📄 হযরত ইসমাইল আ.-এর বংশধর
হযরত ইসমাইল আ.-এর বংশধর সম্পর্কে কুরআন মাজিদ বা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর হাদিসে বিস্তারিত কোনো আলোচনা করা হয় নি। অবশ্য তাওরাত তাঁর সন্তানদের নামসমূহকে পৃথক পৃথক ব্যাখ্যার সঙ্গে উল্লেখ করেছে। তাওরাতের বর্ণনা অনুসারে হযরত ইসমাইল আ.-এর বারোজন পুত্র ছিলেন। তাঁরা বারো সরদার নামে অভিহিত ও প্রসিদ্ধ ছিলেন এবং তারা আরবের ভিন্ন ভিন্ন গোত্রের আদি পুরুষ হয়েছেন। আর হযরত ইসমাইল আ.-এর একজনমাত্র কন্যা ছিলেন। তাঁর নাম ছিলো বাশামাহ বা মুহাল্লাত। "আর ইবরাহিমের পুত্র ইসমাইল, যাকে সারার বাঁদি মিসরীয় হাজেরা ইবরাহিমের জন্য প্রসব করেছিলো, তার বংশপরিচয় এই আর এই হলো ইসমাইলের পুত্রদের নাম :- এদের নামানুসারে ইসমাইলের বংশের শাখা-প্রশাখা বিভক্ত হয়েছিলো-নাবায়ুত, কিদার, ওবাইল, হিশাম, মিশমা, রুমাহ, মানশা, ই'দার, তিমা, ইয়াতুর, নাফিশ, কিদামা এই বারোজন ইসমাইলের পুত্র। তাদের বসতি ও দুর্গসমূহের মধ্যে তাদের নাম এরূপই। তারা নিজেদের বারোটি গোত্রের বারোজন সরদার ছিলেন।"৫৫
এদের নাবেত বা নাবায়ুত এবং কিদার নামের বড় দুই পুত্র বেশ বিখ্যাত। তাওরাতের মধ্যে এই দুইজনের উল্লেখ খুব বেশি দেখা যায় এবং আরব ইতিহাসবেত্তাগণও তাঁদের ওপর বিশেষভাবে আলোকপাত করে থাকেন। ইনিই সেই নাবেত বা নাবায়ুত যাঁর বংশধরগণ "আসহাবুল হিজর' নামে অভিহিত ও বিখ্যাত হয়েছিলো। এই দুইজন ব্যতীত বাকি দশ ভাই এবং তাঁদের বংশের অবস্থার পরিচয় খুবই কম পাওয়া যায়।
টিকাঃ
৫৫. তাওরাত: আবির্ভাব অধ্যায়, অনুচ্ছেদ ২৫, আয়াত ১২-১৬।
📄 কুরআন মাজিদে হযরত ইসমাইল আ.-এর আলোচনা
কুরআন মাজিদে বহুবার হযরত ইসমাইল আ.-এর আলোচনা করা হয়েছে, তার মধ্যে শুধু এক জায়গায় তাঁর গুণাবলি বর্ণিত হয় নি। সে- আয়াতটি তাঁর 'যবিহ' হওয়ার বর্ণনাসম্বলিত আয়াত। আর দুই জায়গায় সুসংবাদ প্রদানের ক্ষেত্রে তাঁর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। যাতে হযরত ইবরাহিম আ.-কে পুত্র সন্তানের সুসংবাদ প্রদান করা হয়েছে। আর সুরা মারইয়ামে তাঁর নাম উল্লেখ করে তাঁর উৎকৃষ্ট গুণাবলির পরিচয় দেয়া হয়েছে-
وَاذْكُرْ فِي الْكِتَابِ إِسْمَاعِيلَ إِنَّهُ كَانَ صَادِقَ الْوَعْدِ وَكَانَ رَسُولًا نَبِيًّا () وَكَانَ يَأْمُرُ أَهْلَهُ بالصَّلَاةِ وَالزَّكَاةِ وَكَانَ عِنْدَ رَبِّه مَرْضِيًّا (سورة مريم)
'স্মরণ করো এই কিতাবে (কুরআন মাজিদে) ইসমাইলের কথা, নিশ্চয় সে ছিলো প্রতিশ্রুতি পালনে সত্যাশ্রয়ী এবং সে ছিলো রাসুল, নবী; সে তার পরিজনবর্গকে সালাত ও যাকাতের নির্দেশ দিতো এবং সে ছিলো তাঁর প্রতিপালকের সন্তোষভাজন (পছন্দনীয় ও প্রিয়)।' [সুরা মারইয়াম: আয়াত ৫৪-৫৫]
📄 হযরত ইসমাইল আ.-এর ইন্তেকাল
হযরত ইসমাইল আলাইহিস সালাম ১৩৬ বছর বয়সে উপনীত হলে মৃত্যুবরণ করেন। ইন্তেকালের সময় তাঁর সামনে তাঁর সন্তান-সন্ততি ও বংশধরগণ বহু বিস্তৃতি লাভ করেছিলো। তারা হিজায, শাম (সিরিয়া), ফিলিস্তিন এবং মিসর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছিলো। তাওরাতের এক জায়গায় ইঙ্গিত রয়েছে যে, হযরত ইসমাইল আ. ফিলিস্তিনেই সমাহিত হয়েছেন। এখানেই তাঁর ইন্তেকাল হয়েছিলো। আর আরব ইতিহাসবেত্তাগণ বলেন, তিনি এবং তাঁর মাতা হাজেরা রা. বাইতুল্লাহ শরিফের পাশেই সমাহিত রয়েছেন।