📄 ক্রিমিয়ায় রুশ কর্তৃত্ব
রাশিয়া কাজাখ গোষ্ঠীকে নিজেদের প্রতি আকৃষ্ট করতে পারার কারণ হলো উসমানি প্রধানমন্ত্রী কারা মোস্তফার মন্দ আচরণ। ১১২৫ হিজরি (১৭১৩ খ্রিষ্টাব্দ) সালের এডির্নে চুক্তি অনুযায়ী রাশিয়া ক্রিমিয়াকে জিজিয়া প্রদান বন্ধ করে দেয়। এরপর তারা আজভের একটি বন্দর দখল করে নিতে সক্ষম হয়। ১১৮৬ হিজরিতে (১৭৭২ খ্রিষ্টাব্দে) ক্রিমিয়ার শাসক নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করে রাশিয়া। তারা শাহিন পাশার পক্ষ নেয়। এরপর ক্রিমিয়ায় তৃতীয় দৌলত কুরাইয়ের কর্তৃত্বের সময় রাশিয়া ১১৮৯ হিজরিতে (১৭৭৫ খ্রিষ্টাব্দে) কুচুক কায়নারচা চুক্তির মাধ্যমে উসমানিদের বাধ্য করে ক্রিমিয়াকে স্বাধীনতা দিতে। তারা শাহিন পাশাকে ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনে। ১১৯৭ হিজরিতে (১৭৮৩ খ্রিষ্টাব্দে) চূড়ান্তরূপে ক্রিমিয়া দখল করে নেয় রাশিয়া। উসমানিরা আর ক্রিমিয়া পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয় না। সোভিয়েত রাশিয়া প্রতিষ্ঠার পর তারা ইউক্রেনকে উপহার হিসেবে ক্রিমিয়া প্রদান করে। সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যাওয়ার পরও ক্রিমিয়া ইউক্রেনের অন্তর্গত রয়ে যায়।
রুশরা অনেক মুসলিম শাসিত অঞ্চল হজম করে ফেলেছিল। যেমন উত্তর মোঙ্গল সাম্রাজ্য, ককেশাস, তুর্কিস্তান ইত্যাদি। তারা যেখানে প্রবেশ করত, বিশেষ করে মস্কোর নিকটবর্তী এলাকাগুলোতে মুসলিমদের ওপর কঠিন নির্যাতনের পন্থা গ্রহণ করত। (১০) তাদের অত্যাচার স্পেনের জেরা পদ্ধতির চেয়েও মারাত্মক ছিল। এমনকি তারা আরও নতুন নতুন পন্থা বের করে নির্যাতন চালাত। আমরা উদাহরণস্বরূপ কিছু উল্লেখ করছি, যদিও এগুলোই সব নয়—
* স্পেনের সাথে যোগাযোগ করে সেখানকার মুসলিমদের যেভাবে নির্যাতন করা হয়েছিল, সে পন্থা জেনে নেওয়া হতো।
* খুন, ইজ্জত লুণ্ঠনসহ নির্যাতন ও ধ্বংসের সব রকম পন্থা প্রয়োগ করা হতো।
* দেশত্যাগ করতে বাধ্য করা হতো। বিপুল সংখ্যক স্থানীয় তাতার মুসলিম হিজরত করে বিভিন্ন মুসলিম দেশ ও ইউরোপ-আমেরিকায় চলে গিয়েছিল। যারা থেকে যেত, তাদেরকে সোভিয়েতের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে দেওয়া হতো। যে কারণে প্রতিটি এলাকায় মুসলিমরা সংখ্যালঘু হিসেবে বিবেচিত হয়। অনেককে পাঠানো হয়েছিল সাইবেরিয়ার বরফাবৃত শীতল অঞ্চলে, যেখানে ঠান্ডার সাথে লড়াই করেই অনেক মানুষের জীবন নিঃশেষ হয়ে যেত। ক্রিমিয়া, চেচনিয়া, বাশকোরতোস্তান ইত্যাদি অঞ্চলের তাতার মুসলিমদের গোটা বংশকেই সাইবেরিয়ায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়। অনেক জাতির ক্ষেত্রেই এই পদ্ধতি প্রয়োগ হয়েছিল।
