📘 জ্বিন ও শয়তানের ইতিকথা > 📄 জিনের সাথে মানুষের বিয়ের হুকুম

📄 জিনের সাথে মানুষের বিয়ের হুকুম


রাসূলুল্লাহ (স) জিনের সাথে মানুষের এবং মানুষের সাথে জিনের বিয়ে-শাদীকে নিষিদ্ধ করেছেন। একদল তাবেঈ এ জাতীয় বিয়েকে মাকরূহ বলেছেন। হারব আল-কারমানী তাঁর 'মাসায়েল' গ্রন্থে ইমাম আহমদ ও এসহাক থেকে বর্ণনা করেছেন যে, মোহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া আল কোতাইয়ী বিশর বিন ওমর থেকে, তিনি ইবনে লোহাইআ' থেকে এবং তিনি ইউসুফ বিন ইয়াযীদ যোহরী থেকে বর্ণনা করেছেন। রাসূলুল্লাহ (সঃ) জিনকে বিয়ে করতে নিষেধ করেছেন। হাদীসটি মোরসাল এবং তাতে ইবনে লোহাইআ' নামক বর্ণনাকারী দুর্বল। ইমাম মালেক বলেছেন, বিয়ে জায়েয হওয়া সত্ত্বেও আমি জিন কর্তৃক কোন মহিলার গর্ভ ধারণের কথা শুনতে অপছন্দ করি। কেননা এর ফলে ইসলামে বিরাট ফেতনা ও বিপর্যয় দেখা দেবে। মুআওইয়া হাজ্জাজ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, হাকাম বিন ওতাইবা জিনের সাথে বিয়েকে মাকরূহ বলেছেন। ওকবা রোমানী বলেছেন, আমি প্রখ্যাত আলেম কাতাদাহকে জিন বিয়ের বিষয়ে জিজ্ঞেস করায় তিনি এটাকে মাকরূহ বলেছেন। ওকবা আরো বলেন আমি হাসানকে জিন বিয়ের বিষয়ে জিজ্ঞেস করায় তিনিও এটাকে মাকরূহ বলেছেন।
ইবনু আবিদ দুনিয়া তাঁর 'আল-হাওয়াতেফ' গ্রন্থে লিখেছেন, এক ব্যক্তি হাসান বিন হাসান বসরীর কাছে এসে বলল, হে আবু সাঈদ। জিনের এক পুরুষ আমাদের এক যুবতীর জন্য বিয়ের পায়গাম দিয়েছে। তিনি বলেন, তার কাছে বিয়ে দেবে না। তারপর সে কাতাদার কাছে এসে বলে, হে আবুল খাত্তাব! জিনের এক পুরুষ আমাদের এক যুবতীর জন্য বিয়ের পয়গাম দিয়েছে। তিনি বলেন, তার কাছে বিয়ে দেবে না। সে যখন আসবে তখন তাকে বলবে, 'তুমি যদি মুসলমান হও এবং ফিরে যাও আমাদেরকে কষ্ট না দাও, তাহলে আমরা তোমার কাছে আসতে পারি।'
রাত হলে জিন আসল এবং দরজায় দাঁড়িয়ে বলল, তোমরা হাসানের কাছে গিয়ে তাকে জিজ্ঞেস করেছ। তিনি উত্তরে বলেছেন, তার কাছে বিয়ে দিওনা। তারপর কাতাদার কাছে গিয়েছ এবং তাকেও জিজ্ঞেস করেছ। তিনি বলেছেন, তার কাছে বিয়ে দেবেনা এবং তাকে একথা বলঃ 'তুমি যদি মুসলমান হও এবং ফিরে যাও এবং আমাদেরকে কষ্ট না দাও তাহলে, আমরা তোমার কাছে আসতে পারি।'
তারা একথা স্বীকার করল। তারপর জিনটি চলে গেল এবং তাদের কোন ক্ষতি করলনা।
হারব বলেন, আমি ইসহাককে প্রশ্ন করলাম এক ব্যক্তি সাগর পথে রওনা হল এবং নৌকা ভেঙ্গে যাওয়ায় দুর্ঘটনার শিকার হয়ে এক পরীকে বিয়ে করল। তখন তিনি বলেন জিনের সাথে বিয়ে-শাদী মাকরূহ।
ইবনু আবিদ দুনিয়া ফজল বিন ইসহাক থেকে, তিনি আবু কোতাইবা থেকে এবং তিনি ওকবা আল-আসম এবং কাতাদাহ থেকে বর্ণনা করেছেন যে তাঁদের উভয়ের কাছে জিনকে বিয়ের ব্যাপারে প্রশ্ন করায় তাঁরা এটাকে মাকরূহ বলেছেন।
