📘 হজ্জ ও উমরাহ সফরে সহজ গাইড > 📄 ১১ যিলহজ্জ : মিনায় রাত্রিযাপন ও জামারাতে কংকর নিক্ষেপ

📄 ১১ যিলহজ্জ : মিনায় রাত্রিযাপন ও জামারাতে কংকর নিক্ষেপ


■ ১১ যিলহজ্জে করণীয়: ১১ যিলহজ্জ রাতে মিনায় রাত্রীযাপন করা এবং দ্বিপ্রহরের পর ৩ টি জামারায় গিয়ে কংকর নিক্ষেপ করা।
■ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ১০ যিলহজ্জ মক্কায় তাওয়াফে ইফাদাহ ও সাঈ শেষ করে মিনায় ফিরে আসেন এবং তাশরীকের রাত্রিগুলো মিনায় অবস্থান করেন। মিনা থেকে জামারাত যাওয়ার রাস্তায় কোন গাড়ির ব্যবস্থা নেই তাই সম্পূর্ণ পথ পায়ে হেঁটে যেতে হবে। মিনার তাবু থেকে জামারাতের দূরত্বের উপর নির্ভর করে যাওয়া ও আসা মিলে ৮-১০ কি.মি হাঁটতে হতে পারে। মুসলিম-৩০৫৬, ৩০৬৮, আবু দাউদ-১৯৭৩
■ যদি ১০ যিলহজ্জ তাওয়াফে ইফাদাহ ও সাঈ না করা হয়ে থাকে তবে উত্তম হবে এই তাশরীকের রাতটি মিনায় অবস্থান করে পরদিন সকালে বা বিকালে মক্কায় গিয়ে ফরজ তাওয়াফ ও সাঈ সম্পন্ন করে মিনায় ফিরে আসা। আবার ১১ যিলহজ্জ সন্ধ্যায় মক্কায় গিয়ে তাওয়াফ ও সাঈ শেষ করে মধ্যরাতের আগে মিনায় ফিরে আসতে পারলেও কোন সমস্যা নেই। মিনায় রাতের অর্ধভাগ অথবা অর্ধেকের বেশি সময় অবস্থান করা বাঞ্চনীয়।
■ মিনায় দুপুরের সূর্য হেলে যাওয়ার পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত ৩ টি জামারায় গিয়ে কংকর নিক্ষেপ করবেন, এটি কংকর নিক্ষেপের উত্তম সুন্নাত সময়। এতে মোট ২১টি কংকর লাগবে (প্রতিটির জন্য ৭টি করে)। প্রচন্ড ভীড় বা কোন ওজর বশত অসুস্থ্য, অতিদুর্বল, বৃদ্ধ, নারী ও শিশুরা সূর্যাস্তের পর থেকে সুবহে সাদিক হওয়ার আগ পর্যন্ত কংকর নিক্ষেপ করা যায়েজ অথবা তার পক্ষ থেকে অন্য একজনকে কংকর নিক্ষেপ করার জন্য নিয়োগও করতে পারবেন।
■ কংকর নিক্ষেপের সময় জামারাতে ধারাবাহিকতা (ছোট, মধ্যম, বড়) রক্ষা করা অত্যাবশ্যকীয়। ঋতুবতী মহিলাগণ ঋতু অবস্থায় জামারাতে গিয়ে কংকর মারতে কোন সমস্যা নেই। বুখারী-১৭৪৬, নাসাঈ-৩০৬৩, আবু দাউদ-১৯৭১, তিরমিযী-৮৯৬
■ প্রথমে জামারাতুল সুগরা (ছোট জামারাহ) নিকটবর্তী হয়ে কাবা হাতের বামে ও মিনা হাতের ডানে রেখে অথবা যে কোন ভাবে দাঁড়িয়ে ডান হাত উঁচু করে আলাদা আলাদাভাবে ৭টি কংকর একে একে নিক্ষেপ করবেন এবং প্রতিবার নিক্ষেপের সময় বলবেন: 'আল্লাহু আকবার'। বুখারী-১৭৫১
■ প্রথম জামারায় কংকর নিক্ষেপের পর একটু সামনে এগিয়ে গিয়ে কিবলার দিকে মুখ করে ও দুই হাত উঠিয়ে ইচ্ছামত একাকী দীর্ঘক্ষণ দু'আ করবেন। এটা কিন্তু দু'আ কবুলের স্থান ও সময়। এরপর পরবর্তী মধ্যম জামারার দিকে এগিয়ে যাবেন। বুখারী-১৭৫১
■ এবার জামারাতুল উদ্ভা (মধ্যম জামারাহ) নিকটবর্তী হয়ে প্রথম জামার ন্যায় ৭টি কংকর নিক্ষেপ করবেন এবং দ্বিতীয় জামারায় কংকর নিক্ষেপের পর একটু সামনে এগিয়ে গিয়ে প্রথম জামার ন্যায় ইচ্ছামত একাকী আবার দীর্ঘক্ষণ দু'আ করবেন। এরপর পরবর্তী বড় জামারার দিকে এগিয়ে যাবেন।
এবার জামারাতুল আকাবা (বড় জামারাহ) নিকটবর্তী হয়ে বিগত দুই জামারাতের মতো করে ৭টি কংকর নিক্ষেপ করবেন। তৃতীয় জামারায় কংকর নিক্ষেপ শেষ করে আর কোন দু'আ নেই। দু'আ না করেই জামারাত ত্যাগ করবেন এবং মিনার তাবুতে ফিরে যাবেন। বুখারী-১৭৫১, নাসাঈ-৩০৮৩
