📘 যুক্তির নিরিখে সুন্নাহর প্রামাণ্যতা > 📄 জ্ঞানের সংজ্ঞা

📄 জ্ঞানের সংজ্ঞা


আরবদের চোখে জ্ঞান যেকোনো জানা-শোনাকে অন্তর্ভুক্ত করে, হোক সেটা ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য, দলীল থেকে অর্জিত, অভিজ্ঞতালব্ধ কিংবা উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত। কোন প্রকার জানা কতটা শক্তিশালী আর কতটা সম্ভাবনাময়, সেই আলোচনাকে এক পাশে রেখেই আরবদের কাছে জ্ঞানের উপর্যুক্ত সংজ্ঞা। প্রাচীন জাতিসমূহের কাছেও জ্ঞানের সংজ্ঞা এটাই ছিল। কারণ জ্ঞান সবসময় কর্মের বা প্রয়োগের সাথে সম্পৃক্ত ছিল, নিছক তত্ত্বীয় আলোচনায় সীমিত ছিল না। আর কালামশাস্ত্রবিদদের সংজ্ঞা অনুযায়ী জ্ঞান হলো দৃঢ় বিশ্বাস প্রদান করে এমন দলীল থেকে অর্জিত জানা বিষয়, যেটাতে সম্ভাবনার কোনো সুযোগ নেই। আমরা দেখব কীভাবে শাফেয়ী ও আহমদের বক্তব্যই জ্ঞান (ইলম) ও সম্ভাবনার (যন্ন) ক্ষেত্রে আরবদের আসল অর্থটা ধারণ করে।

কুরআন কারীমে জ্ঞান বলতে জোরালো সম্ভাবনার অধিকারী জানাশোনার যেকোনো প্রকারকে বোঝায়, শুধু মাত্র অকাট্য জ্ঞানকে বোঝায় না। আল্লাহ তা'আলা বলেন,

﴿وَإِذَا جَاءَهُمْ أَمْرٌ مِنَ الْأَمْنِ أَوِ الْخَوْفِ أَذَاعُوا بِهِ، وَلَوْ رَدُّوهُ إِلَى الرَّسُولِ وَإِلَى أُوْلِي الْأَمْرِ مِنْهُمْ لَعَلِمَهُ الَّذِينَ يَسْتَنْبِطُونَهُ مِنْهُمْ وَلَوْلَا فَضْلُ اللَّهِ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَتُهُ لَاتَّبَعْتُمُ الشَّيْطَانَ إِلَّا قَلِيلًا ﴾ [النساء: ٨٣]

"যখন তাদের নিকট নিরাপত্তার কিংবা ভয়ের কোন সংবাদ আসে তখন তারা তা রটিয়ে দেয়। যদি তারা তা রসূলের কিংবা তাদের মধ্যে যারা ক্ষমতার অধিকারী তাদের গোচরে আনত, তবে তাদের মধ্য হতে তথ্যানুসন্ধানীগণ প্রকৃত তথ্য জেনে নিত। যদি তোমাদের প্রতি আল্লাহর দয়া ও করুণা না থাকত তবে তোমাদের অল্প সংখ্যক ছাড়া সকলেই শায়ত্বনের অনুসরণ করত।” [সূরা আন-নিসা: ৮৩]

তথ্য ও খবরের অনুসন্ধান ও বিশুদ্ধতা যাচাইকে আল্লাহ 'ইলম' তথা জ্ঞান নাম দিয়েছেন। ইবন যাইদ বলেন, '(তথ্যানুসন্ধানীরা) এরা হলেন যুদ্ধে তাদের নিযুক্ত নেতৃবর্গ। তারা যাচাই করে দেখে তাদের কাছে আগত বর্ণনা কি সত্য নাকি মিথ্যা? মিথ্যা বা বাতিল হলে তারা পরিত্যাগ করবে, আর সত্য হলে তারা গ্রহণ করবে। '৩২৮

