📄 মুসনাদ ও সুনানের সংজ্ঞা
হাদীস সংকলনের যুগে সংকলনের আরো কিছু নিয়ম পদ্ধতি প্রচলিত ছিলো। নিম্নোক্ত নিয়মগুলো প্রসিদ্ধ ছিলো।
(ক) এক একজন সাহাবীর রেওয়ায়েতকৃত হাদীসগুলো একস্থানে (আলাদাভাবে) লিপিবদ্ধ করা হতো, তা যে কোন বিষয় সংক্রান্তই হোক না কেন এর নাম হলো মুসনাদ।
(খ) ফিকাহর মাসআলা-মাসায়েল-এর ধারাবাহিকতা অনুসারে সংশ্লিষ্ট আহকাম বা বিধি-বিধানের হাদীসগুলো একত্রে সংকলন করা হতো। একে বলা হয় সুনান বা মুসান্নাফ।
খুলাফায়ে রাশিদীনের পর নবী করীম (সা)-এর হাদীসগুলো লিপিবদ্ধ ও সংকলিত করা ছাড়াও সাহাবায়ে কিরামের বাণী ও বিচার-পদ্ধতিসমূহ সংকলন করার নিয়ম প্রচলিত হয়। নবীর বিচার-পদ্ধতিগুলোও সংকলকগণ লিপিবদ্ধ করেছেন। কপিকারকদের কপির ওপর আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা)-এর সমালোচনাও লিপিবদ্ধ রয়েছে।-সহীহ মুসলিম
সংকলনের যুগে এই নিয়ম-পদ্ধতি যথেষ্ট উন্নতি লাভ করেছিলো। নবী করীম (সা)-এর হাদীসগুলোর সাথে সাথে সাহাবায়ে কিরামের বাণী এবং তাবেঈগণের রায়সমূহও মিশ্রিতাবস্থায় পরিলক্ষিত হতো। তখন সংকলন করাই একমাত্র লক্ষ্য ছিলো বিধায় সেগুলোর যাচাই বাছাইয়ের দিকে সাধারণত নযর দেয়া হতো না বললেই চলে।
এই যুগের শেষের দিকে সর্বপ্রথম ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল (র)-এর মনে ধারণা জন্মালো যে মুখ্যত নবী করীম (সা)-এর হাদীসসমূহ সংকলিত করা হোক এবং সাহাবায়ে কিরামের আছার ও তাবেঈগণের বাণীসমূহ গৌণ হিসেবে লিপিবদ্ধ করা হোক। তদুপরি সনদ-এর প্রতি গভীর দৃষ্টি দেয়া হোক যাতে নির্ভরযোগ্য হাদীসগুলো সামনে এসে যায়। ইমাম আহমাদ এই বিষয়গুলোর দিকে সজাগ নজর রেখে তাঁর মুসনাদ প্রণয়ন করেন।
(এরপর তৃতীয় যুগে এসে এই ধারাটি ব্যাপকতা লাভ করে।)
হাদীস সংকলনের এই যুগটি হিজরী দ্বিতীয় শতকের শুরু থেকে তৃতীয় শতকের প্রথমার্ধ পর্যন্ত বিস্তৃত। এই যুগে হাদীসের হাফিযের সংখ্যাও ছিলো বড়। তাযকিরাতুল হুফ্ফায গ্রন্থে এই যুগের হাদীসের হাফিযগণের সংখ্যা ৩২৩ জন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
দ্বিতীয় যুগের হাদীসের কতিপয় হাফিযের সংক্ষিপ্ত বিবরণ এখানে পরিবেশিত হলো।
১. উমর ইবনে আবদুল আযীয ইবনে মারওয়ান। হিজরী ৬১ সনে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। ৯৯ সনে তিনি খলীফা হন। তিনি ফকীহ, মুজতাহিদ ও হাফিযে হাদীস ছিলেন। হিজরী ১০১ সনে তিনি ইন্তিকাল করেন। তাঁর সাথে সম্বন্ধযুক্ত একটি মুসনাদ মুদ্রিত হয়েছে।
২. উমরাহ বিনতে আবদুর রহমান আনসারিয়াহ। হিজরী ১০১ সনে তাঁর মৃত্যু হয়। হযরত আয়েশা (রা)-এর বর্ণিত হাদীসসমূহ তাঁর বেশি জানা ছিলো।
৩. মুজাহিদ ইবনে যুবায়র। তিনি হিজরী ২১ সনে জন্মগ্রহণ এবং ১০৩ সনে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা)-এর ছাত্র ছিলেন। তিনি লেখক ও কুরআনে করীমের ভাষ্যকার ছিলেন।
৪. শা'বী আবূ উমার আমির ইবনে শারাহীল। তিনি আল্লামাতুত্ তাবেঈন ছিলেন। তিনি হিজরী ১৭ সনে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১০৬ হিজরী সনে ইন্তিকাল করেন। তিনি পাঁচশত সাহাবার সাক্ষাত লাভ করেন। সুসজ্জিত অধ্যায় সহকারে তিনি হাদীস সংকলন করেন।
