে খালিদ ইবনুল ওয়ালিদের পতাকাগ্রহণ ও সাহাবিদের বিজয়ের সংবাদ জানিয়ে তাঁকে 'সাইফুল্লাহ' উপাধিতে ভূষিত করেন। নবিজি সাহাবিদের এ সংবাদ জানানোর কিছুক্ষণ পরই সংবাদবাহক যুদ্ধের খবর নিয়ে মদিনায় আসে। রাসুলের দেওয়া সংবাদই যেন সে মানুষের সামনে পুনঃপেশ করে। সুবহানাল্লাহ!

যুদ্ধফেরত বাহিনী মদিনার কাছাকাছি পৌঁছলে রাসুল সাহাবিদের নিয়ে তাঁদের স্বাগত জানাতে বেরিয়ে পড়েন। শিশু-কিশোররা দৌড়ে তাঁদের দিকে এগিয়ে যায়। নবিজি সবাইকে নিয়ে বাহনে চড়ে এগিয়ে যান। তিনি বলেন, 'তোমরা শিশুদের বাহনে বসিয়ে নাও; আর জাফরের সন্তানকে আমার হাতে তুলে দাও।' আবদুল্লাহ ইবনু জাফরকে তাঁর কাছে আনা হলে তাঁকে নিজের বাহনে বসিয়ে নেন। লোকজন মুসলিমবাহিনীর দিকে মাটি নিক্ষেপ করে বলছিল, 'হে পলাতক বাহিনী, তোমরা আল্লাহর রাস্তা থেকে পালিয়ে এসেছ। রাসুল তাঁদের থামিয়ে বলেন, 'তাঁরা পলাতক নয়; বরং তাঁরা পুনরায় আক্রমণকারী প্রমাণিত হবে ইনশাআল্লাহ। '

লক্ষ করুন, কী মানসিকতা ছিল তখনকার মুসলিমদের। আল্লাহর রাস্তায় শাহাদাত ছাড়া ফিরে আসাকে মদিনার ছোট্ট শিশুরা পর্যন্ত পলায়ন বিবেচনা করছিল। তাঁদের মুখে মাটি ছিটয়ে প্রতিবাদ করছিল। আজ রাজপথের আমাদের উদ্ভ্রান্ত যুবকরা কোথায়? প্রথম যুগের সেই সোনালি উদাহরণ সামনে থাকার পরও তাদের অবস্থান কেমন? নববি আদর্শে অনুপ্রাণিত ইসলামি পদ্ধতিতে দীক্ষা পাওয়া ছাড়া শৌর্যবীর্যের উন্নত শিখরে ওঠা উম্মাহর পক্ষে কখনো সম্ভব হবে না।

টিকাঃ
৫৬. নাজরাতুন নায়িম: ১/৩৬০。
৫৭. আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া: ৪/২৫৫。
৫৮. আস-সিরাতুন নাবাবিয়া, আবুল হাসান আলি নদবি: ৩২৮。
৫৯. দুরস ও ইবার মিনাল জিহাদিন নাবাবি: ৩৫৮।

📘 খালিদ ইবনুল ওয়ালিদ রা: > 📄 রণাঙ্গনে যেভাবে সেনাপতির দায়িত্ব পান খালিদ

📄 রণাঙ্গনে যেভাবে সেনাপতির দায়িত্ব পান খালিদ


রাসুলের পক্ষ থেকে নির্ধারিত শেষ সেনাপতি আবদুল্লাহ ইবনু রাওয়াহার শাহাদাতের পর সাবিত ইবনু আকরাম এগিয়ে এসে মুসলিমবাহিনীর পতাকা ধারণ করেন। একজন যোদ্ধা হিসেবে তাঁর যা করণীয় ছিল, তিনি তা করেছিলেন। তখন পতাকা ভূলুণ্ঠিত হওয়াকে সংশ্লিষ্ট বাহিনীর পরাজয় ধরে নেওয়া হতো। তাই তিনি পতাকা সমুন্নত রেখে উচ্চৈঃস্বরে মুসলিমদের ডেকে বলছিলেন, তাঁরা যেন তাঁদের নেতা নির্বাচিত করে নেন। যুদ্ধ চলাকালে তাঁকেই নেতৃত্বের প্রস্তাব দেওয়া হলে তিনি বলেছিলেন, 'আমি এ বোঝা বহনে অসমর্থ।' এরপর লোকেরা খালিদ ইবনুল ওয়ালিদকে নির্বাচিত করে।