মিনার তাবুতে অবস্থানকালে ৮ যিলহজ্জের মত কসর করে স্বলাত আদায় করা, কুরআন তিলাওয়াত, তাসবিহ, দু'আ, যিকির ও ইসতিগফার করা বাঞ্ছণীয়। তাবুর মধ্যে শুধু ঘুমিয়ে অথবা গল্পগুজব ও ঘুরাঘুরি না করে মিনার সময়গুলোকে কাজে লাগানো উত্তম। আল্লাহ তাআলা বলেন, "অতঃপর যখন তোমরা হজ্জের কাজসমূহ শেষ করবে, তখন আল্লাহকে স্মরণ করো যেভাবে তোমরা স্মরণ করতে তোমার বাপদাদাদেরকে, এমনকি তার চেয়ে অধিক স্মরণ।.." সূরা আল বাকারা: ২:২০০। তাশরীকের দিনগুলোতে সিয়াম পালন করা যাবে না। মিনায় ৩ বেলা খাবারের ব্যবস্থা থাকে। মিনায় এই তাশরীকের রাত্রীযাপন করা ওয়াজিব।
সতর্কতা: কিছু দেশের হজ্জ এজেন্সিদের দেখা যায় তারা ১১ যিলহজ্জ রাত মিনায় যাপন করেন না। কারণ তারা মিনায় রাত্রিযাপনকে সুন্নাত হিসেবে বিবেচনা করেন। তবে বিশ্বের বিভিন্ন মতাদর্শের বেশিরভাগ আলেম ও উলামাগণ মিনায় তাশরীকের রাত্রীযাপন করাকে ওয়াজিব হিসাবে আখ্যায়িত করেছেন এবং এটিই অধিক সঠিক ও নিরাপদ কাজ। অনেক হজ্জ এজেন্সি আবার ১১ যিলহজ্জ রাতের কিছুক্ষণ মিনায় অবস্থান করে মধ্য রাতের আগেই হাজীদের নিয়ে মিনা ত্যাগ করে মক্কা/আজিজিয়া/শির্শায় হোটেলে চলে যায়। পরদিন যোহরের পর জামারাতে এসে কংকর নিক্ষেপ করে আবার মিনার তাবুতে কিছুক্ষণ থেকে ফের হোটেলে চলে যায়। এরূপ করাটা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ও সাহাবীদের আমলের বিপরীত। মিনায় রাত্রিযাপন যদি ওয়াজিবের পর্যায়ে পড়ে থাকে তবে দিন যাপন করা সুন্নাত, এতে কোন সন্দেহ নেই। সর্বোপরি রাসূল(স) দিন ও রাত উভয়টাই মিনায় যাপন করেছেন। ইবনে মাজাহ-৩০৬৫
এমন পরিস্থিতিতে পড়লে কি করবেন? আপনি যদি তাকওয়া অবলম্বনকারী ও রাসূল(ﷺ) এর সুন্নাহর আলোকে হজ্জ করতে চান তবে দল থেকে আলাদা হয়ে মিনায় অবস্থান করবেন। কারণ মিনায় অবস্থান করা ওয়াজিব বাদ দিলে দম দিতে হবে আর দম না দিলে হজ্জ ত্রুটিযুক্ত থেকে যাবে। যেহেতু বিষয়টি নিয়ে মতপার্থক্য আছে সেহেতু নিরাপদ পন্থা বা মাসআলা অবলম্বন করাই শ্রেয়। আপনি নিশ্চয়ই এই কয় দিনে মিনার পথ-ঘাট কিছুটা চিনে যাবেন আর হাতে যদি মোবাইল ফোন ও কিছু সৌদি রিয়াল থাকে তাহলে কোন সমস্যা হবে না। হজ্জের এই শেষ পর্যায়ে একটু কষ্ট করে ওয়াজিব ও সুন্নাতগুলো পালন করুন। হজ্জে যাওয়ার পূর্বে এজেন্সির সাথে এই বিষয়টি নিয়ে কথা বলে তাদের মনোভাবটাও বুঝে ফেলতে পারেন তারা ইতিপূর্বে কি করেছে! এই বিষয় নিয়ে দ্বন্দ্ব না করে বরং এজেন্সিকে নসীহত বা অনুরোধ করতে পারেন মিনায় রাত্রিযাপন করার বিষয়ে। যদি তা ফলপ্রসু না হয় তবে আপনার সাথে মতের মিল হয় এমন এক-দুইজনকে নিয়ে মিনায় থাকার পরিকল্পনা করতে পারেন।
আরেকটি বিষয়: কিছু কিছু মিনার তাবুর এলাকায় মাইকে এমন ঘোষনা দেয় যে - অমুক মুয়াল্লিম হাজীদের জন্য সকাল ৯টা-১০টা পাথর নিক্ষেপের জন্য সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। অতএব সকাল ৯টা-১০টায় জামারাতে গিয়ে পাথর মেরে আসুন। এই ঘোষনা শুনে অনেক এজেন্সি পাথর মেরে চলে আসে। কিন্তু পাথর নিক্ষেপের সুন্নাহ সাব্যস্ত সময় শুরু হয় দুপুরের সূর্য হেলে যাওয়ার পর থেকে। এমন মাইকিং করা হোলেও উচিত হবে দুপুরের সূর্য্য হেলে যাওয়ার পর গিয়ে পাথর মেরে আসা। ওখানে কোন কোন কাজ করার জন্য কেউ জোর বা বাধ্য করবে না আপনাকে。

