📘 হাদিস আখলাকুন নবী সাঃ > 📄 নবী (সা)-এর পোশাকের বর্ণনা

📄 নবী (সা)-এর পোশাকের বর্ণনা


۲۷۷ . عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ الْحَارِثِ أَنَّ النَّبِيَّ اشْتَرَى حُلَّةً بِسَبْعٍ وَعِشْرِينَ نَاقَةٌ فَلَبِسَهَا -

২৭৭. ইসহাক ইব্‌ন আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন হারিস (রা) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাতাশটি উটের বিনিময়ে এক সেট পোশাক খরিদ করেছিলেন এবং তা পরিধানও করেছিলেন।

ফায়দা : এ হাদীস থেকে জানা যায় যে, রাসূলুল্লাহ্ মূল্যবান পোশাক খরিদ করেছেন এবং তা পরিধানও করেছেন। তাছাড়া পূর্বে হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) বর্ণিত হাদীসে উল্লেখিত হয়েছে যে, হিমইয়ায়ের মুসলিম শাসক যু-ইয়াযান নবী -এর জন্য তেত্রিশটি উটের বিনিময়ে পূর্ণাঙ্গ এক সেট পোশাক কিনে উপহার দিয়েছিলেন এবং তিনি ঐ পোশাক একবারমাত্র পরিধান করেছিলেন। সামগ্রিকভাবে হাদীসসমূহ থেকে জানা যায় যে, নবী সাধারণত মূল্যবান পোশাক-পরিচ্ছদ পরিধান করতেন না। তবে মাঝেমধ্যে পরিধান করেছেন। কারণ তিনি মূল্যবান ও চটকদার পোশাক পছন্দ করতেন না। কেননা এতে অহংকার ও আত্মপ্রীতি সৃষ্টি হওয়ার আশংকা থাকে। যাহোক, মানুষের কর্তব্য নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী পোশাক পরিধান করা, যাতে আল্লাহর নিয়ামতের প্রকাশ ও শুকরিয়া আদায় হয় এবং তাঁর নিয়ামতের অবমাননা না হয়। সুতরাং নবী একটি হাদীসে বলেছেন : أَحْسَنُوا لِبَاسَكُمْ -উত্তম পোশাক-পরিচ্ছদ ব্যবহার করো। অন্য একটি হাদীসে বলা হয়েছে:

إِذَا أَتَاكَ اللَّهُ مَالاً فَلْيُرَ أَثْرُ نِعْمَةِ اللهِ عَلَيْكَ وَكَرَامَتِهِ (جَامِعُ الصَّغِيْرُ، ٢٣٥ جلد (۱)

আল্লাহ্ তা'আলা তোমাকে ধন-সম্পদ দান করে থাকেন। তখন তোমার মধ্যে তাঁর নিয়ামত, মেহেরবানী ও পুরস্কারের চিহ্ন প্রকাশ পাওয়া উচিত অর্থাৎ তোমার সামর্থ্য অনুযায়ী উত্তম পোশাক-পরিচ্ছদ পরিধান করা উচিত।

۲۷۸ عَنِ الْبَرَاءِ قَالَ مَا رَأَيْتُ مِنْ ذِي لِمَّةٍ فِي حُلَّةٍ حَمْرَاءَ أَحْسَنَ مِنْ رَسُولِ اللهِ ﷺ

২৭৮. বারাআন্ন আযিব (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি কখনো লাল চাদরে আবৃত কোন দীর্ঘ বাবরি চুল বিশিষ্ট লোককে রাসূলুল্লাহ্ -এর চেয়ে অধিক সুন্দর দেখিনি।

ফায়দা : এ কথা সর্বজন স্বীকৃত যে, পৃথিবীতে রাসূলুল্লাহ্-এর চেয়ে অধিক সুদর্শন মানুষ সৃষ্টি হয়নি এবং হবেও না। তাঁর অতুলনীয় রূপ ও সৌন্দর্য সম্পর্কিত বিভিন্ন হাদীস ইতিপূর্বে বর্ণিত হয়েছে। হাদীস বর্ণনাকারী বলেন, নবী যখন লাল রঙের পোশাক পরিধান করতেন তখন তাঁকে আরো অধিক সুন্দর মনে হতো। সম্পূর্ণ লাল রঙের পোশাক পরিধান করা পুরুষের জন্য নিষিদ্ধ। অন্য সব বর্ণনায় একথা সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, নবী যে লাল রঙের চাদর পরেছেন তা ছিলো কালো ডোরা বিশিষ্ট।

📘 হাদিস আখলাকুন নবী সাঃ > 📄 নবী (সা)-এর পোশাকের বর্ণনা

📄 নবী (সা)-এর পোশাকের বর্ণনা


۲۷۷ . عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ الْحَارِثِ أَنَّ النَّبِيَّ اشْتَرَى حُلَّةً بِسَبْعٍ وَعِشْرِينَ نَاقَةٌ فَلَبِسَهَا -

২৭৭. ইসহাক ইব্‌ন আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন হারিস (রা) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাতাশটি উটের বিনিময়ে এক সেট পোশাক খরিদ করেছিলেন এবং তা পরিধানও করেছিলেন।

ফায়দা : এ হাদীস থেকে জানা যায় যে, রাসূলুল্লাহ্ মূল্যবান পোশাক খরিদ করেছেন এবং তা পরিধানও করেছেন। তাছাড়া পূর্বে হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) বর্ণিত হাদীসে উল্লেখিত হয়েছে যে, হিমইয়ায়ের মুসলিম শাসক যু-ইয়াযান নবী -এর জন্য তেত্রিশটি উটের বিনিময়ে পূর্ণাঙ্গ এক সেট পোশাক কিনে উপহার দিয়েছিলেন এবং তিনি ঐ পোশাক একবারমাত্র পরিধান করেছিলেন। সামগ্রিকভাবে হাদীসসমূহ থেকে জানা যায় যে, নবী সাধারণত মূল্যবান পোশাক-পরিচ্ছদ পরিধান করতেন না। তবে মাঝেমধ্যে পরিধান করেছেন। কারণ তিনি মূল্যবান ও চটকদার পোশাক পছন্দ করতেন না। কেননা এতে অহংকার ও আত্মপ্রীতি সৃষ্টি হওয়ার আশংকা থাকে। যাহোক, মানুষের কর্তব্য নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী পোশাক পরিধান করা, যাতে আল্লাহর নিয়ামতের প্রকাশ ও শুকরিয়া আদায় হয় এবং তাঁর নিয়ামতের অবমাননা না হয়। সুতরাং নবী একটি হাদীসে বলেছেন : أَحْسَنُوا لِبَاسَكُمْ -উত্তম পোশাক-পরিচ্ছদ ব্যবহার করো। অন্য একটি হাদীসে বলা হয়েছে:

إِذَا أَتَاكَ اللَّهُ مَالاً فَلْيُرَ أَثْرُ نِعْمَةِ اللهِ عَلَيْكَ وَكَرَامَتِهِ (جَامِعُ الصَّغِيْرُ، ٢٣٥ جلد (۱)

