📄 সৃষ্টির কাছে চাওয়া নিষেধ
এ কারণে ইসলামের দৃষ্টিতে আল্লাহর কোনো সৃষ্টির নিকট কিছু প্রার্থনা নীতিগতভাবে হারাম ও নিষিদ্ধ। শুধু বেশী প্রয়োজনের সময় এ ব্যাপারে অনুমতি আছে। ভিক্ষা বৃত্তি নিষেধ হবার ব্যাপারে বেশ কয়েকটি হাদীস আছে। যেমন:
(۱) لَا تَزَالُ الْمَسْأَلَةَ بِأَحَدِكُمْ حَتَّى يَأْتِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَلَيْسَ فِي وَجْهِهِ مُزْعَةٌ لحم - بخاری، مسلم
(১) “যে ব্যক্তি মানুষের নিকট হাত পাতবে কিয়ামাতের দিন সে এমনভাবে উঠবে যে, তার মুখমণ্ডলে মোটেই গোশত থাকবে না।"- বুখারী, মুসলিম
অর্থাৎ খুবই অপমানকর অবস্থায় সে উঠবে।
(২) مَنْ سَأَلَ النَّاسَ وَلَهُ مَا يُغْنِيْهِ جَاءَتْ مَسْأَلَتُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ خُدُوشًا أَوْ حمُوشًا أَوْ كُدُوشًا فِي وَجْهِهِ - الطبارني
(২) “যে ব্যক্তি ধনী হওয়া সত্ত্বেও কারো কাছে হাত পাতবে কিয়ামাতের দিন এ হাতপাতার দাগ তার কপালে প্রকট অথবা হালকা যখমরূপে প্রকাশ পাবে। অর্থাৎ হাতপাতার অবস্থা অনুসারে গভীর যখমের অথবা হালকা যখমের চেহারা নিয়ে সে উঠবে। গোটা মাখলুকের নিকট সে অপমানিত হবে।"-তাবারানী
(۳) لَا تُحِلُّ الْمَسْأَلَةَ إِلَّا الَّذِي غَرَمَ فَعَطِعَ أَوْدَمٍ مَوْجِعِ أَوْ فَقْرٍ مَدْمَعِ -
(৩) "তিন ব্যক্তি ছাড়া আর সকলের জন্য কারো কাছে কিছু চাওয়া হালাল নয়। প্রথম, যে ব্যক্তি ঋণের দায়ে নিগৃহীত, দ্বিতীয়, যে গরীব ব্যক্তি ক্ষুধার তাড়নায় ভুলুণ্ঠিত, আর তৃতীয় হলো, খুনের অপরাধী, যে রক্তমূল্য দিতে গিয়ে সর্বশান্ত হয়ে গেছে।”
(٤) واللهِ لَأَنْ يَأْخُذَ أَحَدُكُمْ حَبَلَهُ فَيَذْهَبُ فَيَحْتَطِبُ خَيْرٌ لَهُ مِنْ أَنْ يَسْئَلَ النَّاسُ أَعْطُوهُ وَمَنْعُوهُ - بخاری، ابن ماجة
(৪) "আল্লাহর কসম তোমাদের মধ্য থেকে যদি কেউ নিজের রশি উঠিয়ে নেয় এবং নিজের পিঠের উপর খড়ির বোঝা উঠিয়ে নেয় ও বিক্রয় করে এবং এভাবে যদি আল্লাহ তাআলা তার আত্মসম্মানকে ভিক্ষাবৃত্তি থেকে মুক্ত রাখেন, তাহলে তার জন্যে কারো নিকট হাতপাতা থেকে অনেক উত্তম।"-বুখারী
(٥) مَنْ يَسْتَغْنِ يُغْنِهِ اللَّهُ وَمَنْ يَسْتَعْفِفْ يُعَفِهِ اللَّهُ وَمَنْ يَتَصَبَرُ يَصْبِرُهُ اللهُ، وَمَا أَعْطَى أَحَدًا عَطَاء خَيْرًا أَوْسَعَ مِنَ الصَّبْرِ - بخاری، مسلم
(৫) "যে ব্যক্তি কারো নিকট হাতপাতা হতে বিরত থাকে আল্লাহ তাকে প্রাচুর্য দান করেন। যে ব্যক্তি পবিত্রতা অবলম্বন করে আল্লাহ তাকে পবিত্র রাখেন। আর যে বিপদে ধৈর্যধারণ করে আল্লাহ তাকে ধৈর্যশীল বানিয়ে দেন। কাউকে এমন কোনো নেয়ামাত দেয়া হয়নি যা ধৈর্য হতে উত্তম ও বড় হতে পারে। -বুখারী, মুসলিম
(٦) مَا أَتَاكَ مِنْ هَذَا الْمَالِ وَأَنْتَ غَيْرَ سَائِلٍ وَلَا مُسْتَشْرَفَ فَخُذُهُ وَإِلَّا فَلَا تتبعه نَفْسَكَ - بخاری، مسلم، نسائی
