📄 জিনকে আটক করা
মাওলানা আশরাফ আলী থানবী (রঃ) জিনকে আটক করার জন্য কিছু পদ্ধতির কথাও উল্লেখ করেছেন। সেগুলো হল-
১. ৫ হাত সূতাকে পাকিয়ে দ্বিগুণ করতে হবে। তারপর-
إِنَّهُمْ يَكِيدُونَ كَيْدًا وَأَكِيدُ كَيْدًا : فَمَهِّلِ الْكَافِرِينَ أَمْهِلُهُمْ رُوَيْدًا . (সূরা তারেক ১৫-১৭)
এ আয়াতটি ২৫ বার পড়বে এবং প্রত্যেকবার রশির একটি গিরায় ফুঁ দেবে। এটা আগেই প্রস্তুত করে রাখতে হবে। জিন হাজির হয়ে রোগীর শরীরে প্রবেশ করলে রোগি চোখ বন্ধ এবং দাঁত খিল মেরে থাকবে। তখন চুপে চুপে তাড়াতাড়ি রোগীর বাম বাহুতে শক্ত করে রশিটি বেঁধে দিতে হবে এবং একবার নিম্নোক্ত আয়াতটি পড়ে বাঁধা সূতার উপর ফুঁ দিয়ে রুমাল দ্বারা ঢেকে রাখতে হবে যেন রোগী তা স্পর্শ করতে না পারে।
فَالْقَوْا حِبَالَهُمْ وَعِصِيَّهُمْ وَقَالُوا بِعِزَّةِ فِرْعَوْنَ إِنَّا لَنَحْنُ الْغَالِبُونَ - إِنَّا إِلَى رَبَّنَا مُنْقَلِبُونَ .
২. জিন হাজির হয়ে রোগীর শরীরে প্রবেশ করলে একটা ছুরি বা চাকুর উপর তিনবার নিম্নোক্ত দোআটি পড়ে ফুঁ দিতে হবে এবং তা দিয়ে রোগীর চারদিকে মাটিতে গোল দাগ দিলে জিন পালাতে পারবে না।
بِسْمِ اللهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ ، لَا إِلَهَ إِلَّا الله - گرد با گرد هزار حصار باد مُحَمَّدٌ رَّسُولُ اللهِ - گردان حصار بستم قفل - لا إله إِلَّا اللَّهُ مُحَمَّدٌ رَّسُوْلُ اللَّهِ صُمٌّ بُكْمٌ عُمْيٌ فَهُمْ لَا يَرْجِعُوْنَ .
৩. হঠাৎ জিন হাজির হলে এবং রোগী চোখ বন্ধ করলে সূতা বা ছুরি না পেলে ৬ বার নিম্নোক্ত আয়াতটি পড়ে রোগীর বাম হাতের বাহু খুব জোরে চেপে ধরে নিয়ত করতে হবে। আমি তাকে ধরেছি, সে ছুটতে পারবে না।
أَفَحَسِبْتُمْ أَنَّمَا خَلَقْنَاكُمْ عَبَثًا وَأَنَّكُمْ إِلَيْنَا لَا تُرْجَعُوْنَ .
(সূরা আল-মুমেনূন-১১৫)
📄 জিনের শাস্তি
চিকিৎসক কামেল-বুজুর্গ হলে তিনি কখনও প্রথমে জিনকে শাস্তি দেবেন না। কেননা, কোন কোন সময় এর পরিণাম খুবই খারাপ হয়ে থাকে। কাজেই প্রথমাবস্থায় তিনি সহজভাবে নিজস্ব প্রভাব দ্বারা জিনকে রোগী থেকে সরানোর চেষ্টা করবেন। এতে যদি কাজ না হয়, তাহলে ঐ জিনের দ্বারা তার আত্মীয়-স্বজন কেউ থাকলে তাদেরকে হাজির করতে বাধ্য করবেন এবং জিনটিকে তাদের হাতে অর্পণ করে দেবেন। তাদের কাছ থেকে লিখিত ওয়াদা রাখবেন যেন পুনরায় সে আক্রমণ করলে তাকে মেরে ফেললে বা অন্য কোন শাস্তি দিলে তারা কেউ যেন কোন আপত্তি না করে। এ চুক্তিটি খুব মজবুত হওয়া দরকার। কেননা, শেষ পর্যন্ত যদি তাকে মেরেই ফেলতে হয় তবে যেন তাকে কেউ আক্রমণ না করে। এরূপ না করে প্রথমাবস্থায় কঠোর শাস্তি দিলে বা মেরে ফেললে শেষে হাজার হাজার জিনের আক্রমণ হলে তখন বিপদের আর সীমা থাকবে না। এজন্য খুব সতর্কতার সাথে কাজ করতে হবে।
জিনকে শাস্তি দানের প্রক্রিয়াগুলো নিম্নরূপ:
১. বিনা পরীক্ষা বা পরীক্ষার মাধ্যমে জিনের আক্রমণ প্রমাণিত হলে প্রথমে তাকে অঙ্গীকার করে চলে যাওয়ার জন্য বলতে হবে। এতে সে চলে গেলে এটা খুবই নিরাপদ।