৫. খালিদ ইবনে মি'দান। তিনি হিজরী ১০৩ সনে ইন্তিকাল করেন। সত্তরজন সাহাবা থেকে হাদীস শুনেছেন।
৬. জাবির ইবনে যায়িদ আবুস্ শা'শা। তিনি হিজরী ১০৩ সনে ইন্তিকাল করেন। তিনি ফকীহ মুহাদ্দিস ছিলেন।
৭. আবূ কালাবাহ জরমী আবদুল মালিক ইবনে মুহাম্মাদ রাক্কাশী আলবাসরী। তিনি হিজরী ১০৪ সনে ইন্তিকাল করেন। তিনি হাদীসবিদ ছিলেন।
৮. হাকাম ইবনে উতবাহ। তিনি হিজরী ১০৫ সনে ইন্তিকাল করেন। তিনি বিখ্যাত হাদীসবিদ ও কুফার শায়খ ছিলেন।
৯. তাউস ইবনে কাইসান। তিনি হিজরী ১০৬ সনে ইন্তিকাল করেন। পঞ্চাশজন সাহাবা থেকে তিনি হাদীস রেওয়ায়েত করেছেন। তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা)-এর ছাত্র ছিলেন।
১০. আবূ বুরদাহ আমির ইবনে আবী মূসা আশয়ারী (রা)। তিনি হিজরী ১০৪ সনে মারা যান। তিনি কুফার কাযী ছিলেন। তিনি আবূ মূসা আশয়ারী কর্তৃক বর্ণিত হাদীস লিপিবদ্ধ করেন।
১১. কাসিম ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আবী বকর সিদ্দিক (রা)। তিনি হিজরী ১০৬ সনে ইন্তিকাল করেন। তিনি মদীনার ফকীহ ছিলেন।
১২. সালেম ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রা)। তিনি হিজরী ১০৬ সনে মারা যান। তিনি ফকীহ ও মুহাদ্দিস ছিলেন।
১৩. সুলাইমান ইবনে ইয়াসার। তিনি হিজরী ১০৭ সনে ইন্তিকাল করেন। তিনি মদীনার ফকীহ ও মুহাদ্দিস ছিলেন।
১৪. ইকরামা মাওলা ইবনে আব্বাস (রা)। তিনি হিজরী ১০৭ সনে মৃত্যুবরণ করেন। প্রখ্যাত মুফাসসির ও মুহাদ্দিস ছিলেন।
১৫. হাসান বাসারী। তিনি হিজরী ২১ সনে জন্মগ্রহণ এবং ১১০ সনে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি বহু হাদীস লিপিবদ্ধ করে গেছেন।
১৬. বাশার ইবনে নাহীক। তিনি আবূ হুরায়রা (রা)-এর ছাত্র ছিলেন। তিনি উস্তাদের বর্ণিত হাদীসগুলো লিপিবদ্ধ করেন। তিনি হিজরী ১১০ সনে ইন্তিকাল করেন।
১৭. ইবনে সিরীন মুহাম্মাদ মাওলা আনাস ইবনে মালিক। তিনিও হিজরী ১১০ সনে ইন্তিকাল করেন। তিনি আল মাগরিবাইনের সরদার ছিলেন।
১৮. ওহাব ইবনে মুনাববাহ। তিনি হিজরী ১১০ সনে ইন্তিকাল করেন। তিনি জাবির (রা) কর্তৃক বর্ণিত হাদীসসমূহ সংকলিত করেন। তিনি আল আখবার ও আল কাসাসের সংগ্রহকারী।
১৯. ইমাম বাকের মুহাম্মাদ আবূ জাফর ইবনে যয়নুল আবেদীন ইবনে হুসাইন (রা)। তিনি হিজরী ৫৭ সনে জন্মগ্রহণ এবং ১১২ সনে মৃত্যুবরণ করেন।
২০. রাজা ইবনে হাওয়া। তিনি হিজরী ১১২ সনে ইন্তিকাল করেন। তিনি উমর ইবনে আবদুল আযীযের বন্ধু ও হাদীস লেখক ছিলেন।
২১. আতা ইবনে আবী রাবাহ। তিনি মক্কার শাইখুল হাদীস ও হাদীস সংগ্রহকারী ছিলেন। তিনি হিজরী ১১৪ সনে মারা যান।
২২. আবান ইবনে সালিহ। তিনি হাদীস সংগ্রহকারী ছিলেন। হিজরী ১১৫ সনে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
২৩. আমর ইবনে দুনিয়া। তিনি উঁচুস্তরের হাফিযে হাদীস ছিলেন। তিনি হিজরী ১১৬ সনে মারা যান।
২৪. নাফি' মাওলা ইবনে উমার (রা)। তিনি ইমাম মালিক (রা) ও ইমাম আবূ হানিফা (র)-এর উস্তাদ ছিলেন। তিনি হিজরী ১১৭ সনে ইন্তিকাল করেন।
২৫. মাইমুন ইবনে মিহরান। তিনি হাফিয ও হাদীসবিদ ছিলেন। ইন্তিকাল করেন হিজরী ১১৭ সনে।