এক বর্ণনায় দেখা যায়, সাবিত রা. পতাকা উঠিয়ে খালিদ ইবনুল ওয়ালিদের কাছে চলে আসেন। খালিদ তাঁকে বলেন, 'আমি আপনার কাছ থেকে এ পতাকা নেব না। আপনিই তা বহনের অধিক হকদার।' উত্তরে তিনি বলেন, 'আল্লাহর শপথ, আমি তা আপনাকে দিতেই হাতে নিয়েছিলাম।'

ইমতাউল আসমা গ্রন্থে আছে, সাবিত ইবনু আকরাম রা. খালিদ ইবনুল ওয়ালিদকে সম্বোধন করে বলেন, 'আবু সুলায়মান, আপনি পতাকা হাতে নিন।' খালিদ উত্তরে বলেন, 'আপনি আমার চেয়ে এই পতাকা বহনের বেশি উপযুক্ত। কেননা, একে তো আপনি বয়সে বড় ও অভিজ্ঞ; তার ওপর আপনি বদরযুদ্ধে অংশগ্রহণের সৌভাগ্য অর্জনকারী।' উত্তরে সাবিত বলেন, 'আমি তো এই পতাকা শুধু আপনাকেই দিতেই হাতে উঠিয়েছি; সুতরাং আপনিই নিন।' এরপর খালিদ পতাকা নেন।

টিকাঃ
৬০. ইমতাউল আসমা: ১/৩৪৮-৩৪৯।

📘 খালিদ ইবনুল ওয়ালিদ রা: > 📄 নেতৃত্বের অধিকার

📄 নেতৃত্বের অধিকার


উভয় বর্ণনা থেকে বোঝা যায়, সাবিত রা. প্রথমে মুসলিমদের একত্রিত করেছিলেন এবং পতাকা খালিদের মতো যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তির হাতে অর্পণ করেছিলেন। যদিও উপস্থিত সবাই বলেন, 'আপনি আমাদের নেতৃত্ব নিন।' কিন্তু তিনি নিজেকে এ পদের জন্য সমীচীন মনে করেননি। তিনি ভাবছিলেন, যেহেতু এই পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনীর নেতৃত্ব দেওয়ার যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তি উপস্থিত আছেন, তখন অযোগ্য ব্যক্তির কাছে নেতৃত্ব রাখা বা দেওয়া উচিত নয়। কোনো কাজ যখন একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য করা হয়, তখন সেখানে কোনো প্রকার মর্যাদা বা প্রতিপত্তির লোভ থাকে না।

সাবিত রা. মুসলিমবাহিনীর নেতৃত্বদানে অক্ষম ছিলেন না। তিনি বদরযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন; কিন্তু তাঁর চেয়ে যোগ্য ব্যক্তির উপস্থিতিতে তিনি তা নেওয়া সমীচীন মনে করেননি। যদিও তখন খালিদ ইবনুল ওয়ালিদের ইসলামগ্রহণের বয়স ছিল মাত্র তিন মাস। এ ক্ষেত্রে মৌলিক লক্ষ্য থাকে আল্লাহর আদেশ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সর্বোত্তম ও সমীচীন পন্থায় আদায়ের সক্ষমতা।

বর্তমানে মুসলিম নেতৃত্বের ক্ষেত্রে নানা ধরনের সমস্যা পরিলক্ষিত হয়। এসব সমস্যার মূলে রয়েছে নেতৃত্ব চলে যাওয়ার আশঙ্কা, নিজের ওপর অত্যধিক আত্মবিশ্বাস এবং পার্থিব কামনা-বাসনার বাস্তবায়ন। সাবিত রা.-এর দেখানো উত্তম আদর্শ বর্তমানের নেতাদের সামনে উপদেশের ডালি নিয়ে উপস্থিত হয়; কিন্তু তা থেকে উপদেশ নেন কেবল তাঁরা, যাঁদের রয়েছে অনুধাবনের মতো আত্মা, শোনার মতো কান।

টিকাঃ
৬১. আত-তারিখুল ইসলামি, হুমায়দি: ৭/১২৪。
৬২. মুয়িনুস সিরাহ: ৩৭৬।

📘 খালিদ ইবনুল ওয়ালিদ রা: > 📄 নববি শিক্ষায় নেতৃত্বের সম্মান

📄 নববি শিক্ষায় নেতৃত্বের সম্মান


আওফ ইবনু মালিক আশজায়ি রা. বলেন, আমি জায়েদ ইবনুল হারিসার সঙ্গে মুতার যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলাম। আমার সঙ্গে ইয়ামেনের এক হিমইয়ারি সাথিও শরিক ছিল। একপর্যায়ে রোমানদের সঙ্গে আমাদের সংঘর্ষ বেঁধে যায়। বর্মাচ্ছাদিত এক রোমান সেনা লাল রঙের ঘোড়ায় আরোহী ছিল। সে মুসলিমদের ওপর তুমুল আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছিল। এদিকে আমার হিমইয়ারি সাথি একটা পাথরের আড়ালে তার জন্য ওত পেতে বসা ছিল। রোমান অশ্বারোহী যখন তার সামনে পড়ে, মুহূর্তেই সে তরবারির আঘাতে ওর ঘোড়ার পা কেটে ফেলে। তখন ওই রোমান সেনা পালাতে চাইলে সে ধাওয়া করে তাকে হত্যা করে। এরপর তার ঘোড়াসহ যাবতীয় অস্ত্রশস্ত্র নিজের আয়ত্তে নিয়ে নেয়।