২. সহজে না গেলে ১ বোতল পানিতে ১ বার সূরা জিন প্রথম ৫ আয়াত পড়ে পানিতে ফুঁ দিয়ে ঐ পানি খুব জোরে ৭/৮ বার রোগীর মুখে নিক্ষেপ করবে। এতে রোগী স্বেচ্ছায় চোখ বন্ধ করে আঙ্গুল দ্বারা কোন একদিকে ইশারা করবে। যদি ইশারা না করে চুপ করে থাকে, তাহলে আরো কয়েকবার জোরে মারলে রোগী চোখ বন্ধ করে মুখেই বলবে, ঐদিকে গেল। তখন ইশারাকৃত দিকে বাকি পানিটুকু ছিটিয়ে দিলে জিন পালিয়ে যাবে এবং অপেক্ষাকৃত একটু সৎ জিন হলে আর আক্রমণ করবে না।
৩. বিসমিল্লাহসহ আয়াতুল কুরসী ৭ বার এবং يَا قَهَّارُ ১০১ বার পড়ে পানিতে ফুঁ দিয়ে ঐ পানি রোগীকে খাওয়াতে হবে।
৪. রোগীর বাম কানে নিম্নোক্ত আয়াত ৭ বার পড়ে ফুঁ দিতে হবে : وَلَقَدْ فَتَنَّا سُلَيْمَانَ وَالْقَيْنَا عَلَى كُرْسِيهِ جَسَدًا ثُمَّ أَنَابَ . -(সূরা সোয়াদ-৩৪)
৫. রোগীর কানে ৭ বার আযান এবং সূরা ফাতেহা, সূরা ফালাক, সূরা নাস, আয়াতুল কুরসী, সূরা তারেক, সূরা হাশরের ২১-২৪নং আয়াত এবং সূরা সাফ্ফাত পড়ে ফুঁ দিলে জিন চলে যাবে।
৬. রোগীর কানে সূরা আল-মুমিনুনের ১১৫-১১৮নং আয়াত জোরে জোরে পড়ে ফুঁ দিলে জিন খুব কষ্ট পেতে থাকে। রোগীর কাছে বসে ঐ আয়াতগুলো জোরে পড়তে থাকলে জিনের গায়ে জ্বালা-যন্ত্রণা সৃষ্টি হয়। জিনেরা এ আয়াতগুলোকে খুব ভয় পায়।
৭. রোগীর দু'পাশে দু'জন হাফেজ বসে সূরা সাফফাত দু'বার পড়লে জিন জ্বলে যায়।
৮. মাটিতে কৃত্রিম ও কুৎসিত শয়তানের মূর্তি এঁকে সূরা সাফফাতের প্রথম হতে طِبْنٌ لَازِبٌ পর্যন্ত একবার পড়ে ডালিমের ডাল দ্বারা ঐ মূর্তির উপর সজোরে এক নিঃশ্বাসে ১৫/১৬টি আঘাত করলে এবং রাগান্বিত অবস্থায় এ ধারণা করলে যে, আমি উক্ত জিনের হাড় ভেঙ্গে ফেলে দিচ্ছি, তাহলে নিশ্চয়ই জিন পলায়ন করবে এবং যা ইচ্ছা তাই তাকে দিয়ে বলানো যাবে। যখন অসংখ্য জিনের আক্রমণ হয়, তখনও এর দ্বারা বিশেষ ফল পাওয়া যায়।
৯. সূরা জিন ৭ বার পড়ে পানিতে ফুঁ দিয়ে ঐ পানি রোগীর মুখে ছিঁটিয়ে দিলে জিন কথা মানতে বাধ্য হবে।
১০. নিম্নোক্ত ৩৩ আয়াত সম্পূর্ণ পড়ে রোগীকে ফুঁ দিলে জিন পালিয়ে যায়। গভীর নিদ্রা হয়ে রোগী সুস্থ হয়ে যাবে। পানিতে ফুঁ দিয়ে যেখানে ছিটিয়ে দেবে সেখানে জিন-শয়তান থাকতে পারে না। এর আরো বহু গুণাগুণ রয়েছে। চিকিৎসক ক্রমান্বয়ে তা লক্ষ্য করতে পারবেন। আয়াতগুলো হল- সূরা ফাতেহা, সূরা বাকারার ১ম ৫ আয়াত, ১৬৩নং আয়াত, আয়াতুল কুরসী (অর্থাৎ সূরা বাকারার ২৫৫ ও ২৫৬ নং আয়াত) সুরা বাকারার শেষ তিন আয়াত, সূরা আলে ইমরানের ১৮ নং আয়াত, সূরা আরাফের ৫৪ নং আয়াত, সূরা মুমেনূন-এর ১১৬-১১৮নং আয়াত, সূরা সাফফাতের ১ম ১১ আয়াত, সূরা হাশরের ২২-২৪নং আয়াত, এরপর إِنَّهُ تَعَالَى جَدُّ رَبَّنَا مَا اتَّخَذَ صَاحِبَةٌ وَلَا وَلَدًا সূরা এখলাস, সূরা ফালাক, সূরা নাস এবং সবশেষে এ দোআটি:
بِسْمِ اللهِ الَّذِي لَا يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْ فِي الْأَرْضِ وَلَا فِي السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ . وَلَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ الْعَلِيُّ الْعَظِيمُ . وَصَلَّى اللَّهُ عَلَى النَّبِيِّ وَآلِهِ وَسَلَّمَ .