২৬. নাফি' ইবনে কাউস। তিনি আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রা)-এর ছাত্র ও হাদীসবিদ ছিলেন। তিনি হিজরী ১১৭ সনে মৃত্যুবরণ করেন।
২৭. মাকহুল আবূ আবদুল্লাহ। তিনি হাদীসের একটি পাণ্ডুলিপি তৈরি করেন। তিনি হিজরী ১১৮ সনে ইন্তিকাল করেন।
২৮. কাতাদাহ ইবনে মায়ামাতুস সদ্দুসী আল বাসারী। অসাধারণ স্মৃতিশক্তির অধিকারী ছিলেন। তিনি ইরাকের প্রখ্যাত মুহাদ্দিস ছিলেন। তিনি হিজরী ১১৮ সনে মৃত্যুবরণ করেন।
২৯. আবু বকর ইবনে হাযম। তিনি মদীনার কাযী ও হাদীস সংগ্রহকারী ছিলেন। তিনি উমরাহ সম্পর্কিত রেওয়ায়েত ও কিতাবুস সাদাকাতের সংগ্রহকারী। হিজরী ১১৭ সনে ইন্তিকাল করেন।
৩০. আলী ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা)। তিনি আব্বাসীয় সুলতানদের পূর্বপুরুষ।
৩১. ইয়াযীদ ইবনে আবী হাবীব। তিনি মিসরের হাফিযে হাদীস ছিলেন। তিনি হিজরী ১১৮ সনে মারা যান।
৩২. ইয়াহইয়া ইবনে ইয়াসার। তিনি হাদীসের হাফিয ছিলেন। তিনি আল- কুরআনের নুকতা সংযোজন করেন। তিনি হিজরী ১১৯ সনে ইন্তিকাল করেন।
৩৩. হাম্মাদ ইবনে আবী সুলাইমান। তিনি ইরাকের ফকীহ এবং ইমাম আবু হানিফার উস্তাদ ছিলেন। তিনি হিজরী ১২০ সনে ইন্তিকাল করেন।
৩৪. যুহরী মুহাম্মাদ ইবনে মুসলিম ইবনে উবাইদুল্লাহ ইবনে শাহাব। তিনি বহু গ্রন্থ প্রণেতা ও উঁচুস্তরের ইমাম ছিলেন। তিনি হিজরী ৫১ সনে জন্মগ্রহণ ও ১২৪ সনে ইন্তিকাল করেন।
৩৫. সাবিত ইবনে আসলাম বানানী। তিনি আনাস (রা)-এর ছাত্র ছিলেন এবং হাফিযে হাদীস ছিলেন। তিনি হিজরী ১২৩ সনে মৃত্যুবরণ করেন।
৩৬. যায়িদ ইবনে যয়নুল আবেদীন ইবনে হুসাইন (রা)। মুসনাদে যায়িদ তাঁর রচনা বলে প্রসিদ্ধ। তিনি হিজরী ১২৪ সনে ইন্তিকাল করেন।
৩৭. আবদুর রহমান ইবনে কাসিম ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আবূ বকর (রা)। তিনি মদীনার অন্যতম হাফিযে হাদীস ছিলেন। তিনি হিজরী ১২৬ সনে মারা যান।
৩৮. সা'দ ইবনে ইব্রাহীম। তিনি মদীনার কাযী ছিলেন এবং বহু গ্রন্থ রচনা করেন। তিনি হিজরী ৫৮ সনে জন্মগ্রহণ ও ১২৭ সনে মৃত্যুবরণ করেন।
৩৯. আবু ইসহাক সাবিয়ী। তিনি উঁচুস্তরের হাফিযে হাদীস ছিলেন। তাঁর শায়খের সংখ্যা চার শতের বেশি ছিলো। তন্মধ্যে ৩৮ জন ছিলেন সাহাবী। তিনি ইমাম যুহরীর সমকক্ষ ছিলেন বলে প্রসিদ্ধ। তিনি হিজরী ১২৮ সনে মারা যান।
৪০. আবুয যানাদ আবদুল্লাহ ইবনে যাকওয়ান। তিনি অন্যতম হাদীস সংগ্রহকারী। তিনি হিজরী ১৩০ সনে ইন্তিকাল করেন।
৪১. সালিহ ইবনে কাইসান। তিনিও একজন হাদীস সংগ্রহকারী। তিনি হিজরী ১৩০ সনে ইন্তিকাল করেন।
৪২. মুহাম্মাদ ইবনুল মুনকাদার। তিনি হাফিযে হাদীস আবু আইউব (রা) প্রমুখের ছাত্র ছিলেন। তিনি হিজরী ১৩০ সনে মারা যান।
৪৩. মানসুর ইবনে যাযান। তিনি হযরত আনাস (রা)-এর ছাত্র ছিলেন। তিনি হিজরী ১৩১ সনে ইন্তিকাল করেন।
৪৪. হাম্মাম ইবনে মুনাব্বাহ। তিনি আবূ হুরায়রা (রা)-এর বর্ণিত হাদীসগুলো সংগ্রহ করেন। এই সংকলন সহীফায়ে হাম্মাম ইবনে মুনাব্বাহ নামে প্রসিদ্ধ। মুসনাদে আহমাদে উক্ত সহীফার সবটুকু উদ্ধৃত আছে। তাঁর হস্তলিখিত পাণ্ডুলিপি বার্লিন ও দামেস্কে পাওয়া গেছে। তা দামেস্ক ও হায়দ্রাবাদ থেকে প্রকাশিত হয়েছে।
