📄 কুরআন ও হাদীসে কুদসীর পার্থক্য
কুরআন ও হাদীসে কুদসীর পার্থক্য নির্ণয় করতে যেয়ে প্রখ্যাত আলেমগণ যেসব মন্তব্য করেছেন তা নিম্নে উপস্থাপন করা হলোঃ-
আল্লামা আবুল বাকা তাঁহার 'কুল্লিয়াত' গ্রন্থে লিখেছেনঃ কুরআনের শব্দ, ভাষা, অর্থ, ভাব ও কথা সবই আল্লাহর নিকট হইতে সুস্পষ্ট ওহীর মাধ্যমে অবতীর্ণ; আর 'হাদীসে কুদসী'র শব্দ ও ভাষা রাসূলের; কিন্তু উহার অর্থ, ভাব ও কথা আল্লাহর নিকট হইতে ইলহাম কিংবা স্বপ্নযোগে প্রাপ্ত248। আল্লামা তাইয়্যেবী-ও এই কথা সমর্থন করেছেন। তিনি বলেছেনঃ কুরআনের শব্দ ও ভাষা লইয়া জিব্রাঈল (আঃ) রাসূলে করীমের নিকট নাযিল হয়েছেন। আর 'হাদীসে কুদসী'র মূল কথা ইলহাম বা স্বপ্নযোগে আল্লাহ তাহা জানিয়ে দিয়েছেন। (এজন্যই হাদীসে কুদসী আল্লাহর কথারূপে পরিচিত হয়েছে) কিন্তু এতদ্ব্যতীত অন্যান্য হাদীসকে আল্লাহর কথা বলে প্রচার করেন নাই এবং তাঁহার নামেও সে সবের বর্ণনা করেন নাই। নিম্নে কুরআন ও হাদীসে কুদসীর মধ্যে পার্থক্যসমূহ বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলোঃ-
১. কুরআনুল কারিমের শব্দ ও অর্থ জিবরীলের মাধ্যমে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের অন্তরে জাগ্রত অবস্থায় নাযিল করা হয়েছে। আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ
وَإِنَّهُ لَتَنزِيلُ رَبِّ الْعَلَمِينَ ۱۹۲ نَزَلَ بِهِ الرُّوحُ الْأَمِينُ ۱۹۳ عَلَى قَلْبِكَ لِتَكُونَ مِنَ الْمُنذِرِينَ ١٩٤ بِلِسَانٍ عَرَبِيّ مُّبِينٍ ١٩٥ [الشعراء : [۱۹۵ ،۱۹۲
"আর নিশ্চয় এ কুরআন সৃষ্টিকুলের রবেরই নাযিলকৃত। বিশ্বস্ত আত্মা এটা নিয়ে অবতরণ করেছে। তোমার হৃদয়ে, যাতে তুমি সতর্ককারীদের অন্তর্ভুক্ত হও। সুস্পষ্ট আরবী ভাষায়”। [সূরা শু'আরা: (১৯২-১৯৫)]249। তাই কুরআনুল কারিমের ভাবার্থ বর্ণনা করা বৈধ নয়, তার শব্দ মুজিযা, হ্রাস ও বৃদ্ধি থেকে সুরক্ষিত। আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ
( إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَفِظُونَ ٩ ) [الحجر: 9]
"নিশ্চয় আমি কুরআন নাযিল করেছি, আর আমিই তার হিফাজতকারী”250 অন্যত্র ইরশাদ করেনঃ
( قُل لَّئِنِ اجْتَمَعَتِ الْإِنسُ وَالْجِنُّ عَلَى أَن يَأْتُواْ بِمِثْلِ هَذَا الْقُرْءَانِ لَا يَأْتُونَ بِمِثْلِهِ وَلَوْ كَانَ بَعْضُهُمْ لِبَعْضٍ ظَهِيرًا ۸۸ ) [الاسراء: ۸۸]
“বল, ‘যদি মানুষ ও জিন এ কুরআনের অনুরূপ হাযির করার জন্য একত্রিত হয়, তবুও তারা এর অনুরূপ হাযির করতে পারবে না যদিও তারা একে অপরের সাহায্যকারী হয়’।251 হাদীসে কুদসীর এসব বৈশিষ্ট্য নেই, হাদীসে কুদসীর ভাবার্থ বর্ণনা করা বৈধ।
২. সালাতে কুরআনুল কারিম তিলাওয়াত করা ফরয, সক্ষম ব্যক্তির কুরআনুল কারিম তিলাওয়াত ব্যতীত সালাত শুদ্ধ হবে না। পক্ষান্তরে হাদীসে কুদসী সালাতে পড়া নিষেধ, কুরআনের পরিবর্তে তার দ্বারা সালাত শুদ্ধ হবে না।
