📘 জ্বিন ও শয়তানের ইতিকথা > 📄 জিন-ভূতের উপর কোরআনের প্রতিক্রিয়া

📄 জিন-ভূতের উপর কোরআনের প্রতিক্রিয়া


মানুষ ও জিন আল্লাহর সৃষ্টি। উভয় জাতির জন্যই ইসলামের দাওয়াত পেশ করা হয়েছে। মহানবী (সঃ) উভয় সম্প্রদায়েরই নবী। তাই জিন ও মানুষকে আল্লাহর আদেশ-নিষেধ মেনে চলতে হবে। তা না হয় উভয়ের জন্যই শাস্তির ব্যবস্থা রয়েছে। কেউ যদি আল্লাহর নাফরমানী করে তাহলে তার বিরুদ্ধে দুনিয়া ও আখেরাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
কাফের, মোশরেক ও পাপী জিনেরাও মানুষের মধ্যে যারা পাপী ও অন্যায়কারী তাদের মতই অপরাধী। খারাপ জিনেরা নিজ জাতির ক্ষতি করে, মানবজাতিরও ক্ষতি করে। তারা মানুষের উপর সওয়ার হয়। তাদেরকে তাড়ানোর জন্য কোরআনই একমাত্র হাতিয়ার।
কোরআন তেলাওয়াত করলে দুষ্ট ও ফাসেক এবং কাফের জিনগুলো কষ্ট পায়। কোরআন তাদের জন্য গোলা-বারুদের মত কষ্টকর। তারা যে রোগীর উপর সওয়ার হয় সে রোগীর উপর কোরআনের আয়াত তেলাওয়াত করলে সে রোগীর শরীরে থাকতে পারে না। অবশ্য এজন্য বিশুদ্ধ কোরআন তেলাওয়াতের প্রয়োজন। যিনি কোরআন তেলাওয়াত করবেন তিনি যদি আলেম হন এবং কোরআনের অর্থ বুঝেন, নিজে আমল করেন এবং তাকওয়া-পরহেজগারী অবলম্বন করেন তাহলে, তার তেলাওয়াতের মাধ্যমে জিনের শরীরে আগুন ধরে। তখন তার অবস্থা হয় 'ছেড়ে দে মা কেঁদে বাচি'-এ প্রবাদের মত। তখন সে চলে যেতে বাধ্য হয় এবং রোগী সুস্থ হয়। আলেম না হলেও কোরআন পাঠের মাধ্যমে জিন চলে যেতে বাধ্য।
ইবনু আবিদ দুনিয়া বিভিন্ন বর্ণনাকারীদের বর্ণনা পরম্পরায় কায়েস বিন হাজ্জাজ থেকে বর্ণনা করেছেন। কায়েস বলেন: আমার শয়তান আমাকে বলেছে, আমি যখন তোমার শরীরে প্রবেশ করি তখন উটের মত প্রবেশ করি। আজ আমি তোমার শরীরে একটি ছোট পাখির মত দুর্বল। কায়েস বলেন: এরকম কেন? সে জবাব দেয় তুমি আমাকে আল্লাহর কিতাবের মাধ্যমে দুর্বল করে দিয়েছ।
ইবনে আবিদ দুনিয়া বর্ণনাকারীদের বর্ণনা পরম্পরায় আবদুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: 'মুমিনের শয়তান দুর্বল।' অর্থাৎ নেক আমল, জিকর ও কোরআন তেলাওয়াতের কারণে শয়তান দুর্বল হতে বাধ্য।
আবু হোরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন: 'মুমিন শয়তানকে এমনভাবে দুর্বল করে যেমনি তোমরা সফরে উটকে ক্লান্ত-শ্রান্ত করে তোল।' (আহমদ)
ইবনে আবিদ দুনিয়া খালেদ আল-ওয়ালেবী থেকে বর্ণনা করেছেন। খালেদ বলেন, আমি ওমর বিন আবদুল আযীযের কাছে প্রতিনিধি হিসেবে সপরিবারে রওনা হয়েছি। আমি এক জায়গায় অবতরণ করি। আমার পরিবার আমার পেছনে ছিল। আমি শিশুদের আওয়াজ শুনলাম। তারপর জোরে কোরআন পড়লাম। তখন একটা পুটলী নিচে পড়ল। তাতে কতগুলো শিশু ছিল। আমি তাদেরকে ব্যাপার কি জিজ্ঞেস করায় তারা বলল: শয়তান আমাদেরকে নিয়ে গিয়েছিল এবং আমাদেরকে নিয়ে খেলা-ধূলা করছিল। আপনি যখন কোরআন পড়লেন তখন সে আমাদেরকে নিক্ষেপ করে চলে গেল।
উপরোক্ত বর্ণনা দ্বারা পরিস্কার হয়ে গেল যে, কোরআন শুনলে শয়তান ভেগে যায়।