(৬) “এ (বায়তুল) মাল থেকে যদি তোমাকে কিছু দেয়া হয় আর তুমি নিজে প্রার্থনা করে যদি তা না চাও তোমার মনেও যদি তার জন্য কোনো আগ্রহ আগ থেকে না থাকে তাহলে তা তুমি গ্রহণ করো। যদি ঘটনা এমন না হয়, তবে এর থেকে তুমি তোমাকে দূরে রাখো।"-বুখারী, মুসলিম, নাসাঈ
মূলত অর্থ সম্পদে কোনো ত্রুটি নেই বরং এর সম্পর্ক গ্রহণকারীর নিজের নক্সের সাথে জড়িত। ধন-সম্পদ লাভের জন্য যদি তার মনে কোনোরূপ লোভ-লালসার সৃষ্টি না হয়ে থাকে তাহলে তা গ্রহণে কোনো দোষ নেই কারণ এভাবে তো তার আল্লাহর উপর নির্ভরতা অক্ষুণ্ণ থাকে। যদি কোনো ব্যক্তি নিজ মুখে চায় অথবা তার মনের গহীন কোণে যদি এ ব্যাপারে কিছু পাবার আগ্রহ লুক্কায়িত থাকে তাহলে একজন মু'মিন হিসেবে এ মাল স্পর্শ করা তার জন্য ঠিক হবে না। কেননা এখানে সে যে আল্লাহর দাস, তার সে বৈশিষ্ট্য পদদলিত হবার আশংকা আছে।
📄 বিশেষ বিশেষ সাহাবার জন্য কিছু চাওয়া অকাট্যভাবে নিষিদ্ধ ছিলো
উপরের আলোচনা থেকে বুঝা গেলো ইসলাম কারো কাছে কিছু চাওয়াকে পসন্দ করে না। শুধু প্রয়োজনের সময় বিশেষ ঠেকা বশত এ ব্যাপারে শিথিলতা আরোপ করা হয়েছে। কিন্তু রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর নিজের কিছু বিশেষ বিশেষ সাহাবার ক্ষেত্রে এ শিথিলতা আরোপ ও নিষেধ করে দিয়েছেন। তাঁদেরকে দৃঢ়তার পথ অবলম্বনের হেদায়াত দিয়েছেন যেনো কোনো সৃষ্টির কাছে হাত না পাতেন। বর্ণিত আছে:
أَبُو بَكْرٍ كَانَ يَسْقُطُ السُّوْطُ مِنْ يَدِهِ فَلَا يَقُولُ لِأَحَدِنَا وَلِي إِيَّاهُ وَيَقُولُ إِنَّ خَلِيلِي أَمَرَنِي أَنْ لَا أَسْأَلَ النَّاسَ شَيْئًا .
"আবু বকর সিদ্দীক রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাত থেকে কোনো সুঁই পড়ে গেলেও তিনি কাউকে বলতেন না যে, একটু উঠিয়ে দিন। তিনি বলতেন আমার বন্ধু আমাকে কারো কাছে কিছু না চাওয়ার জন্য হুকুম দিয়েছেন।"
عَنْ عَوْفِ بْنِ مَالِكٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمْ بَايِعُهُ فِي طَائِفَةٍ وَأَسَرَّ إِلَيْهِمْ كَلِمَةً خُفْيَةً أَنْ لَاتَسْأَلُو النَّاسَ شَيْئًا فَكَانَ بَعْضُ أُولَئِكَ النَّفَرُ يَسْقُطُ السُّوطُ مِنْ يَدِ أَحَدِهِمْ وَلَا يَقُولُ لِأَحَدِنَا وَلِي إِيَّاهُ - مسلم
"সহীহ মুসলিমে আওফ বিন মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত হয়েছে। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিছু সাহাবার সাথে আমারও বাইয়াত গ্রহণ করেছেন। আমাদের সকলের কানে কানে তিনি একথা বলে দিলেন, কারো কাছে কোনো সময় কিছু চেয়ো না। একথার ফল এ দাঁড়ালো যে, এদের কারো হাত থেকে যদি একটি সুঁইও মাটিতে পড়ে যেতো তাহলেও কাউকে একথা বলতেন না একটু উঠিয়ে দাও তো।"
📄 আল্লাহর কাছেই চাইতে হবে
