📄 খোদাভীরু সাহাবীর অলৌকিকভাবে জীবন রক্ষা
হযরত সাফিনা (রা) ছিলেন রাসূলুল্লাহ (সা)-এর একজন সাহাবী। একবার তিনি রোম অভিযানে গিয়ে দলছুট হয়ে পথ হারিয়ে ফেলেন এবং এক গভীর জঙ্গলে গিয়ে পড়েন। হঠাৎ একটি ভয়ংকর বাঘ বা সিংহ তার সামনে এসে পথ রোধ করে দাঁড়াল। সাফিনা (রা) বাঘটিকে দেখে ভয় পেলেন না। তিনি বাঘের কাছে গিয়ে বললেন, 'হে বাঘ! আমি সাফিনা, রাসূলুল্লাহ (সা)-এর গোলাম। আমি পথ হারিয়ে ফেলেছি।'
আশ্চর্যের বিষয় হলো, বাঘটি তার ওপর আক্রমণ করল না। বরং সে লেজ নেড়ে তাঁর গা ঘেঁষে দাঁড়াল এবং তাঁকে পথ দেখিয়ে দলের কাছে পৌঁছে দিল। মুমিনের খোদাভীতি ও আল্লাহর রাসূলের প্রতি গভীর ভালোবাসার কারণে আল্লাহ তাআলা হিংস্র পশুকেও তাঁর অনুগত করে দিয়েছিলেন। এটি ছিল সাহাবীদের জীবনের এক অলৌকিক ঘটনা বা কারামত।
📄 ওমর ইবনে আব্দুল আযীযের ন্যায়বিচার
হযরত ওমর ইবনে আব্দুল আযীয (রহ) যখন খলিফা হলেন, তখন তিনি অত্যন্ত সাধারণ জীবন যাপন করতেন। একদিন রাতে তিনি রাজকার্য পরিচালনা করছিলেন এবং রাষ্ট্রীয় বাতি জ্বালিয়ে কাজ করছিলেন। এমন সময় এক মেহমান তাঁর সাথে দেখা করতে এলেন। খলিফা মেহমানকে জিজ্ঞেস করলেন, 'আপনি কি কোনো রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে এসেছেন, নাকি ব্যক্তিগত কাজে?'
মেহমান জানালেন যে তিনি ব্যক্তিগত প্রয়োজনে এসেছেন। এ কথা শোনা মাত্রই খলিফা ফুঁ দিয়ে রাষ্ট্রীয় বাতিটি নিভিয়ে দিলেন এবং নিজের পয়সায় কেনা একটি মোমবাতি জ্বালিয়ে নিলেন। মেহমান অবাক হয়ে এর কারণ জানতে চাইলেন। খলিফা বললেন, 'এতক্ষণ আমি রাষ্ট্রের কাজ করছিলাম, তাই রাষ্ট্রের তেল পুড়ছিলাম। এখন আপনার সাথে আমার ব্যক্তিগত আলাপ হবে, তাই রাষ্ট্রের আলো ব্যবহার করা আমার জন্য জায়েজ নয়।' এটাই ছিল ওমর ইবনে আব্দুল আযীযের ন্যায়বিচার ও খোদাভীতির দৃষ্টান্ত।
হযরত ওমর ইবনে আব্দুল আযীয (রহ) যখন খলিফা হলেন, তখন তিনি অত্যন্ত সাধারণ জীবন যাপন করতেন। একদিন রাতে তিনি রাজকার্য পরিচালনা করছিলেন এবং রাষ্ট্রীয় বাতি জ্বালিয়ে কাজ করছিলেন। এমন সময় এক মেহমান তাঁর সাথে দেখা করতে এলেন। খলিফা মেহমানকে জিজ্ঞেস করলেন, 'আপনি কি কোনো রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে এসেছেন, নাকি ব্যক্তিগত কাজে?'