* স্থানীয় মুসলিমদের সংখ্যা কমানোর উদ্দেশ্যে তাদের বসবাসের এলাকায় রুশ বসতি বিস্তার করা শুরু হয়। স্থানীয়দের উর্বর ভূমিসমূহ বাজেয়াপ্ত করে রুশ অভিবাসীদের সোপর্দ করা হয়। মুসলিমদের বাড়িঘর প্রচুর পরিমাণে ধ্বংস করা হয়। অন্যান্য অমুসলিম জাতিগুলোকেও মুসলিম অঞ্চলগুলোর ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়। ক্রিমিয়া অঞ্চলে বিপুল সংখ্যক ইহুদিকে অভিবাসিত করা হয়।
* মসজিদ ভাঙা থেকে শুরু করে, সেগুলোকে গির্জা, ঘোড়ার আস্তাবল, সেনাক্যাম্প, নাট্যশালা, মদের আড্ডা ইত্যাদিতে পরিণত করা হয়। মুসলিম ওয়াকফ সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়। দ্বীনি মাদরাসা-মক্তবগুলোকে খ্রিষ্টধর্মের প্রচারকেন্দ্রে রূপান্তরিত করা হয়।
* মুসলমানদের ওপর দুঃসাধ্য করের বোঝা চাপানো এবং অতি নিম্নমানের জীবনযাত্রার দিকে ঠেলে দেওয়ার মাধ্যমে তাদের জীবন দুর্বিষহ করে তোলা হয়েছিল। সেনাবাহিনীর চাকরিতে তাদের জবরদস্তিমূলক প্রবেশ করানো হতো। অবশ্য কেউ যদি ধর্ম ত্যাগ করত, তাহলে সে সব ধরনের চাপ থেকে মুক্তি পেয়ে যেত। তবে ধর্মত্যাগীদের সংখ্যাটা ছিল খুবই কম। এ ছাড়া অনেক মুসলিম নিজেদের ধর্ম গোপন করে দ্বীন রক্ষা করছিল।
* খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণে বাধ্য করা হতো। অর্থোডক্স ছাড়া অন্য কোনো ধর্মমত গ্রহণের শাস্তি ছিল মৃত্যুদণ্ড। জারদের শাসনামলে এ ব্যাপারে আইন করা হয়। ইভান রাহিব, গ্রেট পিটার, সম্রাজ্ঞী হান্না, জার দ্বিতীয় আলেকজান্ডার প্রমুখের সময় এই সংক্রান্ত আইন বলবৎ থাকে। এর ওপর নানা যুগ পার হয়ে একপর্যায়ে তা শিথিলতার পথে হাঁটতে শুরু করে। যেমন দ্বিতীয় ক্যাথরিনের যুগ। তবে সেটা ইসলামের প্রতি ভালোবাসার জন্য নয়; বরং সে সময় রুশ সম্রাট উসমানিদের সাথে যুদ্ধরত ছিল। তাই তাদের ভয়ে স্থানীয়দের প্রতি কড়াকড়ির সাহস পায়নি রাশিয়ানরা। পাশাপাশি মুসলিমদের পাশে পাওয়া ও ব্যবহার করার জন্য তাদেরকে হেনস্তা করা কমিয়ে দেওয়া হয়। মোটকথা, অত্যাচারের সময়গুলো থেকে বহু মুসলিম ইসলামের পরিচয় গোপন করে প্রকাশ্যে নিজেদের খ্রিষ্টান পরিচয় দিত। কিন্তু তাদের অন্তর ছিল ইসলামের বিশ্বাসে পরিপূর্ণ। তারা প্রজন্ম পরম্পরায় গোপনে ইসলামের শিক্ষা সন্তানদের মাঝে টিকিয়ে রেখেছিল। এজন্য দেখা গেছে, ১৩২৩ হিজরিতে (১৯০৫ খ্রিষ্টাব্দে) ধর্মীয় স্বাধীনতা দেওয়া হলে বহু তাতার মুসলিম নিজেদের ইসলামি পরিচয় প্রকাশ করে, কয়েক শতাব্দী যাবৎ যা গোপন করে রাখা হয়েছিল খ্রিষ্টান পরিচয়ের আড়ালে।
টিকাঃ
১০. সাধারণত এটি ইনকুইজিশন নামে পরিচিত।
📄 সোভিয়েত আমলে ইসলাম বিরোধিতার নমুনা
সোভিয়েত আমলে ইসলাম বিরোধিতার নমুনা
* সোভিয়েত আমলে মুসলিমদের যে নির্যাতন করা হয়েছে, সে তুলনায় অন্য ধর্মানুসারীদের তেমন কিছুই করা হয়নি। মূলত ধর্মহীন বলা হলেও সোভিয়েত আন্দোলনের নেতাদের কিছু ছিল ইহুদি আর কিছু খ্রিষ্টান। কোনো মুসলমান যতই আনুগত্য দেখিয়ে পার্টির কেন্দ্রে যাওয়ার চেষ্টা করত, তাদের সে সুযোগ দেওয়া হতো না। কম্যুনিজমের প্রতি পূর্ণ আনুগত্যশীল হলেও কোনো মুসলিমকে বিশ্বাস করা হতো না; বরং মুসলিম বলে সামান্য সন্দেহবশত বহু মানুষকে পার্টি থেকে বহিষ্কার হতে হয় ও শান্তির মুখে পড়তে হয়।