ইবনু আবিদ দুনিয়া আরো উল্লেখ করেছেন যে, হাসান বলেছেন জিনেরা তাঁর কাছে আসার পর উপস্থিত লোকেরা বলল যে, আমরাও তোমাদের কাছে বেরিয়ে আসব যদি তোমরা আমাদেরকে তোমাদের শব্দ শুনাও কিংবা তোমাদের আকৃতি দেখাও। তারা এরূপ বলায় জিনেরা চলে গেল।
জামালুদ্দিন সাজিস্তানী হানাফী মাজহাবের একজন ইমাম ছিলেন। তিনি তার 'মনিয়্যাতুল মুফতী' গ্রন্থে ফাতাওয়া সিরাজিয়ার বরাত দিয়ে লিখেছেন যে, মানুষ ও জিনের মধ্যে বিয়ে-শাদী নাজায়েয। কেননা, মানুষ ও জিনের মধ্যকার সৃষ্টি ও উপাদানগত পার্থক্যের কারণে তা হতে পারে না।
নাজমুদ্দিন আল-যাহেদী তাঁর 'কানিয়‍্যাতুল মানিয়্যাহ' গ্রন্থে লিখেছেন। জিনের সাথে বিয়ে-শাদীর ব্যাপারে হাসান বসরীকে জিজ্ঞেস করায় তিনি জবাবে বলেন: দুই পুরুষ ব্যক্তি স্বাক্ষী হলে জায়েয আছে এবং দুই পুরুষ স্বাক্ষী ছাড়া জায়েয হবে না। গ্রন্থকার বলেন, এর মাধ্যমে প্রশ্নকর্তাকে তার বোকামীর জন্য উপযুক্ত থাপ্পড় লাগানো বা শিক্ষা দেয়া হয়েছে।
মিসরের শেখ জামালুদ্দিন ইস্কুওয়ী শাফেঈ তাঁর 'জুমলাতুল, মাসায়েল' গ্রন্থে প্রধান বিচারপতি শারফুদ্দিন আল বাজরীকে যে সকল মাসলা জিজ্ঞেস করা হয়েছিল সেগুলো উল্লেখ করে বলেছেন, তাঁকে প্রশ্ন করা হল, কোন মানুষ-পুরুষ যদি কোন মহিলা জিনকে বিয়ে করতে চায়-এশর্তে যে তা সম্ভব- তাহলে, কি তা জায়েয? প্রশ্নে আরো উল্লেখ করা হয়- আল্লাহ বলেছেন:
وَمِنْ آيَاتِهِ أَنْ خَلَقَ لَكُمْ مِّنْ أَنْفُسِكُمْ أَزْوَاجًا لِتَسْكُنُوا إِلَيْهَا .
"আল্লাহর অন্যতম নিদর্শন হল, তিনি তোমাদের মধ্য থেকে তোমাদের স্ত্রীদেরকে সৃষ্টি করেছেন যেন তোমরা তাদের কাছে প্রশান্তি লাভ কর।" (সূরা রুম-২১)
প্রশ্নে আরো বলা হয়, আল্লাহ এ আয়াতে একই মানব সত্ত্বা থেকে তাদের স্ত্রীদেরকে সৃষ্টি করার দয়ার কথা উল্লেখ করেছেন যা তাদের পরিচিত ও ভালবাসার পাত্র। জিনের ক্ষেত্রে একথা প্রযোজ্য নয়। কেননা তারা ভিন্নজাতি। আমরা যদি ইবনু ইউনুসের রচিত 'শারহুল ওয়াজিজ' গ্রন্থে প্রদত্ত জায়েয ফতোয়ার আলোকে এটাকে জায়েযই বলি। তাহলে আরো কতগুলো প্রশ্ন দেখা দেয়। সেগুলো হল, মেয়ে-জিন বা পরীকে কি মানব-স্বামীর সাথে একত্রে থাকাকে বাধ্যতামূলক করা হবে? মানব-স্বামী কি সক্ষম হলে পরীর জন্য মানুষ ছাড়া অন্য কোন কিছুর আকৃতি ধারণ করতে পারবে? এক্ষেত্রেও কি বিয়ে বিশুদ্ধ হওয়ার শর্তাবলী পালন করতে হবে? যেমন অভিভাবকের মতামত, বিয়ের পথে প্রতিবন্ধকতা অনুপস্থিত থাকা, কাজীর এ বিয়ে গ্রহণ করা উচিত কিনা, সে যদি পরী-স্ত্রীকে অন্য কোন অপরিচিত আকৃতিতে দেখে এবং স্ত্রী যদি বলে যে, সে তারই স্ত্রী তাহলে কি এর উপর নির্ভর করে তার সাথে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করা জায়েয হবে কিনা এবং বিকল্প খাদ্যের ব্যবস্থা থাকলে হাড় ও গোবরসহ তাদের খাদ্য সংগ্রহ করা কি তার কর্তব্যের অন্তর্ভুক্ত হবে?