📘 হজ্জ ও উমরাহ সফরে সহজ গাইড > 📄 ১২ যিলহজ্জ : মিনায় রাত্রিযাপন ও জামারাতে কংকর নিক্ষেপ

📄 ১২ যিলহজ্জ : মিনায় রাত্রিযাপন ও জামারাতে কংকর নিক্ষেপ


১২ যিলহজ্জে করণীয়: ১২ যিলহজ্জ রাতে মিনায় রাত্রীযাপন করা এবং দ্বিপ্রহরের পর ৩ টি জামারায় গিয়ে কংকর নিক্ষেপ করা।
যদি এখনো তাওয়াফে ইফাদাহ ও সাঈ না করা হয়ে থাকে তবে উত্তম হবে এই তাশরীকের রাতটি মিনায় অবস্থান করে পরদিন মক্কায় গিয়ে ফরজ তাওয়াফ ও সাঈ সম্পন্ন করে মিনায় ফিরে আসা। আবার ১২ যিলহজ্জ সন্ধ্যায় মক্কায় গিয়ে তাওয়াফ ও সাঈ শেষ করে মধ্যরাতের আগে মিনায় ফিরে আসতে পারলেও কোন সমস্যা নেই। মিনায় রাতের অর্ধেকের বেশি সময় অবস্থান করা বাঞ্চনীয়।
১১ যিলহজ্জের মত একই নিয়মে দুপুরের সূর্য পশ্চিম আকাশে হেলে যাওয়ার পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত ৩ টি জামরায় গিয়ে কংকর নিক্ষেপ শেষ করা।
সাধারণত ১২ যিলহজ্জ প্রথম ওয়াক্তে কংকর মারার প্রচন্ড ভীড় থাকে। তাই একটু দেরী করে বিকালের দিকে গেলে ভালো হয়। বিশেষ ওজর বা প্রয়োজনে ১২ যিলহজ্জ মিনা অবস্থান করা শেষ করা যায়। বিশেষ কোনো কষ্ট/সমস্যার কারণে বা কোন তাড়া/জলদি থাকলে; যেমন: সম্পদ নষ্ট হওয়ার ভয় থাকলে, জীবনের নিরাপত্তার অভাব বোধ করলে, গুরুতর শারীরিক অসুস্থতার কারণে, রোগীর সেবার করার জন্য সাথে থাকা লাগলে, চাকরী হারানোর ভয় থাকলে, পারিবারিক গুরুতর সমস্যা ইত্যাদি এমন বিশেষ কারণে ১২ যিলহজ্জ কংকর নিক্ষেপ করে সূর্যাস্তের পূর্বেই একেবারে মিনা ছেড়ে মক্কা/আজিজিয়া/শির্শায় ফিরে যেতে চাইলে যাওয়া যাবে। এতে কোনো দোষ নেই। তবে কোনো কারণ ছাড়া ১২ যিলহজ্জ মিনা ত্যাগ না করাই উত্তম। কংকর নিক্ষেপের জন্য মিনায় ১৩ যিলহজ্জ পর্যন্ত অর্থাৎ ৩দিন-৩রাত অবস্থান করা রাসূল (স) এর সুন্নাত।
■ আল্লাহ তাআলা কুরআনে বলেন, "..যদি কেউ তাড়াতাড়ি করে দুই দিনে চলে আসে তবে তার কোন পাপ নেই। আর যদি কেউ বিলম্ব করে তবে তারও কোন পাপ নেই, এটা তার জন্য; যে তাকওয়া অবলম্বন করে"। সূরা-আল বাকারা, ২:২০৩
