📘 হাদিস আখলাকুন নবী সাঃ > 📄 রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর নতুন পোশাক পরিধান করার বর্ণনা

📄 রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর নতুন পোশাক পরিধান করার বর্ণনা


٢٤٨ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ أَبِي الأَسْوَدِ الْإِصْفَهَانِي قَالَ سَمِعْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ يَقُولُ كَانَ النَّبِيُّ ﷺ وَإِذَا اسْتَجَدَّ ثَوْبًا لَبِسَهُ يَوْمَ الْجُمُعَةِ -

২৪৮. আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন আবুল আসওয়াদ আল ইস্ফাহানী (র) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি হযরত আনাস ইবন মালিক (রা)-কে বলতে শুানেছি যে, নবী ﷺ প্রথম কোনো নতুন পোশাক পরিধান করলে জুমু'আর দিনে শুরু করতেন।

ফায়দা : ইসলামে জুমু'আর দিনকে অত্যন্ত গুরুত্ব ও মর্যাদা দেয়া হয়েছে। জুমু'আর দিনটি مسلمانوں জন্য ছোট আকারের ঈদের দিন। তাই আল্লাহ্ তা'আলা জুমু'আর সালাত ঈদের সালাতের মত সম্মিলিতভাবে আদায় করা ফরয করেছেন, যাতে সমস্ত মুসলিম কোনো একটি বড় স্থানে সমবেত হয়ে জুমু'আর সালাত আদায় করে এবং পরস্পর দেখা-সাক্ষাত করতে ও একে অপরের খোঁজ-খবর নিতে পারে। বিভিন্ন হাদীসেও জুমু'আর সালাতের গুরুত্ব বর্ণিত হয়েছে। জুমু'আর দিন গোসল করা নতুন কিংবা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পোশাক পরিধান করা এবং চুল কাটানো সুন্নত। জুমু'আর দিনের ইবাদত বন্দেগীর জন্যও বিরাট পুরস্কার ও সাওয়াব রয়েছে। হাদীসে উল্লেখ করা হয়েছে যে, জুমু'আর দিনে আল্লাহ্ তা'আলা এমন একটি সময় রেখেছেন যে, সে সময় বান্দা যে দু'আ করুক না কেন তা অবশ্যই কবুল করা হয়। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো, বর্তমানে জুমু'আর গুরুত্ব একেবারেই হারিয়ে যাচ্ছে। বস্তুত দুই ঈদ ছাড়া মুসলিমদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ আর কোন পর্ব বা দিন থাকলে তা হচ্ছে জুমু'আর দিন। সম্ভব হলে সেদিন নতুন পোশাক কিংবা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পবিত্র কাপড় পরিধান করা উচিত। এদিনেই অনুষ্ঠানাদি ও বিয়ে-শাদী এবং বেশি বেশি ইবাদত করা উচিত। বিশেষত নবী ﷺ-এর ওপর অনেক বেশি করে দরূদ ও সালাম পেশ করা কর্তব্য। কেননা, হাদীসে এ কাজের অনেক বেশি ফযিলত উল্লেখ করা হয়েছে। আল্লাহ্ তা'আলা আমাদের সবাইকে সঠিক পথের হিদায়াত দান করুন।

٢٤٩ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ قَالَ النَّبِيُّ ﷺ إِذَا اسْتَجَدَّ ثَوْبًا سَمَّاهُ بِاسْمِهِ قَمِيصًا أَوْ رِدَاءً أَوْ عِمَامَةً ثُمَّ يَقُولُ اللَّهُمَّ لَكَ الْحَمْدُ أَنْتَ كَسَوْتَنِيْهِ أَسَالُكَ مِنْ خَيْرِهِ وَخَيْرِ مَا صُنِعَ لَهُ وَأَعُوذُبِكَ مِنْ شَرِّهِ وَشَرِّ مَا صُنِعَ لَهُ -

২৪৯. হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী ﷺ যখনই কোনো নতুন পোশাক পরিধান করতেন তখন শোকর প্রকাশের উদ্দেশ্যে জামা, চাদর বা আমামা হিসেবে তার নামকরণ করতেন এবং পরে এই দু'আটি পড়তেন। (দু'আটির অনুবাদ ২৪৩ নং হাদীসে উল্লেখিত আছে।)

📘 হাদিস আখলাকুন নবী সাঃ > 📄 রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর নতুন পোশাক পরিধান করার বর্ণনা

📄 রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর নতুন পোশাক পরিধান করার বর্ণনা


٢٤٨ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ أَبِي الأَسْوَدِ الْإِصْفَهَانِي قَالَ سَمِعْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ يَقُولُ كَانَ النَّبِيُّ ﷺ وَإِذَا اسْتَجَدَّ ثَوْبًا لَبِسَهُ يَوْمَ الْجُمُعَةِ -

২৪৮. আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন আবুল আসওয়াদ আল ইস্ফাহানী (র) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি হযরত আনাস ইবন মালিক (রা)-কে বলতে শুানেছি যে, নবী ﷺ প্রথম কোনো নতুন পোশাক পরিধান করলে জুমু'আর দিনে শুরু করতেন।

ফায়দা : ইসলামে জুমু'আর দিনকে অত্যন্ত গুরুত্ব ও মর্যাদা দেয়া হয়েছে। জুমু'আর দিনটি মুসলমানদের জন্য ছোট আকারের ঈদের দিন। তাই আল্লাহ্ তা'আলা জুমু'আর সালাত ঈদের সালাতের মত সম্মিলিতভাবে আদায় করা ফরয করেছেন, যাতে সমস্ত মুসলিম কোনো একটি বড় স্থানে সমবেত হয়ে জুমু'আর সালাত আদায় করে এবং পরস্পর দেখা-সাক্ষাত করতে ও একে অপরের খোঁজ-খবর নিতে পারে। বিভিন্ন হাদীসেও জুমু'আর সালাতের গুরুত্ব বর্ণিত হয়েছে। জুমু'আর দিন গোসল করা নতুন কিংবা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পোশাক পরিধান করা এবং চুল কাটানো সুন্নত। জুমু'আর দিনের ইবাদত বন্দেগীর জন্যও বিরাট পুরস্কার ও সাওয়াব রয়েছে। হাদীসে উল্লেখ করা হয়েছে যে, জুমু'আর দিনে আল্লাহ্ তা'আলা এমন একটি সময় রেখেছেন যে, সে সময় বান্দা যে দু'আ করুক না কেন তা অবশ্যই কবুল করা হয়। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো, বর্তমানে জুমু'আর গুরুত্ব একেবারেই হারিয়ে যাচ্ছে। বস্তুত দুই ঈদ ছাড়া মুসলিমদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ আর কোন পর্ব বা দিন থাকলে তা হচ্ছে জুমু'আর দিন। সম্ভব হলে সেদিন নতুন পোশাক কিংবা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পবিত্র কাপড় পরিধান করা উচিত। এদিনেই অনুষ্ঠানাদি ও বিয়ে-শাদী এবং বেশি বেশি ইবাদত করা উচিত। বিশেষত নবী ﷺ-এর ওপর অনেক বেশি করে দরূদ ও সালাম পেশ করা কর্তব্য। কেননা, হাদীসে এ কাজের অনেক বেশি ফযিলত উল্লেখ করা হয়েছে। আল্লাহ্ তা'আলা আমাদের সবাইকে সঠিক পথের হিদায়াত দান করুন।

٢٤٩ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ قَالَ النَّبِيُّ ﷺ إِذَا اسْتَجَدَّ ثَوْبًا سَمَّاهُ بِاسْمِهِ قَمِيصًا أَوْ رِدَاءً أَوْ عِمَامَةً ثُمَّ يَقُولُ اللَّهُمَّ لَكَ الْحَمْدُ أَنْتَ كَسَوْتَنِيْهِ أَسَالُكَ مِنْ خَيْرِهِ وَخَيْرِ مَا صُنِعَ لَهُ وَأَعُوذُبِكَ مِنْ شَرِّهِ وَشَرِّ مَا صُنِعَ لَهُ -

২৪৯. হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী ﷺ যখনই কোনো নতুন পোশাক পরিধান করতেন তখন শোকর প্রকাশের উদ্দেশ্যে জামা, চাদর বা আমামা হিসেবে তার নামকরণ করতেন এবং পরে এই দু'আটি পড়তেন। (দু'আটির অনুবাদ ২৪৩ নং হাদীসে উল্লেখিত আছে।)

٢٤٨ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ أَبِي الأَسْوَدِ الْإِصْفَهَانِي قَالَ سَمِعْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ يَقُولُ كَانَ النَّبِيُّ ﷺ وَإِذَا اسْتَجَدَّ ثَوْبًا لَبِسَهُ يَوْمَ الْجُمُعَةِ -

২৪৮. আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন আবুল আসওয়াদ আল ইস্ফাহানী (র) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি হযরত আনাস ইবন মালিক (রা)-কে বলতে শুানেছি যে, নবী ﷺ প্রথম কোনো নতুন পোশাক পরিধান করলে জুমু'আর দিনে শুরু করতেন।

ফায়দা : ইসলামে জুমু'আর দিনকে অত্যন্ত গুরুত্ব ও মর্যাদা দেয়া হয়েছে। জুমু'আর দিনটি মুসলমানদের জন্য ছোট আকারের ঈদের দিন। তাই আল্লাহ্ তা'আলা জুমু'আর সালাত ঈদের সালাতের মত সম্মিলিতভাবে আদায় করা ফরয করেছেন, যাতে সমস্ত মুসলিম কোনো একটি বড় স্থানে সমবেত হয়ে জুমু'আর সালাত আদায় করে এবং পরস্পর দেখা-সাক্ষাত করতে ও একে অপরের খোঁজ-খবর নিতে পারে। বিভিন্ন হাদীসেও জুমু'আর সালাতের গুরুত্ব বর্ণিত হয়েছে। জুমু'আর দিন গোসল করা নতুন কিংবা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পোশাক পরিধান করা এবং চুল কাটানো সুন্নত। জুমু'আর দিনের ইবাদত বন্দেগীর জন্যও বিরাট পুরস্কার ও সাওয়াব রয়েছে। হাদীসে উল্লেখ করা হয়েছে যে, জুমু'আর দিনে আল্লাহ্ তা'আলা এমন একটি সময় রেখেছেন যে, সে সময় বান্দা যে দু'আ করুক না কেন তা অবশ্যই কবুল করা হয়। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো, বর্তমানে জুমু'আর গুরুত্ব একেবারেই হারিয়ে যাচ্ছে। বস্তুত দুই ঈদ ছাড়া মুসলিমদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ আর কোন পর্ব বা দিন থাকলে তা হচ্ছে জুমু'আর দিন। সম্ভব হলে সেদিন নতুন পোশাক কিংবা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পবিত্র কাপড় পরিধান করা উচিত। এদিনেই অনুষ্ঠানাদি ও বিয়ে-শাদী এবং বেশি বেশি ইবাদত করা উচিত। বিশেষত নবী ﷺ-এর ওপর অনেক বেশি করে দরূদ ও সালাম পেশ করা কর্তব্য। কেননা, হাদীসে এ কাজের অনেক বেশি ফযিলত উল্লেখ করা হয়েছে। আল্লাহ্ তা'আলা আমাদের সবাইকে সঠিক পথের হিদায়াত দান করুন।

٢٤٩ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ قَالَ النَّبِيُّ ﷺ إِذَا اسْتَجَدَّ ثَوْبًا سَمَّاهُ بِاسْمِهِ قَمِيصًا أَوْ رِدَاءً أَوْ عِمَامَةً ثُمَّ يَقُولُ اللَّهُمَّ لَكَ الْحَمْدُ أَنْتَ كَسَوْتَنِيْهِ أَسَالُكَ مِنْ خَيْرِهِ وَخَيْرِ مَا صُنِعَ لَهُ وَأَعُوذُبِكَ مِنْ شَرِّهِ وَشَرِّ مَا صُنِعَ لَهُ -

২৪৯. হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী ﷺ যখনই কোনো নতুন পোশাক পরিধান করতেন তখন শোকর প্রকাশের উদ্দেশ্যে জামা, চাদর বা আমামা হিসেবে তার নামকরণ করতেন এবং পরে এই দু'আটি পড়তেন। (দু'আটির অনুবাদ ২৪৩ নং হাদীসে উল্লেখিত আছে।)

٢٤٨ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ أَبِي الأَسْوَدِ الْإِصْفَهَانِي قَالَ سَمِعْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ يَقُولُ كَانَ النَّبِيُّ ﷺ وَإِذَا اسْتَجَدَّ ثَوْبًا لَبِسَهُ يَوْمَ الْجُمُعَةِ -

২৪৮. আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন আবুল আসওয়াদ আল ইস্ফাহানী (র) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি হযরত আনাস ইবন মালিক (রা)-কে বলতে শুানেছি যে, নবী ﷺ প্রথম কোনো নতুন পোশাক পরিধান করলে জুমু'আর দিনে শুরু করতেন।

ফায়দা : ইসলামে জুমু'আর দিনকে অত্যন্ত গুরুত্ব ও মর্যাদা দেয়া হয়েছে। জুমু'আর দিনটি মুসলমানদের জন্য ছোট আকারের ঈদের দিন। তাই আল্লাহ্ তা'আলা জুমু'আর সালাত ঈদের সালাতের মত সম্মিলিতভাবে আদায় করা ফরয করেছেন, যাতে সমস্ত মুসলিম কোনো একটি বড় স্থানে সমবেত হয়ে জুমু'আর সালাত আদায় করে এবং পরস্পর দেখা-সাক্ষাত করতে ও একে অপরের খোঁজ-খবর নিতে পারে। বিভিন্ন হাদীসেও জুমু'আর সালাতের গুরুত্ব বর্ণিত হয়েছে। জুমু'আর দিন গোসল করা নতুন কিংবা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পোশাক পরিধান করা এবং চুল কাটানো সুন্নত। জুমু'আর দিনের ইবাদত বন্দেগীর জন্যও বিরাট পুরস্কার ও সাওয়াব রয়েছে। হাদীসে উল্লেখ করা হয়েছে যে, জুমু'আর দিনে আল্লাহ্ তা'আলা এমন একটি সময় রেখেছেন যে, সে সময় বান্দা যে দু'আ করুক না কেন তা অবশ্যই কবুল করা হয়। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো, বর্তমানে জুমু'আর গুরুত্ব একেবারেই হারিয়ে যাচ্ছে। বস্তুত দুই ঈদ ছাড়া মুসলিমদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ আর কোন পর্ব বা দিন থাকলে তা হচ্ছে জুমু'আর দিন। সম্ভব হলে সেদিন নতুন পোশাক কিংবা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পবিত্র কাপড় পরিধান করা উচিত। এদিনেই অনুষ্ঠানাদি ও বিয়ে-শাদী এবং বেশি বেশি ইবাদত করা উচিত। বিশেষত নবী ﷺ-এর ওপর অনেক বেশি করে দরূদ ও সালাম পেশ করা কর্তব্য। কেননা, হাদীসে এ কাজের অনেক বেশি ফযিলত উল্লেখ করা হয়েছে। আল্লাহ্ তা'আলা আমাদের সবাইকে সঠিক পথের হিদায়াত দান করুন।

٢٤٩ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ قَالَ النَّبِيُّ ﷺ إِذَا اسْتَجَدَّ ثَوْبًا سَمَّاهُ بِاسْمِهِ قَمِيصًا أَوْ رِدَاءً أَوْ عِمَامَةً ثُمَّ يَقُولُ اللَّهُمَّ لَكَ الْحَمْدُ أَنْتَ كَسَوْتَنِيْهِ أَسَالُكَ مِنْ خَيْرِهِ وَخَيْرِ مَا صُنِعَ لَهُ وَأَعُوذُبِكَ مِنْ شَرِّهِ وَشَرِّ مَا صُنِعَ لَهُ -

২৪৯. হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী ﷺ যখনই কোনো নতুন পোশাক পরিধান করতেন তখন শোকর প্রকাশের উদ্দেশ্যে জামা, চাদর বা আমামা হিসেবে তার নামকরণ করতেন এবং পরে এই দু'আটি পড়তেন। (দু'আটির অনুবাদ ২৪৩ নং হাদীসে উল্লেখিত আছে।)

