📘 হাদিস আখলাকুন নবী সাঃ > 📄 নবী (সা)-এর গাধার বর্ণনা

📄 নবী (সা)-এর গাধার বর্ণনা


৪৪৬. হযরত মুআয ইব্‌ন জাবাল (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী-এর পেছনে তাঁর 'আফীর' নামক গাধার পিঠে সওয়ার হয়েছিলাম।
৪৪৭. হযরত আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার রাসূলুল্লাহ্ ﷺ ইয়া'ফুর নামক একটি গাধার পিঠে চড়ে বের হয়েছিলেন।
ফায়দা : এ সব হাদীস থেকে জানা যায় যে, নবী ﷺ-এর একটি গাধার নাম ছিলো ইয়া'ফুর। এটি ফারওয়া ইব্‌ন আম্র আল-জুযামী তাঁকে উপহার দিয়েছিলেন।
৪৪৮. হযরত আলী (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্-এর গাধার নাম ছিলো 'আফীর'।
ফায়দা : এ হাদীস থেকে জানা যায়, নবী ﷺ-এর আরেকটি গাধার নাম ছিলো আফীর। 'আসাহ্হুস্ সিয়ার' গ্রন্থে বলা হয়েছে, নবী ﷺ-এর তিনটি গাধা ছিলো। একটির নাম ছিলো আফীর। (মিসরের বাদশাহ) মুকাউকিস এটি উপহার পাঠিয়েছিলেন। দ্বিতীয়টির নাম ছিলো ইয়াফুর। এটি ফারওয়া আল-জুযামী উপহার পাঠিয়েছিলেন। তৃতীয়টি উপহার দিয়েছিলেন হযরত সা'দ ইবন উবাদা (রা)।
৪৪৯. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ ﷺ-কে খায়বারে একটি গাধার ওপর সওয়ার দেখেছি। ওই গাধার পিঠের ওপর খেজুরের ছাল দ্বারা তৈরি পালান ছিলো এবং তার লাগামও ছিলো খেজুর ছালের তৈরি।

