📄 খলিফা প্রথম মোস্তফা (১০২৬-১০২৭ হি./১৬১৭-১৬১৮ খ্রি.)
প্রথম মোস্তফা ভাইয়ের মৃত্যুর পর খাদিমসহ বন্দিদশা হতে মুক্ত হয়ে আসেন। ক্ষমতা কী জিনিস তা বোঝার আগেই মাত্র তিন মাসের মাথায় তিনি ক্ষমতাচ্যুত হন। অতঃপর ১০২৭ হিজরিতে (১৬১৮ খ্রিষ্টাব্দে) তার ভ্রাতুষ্পুত্র দ্বিতীয় উসমান খিলাফতের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
📄 খলিফা দ্বিতীয় উসমান (১০২৭-১০৩১ হি./১৬১৮-১৬২২ খ্রি.)
দ্বিতীয় উসমান তেরো বছর বয়সে ক্ষমতায় আরোহণ করেন এবং রীতি অনুযায়ী স্বীয় ভাই মুহাম্মাদকে হত্যা করেন। দ্বিতীয় উসমান ইতালিতে নির্বাসিত ফখরুদ্দিন মুনিকে ক্ষমা করেন এবং স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের অনুমতি দেন। সে লেবানন হিলে ফিরে এসে আগের মতো পুনঃবিদ্রোহ করে বসে।
ইতালির অঙ্গরাজ্য পোল্যান্ডের সাথে উসমানিদের যুদ্ধ সংঘটিত হয়। অতঃপর পোল্যান্ড শান্তিচুক্তি করতে চাইলে ১০২৯ হিজরিতে শান্তিচুক্তি সম্পাদিত হয়।
অতঃপর জেনিসারি বাহিনী যুদ্ধে ব্যর্থ প্রমাণিত হওয়ার পর খলিফা তাদেরকে শিক্ষা দেওয়ার জন্য তাদের পরিবর্তে নতুন প্রশিক্ষিত সৈন্য সংগ্রহ করতে চাইলেন। এতে সেনারা বিদ্রোহ করে বসে এবং তাকে হত্যা করে। তারা খলিফার চাচা মোস্তফাকে পুনরায় ১০৩১ হিজরিতে খলিফা নিযুক্ত করে। জেনিসারিদের হাতে খলিফা হত্যার ঘটনা এই প্রথম। জেনিসারিদের ক্ষমতা কোন পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছেছিল এতে তা অনুমান করা যায়।
দ্বিতীয় উসমানের হত্যার সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথে উসমানি সাম্রাজ্যে নৈরাজ্য দেখা দেয়। গভর্নরগণ স্ব স্ব প্রদেশে স্বাধীনতা ঘোষণা করা শুরু করে। এমতাবস্থায় প্রধানমন্ত্রী মুইনের পরামর্শে সেনারা প্রথম মোস্তফাকে অপসারণ করে তার ভাই চতুর্থ মুরাদকে ১০৩২ হিজরিতে খলিফা নিয়োজিত করে।
📄 খলিফা দ্বিতীয় আহমাদ (১১০২-১১০৬ হি./১৬৯১-১৬৯৫ খ্রি.)
খলিফা দ্বিতীয় আহমাদের শাসনকাল চার বছরের বেশি স্থায়ী হয়নি। এ সময়ে অস্ট্রিয়ার সাথে যুদ্ধে মোস্তফা কুবরিলি শাহাদাত বরণ করেন। তার পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী অরবাজি পাশা তার মতো যোগ্যতাসম্পন্ন ছিলেন না। ভেনিস বাহিনী এজিয়ান সাগরের বুকে অবস্থিত সাগস দ্বীপ দখল করে নেয়। অতঃপর খলিফা দ্বিতীয় আহমাদ ১১০৬ হিজরিতে (১৬৯৫ খ্রিষ্টাব্দে) ইনতেকাল করেন এবং দ্বিতীয় মোস্তফা খলিফা হিসেবে নিযুক্ত হন।
📄 খলিফা তৃতীয় উসমান (১১৬৮-১১৭১ হি./১৭৫৪-১৭৫৭ খ্রি.)
তিনি ১১১০ হিজরিতে (১৬৯৮ খ্রিষ্টাব্দে) জন্মগ্রহণ করেন। খিলাফতের দায়িত্ব গ্রহণকালে তার বয়স ছিল ৫৮ বছর। ক্ষমতার অপব্যবহারের কারণে তিনি প্রধানমন্ত্রী আলি পাশাকে হত্যা করেন। অতঃপর তৎস্থলে মুহাম্মাদ রাগিব পাশাকে স্থলাভিষিক্ত করেন। নতুন মন্ত্রী খলিফাকে সহায়তা করেন এবং সংস্কারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। খলিফা অপরিচিত বেশে রাতে ঘোরাফেরা করে প্রজাদের খোঁজখবর নিতেন এবং তাদের কল্যাণে কাজ করতেন। অতঃপর তিনি ১১৭১ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন।