📘 ঈমান ভঙ্গের কারণ ও তাকফিরের ভুলনীতি > 📄 উদ্ধৃতি দেওয়ায় সচেতনতা জরুরি

📄 উদ্ধৃতি দেওয়ায় সচেতনতা জরুরি


রওজুত তালিব। শাফেয়ি মাজহাবের একটি ফিকহের কিতাব। তাকফিরের ব্যাপারে এই কিতাবের একটি উদ্ধৃতি বহুল প্রচলিত। কিন্তু বাস্তবে বিষয়টি সেই কিতাবে নেই!
আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও উদ্দেশ্যে জবাই করার ব্যাপারে কোনো এক শায়খ বলেন, এ ব্যাপারে শাফেয়িদের বক্তব্য তা-ই, যা রওজুত তালিব কিতাবের লেখক উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, 'কেউ যদি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর উদ্দেশ্যে জবাই করে, সে কুফরি করল।'

📘 ঈমান ভঙ্গের কারণ ও তাকফিরের ভুলনীতি > 📄 পর্যালোচনা

📄 পর্যালোচনা


রওজুত তালিব কিতাবের লেখক শাফেয়ি মাজহাবের। নাম- ইসমাইল ইবনে আবু বকর ইবনুল মুকরি আল-ইয়ামানি। মৃত্যু: ৮৩৭ হি.। তার কিতাবটিকে সংক্ষেপে রওজ বলা হয়ে থাকে। কিন্তু এই কিতাবের দিকে সম্পৃক্ত করে যে কথা বলা হয়েছে, তা তাতে নেই।
সম্ভবত এ ক্ষেত্রে উদ্ধৃতিদাতার ভুল হয়েছে। রওজুত তালিব কিতাবের বক্তব্য এই ‘ঈসা আ.-এর উদ্দেশ্যে কিছু জবাই করা হলে ঈসায়িদের জন্য তা হালাল নয়। রাসুলগণ বা কাবার উদ্দেশ্যে কিছু জবাই করা হলে তা মুসলমানদের জন্য হালাল নয়। তবে, কাবা ও রাসুলদের এরূপ সম্মান প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে যদি জবাই করে যে, কাবা আল্লাহর ঘর, তারা আল্লাহর রাসুল, তাই তাদের জন্য জবাই করা হচ্ছে—এটা জায়েজ আছে।’১
এখানে তাকফিরের মাসআলা আলোচনা করেছেন রওজুত তালিবের ব্যাখ্যাতা কাজি জাকারিয়া আনসারি রহ. (মৃত্যু: ৯২৬)। তার ব্যাখ্যাগ্রন্থের নাম আসনাল মাতালিব ফি শারহি রওজুত তালিব। তিনি বলেন, ‘মুসলমানদের জন্য মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, কাবা শরিফ ও গাইরুল্লাহর উদ্দেশ্যে জবাই করা প্রাণী হালাল নয়। এই জবাই যদি সম্মান প্রদর্শন ও ইবাদতের উদ্দেশ্যে করে, তা হলে সে কুফরি করল, যেমন কুফরি হয় এমন উদ্দেশ্য নিয়ে সেজদা করলেও।’২
রওজ কিতাবের ব্যাখ্যাতা যা বলেছেন, তা হচ্ছে, ‘যদি সম্মান প্রদর্শন ও ইবাদতের উদ্দেশ্যে জবাই করে, তা হলে কুফরি করল।’ কিন্তু উদ্ধৃতকারী কী উদ্ধৃত করলেন? তিনি উদ্ধৃত করে দিলেন, ‘রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর উদ্দেশ্যে জবাই করলে সেটা কুফরি।’ সম্ভবত উদ্ধৃতকারী শায়খ এখানে নকল করায় ভুল করেছেন।
এখানে আমরা যে বিষয়টা আরও বলতে চাই, তা হচ্ছে, কোনো কিতাব থেকে কিছু উদ্ধৃত করলে সেটা নিশ্চিত হয়ে করা উচিত। বিশেষ করে বক্তব্য যদি আকিদাসংক্রান্ত হয়, তা হলে আরও বেশি সতর্কতার দাবি রাখে। অনেক সময় শুধু উদ্ধৃতকরণের ভুলে বা উলামায়ে কেরাম থেকে বর্ণিত কথা বুঝতে তাড়াহুড়ো করায় কুফর ও বেদাতের অপবাদ আরোপ হয়ে যায়।
শায়খ জাকারিয়া আনসারির কথা একটু সূক্ষ্ম। তিনি বলেছেন, 'রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর জন্য যদি কেউ সম্মান প্রদর্শন ও ইবাদতের উদ্দেশ্যে জবাই করে, সে কুফরি করল।' অর্থাৎ, এর উল্টো কেউ যদি ইবাদতের উদ্দেশ্য ছাড়া জবাই করে, যেমন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর রওজা জিয়ারত করতে আসা মানুষদের আহার করানোর উদ্দেশ্যে জবাই করল—এটা কুফর হবে না।
তদ্রূপ এই মাসআলা থেকে আরও বুঝে আসে, কেউ রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে সম্মান প্রদর্শন ও ইবাদতের জন্য সেজদা করলে কাফের হয়ে যাবে। তবে, কেউ যদি অভিবাদনের সেজদা করে, সে কাফের হবে না। কিন্তু এটা কি হারাম হবে না? অবশ্যই মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর শরিয়তে এ ধরনের কাজ হারাম ও মারাত্মক পর্যায়ের গুনাহ।

টিকাঃ
১. রওজুত তালিব।
২. আসনাল মাতালিব, খ. ১, পৃ. ৫৪০。

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00