📘 হাদিস আখলাকুন নবী সাঃ > 📄 নবী (সা)-এর উট্নীর বর্ণনা

📄 নবী (সা)-এর উট্নীর বর্ণনা


৪৫০. হযরত আনাস ইব্‌ন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ ﷺ এর একটি উট ছিল আযবা নামীয়। কোনো উটই একে পেছনে ফেলে আগে যেতে পারতো না। একদিন এক বেদুঈন একটি জওয়ান উটের ওপর সওয়ার হয়ে আসলো এবং সেটিকে পেছনে ফেলে আগে চলে গেলো। ব্যাপারটি মুসলিমদের মনে পীড়া দিলো। নবী ﷺ তাদের জিজ্ঞেস করলেন, তোমাদের কি হয়েছে? তারা বললেন, আপনার উটনী আযবা পিছনে পড়ে রইলো। তিনি বললেন : আল্লাহর নিয়ম হলো, পৃথিবীর যে জিনিসকেই তিনি সমুন্নত করেন সেটিকে আবার অবনমিতও করেন।
ফায়দা : নবী ﷺ-এর তিনটি উট ছিলো। একটি 'আযবা' দ্বিতীয়টি 'কাসওয়া' এবং তৃতীয়টি 'জাদ্আ'। কেউ কেউ এর অধিক সংখ্যার কথাও বর্ণনা করেছেন।
৪৫১. আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন উমর (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, মক্কা বিজয়ের দিন রাসূলুল্লাহ্ ﷺ তাঁর 'কাসওয়া' নাম্নী উটনীতে সওয়ার হয়ে মক্কায় প্রবেশ করেছিলেন।
ফায়দা : নবী ﷺ-এর আরেকটি উটীর নাম ছিলো 'কাসওয়া'। এটির পিঠে সওয়ার হয়েই তিনি হিজরত করেছিলেন এবং এ উটনী সম্পর্কেই তিনি বলেছিলেন যে, সেটি আল্লাহ্র পক্ষ থেকে আদিষ্ট। আল্লাহ্ যেখানে আমার অবস্থান মঞ্জুর করবেন এটি আপনা থেকেই সেখানে বসে পড়বে। মক্কা বিজয়ের দিনও তিনি এই উটনীর ওপর সওয়ার হয়ে মক্কায় প্রবেশ করেছিলেন।
৪৫২. হযরত মুআয ইব্‌ন জাবাল (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি একটি লাল উটের পিঠে নবী ﷺ-এর পেছনে সওয়ার হয়েছিলাম।
৪৫৩. ইকরিমা ইব্‌ন হিমার (র) হারমাস ইব্‌ন যিয়াদ বাহেলী (রা) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, আমি মিনায় রাসূলুল্লাহ্ ﷺ-কে তাঁর 'আযবা' নাম্নী উটীর পিঠে সওয়ার হয়ে খুতবা দিতে দেখেছি।
৪৫৪. উরওয়া ইব্‌ন যুবায়র (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, বদর যুদ্ধে যাওয়ার সময় রাসূলুল্লাহ্ তাঁর অসুস্থ কন্যার দেখা-শোনার জন্য উসমান (রা)-কে রেখে গেলেন এবং উসামা ইবন যায়িদকে মদীনায় নিজের স্থলাভিষিক্ত করে গেলেন। এক সময় তাঁরা তাকবীর বলা শুনলেন এবং দেখলেন যায়িদ ইবন হারিসা (রা) নবী-এর জাদআ নাম্নী উটনীর পিঠে সওয়ার হয়ে এসে সুসংবাদ দিলেন যে, অমুক (মুশরিক) নিহত হয়েছে, অমুক বন্দী হয়েছে ইত্যাদি। অতপর তিনি উসমান (রা)-এর কাছে আসলেন এবং তাঁকেও সুসংবাদ শোনালেন।