একটি দুটি নয় বরং কুরআনের বিভিন্ন আয়াতে ও সুন্নাতে রাসূলে এ হুকুম দেয়া হয়েছে-যা কিছু চাইতে হয় প্রকৃত রিযকদাতা হতেই চাইতে হবে। কোনো মাখলুখের কাছে হাত পেতো না।
فَإِذَا فَرَغْتَ فَانْصَبْ وَإِلَى رَبِّكَ فَارْغَبُ - الانشراح : ۸۷
"যখন তুমি খালি হাত হয়ে যাবে, দাঁড়িয়ে যাবে এবং তোমার রবের কাছেই মিনতি জানাবে।"-সূরা আলাম নাশরাহ
وَاسْأَلُوا اللَّهَ مِنْ فَضْلِهِ - - النساء : ٣٢
"আল্লাহর সমীপেই তাঁর অনুগ্রহ (রিযক) প্রার্থনা করো।"
فَابْتَغُوا عِنْدَ اللَّهِ الرِّزْقَ - العنكبوت : ١٧
"আল্লাহর কাছেই রিযক অন্বেষণ করো।"সূরা আল আনকাবূত : ১৭
এ শেষ অংশটুকু হযরত ইবরাহীম খলিলুল্লাহর এরশাদ। এ বাক্যটির প্রতি লক্ষ্য করুন : فَابْتَغُوا عِنْدَ اللَّهِ الرِّزْقَ বলেছেন কিন্তু فَابْتَغُوا الرِّزْقَ عِنْدَ اللهِ বলেননি।
কারণ عِنْدَ اللهِ আল্লাহর কাছে শব্দটিকে আগে ব্যবহার করে রিযক যার কাছে চাইতে হবে তার দিকটাকেই বিশেষভাবে তুলে ধরাই হলো মূল দৃষ্টিভঙ্গি। অর্থৎ গায়রুল্লাহর কাছে রিযক চেয়ো না বরং শুধু আল্লাহর কাছেই রিযক তালাশ করবে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুকে নসীহত করতে গিয়ে এরশাদ করেছেন:
إِذَا سَأَلْتَ فَاسْأَلِ اللَّهَ وَإِذَا اسْتَعَنْتَ فَاسْتَعِنْ بِاللَّهِ -
📄 স্বভাবগতভাবে প্রত্যেক মানুষেরই ২ টি জিনিসের প্রয়োজন
"যদি কিছু চাইতে হয় আল্লাহর কাছেই তা চাও। আর সাহায্য যদি কারো কাছে চাও তা হলে তা আল্লাহর কাছেই চাও।"
এ দুটি জিনিসের প্রথমটি হলো তার রিয্ক বা জীবিকা ইত্যাদি যা জীবন ধারণের জন্যে প্রয়োজন।
আর দ্বিতীয়টি হলো অনিষ্ট ও ক্ষতিকারক জিনিস হতে নিজেকে হিফাজত করা।
এ দুটো ব্যাপারেই ইসলামের শিক্ষা হলো—এ দুটো জিনিস যখনই চাইবে তখনই আল্লাহর কাছে তা চাইবে। প্রয়োজনের সময়ও তাঁর কাছেই হাত পাতবে। আর বিপন্ন অবস্থায়ও তাঁর কাছেই ফরিয়াদ করবে। হযরত ইয়াকুব আলাইহিস সালামের উন্নত চরিত্রও আমাদের চোখের সামনে বিদ্যমান। নিজের পুত্রের বিরহ ব্যথা যখন আর সহ্য হচ্ছিল না, দুঃখের কষ্টে আপনা আপনিই মুখ নড়তে আরম্ভ করলো এবং শব্দ বেরুতে লাগলো:
إِنَّمَا أَشْكُوا بَشِّى وَحُزْنِي إِلَى اللَّهِ - يوسف : ٨٦
"আমি 'আমার আহাজারী ও মনোবেদনা শুধু আল্লাহর কাছেই নিবেদন করবো।"-সূরা ইউসুফ: ৮৬
কুরআন মাজীদে আল্লাহ তা'আলা 'হিজরে জামীল'-এর উল্লেখ করেছেন উন্নত চরিত্রের পরিচয় হিসেবে। ওলামায়ে কেরাম এর ব্যাখ্যায় বলেছেন:
'হিজরে জামীল' এর অর্থ কাউকে কোনো কষ্ট দেয়া ছাড়া নীরবে তার কাছ থেকে কেটে পড়া।
এবং 'সফহে জামীল' এর অর্থ হলো, কপাল ও ভ্রু কুঁচকানোর বিরক্তি দেখানো ছাড়াই কাউকে মাফ করে দেয়া।
এবং 'সবরে জামীল' অর্থ হলো কোনো প্রকার অভিযোগ ছাড়াই বিপদ-আপদ সয়ে যাওয়া।