মুসলিমরা বিজয়ী হলে খালিদ রা. নিহতদের থেকে অর্জিত যাবতীয় অস্ত্রশস্ত্র জমা দেওয়ার আদেশ দেন। আওফ বলেন, আমি খালিদের কাছে গিয়ে বলি, 'খালিদ, হয়তো আপনি জানেন না, রাসুল ﷺ নিহতের অস্ত্রশস্ত্র ও সম্পদ হন্তারককে দেওয়ার বিধান দিয়েছেন।' খালিদ বলেন, 'নিঃসন্দেহে বিধান তা-ই। তবে আমার কাছে এ সম্পদ অধিক মনে হচ্ছে।' উত্তরে আমি তাঁকে বলি, 'আপনি এই পুরো সম্পদ হন্তারককেই দেবেন, অথবা আমি এ ব্যাপারে রাসুলের কাছে অভিযোগ করব।' তবু তিনি তাঁকে এ সম্পদ দিতে অস্বীকার করেন।

আওফ রা. বলেন, আমরা রাসুলের কাছে বিস্তারিত বিবরণ পেশ করি। রাসুল ﷺ বলেন, 'খালিদ, তুমি এমনটা কেন করেছ?' উত্তরে তিনি বলেন, 'আমার কাছে এ সম্পদ বেশি মনে হয়েছে।' নবিজি তখন যাবতীয় সম্পদ হন্তারককে দিয়ে দিতে বলেন।

আওফ বলেন, আমি খালিদকে বললাম, 'খালিদ, কেমন অনুভব করছ? আমি কি আমার কথা বাস্তবায়ন করে দেখাইনি?' নবিজি তখন জিজ্ঞেস করেন, 'সেটা কী?' আমি তাঁকে পুরো ঘটনা শোনালে তিনি রাগত স্বরে বলেন, 'খালিদ, তুমি এ সম্পদ ফিরিয়ে দেবে না। তোমরা কি আমার পক্ষ থেকে নির্বাচিত নেতাকে আমার দিকে চেয়ে ক্ষমা করে দিতে পারো না। তাঁদের আদেশ পালন তোমাদের জন্য আবশ্যক; তবে এতে কোনো ধরনের ত্রুটির দায় তাঁদের ওপরই বর্তাবে।'

নেতৃস্থানীয়দের পক্ষ থেকে মানবিক প্রবৃত্তিগত কারণে ভুলত্রুটি হয়ে যায়। কিন্তু সেসবের দোহাই দিয়ে তাঁদের লজ্জিত না করার ব্যাপারে রাসুলের নির্দেশনা এবং নেতার পক্ষসমর্থনে তাঁর অবস্থান-এ ক্ষেত্রে যথেষ্ট গুরুত্বের দাবিদার। অপমান কিংবা কুৎসা রটনা ছাড়া তাঁদের শোধরানোর পরামর্শ দেওয়া যেতে পারে।

হিমইয়ার গোত্রের সেই মুজাহিদকে নিহতের যাবতীয় সম্পদ দিয়ে দিতে খালিদ রা. অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন। এর মাধ্যমে তিনি তাঁকে অপমানিত করেননি; বরং ইজতিহাদের ভিত্তিতে সর্বসাধারণের সুবিধার কথা ভেবে এ পদক্ষেপ নিয়েছিলেন, যেন একজন সেনা খুব বেশি সম্পদ না পায়। এর বিপরীতে যদি পুরো সম্পদ গনিমতের অন্তর্ভুক্ত করা হয়, তাহলে অনেক সেনা অংশ পেতে পারেন।