ইবনে আকীল তাঁর 'আল-ফুনুন' গ্রন্থে লিখেছেন, বাগদাদের জাফরিয়া নামক জায়গায় আমাদের একটি ঘর ছিল। যখনই মানুষ তাতে বাস করেছে, তারা মৃত্যুবরণ করেছে। একবার এক ক্বারী ঘরটি ভাড়া নিল। আমরা তার পরিণতি জানার অপেক্ষায় থাকলাম। সকালবেলায় তাকে সবল-সুস্থ্য দেখে আমাদের প্রতিবেশীরাসহ আমরা আশ্চর্য হলাম। সে ঐ ঘরে অনেক দিন থেকেছে। তারপর সেখান থেকে অন্যত্র চলে গেছে। তাকে তার অবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করায় সে বলল: আমি যখন রাত্রে এশার নামাজ পড়ি এবং কিছু কোরআন তেলাওয়াত করি তখন এক যুবক পার্শ্ববর্তী কূপ থেকে উঠে আসল। আমাকে সালাম দিল। আমি পেরেশান হয়ে গেলাম। যুবকটি বলল: কোন অসুবিধে নেই, আমাকে কিছু কোরআন শিক্ষা দিন। আমি তাকে কোরআন শিখাতে থাকলাম। তারপর আমি তাকে এ ঘরের কাহিনী সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। যুবকটি জবাব দিল, আমরা মুসলমান জিন, কোরআন পড়ি ও নামাজ আদায় করি। এ ঘরে ফাসেক ও পাপী লোকেরা বাস করত। তারা মদ পান করত। আমরা তাদেরকে গলা টিপে মেরে ফেলতাম। তারপর আমি বললাম, আমি রাত্রে তোমাকে দেখে ভয় পাচ্ছি। তুমি দিনে আস। সে বলল, ঠিক আছে। সে দিনে কূপ থেকে উঠে আসল। তার সাথে আমার ঘনিষ্ঠতা হয়ে গেল। সে তখন কেরাত পড়ছিল, হঠাৎ করে রাস্তায় এক ঝাড়-ফুঁককারীর আওয়াজ শুনা গেল। সে বলল, আমি সাপ-বিচ্ছু, চোখ লাগা ও জিনে আক্রান্ত রোগীকে ঝাঁড়-ফুঁক করি। যুবকটি জিজ্ঞেস করল সে কে? আমি বললাম, 'ঝাড়-ফুঁককারী'। যুবকটি বলল: তাকে ডাকুন। আমি তাকে ডাকলাম এবং ঘরে প্রবেশ করালাম। তখন দেখি যে, ছাদে জিনটি সাপের আকৃতিতে অবস্থান করছে। লোকটি দোআ পড়তে লাগল। সাপটি ঘরের মেঝে পড়ল। লোকটি সাপটিকে তার ব্যাগে ঢুকানোর উদ্যোগ নিল। আমি নিষেধ করলাম। লোকটি বলল: তুমি আমার শিকার সংগ্রহে বাধা দিচ্ছ? আমি তাকে এক-দীনার দিয়ে বিদায় করলাম। সাপটি নড়াচড়া দিয়ে উঠল। সে খুব দুর্বল হয়ে গেল, রং হলুদ হয়ে গেল এবং খুবই ক্লান্ত-শ্রান্ত হয়ে গেল। আমি প্রশ্ন করলাম, তোমার কি হল? সে উত্তরে বলল, লোকটি দোআ ও কেরাত পড়ে আমাকে শেষ করে দিয়েছে। আমি বাঁচব বলে মনে হয় না। সে বলল: যদি কূপে কোন আওয়াজ শুনতে পান, তাহলে বুঝবেন যে, আমি মৃত্যুবরণ করেছি। লোকটি বলল, আমি রাত্রেই কূপে জিনটির মৃত্যুর সংবাদের আওয়াজ শুনতে পেয়েছি।
ইবনু আকীল বলেন, এরপর ঐ ঘরে আর কেউ বাস করত না। এখানে প্রশ্ন দাঁড়ায়, জিনটি নিজেও কোরআন শিখত। স্বয়ং রাসূলুল্লাহর (সঃ) কাছেও জিনেরা কোরআন শুনেছে। তাহলে, কোরআন দ্বারা কি করে জিনকে কষ্ট দেয়া বা ক্ষতি করা যায়? এ প্রশ্নের উত্তর হল- মুসলমান জিন কোরআন দ্বারা কষ্ট পায় না, বরং আনন্দ পায়। যেমন রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর কাছে জিনদের কোরআন শুনার ঘটনা তার প্রমাণ। তবে শর্ত হল, তাকে নিজস্ব স্বত্বায় অপরিবর্তিত থাকতে হবে। কোন মুসলমান জিন যদি সাপের বা অন্য কোন আকৃতি ধারণ করে নিজ সত্ত্বার পরিবর্তন ঘটায় তাহলে কোরআন দ্বারা তার কষ্ট ও ক্ষতি করা যাবে। যেমন, উল্লেখিত ঘটনা তার উৎকষ্ট প্রমাণ। জিনটি সাপ না হলে তার এ ক্ষতি হত না। তার ভুলের কারণেই এ ক্ষতি হল। কাফের ও ফাসেক জিনকে কোরআন দ্বারা শান্তি দেয়া যাবে। ক্ষতি করা হারাম। তাই জিন মানুষকে ক্ষতি করলে আল্লাহ তাকে নিজ বাণীর মাধ্যমে শাস্তির ব্যবস্থা করেছেন।