আল্লাহ্ তা'আলা তোমাকে ধন-সম্পদ দান করে থাকেন। তখন তোমার মধ্যে তাঁর নিয়ামত, মেহেরবানী ও পুরস্কারের চিহ্ন প্রকাশ পাওয়া উচিত অর্থাৎ তোমার সামর্থ্য অনুযায়ী উত্তম পোশাক-পরিচ্ছদ পরিধান করা উচিত।

۲۷۸ عَنِ الْبَرَاءِ قَالَ مَا رَأَيْتُ مِنْ ذِي لِمَّةٍ فِي حُلَّةٍ حَمْرَاءَ أَحْسَنَ مِنْ رَسُولِ اللهِ ﷺ

২৭৮. বারাআ ইন্ন আযিব (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি কখনো লাল চাদরে আবৃত কোন দীর্ঘ বাবরি চুল বিশিষ্ট লোককে রাসূলুল্লাহ্ -এর চেয়ে অধিক সুন্দর দেখিনি।

ফায়দা : এ কথা সর্বজন স্বীকৃত যে, পৃথিবীতে রাসূলুল্লাহ্-এর চেয়ে অধিক সুদর্শন মানুষ সৃষ্টি হয়নি এবং হবেও না। তাঁর অতুলনীয় রূপ ও সৌন্দর্য সম্পর্কিত বিভিন্ন হাদীস ইতিপূর্বে বর্ণিত হয়েছে। হাদীস বর্ণনাকারী বলেন, নবী যখন লাল রঙের পোশাক পরিধান করতেন তখন তাঁকে আরো অধিক সুন্দর মনে হতো। সম্পূর্ণ লাল রঙের পোশাক পরিধান করা পুরুষের জন্য নিষিদ্ধ। অন্য সব বর্ণনায় একথা সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, নবী যে লাল রঙের চাদর পরেছেন তা ছিলো কালো ডোরা বিশিষ্ট।

۲۷۷ . عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ الْحَارِثِ أَنَّ النَّبِيَّ اشْتَرَى حُلَّةً بِسَبْعٍ وَعِشْرِينَ نَاقَةٌ فَلَبِسَهَا -

২৭৭. ইসহাক ইব্‌ন আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন হারিস (রা) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাতাশটি উটের বিনিময়ে এক সেট পোশাক খরিদ করেছিলেন এবং তা পরিধানও করেছিলেন।

ফায়দা : এ হাদীস থেকে জানা যায় যে, রাসূলুল্লাহ্ মূল্যবান পোশাক খরিদ করেছেন এবং তা পরিধানও করেছেন। তাছাড়া পূর্বে হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) বর্ণিত হাদীসে উল্লেখিত হয়েছে যে, হিমইয়ায়ের মুসলিম শাসক যু-ইয়াযান নবী -এর জন্য তেত্রিশটি উটের বিনিময়ে পূর্ণাঙ্গ এক সেট পোশাক কিনে উপহার দিয়েছিলেন এবং তিনি ঐ পোশাক একবারমাত্র পরিধান করেছিলেন। সামগ্রিকভাবে হাদীসসমূহ থেকে জানা যায় যে, নবী সাধারণত মূল্যবান পোশাক-পরিচ্ছদ পরিধান করতেন না। তবে মাঝেমধ্যে পরিধান করেছেন। কারণ তিনি মূল্যবান ও চটকদার পোশাক পছন্দ করতেন না। কেননা এতে অহংকার ও আত্মপ্রীতি সৃষ্টি হওয়ার আশংকা থাকে। যাহোক, মানুষের কর্তব্য নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী পোশাক পরিধান করা, যাতে আল্লাহর নিয়ামতের প্রকাশ ও শুকরিয়া আদায় হয় এবং তাঁর নিয়ামতের অবমাননা না হয়। সুতরাং নবী একটি হাদীসে বলেছেন : أَحْسَنُوا لِبَاسَكُمْ -উত্তম পোশাক-পরিচ্ছদ ব্যবহার করো। অন্য একটি হাদীসে বলা হয়েছে:

إِذَا أَتَاكَ اللَّهُ مَالاً فَلْيُرَ أَثْرُ نِعْمَةِ اللهِ عَلَيْكَ وَكَرَامَتِهِ (جَامِعُ الصَّغِيْرُ، ٢٣٥ جلد (۱)

আল্লাহ্ তা'আলা তোমাকে ধন-সম্পদ দান করে থাকেন। তখন তোমার মধ্যে তাঁর নিয়ামত, মেহেরবানী ও পুরস্কারের চিহ্ন প্রকাশ পাওয়া উচিত অর্থাৎ তোমার সামর্থ্য অনুযায়ী উত্তম পোশাক-পরিচ্ছদ পরিধান করা উচিত।

۲۷۸ عَنِ الْبَرَاءِ قَالَ مَا رَأَيْتُ مِنْ ذِي لِمَّةٍ فِي حُلَّةٍ حَمْرَاءَ أَحْسَنَ مِنْ رَسُولِ اللهِ ﷺ

২৭৮. বারাআ ইন্ন আযিব (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি কখনো লাল চাদরে আবৃত কোন দীর্ঘ বাবরি চুল বিশিষ্ট লোককে রাসূলুল্লাহ্ -এর চেয়ে অধিক সুন্দর দেখিনি।

ফায়দা : এ কথা সর্বজন স্বীকৃত যে, পৃথিবীতে রাসূলুল্লাহ্-এর চেয়ে অধিক সুদর্শন মানুষ সৃষ্টি হয়নি এবং হবেও না। তাঁর অতুলনীয় রূপ ও সৌন্দর্য সম্পর্কিত বিভিন্ন হাদীস ইতিপূর্বে বর্ণিত হয়েছে। হাদীস বর্ণনাকারী বলেন, নবী যখন লাল রঙের পোশাক পরিধান করতেন তখন তাঁকে আরো অধিক সুন্দর মনে হতো। সম্পূর্ণ লাল রঙের পোশাক পরিধান করা পুরুষের জন্য নিষিদ্ধ। অন্য সব বর্ণনায় একথা সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, নবী যে লাল রঙের চাদর পরেছেন তা ছিলো কালো ডোরা বিশিষ্ট।

📘 হাদিস আখলাকুন নবী সাঃ > 📄 নবী (সা)-এর চাদরের বর্ণনা

📄 নবী (সা)-এর চাদরের বর্ণনা


۲۷۹. عَنْ قَتَادَةَ عَنْ أَنَسٍ قَالَ قُلْتُ لَهُ أَيُّ الرِّبَاسِ أَحَبُّ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ أَوْ أَعْجَبُ إِلَيْهِ؟ قَالَ الْحِبْرَةُ -

২৭৯. কাতাদা (র) বর্ণনা করেন, আমি আনাস ইবন মালিক (রা)-কে জিজ্ঞেস করলাম, নবী -এর কোন্ পোশাক সবচেয়ে বেশি পছন্দনীয় বা প্রিয় ছিলো? তিনি বললেন, ইয়ামানের সুতির নক্শা করা চাদর।

ফায়দা : এ হাদীস থেকে জানা যায়, গায়ের ওপর রাখার মত পোশাকের মধ্যে ইয়ামানের তৈরি নক্শা করা চাদর তাঁর কাছে সর্বাধিক প্রিয় ছিলো। অন্যান্য হাদীসে বর্ণিত হয়েছে যে, পোশাকের মধ্যে জামা ছিলো তাঁর সবচেয়ে প্রিয়।

۲۸۰. عَنْ أَنَسٍ أَنْ أَعْرَابِيًا أَتَى النَّبِيُّ ﷺ فَسَأَلَهُ وَعَلَيْهِ بُرْدُ .

২৮০. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত যে, একবার নবী -এর কাছে এক বেদুঈন এসে তাঁকে প্রশ্ন করেছেন, সেই সময় নবী -এর গায়ে একখানা ডোরা বিশিষ্ট চাদর ছিলো।

۲۸۱. عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ جَابِرٍ قَالَ أَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ وَهُوَ جَالِسٌ مَعَ أَصْحَابِهِ وَإِذَا هُوَ مُحْتَبِى بِبُرْدِهِ قَدْ وَقَعَ هَدْبُهَا عَلَى قَدَمِهِ -

২৮১. সুলাইমান ইব্‌ন্ন জাবির (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ -এর কাছে গেলাম। তিনি তাঁর সাহাবাদের সাথে বসেছিলেন। একখানা চাদর দিয়ে তিনি তাঁর পিঠ ও পায়ের নলা জড়িয়ে রেখেছিলেন। চাদরের পাড় তাঁর পায়ের ওপর পড়েছিলো।

ফায়দা : হাঁটু খাড়া করে পিঠ ও পায়ের গোছা কাপড়ে জড়িয়ে বসাকে 'ইতিবা' বলে। এভাবে বসা সবচাইতে আরামদায়ক। এভাবে বসলে যথেষ্ট আরাম পাওয়া যায় এবং ক্লান্তি অনুভূত হয় না।

۲۸۲. عَنْ سُلَيْمٍ بْنُ جَابِرٍ قَالَ آتَيْتُ رَسُولَ اللهِ بُرْدَةُ إِنَّ أَهْدَابَهَا لَعَلَى قَدَمَيْهِ -

২৮২. সুলাইম ইন জাবির (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ -এর দরবারে হাযির হলাম। তখন তিনি 'ইহতিবা' আকারে চাদর বেঁধে বসেছিলেন এবং চাদরের প্রান্তভাগ তাঁর দুই পায়ের ওপর পড়েছিলো।

۲۸۳. عَنْ عَائِشَةَ أَنَّ النَّبِيُّ لَبِسَ بُرْدَةٌ سَوْدَاءَ فَقَالَتْ عَائِشَة مَا أَحْسَنُهَا عَلَيْكَ ! يَشْرَبُ بَيَاضُكَ سَوَادَهَا وَسَوَادُهَا بَيَاضِكَ -

২৮৩. হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত যে, একবার নবী কালো রঙের ডোরা বিশিষ্ট চাদর পরিধান করলে হযরত আয়েশা (রা) বললেন, আপনার গায়ে এই কাল চাদরখানা কি সুন্দরই না মানিয়েছে। আপনার দেহের লাল-সাদা মিশ্রিত রং চাদরের কাল রঙকে অধিক ফুটিয়ে তুলছে এবং এর কাল রঙ আপনার শরীরের লাল-সাদা মিশ্রিত বর্ণকে আরো দীপ্তিময় করে তুলছে।

ফায়দা : এটা স্বাভাবিক, সাদা ও কাল রঙের দু'টি জিনিসকে একত্র করলে বিপরীত দু'টি রং একটি আরেকটির ঔজ্জ্বল্য ও সৌন্দর্য ফুটিয়ে তোলে। সেই সৌন্দর্য ও হৃদয়গ্রাহিতার কথা প্রকাশ পেয়েছে হযরত আয়েশা (রা)-এর মুখ থেকে। এ হাদীস থেকে এ কথাও জানা যায় যে, নবী কাল রঙের চাদরও ব্যবহার করেছেন।

٢٨٤ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ كَانَ النَّبِيُّ لا يَلْبَسُ بُرْدَةً حِبَرَةٌ فِي كُلِّ

২৮৪. হযরত আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী প্রত্যেক ঈদের সময় ডোরাদার ইয়ামানী চাদর পরিধান করতেন।

ফায়দা: ইতিপূর্বে উদ্ধৃত একটি হাদীসে বলা হয়েছে নবী ডোরাদার ইয়ামানী চাদর পরিধান করা অত্যন্ত পছন্দ করতেন। এ ধরনের চাদরকে আরবীতে 'আল হিবারা' বলা হয়। নবী ঈদ ও অন্যান্য অনুষ্ঠানের সময় এ ধরনের চাদর পরতেন। কোন আনন্দ উৎসব বা ঈদ প্রভৃতির সময় (সম্ভব হলে) উত্তম ও নতুন পোশাক পরিধান করার নির্দেশ রয়েছে।

٢٨٥ عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ كَانَ النَّبِيُّ بُرْدُ أَحْمَرُ يَلْبَسُ فِي الْعِيدَيْنِ وَفِي الْجُمُعَةِ -

২৮৫. জাবির ইব্‌ন আবদুল্লাহ্ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী -এর একখানা লাল ডোরা বিশিষ্ট চাদর ছিলো। তিনি তা দুই ঈদ ও জুমু'আর দিনে পরিধান করতেন।

ফায়দা : ওপরে উদ্ধৃত দু'টি হাদীস থেকে জানা যায় যে, নবী বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে উত্তম পোশাক পরিধান করতেন।

٢٨٦ عَنِ الْبَرَّاءِ قَالَ رَأَيْتُ عَلَى النَّبِيِّ الله حَلَّةً حَمْرَاءَ مَا رَأَيْتُ شَيْئًا قَطَ أَحْسَنَ مِنْهُ -

২৮৬. বারাআ' ইব্‌ন আযিব (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী-এর গায়ে লাল ডোরা বিশিষ্ট এক সেট পোশাক দেখেছি। ঐ ধরনের পোশাকে আমি তাঁর চেয়ে সুন্দর আর কাউকে দেখিনি।

ফায়দা: এখানেও লাল পোশাক বলতে লাল ডোরা বিশিষ্ট পোশাকই বোঝানো হয়েছে।

۲۸۷. عَنِ الْبَرَاءِ قَالَ مَا رَأَيْتُ أَحَدًا فِي حُلَّةٍ حَمْرَاءَ مُتَرَجِلًا أَزْيَنَ وَاجْمَلْ مِنْ رَسُولِ اللهِ ﷺ وَكَانَ شَعْرَهُ قَرِيبًا مِنْ مَنْكِبَيْهِ .