٢٤٨ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ أَبِي الأَسْوَدِ الْإِصْفَهَانِي قَالَ سَمِعْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ يَقُولُ كَانَ النَّبِيُّ ﷺ وَإِذَا اسْتَجَدَّ ثَوْبًا لَبِسَهُ يَوْمَ الْجُمُعَةِ -

২৪৮. আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন আবুল আসওয়াদ আল ইস্ফাহানী (র) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি হযরত আনাস ইবন মালিক (রা)-কে বলতে শুানেছি যে, নবী ﷺ প্রথম কোনো নতুন পোশাক পরিধান করলে জুমু'আর দিনে শুরু করতেন।

ফায়দা : ইসলামে জুমু'আর দিনকে অত্যন্ত গুরুত্ব ও মর্যাদা দেয়া হয়েছে। জুমু'আর দিনটি মুসলমানদের জন্য ছোট আকারের ঈদের দিন। তাই আল্লাহ্ তা'আলা জুমু'আর সালাত ঈদের সালাতের মত সম্মিলিতভাবে আদায় করা ফরয করেছেন, যাতে সমস্ত মুসলিম কোনো একটি বড় স্থানে সমবেত হয়ে জুমু'আর সালাত আদায় করে এবং পরস্পর দেখা-সাক্ষাত করতে ও একে অপরের খোঁজ-খবর নিতে পারে। বিভিন্ন হাদীসেও জুমু'আর সালাতের গুরুত্ব বর্ণিত হয়েছে। জুমু'আর দিন গোসল করা নতুন কিংবা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পোশাক পরিধান করা এবং চুল কাটানো সুন্নত। জুমু'আর দিনের ইবাদত বন্দেগীর জন্যও বিরাট পুরস্কার ও সাওয়াব রয়েছে। হাদীসে উল্লেখ করা হয়েছে যে, জুমু'আর দিনে আল্লাহ্ তা'আলা এমন একটি সময় রেখেছেন যে, সে সময় বান্দা যে দু'আ করুক না কেন তা অবশ্যই কবুল করা হয়। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো, বর্তমানে জুমু'আর গুরুত্ব একেবারেই হারিয়ে যাচ্ছে। বস্তুত দুই ঈদ ছাড়া মুসলিমদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ আর কোন পর্ব বা দিন থাকলে তা হচ্ছে জুমু'আর দিন। সম্ভব হলে সেদিন নতুন পোশাক কিংবা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পবিত্র কাপড় পরিধান করা উচিত। এদিনেই অনুষ্ঠানাদি ও বিয়ে-শাদী এবং বেশি বেশি ইবাদত করা উচিত। বিশেষত নবী ﷺ-এর ওপর অনেক বেশি করে দরূদ ও সালাম পেশ করা কর্তব্য। কেননা, হাদীসে এ কাজের অনেক বেশি ফযিলত উল্লেখ করা হয়েছে। আল্লাহ্ তা'আলা আমাদের সবাইকে সঠিক পথের হিদায়াত দান করুন।

٢٤٩ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ قَالَ النَّبِيُّ ﷺ إِذَا اسْتَجَدَّ ثَوْبًا سَمَّاهُ بِاسْمِهِ قَمِيصًا أَوْ رِدَاءً أَوْ عِمَامَةً ثُمَّ يَقُولُ اللَّهُمَّ لَكَ الْحَمْدُ أَنْتَ كَسَوْتَنِيْهِ أَسَالُكَ مِنْ خَيْرِهِ وَخَيْرِ مَا صُنِعَ لَهُ وَأَعُوذُبِكَ مِنْ شَرِّهِ وَشَرِّ مَا صُنِعَ لَهُ -

২৪৯. হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী ﷺ যখনই কোনো নতুন পোশাক পরিধান করতেন তখন শোকর প্রকাশের উদ্দেশ্যে জামা, চাদর বা আমামা হিসেবে তার নামকরণ করতেন এবং পরে এই দু'আটি পড়তেন। (দু'আটির অনুবাদ ২৪৩ নং হাদীসে উল্লেখিত আছে।)

📘 হাদিস আখলাকুন নবী সাঃ > 📄 নবী (সা)-এর জুব্বা মুবারক-এর বর্ণনা

📄 নবী (সা)-এর জুব্বা মুবারক-এর বর্ণনা


٢٥٠ عَنْ أَسْمَاءَ بِنْتِ أَبِي بَكْرٍ أَنَّ النَّبِيُّ كَانَتْ لَهُ جُبَّةٌ طَيَالِسَةٌ مَكْفُوفَةً بِالدِّيبَاجِ يَلْقَى فِيْهَا الْعَدُوُّ

২৫০. হযরত আসমা বিন্ত আবূ বাক্ (রা) বর্ণনা করেন যে, নবী-এর একটি তায়ালেসানী জুব্বা। (আয়তাকার ঢিলেঢালা জামা) ছিলো যার হাতায় রেশমী ফিতা লাগানো ছিলো। এটি পরিধান করে তিনি শত্রুদের সাথে লড়াই করতে যেতেন।

ফায়দা : এ হাদীস থেকে জানা যায় শত্রুর মনে ভীতি সৃষ্টির উদ্দেশ্যে জাঁকজমকপূর্ণ পোশাক পরিধান করে যুদ্ধের ময়দানে গমন সুন্নত।

٢٥١ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ أَنَّ ذَا يَزِنَ أَهْدَى إِلَى النَّبِيِّ ﷺ حُلَّةً أَشْتُرِيَتْ بِثَلَاثَةٍ وَثَلاثِينَ بَعِيْرًا فَلَبِسَهَا مَرَّةً .

২৫১. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) বর্ণনা করেন যে, (হিমইয়ারের মুসলমান বাদশাহ্) যু-ইয়াযান নবীকে এমন একটি পোশাক হাদিয়া দিলেন যা তেত্রিশটি উটের বিনিময়ে খরিদ করা হয়েছিল। নবী এ কাপড় জোড়া একবার মাত্র পরিধান করেছিলেন।

ফায়দা: যেহেতু এই পোশাক সেট ছিলো একজন বাদশাহ্ প্রেরিত এবং মূল্যবান উপহার, তাই নবী তা একবার মাত্র পরিধান করে পরিত্যাগ করেছিলেন। পুনরায় আর কখনো তা পরিধান করেননি। কারণ তিনি অতি মূল্যবান জমকালো পোশাক-পরিচ্ছদ পছন্দ করতেন না। তিনি বলেছেন: অতি মূল্যবান ও জমকালো পোশাক কেবল তারাই পরিধান করে আখিরাতে যাদের কোন অংশ নেই।

٢٥٢ . عَنْ دَحِيَّةَ الْكَلْبِى أَنَّهُ أَهْدَى إِلَى النَّبِيَّ الجُبَّةٌ مِنَ الشَّامِ وَخُفْيْنِ فَلَبِسَهُمَا النَّبِيُّ حَتَّى تَخَرَّقَا فَلَمْ يُتَبَيَّنْ أَوْ لَمْ يُعْلَمْ أَذْكِيَانِ هُمَا أَوْ مَيْتَهُ حَتَّى تَخْرِقًا -

২৫২. হযরত দিহইয়া কালবী (রা) বর্ণনা করেন যে, তিনি নবী-কে শামদেশে (সিরিয়া) তৈরি একটি জুব্বা এবং দু'টি চামড়ার মোজা উপহার দিয়েছিলেন। তিনি ঐ মোজা দু'টি এত অধিক ব্যবহার করেছিলেন যে তা জীর্ণ হয়ে ফেটে গিয়েছিলো। কিংবা (বর্ণনাকারীর সন্দেহ) তা মৃত জন্তুর চামড়া দ্বারা প্রস্তুত ছিলো না যবেহৃত জন্তুর চামড়া দ্বারা প্রস্তুত ছিল তা জানা যায়নি। কিন্তু ব্যাপক ব্যবহারে তা ফেটে গিয়েছিলো।

ফায়দা: এ হাদীস থেকে জানা যায় যে, নবী উপহার গ্রহণ করতেন। যতক্ষণ পর্যন্ত না কাফিরদের তৈরি দ্রব্যাদির নাপাক হওয়া সম্পর্কে নিশ্চিত ও অকাট্যরূপে কোন কিছু জানা যায় ততক্ষণ তা নাপাক নয়। তাই নবী তাঁকে উপহার হিসেবে প্রদত্ত মোজা মৃত জন্তুর চামড়ায় প্রস্তুত ছিলো না যবেহকৃত জন্তুর চামড়ায় প্রস্তুত ছিলো সে সম্পর্কে অনুসন্ধান করার প্রয়োজন বোধ করেননি। কারণ, পাকা করার পর মৃত জন্তুর চামড়াও পবিত্র হয়ে যায়। সুতরাং উপহার দেয়া মোজা ব্যবহার করতে করতে ছিঁড়ে গিয়েছিল। হানাফীদের মতেও যে কোন চামড়া তা মৃত কিংবা যবেহৃত জন্তুর থেকে হোক পাকানোর পর পবিত্র হয়ে যায় এবং তা ব্যবহার করা বৈধ।

٢٥٣ عَنِ الْمُغِيرَةَ بْنِ شُعْبَةَ قَالَ خَرَجَ النَّبِيُّ لِبَعْضِ حَاجَتِهِ فَأَتْبَعْتُهُ بِادَاوَةٍ مِنْ مَاءٍ فَلَمَّا قَضَى حَاجَتَهُ قُمْتُ لأُوضِنَهُ وَعَلَيْهِ جُبَّةٌ رُومِيَّةً ضَيِّقَةُ الْكُمْ فَأَخْرَجَ يَدَهُ مِنْ تَحْتِهَا وطَرَحَهَا عَاتِقِهِ ثُمَّ تَوَضَّأَ وَمَسَحَ عَلَى خُفَّيْهِ وَالْخِمَارِ ثُمَّ صَلَّى -

২৫৩. হযরত মুগীরা ইন্ন শুবা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেয়ার জন্য বাইরে গেলে আমি একটি পাত্রে পানি নিয়ে তাঁর পেছনে পেছনে গেলাম। তিনি প্রয়োজন সেরে আসলে আমি তাঁকে ওযু করানোর জন্য এগিয়ে গেলাম। সে সময় তাঁর পরিধানে ছিলো একটি রূমী জুব্বা যার হাতা ছিলো অত্যন্ত সংকীর্ণ। তাই তিনি জুব্বা থেকে হাত বের করলেন এবং জুব্বাটা কাঁধের ওপর রেখে ওযু করলেন এবং মোজা ও মাথায় বাঁধা কাপড়ের ওপর মাসেহ করে সালাত পড়লেন।

ফায়দা : এ হাদীস থেকে জানা যায়, নবী অন্যান্য দেশের তৈরি পোশাকও ব্যবহার করতেন। তিনি রোমের তৈরি জুব্বা পরিধান করেছিলেন। যেহেতু তার আস্তিন ছিলো অত্যন্ত সংকীর্ণ। তাই তিনি আস্তিন ওপরে টেনে তোলেননি বরং আস্তিনের মধ্য থেকে হাত বের করে জুব্বাটিকে কাঁধের ওপর রেখে ওযু করেছেন। এখানে শুধু জুব্বা সম্পর্কে বর্ণনাই গ্রন্থকারের উদ্দেশ্য। তাই তিনি এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। আনুষঙ্গিকভাবে এ হাদীসে মোজা এবং মাথার কাপড়ের ওপর মাসেহ করা সম্পর্কে যে উল্লেখ রয়েছে, ফিকহ্ গ্রন্থসমূহে তার বিস্তারিত বর্ণনা আছে। এখানে সে সব মাসয়ালা বর্ণনা করার অবকাশ নেই। অধিকাংশ উলামার মতে শুধু পাগড়ি কিংবা রুমালের উপর মাসেহ করা এবং মাথা আদৌ মাসেহ না করা জায়েয নয়। এতে ওযু পরিশুদ্ধ হবে না।

٢٥٤ عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ قَالَ رَأَيْتُ رَسُولَ اللهِ ﷺ يَتَوَضَّهُ وَعَلَيْهِ جبَّةٌ شَامِيَةٌ ضَيِّقَةُ الْكُمَيْنِ -

২৫৪. হযরত উমর ইবন খাত্তাব (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি একদিন নবী -কে ওযু করতে দেখলাম। সেই সময় তিনি রোমের তৈরি সংকীর্ণ হাতাওয়ালা জুব্বা পরিধান করেছিলেন।

٢٥٥. عَنِ الْمُغِيرَةِ قَالَ كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللهِ ﷺ فِي سَفَرٍ فَذَهَبَ يَحْسُرُ عَنْ ذِرَاعَيْهِ مِنْ جُبَّةٍ رُؤْمِيَةٍ فَلَمْ يَخْرُجُ ذِرَاعَيْهِ فَأَخْرَجَهُمَا مِنْ تَحْتِ الْجُبَّةِ -

২৫৫. হযরত মুগীরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক সফরে আমরা রাসূলুল্লাহ্ -এর সাথে ছিলাম। তিনি রোমের তৈরি তাঁর পরিধানের জুব্বাটির হাতা ওপরে গুটাতে শুরু করলেন। কিন্তু হাতা সংকীর্ণ হওয়ার কারণে হাত বের করতে সক্ষম হলেন না। তখন নিজের হাত জুব্বার ভেতর থেকে বের করে ফেললেন।

٢٥٦. عَنْ أَبِي حُجَيْفَةَ قَالَ خَرَجَ النَّبِيُّ ﷺ وَعَلَيْهِ حُلَّةً حَمْرَاءُ مُشَمِّرًا -

২৫৬. হযরত আবূ হুজায়ফা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার নবী বাইরে বের হলে তাঁর গায়ে লাল ডোরা বিশিষ্ট পোশাক ছিলো এবং তা তাঁর পায়ের নলা পর্যন্ত উঠানো ছিলো।

ফায়দা: এ হাদীস থেকে প্রমাণিত হয় যে, নবী পায়ের নলা পর্যন্ত দীর্ঘ লাল পোশাক পরিধান করেছেন। পুরুষদের নিরেট লাল রঙের কাপড় পরিধান সম্পর্কে আলিমদের মধ্যে মতানৈক্য আছে। জুব্বাটি ছিলো লাল ডোরা বিশিষ্ট যা সবার মতেই জায়েয। নবী পায়ের গোছার মধ্যভাগ পর্যন্ত উঁচু পোশাক পরতেন। এটাই সুন্নত। পায়ের গিরা পর্যন্ত লম্বা পোশাক পরিধান করাও জায়েয। এর চেয়ে অধিক লম্বা পোশাক পরিধান করা মাকরূহ, কারণ তা কাফির ও অহংকারী লোকদের প্রতীক।

٢٥٧ . عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ قَالَ رَأَيْتُ النَّبِيُّ ﷺ فِي لَيْلَةِ اضْحِيَانِ وَعَلَيْهِ حَلَّةً حَمَرَاء فَجَعَلْتُ أَنْظُرُ إِلَيْهِ وَإِلَى الْقَمَرِ فَلَهُوَ أَحْسَنُ فِي عَيْنِي مِنَ الْقَمَرِ -

২৫৭. হযরত জাবির ইব্‌ন সামুরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি এক চাঁদনি রাতে রাসূলুল্লাহ্-কে লাল ডোরা বিশিষ্ট পোশাক পরিহিত অবস্থায় দেখেছি। (তাঁর গায়ে ঐ পোশাকটি এতই সুন্দর মনে হচ্ছিলো যে) আমি একবার নবী-এর দিকে দেখছিলাম এবং আরেকবার চাঁদের দিকে তাকাচ্ছিলাম। আমার দৃষ্টিতে পূর্ণিমার চাঁদের চেয়ে নবী-কেই অধিক সুন্দর মনে হলো।

