📘 হাদিস আখলাকুন নবী সাঃ > 📄 নবী (সা)-এর দয়া, পরম ধৈর্য ও ক্রোধ সংবরণ

📄 নবী (সা)-এর দয়া, পরম ধৈর্য ও ক্রোধ সংবরণ


٤٣. عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا قَالَتْ مَا ضَرَبَ النَّبِيُّ امْرَأَةً قَطُّ وَلَا ضَرَبَ خَادِمًا قَطُّ وَلاَ ضَرَبَ بِيَدِهِ شَيْئًا قَطُّ إِلا أَنْ يُجَاهِدُ فِي سَبِيْلِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ، وَلَا نَيْلَ مِنْهُ فَانْتَقَمَ مِنْ صَاحِبِهِ إِلَّا أَنْ تُنْتَهَكَ مَحَارِمُهُ فَيَنْتَقِمُ -

৪৩. হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী কখনো কোনো স্ত্রীকে মারেননি। কখনো কোনো খাদিমকেও মারেননি এবং কারো উপর তিনি তাঁর হাত কখনো তোলেননি। তবে তিনি যখন আল্লাহর পথে জিহাদ করতে বের হতেন তখনকার কথা আলাদা। আর এমনও কখনো হয়নি যে, কেউ তাঁকে কষ্ট দিয়েছে এবং তিনি তার প্রতিশোধ নিয়েছেন। তবে কেউ যদি দীনের বিধি-নিষেধ অমান্য করতো, তিনি তার প্রতিশোধ গ্রহণ করতেন।

৩৯. عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا قَالَتْ مَا خَيْرَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ فِي أَمْرَيْنِ إِلَّا اخْتَارَ أَيْسَرَ هُمَا مَالَمْ يَكُنْ إِثْمًا فَإِنْ كَانَ إِثْمًا كَانَ أَبْعَدَ النَّاسِ مِنْهُ وَمَا انْتَقَمَ رَسُولُ اللهِ ﷺ لِنَفْسِهِ إِلَّا أَنْ تُنْتَهَكَ حُرْمَةُ اللَّهِ عَزَّ وَجَلٌ -

৪৪. হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ -কে যখন কোন দু'টি বিষয়ের মধ্যে ইখতিয়ার দেয়া হতো, তখন তিনি সবচেয়ে সহজ পন্থাটি গ্রহণ করতেন, আর যদি তা পাপের কাজ হতো, তবে তিনি তা থেকে সবার চেয়ে অধিক দূরে থাকতেন। রাসূলুল্লাহ্ তাঁর নিজস্ব ব্যাপারে কখনো কারো থেকে প্রতিশোধ গ্রহণ করেননি। তবে আল্লাহর বিধি-নিষেধ যদি লঙ্ঘন করা হতো (তখন তিনি তার অবশ্যই প্রতিশোধ গ্রহণ করতেন)।

٤٥. عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا قَالَتْ مَا رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ مُنْتَصِرًا مِنْ ظَلَامَةٍ ظُلِمَهَا قَطُّ إِلَّا أَنْ يُنْتَهَكَ مِنْ مَحَارِمِ اللهِ شَيْءٌ وَإِذَا انْتُهِكَ مِنْ مَحَارِمِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ شَيْءٌ كَانَ أَشَدَّهُمْ فِي ذَلِكَ وَمَا خَيْرَ بَيْنَ أَمَرَيْنِ قَطُّ إِلَّا اخْتَارَ أَيْسَرَهُمَا -

৪৫. হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ ﷺ-কে কখনো তাঁর উপর কৃত জুলুমের প্রতিশোধ গ্রহণ করতে দেখিনি। তবে আল্লাহর বিধি-নিষেধের অবমাননা করা হলে সে সময়ের কথা স্বতন্ত্র। আর যখন আল্লাহর বিধি-নিষেধের সামান্যতমও অবমাননা করা হতো, তখন তিনি সে ব্যাপারে সবার চেয়ে অধিক কঠোরতা অবলম্বন করতেন। আর যখনই তাঁকে কোনো দু'টি বিষয়ের মধ্যে ইখতিয়ার দেয়া হয়েছে, তিনি তার মধ্যে সহজতর পথটি গ্রহণ করেছেন।

٤٦. عَنْ أَنَسٍ قَالَ خَدَمْتُ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ عَشَرَ سِنِينَ وَأَنَا غُلَامُ لَيْسَ كُلُّ أَمْرٍ أَمَرَنِي كَمَا يَشْتَهِي صَاحِبِي أَنْ يَكُونَ ، فَمَا قَالَ لِمَ فَعَلْتَ هُذَا؟ أَوْ أَلا فَعَلْتَ هُذَا ؟

৪৬. হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি দশ বছর পর্যন্ত রাসূলুল্লাহ্ ﷺ -এর খেদমত করেছি। আমি তখন ছোট্ট ছিলাম। তাই সব কাজ আমি তাঁর মন মতো করতে পারতাম না। তবুও তিনি কখনো আমাকে এ কথা বলেননি যে, তুমি এরূপ কেন করলে? কিংবা এরূপ কেন করলে না?