২৮৭. বারাআ' ইব্‌ন আযিব (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, লাল পোশাক পরিহিত এবং চুল চিরুনি করা অবস্থায় রাসূলুল্লাহ্-এর চেয়ে অধিক সুন্দর আর কোন লোককে আমি দেখিনি। এ সময় তাঁর চুল প্রায় কাঁধ পর্যন্ত লম্বা ছিলো।

ফায়দা: চুলে তেল দেওয়া ও চিরুনি করা মুস্তাহাব। রাসূলুল্লাহ্ এজন্য উৎসাহিত করেছেন। তিনি নিজেও তাঁর চুল সময়মত চিরুনি করতেন। কিন্তু সর্বক্ষণ চুল চিরুনি করা ও পরিচর্যা করতে নিষেধ করেছেন। পুরুষদের উচিত দিনে একবার কিংবা একদিন পরপর চুল চিরুনি করা। একটি হাদীসে নবী বলেছেন: মাখার চুল উস্কু-খুঙ্কু ও অযত্নে রাখা উচিত নয়। মাথার চুল সম্পর্কে নবী থেকে বিভিন্ন হাদীস বর্ণিত হয়েছে। কোন হাদীসে বলা হয়েছে, তাঁর মাথার চুল কানের নিম্নভাগ পর্যন্ত লম্বা ছিলো। কোন হাদীসে বলা হয়েছে, তাঁর মাথার চুল কানের নিম্নভাগ পর্যন্ত লম্বা ছিলো। আবার কোন হাদীসে বলা হয়েছে যে, তা প্রায় কাঁধ পর্যন্ত লম্বা ছিলো। এটা মূলত বিভিন্ন সময় ও অবস্থার বর্ণনা। যখন তিনি চুল কাটাতেন তখন তা কানের মধ্যভাগ পর্যন্ত দীর্ঘ থাকতো, কিছুদিন পর তা কানের নিম্নভাগ পর্যন্ত পৌছে যেতো এবং আরো দুই-চারদিন চুল কাটানোর সুযোগ না হলে তা প্রায় কাঁধ পর্যন্ত নেমে যেতো। চুল কাটানোর সময় তিনি অবশ্যই তা কানের মধ্যভাগ পর্যন্ত দীর্ঘ রাখতেন। এর চাইতে বেশি ছোট করে কাটাতেন না। এই তিন প্রকারে চুল রাখা সুন্নত।

۲۸۸ عَنْ عَوْنِ بْنِ أَبِي حُجَيْفَةَ عَنْ أَبِيهِ قَالَ أَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ يَوْمَ النَّفَرِ بِالأَبْطَحَ فَخَرَجَ رَسُولُ اللهِ ﷺ فِي حُلَّةٍ حَمْرَاءَ كَأَنِي أَنْظُرُ إِلَى بَيَاضِ سَاقِهِ مِنْ وَرَائِهِ -

২৮৮. আওন ইব্‌ন আবূ হুজায়ফা তাঁর পিতা জুহায়ফা (রা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, (বিদায় হজ্জের সময়) মক্কা থেকে যাত্রা করলে আমি আবতাহ্ নামক স্থানে রাসূলুল্লাহ্ -এর কাছে হাযির হলাম। তিনি তখন লাল ডোরা বিশিষ্ট পোশাক পরে বাইরে আসলেন। সেই (লাল পোশাকে) তাঁর পায়ের নলার লাল সাদা মিশ্রিত রঙের দীপ্তি এখনো যেন আমি আমার চোখের সামনে দেখতে পাচ্ছি।

ফায়দা: এ হাদীস থেকেও জানা যায় যে, তিনি লাল ডোরা বিশিষ্ট পোশাক পরিধান করেছেন।

۲۸۹ . عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكَ أَنَّ النَّبِيَّ خَرَجَ وَهُوَ مُتَّكِنُ عَلَى أَسَامَةَ وَعَلَيْهِ بُرْدُ قِطْرِى -

২৮৯. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত যে, নবী উসামা ইবন যায়িদ -এর কাঁধে ভর দিয়ে বাইরে আসলেন। সেই সময় তাঁর গায়ে কাতারে তৈরি অথবা মোটা বুটিদার একখানা চাদর ছিলো।

ফায়দা: এ হাদীস থেকে জানা যায় যে, প্রয়োজনে অতি প্রিয়জনের কাঁধে হাত রেখে চলা জায়েয।

۲۹۰ ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ كُنْتُ أَمْشِي مَعَ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ وَعَلَيْهِ بُرْدُ نَجْرَانِيُّ غَلِيظُ الْحَاشِيَةِ -

২৯০. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ -এর সাথে পথ চলছিলাম। সেই সময় তাঁর গায়ে একখানা মোটা পাড়ের নাজরানী চাদর ছিলো।

ফায়দা: এ হাদীস থেকে জানা যায়, নবী নাজরানে তৈরি মোটা পাড়বিশিষ্ট চাদরও ব্যবহার করেছেন।

۲۹۱. عَنْ أَبِي رَمْثَةَ أَنَّهُ رَأَى النَّبِيُّ وَعَلَيْهِ بُرْدَانِ أَخْضَرَانِ -

২৯১. আবূ রামসা (রা) বর্ণনা করেন, তিনি নবী-কে দুইখানা সবুজ চাদর পরিহিত অবস্থায় দেখেছেন। (একখানা ছিলো তাঁর গায়ে এবং আরেকখানা ছিলো লুঙ্গি হিসেবে পরনে)।

ফায়দা : এ হাদীস থেকে জানা যায়, তিনি সবুজ রঙের চাদরও পরিধান করতেন।

۲۹۲ عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ أَنَّ ثَوْبَ رَسُولِ اللهِ ﷺ الَّذِي كَانَ يَخْرُجُ فِيهِ إِلَى الْوَفْدِ ثَوْبُ أَخْضَرُ طُولُهُ اَرْبَعَةُ أَذْرُعٍ وَعَرْضُهُ ذِرَاعَانِ وَشِبْرَ فَهُوَ عِنْدَ الخُلَفَاءِ قَدْ خَلِقَ فَبَطَنُوْهُ بِثَوْبٍ يَلْبَسُونَهُ يَوْمَ الْفِطْرِ وَالْأَضْحَى -

২৯২. উরওয়া ইবন যুবায়র (রা) থেকে বর্ণিত যে, যে পোশাক পরে রাসূলুল্লাহ বিভিন্ন গোত্রের প্রতিনিধিদের সাথে দেখা করতেন তা ছিল সবুজ রঙের। তার দৈর্ঘ ছিলো চার হাত এবং প্রস্থ ছিলো আড়াই হাত। অত্যন্ত জীর্ণ অবস্থায় এখন তা খলীফাদের কাছে রক্ষিত আছে। সাবধানতার জন্য তাঁরা সেটি ভাঁজ করে অন্য কাপড়ের মধ্যে রেখেছেন। শুধুমাত্র ঈদুল ফিত্র ও ঈদুল আযহার সময় তাঁরা তা পরিধান করে থাকেন।

ফায়দা: এ হাদীসটিও ইতিপূর্বে ২৭২ ক্রমিকে উল্লিখিত হাদীসে কিছুটা শাব্দিক তারতম্য সহকারে বর্ণিত হয়েছে। দু'টি হাদীসের বিষয়বস্তু একই।

۲۷۹. عَنْ قَتَادَةَ عَنْ أَنَسٍ قَالَ قُلْتُ لَهُ أَيُّ الرِّبَاسِ أَحَبُّ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ أَوْ أَعْجَبُ إِلَيْهِ؟ قَالَ الْحِبْرَةُ -

২৭৯. কাতাদা (র) বর্ণনা করেন, আমি আনাস ইবন মালিক (রা)-কে জিজ্ঞেস করলাম, নবী -এর কোন্ পোশাক সবচেয়ে বেশি পছন্দনীয় বা প্রিয় ছিলো? তিনি বললেন, ইয়ামানের সুতির নক্শা করা চাদর।

ফায়দা : এ হাদীস থেকে জানা যায়, গায়ের ওপর রাখার মত পোশাকের মধ্যে ইয়ামানের তৈরি নক্শা করা চাদর তাঁর কাছে সর্বাধিক প্রিয় ছিলো। অন্যান্য হাদীসে বর্ণিত হয়েছে যে, পোশাকের মধ্যে জামা ছিলো তাঁর সবচেয়ে প্রিয়।

۲۸۰. عَنْ أَنَسٍ أَنْ أَعْرَابِيًا أَتَى النَّبِيُّ ﷺ فَسَأَلَهُ وَعَلَيْهِ بُرْدُ .