■ যদি ১২ যিলহজ্জ মিনায় থাকার পর্ব ও কংকর নিক্ষেপের পর্ব শেষ করতে চান তবে অবশ্যই সূর্যাস্তের পূর্বেই মিনার সীমানা ত্যাগ করতে হবে। মিনায় সূর্যাস্ত হয়ে গেলে আর মিনা ত্যাগ করা যাবে না এবং তখন রাতে মিনায় অবস্থান করে পরবর্তী দিন একই নিয়মে তিনটি জামরায় কংকর নিক্ষেপ করে তারপর মিনা ত্যাগ করতে হবে। মিনা ত্যাগ করে চলে গেলে হজ্জের সর্বশেষ কাজ বাকি থাকে বিদায় তাওয়াফ করা। দেশে ফেরা বা মদীনা গমণের আগে এই তাওয়াফ করতে হবে। নাসাঈ-৩০৪৪
■ সতর্কতা: কিছু দেশের হজ্জ এজেন্সিদের দেখা যায় ১২ তারিখে কংকর নিক্ষেপের পর হাজীদের নিয়ে মিনা ত্যাগ করে চলে যাওয়ার প্রবণতা থাকে বেশি। তারা কুরআনের ঐ আয়াত পেশ করে অথবা দলের কয়েকজন লোকের অসুস্থতার অযুহাত দেখিয়ে, সবাই দুর্বল ও ক্লান্ত হয়ে গেছে, আশেপাশে সবাই চলে যাচ্ছে, তাবুতে আর বিদ্যুৎ ও পানি থাকবে না, তাবু সব গুছিয়ে ফেলা হবে ইত্যাদি বলে সবাইকে নিয়ে হোটেলে চলে যায়। তাদের উদ্দেশ্য হলো তাদের কষ্ট লাঘব করা ও শর্টকাটে হজ্জ শেষ করানো। ওজর থাকতে পারে কারো ব্যক্তিগত, তবে সে অনুযায়ী তার জন্য ব্যবস্থা নিতে হবে। কিন্তু সকলকে ওজরের আওতায় ফেলে এমন কাজ করা অনুচিত। অনেকের ৩ রাত মিনায় থাকার ইচ্ছা থাকে, কিন্তু তাদের বাধ্য হয়ে চলে আসতে হয় এজেন্সির কারণে। এজেন্সি ৩ রাত মিনায় থাকতে চাইলে সৌদি মুআল্লিম ৩ রাত ব্যবস্থাপনা রাখবে। কিন্তু এজেন্সি যদি চলে যায় তবে তারা তাবু গুছিয়ে ফেলে।
■ এমন পরিস্থিতিতে পড়লে কি করবেন? আবার একই কথা বলবো। আপনি যদি তাকওয়া অবলম্বনকারী হন ও বিশেষ কোন ওজর/কষ্ট/তাড়া না থাকে তবে দল থেকে আলাদা হয়ে মিনায় অবস্থান করুন। আর ১টি মাত্র দিনের বিষয়। রাসূল (ﷺ) এর সুন্নাহ অনুসরণ করে ৩ রাত মিনায় অবস্থান করে অতঃপর জামারাতে কংকর নিক্ষেপ করে হোটেলে ফিরে যান। যদি তাবুতে কেউ না থাকে বা তাবু গুছিয়ে ফেলা হয় তবে জামারাতের কাছাকাছি খাইফ মসজিদে গিয়ে থাকা যায়। মসজিদ তখন অনেক ফাঁকা হয়ে যায় কিন্তু ২৪ ঘন্টা মসজিদে এসি চলে এবং আশেপাশে বাথরুম ও খাওয়া-দাওয়ার ভালো ব্যবস্থাপনা থাকে সেখানে。

