📄 দ্বীনি মজলিসে যেতে ইলম শেখার নিয়ত করবে
দেখুন! একটি হাদীসের জন্যে কতো দীর্ঘ সফর করেছেন। এটি একটি উদাহরণ মাত্র। সাহাবায়ে কেরام, তাবেঈন, তাবয়ে তাবেঈনের জীবনী খুলে দেখুন তাঁদের একেক জন দ্বীনি ইলম শেখার জন্যে এবং হাদীস সংগ্রহ করার জন্যে কতো দীর্ঘ পথ সফর করেছেন। আজ হাদীসের এই সংগ্রহ আমাদের সামনে ভাজা রুটির মতো প্রস্তুত হয়ে পরিবেশিত আছে। অথচ এর পিছনে আল্লাহর ঐ সকল বান্দা কতো জান-মাল কোরবানী করে, কতো শ্রম দিয়ে আমাদের পর্যন্ত তা পৌছানোর ব্যবস্থা করেছেন। এ কাজ যদি আমাদের মতো লোকদের দায়িত্বে পড়তো, তাহলে দ্বীনের ইলম বিলুপ্ত হয়ে যেতো। আল্লাহর বড়ো মেহেরবানী যে, এ কাজের জন্যে তিনি তাঁদের মতো এক জামাআত তৈরী করেছেন, যারা ভবিষ্যত-প্রজন্মের জন্যে দ্বীনকে হেফাজত করেছেন। তাঁর বড়ো মেহেরবানী যে, এই দ্বীন সংরক্ষিত আছে। কিতাবাকারে মুদ্রিত হয়েছে। সবযুগে দ্বীনের শিক্ষক-শিক্ষার্থী সবজায়গায় বিদ্যমান রয়েছে। এখন আপনাদের কাজ হলো, শুধু তাদের কাছে গিয়ে প্রস্তুত বিষয়গুলো শিখে নেওয়া এবং মাসালাসমূহ জেনে নেওয়া। শেষ কথা হলো, উক্ত হাদীসে ইলম অন্বেষণকারীর জন্যে অনেক বড়ো সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে। আমরা যারা এখানে একত্রিত হই, আমাদের উদ্দেশ্যও এই দ্বীন শেখা এবং দ্বীনের ইলম অন্বেষণ করা। সুতরাং ঘর থেকে বের হওয়ার সময়ই আমরা যেন এ হাদীসটি স্মরণ করি এবং ইলম অন্বেষণ করার নিয়ত করে বের হই। আল্লাহ তা'আলা আমাদের সকলকে এ হাদীসের সুসংবাদ লাভের সৌভাগ্য দান করুন। আমীন।
📄 যারা আল্লাহর ঘরে একত্র হয় তাদের জন্য মহা সুসংবাদ
আলোচ্য হাদীসের পরবর্তী বাক্যে আরেকটি সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে। কোনো জামাআত যখন আল্লাহর কিতাব তিলাওয়াত করার জন্যে বা শিক্ষা করা ও শিক্ষা দেওয়ার জন্যে আল্লাহর কোনো ঘর তথা মসজিদে একত্রিত হয়ে বসে যায়, তখন আল্লাহর পক্ষ থেকে তাদের উপর 'সাকীনা' বর্ষিত হতে থাকে এবং আল্লাহর রহমত তাদেরকে আচ্ছন্ন করে নেয়। রহমতের ফেরেশতাগণ তাদেরকে চারপাশ থেকে ঘিরে রাখে। অর্থাৎ, আল্লাহর রহমত তাদের অভিমুখী হয়। আর রহমতের ফেরেশতা ঐ বান্দাদের জন্যে দু'আ করতে থাকে। তাদের জন্যে মাগফিরাত ও আশ্রয় প্রার্থনা করতে থাকে। আল্লাহ! এরা আপনার দ্বীনের জন্যে একত্রিত হয়েছে, দয়া করে তাদেরকে ক্ষমা করে দিন। তাদের উপর রহমত বর্ষণ করুন। তাদের গোনাহ ক্ষমা করে দিন। তাদেরকে দ্বীনদার হওয়ার তাওফীক দান করুন।
📄 তোমরা আল্লাহর যিকির করো, আল্লাহ্ তোমাদেরকে স্মরণ করবেন
আলোচ্য হাদীসের পরবর্তী বাক্যটি হলো-
وَذَكَرَهُمُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ فِيمَنْ عِنْدَهُ
অর্থাৎ, আল্লাহ তা'আলা ফেরেশতাদের মজলিসে ঐ যিকিরকারীদের আলোচনা করেন যে, আমার বান্দারা নিজেদের সব কাজ ছেড়ে দিয়ে শুধু আমার জন্যে, আমার যিকির করার জন্যে, আমার দ্বীনের কথা শোনার জন্যে একত্রিত হয়েছে। ফেরেশতাদের সঙ্গে বান্দাদেরকে নিয়ে আল্লাহর এভাবে আলোচনা করা কোনো সাধারণ কথা নয়! অনেক বড়ো ব্যাপার! কবি বলেন,
ذکر میر امجھ سے بہتر ہے کہ اس محفل میں ہے