১১. একাধিক কিংবা শত শত জিনের আক্রমণ হলে রোগীর কাছে বসে একজন সূরা ইউনুস এবং আরেকজন সূরা ইয়াসিন জোরে জোরে পড়বে। একজন সূরা সাফফাত পড়ে পানিতে ফুঁ দিয়ে ঐ ঘরে ছিঁটাবে। রোগীর মুখেও কিছু ছিঁটাবে। তখন ৪ জন হাফেজে কোরআন রোগীর ২ হাত ও ২ পায়ের কাছে বসে প্রত্যেকেই সূরা জিন শেষ করে রোগীর হাত পায়ের আঙ্গুল একটু জোরে টানবে এবং নিয়ত করবে যে সে জিনকে ছিঁড়ে ফেলছে। এরূপ করলে জিন আহত হবে ও শাস্তি পাবে। কিন্তু রোগী মেয়েলোক হলে এরূপ করা যাবে না। তখন ৮নং তদবীর করতে হবে। অসংখ্য জিনের আক্রমণ হলে ৮নং এবং ১১নং তদবীরের বিশেষ উপকারিতা পাওয়া যাবে। তবে এর সাথে সূরা মুমিনুনের أَفَحَسِبْتُمُ আয়াতটিও জোরে পড়তে হবে।
১২. জিনেরা দলে দলে আক্রমণ করলে তখন কয়েকজন হাফেজে কোরআনকে রোগীর নিকট রাখা চাই। তারা নাবালেগ হলে ভাল। তারা জোরে সূরা সাফফাত-এর প্রথম ৫ আয়াত, সূরা মুমিনুনের أَفَحَسِتُمْ এই আয়াতটি এবং সূরা জিনের ১ম চার আয়াত পড়বে।
১৩. পরিস্থিতি এরূপ ভয়াবহ রূপ ধারণ করলে ৮ বার সূরা সাফফাত পুরো পড়ে প্রত্যেকবার পানিতে ফুঁ দিতে হবে। অনুরূপভাবে ৮ বার সূরা জিন পড়ে প্রত্যেক বার পানিতে ফুঁ দিয়ে ঐ পানি রোগীর কামরার বাইরে চারদিকে খুব জোরে ছিটাতে হবে এবং ধারণা করতে হবে যে, কামরায় একটা জিনও ঢুকতে পারবে না। ফলে জিনেরা সবাই একত্রিত হয়ে কামরায় ঢুকতে পারবে না। দু'একটা করে ঢুকবে। তখন ৮নং তদবীর দ্বারা শাস্তি দিতে হবে। তবে কামরার ভেতরের লোকেরা যেন ভয় না পায়। বরং উল্টা তর্জন-গর্জন করে জিনদেরকে ভয় দেখাবে।
১৪. এ সময় যদি কোন দৈত্য জিন রোগীকে তুলে নেয়ার চেষ্টা করে তখনই বাচ্চা হাফেজদেরকে রোগীর বুকের উপর বসিয়ে দেবে যেন ঐ হাফেজেরা أَفَحَسِبْتُمْ এ আয়াতটি তিনবার পড়ে নিজ শরীরের ওজন রোগীর উপর রাখে। ফলে জিন রোগীকে নিয়ে যেতে পারবে না। সাথে সাথে জিনকে কঠোর শাস্তি দিতে হবে। তাতেও যদি জিন দমন না হয়, তাহলে তাকে পুড়িয়ে মারতে হবে।
১৫. উপরোক্ত তদবীরগুলো শেষ হয়ে গেলে এবং দুর্দান্ত জিন পলায়ন না করলে শেষ পর্যায়ে নিম্নের কথাগুলো একটি কাগজে লিখে ভাঁজ করতে হবে।
فِرْعَوْنَ هَامَانَ قَارُونَ نَمْرُودُ إِبْلِيسُ كُلُّهُمْ فِي النَّارِ وَإِخْوَانُهُمْ واحبابهم .
