📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 আবূ সায়‍্যারা-এর লোকদের নিয়ে যাত্রা

📄 আবূ সায়‍্যারা-এর লোকদের নিয়ে যাত্রা


আবূ সায়্যারা - এর লোকদের নিয়ে যাত্রা
যুল - ইবার কথা , আর আওসের কথায় আপাতবিরোধ পরিলক্ষিত হলেও আসলে কোন বিরোধ নেই । কেননা , যুল - ইসবা বর্ণিত আদওয়ান গোত্রের যাত্রার অনুমতি দানের দায়িত্ব ছিল মুযদালিফা থেকে প্রত্যাবর্তনকালে । যেমন যিয়াদ ইব্‌ন আবদুল্লাহ্ বাক্বায়ী মুহাম্মদ ইব্‌ন ইসহাকের সূত্রে বর্ণনা করেন যে , আদওয়ান গোত্র উত্তরাধিকার সূত্রে এ অনুমতি দানের দায়িত্ব পেয়ে আসছিল । সর্বশেষ অনুমতি প্রদানের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি , যার যুগে ইসলামের আবির্ভাব ঘটে , তিনি হলেন আবু সায়্যারা উমায়লা ইবন আধাল । তাঁর সম্পর্কে জনৈক আরব কি বলেন :
حتی اجاز سالما حماره * مستقبل القبلة يدعو جاره
“ আমরা আবূ সায়্যারা ও তার চাচাত ভাই ফাযারা গোত্রের পক্ষে লড়েছি । ফলে , আবূ সায়্যারা গাধীকে সংযত করে কিবলামুখী হলেন , আল্লাহ্র পানাহ্ কামনা করে লোকদের যাত্রার অনুমতি দিলেন । ”
আবূ সায়্যারা নিজ গাধীর উপর বসে লোকদের যাত্রা পরিচালনা করতেন । এজন্য কবি bojhas Labu বলেছেন ।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 আমির ইবন যারিব ইব্‌ন আমর ইবন ইয়ায ইবন ইয়াশকুর ইব্‌ন আদওয়ান

📄 আমির ইবন যারিব ইব্‌ন আমর ইবন ইয়ায ইবন ইয়াশকুর ইব্‌ন আদওয়ান


আমির ইবন যারিব ইব্‌ন আমর ইবন ইয়ায ইবন ইয়াশকুর ইব্‌ন আদওয়ান
( জনৈক নপুংসক সম্পর্কে তাঁর ফয়সালা এবং এ ব্যাপারে তাঁর দাসী সুখায়লার সঙ্গে পরামর্শ )
কবি বিজ্ঞ বিচারক বলে ' আমির ইবন যারিব ইবন আমর ইবন ইয়ায ইবন ইয়াশকুর ইবন আদওয়ান আল - আদওয়ানীকে বুঝিয়েছেন । আরবরা তাঁকে তাদের সকল সমস্যার সমাধানকারী মনে করত এবং তাঁর দেয়া সিদ্ধান্ত তারা মেনে নিত । একবার তাদের মাঝে একজন নপুংসক নিয়ে সমস্যা দেখা দিল । যার মধ্যে নারী - পুরুষের উভয় আলামত বিদ্যমান ছিল । তারা বলল : আপনি কি তাকে পুরুষ না নারী হিসাবে গণ্য করবেন ? এর চাইতে জটিল কোন সমস্যা নিয়ে ইতিপূর্বে তারা আর কখনো তাঁর কাছে আসেনি । তিনি বললেন , তোমরা আমাকে এ ব্যাপার চিন্তা করার সময় দাও । আল্লাহর শপথ হে আরবের অধিবাসী ! ইতিপূর্বে তোমাদের পক্ষ থেকে আমার কাছে এমন জটিল সমস্যা আর উত্থাপিত হয়নি । এ কথা শুনে তারা তাঁর কাছ থেকে চলে গেল । তখন তিনি সারারাত চিন্তা করেও কোন সুরাহা করতে পারলেন না । সুখায়লা নামে তাঁর এক দাসী ছিল । সে তার বকরী চরাত । দাসী সব বকরী নিয়ে চারণক্ষেত্রে যেত এবং চারণক্ষেত্র থেকে ফিরতে বিলম্ব করত । এ কারণে তাকে তার মনিবের তিরস্কার শুনতে হত । সে রাত্রে দাসী তাঁকে বিষণ্ন ও অস্থির দেখে এর কারণ জানতে চাইল । তখন মনিব বললেন , সর , বিরক্ত কর না । তুমি শুনলে কি লাভ হবে ? সে পুনরায় অনুরোধ করল । তখন মনিব এই ভেবে বিস্তারিত জানালেন যে , হয়ত তার কাছে কোন সমাধান পেয়ে যেতে পারেন । তখন মনিব বললেন , নপুংসকের মীরাসের ব্যাপারে আমার কাছে একটি সমস্যা পেশ করা হয়েছে । আমি কি তাকে পুরুষ হিসাবে গণ্য করব , না নারী হিসেবে ? বিষয়টি শুনে সুখায়লা বলল : সুবহানাল্লাহ্ ! এটাও কি একটি সমস্যা ! এর সমাধান এই যে , পেশাবের অঙ্গকে মাপকাঠি হিসাবে ধরুন । তাকে বসান , সে যদি পুরুষের মত পেশাব করে , তবে সে পুরুষ । আর যদি সে স্ত্রীলোকদের মত পেশাব করে , তাহলে সে নারী । আমর সন্তুষ্ট হয়ে বললেন , আজকের পর তুমি বকরী চরাতে যেতে বা আসতে যতই বিলম্ব কর না কেন , তোমাকে কেউ কিছু বলবে না । তুমি আমাকে কঠিন বিপদ থেকে উদ্ধার করলে । তারপর আমির সকালবেলা সুখায়লার পরামর্শমত লোকদের সমাধান জানিয়ে দিলেন ।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 কুসাই ইব্‌ন কিলাবের মক্কা অধিকার এবং কুরায়শদের একত্রীকরণ এবং কুযাআ গোত্র কর্তৃক তাঁকে সাহায্য করা