৩. কুরআনুল কারিম তিলাওয়াত করা ইবাদত। প্রত্যেক শব্দের দশগুণ সাওয়াব। জমহুর আলেমের নিকট নাপাক ব্যক্তির জন্য কুরআন স্পর্শ করা বৈধ নয়, যেমন তিলাওয়াত বৈধ নয়।
পক্ষান্তরে হাদীসে কুদসী তিলাওয়াত করে ইবাদত আঞ্জাম দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়নি, তার সাওয়াব কুরআনের সমপরিমাণ নয় এবং নাপাক ব্যক্তির পক্ষে হাদীসে কুদসি স্পর্শ করা কিংবা তিলাওয়াত করা হারাম নয়।
৪. কুরআনুল কারিমের শব্দ, বাক্য ও ক্রম বিন্যাস আমাদের নিকট মুতাওয়াতির পদ্ধতিতে পৌঁছেছে। কুরআন আল্লাহর পক্ষ থেকে অকাট্যভাবে প্রমাণিত এবং সূরা ফাতেহা থেকে সূরা নাস পর্যন্ত দুই মলাটের মাঝে সংরক্ষিত। কুরআন অস্বীকারকারী কাফের, তার তিলাওয়াত ও শিক্ষার জন্য সনদ প্রয়োজন নেই। পক্ষান্তরে হাদীসে কুদসী আমাদের নিকট পৌঁছেছে কখনও একক সংবাদের ভিত্তিতে আবার কখনও মুতাওয়াতির হিসেবে। মুতাওয়াতির না হলে প্রমাণিত নয় মনে করার কারণে তার অস্বীকারকারীকে কাফের বলা যায় না। তার শুদ্ধতা ও অশুদ্ধতার জন্য সনদ দেখা প্রয়োজন। তবে হাদীসে কুদসীর বিশুদ্ধ প্রমাণিত হলে সেটা অস্বীকারকারীও কাফের হয়ে যাবে।
৫. আল্লাহ ব্যতীত কারও সাথে কুরআন সম্পৃক্ত করা বৈধ নয়। কুরআনের একটি বাক্য কিংবা বাক্যাংশকে আয়াত বলা হয়। কয়েকটি আয়াতের সমষ্টিকে সূরা বলা হয়, যা নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে নির্ধারিত।
পক্ষান্তরে হাদীসে কুদসী এরূপ নয়, বরং হাদীসে কুদসীকে: হাদীসে কুদসী, হাদীসে ইলাহী ও হাদীসে রাব্বানী বলা হয়। হাদীসে কুদসীকে কখনো নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সম্পৃক্ত করা হয়, কারণ তিনি স্বীয় রবের পক্ষ থেকে তা বলেছেন, তাই মুহাদ্দিসগণ হাদীসে কুদসীকে হাদীসে নববীর অন্তর্ভুক্ত করেছেন।
৬. হাদীসে কুদসী কুরআনের ন্যায় 'মুজিযা' নহে।
৭. হাদীসে কুদসী অমান্য করিলে লোক কাফির হয়ে যায় না - যেমন কাফির হয়ে যায় কুরআন অমান্য করিলে।
হাদীসে কুদসী যদিও রাসূল (সাঃ) ওহীর মাধ্যমে লাভ করেছেন যদিও রাসূল (সাঃ) তা আল্লাহর পক্ষ থেকে বর্ননা করেছেন, তবু হাদীসে কুদসী কুরআন বা কুরআনের সমতুল্য নয়। এ ব্যাপারে চূড়ান্ত কথা হলো, হাদীসে কুদসীও এক প্রকার হাদীসই মাত্র। যেহেতু হাদীসে কুদসীতে আল্লাহর বক্তব্য উদ্ধৃত হয়েছে, সে কারনে কেউ যদি এরূপ হাদীসকে কুরআনের সমতুল্য মনে করেন তবে তিনি মারাত্মক ভুল করবেন। কুরআন এবং হাদীসে উপরোক্ত যে সকল পার্থক্যগুলো আলোচনা করা হয়েছে তাতে তা স্পষ্ট প্রমানিত হয়েছে। অতএব, বলা যায় যে, কুরআন ও হাদীসে কুদসীতে যথেষ্ট পার্থক্য বিদ্যমান রয়েছে 252।
সুতরাং, উপরোক্ত আলোচনায় আমরা বুঝতে পারলাম যে হাদীস প্রধানতঃ দু'ভাগে বিভক্ত-
১. হাদীসে নব্বী - রাসূলে করীম (সাঃ) এর হাদীস।
২. হাদীসে ইলাহী - আল্লাহ-হাদীস, আর এই হাদীসকেই হাদীসে কুদসী বলে।
টিকাঃ
248 হাদীস সংকলনের ইতিহাস, মাওলানা আব্দুর রহীম, পৃষ্ঠা নং- ৩৯