৪৫. আইউব ইবনে তামীমা সখতইয়ানী। তিনি বসরার প্রসিদ্ধ হাফিযে হাদীস ছিলেন। তিনি উঁচুস্তরের তাবেঈযুগের সাহচর্য লাভ করেন। তিনি হিজরী ১৩১ সনে ইন্তিকাল করেন।
৪৬. রাবীয়াতুর রায়। তিনি হিজাযের ফকীহ ও ইমাম মালিকের উস্তাদ ছিলেন। তিনি হিজরী ১৩৬ সনে ইন্তিকাল করেন।
৪৭. যায়িদ ইবনে আসলাম। তিনি হাদীসবিদ ও মুফাসসির ছিলেন। তিনি হিজরী ১৩৬ সনে ইন্তিকাল করেন।
৪৮. দাউদ ইবনে দীনার। অন্যতম হাফিযে হাদীস। তিনি হিজরী ১৩৯ সনে মারা যান।
৪৯. ইউনুস ইবনে উবায়েদ। অন্যতম হাফিযে হাদীস। তিনি হিজরী ১৩৯ সনে মৃত্যুবরণ করেন।
৫০. সালমা ইবনে দীনার। তিনি হিজরী ১৪০ সনে মারা যান।
৫১. ইমাম জাফর আসসাদিক ইবনে বাকের। তিনি হিজরী ৮০ সনে জন্মগ্রহণ ও ১৪০ সনে মৃত্যুবরণ করেন।
৫২. মূসা ইবনে উকবাহ। মাগাযীর ইমাম ছিলেন। তিনি হিজরী ১৪১ সনে মৃত্যুবরণ করেন।
৫৩. সুলাইমান তাইমী। উঁচুস্তরের হাফিযে হাদীস ছিলেন। হিজরী ১৪৩ সনে ইন্তিকাল করেন।
৫৪. ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আনসারী। তিনি মদীনার কায়ী ছিলেন। হিজরী ১৪৩ সনে মৃত্যুবরণ করেন।
৫৫. আলী ইবনে আবী তালহা হাশেমী। তিনি বহু গ্রন্থের প্রণেতা। তিনি হিজরী ১৪৩ সনে মৃত্যুবরণ করেন।
৫৬. হিশাম ইবনে উরওয়াহ। তিনি একজন হাদীস সংগ্রহকারী। তিনি হিজরী ১৪৬ সনে মৃত্যুবরণ করেন।
৫৭. ইসমাঈল ইবনে আবী খালিদ আহমাসী। উঁচুস্তরের হাফিযে হাদীস ছিলেন। তিনি হিজরী ১৪৬ সনে মৃত্যুবরণ করেন।
৫৮. আ'মাশ সুলাইমান ইবনে মিহরান। তাঁর উপাধি ছিলো সাইয়েদুল মুহাদ্দিসীন। তিনি হিজরী ১৪৭ সনে ইন্তিকাল করেন।
৫৯. মুহাম্মাদ ইবনে আজলান। হাদীসের প্রখ্যাত হাফিয ছিলেন। তিনি হিজরী ১৪৮ সনে ইন্তিকাল করেন।
৬০. আবদুল মালিক ইবনে জরীহ। তিনি বহু গ্রন্থ প্রণেতা। তিনি হিজরী ১৫০ সনে মারা যান।
৬১. আবু হানিফা নু'মান ইবনে সাবিত। তিনি হযরত আনাস (রা)-কে দেখেছেন। তিনি প্রখ্যাত ইমাম ছিলেন। সুধীগণ তার মাসানীদ সংগ্রহ করেছেন। তিনি হিজরী ১৫০ সনে ইন্তিকাল করেন।
৬২. মুহাম্মাদ ইবন ইসহাক। তিনি মাগাযীর একজন ইমাম। তিনি ছিলেন সীরাত গ্রন্থ প্রণেতা। তিনি হিজরী ১৫১ সনে ইন্তিকাল করেন।
৬৩. আবদুল্লাহ ইবনে আউন। তিনি মদীনার একজন মুহাদ্দিস ছিলেন। তিনি হিজরী ১৫১ সনে মারা যান।
৬৪. মাসয়ার ইবনে কুদাম আবূ সালমাহ আল কুফী। তিনি হিজরী ১৫৫ সনে ইন্তিকাল করেন।
৬৫. সাঈদ ইবনে আবী উরুবাহ। তিনি ছিলেন বহু গ্রন্থ প্রণেতা। তিনি হিজরী ১৫৬ সনে মারা যান।
৬৬. আওযায়ী ইবনে উমার আবদুর রহমান। শাম (সিরিয়া) দেশের ইমাম ছিলেন। তিনি জামে' আওযায়ী গ্রন্থের প্রণেতা। তিনি হিজরী ১৫৬ সনে ইন্তিকাল করেন।
৬৭. যুফার ইবনে বদীল। তাঁর উপাধি ছিলো সাহিবুল হাদীস। তিনি হিজরী ১৫৮ সনে ইন্তিকাল করেন।
৬৮. ইবনে আবী যিব মুহাম্মাদ ইবনে আবদুর রহমান। বহু গ্রন্থ প্রণেতা। তিনি হিজরী ১৫৯ সনে ইন্তিকাল করেন।
৬৯. শু'বা ইবনুল হাজ্জাজ। হাদীসে আমীরুল মু'মিনীন। জেরাহ ও তা'দীলের ইমাম ছিলেন। তিনিই চরিত অভিধানের প্রথম মূলনীতি নির্ধারণকারী ব্যক্তি। তিনি হিজরী ১৬০ সনে ইন্তিকাল করেন।
৭০. রাবীই ইবনে সাবীহ। বসরায় তিনি সর্বপ্রথম হাদীস সংগ্রহ করেন। তিনি হিজরী ১৬০ সনে ইন্তিকাল করেন।