২৮০. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত যে, একবার নবী -এর কাছে এক বেদুঈন এসে তাঁকে প্রশ্ন করেছেন, সেই সময় নবী -এর গায়ে একখানা ডোরা বিশিষ্ট চাদর ছিলো।

۲۸۱. عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ جَابِرٍ قَالَ أَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ وَهُوَ جَالِسٌ مَعَ أَصْحَابِهِ وَإِذَا هُوَ مُحْتَبِى بِبُرْدِهِ قَدْ وَقَعَ هَدْبُهَا عَلَى قَدَمِهِ -

২৮১. সুলাইমান ইব্‌ন্ন জাবির (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ -এর কাছে গেলাম। তিনি তাঁর সাহাবাদের সাথে বসেছিলেন। একখানা চাদর দিয়ে তিনি তাঁর পিঠ ও পায়ের নলা জড়িয়ে রেখেছিলেন। চাদরের পাড় তাঁর পায়ের ওপর পড়েছিলো।

ফায়দা : হাঁটু খাড়া করে পিঠ ও পায়ের গোছা কাপড়ে জড়িয়ে বসাকে 'ইতিবা' বলে। এভাবে বসা সবচাইতে আরামদায়ক। এভাবে বসলে যথেষ্ট আরাম পাওয়া যায় এবং ক্লান্তি অনুভূত হয় না।

۲۸۲. عَنْ سُلَيْمٍ بْنُ جَابِرٍ قَالَ آتَيْتُ رَسُولَ اللهِ بُرْدَةُ إِنَّ أَهْدَابَهَا لَعَلَى قَدَمَيْهِ -

২৮২. সুলাইম ইন জাবির (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ -এর দরবারে হাযির হলাম। তখন তিনি 'ইহতিবা' আকারে চাদর বেঁধে বসেছিলেন এবং চাদরের প্রান্তভাগ তাঁর দুই পায়ের ওপর পড়েছিলো।

۲۸۳. عَنْ عَائِشَةَ أَنَّ النَّبِيُّ لَبِسَ بُرْدَةٌ سَوْدَاءَ فَقَالَتْ عَائِشَة مَا أَحْسَنُهَا عَلَيْكَ ! يَشْرَبُ بَيَاضُكَ سَوَادَهَا وَسَوَادُهَا بَيَاضِكَ -

২৮৩. হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত যে, একবার নবী কালো রঙের ডোরা বিশিষ্ট চাদর পরিধান করলে হযরত আয়েশা (রা) বললেন, আপনার গায়ে এই কাল চাদরখানা কি সুন্দরই না মানিয়েছে। আপনার দেহের লাল-সাদা মিশ্রিত রং চাদরের কাল রঙকে অধিক ফুটিয়ে তুলছে এবং এর কাল রঙ আপনার শরীরের লাল-সাদা মিশ্রিত বর্ণকে আরো দীপ্তিময় করে তুলছে।

ফায়দা : এটা স্বাভাবিক, সাদা ও কাল রঙের দু'টি জিনিসকে একত্র করলে বিপরীত দু'টি রং একটি আরেকটির ঔজ্জ্বল্য ও সৌন্দর্য ফুটিয়ে তোলে। সেই সৌন্দর্য ও হৃদয়গ্রাহিতার কথা প্রকাশ পেয়েছে হযরত আয়েশা (রা)-এর মুখ থেকে। এ হাদীস থেকে এ কথাও জানা যায় যে, নবী কাল রঙের চাদরও ব্যবহার করেছেন।

٢٨٤ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ كَانَ النَّبِيُّ لا يَلْبَسُ بُرْدَةً حِبَرَةٌ فِي كُلِّ

২৮৪. হযরত আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী প্রত্যেক ঈদের সময় ডোরাদার ইয়ামানী চাদর পরিধান করতেন।

ফায়দা: ইতিপূর্বে উদ্ধৃত একটি হাদীসে বলা হয়েছে নবী ডোরাদার ইয়ামানী চাদর পরিধান করা অত্যন্ত পছন্দ করতেন। এ ধরনের চাদরকে আরবীতে 'আল হিবারা' বলা হয়। নবী ঈদ ও অন্যান্য অনুষ্ঠানের সময় এ ধরনের চাদর পরতেন। কোন আনন্দ উৎসব বা ঈদ প্রভৃতির সময় (সম্ভব হলে) উত্তম ও নতুন পোশাক পরিধান করার নির্দেশ রয়েছে।

٢٨٥ عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ كَانَ النَّبِيُّ بُرْدُ أَحْمَرُ يَلْبَسُ فِي الْعِيدَيْنِ وَفِي الْجُمُعَةِ -

২৮৫. জাবির ইব্‌ন আবদুল্লাহ্ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী -এর একখানা লাল ডোরা বিশিষ্ট চাদর ছিলো। তিনি তা দুই ঈদ ও জুমু'আর দিনে পরিধান করতেন।

ফায়দা : ওপরে উদ্ধৃত দু'টি হাদীস থেকে জানা যায় যে, নবী বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে উত্তম পোশাক পরিধান করতেন।

٢٨٦ عَنِ الْبَرَّاءِ قَالَ رَأَيْتُ عَلَى النَّبِيِّ الله حَلَّةً حَمْرَاءَ مَا رَأَيْتُ شَيْئًا قَطَ أَحْسَنَ مِنْهُ -

২৮৬. বারাআ' ইব্‌ন আযিব (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী-এর গায়ে লাল ডোরা বিশিষ্ট এক সেট পোশাক দেখেছি। ঐ ধরনের পোশাকে আমি তাঁর চেয়ে সুন্দর আর কাউকে দেখিনি।

ফায়দা: এখানেও লাল পোশাক বলতে লাল ডোরা বিশিষ্ট পোশাকই বোঝানো হয়েছে।

۲۸۷. عَنِ الْبَرَاءِ قَالَ مَا رَأَيْتُ أَحَدًا فِي حُلَّةٍ حَمْرَاءَ مُتَرَجِلًا أَزْيَنَ وَاجْمَلْ مِنْ رَسُولِ اللهِ ﷺ وَكَانَ شَعْرَهُ قَرِيبًا مِنْ مَنْكِبَيْهِ .