249 সূরা শু'আরা: (১৯২-১৯৫)
250 সূরা হিজরঃ (৯)
251 সূরা আল-ইসরাঃ (৮৮)
252 সিহাহ সিত্তার হাদীসে কুদসী - আব্দুস শহীদ নাসিম, পৃষ্ঠা নং- ১৯
📄 হাদীসে কুদসী ও হাদীসে নববীর পার্থক্য
শায়খ মুহাম্মদ আল-ফারুকী হাদীসকে দু'ভাগে ভাগ করেছেন। তিনি লিখেছেন - "হাদীসে কুদসী তাই, যা নবী করীম (সাঃ) তার আল্লাহ তা'আলার তরফ হতে বর্ণনা করেন। আর যা সেরূপ করেন না, তা হাদীসে নব্বী।" 253
নিম্নে হাদীসে কুদসী ও হাদীসে নব্বীর পার্থক্যগুলো আলোচনা করা হলোঃ-
১. হাদীসে কুদসী আল্লাহর পক্ষ থেকে স্পষ্ট বা অস্পষ্ট ওহীঃ স্পষ্ট ওহী, যেমন জিবরীলের মাধ্যমে প্রাপ্ত হাদীস; অস্পষ্ট ওহী, যেমন ঘুম বা প্রত্যাদেশ যোগে প্রাপ্ত হাদীস।
পক্ষান্তরে হাদীসে নববী কতক ওহী ও কতক নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইজতিহাদ, তার ইজতিহাদ ওহী। কারণ, তার ইজতিহাদ ভুল হলে আল্লাহ সংশোধন করে দেন, ভুলের উপর তাকে স্থির রাখেন না।
২. হাদীসে কুদসী নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর সাথে সম্পৃক্ত করে বলেন, কিন্তু হাদীসে নববী তিনি নিজের পক্ষ থেকে সরাসরি বলেন।
৩. হাদীসে কুদসীতে সাধারণত আল্লাহ তা'আলার পবিত্রতা, গুণগান, কুদরত, রহমত, মাগফেরাত, জান্নাত, জাহান্নাম, ইবাদতের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি ও পাপ থেকে সতর্ককারী বিষয়ের আধিক্য থাকে।
পক্ষান্তরে হাদীসে নববীতে অধিকহারে মুসলিমের দীনি ও দুনিয়াবি বিষয়ের বর্ণনা থাকে। (হাদীস শাস্ত্রের পরিভাষা পরিচিতি, সানাউল্লাহ নজির আহমেদ, পৃষ্ঠা – ১৩২) ২৫৪।
টিকাঃ
253 হাদীস সংকলনের ইতিহাস, মওলানা মুহাম্মাদ আব্দুর রহীম, পৃঃ ৩৬
২৫৪ হাদীস শাস্ত্রের পরিভাষা পরিচিতি, সানাউল্লাহ নজির আহমেদ, পৃষ্ঠা - ১৩২
📄 হাদীসে কুদসীর উপর লিখিত গ্রন্থসমূহ
হাদীসে কুদসীর উপর কতক লিখিত গ্রন্থসমূহের উদাহরন নিম্নে দেওয়া হলোঃ-
১. আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইব্ন আলি ইব্ন আল-আরাবী আত-ত্বায়ি (মৃ.৬৩৮হি.), তাঁর রচিত গ্রন্থের নামঃ
مشكاة الأنوار فيما روي عن الله سبحانه من الأخبار
২. আল্লামা নুরুদ্দীন আলী ইব্ন মুহাম্মদ ইব্ন সুলতান (মৃঃ ১০১৪ হিঃ), যিনি 'মোল্লা আলী আল-কারী' নামে প্রসিদ্ধ, তিনি হাদীসের ছয় কিতাব থেকে চল্লিশটি হাদীসে কুদসী একসাথে জমা করেছেন এবং প্রত্যেক হাদীসের সূত্র উল্লেখ করেছেন। তাঁর রচিত কিতাবের নামঃ
الأحاديث القدسية الأربعينية
৩. শায়খ মুহাম্মদ ইবন সালেহ আল-মাদানী (মৃতঃ ১২০০হিঃ) হাদীসে কুদসীর উপর সর্ববৃহৎ কিতাব লিখেন, তার কিতাবের নামঃ
الإتحافات السنية في الأحاديث القدسية
এতে তিনি (৮৬৪) টি হাদীসে কুদসী জমা করেন, যার অধিকাংশ তিনি ইমাম সূয়ূতি রচিত جمع الجوامع গ্রন্থ থেকে সংগ্রহ করেছেন।