৭১. সুফিয়ান সওরী। হাফিযে হাদীসের সরদার। হাদীসের আমীরুল মু'মিনীন। জামে' সওরীর লেখক। বহু গ্রন্থ প্রণেতা। তিনি হিজরী ১৬১ সনে ইন্তিকাল করেন।
৭২. আমর ইবনে মুররাহ। তিনি কুফার হাফিযদের অন্যতম। তিনি হিজরী ১৬১ সনে ইন্তিকাল করেন।
৭৩. আবূ যুরআহ উবাইদুল্লাহ ইবনে আবদুল করীম। তিনি হাদীসের হাফিয ছিলেন। তাঁর লক্ষ লক্ষ হাদীস মুখস্থ ছিলো। তিনি হিজরী ১৬৪ সনে ইন্তিকাল করেন।
৭৪. হাম্মাদ ইবনে সালমাহ। জামে' হাম্মাদসহ বহু গ্রন্থের প্রণেতা। তিনি হিজরী ১৬৭ সনে মারা যান।
৭৫. আবূ মাশার বখী সিনদী। তিনি মাগাযী সম্বন্ধীয় কিতাব লিখেছেন। তাঁর জানাযার নামাযে খলীফা হারুনুর রশীদ নিজেই ইমামতি করেন। তিনি হিজরী ১৭০ সনে ইন্তিকাল করেন।
৭৬. লাইস ইবনে সা'দ। তিনি মিসরের ইমাম ছিলেন। তিনি বহু গ্রন্থ প্রণয়ন করেন। হিজরী ১৭৫ সনে তিনি মারা যান।
৭৭. মালিক ইবনে আনাস। তিনি হাদীসের আমীরুল মু'মিনীন ছিলেন। তিনি মদীনার ইমাম, সাহেবে মাযহাবে মাতবু' ছিলেন। তাঁর হাদীস সংকলনের নাম মুয়াত্তা। তিনি হিজরী ৯৩ সনে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৭৯ সনে ইন্তিকাল করেন।
৭৮. বকর ইবনে আবদুল্লাহ আল মাযান্নী বিল মাযান্নী। তিনি উঁচুস্তরের হাফিযে হাদীস ছিলেন। তিনি হিজরী ১৮০ সনে ইন্তিকাল করেন।
৭৯. ইবনে আবীদ্দুনয়া আবু বকর মুহাম্মাদ ইবনে আবদুল্লাহ। তিনি কিতাবু যাম্মুল মালাহীসহ বহু গ্রন্থের প্রণেতা। তিনি হিজরী ১৮০ সনে ইন্তিকাল করেন।
৮০. আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক। তিনিও হাদীসের আমীরুল মু'মিনীন ছিলেন। তিনি হাদীসের সন্ধানে আট হাজার দিরহাম ব্যয় করেন। তিনি কিতাবুয যুহৃদ সহ বহু গ্রন্থের প্রণেতা। তিনি হিজরী ১১৮ সনে জন্মগ্রহণ ও ১৮১ সনে মৃত্যুবরণ করেন।
৮১. আবূ ইউসুফ ইয়াকুব। তিনি আবূ হানিফা (র)-এর সঙ্গী ছিলেন। তিনি একজন শ্রেষ্ঠ হাদীসবিদ ছিলেন। প্রধান বিচারক ছিলেন। তিনি কিতাবুল খারাজের লেখক। তিনি হিজরী ১৮২ সনে ইন্তিকাল করেন।
৮২. মূসা কাযিম ইবনে জাফর আসসাদিক। তিনি মুসনাদ লিখেছেন। তিনি হিজরী ১২৮ সনে জন্মগ্রহণ এবং ২৩৮ সনে মৃত্যুবরণ করেন।
৮৩. জযীর ইবনে আবদুল হামীদ। তিনি বহু গ্রন্থ প্রণয়ন করেছেন। তিনি হিজরী ১৮৮ সনে মৃত্যুবরণ করেন।
৮৪. আবু ইসহাক ফারাযী। তিনি জেরাহ ও তা'দীলের ইমাম। তিনি হিজরী ১৮৮ সনে মৃত্যুবরণ করেন।
৮৫. মুহাম্মাদ ইবনুল হাসান। তিনি ইমাম আবূ হানিফার অন্যতম সঙ্গী। তিনি ফিকাহ ও হাদীসের বহু গ্রন্থ রচনা করেছেন। তিনি হিজরী ১৩৫ সনে জন্মগ্রহণ এবং ১৮৯ সনে মৃত্যুবরণ করেন। ইলমুল খেলাফ অর্থাৎ ফিকাহর অধ্যায়গুলোতে অনুকূল ও প্রতিকূল হাদীস লিপিবদ্ধ করে এর বিচার বিশ্লেষণ করা তাঁরই আবিষ্কার। কিতাবুল হজ্জ তাঁর এই ধরনের প্রথম কিতাব। কিতাবুল আসারও তাঁর প্রসিদ্ধ কিতাব। (মাওলানা আবদুল বারী ফেরেঙ্গী মহল্লী এর টীকা লিখেছেন। এর উর্দু অনুবাদ পাঞ্জাব থেকে প্রকাশিত হয়েছে।)
৮৬. মুহাম্মাদ ইবনে জাফর গুনদার। তিনিও বহু গ্রন্থ রচনা করেন। তিনি হিজরী ১৯৬ সনে ইন্তিকাল করেন।
৮৭. ওয়ালীদ ইবনে মুসলিম। হাদীসের ওপর তিনি সত্তরখানা গ্রন্থ রচনা করেন। তিনি হিজরী ১১৯ সনে জন্মগ্রহণ ও ১৯৬ সনে ইন্তিকাল করেন।