এরপর তাতে বাদام তেল মাখিয়ে লোহা দ্বারা আগুনে ধরবে, হাতে ধরা যাবে না। রোগীর নাক সোজা আধা হাত নিচে কাগজটি পুড়িয়ে দেবে। একটি কাগজ পোড়া হলে একটি জিন পুড়ে যাবে। এ তদবীরে যাদু ও জিন পুড়ে মরবে। জিনের প্রবল আক্রমণের সময় এটাই একমাত্র মারণাস্ত্র। জিন জ্বলে গেলে রোগী চেতনা লাভ করবে এবং তার জিহ্বা বেরিয়ে আসবে। খুব পানি পান করতে চাইবে। তখন বেশি পানি পান করতে দিতে হবে। মাওলানা থানবী (রঃ) বলেন : এটা আমার বহু পরীক্ষিত এবং এক জিন থেকে তা শিক্ষাপ্রাপ্ত। এ সময় জিনকে খুব কষ্ট দিয়ে মারতে হলে أَفَحَسِبْتُمْ আয়াতটিও পড়তে হবে।
অন্য পদ্ধতিতে জিনকে শাস্তি কিংবা পোড়াবার সময় যাদু দ্বারা প্রবিষ্ট জিন আগুন দ্বারাও পুড়তে চায় না। এমন হলে, রোগীর মুখে একবার থুথু দিলে যাদু নষ্ট হয়ে যায়। দূর থেকে তাকিয়ে থাকলেও ঐ লেখাযুক্ত কাগজের মাধ্যমে জিন পুড়ে যাবে।
• উল্লেখিত সকল চিকিৎসা প্রক্রিয়ার মূল উৎস হল কোরআন এবং আল্লাহর সাহায্য ও আশ্রয় গ্রহণ। প্রত্যেক চিকিৎসকের তাকওয়া-পরহেজগারী, অভিজ্ঞতা ও দূরদর্শিতা জিন আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসার মৌলিক বিষয়। আল্লাহর রহমতের কাছে শয়তানের কলাকৌশল অত্যন্ত দুর্বল।
জিন আক্রান্ত রোগীসহ বিভিন্ন রোগীর চিকিৎসার উদ্দেশ্যে কালি দিয়ে কোরআনের আয়াত লেখা এবং তা ধুয়ে পান করা জায়েয। ইমাম আহমদসহ অন্যদের মত তাই। তারা প্রমাণ হিসেবে বলেছেন, হযরত আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস (রাঃ) বিপদগ্রস্ত লোকদেরকে বিপদের দোআ এবং কোরআনের নিম্নোক্ত দু'টো আয়াত লিখে দিয়েছেন:
لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ الْعَظِيمُ الْحَلِيمُ . سُبْحَانَ اللَّهِ رَبِّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ .
كَأَنَّهُمْ يَوْمَ يَرَوْنَهَا لَمْ يَلْبَثُوا إِلَّا عَشِيَّةً أَوْ ضُحَاهَا . -(সূরা নাযিআত-৪৬)
كَأَنَّهُمْ يَوْمَ يَرَوْنَ مَا يُوعَدُونَ لَمْ يَلْبَثُوا إِلَّا سَاعَةً مِّنْ نَّهَارٍ بلاغ ، فهل يهلك الا القوم الظالمون . -(সুরা আহকাফ-৩৫)
ওলামায়ে কেরাম বলেছেন, দুর্বোধ্য শব্দ ও বাক্য দ্বারা কোন রোগের চিকিৎসা করা যাবে না। তাতে শিরক ও বেদআতের শব্দাবলী থাকতে পারে। নবী করীম (সঃ) শিরক না হলে যেকোন বাক্য দিয়ে ঝাড়-ফুঁকের অনুমতি দিয়েছেন এবং বলেছেন, কেউ যদি তার মুসলিম ভাইয়ের উপকার করতে পারে সে যেন তা করে। আল্লাহর কোরআনই জিন-ভূতের আক্রমণের চিকিৎসার জন্য যথেষ্ট। অন্যান্য রোগেরও চিকিৎসা করা যায়। আল্লাহ এ কোরআনকে মানুষের শরীর ও মনের চিকিৎসা, রহমত ও আশীর্বাদ হিসেবে নাজিল করেছেন। কোরআনের আয়াতের যে ফজীলত, আল্লাহর নাম ও জিকিরের যে বরকত- তা অন্য কিছুতে নেই। এর ফলে রোগ নিরাময় খুবই সহজসাধ্য ব্যাপার।
📄 যে সব কারণে জিন বশীভূত হয়
কাফের ও জিন শয়তান কুফর, শিরক এবং আল্লাহর নাফরমানীকে পসন্দ করে। এজন্য তারা মন্দ কাজ, কামনা-বাসনা, গোমরাহী, ধোঁকাবাজি ইত্যাদিতে জড়িত থাকে এবং আল্লাহর শাস্তির যোগ্যতা অর্জন করে।