মেহমান জানালেন যে তিনি ব্যক্তিগত প্রয়োজনে এসেছেন। এ কথা শোনা মাত্রই খলিফা ফুঁ দিয়ে রাষ্ট্রীয় বাতিটি নিভিয়ে দিলেন এবং নিজের পয়সায় কেনা একটি মোমবাতি জ্বালিয়ে নিলেন। মেহমান অবাক হয়ে এর কারণ জানতে চাইলেন। খলিফা বললেন, 'এতক্ষণ আমি রাষ্ট্রের কাজ করছিলাম, তাই রাষ্ট্রের তেল পুড়ছিলাম। এখন আপনার সাথে আমার ব্যক্তিগত আলাপ হবে, তাই রাষ্ট্রের আলো ব্যবহার করা আমার জন্য জায়েজ নয়।' এটাই ছিল ওমর ইবনে আব্দুল আযীযের ন্যায়বিচার ও খোদাভীতির দৃষ্টান্ত।
📄 বাইতুল মাকদাস বিজয়ী হযরত ইউশা ইবনে নূনের কাহিনী
হযরত মুসা (আ)-এর ওফাতের পর হযরত ইউশা ইবনে নূন (আ) বনী ইসরাঈলদের নবী মনোনীত হন। আল্লাহ তাআলা তাঁকে বাইতুল মাকদাস বিজয় করার নির্দেশ দেন। তিনি বিশাল সেনাবাহিনী নিয়ে জাব্বারিন সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে জিহাদে অবতীর্ণ হন। যুদ্ধ চলতে চলতে জুমুআর দিন আসর ওয়াক্ত হয়ে যায়। পরদিন শনিবার ছিল ইহুদিদের জন্য সাবাত বা বিশ্রামের দিন, যেদিন যুদ্ধ করা নিষিদ্ধ ছিল। কিন্তু বিজয় তখনো সুনিশ্চিত হয়নি।
সূর্য ডুবে গেলে যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে এবং শত্রুরা পুনরায় সংগঠিত হওয়ার সুযোগ পাবে। এই সংকটময় মুহূর্তে হযরত ইউশা (আ) সূর্যের দিকে তাকিয়ে বললেন, 'হে সূর্য! তুমিও আল্লাহর আজ্ঞাবহ, আমিও আল্লাহর আজ্ঞাবহ। হে আল্লাহ! তুমি এই সূর্যকে কিছুক্ষণের জন্য থামিয়ে দাও।' আল্লাহর হুকুমে সূর্য স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইল এবং অস্ত গেল না যতক্ষণ না আল্লাহ তাআলা ইউশা (আ)-কে বিজয় দান করলেন। ইতিহাসের পাতায় এটি এক অবিস্মরণীয় অলৌকিক ঘটনা।
হযরত মুসা (আ)-এর ওফাতের পর হযরত ইউশা ইবনে নূন (আ) বনী ইসরাঈলদের নবী মনোনীত হন। আল্লাহ তাআলা তাঁকে বাইতুল মাকদাস বিজয় করার নির্দেশ দেন। তিনি বিশাল সেনাবাহিনী নিয়ে জাব্বারিন সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে জিহাদে অবতীর্ণ হন। যুদ্ধ চলতে চলতে জুমুআর দিন আসর ওয়াক্ত হয়ে যায়। পরদিন শনিবার ছিল ইহুদিদের জন্য সাবাত বা বিশ্রামের দিন, যেদিন যুদ্ধ করা নিষিদ্ধ ছিল। কিন্তু বিজয় তখনো সুনিশ্চিত হয়নি।
সূর্য ডুবে গেলে যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে এবং শত্রুরা পুনরায় সংগঠিত হওয়ার সুযোগ পাবে। এই সংকটময় মুহূর্তে হযরত ইউশা (আ) সূর্যের দিকে তাকিয়ে বললেন, 'হে সূর্য! তুমিও আল্লাহর আজ্ঞাবহ, আমিও আল্লাহর আজ্ঞাবহ। হে আল্লাহ! তুমি এই সূর্যকে কিছুক্ষণের জন্য থামিয়ে দাও।' আল্লাহর হুকুমে সূর্য স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইল এবং অস্ত গেল না যতক্ষণ না আল্লাহ তাআলা ইউশা (আ)-কে বিজয় দান করলেন। ইতিহাসের পাতায় এটি এক অবিস্মরণীয় অলৌকিক ঘটনা।