ফায়দা: এ হাদীসটিতেও নবী-এর লাল রঙের পোশাক পরিধান করার উল্লেখ আছে। তাই গ্রন্থকার এখানে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। প্রকৃতপক্ষে এ হাদীসটিতে নবী -এর পোশাকের বর্ণনার চেয়ে তাঁর দেহ মুবারকের সৌন্দর্যের বর্ণনা অনেক বেশি প্রকাশ পেয়েছে। রাসূলুল্লাহ্-এর অনুপম রূপ ও অতুলনীয় সৌন্দর্য পূর্ণিমার চাঁদের চেয়েও অধিক ছিলো তা হাদীস বর্ণনাকারী সাহাবীর অতিশয়োক্তি নয়। বরং বাস্তবেও তিনি তাই ছিলেন। প্রকৃত সত্য হলো, নবী-এর অতুলনীয় রূপ ও সৌন্দর্যের সঠিক অবস্থা ভাষায় বর্ণনা করা মানবীয় ক্ষমতার বাইরে। তাছাড়া যে কোন মুসলিমের আকীদা-বিশ্বাস হলো, গোটা সৃষ্টিজগতের মধ্যে নবী-এর রূপ ও সৌন্দর্য অদ্বিতীয়, অতুলনীয়। তাই এতে সন্দেহ নেই যে, মহান আল্লাহ্ নবী-কে বাতেনী ও রূহানী নূর ও তাজাল্লীর সাথে সাথে অতুলনীয় অনুপম রূপ ও সৌন্দর্য পূর্ণাঙ্গরূপে দিয়েছিলেন। হাফিয শীরাযী (র) সত্যই বলেছেন:

হাসান ইউসুফ ইয়াদ বায়দাউ দাম ঈসা দারী + আন্‌চে খোবান হামে দারান্দ তু তানহা দারী -

ইউসুফ (আ)-এর সৌন্দর্য, ঈসা (আ)-এর প্রাণসঞ্চারী বিশ্বাস ও মূসা (আ)-এর বিস্ময়কর শুভ্র হাত সবগুলো গুণ আপনার একার মধ্যেই রয়েছে।

٢٥٠ عَنْ أَسْمَاءَ بِنْتِ أَبِي بَكْرٍ أَنَّ النَّبِيُّ كَانَتْ لَهُ جُبَّةٌ طَيَالِسَةٌ مَكْفُوفَةً بِالدِّيبَاجِ يَلْقَى فِيْهَا الْعَدُوُّ

২৫০. হযরত আসমা বিন্ত আবূ বাক্ (রা) বর্ণনা করেন যে, নবী-এর একটি তায়ালেসানী জুব্বা। (আয়তাকার ঢিলেঢালা জামা) ছিলো যার হাতায় রেশমী ফিতা লাগানো ছিলো। এটি পরিধান করে তিনি শত্রুদের সাথে লড়াই করতে যেতেন।

ফায়দা : এ হাদীস থেকে জানা যায় শত্রুর মনে ভীতি সৃষ্টির উদ্দেশ্যে জাঁকজমকপূর্ণ পোশাক পরিধান করে যুদ্ধের ময়দানে গমন সুন্নত।

٢٥١ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ أَنَّ ذَا يَزِنَ أَهْدَى إِلَى النَّبِيِّ ﷺ حُلَّةً أَشْتُرِيَتْ بِثَلَاثَةٍ وَثَلاثِينَ بَعِيْرًا فَلَبِسَهَا مَرَّةً .

২৫১. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) বর্ণনা করেন যে, (হিমইয়ারের মুসলমান বাদশাহ্) যু-ইয়াযান নবীকে এমন একটি পোশাক হাদিয়া দিলেন যা তেত্রিশটি উটের বিনিময়ে খরিদ করা হয়েছিল। নবী এ কাপড় জোড়া একবার মাত্র পরিধান করেছিলেন।

ফায়দা: যেহেতু এই পোশাক সেট ছিলো একজন বাদশাহ্ প্রেরিত এবং মূল্যবান উপহার, তাই নবী তা একবার মাত্র পরিধান করে পরিত্যাগ করেছিলেন। পুনরায় আর কখনো তা পরিধান করেননি। কারণ তিনি অতি মূল্যবান জমকালো পোশাক-পরিচ্ছদ পছন্দ করতেন না। তিনি বলেছেন: অতি মূল্যবান ও জমকালো পোশাক কেবল তারাই পরিধান করে আখিরাতে যাদের কোন অংশ নেই।

٢٥٢ . عَنْ دَحِيَّةَ الْكَلْبِى أَنَّهُ أَهْدَى إِلَى النَّبِيَّ الجُبَّةٌ مِنَ الشَّامِ وَخُفْيْنِ فَلَبِسَهُمَا النَّبِيُّ حَتَّى تَخَرَّقَا فَلَمْ يُتَبَيَّنْ أَوْ لَمْ يُعْلَمْ أَذْكِيَانِ هُمَا أَوْ مَيْتَهُ حَتَّى تَخْرِقًا -

২৫২. হযরত দিহইয়া কালবী (রা) বর্ণনা করেন যে, তিনি নবী-কে শামদেশে (সিরিয়া) তৈরি একটি জুব্বা এবং দু'টি চামড়ার মোজা উপহার দিয়েছিলেন। তিনি ঐ মোজা দু'টি এত অধিক ব্যবহার করেছিলেন যে তা জীর্ণ হয়ে ফেটে গিয়েছিলো। কিংবা (বর্ণনাকারীর সন্দেহ) তা মৃত জন্তুর চামড়া দ্বারা প্রস্তুত ছিলো না যবেহৃত জন্তুর চামড়া দ্বারা প্রস্তুত ছিল তা জানা যায়নি। কিন্তু ব্যাপক ব্যবহারে তা ফেটে গিয়েছিলো।

ফায়দা: এ হাদীস থেকে জানা যায় যে, নবী উপহার গ্রহণ করতেন। যতক্ষণ পর্যন্ত না কাফিরদের তৈরি দ্রব্যাদির নাপাক হওয়া সম্পর্কে নিশ্চিত ও অকাট্যরূপে কোন কিছু জানা যায় ততক্ষণ তা নাপাক নয়। তাই নবী তাঁকে উপহার হিসেবে প্রদত্ত মোজা মৃত জন্তুর চামড়ায় প্রস্তুত ছিলো না যবেহকৃত জন্তুর চামড়ায় প্রস্তুত ছিলো সে সম্পর্কে অনুসন্ধান করার প্রয়োজন বোধ করেননি। কারণ, পাকা করার পর মৃত জন্তুর চামড়াও পবিত্র হয়ে যায়। সুতরাং উপহার দেয়া মোজা ব্যবহার করতে করতে ছিঁড়ে গিয়েছিল। হানাফীদের মতেও যে কোন চামড়া তা মৃত কিংবা যবেহৃত জন্তুর থেকে হোক পাকানোর পর পবিত্র হয়ে যায় এবং তা ব্যবহার করা বৈধ।

٢٥٣ عَنِ الْمُغِيرَةَ بْنِ شُعْبَةَ قَالَ خَرَجَ النَّبِيُّ لِبَعْضِ حَاجَتِهِ فَأَتْبَعْتُهُ بِادَاوَةٍ مِنْ مَاءٍ فَلَمَّا قَضَى حَاجَتَهُ قُمْتُ لأُوضِنَهُ وَعَلَيْهِ جُبَّةٌ رُومِيَّةً ضَيِّقَةُ الْكُمْ فَأَخْرَجَ يَدَهُ مِنْ تَحْتِهَا وطَرَحَهَا عَاتِقِهِ ثُمَّ تَوَضَّأَ وَمَسَحَ عَلَى خُفَّيْهِ وَالْخِمَارِ ثُمَّ صَلَّى -

২৫৩. হযরত মুগীরা ইন্ন শুবা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেয়ার জন্য বাইরে গেলে আমি একটি পাত্রে পানি নিয়ে তাঁর পেছনে পেছনে গেলাম। তিনি প্রয়োজন সেরে আসলে আমি তাঁকে ওযু করানোর জন্য এগিয়ে গেলাম। সে সময় তাঁর পরিধানে ছিলো একটি রূমী জুব্বা যার হাতা ছিলো অত্যন্ত সংকীর্ণ। তাই তিনি জুব্বা থেকে হাত বের করলেন এবং জুব্বাটা কাঁধের ওপর রেখে ওযু করলেন এবং মোজা ও মাথায় বাঁধা কাপড়ের ওপর মাসেহ করে সালাত পড়লেন।

ফায়দা : এ হাদীস থেকে জানা যায়, নবী অন্যান্য দেশের তৈরি পোশাকও ব্যবহার করতেন। তিনি রোমের তৈরি জুব্বা পরিধান করেছিলেন। যেহেতু তার আস্তিন ছিলো অত্যন্ত সংকীর্ণ। তাই তিনি আস্তিন ওপরে টেনে তোলেননি বরং আস্তিনের মধ্য থেকে হাত বের করে জুব্বাটিকে কাঁধের ওপর রেখে ওযু করেছেন। এখানে শুধু জুব্বা সম্পর্কে বর্ণনাই গ্রন্থকারের উদ্দেশ্য। তাই তিনি এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। আনুষঙ্গিকভাবে এ হাদীসে মোজা এবং মাথার কাপড়ের ওপর মাসেহ করা সম্পর্কে যে উল্লেখ রয়েছে, ফিকহ্ গ্রন্থসমূহে তার বিস্তারিত বর্ণনা আছে। এখানে সে সব মাসয়ালা বর্ণনা করার অবকাশ নেই। অধিকাংশ উলামার মতে শুধু পাগড়ি কিংবা রুমালের উপর মাসেহ করা এবং মাথা আদৌ মাসেহ না করা জায়েয নয়। এতে ওযু পরিশুদ্ধ হবে না।

٢٥٤ عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ قَالَ رَأَيْتُ رَسُولَ اللهِ ﷺ يَتَوَضَّهُ وَعَلَيْهِ جبَّةٌ شَامِيَةٌ ضَيِّقَةُ الْكُمَيْنِ -

২৫৪. হযরত উমর ইবন খাত্তাব (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি একদিন নবী -কে ওযু করতে দেখলাম। সেই সময় তিনি রোমের তৈরি সংকীর্ণ হাতাওয়ালা জুব্বা পরিধান করেছিলেন।

٢٥٥. عَنِ الْمُغِيرَةِ قَالَ كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللهِ ﷺ فِي سَفَرٍ فَذَهَبَ يَحْسُرُ عَنْ ذِرَاعَيْهِ مِنْ جُبَّةٍ رُؤْمِيَةٍ فَلَمْ يَخْرُجُ ذِرَاعَيْهِ فَأَخْرَجَهُمَا مِنْ تَحْتِ الْجُبَّةِ -

২৫৫. হযরত মুগীরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক সফরে আমরা রাসূলুল্লাহ্ -এর সাথে ছিলাম। তিনি রোমের তৈরি তাঁর পরিধানের জুব্বাটির হাতা ওপরে গুটাতে শুরু করলেন। কিন্তু হাতা সংকীর্ণ হওয়ার কারণে হাত বের করতে সক্ষম হলেন না। তখন নিজের হাত জুব্বার ভেতর থেকে বের করে ফেললেন।

٢٥٦. عَنْ أَبِي حُجَيْفَةَ قَالَ خَرَجَ النَّبِيُّ ﷺ وَعَلَيْهِ حُلَّةً حَمْرَاءُ مُشَمِّرًا -

২৫৬. হযরত আবূ হুজায়ফা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার নবী বাইরে বের হলে তাঁর গায়ে লাল ডোরা বিশিষ্ট পোশাক ছিলো এবং তা তাঁর পায়ের নলা পর্যন্ত উঠানো ছিলো।

ফায়দা: এ হাদীস থেকে প্রমাণিত হয় যে, নবী পায়ের নলা পর্যন্ত দীর্ঘ লাল পোশাক পরিধান করেছেন। পুরুষদের নিরেট লাল রঙের কাপড় পরিধান সম্পর্কে আলিমদের মধ্যে মতানৈক্য আছে। জুব্বাটি ছিলো লাল ডোরা বিশিষ্ট যা সবার মতেই জায়েয। নবী পায়ের গোছার মধ্যভাগ পর্যন্ত উঁচু পোশাক পরতেন। এটাই সুন্নত। পায়ের গিরা পর্যন্ত লম্বা পোশাক পরিধান করাও জায়েয। এর চেয়ে অধিক লম্বা পোশাক পরিধান করা মাকরূহ, কারণ তা কাফির ও অহংকারী লোকদের প্রতীক।

٢٥٧ . عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ قَالَ رَأَيْتُ النَّبِيُّ ﷺ فِي لَيْلَةِ اضْحِيَانِ وَعَلَيْهِ حَلَّةً حَمَرَاء فَجَعَلْتُ أَنْظُرُ إِلَيْهِ وَإِلَى الْقَمَرِ فَلَهُوَ أَحْسَنُ فِي عَيْنِي مِنَ الْقَمَرِ -

২৫৭. হযরত জাবির ইব্‌ন সামুরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি এক চাঁদনি রাতে রাসূলুল্লাহ্-কে লাল ডোরা বিশিষ্ট পোশাক পরিহিত অবস্থায় দেখেছি। (তাঁর গায়ে ঐ পোশাকটি এতই সুন্দর মনে হচ্ছিলো যে) আমি একবার নবী-এর দিকে দেখছিলাম এবং আরেকবার চাঁদের দিকে তাকাচ্ছিলাম। আমার দৃষ্টিতে পূর্ণিমার চাঁদের চেয়ে নবী-কেই অধিক সুন্দর মনে হলো।

ফায়দা: এ হাদীসটিতেও নবী-এর লাল রঙের পোশাক পরিধান করার উল্লেখ আছে। তাই গ্রন্থকার এখানে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। প্রকৃতপক্ষে এ হাদীসটিতে নবী -এর পোশাকের বর্ণনার চেয়ে তাঁর দেহ মুবারকের সৌন্দর্যের বর্ণনা অনেক বেশি প্রকাশ পেয়েছে। রাসূলুল্লাহ্-এর অনুপম রূপ ও অতুলনীয় সৌন্দর্য পূর্ণিমার চাঁদের চেয়েও অধিক ছিলো তা হাদীস বর্ণনাকারী সাহাবীর অতিশয়োক্তি নয়। বরং বাস্তবেও তিনি তাই ছিলেন। প্রকৃত সত্য হলো, নবী-এর অতুলনীয় রূপ ও সৌন্দর্যের সঠিক অবস্থা ভাষায় বর্ণনা করা মানবীয় ক্ষমতার বাইরে। তাছাড়া যে কোন মুসলিমের আকীদা-বিশ্বাস হলো, গোটা সৃষ্টিজগতের মধ্যে নবী-এর রূপ ও সৌন্দর্য অদ্বিতীয়, অতুলনীয়। তাই এতে সন্দেহ নেই যে, মহান আল্লাহ্ নবী-কে বাতেনী ও রূহানী নূর ও তাজাল্লীর সাথে সাথে অতুলনীয় অনুপম রূপ ও সৌন্দর্য পূর্ণাঙ্গরূপে দিয়েছিলেন। হাফিয শীরাযী (র) সত্যই বলেছেন:

হাসান ইউসুফ ইয়াদ বায়দাউ দাম ঈসা দারী + আন্‌চে খোবান হামে দারান্দ তু তানহা দারী -

ইউসুফ (আ)-এর সৌন্দর্য, ঈসা (আ)-এর প্রাণসঞ্চারী বিশ্বাস ও মূসা (আ)-এর বিস্ময়কর শুভ্র হাত সবগুলো গুণ আপনার একার মধ্যেই রয়েছে।

٢٥٠ عَنْ أَسْمَاءَ بِنْتِ أَبِي بَكْرٍ أَنَّ النَّبِيُّ كَانَتْ لَهُ جُبَّةٌ طَيَالِسَةٌ مَكْفُوفَةً بِالدِّيبَاجِ يَلْقَى فِيْهَا الْعَدُوُّ

২৫০. হযরত আসমা বিন্ত আবূ বাক্ (রা) বর্ণনা করেন যে, নবী-এর একটি তায়ালেসানী জুব্বা। (আয়তাকার ঢিলেঢালা জামা) ছিলো যার হাতায় রেশমী ফিতা লাগানো ছিলো। এটি পরিধান করে তিনি শত্রুদের সাথে লড়াই করতে যেতেন।

ফায়দা : এ হাদীস থেকে জানা যায় শত্রুর মনে ভীতি সৃষ্টির উদ্দেশ্যে জাঁকজমকপূর্ণ পোশাক পরিধান করে যুদ্ধের ময়দানে গমন সুন্নত।

٢٥١ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ أَنَّ ذَا يَزِنَ أَهْدَى إِلَى النَّبِيِّ ﷺ حُلَّةً أَشْتُرِيَتْ بِثَلَاثَةٍ وَثَلاثِينَ بَعِيْرًا فَلَبِسَهَا مَرَّةً .

