📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 ইজারা পণ্যের ত্রুটির ক্ষতিপূরণ

📄 ইজারা পণ্যের ত্রুটির ক্ষতিপূরণ


ক্রয়বিক্রয়ের মতো ইজারার ক্ষেত্রেও ত্রুটিজনিত অধিকার (খিয়ারুল আইব) রয়েছে। যে ত্রুটি ইজারাকৃত পণ্য থেকে উপকার লাভের ক্ষেত্রে ঘাটতি সৃষ্টি করে সেটি ত্রুটিজনিত গ্রহণ-প্রত্যাখ্যানের কারণ হয়। ত্রুটি অনির্দিষ্ট জিনিসের ক্ষেত্রে হতে পারে, শুধু দ্রব্যের গুণ বর্ণনা করা হয়েছিল, কিন্তু বাস্তবে দ্রব্যের মধ্যে সেই গুণ মোটেও ছিল না। এমনটিও হতে পারে, চুক্তি সম্পাদিত হওয়ার পর উপকার লাভের আগেই কোনো ত্রুটি দেখা গেল, এসব অবস্থাতেই ইজারাগ্রহীতার ত্রুটিজনিত এখতিয়ার থাকবে, সে ইচ্ছা করলে চুক্তি প্রত্যাখ্যান করবে কিংবা পূর্ণ ভাড়া পরিশোধ করে ত্রুটিসহ সেই পণ্য দিয়েই উপকার লাভ করবে।

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 ইজারাগ্রহীতার দায়িত্ব

📄 ইজারাগ্রহীতার দায়িত্ব


ইজারাগ্রহীতার প্রধান দায়িত্ব হলো ইজারার মূল্য বা ভাড়া পরিশোধ করা এবং ইজারাকৃত পণ্যটি এমনভাবে ব্যবহার করা যাতে এর কোনো ক্ষয়ক্ষতি না হয়। এর বিস্তারিত আলোচনা নিচে দেওয়া হলো।

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 ক. মূল্য প্রদান করা এবং উপকার গ্রহণের অধিকার রুদ্ধ করার ক্ষমতা

📄 ক. মূল্য প্রদান করা এবং উপকার গ্রহণের অধিকার রুদ্ধ করার ক্ষমতা


ইজারাগ্রহীতার ইজারার ভাড়া বা মূল্য পরিশোধ করা আবশ্যক। অগ্রিম ভাড়া পরিশোধের চুক্তি হয়ে থাকলে ভাড়া পাওয়ার আগ পর্যন্ত পণ্য আটকে রাখার অধিকার পাবে ইজারাদাতা। এটি হানাফী ও মালেকী ফকীহগণের অভিমত। শাফেয়ীগণেরও অনুরূপ একটি অভিমত রয়েছে। শ্রমিকের ক্ষেত্রে কর্ম তার মালিকানাধীন, অতএব অগ্রিম পারিশ্রমিক দেওয়ার শর্ত থাকলে শ্রমিক তা পাওয়া পর্যন্ত শ্রম বন্ধ রাখতে পারে। কেননা, ইজারার ক্ষেত্রে উপকার হচ্ছে ক্রয়বিক্রয়ের ক্ষেত্রে বিক্রয়যোগ্য পণ্যের মতো।

মালেকীগণ এ অবস্থায়ও অগ্রিম মজুরি পাওয়ার জন্যে শ্রমিকের শ্রম বিনিয়োগের সাথে সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম আটকে রাখার অধিকার ব্যক্ত করেন।

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 খ. শর্ত বা প্রচলিত রীতি অনুযায়ী সরঞ্জামাদি ব্যবহার

📄 খ. শর্ত বা প্রচলিত রীতি অনুযায়ী সরঞ্জামাদি ব্যবহার


সকল ফকীহ এ ব্যাপারে একমত যে, ইজারাগ্রহীতাকে অবশ্যই ভাড়াকৃত জিনিস যে কাজের জন্য তৈরি করা হয়েছে সেই কাজে ব্যবহার করতে হবে। সেই সাথে তাকে একথাও লক্ষ রাখতে হবে, যে-কোনো ভাড়াকৃত দ্রব্য ভাড়ার চুক্তি অনুযায়ীই ব্যবহার করতে হবে। ভাড়াচুক্তিতে যদি ব্যবহারের প্রক্রিয়ার কথা নির্দিষ্ট করা না হয় তবে প্রচলিত রীতি অনুযায়ী তা ব্যবহার করতে হবে। সেই সাথে ভাড়াকৃত পণ্য থেকে চুক্তিকৃত উপকার ভোগ কিংবা তা ব্যয় করতে যতটুকু চুক্তি করা হয়েছে ততটুকু বা তার কম ব্যবহার বা ব্যয় করবে। কখনও বেশি ব্যবহার, উপকার ভোগ বা ব্যয় করবে না।

যেমন বসবাসের জন্য কোনো বাড়ি ভাড়া করা হলো, ভাড়াটে সেটি কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে ব্যবহার করতে পারবে না। অনুরূপ কোনো কারখানাও সেখানে গড়ে তুলতে পারবে না। কোনো যানবাহন যদি শুধু নিজে আরোহণ করার জন্যে ভাড়া করে তবে সেটির উপর অন্য কাউকে আরোহণ করাতে পারবে না।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00