📄 হযরত উরওয়া ইবনে যুবাইরের পরহেজগারী ও কৃতজ্ঞতা
বিখ্যাত তাবিঈ হযরত উরওয়া ইবনে যুবাইর (রহ) একবার খলিফা ওয়ালিদ ইবনে আব্দুল মালিকের দরবারে সিরিয়া সফরে যান। পথিমধ্যে তাঁর পায়ে 'গ্যাংগ্রিন' বা পচন রোগ দেখা দেয়। চিকিৎসকরা পরামর্শ দিলেন যে, পা কেটে ফেলা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই, নতুবা বিষ সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়বে। পা কাটার সময় তাঁকে বলা হলো কোনো চেতনানাশক ঔষধ সেবন করতে। তিনি বললেন, 'আল্লাহর জিকির ও নামাজই আমার জন্য যথেষ্ট। আমি নামাজে দাঁড়ালে তোমরা পা কেটে ফেলো।'
নামাজরত অবস্থায় তাঁর পা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করা হলো, কিন্তু তিনি যন্ত্রণায় একবার 'উহ' শব্দও করলেন না। ঠিক সেই সফরেই তাঁর এক প্রিয় পুত্র ঘোড়ার আস্তাবলে পড়ে গিয়ে মৃত্যুবরণ করে। একই সাথে পা হারানো এবং সন্তান হারানোর শোক সত্ত্বেও তিনি আল্লাহর দরবারে হাত তুলে বললেন, 'হে আল্লাহ! আমার চারটি হাত-পা ছিল, তুমি একটি নিয়েছ এবং তিনটি রেখেছ। আমার চারটি পুত্র ছিল, তুমি একটি নিয়েছ এবং তিনটি রেখেছ। তোমারই সমস্ত প্রশংসা। তুমি যা দিয়েছ তার জন্যও শোকর, যা নিয়েছ তার জন্যও শোকর।'
বিখ্যাত তাবিঈ হযরত উরওয়া ইবনে যুবাইর (রহ) একবার খলিফা ওয়ালিদ ইবনে আব্দুল মালিকের দরবারে সিরিয়া সফরে যান। পথিমধ্যে তাঁর পায়ে 'গ্যাংগ্রিন' বা পচন রোগ দেখা দেয়। চিকিৎসকরা পরামর্শ দিলেন যে, পা কেটে ফেলা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই, নতুবা বিষ সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়বে। পা কাটার সময় তাঁকে বলা হলো কোনো চেতনানাশক ঔষধ সেবন করতে। তিনি বললেন, 'আল্লাহর জিকির ও নামাজই আমার জন্য যথেষ্ট। আমি নামাজে দাঁড়ালে তোমরা পা কেটে ফেলো।'
নামাজরত অবস্থায় তাঁর পা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করা হলো, কিন্তু তিনি যন্ত্রণায় একবার 'উহ' শব্দও করলেন না। ঠিক সেই সফরেই তাঁর এক প্রিয় পুত্র ঘোড়ার আস্তাবলে পড়ে গিয়ে মৃত্যুবরণ করে। একই সাথে পা হারানো এবং সন্তান হারানোর শোক সত্ত্বেও তিনি আল্লাহর দরবারে হাত তুলে বললেন, 'হে আল্লাহ! আমার চারটি হাত-পা ছিল, তুমি একটি নিয়েছ এবং তিনটি রেখেছ। আমার চারটি পুত্র ছিল, তুমি একটি নিয়েছ এবং তিনটি রেখেছ। তোমারই সমস্ত প্রশংসা। তুমি যা দিয়েছ তার জন্যও শোকর, যা নিয়েছ তার জন্যও শোকর।'