📘 জ্বিন ও শয়তানের ইতিকথা > 📄 জিনে ধরা রোগীর চিকিৎসার শর্তাবলী

📄 জিনে ধরা রোগীর চিকিৎসার শর্তাবলী


আল্লাহ কোরআন মজীদে বলেছেন: إِنَّ الَّذِينَ اتَّقَوْا إِذَا مَسَّهُمْ طَائِفٌ مِّنَ الشَّيْطَانِ تَذَكَّرُوا فَإِذَا هُمْ مُّبْصِرُونَ .
“যারা আল্লাহকে ভয় করে, তাঁর আদেশ-নিষেধ মেনে চলে এমন মোত্তাকীদের উপর শয়তানের আক্রমণ হলে তারা সাথে সাথে সতর্ক হয়ে যায় এবং তখনই তাদের বিবেচনা শক্তি ও বিবেক জাগ্রত হয়ে উঠে।” -(সূরা আ’রাফ-২০১)
এ আয়াতে তাকওয়া এবং এর দাবী অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণকে জিন-শয়তানের আগ্রাসন ও আক্রমণের চিকিৎসার মৌলিক শর্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ চিকিৎসার সকল পদক্ষেপ হবে কোরআন ও হাদীস ভিত্তিক। চিকিৎসক ও রোগী এবং চিকৎসার সাথে জড়িত সকলকে তাকওয়ার অনুসারী হতে হবে। তা না হলে কোরআনী চিকিৎসায় আশাপ্রদ ফল লাভ হবে না। তাকওয়ার কাছে শয়তান পরাজিত।
২য় মৌলিক শর্ত হল, এখলাস ও একনিষ্ঠতা অর্থাৎ নির্ভেজাল আকীদা ও আমল। একথা শয়তানের মুখ দিয়ে কোরআনে বর্ণিত হয়েছি। সে বলেছে: قَالَ فَبِعِزَّتِكَ لَأُغْوِيَنَّهُمْ أَجْمَعِينَ إِلَّا عِبَادَكَ مِنْهُمُ الْمُخْلِصِينَ .
"শয়তান বলে, হে আল্লাহ! আমি আপনার ইজ্জতের শপথ করে বলছি, আমি আপনার মোখলেস ও একনিষ্ঠ বান্দাহগণ ব্যতীত অন্য সবাইকে গোমরাহ করে ছাড়ব।” আল্লাহ এর জবাবে বলেন: إِنَّ عِبَادِي لَيْسَ لَكَ عَلَيْهِمْ سُلْطَانٌ .
"আমার যারা খাঁটি বান্দাহ তাদের উপর তোর কোন শক্তিসামর্থ্য নেই।" মোখলেস বা একনিষ্ঠ বান্দাহর কাছে শয়তান এসে সফল হতে পারে না।
চিকিৎসা ও প্রতিকারের ৩য় মৌলিক বিষয় হল, আল্লাহর জিকর এবং প্রতিরক্ষা ও প্রতিকার সংক্রান্ত মহানবী (সঃ)-এর কাছ থেকে বর্ণিত দোআ-প্রার্থনাসমূহ। দোআ ও জিকর-আজকার মুমিনের জন্য শয়তানের বিরুদ্ধে দুর্ভেদ্য দুর্গ। নবী করীম (সঃ) বলেছেন, তোমাদের যদি কোন দুর্গ থাকে এবং তাতে কেউ প্রবেশ করে গেট বন্ধ করে দিলে দুশমন কি তাতে প্রবেশ করে তার কোন ক্ষতি করতে পারবে?