স্বাভাবিকভাবেই কোনো বর্ণনার সত্যতা যদি উদঘাটন করা হয়, তাহলে সেটা আধুনিক তত্ত্বীয় সংশয়বাদী চিন্তা অনুযায়ী অকাট্য কিছু নয়। তবুও আরবদের চোখে সেটা জ্ঞান। এটা উসূলবিদদেরও অজানা নয়। জাস্সাস বলেন, 'ইলম তথা জ্ঞান দুই প্রকার। প্রথমটা বাস্তবিক, আর দ্বিতীয়টা হলো প্রবল ধারণা বা বাহ্যিক অবস্থার উপর নির্ভর করে বলা। দ্বিতীয়টাও যে ইলম তথা জ্ঞান বলে গণ্য হয় সেটার পক্ষে প্রমাণ আল্লাহর বাণী "তোমরা যদি তাদেরকে মুমিন নারী হিসেবে জানতে পারো” [সূরা আল-মুমতাহানাহ: ১০] আর আমরা নিশ্চয় সে সকল নারীর অন্তরে কী আছে তা জানি না। তাদের যে বিষয়টা আমাদের কাছে প্রকাশ পেয়েছে, আল্লাহ সেটার নাম দিয়েছেন ইলম। ইউসুফের ভাইদের বক্তব্য আল্লাহ কুরআনে উদ্ধৃত করেন, "আপনার ছেলে চুরি করেছে; আমরা যা জেনেছি, সেটা অনুযায়ী সাক্ষ্য দিয়েছি আর আমরা গায়েবের খবর রাখি না।” [সূরা ইউসুফ: ৮১] তারা প্রকৃত অবস্থা না জেনে প্রবল ধারণার উপর ভিত্তি করে প্রদত্ত বক্তব্যকে 'ইলম' তথা জ্ঞান নাম দিয়েছে; কেননা ইউসুফ 'আলাইহিস সালাম আসলে চুরি করতেন না। নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুয়ায রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহুকে ইয়েমেনে প্রেরণের সময় বলেন, "তুমি তাদেরকে জানিয়ে দিবে যে, আল্লাহ তাদের সম্পদে একটা হক আবশ্যক করেছেন, সেটা তাদের মধ্যকার ধনীদের থেকে নিয়ে দরিদ্রদের ফেরত দেওয়া হবে।" তাদের কাছে পৌঁছানোর নাম দিয়েছেন 'জানানো' (إعلام); যদিও তারা প্রকৃত রূপে পুরোপুরি জ্ঞান হাসিল করেনি। অনুরূপভাবে সাক্ষীরা যখন সত্য সাক্ষ্য দেয়, তখন আমরা বাহ্যিকভাবে তাদের জ্ঞান অর্জিত হওয়ার হুকুম প্রদান করি, আর সেটা তাদের সত্যতার ব্যাপারে আমাদের প্রবল ধারণা অনুযায়ী। যেহেতু প্রবল ধারণা ও এর দাবি অনুযায়ী কোনো কিছুকে 'ইলম' তথা জ্ঞান বলা হয়, আর আমাদের দৃষ্টিতে খবরে ওয়াহেদ কেবল বাহ্যিক জ্ঞানের ফায়দা দেয়, বাস্তবিক জ্ঞান নয়, সেহেতু প্রশ্নকর্তা যে আয়াতসমূহ উল্লেখ করেছেন সেগুলোতে এমন কিছু নেই যার কারণে সেটার গ্রহণযোগ্যতা প্রত্যাখ্যাত হবে; যদি সে যা আবশ্যক করেছে তা এই আয়াতগুলোর বাহ্যিক অর্থ অনুযায়ী 'ইলম' তথা জ্ঞান হয়ে থাকে; যাতে করে সেটার ব্যাপারে প্রদত্ত হুকুম সেটাকে আবশ্যক করে। আয়াতটা যদি প্রশ্নকর্তার দাবিকৃত বিষয়কে আবশ্যক করে দিত, তাহলে উপহারের বিষয়ে রাসূলের কথা গ্রহণ বাধাগ্রস্ত হত, আর মুয়ামালাত তথা লেনদেনের সকল বর্ণনা বাতিল হয়ে যেত; কেননা সেগুলো বাস্তব (হাকীকী) জ্ঞানকে আবশ্যক করে না। '৩২৯