মানুষের মন-মানসিকতা ও মেজাজ-মর্জী নষ্ট হলে ক্ষতিকর ও লোভনীয় জিনিসের প্রতি আকৃষ্ট হয়। তখন তাদের জ্ঞান-বুদ্ধি, দীনদারী, চরিত্র, শরীর ও সম্পদ নষ্ট হয়। শয়তান নিজেই খবীস। তাই সে তাবিজ-তুমার, যাদু-মন্ত্র ইত্যাদির প্রতি আকৃষ্ট হয়। কুফর-শিরক জাতীয় তন্ত্রমন্ত্র তার কাছে খুব লোভনীয়। বরং এটা শয়তানের প্রতি তাদের ঘুষ। এ ঘুষের কারণে শয়তান তাদের এমন কিছু প্রয়োজন পূরণ করে দেয় যা নাজায়েয। যেমন, কেউ কাউকে হত্যার জন্য কিংবা অশ্লীল কাজ করার জন্য টাকা-পয়সা দেয়। তাবিজ-তুমার ও মন্ত্রকারীরা নাপাক জিনিস দিয়ে আল্লাহর বাণী লেখে, কোন সময় সূরা এখলাসের আয়াতগুলোকে নাপাক জিনিস, রক্ত ও ময়লা-আবর্জনা দিয়ে উল্টা করে লেখে। শয়তান তাতে খুব সন্তুষ্ট হয়। তারা শয়তানকে সন্তুষ্টকারী কথা-বার্তা বলে কিংবা লেখা লিখে, পানি ঘোলা করে, বিসমিল্লাহ না বলে কোন কিছু খায় বা জবেহ করে। তাতে শয়তান সন্তুষ্ট হয়ে তাদের কিছু ইচ্ছা ও কামনা-বাসনা পূরণে সাহায্য করে।
মোহাম্মদ বিন ইসহাক নাদীম তাঁর 'ফেহরেস্ত' কিতাবে লিখেছেন, কোরআন ও হাদীসের অনুসারী চিকিৎসকরা মনে করেন, তারা আল্লাহর আনুগত্য করার কারণে, আল্লাহর কাছে কাকুতি-মিনতি, শয়তান ও প্রেতাত্মা থেকে পানাহ, খারাপ কামনা-বাসনা থেকে দূরে অবস্থান এবং ইবাদাতের কারণে জিন-ভূত তাদের কথা শুনে। আল্লাহর দোহাই বা কসম অথবা আল্লাহর ভয়ে জিনেরা তাদের আনুগত্য করে। কেননা, আল্লাহর নামের মধ্যে এমন বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা তাদেরকে পরাভূত ও অপমানিত করতে সক্ষম।
পক্ষান্তরে, পাপী ও অনিষ্টকারী যাদুকর ও মন্ত্রকারীরা মনে করে, শয়তান, জিন ও প্রেতাত্মা তাদের আনুগত্য ও আদেশ-নিষেধ মেনে চলে। তারা তাদেরকে দাস হিসেবে ব্যবহার করে এবং গুনাহ, হারাম ও নিষিদ্ধ কাজের নজরানা পেশ করে। তারা আল্লাহর ঐ সমস্ত আদেশ-নিষেধ অমান্য করে যার দ্বারা শয়তান সন্তুষ্ট হয়। যেমন, নামাজ-রোজা ত্যাগ করা, খুন-খারাবী করা, মুহরিম নারীকে বিয়ে-শাদী করা ইত্যাদি।
যাদুসহ খারাপ পদ্ধতি অনুসরণের ব্যাপারে মোহাম্মদ ইবনে ইসহাক নাদীম বলেছেন, ইবলিশ কন্যা মাদাখ তাদেরকে ঐ কাজের অনুমতি দিয়েছে। বলা হয় যে, মাদাখ হল ইবলিশের ছেলের কন্যা। সাগরে মাদাখের সিংহাসন আছে। কেউ যখন তার সন্তুষ্টি কামনা ও অবৈধ কাজের সাহায্য চায় তখন সে এ সকল খারাপ কাজে সাহায্য করে থাকে।
কেউ কেউ বলেছেন, ইবলিশ নিজেই মাদাখ। অন্যদের মতে, মাদাখ তার আসনে বসা থাকে। তার অনুগতরা তাকে সাজদা করে। এরপর সে তার নৈকট্য অর্জনকারীদের ইচ্ছা পূরণের নির্দেশ দেয়।