আওফ ইবনু মালিক যখন খালিদ ইবনুল ওয়ালিদকে এ থেকে নিবৃত্ত করছিলেন, তখন তিনি যথার্থ করেছিলেন। তাঁকে সঠিক মাসআলা অবহিত করেছিলেন। খালিদ তা গ্রহণ না করলে এ ব্যাপারে রাসুল -কে তাঁর অবগত করার ব্যাপারটাও সঠিক ছিল। তাঁর উচিত ছিল এ পর্যন্তই সীমাবদ্ধ থাকা। কেননা, তিনি সত্যিকার পাওনাদারকে তার পাওনা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন; কিন্তু যখন তিনি এখানে না থেমে একে ব্যক্তিগত বিজয় ও প্রতিশোধ চরিতার্থের দিকে নিয়ে যান এবং এর মাধ্যমে খালিদকে হেয় করার চেষ্টা করেন, তখন নবিজি তাঁকে সমর্থন না করে উলটো কঠিনভাবে ধমক দেন এবং নেতার অধিকার সম্পর্কে তাঁকে অবহিত করেন।

এখানে যে প্রশ্নটা থেকে যায় তা হচ্ছে, পরবর্তীকালে রাসুল খালিদকে নিহতের অস্ত্রশস্ত্র হিমইয়ারি মুজাহিদকে ফিরিয়ে না দেওয়ার যে আদেশ দিয়েছিলেন, তাতে কি ওই হিমইয়ারি মুজাহিদের অধিকার ক্ষুণ্ণ হয়নি? নিঃসন্দেহে এ কথা বলা যায়, রাসুল একজনের অপরাধে অবশ্যই অপরজনকে শাস্তি দেননি। হয়তো তিনি ওই পাওনাদার মুজাহিদকে এ ফায়সালার ব্যাপারে সম্মত করেছিলেন। হয়তো তাঁকে এর বিনিময়ে অন্য কিছু দিয়েছিলেন; অথবা তিনি নিজেই এ পাওনা থেকে অব্যাহতি নিয়েছিলেন। অবশ্য এই বর্ণনায় এ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা পাওয়া যায় না।

যে জাতি নেতাদের মর্যাদা ও সম্মান উপলব্ধি করতে পারে না, তারা উন্নত সভ্যতার অধিকারী হতে পারে না। অধিকারী হতে পারে না। নববি আদর্শ উম্মাহকে এ ব্যাপারে উন্নত একটা নীতিমালা প্রদান করেছে। মুসলিমদের উচিত প্রত্যেককে তার যথাযথ অবস্থান বিবেচনা করে সম্মান দেওয়া। অনুরূপ ধর্মীয় ব্যক্তিদেরও যথাযোগ্য মর্যাদা প্রদান আবশ্যক। অর্থাৎ, প্রত্যেককেই তার সেই গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত, যা আল্লাহ নির্ধারণ করে রেখেছেন। আল্লাহ বলেন,
﴿يَأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا مَنْ يَرْتَدَّ مِنْكُمْ عَنْ دِينِهِ فَسَوْفَ يَأْتِي اللَّهُ بِقَوْمٍ يُحِبُّهُمْ وَيُحِبُّونَهُ أَذِلَّةٍ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ أَعِزَّةٍ عَلَى الْكَفِرِيْنَ يُجَاهِدُونَ فِي سَبِيْلِ اللَّهِ وَلَا يَخَافُوْنَ لَوْمَةَ لائِمٍ ذَلِكَ فَضْلُ اللَّهِ يُؤْتِيْهِ مَنْ يَشَاءُ وَاللَّهُ وَاسِعٌ عَلِيمٌ

হে মুমিনরা, তোমাদের কেউ দীন থেকে ফিরে গেলে নিশ্চয় আল্লাহ এমন এক সম্প্রদায় সৃষ্টি করবেন, যাদের তিনি ভালোবাসবেন এবং তারা তাঁকে ভালোবাসবে। তারা মুসলিমদের প্রতি বিনম্র আর কাফিরদের প্রতি কঠোর হবে। তারা আল্লাহর পথে জিহাদ করবে এবং কোনো তিরস্কারকারীর তিরস্কারে ভীত হবে না। এটা আল্লাহর অনুগ্রহ, তিনি যাকে ইচ্ছা দান করেন। আল্লাহ প্রচুর দানকারী, মহাজ্ঞানী। [সুরা মায়িদা : ৫৪]

রাসূলের বাণী— 'তোমরা কি আমার পক্ষ থেকে নির্বাচিত নেতাদের আমার কারণে ক্ষমা করতে পারো না?' এটা খালিদ ইবনুল ওয়ালিদের মর্যাদার স্বাক্ষর বহন করে। কেননা, নবিজি তাঁকে নিজের পক্ষ থেকে নির্বাচিত নেতা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন। মানুষের উপযুক্ত সম্মান ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে এটা ছিল নববি এক উন্নত আদর্শ।

টিকাঃ
৬৩. সুনানু আবি দাউদ: ২৭১৯。
৬৪. আত-তারিখুল ইসলামি, হুমায়দি: ৭/১৩০。
৬৫. মুয়িনুস সিরাহ: ৩৭৮।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00