* হজ পালন, জাকাত আদায়সহ অন্যান্য নেক আমল থেকেও মুসলিমদের বাধা দেওয়া হতো। মুসলিম নারীদের পর্দায় নিষেধাজ্ঞা জারি করা হতো। রমজানে রোজা বাধাগ্রস্ত করার জন্য কর্মঘণ্টা বাড়িয়ে দেওয়া হতো। মসজিদে নামাজ আদায় করলে ভীতি প্রদর্শন করা হতো।
* রাজনৈতিক সচেতনতামূলক সংগঠনের মাধ্যমে প্রোপাগান্ডা ছড়ানো ছিল অন্যতম হাতিয়ার। সোভিয়েত ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত সবকটি অঞ্চলের ভাষায় এমন সব বইপত্র লেখা হতো, যেগুলোয় থাকত ইসলামবিদ্বেষী ও তার প্রতি ঠাট্টা, অপমানজনক কথাবার্তা। ইসলামকে পশ্চাৎপদ, অনগ্রসর ইত্যাদি আখ্যা দিয়ে মুসলিমদের হীনম্মন্য করার চেষ্টা চলত।
* রুশ ভাষা শিক্ষা ছিল বাধ্যতামূলক। মাতৃভাষা লিখতে হতো ভিন্ন লিপিতে, যেন অল্পদিনেই তারা শেকড় হারিয়ে ফেলে।
* সহশিক্ষার প্রতি তোরজোর চলত, যার দ্বারা চরিত্র নষ্ট হয় এবং প্রবৃত্তির চাহিদা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে。
এতসব জুলুমের মুখে কেউ যদি প্রতিবাদী হয়ে উঠত, তাহলে তার বিরুদ্ধে চলত গুম, খুন। জানা যায়, সোভিয়েত নেতা স্টালিনের শাসনকালে প্রায় ১১ মিলিয়ন মুসলিমকে হত্যা করা হয়। বহু মুসলিম পরিবারকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে বিশ্বাসঘাতকতার মিথ্যা অভিযোগে সাইবেরিয়ায় নির্বাসিত করা হয়।
সোভিয়েত রাশিয়া নানারকম কৌশলের আশ্রয় নিয়েছিল। তার একটি ছিল মিথ্যা আদমশুমারি প্রকাশ। আদমশুমারির নামে মুসলিমদের সংখ্যা প্রকৃত সংখ্যার চেয়ে অনেক কম প্রকাশ করা হতো। এর উদ্দেশ্য ছিল মুসলিমদের মনোবল ভেঙে দেওয়া এবং পরিস্থিতি মেনে নিয়ে তারা যেন সোভিয়েত সরকারের অনুগত হয়ে চলে। সংখ্যা কম জানা থাকলে কেউ বিদ্রোহ বা অন্য ধরনের মুক্তি প্রচেষ্টা চালানোর সাহস পাবে না; এতে বরং তাদের ওপর কেবল অত্যাচারই বাড়বে। অথচ তখনকার মুসলমানদের প্রকৃত সংখ্যা প্রকাশিত সংখ্যার চেয়ে অনেক বেশি ছিল। তখনও প্রায় ২০ মিলিয়নের বেশি মুসলিম বিভিন্ন অঞ্চলে বাস করত। আবার তাদের বংশবৃদ্ধি ও ছিল রুশ ও অন্যান্য ধর্মের লোকদের চেয়ে বেশি।
সর্বোপরি চেষ্টা চলত মুসলিমরা যেন কখনো ঐক্যবদ্ধ হতে না পারে। ছোট ছোট এলাকায় তাদের দেশগুলো বিভক্ত করে দেওয়া হয়। জাতীয়তাবাদের দ্বন্দ্বমুখর চেতনা জাগিয়ে তোলার চেষ্টা চলত। তাদেরকে নানারকম সমস্যায় জর্জরিত করে রাখা হতো। তাদেরকে মিশ্রিত করে দেওয়া হয়েছিল রাশিয়ান সমাজের গভীরে। কোনোপ্রকারে জীবনধারণ করাই ছিল এক সংগ্রামের নাম। এ অবস্থায় স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম করা হয়ে উঠেছিল দুঃস্বপ্নের মতো।
📄 সোভিয়েত ইউনিয়ন গঠন ও তার ভাঙন
সোভিয়েত আমলে রাষ্ট্রীয় কাঠামো বেশ জটিল আকার ধারণ করে। তিন স্তরে বিভক্ত শাসনাঞ্চল নিয়ে সোভিয়েত ইউনিয়ন গঠিত হয়। প্রথম স্তরে ছিল ১৫টি প্রজাতন্ত্র। এগুলো মিলেই সোভিয়েত ইউনিয়ন গঠিত হয়।