لجنة القرآن الكريم والحديث بالمجلس الأعلى للشؤون الإسلامية بمصر কর্তৃক নির্দেশ প্রাপ্ত হয়ে একদল লেখক হাদীসের ছয় কিতাব ও মুয়াত্তা ইমাম মালিক থেকে (৪০০) টি হাদীসে কুদসী বাছাই করেন, তাতে টিকা সংযোজন করেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা যুক্ত করেন, তাদের রচিত কিতাবের নাম: الأحاديث القدسية
৫. শায়খ মুস্তফা আদাবী (১৮৫)টি সহি ও হাসান হাদীসে কুদসী জমা করেন, তার কিতাবের নাম: الصحيح المسند من الأحاديث القدسية (তথ্যসূত্রঃ হাদীস শাস্ত্রের পরিভাষা পরিচিতি, সানাউল্লাহ নজির আহমেদ, পৃষ্ঠা নং – ১৩৯) 255।
হাদীসে কুদসীর হুকুমঃ হাদীসে কুদসী হাদীসে নববীর ন্যায় সহী, হাসান ও দুর্বল বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত হয়। অতএব হাদীসে কুদসী বলা কিংবা তার উপর আমল করার পূর্বে শুদ্ধাশুদ্ধ যাচাই করা জরুরি। (তথ্যসূত্রঃ ঐ)।
টিকাঃ
255 হাদীস শাস্ত্রের পরিভাষা পরিচিতি, সানাউল্লাহ নজির আহমেদ, পৃষ্ঠা নং- ১৩৯
📄 হাদীস বর্ণনায় সতর্কতা অবলম্বন
হাদীস বর্ণনার ক্ষেত্রে অবশ্যই সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। নির্দোষ রাবীর হাদীস গ্রহণ করতে হবে। পক্ষান্তরে যে রাবী দোষী সাব্যস্ত হবে, তার বর্ণিত হাদীস প্রত্যাখ্যান করতে হবে।
আল্লাহ বলেনঃ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنْ جَاءَكُمْ فَاسِقٌ بِنَبَإٍ فَتَبَيَّنُوْا “হে ঈমানদারগণ! তোমাদেরকে কোন ফাসেক ব্যক্তি কোন খবর দিলে তা যাচাই কর।” (সূরা হুজুরাত-৬)। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ
) مَنْ حَدَّثَ عَنِّي بِحَدِيْثٍ يَرَى أَنَّهُ كَذِبٌ فَهُوَ أَحَدُ الْكَاذِبِينَ ) “যে ব্যক্তি আমার থেকে এমন হাদীস বর্ণনা করে যে, তার ধারণা হয় ওটা মিথ্যাও হতে পারে, তবে সে অন্যতম সেরা মিথ্যুক। (মুসলিম)। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরও বলেনঃ
) كَفَى بِالْمَرْءِ كَذِباً أَنْ يُحَدِّثَ بِكُلِّ مَا سَمِعَ ) “একজন ব্যক্তির মিথ্যুক হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, সে যা শুনবে তাই (পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করে) বলে বেড়াবে।” (মুক্বাদ্দামা মুসলিম)। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরও বলেনঃ
( مَنْ كَذَبَ عَلَيَّ مُتَعَمِّداً فَالْيَتَبَوَّعْ مَقْعَدَهُ مِنْ النَّارِ )
"যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃত ভাবে আমার উপরে মিথ্যা রোপ করে, সে যেন তার ঠিকানা জাহান্নামে নির্ধারণ করে নেয়।” (বুখারী ও মুসলিম)।
উল্লেখিত আয়াত ও হাদীসগুলি দ্বারা এটাই প্রতিভাত হয় যে, হাদীস বর্ণনার ক্ষেত্রে চরম সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে এবং ঢালাওভাবে হাদীস বর্ণনা করা যাবে না। বরং পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখতে হবে হাদীসটি সত্যিকার অর্থে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর হাদীস কি-না। যে ব্যক্তি শোনামাত্রই বর্ণনা করে সে অন্যতম সেরা মিথ্যুক এবং জেনে বুঝে মিথ্যা রোপ করলে তার ঠিকানা হবে জাহান্নাম, এ বাক্যগুলো থেকে হাদীসের সহীহ-যঈফ যাচাই কতটুক আবশ্যক তা সহজেই অনুমেয় 256।