📘 হাদিস আখলাকুন নবী সাঃ > 📄 যুদ্ধে নবী (সা)-এর ব্যবহৃত সাংকেতিক চিহ্নের বর্ণনা

📄 যুদ্ধে নবী (সা)-এর ব্যবহৃত সাংকেতিক চিহ্নের বর্ণনা


৪৫৫. ইয়াস ইব্‌ন সালামা ইব্‌ন আকওয়া (র) তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, আমার পিতা সালামা ইব্‌ন আকওয়া (রা) আমাকে বলেন যে, যুদ্ধের সময় নবী-এর পরিচিতি জ্ঞাপক সাংকেতিক শব্দ ছিলো 'আমিত' 'আমিত'।
ফায়দা : যুদ্ধের সময় সৈনিকরা সাধারণত গোপনে কথাবার্তার জন্য কোড ওয়ার্ড ও বিশেষ বাক্য ঠিক করে নেয় এবং তার সাহায্যেই নিজেদের কথাবার্তা সম্পন্ন করে যাতে শত্রুরা তা বুঝতে না পারে। নবী-ও অনুরূপ যুদ্ধের সময় বিভিন্ন নির্দিষ্ট বাক্য ঠিক করে নিয়েছিলেন। ওইগুলো যুদ্ধের সময় ব্যবহার করা হতো। উপরে বর্ণিত হাদীস থেকে জানা যায়, আমিত, 'আমিত' শব্দটিও ছিল তাঁর সাংকেতিক পরিচয় বা কোড ওয়ার্ড। এর মর্মার্থ হচ্ছে, শত্রুকে নিশ্চিহ্ন করে দাও এবং ভীরুতা ও দুর্বলতা প্রদর্শন করো না।
৪৫৬. যায়দ ইব্‌ন আলী (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যুদ্ধে নবী-এর সাংকেতিক পরিচয় জ্ঞাপক শব্দ ছিলো 'ইয়া মানসুরু আমিত'।
৪৫৭. আবু ইসহাক (র) মুযায়না অথবা জুহায়না গোত্রের এক ব্যক্তির সূত্রে বর্ণনা করেন যে, যুদ্ধের সময় নবী শুনতে পেলেন, কিছু লোক তাদের পরিচয় জ্ঞাপক সাংকেতিক শব্দ হিসেবে 'ইয়া হারমু' ব্যবহার করছে। তা শুনে নবী বললেন, 'ইয়া হালালু'।
৪৫৮. আবু ইসহাক (র) থেকে বর্ণিত যে, নবী দশ ব্যক্তির সমন্বয়ে গঠিত একটি ছোট্ট সেনাদলকে যাদের মধ্যে তালহা (রা)ও ছিলেন—অভিযানে পাঠানোর সময় বললেন: তোমাদের পরিচয় জ্ঞাপক সাংকেতিক নাম হবে 'ইয়া আশরাহ'।
৪৫৯. হযরত আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন আম্র ইব্‌ন আলী (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যুদ্ধের সময় নবী-এর পরিচয় জ্ঞাপক সাংকেতিক শব্দ হতো 'ইয়া কুল্লা খায়র'।
৪৬০. মুহাল্লাব ইব্‌ন আবু সাফরাহ (র) একজন সাহাবী থেকে বর্ণনা করেন, যিনি নিজে নবী-কে বলতে শুনেছেন, শত্রু যদি তোমাদের কাছে এসে পড়ে তাহলে তোমাদের পরিচয় জ্ঞাপক সাংকেতিক শব্দ হবে 'হামীম লা ইউন্‌সারুন'।