আল বাজরী উত্তরে বলেন, নিম্নোক্ত দু'টো আয়াতের কারণে কোন পরীকে বিয়ে করা জায়েয নেই। আল্লাহ বলেন: وَاللهُ جَعَلَ لَكُمْ مِّنْ أَنْفُسِكُمْ أَزْوَاجًا .
"আল্লাহ তোমাদের নফস থেকেই স্ত্রীদেরকে সৃষ্টি করেছেন।" -(সূরা নহল-৭২) তিনি আরো বলেন: আল্লাহর অন্যতম নিদর্শন হল, তিনি তোমাদের নফস থেকে তোমাদের স্ত্রীদেরকে সৃষ্টি করেছেন। (সূরা রম-২১)
তাফসীরকারকগণ এ দু'আয়াতে স্ত্রী বলতে মানব স্ত্রী বুঝিয়েছেন। আয়াতে مِنْ أَنْفُسِكُمُ বলতে স্বজাতি, আপন সম্প্রদায় ও নিজ দলকে বুঝানো হয়েছে। যেমন আল্লাহ বলেছেন:
لَقَدْ جَاءَكُمْ رَسُولٌ مِّنْ أَنْفُسِكُمْ .
'তোমাদের কাছে তোমাদের স্বজাতির রাসূল এসেছে।' (সূরা তাওবা-১২৮) অর্থাৎ মানুষের মধ্য থেকেই রাসূল এসেছে। বিয়ের মধ্যে রক্ত ও বংশের সম্পর্কের ধারা কার্যকর। সেজন্য ফুফাত ও চাচাত বোন এবং খালাত ও মামাত বোনকে বিয়ে করার অনুমতি দেয়া হয়েছে। আল্লাহ বলেছেন:
وَبَنَاتُ عَمِّكَ وَبَنَاتٌ عَمَّاتِكَ وَبَنَاتٌ خَالِكَ وَبَنَاتٌ خَالَاتِكَ .
'তোমার চাচাত ও ফুফাত বোন এবং মামাত ও খালাত বোনকে বিয়ে কর।' -(সূরা আহযাব-৫০)
এছাড়াও অন্যান্য রক্তের সম্পর্কীয় আত্মীয়দেরকে বিয়ের অনুমতি দেয়া হয়েছে। সূরা নেসায় বংশ ও রক্তের সম্পর্কের অন্য কিছু মহিলাকে মহরম ঘোষণা করা হয়েছে। এসবই বিয়ের সাথে রক্ত ও বংশের সম্পর্ককে স্বীকার করে। কিন্তু জিনের সাথে মানুষের এরূপ কোন বংশ ধারা ও রক্তের সম্পর্ক নেই।
প্রখ্যাত ফেকাহবিদ আবু বকর বিন আরবী মানুষের সাথে জিনের বিয়ে শাদীকে নাজায়েয বলেছেন। তিনি বলেছেন, জিনেরা হচ্ছে সুক্ষ্ম শরীর আর মানুষের হচ্ছে ভারী শরীর। ফলে এ দু'ধরনের সত্ত্বা ঐক্যবদ্ধ হতে পারে না। শেখ ইজুদ্দিন আবদুস সালাম বলেছেন, তিনি এক পরীকে বিয়ে করেছেন। তিনি তার সাথে বেশ কিছু দিন কাটান। একদিন পরীটি তাঁকে উটের হাড় দিয়ে মেরে জখম করে ভেগে যায়। তিনি আমাদেরকে তার মুখের আঘাত দেখান।১.
পরী বিয়ের ব্যাপারে পরবর্তী যুগের আলেমদের মধ্যে মতভেদ আছে। একদল আলেম তাকে নাজায়েয বলেছেন এবং অন্য একদল জায়েজ বলেছেন। যারা জায়েয বলেছেন, তাদের মতে, বিয়ে জায়েয হওয়ার জন্য যা দরকার তা জিনের মধ্যে আছে।
তারা আমাদের ভাই। সালাহ সাফেদী তাঁর তাওকীকুল আহকাম আলা গাওয়ামেদিল আহকাম' বইতে লিখেছেন, জিনকে আরবীতে 'নাস' ও রিজাল' শব্দ দ্বারা প্রকাশ করা হয়েছে। অর্থাৎ এ শব্দদ্বয় তাদের জন্য ব্যবহার করা এদু'টোর অর্থ হল যথাক্রমে মানুষ ও পুরুষ। এজন্য মানুষের সাথে তাদের বিয়ের বিষয়ে ঐক্য পাওয়া যায়। তারা আরো বলেছেন, যদি জিন আসে ও কথা বলে, কিন্তু তার ব্যক্তিত্ব প্রকাশ না করে এবং আমরা তাকে না চিনি তাহলে, তার সাথে বিয়ে জায়েয হবে না। যদি জিন তার ব্যক্তি সত্বা প্রকাশ করে আমরা দেখি এবং তার ঈমানদার হওয়ার বিষয়ে আমরা জানতে পারি তাহলে বিয়ে জায়েয হবে কিনা এ ব্যাপারে তিনি ইতস্ততঃড়াব প্রকাশ করেন।