৮৮. মুহাম্মাদ ইবনে ফুযায়েল ইবনে গাযওয়ান আবূ আবদুর রহমান। তিনি কিতাবুয যুহৃদ, কিতাবুদ্দুয়া প্রভৃতির লেখক। তিনি হিজরী ১৯৫ সনে মৃত্যুবরণ করেন।
৮৯. আবদুল্লাহ ইবনে ওহাব। তিনিও বহু গ্রন্থের প্রণেতা। মুয়াত্তা, জামে' কবীর, কিতাবুল মাগাযী প্রভৃতির রচয়িতা তিনি। তিনি হিজরী ১৯৭ সনে ইন্তিকাল করেন।
৯০. ওকী ইবনুল জাররাহ। তিনি একজন ইমামুল হাদীস। তিনিও বহু কিতাব লিখেছেন। তিনি হিজরী ১২৯ সনে জন্মগ্রহণ এবং ১৯৭ সনে মৃত্যুবরণ করেন।
৯১. ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদুল কাত্তান। তিনিও ইমামুল হাদীস ছিলেন। চরিত অভিধান এবং জেরাহ ও তা'দীলের ওপর সর্বপ্রথম কিতাব লিখেছেন। তিনি হিজরী ১২০ সনে জন্মগ্রহণ এবং ১৯৮ সনে ইন্তিকাল করেন।
৯২. আবদুর রহমান ইবনুল মাহদী। তিনি জেরাহ ও তা'দীলের ইমাম ছিলেন। তিনি হিজরী ১৯৮ সনে মৃত্যুবরণ করেন।
৯৩. উসমান ইবনে উয়াইনাহ। তিনি হিজাযের মুহাদ্দিস ছিলেন। তিনি হিজরী ১০৭ সনে জন্মগ্রহণ ও ১৯৮ সনে মৃত্যুবরণ করেন।
৯৪. হাশীম ইবনে বশীর। তিনি বহু কিতাব লিখেন। তিনি হিজরী ১০৪ সনে জন্মগ্রহণ ও ১৯৯ সনে মৃত্যুবরণ করেন।
৯৫. ইউনুস ইবনে বুকাইর। তিনি ইবনে ইসহাকের মাগাযীর টীকা লিখেন। তিনি হিজরী ১৯৯ সনে মারা যান।
৯৬. আবূ আবদুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনে ইদ্রিস শাফিঈ। তিনি হিজাযবাসীদের ইমাম ছিলেন। ইমাম আবু হানিফার অনুসারীদের পর মুসলিম জগতে তাঁর অনুসারীদের সংখ্যা বেশি। তাঁর দু'টি কিতাব অতি প্রসিদ্ধ। (ক) কিতাবুল উম্ম, এটি ফিকাহ-হাদীসের একটি উত্তম গ্রন্থ। এতে দলীল প্রমাণাদির ব্যাখ্যা ও বিরোধীদের প্রশ্নের উত্তর বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। (খ) ইখতিলাফিল হাদীস, এতে বিভিন্ন ধরনের হাদীসের বিশ্লেষণ করা হয়েছে। তিনি হিজরী ১৫০ সনে জন্মগ্রহণ ও ২০৪ সনে ইন্তিকাল করেন।
৯৭. আবু দাউদ মুহাম্মদ ইবনে সুলাইমান তায়ালিসী। তিনি এক হজার শায়খ থেকে হাদীস লিখেছেন। তিনিও একজন মুসনাদ প্রণেতা। তিনি হিজরী ২০৪ সনে মৃত্যুবরণ করেন।
৯৮. রূহ ইবনে উবাদাহ। তিনি দশ হাজার হাদীসের পাণ্ডুলিপি তৈরি করেছেন। তিনি হিজরী ২০৫ সনে ইন্তিকাল করেন।
৯৯. ওয়াকিদী আবূ আবদুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনে উমর। তিনি বাগদাদের কাযী ছিলেন। আল মাগাযী, কিতাবুরাদ্দাহ ইত্যাদি গ্রন্থ প্রণেতা। তিনি হিজরী ২০৭ সনে ইন্তিকাল করেন।
১০০. আবদুর রাজ্জাক ইবনে হুমাম। তিনিও বেশ কিছু কিতাব লিখেন। তিনি হিজরী ২১১ সনে ইন্তিকাল করেন।
১০১. আসাদ ইবনে মূসা মারওয়ানী। তিনিও বহু গ্রন্থ প্রণেতা। তিনি হিজরী ২১২ সনে ইন্তিকাল করেন।
১০২. ইসমাঈল ইবনে হাম্মাদ ইবনে আবূ হানিফা। তিনি রিকার কাযী ছিলেন। তিনি অন্যতম হাদীস সংগ্রহকারী। তিনি হিজরী ২১২ সনে ইন্তিকাল করেন।
১০৩. মক্কী ইবনে ইবরাহীম। তিনি ইমাম বুখারীর উস্তাদ ছিলেন। বুখারী শরীফে বেশির ভাগ সুলসিয়াত তাঁর মাধ্যমে বর্ণিত। তিনি হিজরী ২২৬ সনে ইন্তিকাল করেন।
১০৪. আবু জাফর মুহাম্মাদ ইবনুস সাববাহ আল বাযযার। তিনি একজন বিশিষ্ট হাদীসবিদ। তিনি হিজরী ২২৮ সনে ইন্তিকাল করেন।