২৫১. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) বর্ণনা করেন যে, (হিমইয়ারের মুসলমান বাদশাহ্) যু-ইয়াযান নবীকে এমন একটি পোশাক হাদিয়া দিলেন যা তেত্রিশটি উটের বিনিময়ে খরিদ করা হয়েছিল। নবী এ কাপড় জোড়া একবার মাত্র পরিধান করেছিলেন।

ফায়দা: যেহেতু এই পোশাক সেট ছিলো একজন বাদশাহ্ প্রেরিত এবং মূল্যবান উপহার, তাই নবী তা একবার মাত্র পরিধান করে পরিত্যাগ করেছিলেন। পুনরায় আর কখনো তা পরিধান করেননি। কারণ তিনি অতি মূল্যবান জমকালো পোশাক-পরিচ্ছদ পছন্দ করতেন না। তিনি বলেছেন: অতি মূল্যবান ও জমকালো পোশাক কেবল তারাই পরিধান করে আখিরাতে যাদের কোন অংশ নেই।

٢٥٢ . عَنْ دَحِيَّةَ الْكَلْبِى أَنَّهُ أَهْدَى إِلَى النَّبِيَّ الجُبَّةٌ مِنَ الشَّامِ وَخُفْيْنِ فَلَبِسَهُمَا النَّبِيُّ حَتَّى تَخَرَّقَا فَلَمْ يُتَبَيَّنْ أَوْ لَمْ يُعْلَمْ أَذْكِيَانِ هُمَا أَوْ مَيْتَهُ حَتَّى تَخْرِقًا -

২৫২. হযরত দিহইয়া কালবী (রা) বর্ণনা করেন যে, তিনি নবী-কে শামদেশে (সিরিয়া) তৈরি একটি জুব্বা এবং দু'টি চামড়ার মোজা উপহার দিয়েছিলেন। তিনি ঐ মোজা দু'টি এত অধিক ব্যবহার করেছিলেন যে তা জীর্ণ হয়ে ফেটে গিয়েছিলো। কিংবা (বর্ণনাকারীর সন্দেহ) তা মৃত জন্তুর চামড়া দ্বারা প্রস্তুত ছিলো না যবেহৃত জন্তুর চামড়া দ্বারা প্রস্তুত ছিল তা জানা যায়নি। কিন্তু ব্যাপক ব্যবহারে তা ফেটে গিয়েছিলো।

ফায়দা: এ হাদীস থেকে জানা যায় যে, নবী উপহার গ্রহণ করতেন। যতক্ষণ পর্যন্ত না কাফিরদের তৈরি দ্রব্যাদির নাপাক হওয়া সম্পর্কে নিশ্চিত ও অকাট্যরূপে কোন কিছু জানা যায় ততক্ষণ তা নাপাক নয়। তাই নবী তাঁকে উপহার হিসেবে প্রদত্ত মোজা মৃত জন্তুর চামড়ায় প্রস্তুত ছিলো না যবেহকৃত জন্তুর চামড়ায় প্রস্তুত ছিলো সে সম্পর্কে অনুসন্ধান করার প্রয়োজন বোধ করেননি। কারণ, পাকা করার পর মৃত জন্তুর চামড়াও পবিত্র হয়ে যায়। সুতরাং উপহার দেয়া মোজা ব্যবহার করতে করতে ছিঁড়ে গিয়েছিল। হানাফীদের মতেও যে কোন চামড়া তা মৃত কিংবা যবেহৃত জন্তুর থেকে হোক পাকানোর পর পবিত্র হয়ে যায় এবং তা ব্যবহার করা বৈধ।

٢٥٣ عَنِ الْمُغِيرَةَ بْنِ شُعْبَةَ قَالَ خَرَجَ النَّبِيُّ لِبَعْضِ حَاجَتِهِ فَأَتْبَعْتُهُ بِادَاوَةٍ مِنْ مَاءٍ فَلَمَّا قَضَى حَاجَتَهُ قُمْتُ لأُوضِنَهُ وَعَلَيْهِ جُبَّةٌ رُومِيَّةً ضَيِّقَةُ الْكُمْ فَأَخْرَجَ يَدَهُ مِنْ تَحْتِهَا وطَرَحَهَا عَاتِقِهِ ثُمَّ تَوَضَّأَ وَمَسَحَ عَلَى خُفَّيْهِ وَالْخِمَارِ ثُمَّ صَلَّى -

২৫৩. হযরত মুগীরা ইন্ন শুবা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেয়ার জন্য বাইরে গেলে আমি একটি পাত্রে পানি নিয়ে তাঁর পেছনে পেছনে গেলাম। তিনি প্রয়োজন সেরে আসলে আমি তাঁকে ওযু করানোর জন্য এগিয়ে গেলাম। সে সময় তাঁর পরিধানে ছিলো একটি রূমী জুব্বা যার হাতা ছিলো অত্যন্ত সংকীর্ণ। তাই তিনি জুব্বা থেকে হাত বের করলেন এবং জুব্বাটা কাঁধের ওপর রেখে ওযু করলেন এবং মোজা ও মাথায় বাঁধা কাপড়ের ওপর মাসেহ করে সালাত পড়লেন।

ফায়দা : এ হাদীস থেকে জানা যায়, নবী অন্যান্য দেশের তৈরি পোশাকও ব্যবহার করতেন। তিনি রোমের তৈরি জুব্বা পরিধান করেছিলেন। যেহেতু তার আস্তিন ছিলো অত্যন্ত সংকীর্ণ। তাই তিনি আস্তিন ওপরে টেনে তোলেননি বরং আস্তিনের মধ্য থেকে হাত বের করে জুব্বাটিকে কাঁধের ওপর রেখে ওযু করেছেন। এখানে শুধু জুব্বা সম্পর্কে বর্ণনাই গ্রন্থকারের উদ্দেশ্য। তাই তিনি এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। আনুষঙ্গিকভাবে এ হাদীসে মোজা এবং মাথার কাপড়ের ওপর মাসেহ করা সম্পর্কে যে উল্লেখ রয়েছে, ফিকহ্ গ্রন্থসমূহে তার বিস্তারিত বর্ণনা আছে। এখানে সে সব মাসয়ালা বর্ণনা করার অবকাশ নেই। অধিকাংশ উলামার মতে শুধু পাগড়ি কিংবা রুমালের উপর মাসেহ করা এবং মাথা আদৌ মাসেহ না করা জায়েয নয়। এতে ওযু পরিশুদ্ধ হবে না।

٢٥٤ عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ قَالَ رَأَيْتُ رَسُولَ اللهِ ﷺ يَتَوَضَّهُ وَعَلَيْهِ جبَّةٌ شَامِيَةٌ ضَيِّقَةُ الْكُمَيْنِ -

২৫৪. হযরত উমর ইবন খাত্তাব (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি একদিন নবী -কে ওযু করতে দেখলাম। সেই সময় তিনি রোমের তৈরি সংকীর্ণ হাতাওয়ালা জুব্বা পরিধান করেছিলেন।

٢٥٥. عَنِ الْمُغِيرَةِ قَالَ كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللهِ ﷺ فِي سَفَرٍ فَذَهَبَ يَحْسُرُ عَنْ ذِرَاعَيْهِ مِنْ جُبَّةٍ رُؤْمِيَةٍ فَلَمْ يَخْرُجُ ذِرَاعَيْهِ فَأَخْرَجَهُمَا مِنْ تَحْتِ الْجُبَّةِ -

২৫৫. হযরত মুগীরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক সফরে আমরা রাসূলুল্লাহ্ -এর সাথে ছিলাম। তিনি রোমের তৈরি তাঁর পরিধানের জুব্বাটির হাতা ওপরে গুটাতে শুরু করলেন। কিন্তু হাতা সংকীর্ণ হওয়ার কারণে হাত বের করতে সক্ষম হলেন না। তখন নিজের হাত জুব্বার ভেতর থেকে বের করে ফেললেন।

٢٥٦. عَنْ أَبِي حُجَيْفَةَ قَالَ خَرَجَ النَّبِيُّ ﷺ وَعَلَيْهِ حُلَّةً حَمْرَاءُ مُشَمِّرًا -

২৫৬. হযরত আবূ হুজায়ফা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার নবী বাইরে বের হলে তাঁর গায়ে লাল ডোরা বিশিষ্ট পোশাক ছিলো এবং তা তাঁর পায়ের নলা পর্যন্ত উঠানো ছিলো।

ফায়দা: এ হাদীস থেকে প্রমাণিত হয় যে, নবী পায়ের নলা পর্যন্ত দীর্ঘ লাল পোশাক পরিধান করেছেন। পুরুষদের নিরেট লাল রঙের কাপড় পরিধান সম্পর্কে আলিমদের মধ্যে মতানৈক্য আছে। জুব্বাটি ছিলো লাল ডোরা বিশিষ্ট যা সবার মতেই জায়েয। নবী পায়ের গোছার মধ্যভাগ পর্যন্ত উঁচু পোশাক পরতেন। এটাই সুন্নত। পায়ের গিরা পর্যন্ত লম্বা পোশাক পরিধান করাও জায়েয। এর চেয়ে অধিক লম্বা পোশাক পরিধান করা মাকরূহ, কারণ তা কাফির ও অহংকারী লোকদের প্রতীক।

٢٥٧ . عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ قَالَ رَأَيْتُ النَّبِيُّ ﷺ فِي لَيْلَةِ اضْحِيَانِ وَعَلَيْهِ حَلَّةً حَمَرَاء فَجَعَلْتُ أَنْظُرُ إِلَيْهِ وَإِلَى الْقَمَرِ فَلَهُوَ أَحْسَنُ فِي عَيْنِي مِنَ الْقَمَرِ -

২৫৭. হযরত জাবির ইব্‌ন সামুরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি এক চাঁদনি রাতে রাসূলুল্লাহ্-কে লাল ডোরা বিশিষ্ট পোশাক পরিহিত অবস্থায় দেখেছি। (তাঁর গায়ে ঐ পোশাকটি এতই সুন্দর মনে হচ্ছিলো যে) আমি একবার নবী-এর দিকে দেখছিলাম এবং আরেকবার চাঁদের দিকে তাকাচ্ছিলাম। আমার দৃষ্টিতে পূর্ণিমার চাঁদের চেয়ে নবী-কেই অধিক সুন্দর মনে হলো।

ফায়দা: এ হাদীসটিতেও নবী-এর লাল রঙের পোশাক পরিধান করার উল্লেখ আছে। তাই গ্রন্থকার এখানে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। প্রকৃতপক্ষে এ হাদীসটিতে নবী -এর পোশাকের বর্ণনার চেয়ে তাঁর দেহ মুবারকের সৌন্দর্যের বর্ণনা অনেক বেশি প্রকাশ পেয়েছে। রাসূলুল্লাহ্-এর অনুপম রূপ ও অতুলনীয় সৌন্দর্য পূর্ণিমার চাঁদের চেয়েও অধিক ছিলো তা হাদীস বর্ণনাকারী সাহাবীর অতিশয়োক্তি নয়। বরং বাস্তবেও তিনি তাই ছিলেন। প্রকৃত সত্য হলো, নবী-এর অতুলনীয় রূপ ও সৌন্দর্যের সঠিক অবস্থা ভাষায় বর্ণনা করা মানবীয় ক্ষমতার বাইরে। তাছাড়া যে কোন মুসলিমের আকীদা-বিশ্বাস হলো, গোটা সৃষ্টিজগতের মধ্যে নবী-এর রূপ ও সৌন্দর্য অদ্বিতীয়, অতুলনীয়। তাই এতে সন্দেহ নেই যে, মহান আল্লাহ্ নবী-কে বাতেনী ও রূহানী নূর ও তাজাল্লীর সাথে সাথে অতুলনীয় অনুপম রূপ ও সৌন্দর্য পূর্ণাঙ্গরূপে দিয়েছিলেন। হাফিয শীরাযী (র) সত্যই বলেছেন:

হাসান ইউসুফ ইয়াদ বায়দাউ দাম ঈসা দারী + আন্‌চে খোবান হামে দারান্দ তু তানহা দারী -

ইউসুফ (আ)-এর সৌন্দর্য, ঈসা (আ)-এর প্রাণসঞ্চারী বিশ্বাস ও মূসা (আ)-এর বিস্ময়কর শুভ্র হাত সবগুলো গুণ আপনার একার মধ্যেই রয়েছে।

٢٥٠ عَنْ أَسْمَاءَ بِنْتِ أَبِي بَكْرٍ أَنَّ النَّبِيُّ كَانَتْ لَهُ جُبَّةٌ طَيَالِسَةٌ مَكْفُوفَةً بِالدِّيبَاجِ يَلْقَى فِيْهَا الْعَدُوُّ

২৫০. হযরত আসমা বিন্ত আবূ বাক্ (রা) বর্ণনা করেন যে, নবী-এর একটি তায়ালেসানী জুব্বা। (আয়তাকার ঢিলেঢালা জামা) ছিলো যার হাতায় রেশমী ফিতা লাগানো ছিলো। এটি পরিধান করে তিনি শত্রুদের সাথে লড়াই করতে যেতেন।

ফায়দা : এ হাদীস থেকে জানা যায় শত্রুর মনে ভীতি সৃষ্টির উদ্দেশ্যে জাঁকজমকপূর্ণ পোশাক পরিধান করে যুদ্ধের ময়দানে গমন সুন্নত।

٢٥١ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ أَنَّ ذَا يَزِنَ أَهْدَى إِلَى النَّبِيِّ ﷺ حُلَّةً أَشْتُرِيَتْ بِثَلَاثَةٍ وَثَلاثِينَ بَعِيْرًا فَلَبِسَهَا مَرَّةً .