ঠিক আল্লাহর জিকর-আজকার এবং দোআ-প্রার্থনাও তেমনি দুর্ভেদ্য দুর্গ যা ভেদ করে শয়তান ক্ষতি করতে পারে না। ১
শয়তান কেবলমাত্র আল্লাহকেই ভয় পায়। তাই আল্লাহর কালাম বা বাণী এবং আল্লাহর জিকর ও বিভিন্ন দোআ দ্বারাই কেবল তাকে কাবু করা যায়। মুমিনের জন্য অন্য কোন বিকল্প নেই। তাকে শয়তানের বিরুদ্ধে কেবলমাত্র আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করতে হবে। স্বয়ং নবী করীম (সঃ)-ও একই পদ্ধতিই অবলম্বন করেছিলেন। তিনি জিন ও মানুষ উভয় সম্প্রদায়ের নবী হওয়া সত্ত্বেও আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা ছাড়া আর কোন ভিন্ন ও বিকৃত পন্থা অবলম্বন করেননি।
জিন আক্রান্ত রোগীর সফল চিকিৎসার জন্য নিম্নোক্ত শর্তাবলী পূরণ হওয়া দরকার। চিকিৎসার গোটা প্রক্রিয়ায় গুনাহ ও আল্লাহর নাফরমানী থাকতে পারবে না। শর্তাবলী হচ্ছে:
১. ঘর থেকে ছবি, প্রতিকৃতি, মূর্তি সরিয়ে ফেলতে হবে। ঘরে কুকুর ও শুকর থাকতে পারবে না। এগুলো ঘরে থাকলে রহমতের ফেরেশতা ঢুকে না।
২. রোগীর হাতে, পায়ে বা গলায় তাবিজ-তুমার, ঝিনুক-শামুক, তাগা থাকলে খুলে ফেলতে হবে।
৩. চিকিৎসার স্থানকে গান-বাজনা ও নাচমুক্ত হতে হবে।
৪. শরীয়তবিরোধী কার্যক্রম মুক্ত থাকতে হবে। যেমন, পর্দাহীনতা, বেহায়াপনা, নগ্নতা, পুরুষের সিল্ক পোশাক ও সোনা-রূপা পরা ইত্যাদি।
৫. মুহরিম আত্মীয় ছাড়া কোন মহিলা রোগীর চিকিৎসা করা যাবে না এবং কোন অমহরম ব্যক্তি সেখানে প্রবেশ করতে পারবে না।
৬. উত্তম হল, কোরআনী চিকিৎসক অজু অবস্থায় চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু করবেন এবং কোরআন তেলাওয়াত করবেন। রোগীকেও পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা অর্জন এবং অজুর আদেশ দেবেন। এভাবে একটা নির্মল ও স্বচ্ছ নৈতিক পরিবেশ তৈরি করে চিকিৎসা শুরু করতে হবে।

