📘 হাদিস আখলাকুন নবী সাঃ > 📄 নবী (সা)-এর বিছানার বর্ণনা

📄 নবী (সা)-এর বিছানার বর্ণনা


৪৬১. হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী রাতে যে বিছানায় ঘুমাতেন তা ছিলো চামড়ার তৈরি এবং তার মধ্যে খেজুরের ছাল ভর্তি ছিলো।
৪৬২. হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্-এর বিছানা ছিলো চামড়ার তৈরি। তার ভেতরে খেজুরের ছাল ভর্তি ছিলো।
৪৬৩. উরওয়া (রা) হযরত আয়েশা (রা) থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।
৪৬৪. হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক আনসারী মহিলা আমার কাছে এসে রাসূলুল্লাহ্-এর ছেঁড়াফাটা কাপড়ের জড়ানো বিছানা দেখতে পেলো। সে ফিরে গেলো এবং পশমের তৈরি একটি তোষক পাঠিয়ে দিলো। রাসূলুল্লাহ্ গৃহে প্রবেশ করে আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, এটা কি? আমি বললাম, অমুক আনসারী মহিলা এসেছিলো। সে আপনার বিছানা দেখে এই বিছানা পাঠিয়ে দিয়েছে। নবী বললেন, এটা ফেরত পাঠিয়ে দাও। আয়েশা (রা) বলেন, আমি তা ফেরত পাঠালাম না এবং তা আমার ঘরে রেখে দেয়াই ভাল মনে করলাম। এমনকি তিনি আমাকে তিনবার বললেন আয়েশা, তুমি এটা ফেরত পাঠিয়ে দাও। তিনি বললেন, আল্লাহর শপথ! আমি চাইলে আল্লাহ্ আমার জন্য স্বর্ণ ও রৌপ্যের পাহাড় তৈরি করে দেবেন। যা আমার সাথে সাথে চলবে। আয়েশা (রা) বললেন, এরপর আমি তা ফেরত পাঠিয়ে দিলাম।
৪৬৫. আবূ কিলাবা (র) উম্মুল মু'মিনীন উম্মে সালামা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, কবরে একজন মানুষের জন্য যতটুকু জায়গা রাখা হয় নবী-এর বিছানা ততটুকু চওড়া ছিলো এবং তাঁর মাথার কাছেই তাঁর সালাতের স্থান ছিলো।
৪৬৬. রাবী ইবন যিয়াদ আল হারিসী (র) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি ইরাকের একটি প্রতিনিধি দলের সাথে উমর ইবন খাত্তাব (রা)-এর দরবারে আসলাম। তিনি আমাদের প্রত্যেকের সম্মানার্থে একটি করে আবা উপহার দিতে আদেশ করলেন। (তাঁর কন্যা উম্মুল মু'মিনীন) হযরত হাফসা (রা) তাঁকে বলে পাঠালেন, হে আমীরুল মু'মিনীন! ইরাকের জ্ঞানীগুণী নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ আপনার কাছে এসেছেন। আপনি তাদেরকে ভালভাবে সম্মান করুন। উমর (রা) বললেন, হাফসা আমি তাদেরকে একটি করে আবা-এর অধিক আর কিছু দিতে পারিনি। তুমি আমাকে বলো তোমার ঘরে নবী ﷺ-এর জীবনে সবচাইতে নরম ও আরামদায়ক বিছানা কি ছিলো এবং সবচাইতে উত্তম খাদ্যই বা তিনি কি খেয়েছিলেন?
হাফসা (রা) বললেন, আমাদের কাছে শুধু পশমী মাদুর ছিলো। খায়বার যুদ্ধের গনীমতের অংশ হিসেবে আমরা তা লাভ করেছিলাম। আমি সেই পশমী মাদুরটি বিছানা বানিয়ে দিয়েছিলাম। আমি প্রতি রাতে সেটাই নবী ﷺ-এর জন্য বিছিয়ে দিতাম এবং তিনি সেটার ওপরেই আরাম করতেন। এক রাতে আমি সেটাকে চার ভাঁজ করে বিছিয়ে দিয়েছিলাম। সকালে উঠে তিনি আমাকে বললেন, হাফসা গত রাতে তুমি আমাকে কী বিছানা দিয়েছিলে? আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! প্রতিদিন আপনাকে যে বিছানা পেতে দেই আজকেও সেটিই দিয়েছিলাম। তবে চার ভাঁজ করে দিয়েছিলাম। তিনি বললেন, হে হাফসা! তা পূর্বের মতই থাকতে দাও। কারণ, এর কোমলতা আজকে আমার ইবাদতে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করেছিলো।
হাফসা (রা) বলেন, খাদ্য হিসেবে আমাদের কাছে এক সা' যব ছিলো। একদিন তা চালুনিতে চেলে নবী ﷺ-এর জন্য যাঁতায় পিষে আনলাম। আমাদের কাছে এক কৌটা ঘি ছিলো। সেই ঘির কিছুটা আটায় মিশালাম এবং রুটি প্রস্তুত করলাম। নবী ﷺ তা খেতে শুরু করেছেন। এমন সময় আবু দারদা (রা) এসে হাযির হলেন। তিনি বললেন, আমার মনে হয় আপনাদের কাছে ঘি খুব কমই আছে। আমার কাছে একটা ঘি ভর্তি বড় কৌটা রয়েছে। এই বলে তিনি তৎক্ষণাৎ বাড়ি ফিরে গেলেন এবং উক্ত ঘি পাঠিয়ে দিলেন। তিনি ওই আটার মধ্যে এই ঘিও মিশিয়ে নিলেন এবং দু'জনে একসাথে খানা খেলেন। হাফসা (রা) বলেন, আমার জীবনে আমি নবী-এর জন্য এটাই সবচাইতে কোমল বিছানা পেতেছিলাম। আর এটা ছিলো তাঁর খাওয়ার সবচাইতে উত্তম খাদ্য। এ কথা শুনে হযরত উমর (রা) কাঁদতে থাকলেন এবং তাঁর দু'চোখ থেকে অশ্রুধারা গড়িয়ে পড়তে থাকলো। তখন তিনি বললেন, নবী এই খাদ্য খেয়েছেন এবং এই ছিলো তাঁর বিছানা, আল্লাহর শপথ! আমি তাদের প্রত্যেককে একটি আবা-এর বেশি আর কিছুই দেবো না।