২৮৭. বারাআ' ইব্‌ন আযিব (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, লাল পোশাক পরিহিত এবং চুল চিরুনি করা অবস্থায় রাসূলুল্লাহ্-এর চেয়ে অধিক সুন্দর আর কোন লোককে আমি দেখিনি। এ সময় তাঁর চুল প্রায় কাঁধ পর্যন্ত লম্বা ছিলো।

ফায়দা: চুলে তেল দেওয়া ও চিরুনি করা মুস্তাহাব। রাসূলুল্লাহ্ এজন্য উৎসাহিত করেছেন। তিনি নিজেও তাঁর চুল সময়মত চিরুনি করতেন। কিন্তু সর্বক্ষণ চুল চিরুনি করা ও পরিচর্যা করতে নিষেধ করেছেন। পুরুষদের উচিত দিনে একবার কিংবা একদিন পরপর চুল চিরুনি করা। একটি হাদীসে নবী বলেছেন: মাখার চুল উস্কু-খুঙ্কু ও অযত্নে রাখা উচিত নয়। মাথার চুল সম্পর্কে নবী থেকে বিভিন্ন হাদীস বর্ণিত হয়েছে। কোন হাদীসে বলা হয়েছে, তাঁর মাথার চুল কানের নিম্নভাগ পর্যন্ত লম্বা ছিলো। কোন হাদীসে বলা হয়েছে, তাঁর মাথার চুল কানের নিম্নভাগ পর্যন্ত লম্বা ছিলো। আবার কোন হাদীসে বলা হয়েছে যে, তা প্রায় কাঁধ পর্যন্ত লম্বা ছিলো। এটা মূলত বিভিন্ন সময় ও অবস্থার বর্ণনা। যখন তিনি চুল কাটাতেন তখন তা কানের মধ্যভাগ পর্যন্ত দীর্ঘ থাকতো, কিছুদিন পর তা কানের নিম্নভাগ পর্যন্ত পৌছে যেতো এবং আরো দুই-চারদিন চুল কাটানোর সুযোগ না হলে তা প্রায় কাঁধ পর্যন্ত নেমে যেতো। চুল কাটানোর সময় তিনি অবশ্যই তা কানের মধ্যভাগ পর্যন্ত দীর্ঘ রাখতেন। এর চাইতে বেশি ছোট করে কাটাতেন না। এই তিন প্রকারে চুল রাখা সুন্নত।

۲۸۸ عَنْ عَوْنِ بْنِ أَبِي حُجَيْفَةَ عَنْ أَبِيهِ قَالَ أَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ يَوْمَ النَّفَرِ بِالأَبْطَحَ فَخَرَجَ رَسُولُ اللهِ ﷺ فِي حُلَّةٍ حَمْرَاءَ كَأَنِي أَنْظُرُ إِلَى بَيَاضِ سَاقِهِ مِنْ وَرَائِهِ -

২৮৮. আওন ইব্‌ন আবূ হুজায়ফা তাঁর পিতা জুহায়ফা (রা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, (বিদায় হজ্জের সময়) মক্কা থেকে যাত্রা করলে আমি আবতাহ্ নামক স্থানে রাসূলুল্লাহ্ -এর কাছে হাযির হলাম। তিনি তখন লাল ডোরা বিশিষ্ট পোশাক পরে বাইরে আসলেন। সেই (লাল পোশাকে) তাঁর পায়ের নলার লাল সাদা মিশ্রিত রঙের দীপ্তি এখনো যেন আমি আমার চোখের সামনে দেখতে পাচ্ছি।

ফায়দা: এ হাদীস থেকেও জানা যায় যে, তিনি লাল ডোরা বিশিষ্ট পোশাক পরিধান করেছেন।

۲۸۹ . عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكَ أَنَّ النَّبِيَّ خَرَجَ وَهُوَ مُتَّكِنُ عَلَى أَسَامَةَ وَعَلَيْهِ بُرْدُ قِطْرِى -

২৮৯. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত যে, নবী উসামা ইবন যায়িদ -এর কাঁধে ভর দিয়ে বাইরে আসলেন। সেই সময় তাঁর গায়ে কাতারে তৈরি অথবা মোটা বুটিদার একখানা চাদর ছিলো।

ফায়দা: এ হাদীস থেকে জানা যায় যে, প্রয়োজনে অতি প্রিয়জনের কাঁধে হাত রেখে চলা জায়েয।

۲۹۰ ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ كُنْتُ أَمْشِي مَعَ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ وَعَلَيْهِ بُرْدُ نَجْرَانِيُّ غَلِيظُ الْحَاشِيَةِ -

২৯০. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ -এর সাথে পথ চলছিলাম। সেই সময় তাঁর গায়ে একখানা মোটা পাড়ের নাজরানী চাদর ছিলো।

ফায়দা: এ হাদীস থেকে জানা যায়, নবী নাজরানে তৈরি মোটা পাড়বিশিষ্ট চাদরও ব্যবহার করেছেন।

۲۹۱. عَنْ أَبِي رَمْثَةَ أَنَّهُ رَأَى النَّبِيُّ وَعَلَيْهِ بُرْدَانِ أَخْضَرَانِ -

২৯১. আবূ রামসা (রা) বর্ণনা করেন, তিনি নবী-কে দুইখানা সবুজ চাদর পরিহিত অবস্থায় দেখেছেন। (একখানা ছিলো তাঁর গায়ে এবং আরেকখানা ছিলো লুঙ্গি হিসেবে পরনে)।

ফায়দা : এ হাদীস থেকে জানা যায়, তিনি সবুজ রঙের চাদরও পরিধান করতেন।

۲۹۲ عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ أَنَّ ثَوْبَ رَسُولِ اللهِ ﷺ الَّذِي كَانَ يَخْرُجُ فِيهِ إِلَى الْوَفْدِ ثَوْبُ أَخْضَرُ طُولُهُ اَرْبَعَةُ أَذْرُعٍ وَعَرْضُهُ ذِرَاعَانِ وَشِبْرَ فَهُوَ عِنْدَ الخُلَفَاءِ قَدْ خَلِقَ فَبَطَنُوْهُ بِثَوْبٍ يَلْبَسُونَهُ يَوْمَ الْفِطْرِ وَالْأَضْحَى -

২৯২. উরওয়া ইবন যুবায়র (রা) থেকে বর্ণিত যে, যে পোশাক পরে রাসূলুল্লাহ বিভিন্ন গোত্রের প্রতিনিধিদের সাথে দেখা করতেন তা ছিল সবুজ রঙের। তার দৈর্ঘ ছিলো চার হাত এবং প্রস্থ ছিলো আড়াই হাত। অত্যন্ত জীর্ণ অবস্থায় এখন তা খলীফাদের কাছে রক্ষিত আছে। সাবধানতার জন্য তাঁরা সেটি ভাঁজ করে অন্য কাপড়ের মধ্যে রেখেছেন। শুধুমাত্র ঈদুল ফিত্র ও ঈদুল আযহার সময় তাঁরা তা পরিধান করে থাকেন।

ফায়দা: এ হাদীসটিও ইতিপূর্বে ২৭২ ক্রমিকে উল্লিখিত হাদীসে কিছুটা শাব্দিক তারতম্য সহকারে বর্ণিত হয়েছে। দু'টি হাদীসের বিষয়বস্তু একই।

📘 হাদিস আখলাকুন নবী সাঃ > 📄 নবী (সা)-এর চাদরের বর্ণনা

📄 নবী (সা)-এর চাদরের বর্ণনা


۲۷۹. عَنْ قَتَادَةَ عَنْ أَنَسٍ قَالَ قُلْتُ لَهُ أَيُّ الرِّبَاسِ أَحَبُّ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ أَوْ أَعْجَبُ إِلَيْهِ؟ قَالَ الْحِبْرَةُ -

২৭৯. কাতাদা (র) বর্ণনা করেন, আমি আনাস ইবন মালিক (রা)-কে জিজ্ঞেস করলাম, নবী -এর কোন্ পোশাক সবচেয়ে বেশি পছন্দনীয় বা প্রিয় ছিলো? তিনি বললেন, ইয়ামানের সুতির নক্শা করা চাদর।

ফায়দা : এ হাদীস থেকে জানা যায়, গায়ের ওপর রাখার মত পোশাকের মধ্যে ইয়ামানের তৈরি নক্শা করা চাদর তাঁর কাছে সর্বাধিক প্রিয় ছিলো। অন্যান্য হাদীসে বর্ণিত হয়েছে যে, পোশাকের মধ্যে জামা ছিলো তাঁর সবচেয়ে প্রিয়।

۲۸۰. عَنْ أَنَسٍ أَنْ أَعْرَابِيًا أَتَى النَّبِيُّ ﷺ فَسَأَلَهُ وَعَلَيْهِ بُرْدُ .