হযরত ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল রাহিমাতুল্লাহ আলাইহিকে একবার রোগ শয্যায় একথা শুনানো হয়েছিলো—ইমাম তাউস রাহেমাহুল্লাহু রোগীর আহ! উহ! শব্দ মুখ থেকে উচ্চারণ করে কাতরানোকে অপসন্দ করতেন। তিনি বলতেন, এটা হলো মাখলুকের কাছে অভিযোগ। একথা শুনে ইমাম আহমদ বিন হাম্বল রোগশয্যায় কাতরানো বন্ধ করে দিলেন। মৃত্যু পর্যন্ত তার মুখ থেকে আর এ আহ! উহ! শব্দ কোনো দিন বের হয়নি।
এখন বাকী রইলো বিপদ মুসীবতে আল্লাহ তা'আলার দরবারে মনের কোনো মিনতি অভিযোগ আকারে নিবেদন করা। এটা কিন্তু সবরে জামিলের বিপরীত কিছু নয়। একথার প্রমাণ হযরত ইয়াকুব আলাইহিস সালামের আগে বর্ণিত বাক্যগুলোতে বিদ্যমান। একদিকে তিনি বলেছেন ফাসব্রুন জামিল এবং এর পরপরই তিনি বলেছেন:
إِنَّمَا أَشْكُوا بِشَيْ وَحُزْنِي إِلَى اللَّهِ -
হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু ফজরের নামাযে সূরা ইউসুফ, সূরা ইউনুস ও সূরা আন নাহল, তিলাওয়াত করতেন। এসব আয়াতে (اشكو الخ) পৌঁছলে তিনি কেঁদে ফেলতেন। তাঁর কাঁদার শব্দ শেষ কার্তার পর্যন্ত শুনা যেতো।
হযরত মূসা আলাইহিস সালাম দোয়া করতেন- "হে আল্লাহ! সব প্রশংসা একমাত্র তোমারই প্রাপ্য। তুমি আমাদের মনের কাকুতি শুনার একমাত্র অধিকারী। তুমিই আমাদের ভরসাস্থল, তুমিই আমাদের ফরিয়াদ শ্রবণকারী। তোমার উপরই আমাদের ভরসা। আমাদের শক্তি ও অনুপ্রেরণার তুমিই একমাত্র উৎস।
তায়েফের সেই ময়দানে দুষ্ট দুরাচার জাহিলরা রাহমাতুল্লিল আলামীনের সাথে যে হৃদয়হীন দুব্যবহার করেছিলো তাতেও তাঁর পাক যবান দিয়ে একথাগুলো বের হয়ে আসতে শুনা গিয়েছিলো।
"হে আমার আল্লাহ! আমার অপারগতা, আমার অসহায়তা, আমার অক্ষমতার অভিযোগ তোমার নিকটেই আবেদন করছি। তুমিই অসহায়ের সহায়। তুমিই আমার রব।"
এসব ঘটনা ও বিশ্লেষণের আলোকে এ সত্য কোনো আলোচনার অপেক্ষা রাখে না যে, আল্লাহর দরবারে নিজেদের অভাব অভিযোগ পেশ করা এবং নিজেদের বিপদ আপদের কথা বলা নিষেধ নয়, খারাপও নয়। বরং এমন এক কাজ যার আদেশ দেয়া হয়েছে। শরীআতের দৃষ্টিকোণ থেকে যা পসন্দনীয় কাজ। আল্লাহর যে বান্দা তার প্রয়োজন পূরণের জন্য তাঁর দয়া ও অনুগ্রহের যত বেশী প্রত্যাশী হবে বান্দাহর বন্দেগী ততবেশী মজবুত ও একনিষ্ঠ হবে। গায়রুল্লাহ থেকে তার অমুখাপেক্ষিতা দৃঢ় ও পরিপূর্ণ হবে। যেভাবে কোনো মাখলুকের কাছে কিছু চাওয়া ও তার প্রতি আকর্ষণ অনুভব করা তার গোলাম হবার প্রমাণ, তেমনি তাঁর থেকে কিছু পাবার আশা না করা ও তাঁর প্রতি কোনো আকর্ষণ অনুভব না করা তাঁর থেকে মনের বিমুখতার প্রমাণ। ঠিক এভাবে নিজের স্রষ্টা ও জীবিকাদাতার প্রকৃত নেয়ামতের প্রতি প্রত্যাশী ও আকৃষ্ট হওয়া তাঁরই গোলামী ও বন্দেগীর নিদর্শন। মানুষের হৃদয় আল্লাহর কাছে চাওয়া ও তাঁর প্রতি মুখাপেক্ষী হওয়া থেকে ফিরে থাকা প্রকৃতপক্ষে তাঁকে উপেক্ষা করারই অর্থ বহন করে।