২৫১. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) বর্ণনা করেন যে, (হিমইয়ারের মুসলমান বাদশাহ্) যু-ইয়াযান নবীকে এমন একটি পোশাক হাদিয়া দিলেন যা তেত্রিশটি উটের বিনিময়ে খরিদ করা হয়েছিল। নবী এ কাপড় জোড়া একবার মাত্র পরিধান করেছিলেন।

ফায়দা: যেহেতু এই পোশাক সেট ছিলো একজন বাদশাহ্ প্রেরিত এবং মূল্যবান উপহার, তাই নবী তা একবার মাত্র পরিধান করে পরিত্যাগ করেছিলেন। পুনরায় আর কখনো তা পরিধান করেননি। কারণ তিনি অতি মূল্যবান জমকালো পোশাক-পরিচ্ছদ পছন্দ করতেন না। তিনি বলেছেন: অতি মূল্যবান ও জমকালো পোশাক কেবল তারাই পরিধান করে আখিরাতে যাদের কোন অংশ নেই।

٢٥٢ . عَنْ دَحِيَّةَ الْكَلْبِى أَنَّهُ أَهْدَى إِلَى النَّبِيَّ الجُبَّةٌ مِنَ الشَّامِ وَخُفْيْنِ فَلَبِسَهُمَا النَّبِيُّ حَتَّى تَخَرَّقَا فَلَمْ يُتَبَيَّنْ أَوْ لَمْ يُعْلَمْ أَذْكِيَانِ هُمَا أَوْ مَيْتَهُ حَتَّى تَخْرِقًا -

২৫২. হযরত দিহইয়া কালবী (রা) বর্ণনা করেন যে, তিনি নবী-কে শামদেশে (সিরিয়া) তৈরি একটি জুব্বা এবং দু'টি চামড়ার মোজা উপহার দিয়েছিলেন। তিনি ঐ মোজা দু'টি এত অধিক ব্যবহার করেছিলেন যে তা জীর্ণ হয়ে ফেটে গিয়েছিলো। কিংবা (বর্ণনাকারীর সন্দেহ) তা মৃত জন্তুর চামড়া দ্বারা প্রস্তুত ছিলো না যবেহৃত জন্তুর চামড়া দ্বারা প্রস্তুত ছিল তা জানা যায়নি। কিন্তু ব্যাপক ব্যবহারে তা ফেটে গিয়েছিলো।

ফায়দা: এ হাদীস থেকে জানা যায় যে, নবী উপহার গ্রহণ করতেন। যতক্ষণ পর্যন্ত না কাফিরদের তৈরি দ্রব্যাদির নাপাক হওয়া সম্পর্কে নিশ্চিত ও অকাট্যরূপে কোন কিছু জানা যায় ততক্ষণ তা নাপাক নয়। তাই নবী তাঁকে উপহার হিসেবে প্রদত্ত মোজা মৃত জন্তুর চামড়ায় প্রস্তুত ছিলো না যবেহকৃত জন্তুর চামড়ায় প্রস্তুত ছিলো সে সম্পর্কে অনুসন্ধান করার প্রয়োজন বোধ করেননি। কারণ, পাকা করার পর মৃত জন্তুর চামড়াও পবিত্র হয়ে যায়। সুতরাং উপহার দেয়া মোজা ব্যবহার করতে করতে ছিঁড়ে গিয়েছিল। হানাফীদের মতেও যে কোন চামড়া তা মৃত কিংবা যবেহৃত জন্তুর থেকে হোক পাকানোর পর পবিত্র হয়ে যায় এবং তা ব্যবহার করা বৈধ।

٢٥٣ عَنِ الْمُغِيرَةَ بْنِ شُعْبَةَ قَالَ خَرَجَ النَّبِيُّ لِبَعْضِ حَاجَتِهِ فَأَتْبَعْتُهُ بِادَاوَةٍ مِنْ مَاءٍ فَلَمَّا قَضَى حَاجَتَهُ قُمْتُ لأُوضِنَهُ وَعَلَيْهِ جُبَّةٌ رُومِيَّةً ضَيِّقَةُ الْكُمْ فَأَخْرَجَ يَدَهُ مِنْ تَحْتِهَا وطَرَحَهَا عَاتِقِهِ ثُمَّ تَوَضَّأَ وَمَسَحَ عَلَى خُفَّيْهِ وَالْخِمَارِ ثُمَّ صَلَّى -

২৫৩. হযরত মুগীরা ইন্ন শুবা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেয়ার জন্য বাইরে গেলে আমি একটি পাত্রে পানি নিয়ে তাঁর পেছনে পেছনে গেলাম। তিনি প্রয়োজন সেরে আসলে আমি তাঁকে ওযু করানোর জন্য এগিয়ে গেলাম। সে সময় তাঁর পরিধানে ছিলো একটি রূমী জুব্বা যার হাতা ছিলো অত্যন্ত সংকীর্ণ। তাই তিনি জুব্বা থেকে হাত বের করলেন এবং জুব্বাটা কাঁধের ওপর রেখে ওযু করলেন এবং মোজা ও মাথায় বাঁধা কাপড়ের ওপর মাসেহ করে সালাত পড়লেন।

ফায়দা : এ হাদীস থেকে জানা যায়, নবী অন্যান্য দেশের তৈরি পোশাকও ব্যবহার করতেন। তিনি রোমের তৈরি জুব্বা পরিধান করেছিলেন। যেহেতু তার আস্তিন ছিলো অত্যন্ত সংকীর্ণ। তাই তিনি আস্তিন ওপরে টেনে তোলেননি বরং আস্তিনের মধ্য থেকে হাত বের করে জুব্বাটিকে কাঁধের ওপর রেখে ওযু করেছেন। এখানে শুধু জুব্বা সম্পর্কে বর্ণনাই গ্রন্থকারের উদ্দেশ্য। তাই তিনি এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। আনুষঙ্গিকভাবে এ হাদীসে মোজা এবং মাথার কাপড়ের ওপর মাসেহ করা সম্পর্কে যে উল্লেখ রয়েছে, ফিকহ্ গ্রন্থসমূহে তার বিস্তারিত বর্ণনা আছে। এখানে সে সব মাসয়ালা বর্ণনা করার অবকাশ নেই। অধিকাংশ উলামার মতে শুধু পাগড়ি কিংবা রুমালের উপর মাসেহ করা এবং মাথা আদৌ মাসেহ না করা জায়েয নয়। এতে ওযু পরিশুদ্ধ হবে না।

٢٥٤ عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ قَالَ رَأَيْتُ رَسُولَ اللهِ ﷺ يَتَوَضَّهُ وَعَلَيْهِ جبَّةٌ شَامِيَةٌ ضَيِّقَةُ الْكُمَيْنِ -

২৫৪. হযরত উমর ইবন খাত্তাব (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি একদিন নবী -কে ওযু করতে দেখলাম। সেই সময় তিনি রোমের তৈরি সংকীর্ণ হাতাওয়ালা জুব্বা পরিধান করেছিলেন।

٢٥٥. عَنِ الْمُغِيرَةِ قَالَ كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللهِ ﷺ فِي سَفَرٍ فَذَهَبَ يَحْسُرُ عَنْ ذِرَاعَيْهِ مِنْ جُبَّةٍ رُؤْمِيَةٍ فَلَمْ يَخْرُجُ ذِرَاعَيْهِ فَأَخْرَجَهُمَا مِنْ تَحْتِ الْجُبَّةِ -

২৫৫. হযরত মুগীরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক সফরে আমরা রাসূলুল্লাহ্ -এর সাথে ছিলাম। তিনি রোমের তৈরি তাঁর পরিধানের জুব্বাটির হাতা ওপরে গুটাতে শুরু করলেন। কিন্তু হাতা সংকীর্ণ হওয়ার কারণে হাত বের করতে সক্ষম হলেন না। তখন নিজের হাত জুব্বার ভেতর থেকে বের করে ফেললেন।

٢٥٦. عَنْ أَبِي حُجَيْفَةَ قَالَ خَرَجَ النَّبِيُّ ﷺ وَعَلَيْهِ حُلَّةً حَمْرَاءُ مُشَمِّرًا -

২৫৬. হযরত আবূ হুজায়ফা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার নবী বাইরে বের হলে তাঁর গায়ে লাল ডোরা বিশিষ্ট পোশাক ছিলো এবং তা তাঁর পায়ের নলা পর্যন্ত উঠানো ছিলো।

ফায়দা: এ হাদীস থেকে প্রমাণিত হয় যে, নবী পায়ের নলা পর্যন্ত দীর্ঘ লাল পোশাক পরিধান করেছেন। পুরুষদের নিরেট লাল রঙের কাপড় পরিধান সম্পর্কে আলিমদের মধ্যে মতানৈক্য আছে। জুব্বাটি ছিলো লাল ডোরা বিশিষ্ট যা সবার মতেই জায়েয। নবী পায়ের গোছার মধ্যভাগ পর্যন্ত উঁচু পোশাক পরতেন। এটাই সুন্নত। পায়ের গিরা পর্যন্ত লম্বা পোশাক পরিধান করাও জায়েয। এর চেয়ে অধিক লম্বা পোশাক পরিধান করা মাকরূহ, কারণ তা কাফির ও অহংকারী লোকদের প্রতীক।

٢٥٧ . عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ قَالَ رَأَيْتُ النَّبِيُّ ﷺ فِي لَيْلَةِ اضْحِيَانِ وَعَلَيْهِ حَلَّةً حَمَرَاء فَجَعَلْتُ أَنْظُرُ إِلَيْهِ وَإِلَى الْقَمَرِ فَلَهُوَ أَحْسَنُ فِي عَيْنِي مِنَ الْقَمَرِ -

২৫৭. হযরত জাবির ইব্‌ন সামুরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি এক চাঁদনি রাতে রাসূলুল্লাহ্-কে লাল ডোরা বিশিষ্ট পোশাক পরিহিত অবস্থায় দেখেছি। (তাঁর গায়ে ঐ পোশাকটি এতই সুন্দর মনে হচ্ছিলো যে) আমি একবার নবী-এর দিকে দেখছিলাম এবং আরেকবার চাঁদের দিকে তাকাচ্ছিলাম। আমার দৃষ্টিতে পূর্ণিমার চাঁদের চেয়ে নবী-কেই অধিক সুন্দর মনে হলো।

ফায়দা: এ হাদীসটিতেও নবী-এর লাল রঙের পোশাক পরিধান করার উল্লেখ আছে। তাই গ্রন্থকার এখানে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। প্রকৃতপক্ষে এ হাদীসটিতে নবী -এর পোশাকের বর্ণনার চেয়ে তাঁর দেহ মুবারকের সৌন্দর্যের বর্ণনা অনেক বেশি প্রকাশ পেয়েছে। রাসূলুল্লাহ্-এর অনুপম রূপ ও অতুলনীয় সৌন্দর্য পূর্ণিমার চাঁদের চেয়েও অধিক ছিলো তা হাদীস বর্ণনাকারী সাহাবীর অতিশয়োক্তি নয়। বরং বাস্তবেও তিনি তাই ছিলেন। প্রকৃত সত্য হলো, নবী-এর অতুলনীয় রূপ ও সৌন্দর্যের সঠিক অবস্থা ভাষায় বর্ণনা করা মানবীয় ক্ষমতার বাইরে। তাছাড়া যে কোন মুসলিমের আকীদা-বিশ্বাস হলো, গোটা সৃষ্টিজগতের মধ্যে নবী-এর রূপ ও সৌন্দর্য অদ্বিতীয়, অতুলনীয়। তাই এতে সন্দেহ নেই যে, মহান আল্লাহ্ নবী-কে বাতেনী ও রূহানী নূর ও তাজাল্লীর সাথে সাথে অতুলনীয় অনুপম রূপ ও সৌন্দর্য পূর্ণাঙ্গরূপে দিয়েছিলেন। হাফিয শীরাযী (র) সত্যই বলেছেন:

হাসান ইউসুফ ইয়াদ বায়দাউ দাম ঈসা দারী + আন্‌চে খোবান হামে দারান্দ তু তানহা দারী -

ইউসুফ (আ)-এর সৌন্দর্য, ঈসা (আ)-এর প্রাণসঞ্চারী বিশ্বাস ও মূসা (আ)-এর বিস্ময়কর শুভ্র হাত সবগুলো গুণ আপনার একার মধ্যেই রয়েছে।

📘 হাদিস আখলাকুন নবী সাঃ > 📄 নবী (সা)-এর জুব্বা মুবারক-এর বর্ণনা

📄 নবী (সা)-এর জুব্বা মুবারক-এর বর্ণনা


٢٥٠ عَنْ أَسْمَاءَ بِنْتِ أَبِي بَكْرٍ أَنَّ النَّبِيُّ كَانَتْ لَهُ جُبَّةٌ طَيَالِسَةٌ مَكْفُوفَةً بِالدِّيبَاجِ يَلْقَى فِيْهَا الْعَدُوُّ

২৫০. হযরত আসমা বিন্ত আবূ বাক্ (রা) বর্ণনা করেন যে, নবী-এর একটি তায়ালেসানী জুব্বা। (আয়তাকার ঢিলেঢালা জামা) ছিলো যার হাতায় রেশমী ফিতা লাগানো ছিলো। এটি পরিধান করে তিনি শত্রুদের সাথে লড়াই করতে যেতেন।

ফায়দা : এ হাদীস থেকে জানা যায় শত্রুর মনে ভীতি সৃষ্টির উদ্দেশ্যে জাঁকজমকপূর্ণ পোশাক পরিধান করে যুদ্ধের ময়দানে গমন সুন্নত।

٢٥١ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ أَنَّ ذَا يَزِنَ أَهْدَى إِلَى النَّبِيِّ ﷺ حُلَّةً أَشْتُرِيَتْ بِثَلَاثَةٍ وَثَلاثِينَ بَعِيْرًا فَلَبِسَهَا مَرَّةً .

২৫১. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) বর্ণনা করেন যে, (হিমইয়ারের মুসলমান বাদশাহ্) যু-ইয়াযান নবীকে এমন একটি পোশাক হাদিয়া দিলেন যা তেত্রিশটি উটের বিনিময়ে খরিদ করা হয়েছিল। নবী এ কাপড় জোড়া একবার মাত্র পরিধান করেছিলেন।

ফায়দা: যেহেতু এই পোশাক সেট ছিলো একজন বাদশাহ্ প্রেরিত এবং মূল্যবান উপহার, তাই নবী তা একবার মাত্র পরিধান করে পরিত্যাগ করেছিলেন। পুনরায় আর কখনো তা পরিধান করেননি। কারণ তিনি অতি মূল্যবান জমকালো পোশাক-পরিচ্ছদ পছন্দ করতেন না। তিনি বলেছেন: অতি মূল্যবান ও জমকালো পোশাক কেবল তারাই পরিধান করে আখিরাতে যাদের কোন অংশ নেই।

٢٥٢ . عَنْ دَحِيَّةَ الْكَلْبِى أَنَّهُ أَهْدَى إِلَى النَّبِيَّ الجُبَّةٌ مِنَ الشَّامِ وَخُفْيْنِ فَلَبِسَهُمَا النَّبِيُّ حَتَّى تَخَرَّقَا فَلَمْ يُتَبَيَّنْ أَوْ لَمْ يُعْلَمْ أَذْكِيَانِ هُمَا أَوْ مَيْتَهُ حَتَّى تَخْرِقًا -

২৫২. হযরত দিহইয়া কালবী (রা) বর্ণনা করেন যে, তিনি নবী-কে শামদেশে (সিরিয়া) তৈরি একটি জুব্বা এবং দু'টি চামড়ার মোজা উপহার দিয়েছিলেন। তিনি ঐ মোজা দু'টি এত অধিক ব্যবহার করেছিলেন যে তা জীর্ণ হয়ে ফেটে গিয়েছিলো। কিংবা (বর্ণনাকারীর সন্দেহ) তা মৃত জন্তুর চামড়া দ্বারা প্রস্তুত ছিলো না যবেহৃত জন্তুর চামড়া দ্বারা প্রস্তুত ছিল তা জানা যায়নি। কিন্তু ব্যাপক ব্যবহারে তা ফেটে গিয়েছিলো।

ফায়দা: এ হাদীস থেকে জানা যায় যে, নবী উপহার গ্রহণ করতেন। যতক্ষণ পর্যন্ত না কাফিরদের তৈরি দ্রব্যাদির নাপাক হওয়া সম্পর্কে নিশ্চিত ও অকাট্যরূপে কোন কিছু জানা যায় ততক্ষণ তা নাপাক নয়। তাই নবী তাঁকে উপহার হিসেবে প্রদত্ত মোজা মৃত জন্তুর চামড়ায় প্রস্তুত ছিলো না যবেহকৃত জন্তুর চামড়ায় প্রস্তুত ছিলো সে সম্পর্কে অনুসন্ধান করার প্রয়োজন বোধ করেননি। কারণ, পাকা করার পর মৃত জন্তুর চামড়াও পবিত্র হয়ে যায়। সুতরাং উপহার দেয়া মোজা ব্যবহার করতে করতে ছিঁড়ে গিয়েছিল। হানাফীদের মতেও যে কোন চামড়া তা মৃত কিংবা যবেহৃত জন্তুর থেকে হোক পাকানোর পর পবিত্র হয়ে যায় এবং তা ব্যবহার করা বৈধ।

٢٥٣ عَنِ الْمُغِيرَةَ بْنِ شُعْبَةَ قَالَ خَرَجَ النَّبِيُّ لِبَعْضِ حَاجَتِهِ فَأَتْبَعْتُهُ بِادَاوَةٍ مِنْ مَاءٍ فَلَمَّا قَضَى حَاجَتَهُ قُمْتُ لأُوضِنَهُ وَعَلَيْهِ جُبَّةٌ رُومِيَّةً ضَيِّقَةُ الْكُمْ فَأَخْرَجَ يَدَهُ مِنْ تَحْتِهَا وطَرَحَهَا عَاتِقِهِ ثُمَّ تَوَضَّأَ وَمَسَحَ عَلَى خُفَّيْهِ وَالْخِمَارِ ثُمَّ صَلَّى -