টিকাঃ
১. সাপ্তাহিক আল মোসলেমুন- ৯ই মে, ১৯৯৭ইং।

📘 জ্বিন ও শয়তানের ইতিকথা > 📄 জিনের সাথে যৌন মিলনের পর গোসলের হুকুম

📄 জিনের সাথে যৌন মিলনের পর গোসলের হুকুম


ফতওয়া জোহাইরিয়াতে উল্লেখ আছে, এক মহিলা বলে, আমার কাছে এক জিন দিনে কয়েকবার আসে। সে আমার সাথে আমার স্বামীর মত মিলিত হয়। ফতোয়ায় বলা হয়েছে, তার উপর গোসল ফরজ হবে না।
আবুল মাআ'লী বিন মোনজী হাম্বলী বলেছেন, ইবনুল হাম্বল খাত্তাবী শরহুল হেদায়া গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, এক মহিলা বলল, 'আমার কাছে এক জিন আসে, যেমন কোন স্বামী তার স্ত্রীর কাছে যায়- প্রশ্ন হল, তার উপর কি গোসল ফরজ? এক হানাফী আলেম বলেছেন, তার গোসলের দরকার নেই। আবুল মা'আলী বলেছেন, কোন মহিলা যদি বলে যে, আমার সাথে স্বামীর মত এক জিন আছে অহলে তার উপরও গোসল ফরজ হবে না। কেননা, গোসল ফরজ হওয়ার শর্ত এখানে অনুপস্থিত। এটা হল বীর্যপাতহীন স্বপ্নদোষের মত। তারপরও বিষয়টির জটিলতা অবশিষ্ট থেকেই যায়।