কিছু উসূলবিদ এটা বাস্তবেই বলেছেন, যেমন: সারাখসী। তিনি বলেছেন, 'খবরে ওয়াহেদ অনুযায়ী আমল করা আমাদের দৃষ্টিতে এমন ইলম বা জ্ঞান অনুযায়ী আমল করা যেটা বাহ্যিকভাবে প্রমাণিত তবে অকাট্য নয়। আল্লাহ তা'আলা এর নাম দিয়েছেন ইলম, তিনি বলেছেন ﴿وَمَا شَهِدْنَا إِلَّا بِمَا عَلِيْنَا "আমরা যা জেনেছি, কেবল তার সাক্ষ্যই দিয়েছি" তারা এমনটা বলেছেন কোনো এক সংবাদদাতা থেকে শ্রুত বিষয়ের উপর ভিত্তি করে। অনুরূপভাবে আল্লাহ বলেন, ﴿فَإِنْ عَلِمْتُمُوهُنَّ مُؤْمِنَاتِ “তোমরা যদি তাদেরকে মুমিন নারী হিসেবে জানো" আর এটা তিনি বলেছেন এমন বিষয়ের ক্ষেত্রে যেখানে বাহ্যিকতার উপর কিছুটা নির্ভর করা হলেও নিরংকুশ নির্ভরতা ছিল মতামতের উপর। সুতরাং প্রমাণিত হলো এমন (মতামত নির্ভর) জিনিসকে জ্ঞান বলা হয়, সংশয় বলা হয় না। সংশয় হলো পাপীর প্রদত্ত সংবাদ। তাই আল্লাহ পাপীর সংবাদ গ্রহণের ব্যাপারে থামতে বলেছেন। আল্লাহ বলেছেন, "যাতে তোমরা অজ্ঞতাবশত কোনো সম্প্রদায়ের ক্ষতি না করো” এর থেকে বোঝা যার যে ন্যায়পরায়ণ (আদল) ব্যক্তির বর্ণনার উপর কেউ যদি আমলের ক্ষেত্রে নির্ভর করে, সে অজ্ঞতার পথে অগ্রসর হয়নি, বরং জ্ঞান অনুযায়ী নিজেকে এগিয়ে নিয়েছে। তবে এই জ্ঞান (ইলম) বাহ্যিক বিবেচনায়, কারণ ন্যায়পরায়ণতা থাকায় তার বর্ণনায় সত্যতার দিকটা প্রাধান্যপ্রাপ্ত। '৩৩০ কিন্তু কালামী অঙ্গনে প্রচলিত চিন্তাধারার কারণে তারা এই ব্যবহারটা রূপক হিসেবে নিয়েছেন। কারণ তাদের চোখে 'ইলম' তথা জ্ঞানের সংজ্ঞা সীমাবদ্ধ।

কালামী গবেষণা 'ইলম'-এর সংজ্ঞাকে সংক্ষিপ্ত পরিসরে সীমিত করে দিয়েছে। আবার 'যন্ন' তথা ধারণার অর্থসমূহের মাঝে মাত্র একটা অর্থকে বাছাই করেছে, সেটা হলো প্রাধান্যপ্রাপ্ত সম্ভাবনা বা নিছক সম্ভাবনা। আর এভাবেই 'ইলম' (জ্ঞান) ও 'যন্ন' (সম্ভাবনা)-এর দ্বৈততা কালামীরা হাজির করেছে।

শাইখ আব্দুল হামীদ ফারাহী 'যন্ন' শব্দের অর্থসমূহের সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ করেছেন। তিনি বলেন, 'যন্ন হচ্ছে ব্যক্তি প্রত্যক্ষ না করে যা ধারণা করে। আর প্রত্যক্ষ না করা বিষয়টা যেহেতু অনেক সময় দৃঢ় বিশ্বাসের নিশ্চয়তা দেয় না, সেহেতু এই ধারণা সংশয়ের অর্থ দেয়। আর এ অর্থে আরবদের বক্তব্যে ও কুরআনের ভাষায় ব্যাপকভাবে বিষয়টা ব্যবহৃত হয়েছে যেমনটা ত্বারাফা বলেন,

وأعلم علما ليس بالظن أنه *** إذا ذل مولى المرء فهو ذليل

'আমি সম্ভাবনা নয় বরং আসলেই জানি যে ব্যক্তির দাস লাঞ্ছিত হলে সেও লাঞ্ছিত।'
আর কুরআনে আছে, ﴿إِن نَّظُنُّ إِلَّا ظَنَا وَمَا نَحْنُ بِمُسْتَيْقِنِينَ﴾ "আমরা তো কেবল ধারণা করি, আমরা দৃঢ় বিশ্বাসী নই।” [সূরা আল-জাছিয়া: ৩২] কিন্তু প্রত্যক্ষ না করা বিষয়টাও দৃঢ় বিশ্বাসের বস্তু হতে পারে। তখন ব্যাপক অর্থে সেটাকে 'যন্ন' বলা হয়, সংশয়ের অর্থ তাতে অন্তর্ভুক্ত থাকে না। যেমনটা আউস ইবন হাজার বলেন,

الألمعى الذى يظن بك ال *** الظن كان قد رأى وقد سمعا

'বুদ্ধিমান ব্যক্তি আপনার ব্যাপারে এমন ধারণা করে যেন সে দেখেছে এবং শুনেছে।'
দুরাইদ ইবনুস সিম্মাহ বলেন,

فقلت لهم ظنوا بألفى مدجج : *** سراتهم في الفارسي المسرد

'আমি তাদেরকে বললাম, তোমরা দুই হাজার অস্ত্রসজ্জিত সৈনিকের ব্যাপারে নিশ্চিত থাকো, যাদের মাঝে উত্তম ব্যক্তিরা ঢাল পরিহিত অবস্থায় থাকবে।'
আল্লাহ তা'আলা কিয়ামতের দিন মুমিনদের চিত্র তুলে ধরেন,