'আমার স্মরণ তো আমার চেয়েও উত্তম। কারণ, আমাকে তো সেই মাহফিলে (আল্লাহর মজলিসে) স্মরণ করা হচ্ছে।'
এটা যেমন তেমন কোনো বিষয় নয় যে, প্রকৃত প্রেমাস্পদ আমাকে স্মরণ করবেন! এটা তো আমাদের কাজ ছিলো যে, আমরা তাঁকে স্মরণ করবো। আমাদের প্রতি নির্দেশ হচ্ছে,
فَاذْكُرُونِي 'তোমরা আমাকে স্মরণ করো।' কিন্তু সৌভাগ্যের বিষয় হলো, সঙ্গে সঙ্গে তিনি প্রতিদানের কথাও বলে দিয়েছেন,
اذْكُرْكُمْ অর্থাৎ, তোমরা আমাকে স্মরণ করলে আমিও তোমাদেরকে স্মরণ করবো। আমরা তাঁকে স্মরণ করলে বা না করলে তাঁর কি আসে যায়! আমাদের যিকিরের কী-ই বা মূল্য আছে? আমাদের যিকিরে তো তাঁর বড়োত্ব ও মহত্ত্ব এক কণা পরিমাণও বৃদ্ধি পায় না। আর যদি আমরা তাঁর যিকির ছেড়ে দেই- বরং পুরো দুনিয়াও তাঁর যিকির ছেড়ে দেয়- তাতেও তো তাঁর বড়োত্বে ও মহত্ত্বে যারা পরিমাণও ঘাটতি হবে না। আমাদের দৃষ্টান্ত তো হলো, সামান্য একটা খড়কুটার মতো। একটা খড়কুটা আল্লাহর যিকির করলে তাতে এমন কি হয়ে গেলো! কিন্তু আল্লাহ বান্দার স্মরণ বা আলোচনা করবেন এটা নিশ্চয়ই কোনো সাধারণ কথা নয়। পরম সৌভাগ্যের কথাই বটে।
📄 হযরত উবাই ইবনে কা'ব রাযি.-কে কুরআন শোনানোর নির্দেশ
হযরত উবাই ইবনে কা'ব রাযি. একজন প্রসিদ্ধ সাহাবী। প্রত্যেক সাহাবীকে আল্লাহ বিশেষ বিশেষ বৈশিষ্ট্য দান করেছেন। তাঁর বৈশিষ্ট্য ছিলো- তিনি খুব সুন্দর করে কুরআনে কারীম তিলাওয়াত করতেন। তাঁর সম্পর্কে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
أَقْرَؤُهُمْ بِكِتَابِ اللهِ أُبَيُّ بْنُ كَعْبٍ
'সাহাবাদের মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর কুরআন তিলাওয়াতকারী হলেন উবাই ইবনে কা'ব রাযি.।'
একদিন তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মজলিসে বসা ছিলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে সম্বোধন করে বললেন, আল্লাহ তা'আলা হযরত জিবরাঈল আলাইহিস সালামের মাধ্যমে এই সংবাদ পাঠিয়েছেন যে, তুমি উবাই ইবনে কা'বকে বলো সে যেন তোমাকে কুরআন তিলাওয়াত করে শোনায়। উবাই ইবনে কা'ব রাযি. যখন এ কথা শুনলেন, তখন জিজ্ঞাসা করলেন যে, স্বয়ং আল্লাহ কি আমার নাম নিয়ে বলেছেন যে, উবাই ইবনে কা'বকে কুরআন তিলাওয়াত করে শোনাতে বলো? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হ্যাঁ, আল্লাহ তোমার নাম নিয়ে বলেছেন। সঙ্গে সঙ্গে হযরত উবাই ইবনে কা'ব রাযি.-এর মধ্যে এমন ভাব ও আবেগের সৃষ্টি হলো যে, তিনি ফুঁপিয়ে কাঁদতে আরম্ভ করলেন। আর বললেন, আল্লাহ আমাকে স্মরণ করবেন এবং আমার নাম নিবেন, আমি মোটেই এ সৌভাগ্যের যোগ্য নই।
টিকাঃ
১৮. সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ৩৭২৩, সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ১৫১, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ১২৪৩৭
১৯. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৩৫২৫, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৪৫০৯, সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ৩৭২৫, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ১১৮