২৫৩. হযরত মুগীরা ইন্ন শুবা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেয়ার জন্য বাইরে গেলে আমি একটি পাত্রে পানি নিয়ে তাঁর পেছনে পেছনে গেলাম। তিনি প্রয়োজন সেরে আসলে আমি তাঁকে ওযু করানোর জন্য এগিয়ে গেলাম। সে সময় তাঁর পরিধানে ছিলো একটি রূমী জুব্বা যার হাতা ছিলো অত্যন্ত সংকীর্ণ। তাই তিনি জুব্বা থেকে হাত বের করলেন এবং জুব্বাটা কাঁধের ওপর রেখে ওযু করলেন এবং মোজা ও মাথায় বাঁধা কাপড়ের ওপর মাসেহ করে সালাত পড়লেন।

ফায়দা : এ হাদীস থেকে জানা যায়, নবী অন্যান্য দেশের তৈরি পোশাকও ব্যবহার করতেন। তিনি রোমের তৈরি জুব্বা পরিধান করেছিলেন। যেহেতু তার আস্তিন ছিলো অত্যন্ত সংকীর্ণ। তাই তিনি আস্তিন ওপরে টেনে তোলেননি বরং আস্তিনের মধ্য থেকে হাত বের করে জুব্বাটিকে কাঁধের ওপর রেখে ওযু করেছেন। এখানে শুধু জুব্বা সম্পর্কে বর্ণনাই গ্রন্থকারের উদ্দেশ্য। তাই তিনি এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। আনুষঙ্গিকভাবে এ হাদীসে মোজা এবং মাথার কাপড়ের ওপর মাসেহ করা সম্পর্কে যে উল্লেখ রয়েছে, ফিকহ্ গ্রন্থসমূহে তার বিস্তারিত বর্ণনা আছে। এখানে সে সব মাসয়ালা বর্ণনা করার অবকাশ নেই। অধিকাংশ উলামার মতে শুধু পাগড়ি কিংবা রুমালের উপর মাসেহ করা এবং মাথা আদৌ মাসেহ না করা জায়েয নয়। এতে ওযু পরিশুদ্ধ হবে না।

٢٥٤ عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ قَالَ رَأَيْتُ رَسُولَ اللهِ ﷺ يَتَوَضَّهُ وَعَلَيْهِ جبَّةٌ شَامِيَةٌ ضَيِّقَةُ الْكُمَيْنِ -

২৫৪. হযরত উমর ইবন খাত্তাব (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি একদিন নবী -কে ওযু করতে দেখলাম। সেই সময় তিনি রোমের তৈরি সংকীর্ণ হাতাওয়ালা জুব্বা পরিধান করেছিলেন।

٢٥٥. عَنِ الْمُغِيرَةِ قَالَ كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللهِ ﷺ فِي سَفَرٍ فَذَهَبَ يَحْسُرُ عَنْ ذِرَاعَيْهِ مِنْ جُبَّةٍ رُؤْمِيَةٍ فَلَمْ يَخْرُجُ ذِرَاعَيْهِ فَأَخْرَجَهُمَا مِنْ تَحْتِ الْجُبَّةِ -

২৫৫. হযরত মুগীরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক সফরে আমরা রাসূলুল্লাহ্ -এর সাথে ছিলাম। তিনি রোমের তৈরি তাঁর পরিধানের জুব্বাটির হাতা ওপরে গুটাতে শুরু করলেন। কিন্তু হাতা সংকীর্ণ হওয়ার কারণে হাত বের করতে সক্ষম হলেন না। তখন নিজের হাত জুব্বার ভেতর থেকে বের করে ফেললেন।

٢٥٦. عَنْ أَبِي حُجَيْفَةَ قَالَ خَرَجَ النَّبِيُّ ﷺ وَعَلَيْهِ حُلَّةً حَمْرَاءُ مُشَمِّرًا -

২৫৬. হযরত আবূ হুজায়ফা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার নবী বাইরে বের হলে তাঁর গায়ে লাল ডোরা বিশিষ্ট পোশাক ছিলো এবং তা তাঁর পায়ের নলা পর্যন্ত উঠানো ছিলো।

ফায়দা: এ হাদীস থেকে প্রমাণিত হয় যে, নবী পায়ের নলা পর্যন্ত দীর্ঘ লাল পোশাক পরিধান করেছেন। পুরুষদের নিরেট লাল রঙের কাপড় পরিধান সম্পর্কে আলিমদের মধ্যে মতানৈক্য আছে। জুব্বাটি ছিলো লাল ডোরা বিশিষ্ট যা সবার মতেই জায়েয। নবী পায়ের গোছার মধ্যভাগ পর্যন্ত উঁচু পোশাক পরতেন। এটাই সুন্নত। পায়ের গিরা পর্যন্ত লম্বা পোশাক পরিধান করাও জায়েয। এর চেয়ে অধিক লম্বা পোশাক পরিধান করা মাকরূহ, কারণ তা কাফির ও অহংকারী লোকদের প্রতীক।

٢٥٧ . عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ قَالَ رَأَيْتُ النَّبِيُّ ﷺ فِي لَيْلَةِ اضْحِيَانِ وَعَلَيْهِ حَلَّةً حَمَرَاء فَجَعَلْتُ أَنْظُرُ إِلَيْهِ وَإِلَى الْقَمَرِ فَلَهُوَ أَحْسَنُ فِي عَيْنِي مِنَ الْقَمَرِ -

২৫৭. হযরত জাবির ইব্‌ন সামুরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি এক চাঁদনি রাতে রাসূলুল্লাহ্-কে লাল ডোরা বিশিষ্ট পোশাক পরিহিত অবস্থায় দেখেছি। (তাঁর গায়ে ঐ পোশাকটি এতই সুন্দর মনে হচ্ছিলো যে) আমি একবার নবী-এর দিকে দেখছিলাম এবং আরেকবার চাঁদের দিকে তাকাচ্ছিলাম। আমার দৃষ্টিতে পূর্ণিমার চাঁদের চেয়ে নবী-কেই অধিক সুন্দর মনে হলো।

ফায়দা: এ হাদীসটিতেও নবী-এর লাল রঙের পোশাক পরিধান করার উল্লেখ আছে। তাই গ্রন্থকার এখানে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। প্রকৃতপক্ষে এ হাদীসটিতে নবী -এর পোশাকের বর্ণনার চেয়ে তাঁর দেহ মুবারকের সৌন্দর্যের বর্ণনা অনেক বেশি প্রকাশ পেয়েছে। রাসূলুল্লাহ্-এর অনুপম রূপ ও অতুলনীয় সৌন্দর্য পূর্ণিমার চাঁদের চেয়েও অধিক ছিলো তা হাদীস বর্ণনাকারী সাহাবীর অতিশয়োক্তি নয়। বরং বাস্তবেও তিনি তাই ছিলেন। প্রকৃত সত্য হলো, নবী-এর অতুলনীয় রূপ ও সৌন্দর্যের সঠিক অবস্থা ভাষায় বর্ণনা করা মানবীয় ক্ষমতার বাইরে। তাছাড়া যে কোন মুসলিমের আকীদা-বিশ্বাস হলো, গোটা সৃষ্টিজগতের মধ্যে নবী-এর রূপ ও সৌন্দর্য অদ্বিতীয়, অতুলনীয়। তাই এতে সন্দেহ নেই যে, মহান আল্লাহ্ নবী-কে বাতেনী ও রূহানী নূর ও তাজাল্লীর সাথে সাথে অতুলনীয় অনুপম রূপ ও সৌন্দর্য পূর্ণাঙ্গরূপে দিয়েছিলেন। হাফিয শীরাযী (র) সত্যই বলেছেন:

হাসান ইউসুফ ইয়াদ বায়দাউ দাম ঈসা দারী + আন্‌চে খোবান হামে দারান্দ তু তানহা দারী -

ইউসুফ (আ)-এর সৌন্দর্য, ঈসা (আ)-এর প্রাণসঞ্চারী বিশ্বাস ও মূসা (আ)-এর বিস্ময়কর শুভ্র হাত সবগুলো গুণ আপনার একার মধ্যেই রয়েছে।

٢٥٠ عَنْ أَسْمَاءَ بِنْتِ أَبِي بَكْرٍ أَنَّ النَّبِيُّ كَانَتْ لَهُ جُبَّةٌ طَيَالِسَةٌ مَكْفُوفَةً بِالدِّيبَاجِ يَلْقَى فِيْهَا الْعَدُوُّ

২৫০. হযরত আসমা বিন্ত আবূ বাক্ (রা) বর্ণনা করেন যে, নবী-এর একটি তায়ালেসানী জুব্বা। (আয়তাকার ঢিলেঢালা জামা) ছিলো যার হাতায় রেশমী ফিতা লাগানো ছিলো। এটি পরিধান করে তিনি শত্রুদের সাথে লড়াই করতে যেতেন।

ফায়দা : এ হাদীস থেকে জানা যায় শত্রুর মনে ভীতি সৃষ্টির উদ্দেশ্যে জাঁকজমকপূর্ণ পোশাক পরিধান করে যুদ্ধের ময়দানে গমন সুন্নত।

٢٥١ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ أَنَّ ذَا يَزِنَ أَهْدَى إِلَى النَّبِيِّ ﷺ حُلَّةً أَشْتُرِيَتْ بِثَلَاثَةٍ وَثَلاثِينَ بَعِيْرًا فَلَبِسَهَا مَرَّةً .

২৫১. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) বর্ণনা করেন যে, (হিমইয়ারের মুসলমান বাদশাহ্) যু-ইয়াযান নবীকে এমন একটি পোশাক হাদিয়া দিলেন যা তেত্রিশটি উটের বিনিময়ে খরিদ করা হয়েছিল। নবী এ কাপড় জোড়া একবার মাত্র পরিধান করেছিলেন।

ফায়দা: যেহেতু এই পোশাক সেট ছিলো একজন বাদশাহ্ প্রেরিত এবং মূল্যবান উপহার, তাই নবী তা একবার মাত্র পরিধান করে পরিত্যাগ করেছিলেন। পুনরায় আর কখনো তা পরিধান করেননি। কারণ তিনি অতি মূল্যবান জমকালো পোশাক-পরিচ্ছদ পছন্দ করতেন না। তিনি বলেছেন: অতি মূল্যবান ও জমকালো পোশাক কেবল তারাই পরিধান করে আখিরাতে যাদের কোন অংশ নেই।

٢٥٢ . عَنْ دَحِيَّةَ الْكَلْبِى أَنَّهُ أَهْدَى إِلَى النَّبِيَّ الجُبَّةٌ مِنَ الشَّامِ وَخُفْيْنِ فَلَبِسَهُمَا النَّبِيُّ حَتَّى تَخَرَّقَا فَلَمْ يُتَبَيَّنْ أَوْ لَمْ يُعْلَمْ أَذْكِيَانِ هُمَا أَوْ مَيْتَهُ حَتَّى تَخْرِقًا -

২৫২. হযরত দিহইয়া কালবী (রা) বর্ণনা করেন যে, তিনি নবী-কে শামদেশে (সিরিয়া) তৈরি একটি জুব্বা এবং দু'টি চামড়ার মোজা উপহার দিয়েছিলেন। তিনি ঐ মোজা দু'টি এত অধিক ব্যবহার করেছিলেন যে তা জীর্ণ হয়ে ফেটে গিয়েছিলো। কিংবা (বর্ণনাকারীর সন্দেহ) তা মৃত জন্তুর চামড়া দ্বারা প্রস্তুত ছিলো না যবেহৃত জন্তুর চামড়া দ্বারা প্রস্তুত ছিল তা জানা যায়নি। কিন্তু ব্যাপক ব্যবহারে তা ফেটে গিয়েছিলো।

ফায়দা: এ হাদীস থেকে জানা যায় যে, নবী উপহার গ্রহণ করতেন। যতক্ষণ পর্যন্ত না কাফিরদের তৈরি দ্রব্যাদির নাপাক হওয়া সম্পর্কে নিশ্চিত ও অকাট্যরূপে কোন কিছু জানা যায় ততক্ষণ তা নাপাক নয়। তাই নবী তাঁকে উপহার হিসেবে প্রদত্ত মোজা মৃত জন্তুর চামড়ায় প্রস্তুত ছিলো না যবেহকৃত জন্তুর চামড়ায় প্রস্তুত ছিলো সে সম্পর্কে অনুসন্ধান করার প্রয়োজন বোধ করেননি। কারণ, পাকা করার পর মৃত জন্তুর চামড়াও পবিত্র হয়ে যায়। সুতরাং উপহার দেয়া মোজা ব্যবহার করতে করতে ছিঁড়ে গিয়েছিল। হানাফীদের মতেও যে কোন চামড়া তা মৃত কিংবা যবেহৃত জন্তুর থেকে হোক পাকানোর পর পবিত্র হয়ে যায় এবং তা ব্যবহার করা বৈধ।

٢٥٣ عَنِ الْمُغِيرَةَ بْنِ شُعْبَةَ قَالَ خَرَجَ النَّبِيُّ لِبَعْضِ حَاجَتِهِ فَأَتْبَعْتُهُ بِادَاوَةٍ مِنْ مَاءٍ فَلَمَّا قَضَى حَاجَتَهُ قُمْتُ لأُوضِنَهُ وَعَلَيْهِ جُبَّةٌ رُومِيَّةً ضَيِّقَةُ الْكُمْ فَأَخْرَجَ يَدَهُ مِنْ تَحْتِهَا وطَرَحَهَا عَاتِقِهِ ثُمَّ تَوَضَّأَ وَمَسَحَ عَلَى خُفَّيْهِ وَالْخِمَارِ ثُمَّ صَلَّى -

২৫৩. হযরত মুগীরা ইন্ন শুবা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেয়ার জন্য বাইরে গেলে আমি একটি পাত্রে পানি নিয়ে তাঁর পেছনে পেছনে গেলাম। তিনি প্রয়োজন সেরে আসলে আমি তাঁকে ওযু করানোর জন্য এগিয়ে গেলাম। সে সময় তাঁর পরিধানে ছিলো একটি রূমী জুব্বা যার হাতা ছিলো অত্যন্ত সংকীর্ণ। তাই তিনি জুব্বা থেকে হাত বের করলেন এবং জুব্বাটা কাঁধের ওপর রেখে ওযু করলেন এবং মোজা ও মাথায় বাঁধা কাপড়ের ওপর মাসেহ করে সালাত পড়লেন।

ফায়দা : এ হাদীস থেকে জানা যায়, নবী অন্যান্য দেশের তৈরি পোশাকও ব্যবহার করতেন। তিনি রোমের তৈরি জুব্বা পরিধান করেছিলেন। যেহেতু তার আস্তিন ছিলো অত্যন্ত সংকীর্ণ। তাই তিনি আস্তিন ওপরে টেনে তোলেননি বরং আস্তিনের মধ্য থেকে হাত বের করে জুব্বাটিকে কাঁধের ওপর রেখে ওযু করেছেন। এখানে শুধু জুব্বা সম্পর্কে বর্ণনাই গ্রন্থকারের উদ্দেশ্য। তাই তিনি এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। আনুষঙ্গিকভাবে এ হাদীসে মোজা এবং মাথার কাপড়ের ওপর মাসেহ করা সম্পর্কে যে উল্লেখ রয়েছে, ফিকহ্ গ্রন্থসমূহে তার বিস্তারিত বর্ণনা আছে। এখানে সে সব মাসয়ালা বর্ণনা করার অবকাশ নেই। অধিকাংশ উলামার মতে শুধু পাগড়ি কিংবা রুমালের উপর মাসেহ করা এবং মাথা আদৌ মাসেহ না করা জায়েয নয়। এতে ওযু পরিশুদ্ধ হবে না।

٢٥٤ عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ قَالَ رَأَيْتُ رَسُولَ اللهِ ﷺ يَتَوَضَّهُ وَعَلَيْهِ جبَّةٌ شَامِيَةٌ ضَيِّقَةُ الْكُمَيْنِ -

২৫৪. হযরত উমর ইবন খাত্তাব (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি একদিন নবী -কে ওযু করতে দেখলাম। সেই সময় তিনি রোমের তৈরি সংকীর্ণ হাতাওয়ালা জুব্বা পরিধান করেছিলেন।

٢٥٥. عَنِ الْمُغِيرَةِ قَالَ كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللهِ ﷺ فِي سَفَرٍ فَذَهَبَ يَحْسُرُ عَنْ ذِرَاعَيْهِ مِنْ جُبَّةٍ رُؤْمِيَةٍ فَلَمْ يَخْرُجُ ذِرَاعَيْهِ فَأَخْرَجَهُمَا مِنْ تَحْتِ الْجُبَّةِ -