📘 জ্বিন ও শয়তানের ইতিকথা > 📄 জিন কর্তৃক স্বামীকে অপহরণের পর স্ত্রীর হুকুম

📄 জিন কর্তৃক স্বামীকে অপহরণের পর স্ত্রীর হুকুম


আবু বকর ইবনু আবিদ দুনিয়া উল্লেখ করেছেন যে, আবদুর রহমান বিনাবি লায়লা বলেন: এক ব্যক্তি নিজ সম্প্রদায়ের লোকদের সাথে এশার নামাজ পড়ার উদ্দেশ্যে বের হল। এরপর সে নিখোঁজ হয়ে গেল। তার স্ত্রী খলীফা ওমর বিন খাত্তাবের নিকট বিষয়টি উত্থাপন করল। খলীফা তার সম্প্রদায়ের লোকদের কাছে জিজ্ঞেস করায় তারা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করল। খলীফা স্ত্রীকে ৪ বছর অপেক্ষার আদেশ দেন। চার বছর পর স্ত্রীলোকটি পুনরায় খলিফার কাছে এসে বলেন, তার স্বামী ফিরেনি। খলীফা তার সম্প্রদায়ের লোকদের কাছে জিজ্ঞেস করায় তারা এর সত্যতার স্বাক্ষ্য দেয়। খলিফা স্ত্রী লোকটিকে অন্যত্র বিয়ের অনুমতি দেন। তারপর স্ত্রীলোকটির ১ম স্বামী ফিরে আসে। ঘটনাটি হযরত ওমরের কাছে পুনরায় উত্থাপন করায় বলেন তোমরা কেন দীর্ঘদিন ব্যাপী নিজ স্ত্রীদের কাছ থেকে দূরে থাক এবং তারা তোমাদের কোন খবর জানে না? লোকটি বলল, আমার ওজর ছিল। ওমর বলেন: তোমার কি ওজর? সে বলল, আমি আমার সম্প্রদায়ের সাথে এশার নামাজ পড়ার উদ্দেশ্যে বের হলে জিন আমাকে ধরে বসে। আমি জিনদের কাছে দীর্ঘদিন ছিলাম। তারপর মোমেন জিনেরা তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে জয়লাভ করে এবং কিছু যুদ্ধবন্দীকে নিয়ে আসে। আমিও সে যুদ্ধবন্দীদের মধ্যে ছিলাম। মোমেন জিনেরা আমাকে আমার দীন সম্পর্কে জিজ্ঞেস করল। আমি বললাম, আমি মুসলমান। তারা বলল, তুমি আমাদের একই দলের অনুসারী হওয়ায় আমাদের দীনি ভাই। তাই তোমাকে দাস হিসেবে রাখা জায়েয নেই। তারা আমাকে তাদের কাছে থাকা কিংবা নিজ পরিবারে প্রত্যাবর্তনের এখতিয়ার দেয়। আমি নিজ পরিবারে ফিরে আসার প্রস্তাব গ্রহণ করি। তারা রাত্রে আমার সাথে মানুষের মত কথা বলতে বলতে আসতে থাকে এবং দিনে ঝড়ের রূপ ধারণ করে এগুতে থাকে। আমি তাদেরকে অনুসরণ করি। এভাবে আমি নিজ পরিবারে পৌঁছি। তাতে তার খাবার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হল। সে বলল: সেগুলোই ছিল আমার খাবার যে গুলোতে আল্লাহর নাম স্মরণ করা হয় না। এর পর তার পানীয় সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে সে বলে: নেশা সৃষ্টিকারী নয় এমন পানীয় পান করেছি। যাক, এরপর হযরত ওমর (রাঃ) তাকে স্ত্রী ও দেন-মোহর এ দু'টোর যে কোন একটা ফেরত পাবার এখতিয়ার দেন।
হাদীসে উল্লেখ আছে, পানাহারের সময় বিসমিল্লাহ বলে না খেলে শয়তান তা খায় এবং রাত্রে ঘরে প্রবেশের সময় বিসমিল্লাহ বলে প্রবেশ না করলে শয়তান ঘরে রাত্রি জাগরণ করে।