﴿إِنِّي ظَنَنتُ أَنِّي مُلَاقٍ حِسَابِيَة ﴾ [الحاقة: ٢٠]

"আমার দৃঢ় বিশ্বাস ছিল যে, আমি আমার হিসাবের সম্মুখীন হব।” [সূরা আল-হাক্কাহ: ২০]'৩৩১

এভাবে আমরা দেখতে পাই 'যন্ন' শব্দটা অর্থের দিক থেকে গায়েবের সাথে সম্পৃক্ত, হোক সেটা স্থায়ী গায়েবী বিষয় অথবা সাময়িক গায়েবী বিষয় যেটা অনুমান করা সম্ভব। আর যেহেতু এই অনুমান মাঝে মাঝে ভুল হয়, সেহেতু অনুমানের সাথে সংশয়কে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। এই ব্যবহারটা (সংশয় অর্থে যন্ন) কালামবিদরা ব্যবহার করে 'ইলম' ও 'যন্ন' অথবা 'ইয়াকীন' ও 'যন্ন' এই দুই ভাগে বিভক্ত করেছে। ব্যবহারটা সঠিক। কিন্তু এর ফলে অন্য ব্যবহারের প্রতি অবহেলা সৃষ্টি হয়েছে। সেটা হলো 'গায়েবের সাথে সম্পৃক্ত ইলম' অর্থে 'যন্ন'-এর ব্যবহার।

ত্বাবারী বলেন, 'আরবের লোকজন ইলমের স্থলে যন্ন ব্যবহার করেছে যখন তারা কোনো বিষয়ে সংবাদের মাধ্যমে জেনেছে কিংবা সরাসরি প্রত্যক্ষ না করে জেনেছে। আর যদি স্বচক্ষে প্রত্যক্ষ করে তারা কোনো কিছু জেনে থাকে, তাহলে সেক্ষেত্রে তারা যন্ন ব্যবহার করে না। তাদেরকে কখনো বলতে দেখবেন না (أظنني حيا) 'আমি নিজেকে জীবিত মনে করি' কিংবা 'আমি নিজেকে মানুষ মনে করি' (أظنني إنسانا) এই অর্থে যে, 'আমি নিজেকে মানুষ হিসেবে জানি' বা 'আমি নিজেকে জীবিত বলেই জানি'। '৩৩২ এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট হলো 'যন্ন' শব্দটা গায়েবের সাথে সম্পৃক্ত 'দৃঢ় বিশ্বাসের জ্ঞান' অর্থে ব্যবহৃত হয়। কুরআনে সত্য গায়েবী ইলমের অর্থে যন্ন শব্দটা ব্যবহৃত হয়েছে। আল্লাহ তা'আলা বলেন,

﴿وَاسْتَعِينُوا بِالصَّبْرِ وَالصَّلَاةِ وَإِنَّهَا لَكَبِيرَةٌ إِلَّا عَلَى الْخَاشِعِينَ الَّذِينَ يَظُنُّونَ أَنَّهُم مُلَقُوا رَبِّهِمْ وَأَنَّهُمْ إِلَيْهِ رَاجِعُونَ ﴾ [البقرة: ٤٥، ٤٦]

"আর তোমরা ধৈর্য ও সালাতের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা কর। আর নিশ্চয় তা বিনয়ীরা ছাড়া অন্যদের উপর কঠিন। যারা নিশ্চিত বিশ্বাস করে যে, তাদের প্রতিপালকের সঙ্গে তাদের সাক্ষাৎ ঘটবেই এবং তাঁরই দিকে তারা ফিরে যাবে।” [সূরা আল-বাকারা: ৪৫, ৪৬] এখানে যন্ন শব্দটা দৃঢ় বিশ্বাসের অর্থে যেমনটা আবুল 'আলিয়াসহ সালাফে সালেহীনের অন্যান্য মুফাস্সির ব্যাখ্যা করেছেন। আপনি বিশেষভাবে ইবন যাইদের তাফসীর খেয়াল করুন, 'কারণ তারা দেখেনি, তাই তাদের ধারণাটা ছিল দৃঢ় বিশ্বাস, সংশয়ে পরিপূর্ণ ধারণা নয়। '৩৩৩ ইলমুল গায়েবের বিপরীতে রয়েছে গায়েবের ব্যাপারে অজ্ঞতা। কুরআনে এর উদাহরণ হলো মুশরিকদের ধারণা। তারা তাদের রবের ব্যাপারে অজ্ঞতাপূর্ণ ধারণা রাখত। আল্লাহ তা'আলা বলেন,