২৫৫. হযরত মুগীরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক সফরে আমরা রাসূলুল্লাহ্ -এর সাথে ছিলাম। তিনি রোমের তৈরি তাঁর পরিধানের জুব্বাটির হাতা ওপরে গুটাতে শুরু করলেন। কিন্তু হাতা সংকীর্ণ হওয়ার কারণে হাত বের করতে সক্ষম হলেন না। তখন নিজের হাত জুব্বার ভেতর থেকে বের করে ফেললেন।

٢٥٦. عَنْ أَبِي حُجَيْفَةَ قَالَ خَرَجَ النَّبِيُّ ﷺ وَعَلَيْهِ حُلَّةً حَمْرَاءُ مُشَمِّرًا -

২৫৬. হযরত আবূ হুজায়ফা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার নবী বাইরে বের হলে তাঁর গায়ে লাল ডোরা বিশিষ্ট পোশাক ছিলো এবং তা তাঁর পায়ের নলা পর্যন্ত উঠানো ছিলো।

ফায়দা: এ হাদীস থেকে প্রমাণিত হয় যে, নবী পায়ের নলা পর্যন্ত দীর্ঘ লাল পোশাক পরিধান করেছেন। পুরুষদের নিরেট লাল রঙের কাপড় পরিধান সম্পর্কে আলিমদের মধ্যে মতানৈক্য আছে। জুব্বাটি ছিলো লাল ডোরা বিশিষ্ট যা সবার মতেই জায়েয। নবী পায়ের গোছার মধ্যভাগ পর্যন্ত উঁচু পোশাক পরতেন। এটাই সুন্নত। পায়ের গিরা পর্যন্ত লম্বা পোশাক পরিধান করাও জায়েয। এর চেয়ে অধিক লম্বা পোশাক পরিধান করা মাকরূহ, কারণ তা কাফির ও অহংকারী লোকদের প্রতীক।

٢٥٧ . عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ قَالَ رَأَيْتُ النَّبِيُّ ﷺ فِي لَيْلَةِ اضْحِيَانِ وَعَلَيْهِ حَلَّةً حَمَرَاء فَجَعَلْتُ أَنْظُرُ إِلَيْهِ وَإِلَى الْقَمَرِ فَلَهُوَ أَحْسَنُ فِي عَيْنِي مِنَ الْقَمَرِ -

২৫৭. হযরত জাবির ইব্‌ন সামুরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি এক চাঁদনি রাতে রাসূলুল্লাহ্-কে লাল ডোরা বিশিষ্ট পোশাক পরিহিত অবস্থায় দেখেছি। (তাঁর গায়ে ঐ পোশাকটি এতই সুন্দর মনে হচ্ছিলো যে) আমি একবার নবী-এর দিকে দেখছিলাম এবং আরেকবার চাঁদের দিকে তাকাচ্ছিলাম। আমার দৃষ্টিতে পূর্ণিমার চাঁদের চেয়ে নবী-কেই অধিক সুন্দর মনে হলো।

ফায়দা: এ হাদীসটিতেও নবী-এর লাল রঙের পোশাক পরিধান করার উল্লেখ আছে। তাই গ্রন্থকার এখানে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। প্রকৃতপক্ষে এ হাদীসটিতে নবী -এর পোশাকের বর্ণনার চেয়ে তাঁর দেহ মুবারকের সৌন্দর্যের বর্ণনা অনেক বেশি প্রকাশ পেয়েছে। রাসূলুল্লাহ্-এর অনুপম রূপ ও অতুলনীয় সৌন্দর্য পূর্ণিমার চাঁদের চেয়েও অধিক ছিলো তা হাদীস বর্ণনাকারী সাহাবীর অতিশয়োক্তি নয়। বরং বাস্তবেও তিনি তাই ছিলেন। প্রকৃত সত্য হলো, নবী-এর অতুলনীয় রূপ ও সৌন্দর্যের সঠিক অবস্থা ভাষায় বর্ণনা করা মানবীয় ক্ষমতার বাইরে। তাছাড়া যে কোন মুসলিমের আকীদা-বিশ্বাস হলো, গোটা সৃষ্টিজগতের মধ্যে নবী-এর রূপ ও সৌন্দর্য অদ্বিতীয়, অতুলনীয়। তাই এতে সন্দেহ নেই যে, মহান আল্লাহ্ নবী-কে বাতেনী ও রূহানী নূর ও তাজাল্লীর সাথে সাথে অতুলনীয় অনুপম রূপ ও সৌন্দর্য পূর্ণাঙ্গরূপে দিয়েছিলেন। হাফিয শীরাযী (র) সত্যই বলেছেন:

হাসান ইউসুফ ইয়াদ বায়দাউ দাম ঈসা দারী + আন্‌চে খোবান হামে দারান্দ তু তানহা দারী -

ইউসুফ (আ)-এর সৌন্দর্য, ঈসা (আ)-এর প্রাণসঞ্চারী বিশ্বাস ও মূসা (আ)-এর বিস্ময়কর শুভ্র হাত সবগুলো গুণ আপনার একার মধ্যেই রয়েছে।

٢٥٠ عَنْ أَسْمَاءَ بِنْتِ أَبِي بَكْرٍ أَنَّ النَّبِيُّ كَانَتْ لَهُ جُبَّةٌ طَيَالِسَةٌ مَكْفُوفَةً بِالدِّيبَاجِ يَلْقَى فِيْهَا الْعَدُوُّ

২৫০. হযরত আসমা বিন্ত আবূ বাক্ (রা) বর্ণনা করেন যে, নবী-এর একটি তায়ালেসানী জুব্বা। (আয়তাকার ঢিলেঢালা জামা) ছিলো যার হাতায় রেশমী ফিতা লাগানো ছিলো। এটি পরিধান করে তিনি শত্রুদের সাথে লড়াই করতে যেতেন।

ফায়দা : এ হাদীস থেকে জানা যায় শত্রুর মনে ভীতি সৃষ্টির উদ্দেশ্যে জাঁকজমকপূর্ণ পোশাক পরিধান করে যুদ্ধের ময়দানে গমন সুন্নত।

٢٥١ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ أَنَّ ذَا يَزِنَ أَهْدَى إِلَى النَّبِيِّ ﷺ حُلَّةً أَشْتُرِيَتْ بِثَلَاثَةٍ وَثَلاثِينَ بَعِيْرًا فَلَبِسَهَا مَرَّةً .

২৫১. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) বর্ণনা করেন যে, (হিমইয়ারের মুসলমান বাদশাহ্) যু-ইয়াযান নবীকে এমন একটি পোশাক হাদিয়া দিলেন যা তেত্রিশটি উটের বিনিময়ে খরিদ করা হয়েছিল। নবী এ কাপড় জোড়া একবার মাত্র পরিধান করেছিলেন।

ফায়দা: যেহেতু এই পোশাক সেট ছিলো একজন বাদশাহ্ প্রেরিত এবং মূল্যবান উপহার, তাই নবী তা একবার মাত্র পরিধান করে পরিত্যাগ করেছিলেন। পুনরায় আর কখনো তা পরিধান করেননি। কারণ তিনি অতি মূল্যবান জমকালো পোশাক-পরিচ্ছদ পছন্দ করতেন না। তিনি বলেছেন: অতি মূল্যবান ও জমকালো পোশাক কেবল তারাই পরিধান করে আখিরাতে যাদের কোন অংশ নেই।

٢٥٢ . عَنْ دَحِيَّةَ الْكَلْبِى أَنَّهُ أَهْدَى إِلَى النَّبِيَّ الجُبَّةٌ مِنَ الشَّامِ وَخُفْيْنِ فَلَبِسَهُمَا النَّبِيُّ حَتَّى تَخَرَّقَا فَلَمْ يُتَبَيَّنْ أَوْ لَمْ يُعْلَمْ أَذْكِيَانِ هُمَا أَوْ مَيْتَهُ حَتَّى تَخْرِقًا -

২৫২. হযরত দিহইয়া কালবী (রা) বর্ণনা করেন যে, তিনি নবী-কে শামদেশে (সিরিয়া) তৈরি একটি জুব্বা এবং দু'টি চামড়ার মোজা উপহার দিয়েছিলেন। তিনি ঐ মোজা দু'টি এত অধিক ব্যবহার করেছিলেন যে তা জীর্ণ হয়ে ফেটে গিয়েছিলো। কিংবা (বর্ণনাকারীর সন্দেহ) তা মৃত জন্তুর চামড়া দ্বারা প্রস্তুত ছিলো না যবেহৃত জন্তুর চামড়া দ্বারা প্রস্তুত ছিল তা জানা যায়নি। কিন্তু ব্যাপক ব্যবহারে তা ফেটে গিয়েছিলো।

ফায়দা: এ হাদীস থেকে জানা যায় যে, নবী উপহার গ্রহণ করতেন। যতক্ষণ পর্যন্ত না কাফিরদের তৈরি দ্রব্যাদির নাপাক হওয়া সম্পর্কে নিশ্চিত ও অকাট্যরূপে কোন কিছু জানা যায় ততক্ষণ তা নাপাক নয়। তাই নবী তাঁকে উপহার হিসেবে প্রদত্ত মোজা মৃত জন্তুর চামড়ায় প্রস্তুত ছিলো না যবেহকৃত জন্তুর চামড়ায় প্রস্তুত ছিলো সে সম্পর্কে অনুসন্ধান করার প্রয়োজন বোধ করেননি। কারণ, পাকা করার পর মৃত জন্তুর চামড়াও পবিত্র হয়ে যায়। সুতরাং উপহার দেয়া মোজা ব্যবহার করতে করতে ছিঁড়ে গিয়েছিল। হানাফীদের মতেও যে কোন চামড়া তা মৃত কিংবা যবেহৃত জন্তুর থেকে হোক পাকানোর পর পবিত্র হয়ে যায় এবং তা ব্যবহার করা বৈধ।

٢٥٣ عَنِ الْمُغِيرَةَ بْنِ شُعْبَةَ قَالَ خَرَجَ النَّبِيُّ لِبَعْضِ حَاجَتِهِ فَأَتْبَعْتُهُ بِادَاوَةٍ مِنْ مَاءٍ فَلَمَّا قَضَى حَاجَتَهُ قُمْتُ لأُوضِنَهُ وَعَلَيْهِ جُبَّةٌ رُومِيَّةً ضَيِّقَةُ الْكُمْ فَأَخْرَجَ يَدَهُ مِنْ تَحْتِهَا وطَرَحَهَا عَاتِقِهِ ثُمَّ تَوَضَّأَ وَمَسَحَ عَلَى خُفَّيْهِ وَالْخِمَارِ ثُمَّ صَلَّى -

২৫৩. হযরত মুগীরা ইন্ন শুবা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেয়ার জন্য বাইরে গেলে আমি একটি পাত্রে পানি নিয়ে তাঁর পেছনে পেছনে গেলাম। তিনি প্রয়োজন সেরে আসলে আমি তাঁকে ওযু করানোর জন্য এগিয়ে গেলাম। সে সময় তাঁর পরিধানে ছিলো একটি রূমী জুব্বা যার হাতা ছিলো অত্যন্ত সংকীর্ণ। তাই তিনি জুব্বা থেকে হাত বের করলেন এবং জুব্বাটা কাঁধের ওপর রেখে ওযু করলেন এবং মোজা ও মাথায় বাঁধা কাপড়ের ওপর মাসেহ করে সালাত পড়লেন।

ফায়দা : এ হাদীস থেকে জানা যায়, নবী অন্যান্য দেশের তৈরি পোশাকও ব্যবহার করতেন। তিনি রোমের তৈরি জুব্বা পরিধান করেছিলেন। যেহেতু তার আস্তিন ছিলো অত্যন্ত সংকীর্ণ। তাই তিনি আস্তিন ওপরে টেনে তোলেননি বরং আস্তিনের মধ্য থেকে হাত বের করে জুব্বাটিকে কাঁধের ওপর রেখে ওযু করেছেন। এখানে শুধু জুব্বা সম্পর্কে বর্ণনাই গ্রন্থকারের উদ্দেশ্য। তাই তিনি এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। আনুষঙ্গিকভাবে এ হাদীসে মোজা এবং মাথার কাপড়ের ওপর মাসেহ করা সম্পর্কে যে উল্লেখ রয়েছে, ফিকহ্ গ্রন্থসমূহে তার বিস্তারিত বর্ণনা আছে। এখানে সে সব মাসয়ালা বর্ণনা করার অবকাশ নেই। অধিকাংশ উলামার মতে শুধু পাগড়ি কিংবা রুমালের উপর মাসেহ করা এবং মাথা আদৌ মাসেহ না করা জায়েয নয়। এতে ওযু পরিশুদ্ধ হবে না।

٢٥٤ عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ قَالَ رَأَيْتُ رَسُولَ اللهِ ﷺ يَتَوَضَّهُ وَعَلَيْهِ جبَّةٌ شَامِيَةٌ ضَيِّقَةُ الْكُمَيْنِ -

২৫৪. হযরত উমর ইবন খাত্তাব (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি একদিন নবী -কে ওযু করতে দেখলাম। সেই সময় তিনি রোমের তৈরি সংকীর্ণ হাতাওয়ালা জুব্বা পরিধান করেছিলেন।

٢٥٥. عَنِ الْمُغِيرَةِ قَالَ كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللهِ ﷺ فِي سَفَرٍ فَذَهَبَ يَحْسُرُ عَنْ ذِرَاعَيْهِ مِنْ جُبَّةٍ رُؤْمِيَةٍ فَلَمْ يَخْرُجُ ذِرَاعَيْهِ فَأَخْرَجَهُمَا مِنْ تَحْتِ الْجُبَّةِ -

২৫৫. হযরত মুগীরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক সফরে আমরা রাসূলুল্লাহ্ -এর সাথে ছিলাম। তিনি রোমের তৈরি তাঁর পরিধানের জুব্বাটির হাতা ওপরে গুটাতে শুরু করলেন। কিন্তু হাতা সংকীর্ণ হওয়ার কারণে হাত বের করতে সক্ষম হলেন না। তখন নিজের হাত জুব্বার ভেতর থেকে বের করে ফেললেন।

٢٥٦. عَنْ أَبِي حُجَيْفَةَ قَالَ خَرَجَ النَّبِيُّ ﷺ وَعَلَيْهِ حُلَّةً حَمْرَاءُ مُشَمِّرًا -

২৫৬. হযরত আবূ হুজায়ফা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার নবী বাইরে বের হলে তাঁর গায়ে লাল ডোরা বিশিষ্ট পোশাক ছিলো এবং তা তাঁর পায়ের নলা পর্যন্ত উঠানো ছিলো।

ফায়দা: এ হাদীস থেকে প্রমাণিত হয় যে, নবী পায়ের নলা পর্যন্ত দীর্ঘ লাল পোশাক পরিধান করেছেন। পুরুষদের নিরেট লাল রঙের কাপড় পরিধান সম্পর্কে আলিমদের মধ্যে মতানৈক্য আছে। জুব্বাটি ছিলো লাল ডোরা বিশিষ্ট যা সবার মতেই জায়েয। নবী পায়ের গোছার মধ্যভাগ পর্যন্ত উঁচু পোশাক পরতেন। এটাই সুন্নত। পায়ের গিরা পর্যন্ত লম্বা পোশাক পরিধান করাও জায়েয। এর চেয়ে অধিক লম্বা পোশাক পরিধান করা মাকরূহ, কারণ তা কাফির ও অহংকারী লোকদের প্রতীক।

٢٥٧ . عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ قَالَ رَأَيْتُ النَّبِيُّ ﷺ فِي لَيْلَةِ اضْحِيَانِ وَعَلَيْهِ حَلَّةً حَمَرَاء فَجَعَلْتُ أَنْظُرُ إِلَيْهِ وَإِلَى الْقَمَرِ فَلَهُوَ أَحْسَنُ فِي عَيْنِي مِنَ الْقَمَرِ -