📘 হজ্জ ও উমরাহ সফরে সহজ গাইড > 📄 ১৩ যিলহজ্জ : মিনায় রাত্রিযাপন ও জামারাতে কংকর নিক্ষেপ

📄 ১৩ যিলহজ্জ : মিনায় রাত্রিযাপন ও জামারাতে কংকর নিক্ষেপ


■ ১৩ যিলহজ্জে করণীয়: ১১ ১২ যিলহজ্জের মত করে ১৩ যিলহজ্জ রাতে মিনায় রাত্রীযাপন করা এবং দ্বিপ্রহরের পর ৩টি জামারায় গিয়ে কংকর নিক্ষেপ করা।
■ শেষ দিনে লক্ষ্য করবেন মিনা একদম ফাঁকা গেছে। এই দিন আসরের জ্বলাতের পর থেকে তাকবীরে তাসরীক পড়া শেষ। এরপর মিনা ছেড়ে মক্কা/আজিজিয়া/মির্শায় চলে আসবেন। মিনায় আইয়ামে তাশরীকের দুই/তিন রাত অবস্থান করে তিনটি জামারায় প্রতিদিন ধারাবাহিকভাবে কংকর নিক্ষেপের এই কাজটি ছিল ওয়াজিব। আল্লাহ তাআলা আপনাকে হজ্জ শেষ করার তাওফীক দিয়েছেন সেজন্য তাঁর কাছে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করুন। যদিও এখনও হজ্জের সর্বশেষ ও চূড়ান্ত কাজ বাকি থাকলো বিদায় তাওয়াফ করা। দেশে ফেরা বা মদীনা গমণের আগে সর্বশেষ কাজ হিসাবে এই তাওয়াফ করতে হবে। পাথর নিক্ষেপের পর মালপত্র সহ আসার জন্য আপনারা কয়েকজনে মিলে গাড়ি ভাড়া করে অথবা পায়ে হেঁটেই মক্কা/আজিজিয়া/শির্শায় পৌঁছে যেতে পারেন।
■ এবার যে কয়দিন হোটেলে থাকবেন বিশ্রাম করে পার করবেন আর প্রতি ওয়াক্তের স্বলাত জামাআতের সাথে মসজিদে গিয়ে আদায় করবেন। আজিজিয়া/শির্শা যেহেতু হারামের সীমানার মধ্যে পরে তাই এখানে মসজিদে স্বলাত পড়লেও প্রতি রাকাতে ১ লক্ষ গুণ বা তার বেশি নেকী পাওয়া যাবে। প্রয়োজনে কয়েকজনে মিলে গাড়ি ভাড়া করে মসজিদে হারামে এসে নফল তাওয়াফ করে ও স্বলাত পড়ে যেতে পারেন কয়েকদিন। যে কয়দিন হোটেলে থাকবেন সে কয়দিন মসজিদে জামআতে স্বলাত, দু'আ ও যিক্র মশগুল থাকবেন। পাশাপাশি কিছু কেনাকাটা বাকি থাকলে তা সেরে ফেলা যায়।
■ সতর্কতা: অনেকে সুন্নাহ মোতাবেক হজ্জের প্রতিটি কাজ সম্পাদন করার পরও এরূপ সন্দেহ পোষণ করতে থাকেন যে কে জানে হজ্জের কোথাও কোন ভুল হলো কি না! কিছু হজ্জ এজেন্সিদের দেখা যায় তারা হাজীসাহেবদের বলে থাকেন যে; হজ্জে কোন ভুলত্রুটি হয়ে থাকতে পারে তাই একটা দমে-খাতা দিয়ে দিন, শতভাগ বিশুদ্ধ হয়ে যাবে আপনার হজ্জ।
■ কিন্তু এরূপ করা মারাত্মক অন্যায়। কেননা আপনার জ্ঞান অনুসারে হজ্জ শুদ্ধভাবে পালন করা সত্ত্বেও শয়তানের ওয়াসওয়াসায় পরে হজ্জকে সন্দেহযুক্ত করছেন। আপনার যদি কোন বিষয় নিয়ে সত্যি সন্দেহ হয় তবে কয়েকজন বিজ্ঞ আলেমকে আপনার হজ্জের সমস্যার কথা বলুন। তারা যদি দম দিতে বলেন তবেই দম দিন, অন্যথায় নয়। শুধু সন্দেহ/আন্দাজের উপর ভিত্তি করে দমে-খাতা দেওয়ার কোন বিধান ইসলামে নেই।
■ হজ্জের কোন ওয়াজিব বাদ পরে গেলে এবং হজ্জের পর দম দিতে হলে কাউকে বিশ্বাস করে রিয়াল দিয়ে ছেড়ে দিবেন না। মক্কাতে কিছু দাতব্য প্রতিষ্ঠান আছে অথবা কোন ব্যাংক এ গিয়ে দম এর জন্য অর্থ পরিশোধ করে দম দেওয়ার ব্যবস্থা করতে পারেন। আবার একটি ট্যাক্সি ভাড়া করে হারামের সীমানার ভিতরে 'কিলো আশারা' অথবা 'একাশিয়া' নামক স্থানে পশুর হাটে গিয়ে ৭০০-৮০০ রিয়াল এর মধ্যে পশু (ছাগল, ভেড়া, দুম্বা) কিনে ওখানে দম দেওয়ার ব্যবস্থা করতে পারেন। দম যৌথভাবে বা ভাগে (উঠ, গরু) দেওয়া যায় না। দম না দিয়ে দেশে চলে আসা হলে পরে কারো মাধ্যম দিয়ে হারামের সীমানার ভিতরে দম দেওয়ার ব্যবস্থা করলে দম আদায় হয়ে যাবে。