﴿إِنَّ الَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ بِالْآخِرَةِ لَيُسَمُّونَ الْمَلَتَيكَةَ تَسْمِيَةَ الْأُنثَى وَمَا لَهُم بِهِ مِنْ عِلْمٌ إِن يَتَّبِعُونَ إِلَّا الظَّنَّ وَإِنَّ الظَّنَّ لَا يُغْنِي مِنَ الْحَقِّ شَيْئًا ﴾ [ النجم: ২৭, ২৮]

“নিশ্চয় যারা আখিরাতে বিশ্বাস করে না, তারাই ফেরেশতাদেরকে নারীবাচক নামে নামকরণ করে থাকে। অথচ এ বিষয়ে তাদের কোনো জ্ঞানই নেই। তারা তো কেবল অনুমানেরই অনুসরণ করে। আর নিশ্চয় অনুমান সত্যের মোকাবেলায় কোনো কাজেই আসে না।” [সূরা আন-নাজম: ২৭, ২৮] এটা স্পষ্ট যে যন্ন তথা ধারণার নিন্দা করার কারণ সম্ভাবনার কমতি থাকা নয়, বরং এর কারণ, তাদের এই ধারণা কোনো ধর্মীয় ভিতের উপর প্রতিষ্ঠিত নয়। সুতরাং খবরে আহাদের ভুলের সম্ভাবনার সাথে আয়াতে উল্লিখিত নিন্দনীয় সংশয়ের কোনো সম্পর্ক নেই। কিন্তু উসূলবিদরা যেহেতু যন্নকে সম্ভাবনার মাঝে সীমিত আর ইলমকে দৃঢ় বিশ্বাসের সাথে নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন; সে কারণে এই সমস্যা দেখা দিয়েছে। খবরে আহাদ অনুযায়ী আমল করা এখন তাদের কাছে নিন্দনীয় অনুমানের অন্তর্ভুক্ত।