টিকাঃ
১. দৈনিক আল-বেলাদ-সংখ্যা-৯১৭৩, ২০শে মে, ১৯৮৯।

📘 জ্বিন ও শয়তানের ইতিকথা > 📄 জিন-ভূতের আক্রমণের কারণ

📄 জিন-ভূতের আক্রমণের কারণ


জিন বিভিন্ন কারণে মানুষের ক্ষতি করে এবং তাদের উপর সওয়ার হয়। সে কারণগুলো জানা থাকলে জিনের আক্রমণ থেকে বাঁচা সহজ। কারণগুলো হলঃ
১. জিনের উপর মানুষের জুলুম এবং জিনকে কষ্ট দেয়া। যেমন, বিসমিল্লাহ না বলে গরম পানি নিক্ষেপ করা। ক্ষতি না করলে কুকুর ও বিড়াল হত্যা না করা। ঘরে সাপ দেখলে তাকে চলে যাওয়ার জন্য আহ্বান জানানো। এগুলো জিনও হতে পারে।
২. গর্তে পেশাব করা। কেননা, গর্তে জিন থাকে।
৩. বিসমিল্লাহ না বলে উপর থেকে লাফ দেয়া। মানুষ অজান্তেই এগুলো করে থাকে। কিন্তু তাতে জিনেরা কষ্ট পায়। জিনের মধ্যে অনেক অজ্ঞ-মূর্খ আছে, তারা ন্যায্য শান্তির অধিক প্রতিশোধ নেয়।
৪. বিনা কারণেই দুষ্ট জিনেরা মানুষের ক্ষতি করে। তাদের উদাহরণ হল, দুষ্ট মানুষের মত। তারা বিনা কারণে মানুষকে কষ্ট দেয়।
৫. অশ্লীল কাজ করলে জিনের আক্রমণ হতে পারে।
৬. গান-বাজনা, নাচ, ঢোল-তবলা বাজালে এবং মদপানসহ গুনাহর কাজ করলে জিনের আক্রমণ হতে পারে।
৭. কোরআন তেলাওয়াত ও আল্লাহর জিকর-আযকার এবং সকাল-সন্ধ্যাসহ বিভিন্ন কাজের জন্য নির্দিষ্ট দোআ-দরূদ না পড়লে জিনের আক্রমণ হতে পারে।
৮. সন্ধ্যায় শিশু ও বেপর্দা মহিলাদের ঘরের বাইরে অবস্থান জিনের আক্রমণের অন্যতম কারণ।
৯. নারীর প্রতি পুরুষ জিনের কিংবা পুরুষের প্রতি পরী জিনের আকর্ষণ আক্রমণের অন্যতম কারণ।
১০. সহীহ হাদীসে বর্ণিত আছে, বিসমিল্লাহ না পড়ে সতর খুললে এবং জিন সে সতর দেখলে মানুষকে কষ্ট দেয় ও সতর উপভোগ করে। বিসমিল্লাহ হল সতর এবং জিনের চোখের মাঝে আড়াল। তাই বিসমিল্লাহ বলে সতর খোলা উচিত।
শেখ আলী বিন মোশরেফ ওমরী বলেন: সতরের কারণে অনেক জিন-আক্রান্ত রোগীর ঘটনা আমার জানা আছে। একটি ঘটনা হল, এক মহিলা গোসলখানায় গোসল করার সময় জিনের আক্রমণের শিকার হয়। আমি মহিলাটিকে বিসমিল্লাহ বলে গোসল শুরু করেছে কিনা জিজ্ঞেস করায় সে 'না' সূচক জবাব দেয়। আমি জিনকে আক্রমণের কারণ জিজ্ঞেস করায় সে বলল: মহিলাটি সতর খোলায় আমি তাকে দেখে আশ্চর্যবোধ করেছি এবং সেজন্য তার উপর সওয়ার হয়েছি। সে যদি দোআ পড়ে গোসলখানায় ঢুকত তাহলে আমি তার উপর আক্রমণ করতে পারতাম না। ১-
বিশুদ্ধ হাদীসে এসেছে, তোমাদের যে কেউ যেন স্ত্রী সহবাসের সময় এ দোআ পড়ে:
بِسْمِ اللَّهِ اللَّهُمَّ جَنِّبْنَا الشَّيْطَانَ وَجَيْبِ الشَّيْطَانَ مَا رَزَقْتُنَا .
"আল্লাহর নামে শুরু করছি। হে আল্লাহ! আমাদেরকে শয়তান থেকে এবং শয়তানকে আমাদেরকে প্রদত্ত রিজক ও নেয়ামত ভোগ থেকে দূরে রাখুন।" তাহলে, ঐ বীর্য দ্বারা কোন সন্তান জন্ম নিলে শয়তান তার কোন ক্ষতি করতে পারবে না।
১১. জিনের ঝাড়-ফুঁক করলে জিন ক্ষতি করার চেষ্টা করে। জিনের ঝাড়-ফুঁককারীদেরকে নির্ভিক হতে হবে। ভয় করলে ভয়ের মাধ্যমে শয়তান শরীরে ঢুকে ক্ষতি করতে পারে।
শেখ ওমরী বলেন: আমি আমার ঘরে আলো জ্বলতে এবং নিভতে দেখি। এটাকে জিনের কারবার মনে করে বলি, তোরা যা ইচ্ছা কর, আমি কিন্তু তাতে ভয় পাই না। ২