📘 হাদিস আখলাকুন নবী সাঃ > 📄 নবী (সা)-এর লেপের বর্ণনা

📄 নবী (সা)-এর লেপের বর্ণনা


৪৬৭. হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি এবং নবী একই লেপের মধ্যে ঘুমাতাম।
৪৬৮. আইযার ইবন হুরাইস (র) হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন (শীতের রাতে) রাসূলুল্লাহ্ ﷺ সালাত পড়তেন লেপের এক প্রান্ত তাঁর গায়ের ওপর থাকতো এবং আরেক প্রান্ত আয়েশা (রা)-এর গায়ের ওপর থাকতো।
৪৬৯. যুবায়র (ইবনুল আওয়াম) (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, একবার শীতের দিনে রাসূলুল্লাহ্ আমাকে কোন কাজে পাঠালেন। আমি ফিরে এসে দেখলাম (শীতের কারণে) তিনি তাঁর পবিত্র স্ত্রীদের একজনের সাথে লেপ গায়ে জড়িয়ে বসে আছেন। তিনি আমাকেও তাঁর লেপের মধ্যে প্রবেশ করিয়ে নিলেন।
৪৭০. আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ -এর একটি হলুদ রঙের লেপ ছিলো। তাঁর স্ত্রীগণ পালাক্রমে সেটি ব্যবহার করতেন।
৪৭১. ইসমাঈল ইব্‌ন আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন জাফর (রা) তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, আমি নবীকে দুইখানা জাফরানী রঙের কাপড় পরিহিত অবস্থায় দেখেছি। কাপড় দুইখানার একখানা ছিলো চাদর এবং অন্যখানা পাগড়ি।
৪৭২. আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদিন আমি আমার খালা উম্মুল মু'মিনীন মায়মুনা (রা)-এর ঘরে মেহমান হলাম। সেই সময় তিনি (ঋতুমতী হওয়ার কারণে) সালাত পড়তেন না। রাতে তিনি একটি কম্বল এনে নবী-এর বিছানা হিসেবে মাটিতে বিছিয়ে নিলেন। অতপর বালিশ এনে বিছানার মাথার দিকে রাখলেন এবং লাল রঙের একখানা পশমী চাদর এনে সেটিও বিছানার মাথার দিকে রাখলেন। তারপর নিজে চাদর গায়ে দিয়ে শুয়ে পড়লেন। তিনি তাঁর পাশেই আমার জন্য একটা বিছানা পাতলেন। এরপর নবী এশার সালাত শেষে ঘরে প্রবেশ করলেন এবং তাঁর বিছানার মাথার দিক থেকে একখানা কাপড় নিয়ে লুঙ্গির মত করে পরিধান করলেন, নিজের কামিজ ও ইযার খুলে খুঁটির মাথায় লটকিয়ে রাখলেন এবং মায়মূনা (রা)-এর লেপের মধ্যেই শুয়ে পড়লেন।
তারপর শেষ রাতে উঠলেন এবং লটকিয়ে রাখা পানির মশক নিয়ে ঝাঁকুনি দিলেন আর পানি দিয়ে ওযু করতে শুরু করলেন। ওযূ শেষে তিনি বিছানায় ফিরে আসলেন, লুঙ্গি খুলে নিজের কাপড় পরিধান করলেন এবং জায়নামাযে দাঁড়িয়ে তাহাজ্জুদ পড়তে শুরু করলেন। তখন আমিও উঠে ওযু করে তাঁর বাঁ পাশে গিয়ে দাঁড়ালে তিনি তাঁর হাত দিয়ে আমাকে ধরে পেছন দিক দিয়ে ঘুরিয়ে এনে ডান পাশে দাঁড় করালেন এবং সালাত পড়তে থাকলেন। আমিও তাঁর সাথে তের রাকআত সালাত পড়লাম। এরপর তিনি বসে পড়লে আমিও তাঁর পাশে বসে পড়লাম। (ঘুমের প্রভাবে) তিনি আমার মুখের দিকে মুখ করে এতটা ঝুঁকে পড়লেন যে, আমি ঘুমন্ত ব্যক্তির শব্দের মত শব্দ শুনতে পাচ্ছিলাম। ইতিমধ্যে হযরত বিলাল (রা) এসে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! সালাত প্রস্তুত। তখন তিনি উঠে মসজিদে গেলেন।
৪৭৩. হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, শাবানের পনের তারিখের রাতে রাসূলুল্লাহ্ অতি সন্তর্পণে আমার চাদরের ভেতর থেকে উঠে গিয়েছিলেন। এর পরে আয়েশা (রা) বললেন, আল্লাহর শপথ! আমাদের চাদর রেশম, তুলা বা কাতানের ছিলো না। বর্ণনাকারী বলেন, আমি বললাম, সুবহানাল্লাহ্! তাহলে তা কিসের তৈরি ছিলো? তিনি বললেন, তার সুতা বকরীর পশমের এবং বুনন ছিলো উটের পশমের।