১০৫. আবুল ওয়ালাদ আরযাকী। তিনি মক্কার ইতিহাস প্রণেতা। তিনি হিজরী ২২৮ সনে ইন্তিকাল করেন।
১০৬. নায়ীম ইবনে হাম্মাদ খাযায়ী। তিনিও একজন গ্রন্থকার। তিনি হিজরী ২২৮ সনে ইন্তিকাল করেন।
১০৭. মুসাদ্দাদ ইবনে মুসারহাদ বাসারী। তিনিও ছিলেন একজন গ্রন্থকার। তিনি হিজরী ২২৮ সনে ইন্তিকাল করেন।
১০৮. মুহাম্মাদ ইবনে সা'দ ওয়াকিদী। তিনি তাবাকাতুল কবীরের প্রণেতা। তিনি হিজরী ২৩০ সনে ইন্তিকাল করেন।
১০৯. ইয়াহইয়া ইবনে মুয়ীন। তিনিও ইমাম বুখারীর উস্তাদ ছিলেন। মুহাদ্দিসগণ তাঁর নিকট থেকে বার লাখ হাদীস সংকলন করেছেন। তিনি জেরাহ ও তা'দীলের ইমাম ছিলেন। হিজরী ২৩৩ সনে ইন্তিকাল করেন।
১১০. আলী ইবনুল মাদীনী। তিনি হাদীসের ইমাম ছিলেন। ইমাম বুখারী তাঁর সংকলিত সহীহুল বুখারী সংশোধনের উদ্দেশ্যে তাঁকে দেখিয়েছিলেন। তিনি হিজরী ২৩৪ সনে ইন্তিকাল করেন।
১১১. আবূ বকর আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আবী শাইবা। তিনিও ছিলেন একজন গ্রন্থকার। তিনি ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিমের উস্তাদ ছিলেন। তিনি হিজরী ২৩৫ সনে মারা যান।
১১২. সাঈদ ইবনে মানসূর। তিনি সুনানের রচয়িতা। তিনি হিজরী ২৩৫ সনে মারা যান।
১১৩. ইসহাক ইবনে রাহভিয়া। তিনিও একজন গ্রন্থকার। তিনি হিজরী ২৩৮ সনে মৃত্যুবরণ করেন।
১১৪. সাহনুন আবদুস সালাম ইবনে সায়ীদুত্তানূখী। তিনি মাদুনার লিখক। তিনি হিজরী ২৪০ সনে মারা যান।
১১৫. আবদু ইবনে হামীদ। তাফসীর ও মুসনাদে কবীর প্রণেতা। তিনি হিজরী ২৪৯ সনে ইন্তিকাল করেন।
১১৬. বুবেন্দার আবূ বকর মুহাম্মাদ ইবনে বিশার বাসারী। তিনি বহু গ্রন্থ রচনা করেন। তিনি ২৫২ সনে ইন্তিকাল করেন।
১১৭. আবদুল্লাহ ইবনে আবদুর রহমান। মুসনাদ ও তাফসীর লেখক। তিনি হিজরী ২৫৫ সনে ইন্তিকাল করেন।
১১৮. আহমাদ ইবনে হাম্বল। ফিকাহবিদ ও হাদীসবিদগণের ইমাম। আহলে সুন্নাতের প্রখ্যাত চার ইমামের অন্যতম। দীনের হিফাযতের জন্য অনেক যাতনা সহ্য করেছেন। কুরআন নশ্বর কি অবিনশ্বর এই বিষয়ে মতপার্থক্যের কারণে তিনি চাবুকের আঘাত খেয়েছেন, জেল খেটেছেন। তাঁর প্রসিদ্ধ অন্যতম গ্রন্থ হচ্ছে মুসনাদ। তিনি হিজরী ১৬৪ সনে জন্মগ্রহণ এবং ২৪১ সনে ইন্তিকাল করেন।
📄 মুয়াত্তা ইমাম মালিক (র)
ইমাম মালিক (র) একলক্ষ হাদীস বাছাই করে প্রথমে দশ হাজার হাদীস লিপিবদ্ধ করেন। এরপর আবারো বাছাই করে সংখ্যা কমাতে লাগলেন। শেষাবধি বর্তমান আকারের ভলিউম পর্যন্ত পৌঁছলেন। এরপর তিনি সংকলনটি মদীনার সত্তরজন ফকীহ্ সামনে পেশ করেন। তাঁরা সকলেই এই সংকলেনের সাথে একমত হন। তখন তিনি বললেন, 'তাঁরা সবাই সেটা সমর্থন করেছেন। তাই আমি এর নাম রাখলাম আল মুয়াত্তা।'
মুয়াত্তাতে নবী করীম (সা)-এর হাদীসসমূহ ছাড়া সাহাবায়ে কিরামের উক্তিসমূহ ও মদীনায় অবস্থানকারী তাবেঈগণের অভিমতও স্থান পেয়েছে। এই সংকলনে হাদীসের সংখ্যা ১৭২০। এগুলোর মধ্যে ৬০০টি মুসনাদ মরফু, ২২২টি মুরসাল মরফু, ৬১৩টি মওকুফ এবং ২৮৫টি মকতু হাদীস রয়েছে।
ইমাম মালিক থেকে ১০০০ জন আলিম মুয়াত্তা শ্রবণ করেছেন। তাদের মধ্যে মুজতাহিদ, মুহাদ্দিস, সূফী, আমীর-উমরা ও খলীফাগণ ছিলেন। ইমাম মুহাম্মাদ ও ইমাম শাফিঈ ইমাম মালিকের মুয়াত্তা অধ্যয়ন করেছেন।