২৮০. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত যে, একবার নবী -এর কাছে এক বেদুঈন এসে তাঁকে প্রশ্ন করেছেন, সেই সময় নবী -এর গায়ে একখানা ডোরা বিশিষ্ট চাদর ছিলো।

۲۸۱. عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ جَابِرٍ قَالَ أَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ وَهُوَ جَالِسٌ مَعَ أَصْحَابِهِ وَإِذَا هُوَ مُحْتَبِى بِبُرْدِهِ قَدْ وَقَعَ هَدْبُهَا عَلَى قَدَمِهِ -

২৮১. সুলাইমান ইব্‌ন্ন জাবির (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ -এর কাছে গেলাম। তিনি তাঁর সাহাবাদের সাথে বসেছিলেন। একখানা চাদর দিয়ে তিনি তাঁর পিঠ ও পায়ের নলা জড়িয়ে রেখেছিলেন। চাদরের পাড় তাঁর পায়ের ওপর পড়েছিলো।

ফায়দা : হাঁটু খাড়া করে পিঠ ও পায়ের গোছা কাপড়ে জড়িয়ে বসাকে 'ইতিবা' বলে। এভাবে বসা সবচাইতে আরামদায়ক। এভাবে বসলে যথেষ্ট আরাম পাওয়া যায় এবং ক্লান্তি অনুভূত হয় না।

۲۸۲. عَنْ سُلَيْمٍ بْنُ جَابِرٍ قَالَ آتَيْتُ رَسُولَ اللهِ بُرْدَةُ إِنَّ أَهْدَابَهَا لَعَلَى قَدَمَيْهِ -

২৮২. সুলাইম ইন জাবির (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ -এর দরবারে হাযির হলাম। তখন তিনি 'ইহতিবা' আকারে চাদর বেঁধে বসেছিলেন এবং চাদরের প্রান্তভাগ তাঁর দুই পায়ের ওপর পড়েছিলো।

۲۸۳. عَنْ عَائِشَةَ أَنَّ النَّبِيُّ لَبِسَ بُرْدَةٌ سَوْدَاءَ فَقَالَتْ عَائِشَة مَا أَحْسَنُهَا عَلَيْكَ ! يَشْرَبُ بَيَاضُكَ سَوَادَهَا وَسَوَادُهَا بَيَاضِكَ -

২৮৩. হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত যে, একবার নবী কালো রঙের ডোরা বিশিষ্ট চাদর পরিধান করলে হযরত আয়েশা (রা) বললেন, আপনার গায়ে এই কাল চাদরখানা কি সুন্দরই না মানিয়েছে। আপনার দেহের লাল-সাদা মিশ্রিত রং চাদরের কাল রঙকে অধিক ফুটিয়ে তুলছে এবং এর কাল রঙ আপনার শরীরের লাল-সাদা মিশ্রিত বর্ণকে আরো দীপ্তিময় করে তুলছে।

ফায়দা : এটা স্বাভাবিক, সাদা ও কাল রঙের দু'টি জিনিসকে একত্র করলে বিপরীত দু'টি রং একটি আরেকটির ঔজ্জ্বল্য ও সৌন্দর্য ফুটিয়ে তোলে। সেই সৌন্দর্য ও হৃদয়গ্রাহিতার কথা প্রকাশ পেয়েছে হযরত আয়েশা (রা)-এর মুখ থেকে। এ হাদীস থেকে এ কথাও জানা যায় যে, নবী কাল রঙের চাদরও ব্যবহার করেছেন।

٢٨٤ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ كَانَ النَّبِيُّ لا يَلْبَسُ بُرْدَةً حِبَرَةٌ فِي كُلِّ

২৮৪. হযরত আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী প্রত্যেক ঈদের সময় ডোরাদার ইয়ামানী চাদর পরিধান করতেন।

ফায়দা: ইতিপূর্বে উদ্ধৃত একটি হাদীসে বলা হয়েছে নবী ডোরাদার ইয়ামানী চাদর পরিধান করা অত্যন্ত পছন্দ করতেন। এ ধরনের চাদরকে আরবীতে 'আল হিবারা' বলা হয়। নবী ঈদ ও অন্যান্য অনুষ্ঠানের সময় এ ধরনের চাদর পরতেন। কোন আনন্দ উৎসব বা ঈদ প্রভৃতির সময় (সম্ভব হলে) উত্তম ও নতুন পোশাক পরিধান করার নির্দেশ রয়েছে।

٢٨٥ عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ كَانَ النَّبِيُّ بُرْدُ أَحْمَرُ يَلْبَسُ فِي الْعِيدَيْنِ وَفِي الْجُمُعَةِ -

২৮৫. জাবির ইব্‌ন আবদুল্লাহ্ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী -এর একখানা লাল ডোরা বিশিষ্ট চাদর ছিলো। তিনি তা দুই ঈদ ও জুমু'আর দিনে পরিধান করতেন।

ফায়দা : ওপরে উদ্ধৃত দু'টি হাদীস থেকে জানা যায় যে, নবী বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে উত্তম পোশাক পরিধান করতেন।

٢٨٦ عَنِ الْبَرَّاءِ قَالَ رَأَيْتُ عَلَى النَّبِيِّ الله حَلَّةً حَمْرَاءَ مَا رَأَيْتُ شَيْئًا قَطَ أَحْسَنَ مِنْهُ -

২৮৬. বারাআ' ইব্‌ন আযিব (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী-এর গায়ে লাল ডোরা বিশিষ্ট এক সেট পোশাক দেখেছি। ঐ ধরনের পোশাকে আমি তাঁর চেয়ে সুন্দর আর কাউকে দেখিনি।

ফায়দা: এখানেও লাল পোশাক বলতে লাল ডোরা বিশিষ্ট পোশাকই বোঝানো হয়েছে।

۲۸۷. عَنِ الْبَرَاءِ قَالَ مَا رَأَيْتُ أَحَدًا فِي حُلَّةٍ حَمْرَاءَ مُتَرَجِلًا أَزْيَنَ وَاجْمَلْ مِنْ رَسُولِ اللهِ ﷺ وَكَانَ شَعْرَهُ قَرِيبًا مِنْ مَنْكِبَيْهِ .