অদেখা (গায়েবী) ও দেখা (শাহাদাহ) জগতের দ্বৈততা কালামী দৃঢ় বিশ্বাস আর সম্ভাবনার দ্বৈততা থেকে ভিন্ন। কারণ ইলমকে গায়েবী বিষয়ের সাথে সম্পৃক্ত করার অর্থ এর থেকে দৃঢ় বিশ্বাসকে নাকচ করা নয়। ইব্রাহীম 'আলাইহিস সালাম তার রবের কাছে চেয়েছিলেন যেন তিনি তাকে দেখিয়ে দেন কীভাবে মৃতকে জীবিত করবেন। তিনি নিঃসন্দেহে দৃঢ় বিশ্বাসী ছিলেন। কিন্তু স্বাভাবিকভাবেই গায়েবী (অদেখা) বিষয়ের চাইতে প্রত্যক্ষ করা বিষয় মানুষের মনে বেশি প্রভাব ফেলে। আমরা 'যন্ন' শব্দকে আরবী ভাষায় দৃঢ় বিশ্বাসের অর্থেও ব্যবহৃত হতে দেখেছি। 'ইয়াক্বীন তথা দৃঢ় বিশ্বাস অর্থে 'যন্ন' শব্দের ব্যবহার আরবী কবিতা ও কথাবার্তায় অসংখ্য। '৩৩৪ বর্ণনার উপর এটা প্রয়োগ করলে আমরা দেখি একজন বর্ণনাকারী আমাদের কাছে অদেখা (গায়েবী) জ্ঞান বর্ণনা করেন। কারণ আমরা সরাসরি নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখিনি। কিন্তু যে আরবী ভাষা অনুযায়ী ওহী নাযিল হয়েছে সেই আরবী ভাষা অনুযায়ী ঐ বর্ণনা অনুসন্ধান করা এবং বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে অন্যান্য বর্ণনার সাথে তুলনা করতে কোনো বাধা নেই; যাতে করে প্রত্যক্ষ করা বিষয়ের পর্যায়ে পৌঁছানো যায়। গবেষণা চালানোর পর উক্ত বর্ণনাকে 'স্বাভাবিক দৃঢ় বিশ্বাসের' ফায়দা দেয় এমনটা বলা ভুল হবে না। কিন্তু কালামী দ্বৈততা (ইলম ও যন্ন) অনুযায়ী সবসময় দৃঢ় বিশ্বাস ও সম্ভাবনার মাঝে একটা স্তরগত (categorically) পার্থক্য আছে। ইমাম শাফেয়ী তার যুগের কালামবিদদের পর্যালোচনা করতে গিয়ে দেখা-অদেখা (গায়েব-শাহাদাহ) বিষয়ের দ্বৈততা মেনে নিয়েছেন। অনুরূপভাবে প্রথম যুগের মুহাদ্দিসরাও এটা মেনে নিয়েছেন। কারণ তারা কালামী পরিভাষা থেকে অনেক দূরে ছিলেন। আহলুল হাদীসের ভাষার শেকড় ছিল প্রকৃত আরবদের ভাষায়। বর্ণনা থেকে প্রাপ্ত ইলম বা জ্ঞানকে শাফেয়ী দুই ভাগে ভাগ করেছেন: (১) যাহের-বাত্বেনের (প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য) ব্যাপারে অর্জিত জ্ঞান, (২) যাহেরের (প্রকাশ্য) ব্যাপারে সত্যতা লাভের জ্ঞান। এই প্রকার ইলমের বিবরণ দিতে গিয়ে শাফেয়ীর কথা আপনি প্রত্যক্ষ করুন। তিনি 'যন্ন' ব্যবহার করেননি কেননা এটা বহু অর্থ প্রদান করে। এটাও লক্ষণীয় যে, শাফেয়ী 'সম্ভাবনা' ও 'দৃঢ় বিশ্বাসের' জায়গা থেকে কখনো খবরে আহাদের আলোচনা করেননি। অর্থাৎ এই বর্ণনার ঐতিহাসিক সত্যতা প্রমাণিত হওয়ার দিকটা তার কাছে আলোচ্য ছিল না, যেমনটা ছিল কালামবিদদের প্রকরণে। কিন্তু তিনি আকীদার ব্যবহারিক ফলাফল অনুযায়ী এটার খোঁজ করতেন। যেহেতু বিষয়টাতে গায়েবী (প্রত্যক্ষ নয়, বরং পরোক্ষ) বর্ণনাকারীদের ভুলের সম্ভাবনা ছিল, তাই শাফেয়ী খবরে আহাদ অস্বীকারকারী বা খবরে আহাদের হুকুমে পড়ে এমন ফিকহী বিধান অস্বীকারকারীকে কাফের বলেননি। কিন্তু তার দায়িত্ব বলে দিয়েছেন 'যে বিষয়ে সংশয়ে পড়েছে, সেটার ইলম তাকে অন্বেষণ করতে হবে। '৩৩৫ গায়েবী (বিষয় বর্ণনার) ভুলের সম্ভাবনা যত কমবে, বর্ণনাটা ততই প্রত্যক্ষ (শাহাদাহ) হওয়ার পর্যায়ে উঠে আসবে। এক পর্যায়ে বর্ণনাটা চলে আসবে এমন বর্ণনার স্তরে যেটা বহু মানুষ থেকে বহু মানুষ বর্ণনা করেছে। যেমন: সালাতের রাকাত সংখ্যা বা অকাট্য অর্থ প্রদানকারী শরয়ী বক্তব্যসমূহ। 'এই দুটি পদ্ধতির মাধ্যমেই হালাল কোনো বিষয়কে হালাল আর হারাম কোনো বিষয়কে হারাম বলা যাবে। এটা আমাদের জন্য না জানা বা এতে সংশয় পোষণ করার কোনো সুযোগ নেই।' শাফেয়ী স্পষ্ট বলেন যে, প্রত্যেকটি বর্ণনার ভুলের সম্ভাবনার স্তর এক নয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, 'রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রাপ্ত বর্ণনা দুই ধরনের। একটা বর্ণনা বহু মানুষ থেকে বহু মানুষের মাধ্যম হয়ে নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রাপ্ত। এই বর্ণনায় সে সকল বিষয় থাকে যেগুলো বান্দাদের জন্য কথায়-কাজে মানা আবশ্যক, যেগুলোর জন্য প্রয়োজনে তাদের জান-মাল ব্যয় করতে হবে। এমন বর্ণনা না জানা সমীচীন নয়। এর ব্যাপারে আলেম ও আমজনতা সমান। কারণ এটা জানা সবার দায়িত্ব। এর উদাহরণ হলো সালাতের সংখ্যা, রমাদানের সাওম, অশ্লীলতা হারাম হওয়া, বান্দার সম্পদে আল্লাহর হক থাকা। দ্বিতীয় প্রকার খবর হলো নির্দিষ্ট কিছু মানুষ থেকে নির্দিষ্ট কিছু বিধানের বর্ণনা যার দায়িত্ব জনগণের উপর নেই। প্রথমটা যত পরিমাণে এসেছে, দ্বিতীয়টার অধিকাংশই সেভাবে আসেনি। '৩৩৬