📘 হাদিস আখলাকুন নবী সাঃ > 📄 নবী (সা)-এর বিছানার বর্ণনা

📄 নবী (সা)-এর বিছানার বর্ণনা


৪৬১. হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী রাতে যে বিছানায় ঘুমাতেন তা ছিলো চামড়ার তৈরি এবং তার মধ্যে খেজুরের ছাল ভর্তি ছিলো।
৪৬২. হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্-এর বিছানা ছিলো চামড়ার তৈরি। তার ভেতরে খেজুরের ছাল ভর্তি ছিলো।
৪৬৩. উরওয়া (রা) হযরত আয়েশা (রা) থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।
৪৬৪. হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক আনসারী মহিলা আমার কাছে এসে রাসূলুল্লাহ্-এর ছেঁড়াফাটা কাপড়ের জড়ানো বিছানা দেখতে পেলো। সে ফিরে গেলো এবং পশমের তৈরি একটি তোষক পাঠিয়ে দিলো। রাসূলুল্লাহ্ গৃহে প্রবেশ করে আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, এটা কি? আমি বললাম, অমুক আনসারী মহিলা এসেছিলো। সে আপনার বিছানা দেখে এই বিছানা পাঠিয়ে দিয়েছে। নবী বললেন, এটা ফেরত পাঠিয়ে দাও। আয়েশা (রা) বলেন, আমি তা ফেরত পাঠালাম না এবং তা আমার ঘরে রেখে দেয়াই ভাল মনে করলাম। এমনকি তিনি আমাকে তিনবার বললেন আয়েশা, তুমি এটা ফেরত পাঠিয়ে দাও। তিনি বললেন, আল্লাহর শপথ! আমি চাইলে আল্লাহ্ আমার জন্য স্বর্ণ ও রৌপ্যের পাহাড় তৈরি করে দেবেন। যা আমার সাথে সাথে চলবে। আয়েশা (রা) বললেন, এরপর আমি তা ফেরত পাঠিয়ে দিলাম।
৪৬৫. আবূ কিলাবা (র) উম্মুল মু'মিনীন উম্মে সালামা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, কবরে একজন মানুষের জন্য যতটুকু জায়গা রাখা হয় নবী-এর বিছানা ততটুকু চওড়া ছিলো এবং তাঁর মাথার কাছেই তাঁর সালাতের স্থান ছিলো।
৪৬৬. রাবী ইবন যিয়াদ আল হারিসী (র) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি ইরাকের একটি প্রতিনিধি দলের সাথে উমর ইবন খাত্তাব (রা)-এর দরবারে আসলাম। তিনি আমাদের প্রত্যেকের সম্মানার্থে একটি করে আবা উপহার দিতে আদেশ করলেন। (তাঁর কন্যা উম্মুল মু'মিনীন) হযরত হাফসা (রা) তাঁকে বলে পাঠালেন, হে আমীরুল মু'মিনীন! ইরাকের জ্ঞানীগুণী নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ আপনার কাছে এসেছেন। আপনি তাদেরকে ভালভাবে সম্মান করুন। উমর (রা) বললেন, হাফসা আমি তাদেরকে একটি করে আবা-এর অধিক আর কিছু দিতে পারিনি। তুমি আমাকে বলো তোমার ঘরে নবী ﷺ-এর জীবনে সবচাইতে নরম ও আরামদায়ক বিছানা কি ছিলো এবং সবচাইতে উত্তম খাদ্যই বা তিনি কি খেয়েছিলেন?
হাফসা (রা) বললেন, আমাদের কাছে শুধু পশমী মাদুর ছিলো। খায়বার যুদ্ধের গনীমতের অংশ হিসেবে আমরা তা লাভ করেছিলাম। আমি সেই পশমী মাদুরটি বিছানা বানিয়ে দিয়েছিলাম। আমি প্রতি রাতে সেটাই নবী ﷺ-এর জন্য বিছিয়ে দিতাম এবং তিনি সেটার ওপরেই আরাম করতেন। এক রাতে আমি সেটাকে চার ভাঁজ করে বিছিয়ে দিয়েছিলাম। সকালে উঠে তিনি আমাকে বললেন, হাফসা গত রাতে তুমি আমাকে কী বিছানা দিয়েছিলে? আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! প্রতিদিন আপনাকে যে বিছানা পেতে দেই আজকেও সেটিই দিয়েছিলাম। তবে চার ভাঁজ করে দিয়েছিলাম। তিনি বললেন, হে হাফসা! তা পূর্বের মতই থাকতে দাও। কারণ, এর কোমলতা আজকে আমার ইবাদতে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করেছিলো।
হাফসা (রা) বলেন, খাদ্য হিসেবে আমাদের কাছে এক সা' যব ছিলো। একদিন তা চালুনিতে চেলে নবী ﷺ-এর জন্য যাঁতায় পিষে আনলাম। আমাদের কাছে এক কৌটা ঘি ছিলো। সেই ঘির কিছুটা আটায় মিশালাম এবং রুটি প্রস্তুত করলাম। নবী ﷺ তা খেতে শুরু করেছেন। এমন সময় আবু দারদা (রা) এসে হাযির হলেন। তিনি বললেন, আমার মনে হয় আপনাদের কাছে ঘি খুব কমই আছে। আমার কাছে একটা ঘি ভর্তি বড় কৌটা রয়েছে। এই বলে তিনি তৎক্ষণাৎ বাড়ি ফিরে গেলেন এবং উক্ত ঘি পাঠিয়ে দিলেন। তিনি ওই আটার মধ্যে এই ঘিও মিশিয়ে নিলেন এবং দু'জনে একসাথে খানা খেলেন। হাফসা (রা) বলেন, আমার জীবনে আমি নবী-এর জন্য এটাই সবচাইতে কোমল বিছানা পেতেছিলাম। আর এটা ছিলো তাঁর খাওয়ার সবচাইতে উত্তম খাদ্য। এ কথা শুনে হযরত উমর (রা) কাঁদতে থাকলেন এবং তাঁর দু'চোখ থেকে অশ্রুধারা গড়িয়ে পড়তে থাকলো। তখন তিনি বললেন, নবী এই খাদ্য খেয়েছেন এবং এই ছিলো তাঁর বিছানা, আল্লাহর শপথ! আমি তাদের প্রত্যেককে একটি আবা-এর বেশি আর কিছুই দেবো না।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00