হাদীস বর্ণনায় সাহাবীদের সাবধানতার কয়েকটি নমুনা: রাসূল (সাঃ) এর কাছ থেকে এমন দিক-নির্দেশনা পেয়ে হাদীস বর্ণনায় সাহাবায়ে কেরাম অত্যন্ত সাবধানতা অবলম্বন করতেন। এ রকম সাবধানতা বিশ্ববাসী অন্য কোন জ্ঞানের ক্ষেত্রে আদৌ দেখেনি। একটা হাদীস মুখ দিয়ে বের করাকে তারা অত্যন্ত কঠিন মনে করতেন। হাদীস বর্ণনার সময় তারা ভয়ে থর থর করে কাঁপতেন; না জানি কোন ভুল করে ফেলেন, কোন কথা বৃদ্ধি করে ফেলেন; শেষে তার পরিণতি হবে জাহান্নাম। সেজন্য সাহাবাদের অনেকে রাসূলের (সাঃ) দীর্ঘ সময়ের সঙ্গী হওয়ার পরও খুব কম সংখ্যক হাদীস বর্ণনা করেছেন।
যেমন- আবু বকর (রাঃ); অথচ সাহাবীদের মধ্যে তিনি রাসূল (সাঃ) কে সবচেয়ে বেশী সঙ্গ দিয়েছেন। আর যেসব সাহাবী হাদীস বর্ণনা করতেন তারা ঠিক যতটুকু শুনেছেন এবং তার যতটুকু মনে রাখতে পেরেছেন হুবহু ততটুকু বর্ণনা করতেন।
তারা নির্ভুলভাবে মনে রাখতে পেরেছেন এবং হুবহু বর্ণনা করেছেন এ ব্যাপারে নিশ্চিত থাকার পরও বর্ণনা শেষে বলতেন- 'অথবা আল্লাহর রাসূল (সাঃ) যেভাবে বলেছেন ঠিক ঐভাবে।' অথবা এই জাতীয় কোন বাক্য। নিম্নে সাহাবীদের হাদীসের ক্ষেত্রে তাদের সাবধানতা সংক্রান্ত কিছু বাণী তুলে ধরলাম।
১. ইবনে সিরীন বলেন, "আনাস (রাঃ) খুব কম হাদীস বর্ণনা করতেন। আর যখনি হাদীস বর্ণনা করতেন বর্ণনা শেষে বলতেন, "অথবা আল্লাহর রাসূল (সাঃ) যেভাবে বলেছেন ঠিক ঐভাবে।" [ইবনে মাজাহর ভূমিকা ১/১১, নং ২৪] প্রচণ্ড ভয় ও সাবধানতা রক্ষার্থে তিনি এ কথা বলতেন।
২. আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, "যদি ভুল হওয়ার আশংকা না করতাম তবে তোমাদেরকে এমন কিছু বিষয় জানাতাম যা আমি রাসূলের (সাঃ) কাছ থেকে শুনেছি অথবা তিনি বলেছেন। কিন্তু কিভাবে বলি আমি তো তাঁর মুখে শুনেছি, "যে ইচ্ছা করে আমার নামে মিথ্যা বলে সে যেন তার স্থান জাহান্নামে ঠিক করে নেয়।" [সুনানু দারেমী, ১/৬৭]
৩. শা'বী ও ইবনে সিরীন থেকে বর্ণিত: ইবনে মাসউদ (রাঃ) যখন হাদীস বর্ণনা করতেন তখন তাঁর চেহারা বিবর্ণ হয়ে যেত। তিনি বলতেন, "ঠিক এভাবে অথবা অনুরূপ", ঠিক এভাবে অথবা অনুরূপ"। (অর্থ্যাৎ তিনি ভয়ে একথা বলতেন।) [সুনানু দারেমী, ১/৭২]
৪. শা'বী থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: "আমি ইবনে উমারের সাথে এক বছর উঠা-বসা করেছি। এ সময়ে আমি তার কাছ থেকে একটি হাদীসে রাসূল (সাঃ) ও শুনিনি।"[ ইবনে মাজাহর ভূমিকা, ১/১১, নং২৬]