২৮৭. বারাআ' ইব্‌ন আযিব (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, লাল পোশাক পরিহিত এবং চুল চিরুনি করা অবস্থায় রাসূলুল্লাহ্-এর চেয়ে অধিক সুন্দর আর কোন লোককে আমি দেখিনি। এ সময় তাঁর চুল প্রায় কাঁধ পর্যন্ত লম্বা ছিলো।

ফায়দা: চুলে তেল দেওয়া ও চিরুনি করা মুস্তাহাব। রাসূলুল্লাহ্ এজন্য উৎসাহিত করেছেন। তিনি নিজেও তাঁর চুল সময়মত চিরুনি করতেন। কিন্তু সর্বক্ষণ চুল চিরুনি করা ও পরিচর্যা করতে নিষেধ করেছেন। পুরুষদের উচিত দিনে একবার কিংবা একদিন পরপর চুল চিরুনি করা। একটি হাদীসে নবী বলেছেন: মাখার চুল উস্কু-খুঙ্কু ও অযত্নে রাখা উচিত নয়। মাথার চুল সম্পর্কে নবী থেকে বিভিন্ন হাদীস বর্ণিত হয়েছে। কোন হাদীসে বলা হয়েছে, তাঁর মাথার চুল কানের নিম্নভাগ পর্যন্ত লম্বা ছিলো। কোন হাদীসে বলা হয়েছে, তাঁর মাথার চুল কানের নিম্নভাগ পর্যন্ত লম্বা ছিলো। আবার কোন হাদীসে বলা হয়েছে যে, তা প্রায় কাঁধ পর্যন্ত লম্বা ছিলো। এটা মূলত বিভিন্ন সময় ও অবস্থার বর্ণনা। যখন তিনি চুল কাটাতেন তখন তা কানের মধ্যভাগ পর্যন্ত দীর্ঘ থাকতো, কিছুদিন পর তা কানের নিম্নভাগ পর্যন্ত পৌছে যেতো এবং আরো দুই-চারদিন চুল কাটানোর সুযোগ না হলে তা প্রায় কাঁধ পর্যন্ত নেমে যেতো। চুল কাটানোর সময় তিনি অবশ্যই তা কানের মধ্যভাগ পর্যন্ত দীর্ঘ রাখতেন। এর চাইতে বেশি ছোট করে কাটাতেন না। এই তিন প্রকারে চুল রাখা সুন্নত।

۲۸۸ عَنْ عَوْنِ بْنِ أَبِي حُجَيْفَةَ عَنْ أَبِيهِ قَالَ أَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ يَوْمَ النَّفَرِ بِالأَبْطَحَ فَخَرَجَ رَسُولُ اللهِ ﷺ فِي حُلَّةٍ حَمْرَاءَ كَأَنِي أَنْظُرُ إِلَى بَيَاضِ سَاقِهِ مِنْ وَرَائِهِ -

২৮৮. আওন ইব্‌ন আবূ হুজায়ফা তাঁর পিতা জুহায়ফা (রা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, (বিদায় হজ্জের সময়) মক্কা থেকে যাত্রা করলে আমি আবতাহ্ নামক স্থানে রাসূলুল্লাহ্ -এর কাছে হাযির হলাম। তিনি তখন লাল ডোরা বিশিষ্ট পোশাক পরে বাইরে আসলেন। সেই (লাল পোশাকে) তাঁর পায়ের নলার লাল সাদা মিশ্রিত রঙের দীপ্তি এখনো যেন আমি আমার চোখের সামনে দেখতে পাচ্ছি।

ফায়দা: এ হাদীস থেকেও জানা যায় যে, তিনি লাল ডোরা বিশিষ্ট পোশাক পরিধান করেছেন।

۲۸۹ . عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكَ أَنَّ النَّبِيَّ خَرَجَ وَهُوَ مُتَّكِنُ عَلَى أَسَامَةَ وَعَلَيْهِ بُرْدُ قِطْرِى -

২৮৯. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত যে, নবী উসামা ইবন যায়িদ -এর কাঁধে ভর দিয়ে বাইরে আসলেন। সেই সময় তাঁর গায়ে কাতারে তৈরি অথবা মোটা বুটিদার একখানা চাদর ছিলো।

ফায়দা: এ হাদীস থেকে জানা যায় যে, প্রয়োজনে অতি প্রিয়জনের কাঁধে হাত রেখে চলা জায়েয।

۲۹۰ ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ كُنْتُ أَمْشِي مَعَ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ وَعَلَيْهِ بُرْدُ نَجْرَانِيُّ غَلِيظُ الْحَاشِيَةِ -

২৯০. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ -এর সাথে পথ চলছিলাম। সেই সময় তাঁর গায়ে একখানা মোটা পাড়ের নাজরানী চাদর ছিলো।

ফায়দা: এ হাদীস থেকে জানা যায়, নবী নাজরানে তৈরি মোটা পাড়বিশিষ্ট চাদরও ব্যবহার করেছেন।

۲۹۱. عَنْ أَبِي رَمْثَةَ أَنَّهُ رَأَى النَّبِيُّ وَعَلَيْهِ بُرْدَانِ أَخْضَرَانِ -

২৯১. আবূ রামসা (রা) বর্ণনা করেন, তিনি নবী-কে দুইখানা সবুজ চাদর পরিহিত অবস্থায় দেখেছেন। (একখানা ছিলো তাঁর গায়ে এবং আরেকখানা ছিলো লুঙ্গি হিসেবে পরনে)।

ফায়দা : এ হাদীস থেকে জানা যায়, তিনি সবুজ রঙের চাদরও পরিধান করতেন।

۲۹۲ عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ أَنَّ ثَوْبَ رَسُولِ اللهِ ﷺ الَّذِي كَانَ يَخْرُجُ فِيهِ إِلَى الْوَفْدِ ثَوْبُ أَخْضَرُ طُولُهُ اَرْبَعَةُ أَذْرُعٍ وَعَرْضُهُ ذِرَاعَانِ وَشِبْرَ فَهُوَ عِنْدَ الخُلَفَاءِ قَدْ خَلِقَ فَبَطَنُوْهُ بِثَوْبٍ يَلْبَسُونَهُ يَوْمَ الْفِطْرِ وَالْأَضْحَى -

২৯২. উরওয়া ইবন যুবায়র (রা) থেকে বর্ণিত যে, যে পোশাক পরে রাসূলুল্লাহ বিভিন্ন গোত্রের প্রতিনিধিদের সাথে দেখা করতেন তা ছিল সবুজ রঙের। তার দৈর্ঘ ছিলো চার হাত এবং প্রস্থ ছিলো আড়াই হাত। অত্যন্ত জীর্ণ অবস্থায় এখন তা খলীফাদের কাছে রক্ষিত আছে। সাবধানতার জন্য তাঁরা সেটি ভাঁজ করে অন্য কাপড়ের মধ্যে রেখেছেন। শুধুমাত্র ঈদুল ফিত্র ও ঈদুল আযহার সময় তাঁরা তা পরিধান করে থাকেন।

ফায়দা: এ হাদীসটিও ইতিপূর্বে ২৭২ ক্রমিকে উল্লিখিত হাদীসে কিছুটা শাব্দিক তারতম্য সহকারে বর্ণিত হয়েছে। দু'টি হাদীসের বিষয়বস্তু একই।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00