এই বক্তব্য থেকে বোঝা যায় যে, খবরে আহাদের মাঝে কিছু আছে যেগুলো বহু মানুষ থেকে বহু মানুষের বর্ণনা। অর্থাৎ খবরে আহাদের মাঝে কিছু বর্ণনা প্রত্যক্ষ করা বিষয়ের সমান। কারণ সেটাতে ভুলের স্তর নিচে। আর এই ধরনের খবর তথা বর্ণনার ব্যাপারে শাফেয়ীর অবস্থান নিয়ে আরো গবেষণা প্রয়োজন। তবে এখানে আমার জন্য এতটুকু যথেষ্ট যে, তিনি মনে করেন, বাহ্যিক জ্ঞানের নিশ্চয়তা দেয় এমন কিছু খবরে আহাদ প্রত্যক্ষ করা বিষয়ের স্তরে পৌঁছতে সক্ষম। তিনি নিশ্চিতভাবে বলেছেন যে, কিছু বিশেষ ব্যক্তির বর্ণনা প্রত্যক্ষ বর্ণনার হুকুমে পড়ে। তাকে আবু বকর আল-মারওয়াযী বলেন, আমি আবু আব্দুল্লাহকে বললাম, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, অমুকের স্ত্রী অমুক, যদিও আমি তার বিবাহে উপস্থিত ছিলাম না। তিনি বললেন, 'হ্যাঁ, যদি কোনো বিষয় প্রসিদ্ধ হয়ে থাকে তাহলে সেটার পক্ষে সাক্ষ্য দিবে।' এরপর আবু বকর বলেন, আমি তাকে বলতে শুনেছি, 'তোমার কথাটা ঐ মানুষের কথার মতো, যে বলে ফাতেমা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের মেয়ে। তবে আমি সাক্ষ্য দিই না যে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের মেয়ে (কারণ আমি দেখিনি)। '৩৩৭ জান্নাতের সুসংবাদ প্রাপ্ত দশ সাহাবীর ব্যাপারে তার সাক্ষ্যকে আমরা এভাবেই বুঝব। তাদের ব্যাপারে যারা বলে 'আমরা জানি কিন্তু সাক্ষ্য দিই না' বলে, তাদের তিনি কঠোর সমালোচনা করেছেন। এগুলো আহলুল হাদীসের স্বীকৃত প্রসিদ্ধ কিছু বর্ণনা। 'নির্দিষ্ট কিছু মানুষ থেকে এই বর্ণনা মুতাওয়াতির, তারা হলেন ইলমুল হাদীসে বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিবর্গ। '৩৩৮ তাহলে খবরে আহাদের মাঝে যেগুলো প্রসিদ্ধ নয়, সেগুলোর ব্যাপারে কী অভিমত? আবু বকর আল-আসরাম বলেন, ইমাম আহমদ বলেন, 'নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সহীহ সনদে যদি কোনো হাদীস আসে, যেখানে কোনো বিধান বা ফরয বর্ণিত আছে, আমি সেই বিধান বা ফরযের উপর আমল করি আর আল্লাহর দিকে সেটাকে ন্যস্ত করি। তবে সাক্ষ্য দিই না যে, নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম এটা বলেছেন। '৩৩৯ উপর্যুক্ত আলোচনার আলোকে আমরা বলব, এই বর্ণনা থেকে (যেটা দিয়ে দলীল দেওয়া হয় ইমাম আহমদ মনে করতেন খবরে আহাদ জ্ঞানের ফায়দা দয় না) এটা বোঝা যায় না যে, তিনি খবরে আহাদের মাধ্যমে জ্ঞান প্রাপ্তি নাকচ করেছেন বা বিশেষজ্ঞ ব্যক্তির কাছে খবরে আহাদ দৃঢ় বিশ্বাসের ফায়দা দিতে সক্ষম নয়। বরং সঠিক মত হলো এর দ্বারা উদ্দেশ্য প্রতিটি বস্তুকে যথাস্থানে রাখা। কারণ এটা বলা সম্ভব নয় যে, কিতাবুল্লাহর অকাট্য বিধান এবং সুন্নাহর মাঝে যেগুলোর ব্যাপারে ঐকমত্য আছে আর যেগুলো প্রসিদ্ধ- এ সব কিছু একটি সহীহ বর্ণনার সমান স্তরে। প্রমাণিত হওয়ার দিক থেকেও একই স্তরে বলা ঠিক হবে না। কেননা কিতাবুল্লাহর অকাট্য বিধান, সুন্নাহর মাঝে যেগুলোর ব্যাপারে ঐকমত্য আছে ও যেগুলো প্রসিদ্ধ- এ সবই প্রত্যক্ষ করার স্তরের জ্ঞান। এগুলোর বিপরীতে রয়েছে এমন সহীহ বর্ণনা যা প্রসিদ্ধি অর্জন করেনি। ভুলের গায়েবী সম্ভাবনা মানুষের স্বভাবে বিদ্যমান, কিন্তু সেটা বিশেষজ্ঞদের কাছে বর্ণনা থেকে জ্ঞান প্রাপ্তি যা বর্ণনার বিশুদ্ধতা নিশ্চিত হওয়াকে প্রভাবিত করবে না। ৩৪০