টিকাঃ
১. দৈনিক আল-বেলাদ, সংখ্যা-৯১৭২, ২০ মে, ১৯৮৯ জেদ্দা, সৌদী আরব।
২. ঐ

📘 জ্বিন ও শয়তানের ইতিকথা > 📄 জিনের আক্রমণের সুযোগ

📄 জিনের আক্রমণের সুযোগ


জিন মানুষকে আক্রমণের জন্য যে সকল সুযোগের সদ্ব্যবহার করে সেগুলো হলঃ
১. কঠোর রাগ-গোস্বা: মানুষ বেশি রাগ করলে হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলতে পারে। যারা রাগী, জিন তাদের রাগের সদ্ব্যবহার করে আক্রমণের পথ রচনা করে। এজন্য মহানবী (সঃ) রাগ না করার এবং তাকে নিয়ন্ত্রণে রাখার উপদেশ দিয়েছেন।
২. কঠোর ভয়-ভীতি: অনেকে ভীরু প্রকৃতির লোক। তারা বেশি ভয় পায়। যে যত বেশি ভয় পায় জিন তাকে তত দুর্বল মনে করে। দুর্বলের উপর সবলের অত্যাচার সর্বত্র পরিলক্ষিত হয়। সাহসী লোকেরা অজেয়কে জয় করতে এবং দুর্গমকে সুগম করতে পারে। দুর্বলের স্থান না আছে মানক জগতে, আর না আছে জিনের জগতে।
৩. যৌন কামনা-বাসনা জিনের আক্রমণের বিশেষ ক্ষেত্র। এ বিষয়ে সতর্কতার প্রয়োজন সর্বাধিক। সুন্দরী নারী কিংবা সুদর্শন পুরুষের প্রতি জিনের আক্রমণের আশংকা থাকে। যে সকল মহিলারা সেন্ট মেখে বাইরে যায় এবং বেপর্দা ঘুরাফিরা করে তারা জিনের অন্যতম শিকার। অশ্লীল ও যৌন ফিল্ম দেখলেও আক্রমণ হয়। যৌন গান-বাজনাও আক্রমণের অন্যতম কারণ।
৪. কঠোর উদাসীনতা: বহু নারী-পুরুষ উদাসীন থাকে। কোন কাজেই তারা সিরিয়াস নয়। এ জাতীয় লাগামহীন উদাসীনতা জিনের পাথেয়।

টিকাঃ
১. দৈনিক আল-বেলাদ-সংখ্যা-৯১৭৩, ২০ শে মে, ১৯৮৯ সৌদি আরব।
২. ঐ

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00