📘 জ্বিন ও শয়তানের ইতিকথা > 📄 জিনের জন্য বা নামে জবাই করা প্রাণী খাওয়া নিষেধ

📄 জিনের জন্য বা নামে জবাই করা প্রাণী খাওয়া নিষেধ


ওহাব বিন মোনাব্বেহ বলেছেন: এক খলীফা একটা পানির ঝর্ণা প্রবাহিত করার উদ্যোগ নেয়। তিনি এজন্য জিনের উদ্দেশ্যে পশু জবাই করে লোকদেরকে খাওয়ান যেন জিনেরা ঝর্ণার পানি প্রবাহে বাধা না দেয়। ইবনে শিহাব তা জানতে পেরে বলেন, এই জবাই ও মেহমানদারী কোনটাই হালাল নয়। রাসূলুল্লাহ (সা) জিনের জন্য জবাই করা পশুর গোশত খেতে নিষেধ করেছেন।
শামসুদ্দিন ইবনুল কাইয়েম হাম্বলী লিখেছেন: কূপ থেকে পানির নহর মক্কায় প্রবাহিত করার সময় ঐ ঘটনাই ঘটেছিল। হাম্বলী মাযহাবের অন্যতম ইমাম নাজমুদ্দিন খলিফা বিন মাহমুদ কিলানী আমাকে বলেন: আমরা যখন খনন কাজ এক জায়গা পর্যন্ত পৌছলাম তখন একজন শ্রমিক হঠাৎ করে নির্বাক হয়ে গেল। সে কোন কথা বলে না। এভাবে দীর্ঘ সময় রইল। তারপর আমরা তারমুখে জিনের কথা শুনতে পেলাম। হে মুসলমানগণ! আমাদের উপর আপনাদের জুলুম জায়েয নেই। আমি বললাম আমরা কি জুলুম করেছি? সে বললঃ আমরা এ ভূমির বাসিন্দা। আল্লাহর কসম, আমি ছাড়া এখানে আর কোন মুসলমান নেই। আমি অন্য জিনকে শিকলে বেঁধে রেখে এসেছি। তা নাহয়, তারা আপনাদের ক্ষতি করত। তারা আমাকে আপনাদের প্রতি এ বাণী দিয়ে পাঠিয়েছে, তারা তাদের অধিকার পূরণ করা ব্যতীত আপনাদেরকে এ ভূমির উপর দিয়ে পানি নিতে দেবে না। আমি জিজ্ঞেস করলাম তাদের অধিকার কি? সে বলল, একটা বলদ কিনে সেটাকে খুব সুন্দর করে সাজিয়ে পরিয়ে, মক্কা থেকে এ পর্যন্ত আনতে হবে। তারা এভাবে বলদটাকে এনে জবেহ করল এবং নিকটবর্তী আবদুস সামাদ কূপে বলদের রক্ত, পা ও মাথা নিক্ষেপ করল। জিনটি বলল, বলদ গরুর বাকী গোশত আপনাদের। এরপর ভূতে পাওয়া লোকটির হুশ ফিরে এল। কিলানী বলেন, আমরা সে জায়গায় গিয়ে দেখি নহরে পানি গড়াচ্ছে। আমরা জানিনা, পানি কোথায় যাচ্ছে এবং আমরা সেখানে কূপ বা কূপের কোন নিদর্শন দেখতে পেলাম না। হঠাৎ করে অনুভব করলাম, কে যেন আমার হাত ধরে একটি জায়গায় নিয়ে দাঁড় করিয়ে বলল, আপনারা এখানে আসুন। আমরা ঐ জায়গায় খনন শুরু করায় পানি উথলে উঠল। সে পানি মক্কায় আনা হল।
আবু হোরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ (সঃ) জিনের উদ্দেশ্যে পশু জবেহ করতে নিষেধ করেছেন। (ইবনে হাইয়ান- তারীখ আদ দো'আফা)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00