ইবনে তাইমিয়া (রঃ) বলেছেন। যারা জিনদেরকে খারাপ কাজে ব্যবহার করে তাদের অনেকের ধারণা, হযরত সোলায়মান (আঃ) জিনদেরকে ঐ সকল মন্ত্রতন্ত্র ও খারাপ পদ্ধতি প্রয়োগ করে ব্যবহার করেছেন। একাধিক অতীত বুজুর্গানে বলেছেন, সোলায়মান (আঃ)-এর ইন্তেকালের পর শয়তান কুফরী ও যাদুবিদ্যা লিখে তাঁর সিংহাসনের নিচে রেখে দেয় এবং প্রচার করে বেড়ায় যে, সোলায়মান (আঃ) জিনদেরকে ব্যবহার করার জন্য এ বিদ্যা প্রয়োগ করতেন। ফলে আহলে কিতাবের একটি দল সোলায়মান (আঃ)-এর সমালোচনা করে। পক্ষান্তরে, আরেক দল মনে করে, এটা যদি সত্য ও জায়েয না হত, তাহলে সোলায়মান (আঃ) তা কিভাবে প্রয়োগ করেছেন? সোলায়মান (আঃ)-এর প্রতি ত্রুটির কারণে উভয় দলই গোমরাহ হয়েছে।
ইবনে তাইমিয়া বলেছেন, শয়তানের অনুসারী মন্ত্রকারীরা অনেক সময় তাদের মন্ত্রতন্ত্র কিংবা তাবিজ-তুমার দিয়ে জিনকে প্রতিরোধ করতে ব্যর্থ হয়। তারা মানুষের উপর আক্রমণকারী জিনকে আটক কিংবা হত্যা করতে সক্ষম হয় না। তা সত্ত্বেও তাদের ধারণা যে, তারা জিনকে আটক কিংবা হত্যা করতে পেরেছে। শয়তান আওয়াজ বিকৃত করে তাদেরকে ভুল ধারণা দেয়ার চেষ্টা করে। মূলকথা, এ সকল মন্ত্রবাজ ও যাদুকরদের কাছে যাওয়া হারাম।
📄 জিনগ্রস্ত রোগীর চিকিৎসা পদ্ধতির সমালোচনা
পবিত্র মক্কা নগরীতে অবস্থিত উম্মুল কোরা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডঃ হোসনী মোআজ্জিন বলেছেন, জিনগ্রস্ত রোগীর চিকিৎসায় কোরআন ও হাদীসের যথার্থ পদ্ধতির অনুশীলন করা উচিত। তাতে বেশ-কম করা কিংবা বাড়াবাড়ি করা ঠিক নয়। মহানবী (সঃ) যে পদ্ধতিতে চিকিৎসা করেছেন এবং সাহাবায়ে কেরام (রাঃ) যে পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন, আমাদেরও তাই করা দরকার। তিনি জিনগ্রস্ত রোগীর প্রচলিত চিকিৎসা পদ্ধতির নিম্নোক্ত কিছু ত্রুটি-বিচ্যুতির কথা উল্লেখ করেছেন।
তিনি বলেছেন: ১. প্রচলিত পদ্ধতিতে চিকিৎসকরা রোগীর শরীরের জিনকে দিয়ে কথা বলায়, কিভাবে সে শরীরে ঢুকেছে এবং বের হবে কিনা, হলে কিভাবে হবে-ইত্যাদি বিষয়ে জিজ্ঞেস করে। জিন সেগুলোর উত্তর দেয়। নবী করীম (সঃ) জিনদেরকে দিয়ে কথা বলান নি। তিনি সরাসরি আদেশ দিয়েছেন, 'হে আল্লাহর দুশমন, বের হও, আমি আল্লাহর রাসূল। তিনি জিনকে কোন কথা বলার সুযোগ দেননি। কাফের কিংবা ফাসেক জিনই মানুষের ক্ষতি করে। তারা সত্য কথা কমই বলে। বেশির ভাগ মিথ্যা কথা বলে। শয়তানের অস্ত্রই হল মিথ্যা বলা। তাই তার কথার কোন বিশ্বাস নেই। আর এজন্য তাকে কোন কিছু জিজ্ঞেস করারও প্রয়োজন নেই। সে যদি কিছু বলেও তাহলে তা যে মিথ্যা নয় তার কি প্রমাণ? তিনি প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করেন, চিকিৎসক জিনকে রোগীর শরীর থেকে বের করার জন্য রাজী করার পর জিজ্ঞেস করে, তুই এখন রোগীর শরীরের কোন্ জায়গায়? জিন বলেঃ 'মাথায়'। একটু পরে জিজ্ঞেস করে, এখন কোথায়? জিন বলে, 'পায়ে।' এখন প্রশ্ন হল, পায়ে এসে সে রোগীর মুখ দিয়ে কিভাবে কথা বলে? এটা কি জিনের মিথ্যা কথা নয়? জিনকে কথা বলার সুযোগ দেয়ায় এক ব্যক্তি তার মায়ের সাথে সদ্ব্যহার বন্ধ করে দিয়েছে। পরে মাকে সম্পূর্ণ বয়কট করেছে। কারণ হল, জিন বলেছে, মা তার স্ত্রীর জন্য যাদু করে ঐ জিন এনেছে। কথা বলতে না দিলে এ অন্যায়টি সংঘটিত হত না। জিন কথা বলে, হাসে-কাঁদে, খায় ও পান করে এগুলো সত্য। জিনগ্রস্ত রোগিকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে দেয়ার পর সে রোগির মুখ দিয়ে কথা বলে না কেন? তাহলে কি জিনের উপরও ঘুমের ওষুধের প্রভাব পড়ে? এর দ্বারা প্রমাণ হয় যে, মানুষের চেতনা থাকলেই কেবল জিন আছর করতে পারে, অচেতন অবস্থায় পারে না। শয়তান চেতনা থাকা অবস্থায় মানুষের বিবেককে দিয়ে কথা বলায়, জিহ্বাকে দিয়ে নয়। অর্থাৎ সে বিবেকের উপরই আছর করে।