সবগুলো প্রজাতন্ত্র একটি কেন্দ্র তথা মস্কো থেকে শাসন করা হতো। এই ১৫টি প্রজাতন্ত্রের মধ্যে ছিল মুসলিমপ্রধান তুর্কি প্রজাতন্ত্রগুলো ও আজারবাইজান প্রজাতন্ত্র। দ্বিতীয় স্তরে উপরিউক্ত ১৫টি প্রজাতন্ত্রের অধীনে আরও কিছু স্বায়ত্তশাসিত অঙ্গরাজ্য ছিল। কিন্তু এগুলোর স্বায়ত্তশাসন কেবল নামেই; কার্যত সেগুলো পরাধীনই ছিল। জনমনে খেয়ালি তৃপ্তি জাগাতে এগুলোর শুরুতে স্বায়ত্তশাসনের নাম জুড়ে দেওয়া হয়। তৃতীয় স্তরে ছিল পূর্ণ স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলগুলো। এগুলোতেও কার্যত কোনো স্বাধীন স্বায়ত্তশাসন ছিল না।
মোঙ্গলদের উত্তর সাম্রাজ্য তথা গোল্ডেন হোর্ডের অধিকাংশ এলাকা ও ককেশাস অঞ্চল সোভিয়েত ইউনিয়নের অন্তর্গত ছিল। স্বশাসিত অঞ্চল শিরোনামে সবকিছুই ছিল মূলত রাশিয়ার অধীনে। আর ক্রিমিয়া রাজ্য ছিল সোভিয়েত ইউক্রেনের অধীনে।
১৪১১ হিজরিতে (১৯৯১ খ্রিষ্টাব্দে) সোভিয়েতের পতনের পর মূল কাঠামো সৃষ্টিকারী মুসলিম প্রজাতন্ত্রগুলো রাশিয়া থেকে স্বাধীনতা লাভ করে, যথা: আজারবাইজান, কাজাখস্তান, উজবেকিস্তান, কিরগিজস্তান, তাজিকিস্তান ও তুর্কমেনিস্তান। কিন্তু স্বশাসিত রাজ্য ও অঞ্চলগুলো স্বাধীনতা লাভ করতে পারেনি। এগুলো রাশিয়া কিংবা ইউক্রেনের অন্তর্গত রয়ে যায়।
রাশিয়ার মধ্যে হারিয়ে যাওয়া মুসলিম স্বশাসিত অঞ্চল ও প্রদেশগুলোর মানচিত্র-
📄 মুসলিমদের প্রতিরোধ
ধর্মান্তর কিংবা নিশ্চিহ্ন করার উদ্দেশ্যে এত যে জুলুম অত্যাচার চলল, এরপরও কিন্তু মুসলিম উম্মাহ এই অঞ্চল থেকে হারিয়ে যায়নি। সবকিছু সহ্য করে আঁকড়ে ধরে রেখেছিল প্রাণের চেয়েও প্রিয় ঈমান। উত্থানকালে তারা যেমন প্রচণ্ড প্রতাপে সবকিছু জয় করেছিল, পতনকালেও প্রচণ্ড ধৈর্যের সাথে পরিস্থিতির মোকাবিলা করেছিল। তাতার মুসলিমদের ওপর রুশ অত্যাচারের মাত্রা সবকিছুকে ছাড়িয়ে গিয়েছিল। কারণ, তাদের অবস্থান ছিল মস্কো থেকে কাছে। কিন্তু এতকিছুর পরও মুসলিমরা দুঃখ-দুর্দশা ভুলে রাশিয়ান বিধর্মীদের মাঝে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছানোর চেষ্টা করেছে। তাদের দাওয়াতে তখনও বহু পৌত্তলিক গোষ্ঠী ইসলামের শীতল ছায়ায় প্রবেশ করে।
কোনোভাবে যদি নির্যাতন একটু শিথিল হতো, সে সময়টাকে তারা গ্রহণ করত গনিমত হিসেবে। যেমন, সম্রাজ্ঞী দ্বিতীয় ক্যাথরিনের সময়ে মুসলিমদের ধর্মীয় স্বাধীনতা ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। সে সময় বহু মানুষ তাদের গোপন ইসলামি পরিচয় প্রকাশ করে এবং চারদিকে ইসলামের দাওয়াত ছড়িয়ে দিতে থাকে। কিন্তু ক্যাথরিনের শাসন পতনের পরই এমন সব জার ক্ষমতায় আসতে থাকে, যারা ইসলামের প্রতি বিদ্বেষ দেখিয়ে পূর্বের জারদেরও ছাড়িয়ে যায়। ফলে অত্যাচারের মুখে মুসলিমরা আবার তাদের ইসলামি পরিচয় গোপন করতে বাধ্য হয়।