📄 কুসাই ইব্‌ন কিলাবের মক্কা অধিকার এবং কুরায়শদের একত্রীকরণ এবং কুযাআ গোত্র কর্তৃক তাঁকে সাহায্য করা


কুসাই ইন কিলাবের মক্কা অধিকার এবং কুরায়শদের একত্রীকরণ এবং কুযাআ গোত্র কর্তৃক তাঁকে সাহায্য করা
( সূফা গোত্রের পরাজয় ) ইন ইসহাক বলেন : তারপর প্রতি বছরের মত উল্লিখিত বছরও সূফা গোত্রের লোকেরা যথারীতি কাজ করে গেল । আরবদের কাছে তাদের এ অধিকার স্বীকৃতও ছিল । বনূ জুরহুম ও বনূ খুযাআর কর্তৃত্বের সময় থেকেই বিষয়টি তাদের মনে ধর্মীয় বিষয় বলে গণ্য হয়ে আসছিল । কুসাই ইব্‌ন কিলাব আপন জাতি কুরায়শ , বনূ কিনানা , বন্ কুযাআকে সাথে নিয়ে আকাবার কাছে এসে ঘোষণা দিলেন যে , এ বিষয়ে আমরা তোমাদের চেয়ে অধিক হকদার । তারপর তুমুল যুদ্ধের পর কুসাই বনূ সূফাকে পরাজিত করে যাবতীয় কর্তৃত্ব হস্তগত করেন ।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 খুযা'আ ও বাকর গোত্রের সাথে কুসাই-এর যুদ্ধ এবং ইয়া'মার ইন্ন'আওফের সালিসী

📄 খুযা'আ ও বাকর গোত্রের সাথে কুসাই-এর যুদ্ধ এবং ইয়া'মার ইন্ন'আওফের সালিসী


খুযা'আ ও বাকর গোত্রের সাথে কুসাই - এর যুদ্ধ এবং ইয়া‘মার ইবন ‘ আওফের সালিসী
এ পরিস্থিতি দেখে বনূ খুযা'আ ও বাকর আশংকা করল যে , কা'বাঘর ও মক্কার অন্যান্য বিষয়ে কুসাই অচিরেই আমাদের জন্যও বাধা হয়ে দাঁড়াবে , যেমন বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে সূফার অন্যরা , তাই তারা কুসাই - এর সংগ ত্যাগ করল । তখন কুসাই সকলকে একত্র করে নিজেই প্রথমে আক্রমণ করে বসলেন । তাঁর ভাই রিযাহ ইব্‌ন রাবিআহ কুযাআ গোত্রের সকল সাথীকে নিয়ে তাঁর সাথে যোগ দিল । অপরদিকে খুযাআ ও বাকর গোত্র কুসাইয়ের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য বের হল । তখন তুমুল যুদ্ধে উভয় পক্ষের প্রচুর সৈন্যক্ষয় হওয়ার পর তারা সন্ধি করার মনস্থ করল এবং আরবেরই এক ব্যক্তি ইয়া'মার ইবন আওফ ইব্‌ন কা'ব ইব্‌ন আমির ইব্‌ন লায়স ইব্‌ন বাকর ইব্‌ন আবদে মানাত ইব্‌ন কিনানাকে সালিস মনোনীত করল । তিনি ফায়সালা করলেন যে , পবিত্র কা'বা এবং মক্কার যাবতীয় বিষয়ে খুযাআ গোত্রের চেয়ে কুসাই অধিক হকদার । এ যুদ্ধে কুসাই কর্তৃক খুযা'আ ও বাকর গোত্রের নিহত লোকদের কোন ক্ষতিপূরণ দিতে হবে না । পক্ষান্তরে কুরায়শ বংশের খুযা'আ ও বাকর গোত্রের এবং কিনানা ও কুযা'আ গোত্র কর্তৃক নিহতদের পূর্ণ দিয়ত ( রক্তপণ্য ) দিতে হবে । আর কা'বা ও মক্কার ব্যাপারে কুসাই সম্পূর্ণ স্বাধীন ।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00