তিনি আরো বলেন, তিন কারণে জিনের আক্রমণ হয় বলে প্রচলিত আছে।
১. যাদু। জিন বলে, আমি যাদুর মাধ্যমে আটকা পড়েছি। আমি বের হলে অন্যান্য জিনেরা আমাকে মেরে ফেলবে। অথচ আমরা কোরআনী পদ্ধতি জানি যে, যাদু অহীর মাধ্যমে নবীদের কাছে প্রকাশ পায় আর স্বপ্নের মাধ্যমে প্রকাশ পায় নেক লোকদের মাঝে। তারপর সে যাদু তুলে নষ্ট করে দিলে যাদুর প্রভাব খতম হয়ে যায়। নবী (সঃ)-এর বিরুদ্ধে লবীদ বিন আসেম যাদু করায় তিনি অহী দ্বারা তা জানতে পারেন, এরপর যাদু তুলে নষ্ট করে দেয়ার পর তিনি যাদুর ক্ষতি থেকে মুক্ত হন। স্বয়ং জিন যাদুর সংবাদ দেয়ার কথা নয়।
২. জিনের আছরের ২য় কারণ হল, ঐ ব্যক্তি উপর থেকে বিসমিল্লাহ বলে লাফ না দেয়ায় জিনের উপর পড়েছে, কিংবা দোআ না পড়ে পেশাব করায় তাও জিনের উপর পড়েছে কিংবা ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করায় জিন কষ্ট পেয়েছে। সে কারণে জিন প্রতিশোধ নেয়। ডঃ হোসনী মোআজ্জিন বলেন, এ সকল বক্তব্যের স্বপক্ষে হাদীসে কোন প্রমাণ নেই। হাদীসে যা এসেছে তাহল- ঘরের সাপকে চলে যাওয়ার অনুরোধ না জানিয়ে হত্যা করলে জিন প্রতিশোধ নেয়। নবী করীম (সঃ) বলেছেন, পেশাবখানা-পায়খানায় জিনেরা বাস করে। তাই তোমরা টয়লেটে গেলে এ দোআ পড়বে: اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُبِكَ مِنَ الْخُبُثِ وَالْخَبَائِثِ .
এ দোআটি পড়লে জিনেরা আর সতর দেখতে পারে না। দোআটি সতর ও তাদের চোখের মধ্যে আড়াল হয়ে যায়। এখানে প্রতিশোধ নেয়ার পক্ষে কিছু বলা হয় নি।
৩. ৩য় যে কারণ উল্লেখ করা হয় সেটা হল, মানুষের প্রতি জিনের আসক্তি ও ভালবাসা। এর প্রমাণ হিসেবে কোরআনে সূরা আর-রাহমানে বর্ণিত আয়াতটি لَمْ يَطْمِثْهُنَّ إِنْسٌ قَبْلَهُمْ وَلَا جَانَّ “ইতিপূর্বে বেহেশতের হুর-বালার সাথে কোন মানুষ ও জিন সহবাস করেনি।” তিনি বলেন- এর অর্থ হল, মানুষ ও জিনের জন্য হুর থাকবে। জিনের জন্য নির্ধারিত হুরের সাথে ইতিপূর্বে কোন জিন এবং মানুষের জন্য নির্ধারিত হুরের সাথে কোন মানুষ সহবাস করেনি। এর দ্বারা মানুষের প্রতি জিনের ভালবাসা প্রমাণ হয় না।
তাঁর মতে, জিন-শয়তানের আক্রমণের জন্য এগুলো কোন কারণ নয়। শয়তানের কাজই হল মানুষের ক্ষতি করা। তাই সে ক্ষতি করবেই। কারণটা বড় কথা নয়।