সবশেষে বলব, আমাদের কথায় কেউ এ কারণে আপত্তি তুলতে পারে যে, খবরে আহাদ কীসের ফায়দা দেয় সেটাকে এক পাশে রেখে যদি কালামবিদরা খবরে ওয়াহেদ অনুযায়ী আমল করা আবশ্যক বলে আর ইমাম শাফেয়ীও খবরে ওয়াহেদে ভুলের সম্ভাবনা স্বীকার করেন, তাহলে আপনারা কেন এটা মানতে নারাজ যে, খবরে আহাদ অকাট্যতার ফায়দা দেয় না?
এর উত্তর হলো,
প্রথমত: কুরআনের ব্যবহার মেনে চলা কালামী পরিভাষা মানার চাইতে উত্তম। বিশেষত যদি সেই পরিভাষা ব্যাপক দ্বন্দ্বের কারণ হয় এবং সেই পরিভাষার কারণে উসূলের বইয়ে অস্পষ্টতা দেখা দেয়। বেশির ভাগ উসূলবিদ ইলম দ্বারা কী উদ্দেশ্য সেটা স্পষ্ট করে বলেন না। তাই আপনারা দেখবেন একই মানুষের ব্যাপারে কেউ বলছে যে, তিনি মনে করেন খবর জ্ঞানের ফায়দা দেয়, আর কেউ বলছে তিনি মনে করেন খবর জ্ঞানের ফায়দা দেয় না।
দ্বিতীয়ত: কালামী পরিভাষা জ্ঞানের ভুল তত্ত্বের উপর প্রতিষ্ঠিত (তৃতীয় অধ্যায় পড়ুন)।
তৃতীয়ত: কালামী পরিভাষা নিছক পরিভাষা নয়, বরং এটা বর্ণনার ব্যাপারে দার্শনিক তত্ত্বীয় অবস্থান। কালামবিদরা বর্ণনাকারী নয়। তত্ত্ব প্রদান (যদি প্রায়োগিক তথা ফিকহী প্রয়োজনের খাতিরে করতেই হয়) অবশ্যই মুহাদ্দিস ও বর্ণনাকারীদের পক্ষ থেকে আসতে হবে, কালামবিদদের থেকে নয়। আর আমরা ইতোপূর্বে উল্লেখ করেছি যে, ইতিহাসের দার্শনিকরা পেশাগত ইতিহাসচর্চার ধারাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

টিকাঃ
৩২৮. তাফসীরুত ত্বাবারী (৮/৫৭৩)।
৩২৯. আল-ফুসুল ফিল-উসুল (৩/৯১)।
৩৩০. উসুলুস সারাখসী (১/৩২৭)।
৩৩১. আব্দুল হামীদ আল-ফারাহী, মুফরাদাতুল কুরআন, দারুল গার্ব আল-ইসলামী, ২৯৬-২৯৭।
৩৩২. তাফসীরুত ত্বাবারী (১৬/৩০৯)।
৩৩৩. প্রাগুক্ত (১/১৯)।
৩৩৪. প্রাগুক্ত (১/১৯)।
৩৩৫. আর-রিসালাহ (৪১৯)।
৩৩৬. ইখতিলাফুল হাদীস (আল-উম্ম এর অন্তর্ভুক্ত) (৮/৫৮৮)।
৩৩৭. আবু বকর আল-খাল্লালের আস-সুন্নাহ (২/৩৫৭)।
৩৩৮. মাজমুউল ফাতাওয়া (১৮/৬৯)।
৩৩৯. কাযী আবু ইয়া'লার 'আল-উদ্দাহ' (৩/৮৯৮)।
৩৪০. এই বুঝটা জোনাথন ব্রাউনের বুঝের তুলনায় সঠিক, যে মনে করে ইমাম আহমদ খবরে আহাদকে প্রত্যক্ষ বর্ণনার স্তরে না দেখার কারণ হচ্ছে বর্ণনাকারীরা সাধারণত নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের কথা পরিবর্তন করে ফেলে। তাই ইমাম আহমদ অকাট্যভাবে নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকে হাদীস নিসবত করেননি। ব্রাউনের এই বুঝ আমার মতে সঠিক নয়। তবে তিনি এটাও বলেন যে, সাক্ষ্য প্রদান না করার সাথে ঐতিহাসিক নির্ভরযোগ্যতার সম্পর্ক নেই। তার মতামত জানতে পড়ুন, Jonathan Brown, "Did the Prophet Say it Or Not?: Literal, Historical and Effective Truth in the Sunni Hadith Tradition," Journal of the American Oreintal Sociery 129, no. 2.

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00