৫. আব্দুর রহমান বিন আবী লাইলা বলেন: " আমি রাসূলের (সাঃ) আনসারী সাহাবীদের মধ্যে ১২০ জনের সাক্ষাত পেয়েছি। তাদের যে কেউ যখনি কোন হাদীস বলতেন তখন কামনা করতেন যদি তার বদলে তার অন্য কোন সাথী হাদীসটা বলে দিতেন। তাদের কাউকে যখন কোন ফতুয়া জিজ্ঞেস করা হত তখন তিনি কামনা করতেন যদি তার বদলে তার অন্য কোন সাথী ফতুয়াটা দিতেন।" অন্য এক বর্ণনায় এসেছে- "তাদের কাউকে যখন কোন মাসয়ালা জিজ্ঞেস করা হতো তখন তিনি অন্য কারো কাছে পাঠাতেন। দ্বিতীয় ব্যক্তি আবার অন্যজনের কাছে পাঠাতেন। এভাবে প্রশ্নকারী আবার প্রথম ব্যক্তির কাছে ফিরে আসতেন।"[ ইবনে আব্দুল বারের "জামে বায়ানুল ইলম ওয়া ফাদলিহি" ২/১৬৩] সাহাবারা প্রশ্নকারীকে কষ্ট দেয়ার জন্য তা করতেন না। বরং ভুল ফতুয়া দিয়ে জাহান্নামবাসী হন কিনা এই ভয়ে তারা তা করতেন।
৬. আব্দুর রহমান বিন আবি লাইলা থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ "আমরা যায়েদ বিন আরকামকে বললাম, আমাদেরকে হাদীসে রাসূল (সাঃ) শুনান। তিনি বললেন, আমাদের বয়স ভারী হয়েছে। আমরা ভুলে গেছি। আর রাসূল (সাঃ) এর হাদীস বর্ণনা করা বড় কঠিন কাজ।" [ইবনে মাজাহর ভূমিকা, হাদীসে রাসূল (সাঃ) বর্ণনা থেকে বিরত থাকা শীর্ষক অধ্যায়]।
এই সমুদয় বাণী পড়ে আমরা উপলব্ধি করতে পারলাম- সাহাবীরা রাসূলের (সাঃ) হাদীস বর্ণনার ক্ষেত্রে কি পরিমান সতর্কতা অবলম্বন করতেন। সাহাবীরা রাসূলের (সাঃ) নামে কথা বলতেই ভয় করতেন থাকতো তাঁর নামে মিথ্যা বলবেন বা রাসূলের বাণীকে ওলট-পালট করবেন। কিভাবেই বা এহেন কাজ করবেন অথচ তারা ছিলেন সোনার মানুষ যাদের উপর স্বয়ং আল্লাহ পাক সন্তুষ্ট হয়ে গেছেন এবং তারাও আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে গেছেন। "মুমিনরা যখন বৃক্ষতলে তোমার নিকট বায়আত গ্রহন করলো তখন আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হলেন..." [সূরা ফাতহ ৪৮:১৮] "আর যেসব মুহাজির ও আনসার (ঈমান আনয়নে) অগ্রবর্তী এবং প্রথম, আর যেসব লোক সরল অন্তরে তাদের অনুগামী, আল্লাহ তাদের প্রতি রাজি হয়েছেন এবং তারাও তাঁর প্রতি রাজি হয়েছেন। আর আল্লাহ তাদের জন্য এমন উদ্যানসমূহ প্রস্তুত করে রেখেছেন যার তলদেশে নহরসমূহ বইতে থাকবে, যার মধ্যে তারা চিরস্থায়ীভাবে অবস্থান করবে, তা হচ্ছে বিরাট কৃতকার্যতা।" [সূরা তওবা ৯:১০০]
প্রত্যেক সাহাবী নিজস্ব অনুভূতিতে এত সাবধানী হওয়ার পরও কোন সাহাবী যখন কোন হাদীস বর্ণনা করতেন তখন প্রয়োজন অনুভব করলে শ্রোতা সাহাবীরা তার কাছ থেকে অন্য কোন সাহাবীর সমর্থন তলব করতেন। যেন অজান্তে, অনিচ্ছাকৃতভাবে হলেও কোন ভুল কথা প্রচার লাভ না করে এবং বর্ণনাকারীরা যেন আরো বেশী সাবধানী হন। যেমনটি ঘটেছে মুগীরা বিন শু'বার সাথে আবু বকরের (রাঃ)। হযরত ক্বাবিসা বিন যুওয়াইব বলেন, জনৈক (মৃতের) দাদী এসে আবু বকর (রাঃ) এর কাছে দাবী জানালেন তার নাতির উত্তরাধিকার সম্পত্তি থেকে তার প্রাপ্য হক আদায় করে দেওয়ার জন্য। তখন আবু বকর (রাঃ) বললেন: আমি তো আল্লাহর কিতাবে ও রাসূলের সুন্নাহ তে দাদীর জন্য কোন অংশ দেখি না। আচ্ছা এখন যাও, আমি লোকদেরকে জিজ্ঞেস করব। তিনি সাহাবীদেরকে জিজ্ঞেস করলেন। তখন মুগীরা বিন শু'বা বললেন, আমার উপস্থিতিতে রাসূল (সাঃ) জনৈক