ডঃ হোসনী মোআজ্জিন জিনগ্রস্ত রোগীকে মেরে জিন তাড়ানোর বিরোধীতা করেন। মার রোগীর উপর নয়, জিনের উপর পড়ে- তিনি একথারও বিরোধীতা করেন। কেননা, নবী করীম (সঃ) থেকে বিশুদ্ধ হাদীস দ্বারা রোগী মেরে জিন তাড়ানোর কথা প্রমাণিত নয়। নবী (সঃ) এক রোগীর পিঠে মারতে গিয়ে অন্য একজন তাঁর বগলের নিচের শুভ্রতা দেখেছেন মর্মে বর্ণিত হাদীসের সনদ বিশুদ্ধ নয়। একথা কি করে গ্রহণযোগ্য হতে পারে? কেননা, জিন আক্রান্ত রোগী হল একজন অচেতন ব্যক্তি। জিন তার বিবেক শক্তির উপর আছর করায় সে অচেতন। এমতাবস্থায় তার শরীরে মার দিলে, চেতনা ফিরে আসার পর সে তা অনুভব করতে পারবে না এ কথা বোধগম্য নয়। তাই মার দিয়ে জিন তাড়ানো ঠিক নয়। কেননা, খারেজা বিন সলতের বাবা যখন একজন পাগলকে লোহার সাথে বাঁধা দেখে চিকিৎসা শুরু করেন, তখন তিনি শুধু সূরা ফাতেহা পাঠ করেন বলে বর্ণিত আছে, মারের কোন কথা তাতে নেই। ডঃ মোআজ্জিন বলেন, যারা মার দিয়ে জিন তাড়ায়, পরে দেখা যায়, জিন আবার ফিরে আসে এবং আক্রমণ করে। এর কারণ একটাই। আর তা হল, নবী করীম (সঃ)-এর পদ্ধতিতে চিকিৎসা করা হয় নি।
নবী করীম (সঃ) শয়তানকে গলা টিপে ধরায় তাঁর হাত মোবারকে শয়তানের জিহ্বার শীতলতা অনুভব হওয়ার উপর ভিত্তি করে অনেকে রোগীকে গলা টিপে ধরেন যেন জিন চলে যায়। ডঃ মোআজ্জিনের মতে, এর উপর কেয়াস বা তুলনা করে জিনগ্রস্ত রোগীর চিকিৎসা করা উচিত নয়। কেননা, হাদীসে এসেছে, হাই তোলার সময় মুখে হাত না দিলে শরীরের ভেতর জিন ঢুকে। রাত্রে ঘুমালে নাসিকারন্ধ্রে শয়তান ঢুকে মর্মে হাদীস রয়েছে। তাছাড়া শয়তান এমনিতেই তো মানুষের শিরা-উপশিরায় চলাচল করে। শয়তান শরীরের ভেতর ঢুকলেই মানুষ অচেতন হয় না, যে পর্যন্ত না বিবেকের উপর আছর করে। তাই মার দিয়ে তাকে কতক্ষণ পর্যন্ত তাড়ানো যাবে? সে তো সব সময় শরীরের মধ্যে প্রবেশ করছেই, কিন্তু সব সময় মানুষকে পাগল বানাচ্ছে না।
ডঃ হোসনী মোআজ্জিনের সমালোচনাকে সামনে রেখে বলতে হয়, এর যথেষ্ট গুরুত্ব রয়েছে। কিন্তু জিনগ্রস্ত রোগীর চিকিৎসার ব্যাপারে ইমাম আহমদ বিন হাম্বল, ইমাম ইবনে তাইমিয়া (রঃ) সহ অন্যান্যদের অভিজ্ঞতারও মূল্য রয়েছে। জিনকে মারলে সে যদি কষ্ট না পায়, তাহলে সে মারের চোটে চিৎকার করে কেন? রোগীতো অচেতন। মারের চোটে চলেও যায় কেন? আসলে উভয় বক্তব্যের মধ্যে সমন্বয় দরকার। কোন সময় মারও দরকার হতে পারে। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে মারের প্রয়োজন নেই। কোরআন পাঠ ও হাদীসে বর্ণিত দোআই হল মৌলিক চিকিৎসা।
তাছাড়া শয়তান যেসব তথ্য দেয় তা সব সময় মিথ্যা নাও হতে পারে। যেমন, বোখারী শরীফে ফিতরার মাল পাহারার জন্য নবী করীম (সঃ) হযরত আবু হোরায়রাকে নিযুক্ত করেন। প্রথম দু'বার শয়তান মিথ্যা বলে মুক্তি পায়। ৩য় বার সে আবু হোরায়রার কাছে কঠোরভাবে ধরা খাওয়ায় মুক্তির জন্য একটি সত্য বাণী বলে। সেটি হল, শোয়ার সময় আয়াতুল কুরসী পড়লে শয়তান ভোর হওয়া পর্যন্ত আর কোন ক্ষতি করতে পারে না। নবী করীম (সঃ) শুনে বলেন: আগের দু'রাত সে মিথ্যা বলেছে। কিন্তু আজকে সত্য বলেছে। এ হাদীসটি পরে আমরা বিস্তারিত উল্লেখ করব। শয়তান কদাচিত সত্য বলে। অধিকাংশ সময়ই মিথ্যা বলে।
টিকাঃ
১. সাপ্তাহিক আল-মোসলেমুন-সংখ্যা-৬৪২, ২৩ শে মে, ১৯৯৭, জেদ্দা, সৌদি আরব।