📘 হাদিস আখলাকুন নবী সাঃ > 📄 নবী (সা)-এর মখমলের চাদরের বর্ণনা

📄 নবী (সা)-এর মখমলের চাদরের বর্ণনা


৪৭৪. হযরত আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী -কে দাফনকালে তাঁর ও কবরের মাঝখানে বালাবাক্কা এলাকা তৈরি একটি সাদা মখমলের চাদর রাখা হয়।
৪৭৫. হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ এমন একটি পুরাতন ও জীর্ণশীর্ণ জিনের উপর হজ্জের সফর করেন যাতে বিছানো চাদরের মূল্য চার দিরহামও ছিলো না।
৪৭৬. হযরত যায়নাব (রা) তাঁর মা উম্মে সালামা (রা) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, আমি নবী-এর সাথে একই চাদরে ঘুমাতাম।

📘 হাদিস আখলাকুন নবী সাঃ > 📄 নবী (সা)-এর বালিশের বর্ণনা

📄 নবী (সা)-এর বালিশের বর্ণনা


৪৭৭. হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী-এর নিকট প্রবেশ করলাম, তখন তাঁর মাথার নিচে ছিলো খেজুর গাছের ছাল ভর্তি একটি চামড়ার বালিশ।
৪৭৮. হযরত ইব্‌ন আব্বাস (রা) হযরত উমর (রা) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী তাঁর গৃহের উপরিতলে তাশরিফ আনলেন। ঘরের দরজায় ছিলো তাঁর এক খাদেম। আমি বললাম, আমার জন্য অনুমতি প্রার্থনা কর। সে আমার জন্য অনুমতি প্রার্থনা করল। আমি প্রবেশ করে দেখলাম রাসূলুল্লাহ্ একটি চাটাইয়ের উপর শুয়ে বিশ্রাম করছিলেন এবং চাটাইয়ের দাগ তাঁর দেহের পার্শ্বদেশে বসে গিয়েছিলো। আর তাঁর মাথার নিচে ছিলো খেজুর গাছের ছাল ভর্তি একটি ক্ষুদ্র চামড়ার বালিশ।
৪৭৯. হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী -এর হেলান দেওয়ার বস্তু বলতে ছিল খেজুর গাছের ছাল ভর্তি একটি ক্ষুদ্র চামড়ার বালিশ।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00