দাদীকে এক ষষ্ঠাংশ দিয়েছিলেন। তখন আবু বকর (রাঃ) বললেন, তোমার পক্ষে কি আর কারো সমর্থন আছে? তখন মুহাম্মদ বিন মাসলামা দাঁড়িয়ে মুগীর বিন শু'বার অনুরূপ কথা ব্যক্ত করলেন। তখন আবু বকর (রাঃ) দাদীকে তার হক বন্টন করে দিলেন। [সুনানু তিরমিজী, দাদীর উত্তরাধিকারের ব্যাপারে যা এসেছে শীর্ষক অধ্যায়, নং২২৪৭; আবু দাউদ, দাদীর উত্তরাধিকার শীর্ষক অধ্যায়, ২৮৯৪।] এখানে বলে রাখা ভাল আবু বকর (রাঃ) শু'বা (রাঃ) মিথ্যা বলেছেন এ রকম কোন আশংকার কারণে সাক্ষ্য তলব করেননি, বরং সাক্ষ্য তলব করেছেন অধিক সাবধানতা অবলম্বনে। কারণ অন্য বর্ণনায় এসেছে সাহাবীরা একে অপরকে মিথ্যাপ্রতিপন্ন করতেন না। যেহেতু তারা মিথ্যা বলতেন না। এ ধরনের সাক্ষ্য তলবের ঘটনা উমর (রাঃ) এর সাথেও ঘটেছে। হযরত আবু মুসা আশআরী থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: একবার উমরের (রাঃ) বাড়িতে গিয়ে আমি তিনবার অনুমতি চাইলাম। কোন উত্তর না পেয়ে আমি ফিরে আসলাম। এরপর উমর (রাঃ) আমার জন্য লোক পাঠালেন। (আমি তার সাথে দেখা করার পর) তিনি বললেন, হে আব্দুল্লাহ, আমার দরজাতে খানিক ক্ষণ দাঁড়ানোটাকে যদি তুমি কষ্ট মনে কর, তবে জেনে রাখো তোমার দরজাতে গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকাটাকেও মানুষ কষ্টকর মনে করবে।
আমি বললাম: কেন আমি তো তিনবার অনুমতি চাইলাম। অনুমতি না পেয়ে চলে আসলাম। (আল্লাহর রাসূলের (সাঃ) পক্ষ থেকে তো) আমাদেরকে এই আদেশ দেয়া হত। তিনি বললেন (উমর রাঃ) তুমি এ কথা কার কাছে শুনেছ? আমি বললাম, নবী করিম (সাঃ) এর কাছে। তিনি বললেন, আমরা যে কথা শুনি নাই সে কথা তুমি শুনলে কোথা থেকে। তোমাকে অবশ্যই সাক্ষী আনতে হবে, না হয় আমি তোমাকে শান্তি দিব। আমি সেখান থেকে বের হয়ে মসজিদে সমবেত আনসারদের একটা দলের কাছে আসলাম। এবং তাদেরকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলাম। তারা বলল: কেন, কেউ কি এ ব্যাপারে সন্দেহ করে। তখন উমর (রাঃ) যা বললেন আমি তাদেরকে তা জানালাম। তারা বললেন আমাদের একবারে ছোট্ট মানুষটি তোমার পক্ষে সাক্ষ্য দিবে। তখন আবু সাঈদ খুদরী অথবা আবু মাসউদ আমার সাথে উমরের (রাঃ) কাছে গিয়ে বললেন: একবার রাসূল (সাঃ) সাদ বিন উবাদার উদ্দেশ্যে বের হলেন। তখন আমি তার সাথে ছিলাম। নবীজি তার বাড়ীতে পৌঁছে সালাম দিলেন, কোন জবাব আসল না। দ্বিতীয়বার আবার সালাম দিলেন কোন জবাব এল না। তৃতীয়বার আবার সালাম দিলেন। কোন জবাব আসল না। এরপর তিনি বললেন আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করেছি। এই বলে তিনি ফিরে যাচ্ছিলেন। এর মধ্যে সাদ এসে হাজির। সে বলল, হে আল্লাহর রাসূল (সাঃ) আমি আপনার প্রতিটি সালাম শুনেছি এবং জবাব দিয়েছি। আমার কাছে ভাল লাগছিল আপনি আমাকে ও আমার পরিবারকে আরো সালাম দিতে থাকুন। তখন আবু মুসা (রাঃ) বললেন, আল্লাহর শপথ! রাসূলের হাদীসের ব্যাপারে আমি সত্যবাদী ছিলাম। তখন উমর (রাঃ) বললেন, অবশ্যই। কিন্তু আমি চূড়ান্ত নিশ্চিয়তা পেতে চেয়েছি।"