মুয়াত্তার সর্বোচ্চ সনদ সুনইয়্যাত যেগুলোর মাধ্যম সর্বমোট দু'জন। মুয়াত্তার মোট ষোলটি নোসখা বা কপি প্রচলিত আছে। সেগুলোর মধ্যে ইয়াহইয়া ইবনে আল লাইসীর রেওয়ায়েত সর্বাধিক প্রসিদ্ধ।
মুয়াত্তা হিজরী দ্বিতীয় শতকের অন্যতম সর্বাধিক বিশুদ্ধ হাদীস সংকলন। মুসলিম উম্মাহ এটিকে মূল্যবান জ্ঞান করে। শাহ ওয়ালীউল্লাহ মুয়াত্তাকে সহীহুল বুখারী ও সহীহ মুসলিমের ওপর অগ্রাধিকার দিতেন। ইমাম শাফিঈ মন্তব্য করেন, "আল্লাহ্র কিতাব কুরআন মজীদের পর মুয়াত্তা ইমাম মালিক সর্বাধিক বিশুদ্ধ।” মুয়াত্তার মুসনাদ হাদীসগুলো সহীহাঈন অর্থাৎ সহীহুল বুখারী ও সহীহ মুসলিমে মওজুদ রয়েছে। ইবনে আবদিল বার এর সকল মুরসাল ও মুনকাতা হাদীস পর্যালোচনা করেছেন এবং সবগুলোর মুত্তাসাল সনদ লিখেছেন।
মুয়াত্তার অনেক ভাষ্য (ব্যাখ্যা পুস্তক) রয়েছে। সবচে পুরাতন ব্যাখ্যাগ্রন্থ হলো ইবনে হাবীব মালিকীর (ওফাত হিজরী ২২৯ সন) ব্যাখ্যাগ্রন্থ। তাছাড়া রয়েছে ইবনে আবদিল বার-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ আত্মাগাওর এবং যুরকানীর (হিজরী ১১২২ সনে ওফাত) লিখিত ব্যাখ্যাগ্রন্থ, আবু বকর ইবনুল আরাবীর ব্যাখ্যা, শাহ ওয়ালীউল্লাহ্র মুসাওয়া ও মুসাফফা এবং মোল্লা আলী কারীর ব্যাখ্যাগ্রন্থ। মুয়াত্তা ইমাম মুহাম্মাদ-এর ওপর মাওলানা আবদুল হাই আত্তালিকুল মুমাজ্জাদ শীর্ষক টীকা লিখেছেন। মুয়াত্তাকে সংক্ষিপ্ত আকারে সংকলিত করেন ইমাম খাত্তাবী, আবদুল ওয়ালীদ বাজী প্রমুখ। বারতী শরহে গরীব শিখেছেন। মুয়াত্তার রাবীদের সম্পর্কে কাযী আবদুল্লাহ এবং ইমাম সয়ূতীর পৃথক পৃথক গ্রন্থ রয়েছে। মৌলভী ওয়াহীদুযযামান মুয়াত্তার উর্দু শরাহ লিখেছেন।
📄 মুসনাদে আহমাদ
এই মুসনাদে ৭০০ বর্ণনাকারীর রেওয়ায়েত রয়েছে। এগুলো থেকে একাধিকবার উল্লেখ বাদ দেয়ার পর আরো ৩০০০ হাদীস আর সেগুলোসহ ৪০,০০০ হাদীস, ইবনে খালদূনের মতে ৫০,০০০ হাদীস এতে রয়েছে। সাধারণভাবে এটা বলা চলে যে, এতে সব মরফু হাদীস রয়েছে। ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল সাড়ে সাত লাখ হাদীস থেকে এগুলো বাছাই করেছেন। এটি মুসনাদ গ্রন্থগুলোর মধ্যে সর্বাধিক বিশুদ্ধ ও সুবিন্যস্ত গ্রন্থ।
শাহ ওয়ালীউল্লাহ বলেন, "তাঁর সংগৃহীত হাদীসগুলো দুর্বল নয়। কেননা এই হাদীসগুলো পরবর্তী ইমামগণ কর্তৃক স্বীকৃত সহীহ হাদীসসমূহের মধ্যে সর্বাধিক বিশুদ্ধ।" কানযুল উম্মাল গ্রন্থের ভূমিকায় উল্লেখ রয়েছে যে, এই মুসনাদের সব ধরনের হাদীস মকবুল।
মুসনাদের কয়েকটি মাত্র হাদীস সম্পর্কে ইবনে জুযীসহ কয়েকজন আলোচক সমালোচনা করেছেন। ইবনে হাজার 'আল কাউলুল মুসাদ্দাম' ও ইমাম সয়ূতী "আয যায়লুল মুমাহীহ” গ্রন্থে এর জবাব দিয়েছেন। কিন্তু ইনসাফের কথা হলো, এতে কিছু দুর্বল হাদীসও রয়েছে। তাও ইমাম আহমাদের পুত্র আবদুল্লাহ্র পরিবর্ধনের কারণে এমনটি হয়েছে। মুসনাদের বর্ণনাকারী আবদুল্লাহ ইবনে আহমাদ নিজের বিশেষ রেওয়ায়েত সমূহও এতে যোগ করেছেন। বর্তমানে মিসরের কোন কোন আলিম মুসনাদকে 'বাব' হিসেবে বিন্যস্ত করেছেন।