📘 হজ্জ ও উমরাহ সফরে সহজ গাইড > 📄 তাওয়াফুল বিদা/বিদায় তাওয়াফ

📄 তাওয়াফুল বিদা/বিদায় তাওয়াফ


■ তাওয়াফুল বিদা হজ্জের শেষ ওয়াজিব কাজ। রাসূল(ﷺ) বিদায় তাওয়াফ আদায় করেছেন এবং বলেছেন, "বায়তুল্লাহয় শেষ তাওয়াফ না করে তোমাদের কেউ যেন না যায়।” অন্য এক বর্ণনা অনুসারে রাসূলুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) কে বলেছেন, লোকদেরকে বলো, তাদের শেষ কর্ম যেন হয় বায়তুল্লাহর সাথে সাক্ষাত, তবে তিনি মাসিক ঋতুবতী নারীর জন্য ছাড় দিয়েছেন। বুখারী-১৭৫৫, মুসলিম-৩১১০, আবু দাউদ-২০০২
■ হজ্জ শেষে এই তাওয়াফ আপনি মক্কা ছাড়ার আগ মুহূর্তে করবেন। মনে রাখবেন এটাই হবে মক্কায় আপনার শেষ কাজ। এই তাওয়াফের পর কোন সময়ক্ষেপনকারী কাজ করা যাবে না; যেমন, দূরে কোথাও ঘুরতে যাওয়া যাবে না। ওজর ছাড়া বেশি সময় পার করলে আবারও তাওয়াফ করতে হবে। এই তাওয়াফের পর সাঈ করতে হবে না। এই তাওয়াফ সাধারণ নফল তাওয়াফের মত; তবে তাওয়াফ শেষে ২ রাকাআত স্বলাত আদায় করতে হবে। তাওয়াফ শেষে জমজম পানি পান করে বাহির হন। অনেকে মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় সম্মান প্রদর্শন করে উল্টামুখী হয়ে বের হন যার কোন ভিত্তি নাই। মুসলিম-৩১৮৮, আবু দাউদ-২০২২
■ কোন নারী যদি তাওয়াফে ইফাদাহ করার পর ঋতুবতী হন এবং তাওয়াফে বিদার জন্য অপেক্ষা করতে না পারেন তাহলে তিনি চলে যেতে পারেন। এর জন্য কোন দম দেওয়ার দরকার হবে না। বুখারী-১৭৫৫, ১৭৫৭, মুসলিম-৩১১১
■ এই তাওয়াফের মাধ্যমে আপনার হজ্জে তামাত্তু পূর্ণ সম্পন্ন হলো। মহান আল্লাহ তাআলার শুকরীয়া আদায় করুন তিনি আপনাকে পরিপূর্ণভাবে হজ্জ সম্পন্ন করার তাওফীক দান করেছেন。

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00