২৫৭. হযরত জাবির ইব্‌ন সামুরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি এক চাঁদনি রাতে রাসূলুল্লাহ্-কে লাল ডোরা বিশিষ্ট পোশাক পরিহিত অবস্থায় দেখেছি। (তাঁর গায়ে ঐ পোশাকটি এতই সুন্দর মনে হচ্ছিলো যে) আমি একবার নবী-এর দিকে দেখছিলাম এবং আরেকবার চাঁদের দিকে তাকাচ্ছিলাম। আমার দৃষ্টিতে পূর্ণিমার চাঁদের চেয়ে নবী-কেই অধিক সুন্দর মনে হলো।

ফায়দা: এ হাদীসটিতেও নবী-এর লাল রঙের পোশাক পরিধান করার উল্লেখ আছে। তাই গ্রন্থকার এখানে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। প্রকৃতপক্ষে এ হাদীসটিতে নবী -এর পোশাকের বর্ণনার চেয়ে তাঁর দেহ মুবারকের সৌন্দর্যের বর্ণনা অনেক বেশি প্রকাশ পেয়েছে। রাসূলুল্লাহ্-এর অনুপম রূপ ও অতুলনীয় সৌন্দর্য পূর্ণিমার চাঁদের চেয়েও অধিক ছিলো তা হাদীস বর্ণনাকারী সাহাবীর অতিশয়োক্তি নয়। বরং বাস্তবেও তিনি তাই ছিলেন। প্রকৃত সত্য হলো, নবী-এর অতুলনীয় রূপ ও সৌন্দর্যের সঠিক অবস্থা ভাষায় বর্ণনা করা মানবীয় ক্ষমতার বাইরে। তাছাড়া যে কোন মুসলিমের আকীদা-বিশ্বাস হলো, গোটা সৃষ্টিজগতের মধ্যে নবী-এর রূপ ও সৌন্দর্য অদ্বিতীয়, অতুলনীয়। তাই এতে সন্দেহ নেই যে, মহান আল্লাহ্ নবী-কে বাতেনী ও রূহানী নূর ও তাজাল্লীর সাথে সাথে অতুলনীয় অনুপম রূপ ও সৌন্দর্য পূর্ণাঙ্গরূপে দিয়েছিলেন। হাফিয শীরাযী (র) সত্যই বলেছেন:

হাসান ইউসুফ ইয়াদ বায়দাউ দাম ঈসা দারী + আন্‌চে খোবান হামে দারান্দ তু তানহা দারী -

ইউসুফ (আ)-এর সৌন্দর্য, ঈসা (আ)-এর প্রাণসঞ্চারী বিশ্বাস ও মূসা (আ)-এর বিস্ময়কর শুভ্র হাত সবগুলো গুণ আপনার একার মধ্যেই রয়েছে।

٢٥٠ عَنْ أَسْمَاءَ بِنْتِ أَبِي بَكْرٍ أَنَّ النَّبِيُّ كَانَتْ لَهُ جُبَّةٌ طَيَالِسَةٌ مَكْفُوفَةً بِالدِّيبَاجِ يَلْقَى فِيْهَا الْعَدُوُّ

২৫০. হযরত আসমা বিন্ত আবূ বাক্ (রা) বর্ণনা করেন যে, নবী-এর একটি তায়ালেসানী জুব্বা। (আয়তাকার ঢিলেঢালা জামা) ছিলো যার হাতায় রেশমী ফিতা লাগানো ছিলো। এটি পরিধান করে তিনি শত্রুদের সাথে লড়াই করতে যেতেন।

ফায়দা : এ হাদীস থেকে জানা যায় শত্রুর মনে ভীতি সৃষ্টির উদ্দেশ্যে জাঁকজমকপূর্ণ পোশাক পরিধান করে যুদ্ধের ময়দানে গমন সুন্নত।

٢٥١ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ أَنَّ ذَا يَزِنَ أَهْدَى إِلَى النَّبِيِّ ﷺ حُلَّةً أَشْتُرِيَتْ بِثَلَاثَةٍ وَثَلاثِينَ بَعِيْرًا فَلَبِسَهَا مَرَّةً .

২৫১. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) বর্ণনা করেন যে, (হিমইয়ারের মুসলমান বাদশাহ্) যু-ইয়াযান নবীকে এমন একটি পোশাক হাদিয়া দিলেন যা তেত্রিশটি উটের বিনিময়ে খরিদ করা হয়েছিল। নবী এ কাপড় জোড়া একবার মাত্র পরিধান করেছিলেন।

ফায়দা: যেহেতু এই পোশাক সেট ছিলো একজন বাদশাহ্ প্রেরিত এবং মূল্যবান উপহার, তাই নবী তা একবার মাত্র পরিধান করে পরিত্যাগ করেছিলেন। পুনরায় আর কখনো তা পরিধান করেননি। কারণ তিনি অতি মূল্যবান জমকালো পোশাক-পরিচ্ছদ পছন্দ করতেন না। তিনি বলেছেন: অতি মূল্যবান ও জমকালো পোশাক কেবল তারাই পরিধান করে আখিরাতে যাদের কোন অংশ নেই।

٢٥٢ . عَنْ دَحِيَّةَ الْكَلْبِى أَنَّهُ أَهْدَى إِلَى النَّبِيَّ الجُبَّةٌ مِنَ الشَّامِ وَخُفْيْنِ فَلَبِسَهُمَا النَّبِيُّ حَتَّى تَخَرَّقَا فَلَمْ يُتَبَيَّنْ أَوْ لَمْ يُعْلَمْ أَذْكِيَانِ هُمَا أَوْ مَيْتَهُ حَتَّى تَخْرِقًا -

২৫২. হযরত দিহইয়া কালবী (রা) বর্ণনা করেন যে, তিনি নবী-কে শামদেশে (সিরিয়া) তৈরি একটি জুব্বা এবং দু'টি চামড়ার মোজা উপহার দিয়েছিলেন। তিনি ঐ মোজা দু'টি এত অধিক ব্যবহার করেছিলেন যে তা জীর্ণ হয়ে ফেটে গিয়েছিলো। কিংবা (বর্ণনাকারীর সন্দেহ) তা মৃত জন্তুর চামড়া দ্বারা প্রস্তুত ছিলো না যবেহৃত জন্তুর চামড়া দ্বারা প্রস্তুত ছিল তা জানা যায়নি। কিন্তু ব্যাপক ব্যবহারে তা ফেটে গিয়েছিলো।

ফায়দা: এ হাদীস থেকে জানা যায় যে, নবী উপহার গ্রহণ করতেন। যতক্ষণ পর্যন্ত না কাফিরদের তৈরি দ্রব্যাদির নাপাক হওয়া সম্পর্কে নিশ্চিত ও অকাট্যরূপে কোন কিছু জানা যায় ততক্ষণ তা নাপাক নয়। তাই নবী তাঁকে উপহার হিসেবে প্রদত্ত মোজা মৃত জন্তুর চামড়ায় প্রস্তুত ছিলো না যবেহকৃত জন্তুর চামড়ায় প্রস্তুত ছিলো সে সম্পর্কে অনুসন্ধান করার প্রয়োজন বোধ করেননি। কারণ, পাকা করার পর মৃত জন্তুর চামড়াও পবিত্র হয়ে যায়। সুতরাং উপহার দেয়া মোজা ব্যবহার করতে করতে ছিঁড়ে গিয়েছিল। হানাফীদের মতেও যে কোন চামড়া তা মৃত কিংবা যবেহৃত জন্তুর থেকে হোক পাকানোর পর পবিত্র হয়ে যায় এবং তা ব্যবহার করা বৈধ।

٢٥٣ عَنِ الْمُغِيرَةَ بْنِ شُعْبَةَ قَالَ خَرَجَ النَّبِيُّ لِبَعْضِ حَاجَتِهِ فَأَتْبَعْتُهُ بِادَاوَةٍ مِنْ مَاءٍ فَلَمَّا قَضَى حَاجَتَهُ قُمْتُ لأُوضِنَهُ وَعَلَيْهِ جُبَّةٌ رُومِيَّةً ضَيِّقَةُ الْكُمْ فَأَخْرَجَ يَدَهُ مِنْ تَحْتِهَا وطَرَحَهَا عَاتِقِهِ ثُمَّ تَوَضَّأَ وَمَسَحَ عَلَى خُفَّيْهِ وَالْخِمَارِ ثُمَّ صَلَّى -

২৫৩. হযরত মুগীরা ইন্ন শুবা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেয়ার জন্য বাইরে গেলে আমি একটি পাত্রে পানি নিয়ে তাঁর পেছনে পেছনে গেলাম। তিনি প্রয়োজন সেরে আসলে আমি তাঁকে ওযু করানোর জন্য এগিয়ে গেলাম। সে সময় তাঁর পরিধানে ছিলো একটি রূমী জুব্বা যার হাতা ছিলো অত্যন্ত সংকীর্ণ। তাই তিনি জুব্বা থেকে হাত বের করলেন এবং জুব্বাটা কাঁধের ওপর রেখে ওযু করলেন এবং মোজা ও মাথায় বাঁধা কাপড়ের ওপর মাসেহ করে সালাত পড়লেন।

ফায়দা : এ হাদীস থেকে জানা যায়, নবী অন্যান্য দেশের তৈরি পোশাকও ব্যবহার করতেন। তিনি রোমের তৈরি জুব্বা পরিধান করেছিলেন। যেহেতু তার আস্তিন ছিলো অত্যন্ত সংকীর্ণ। তাই তিনি আস্তিন ওপরে টেনে তোলেননি বরং আস্তিনের মধ্য থেকে হাত বের করে জুব্বাটিকে কাঁধের ওপর রেখে ওযু করেছেন। এখানে শুধু জুব্বা সম্পর্কে বর্ণনাই গ্রন্থকারের উদ্দেশ্য। তাই তিনি এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। আনুষঙ্গিকভাবে এ হাদীসে মোজা এবং মাথার কাপড়ের ওপর মাসেহ করা সম্পর্কে যে উল্লেখ রয়েছে, ফিকহ্ গ্রন্থসমূহে তার বিস্তারিত বর্ণনা আছে। এখানে সে সব মাসয়ালা বর্ণনা করার অবকাশ নেই। অধিকাংশ উলামার মতে শুধু পাগড়ি কিংবা রুমালের উপর মাসেহ করা এবং মাথা আদৌ মাসেহ না করা জায়েয নয়। এতে ওযু পরিশুদ্ধ হবে না।

٢٥٤ عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ قَالَ رَأَيْتُ رَسُولَ اللهِ ﷺ يَتَوَضَّهُ وَعَلَيْهِ جبَّةٌ شَامِيَةٌ ضَيِّقَةُ الْكُمَيْنِ -

২৫৪. হযরত উমর ইবন খাত্তাব (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি একদিন নবী -কে ওযু করতে দেখলাম। সেই সময় তিনি রোমের তৈরি সংকীর্ণ হাতাওয়ালা জুব্বা পরিধান করেছিলেন।

٢٥٥. عَنِ الْمُغِيرَةِ قَالَ كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللهِ ﷺ فِي سَفَرٍ فَذَهَبَ يَحْسُرُ عَنْ ذِرَاعَيْهِ مِنْ جُبَّةٍ رُؤْمِيَةٍ فَلَمْ يَخْرُجُ ذِرَاعَيْهِ فَأَخْرَجَهُمَا مِنْ تَحْتِ الْجُبَّةِ -

২৫৫. হযরত মুগীরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক সফরে আমরা রাসূলুল্লাহ্ -এর সাথে ছিলাম। তিনি রোমের তৈরি তাঁর পরিধানের জুব্বাটির হাতা ওপরে গুটাতে শুরু করলেন। কিন্তু হাতা সংকীর্ণ হওয়ার কারণে হাত বের করতে সক্ষম হলেন না। তখন নিজের হাত জুব্বার ভেতর থেকে বের করে ফেললেন।

٢٥٦. عَنْ أَبِي حُجَيْفَةَ قَالَ خَرَجَ النَّبِيُّ ﷺ وَعَلَيْهِ حُلَّةً حَمْرَاءُ مُشَمِّرًا -

২৫৬. হযরত আবূ হুজায়ফা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার নবী বাইরে বের হলে তাঁর গায়ে লাল ডোরা বিশিষ্ট পোশাক ছিলো এবং তা তাঁর পায়ের নলা পর্যন্ত উঠানো ছিলো।

ফায়দা: এ হাদীস থেকে প্রমাণিত হয় যে, নবী পায়ের নলা পর্যন্ত দীর্ঘ লাল পোশাক পরিধান করেছেন। পুরুষদের নিরেট লাল রঙের কাপড় পরিধান সম্পর্কে আলিমদের মধ্যে মতানৈক্য আছে। জুব্বাটি ছিলো লাল ডোরা বিশিষ্ট যা সবার মতেই জায়েয। নবী পায়ের গোছার মধ্যভাগ পর্যন্ত উঁচু পোশাক পরতেন। এটাই সুন্নত। পায়ের গিরা পর্যন্ত লম্বা পোশাক পরিধান করাও জায়েয। এর চেয়ে অধিক লম্বা পোশাক পরিধান করা মাকরূহ, কারণ তা কাফির ও অহংকারী লোকদের প্রতীক।

٢٥٧ . عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ قَالَ رَأَيْتُ النَّبِيُّ ﷺ فِي لَيْلَةِ اضْحِيَانِ وَعَلَيْهِ حَلَّةً حَمَرَاء فَجَعَلْتُ أَنْظُرُ إِلَيْهِ وَإِلَى الْقَمَرِ فَلَهُوَ أَحْسَنُ فِي عَيْنِي مِنَ الْقَمَرِ -

২৫৭. হযরত জাবির ইব্‌ন সামুরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি এক চাঁদনি রাতে রাসূলুল্লাহ্-কে লাল ডোরা বিশিষ্ট পোশাক পরিহিত অবস্থায় দেখেছি। (তাঁর গায়ে ঐ পোশাকটি এতই সুন্দর মনে হচ্ছিলো যে) আমি একবার নবী-এর দিকে দেখছিলাম এবং আরেকবার চাঁদের দিকে তাকাচ্ছিলাম। আমার দৃষ্টিতে পূর্ণিমার চাঁদের চেয়ে নবী-কেই অধিক সুন্দর মনে হলো।

ফায়দা: এ হাদীসটিতেও নবী-এর লাল রঙের পোশাক পরিধান করার উল্লেখ আছে। তাই গ্রন্থকার এখানে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। প্রকৃতপক্ষে এ হাদীসটিতে নবী -এর পোশাকের বর্ণনার চেয়ে তাঁর দেহ মুবারকের সৌন্দর্যের বর্ণনা অনেক বেশি প্রকাশ পেয়েছে। রাসূলুল্লাহ্-এর অনুপম রূপ ও অতুলনীয় সৌন্দর্য পূর্ণিমার চাঁদের চেয়েও অধিক ছিলো তা হাদীস বর্ণনাকারী সাহাবীর অতিশয়োক্তি নয়। বরং বাস্তবেও তিনি তাই ছিলেন। প্রকৃত সত্য হলো, নবী-এর অতুলনীয় রূপ ও সৌন্দর্যের সঠিক অবস্থা ভাষায় বর্ণনা করা মানবীয় ক্ষমতার বাইরে। তাছাড়া যে কোন মুসলিমের আকীদা-বিশ্বাস হলো, গোটা সৃষ্টিজগতের মধ্যে নবী-এর রূপ ও সৌন্দর্য অদ্বিতীয়, অতুলনীয়। তাই এতে সন্দেহ নেই যে, মহান আল্লাহ্ নবী-কে বাতেনী ও রূহানী নূর ও তাজাল্লীর সাথে সাথে অতুলনীয় অনুপম রূপ ও সৌন্দর্য পূর্ণাঙ্গরূপে দিয়েছিলেন। হাফিয শীরাযী (র) সত্যই বলেছেন:

হাসান ইউসুফ ইয়াদ বায়দাউ দাম ঈসা দারী + আন্‌চে খোবান হামে দারান্দ তু তানহা দারী -

ইউসুফ (আ)-এর সৌন্দর্য, ঈসা (আ)-এর প্রাণসঞ্চারী বিশ্বাস ও মূসা (আ)-এর বিস্ময়কর শুভ্র হাত সবগুলো গুণ আপনার একার মধ্যেই রয়েছে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00