আবার কখনো কখনো বর্ণনাকারী সাহাবীর মুখস্ত শক্তি ঠিক আছে কিনা তা পরখ করে দেখার জন্য সাহাবীরা দুটি ভিন্ন সময়ে একই হাদীস তার কাছ থেকে জানতে চাইতেন। তিনি যদি উভয় সময়ে ঠিক একইভাবে হাদীসটা বর্ণনা করেন তখন প্রমাণিত হত যে হাদীসটা তার মুখস্ত আছে। যেমন আয়েশা (রাঃ) আব্দুল্লাহ বিন আমরের সাথে করেছিলেন। হযরত উরউয়া বিন যুবাইর থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: আয়েশা (রাঃ) বললেন; ভাগিনা, শুনেছি আব্দুল্লাহ বিন আমর আমাদের পথ দিয়ে হজ্জে যাচ্ছে। তার সাথে সাক্ষাত কর এবং তাকে হাদীস জিজ্ঞেস কর। কারণ তার কাছে নবুয়তী জ্ঞানের বিশাল ভাণ্ডার আছে। উরউয়া বলেন, আমি তার সাথে সাক্ষাত করে তাকে অনেক কিছু জিজ্ঞেস করলাম। তিনি রাসূল (সাঃ) থেকে অনেক কিছু বর্ণনা করলেন। এর মধ্যে একটা হাদীস এরকম বর্ণনা করেন যে, "আল্লাহ পাক সরাসরি ইলম উঠিয়ে নিবেন না। কিন্তু আলেমদের উঠিয়ে নিবেন। আলেমের মৃত্যুর সাথে ইলমেরও মৃত্যু হবে। এরপর কতগুলো মুর্খ সর্দার বেঁচে থাকবে, তারা ইলম ছাড়া ফতোয়া দিবে। এভাবে নিজেও পথভ্রষ্ট হবে এবং অন্যদেরকেও পথভ্রষ্ট করবে।" উরউয়া বলেন আমি যখন হাদীসটি আয়েশা (রাঃ) কে শুনালাম তিনি হাদীসটিকে বড় কঠিন মনে করলেন এবং মেনে নিতে পারছিলেন না। এমনকি (আমাকে) বললেন, তিনি (আব্দুল্লাহ বিন আমর) কি তোমাকে একথা বলেছেন যে, তিনি এ কথা রাসূল (সাঃ) থেকে শুনেছেন। পরের বছর যখন হজ্জের মওসুম এল তখন আয়েশা (রাঃ) উরউয়াকে বললেন: আব্দুল্লাহ বিন আমর তাশরীফ এনেছেন। তুমি তার সাথে সাক্ষাত করে আলাপ-সালাপ কর। আর এক ফাঁকে তাকে ইলম সংক্রান্ত ঐ হাদীসটির কথা জিজ্ঞেস করে নিও। (উরউয়া বলেন) আমি তার সাথে সাক্ষাত করলাম এবং হাদীসটি জিজ্ঞেস করলাম। তিনি প্রথমবার যেভাবে বর্ণনা করেছিলেন ঠিক সেভাবে বর্ণনা করলেন। উরউয়া বলেন, যখন আমি আয়েশা (রাঃ) কে তা জানালাম তখন তিনি বললেন: 'আমি মনে করি তিনি সত্য বলেছেন। দেখা যাচ্ছে তিনি (ইবনে আমর) একটুও কম-বেশী করেননি 257।
এভাবে যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে সাহাবায়ে কেরাম হাদীস গ্রহন করতেন। যদিও সাহাবীদের মধ্যে এমন একজনও ছিলেন না যিনি হাদীসকে বিকৃত করার দুঃসাহস দেখাবেন। তারপরেও অধিক সতর্কতা অবলম্বনে তারা তা করতেন।
এছাড়াও সাহাবীদের মধ্যে যারা হাদীস যাচাই-বাছাইয়ে খ্যাতি লাভ করেছেন তারা হলেন- হযরত আবু বকর (রাঃ), হযরত উমর (রাঃ), আলী বিন আবী তালেব (রাঃ), আনাস বিন মালেক (রাঃ), যায়েদ বিন ছাবেত (রাঃ) ও আয়েশা (রাঃ) প্রমুখ।
টিকাঃ
256 যঈফ ও জাল হাদীস এবং মুসলিম সমাজে তার কুপ্রভাব, সংকলন: আখতারুল আমান, জুবাইল দাওয়া এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, পো: ১৫৮০ সউদী আরব।
257 সহীহুল বুখারী, হাদীস নং ৬৮৭৭ ও সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৫৯৭৪