৪৭. عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ صَحِبْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ عَشَرَ سِنِينَ فَمَا قَالَ لِشَيْءٍ قَطُّ لِمَ صَنَعْتَ كَذَا أَوْ كَذَا؟

৪৭. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি দশ বছর পর্যন্ত রাসূলুল্লাহ্-এর সাহচর্যে ছিলাম। (এই দীর্ঘ সময়ে) তিনি কখনো কোনো ব্যাপারে আমাকে বলেননি যে, তুমি এরূপ এরূপ করলে কেন?

٤٨ عَنْ أَنَسٍ قَالَ خَدِمْتُ النَّبِيُّ الله عَشَرَ سِنِينَ لَمْ يَقُلْ لِشَيْ فَعَلْتُ لِمَ فَعَلْتَ؟ وَلَا لِشَيْ لَمْ أَفْعَلْهُ أَلَّا فَعَلْتَهُ؟

৪৮. হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি দশ বছর পর্যন্ত নবী-এর খিদমত করেছি। কিন্তু তিনি আমার কোনো কৃতকর্মের উপর একথা বলেননি যে, তুমি এরূপ কেন করলে? আর কোনো কাজ না করলেও বলেননি যে, তুমি এ কাজটি কেন করোনি?

٤٩ عَنْ أَنَسٍ قَالَ خَدِمْتُ النَّبِيُّ الله تِسْعَ سِنِينَ، فَمَا قَالَ لِشَيْ أَسَأْتَ وَلَا بِئْسَ مَا صَنَعْتَ ، وَكَانَ إِذَا أَنْكَرَ الشَّيْئَ يَقُولُ كَذَا قُضِيَ -

৪৯. হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নয় বছর পর্যন্ত নবী -এর খিদমত করেছি। কিন্তু তিনি কোনো ব্যাপারেই একথা বলেননি যে, তুমি খারাপ করেছো এবং একথা বলেননি যে, তুমি মন্দ কাজ করেছো। আর যখন তিনি কোনো বিষয়কে অপছন্দ করতেন, তখন বলতেন, এরূপ কথাই বলা ছিল।

٥٠. عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكَ أَنَّهُ قَالَ خَدِمْتُ النَّبِيُّ اللهَ عَشَرَ سِنِينَ فَمَا قَالَ فِي شَيْءٍ فَعَلْتُ لِمَ فَعَلْتَ؟ وَلَا لِشَئْي لَمْ أَفْعَلْهُ لِمَ لَمْ تَفْعَلْهُ؟ زَادَ مَعْمَرٌ وَمَا سَبَنَّي سَبَّةٌ قَطُّ -

৫০. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি দশ বছর পর্যন্ত নবী-এর খিদমত করেছি। কিন্তু তিনি আমার কোনো কাজ সম্পর্কেই একথা বলেননি যে, তুমি এটি কেন করেছ এবং আমি কোনো কাজ না করলে একথা বলেননি যে, তুমি এটি করলে না কেন? এ রিওয়ায়াতে মামার থেকে এ বাক্যটিও বর্ণিত আছে যে, এবং তিনি আমাকে কখনো গালমন্দও করেননি।

اه عَنْ أَنَسٍ قَالَ لَمْ يَكُنْ رَسُولُ اللهِ ﷺ سَبَّابًا وَلَا فَحَاشًا كَانَ يَقُولُ لاحَدِنَا فِي الْمَعْتَبَةِ مَالَهُ تَرِبَتْ يَمِينُهُ

৫১. হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ ﷺ কাউকে গালাগালও করতেন না এবং কাউকে অশালীন কথাও বলতেন না। তিনি যখন আমাদের কাউকে ভর্ৎসনা করতে চাইতেন, তখন বলতেন: তার কি হয়েছে? তার হাত ধুলিমলিন হোক।

٥٢ . عَنْ ابْنِ عُمَرَ كَانَ النَّبِيُّ الله لَمْ يَكُنْ فَاحِشًا وَلَا مُتَفَحِّشًا، وَإِنَّهُ كَانَ يَقُولُ خِيَارُكُمْ أَحْسَنُكُمْ خُلُقًا

৫২. হযরত ইবন উমর (রা) থেকে বর্ণিত আছে যে, নবী ﷺ না অশ্লীল ভাষী ছিলেন, না নির্লজ্জর মত ভাষা প্রয়োগ করতেন। বরং তিনি বলতেন, তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম সেই ব্যক্তি, যার চরিত্র সর্বোত্তম।

٥٣ . عَنْ أَبِي ذَرٍّ قَالَ كَانَ النَّبِي بِأَبِي وَأُمِّي لَمْ يَكُنْ فَاحِشًا وَلَا مُتَفَحِّشًا وَلَا سَخَّابًا فِي الْأَسْوَاقِ -

৫৩. হযরত আবূ যার (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার মাতা-পিতা নবী ﷺ -এর জন্য কুরবান, তিনি না অশ্লীল ভাষী ছিলেন, না নির্লজ্জের মত ভাষা প্রয়োগ করতেন। আর না তিনি হাট-বাজারে চিৎকার করে কথা বলতেন।

٥٤ . عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللهِ إِذَا صَافَحُ رَجُلًا لَمْ يَنْزِعَ يَدَهُ مِنْ يَدِهِ حَتَّى يَكُونَ الرَّجُلُ هُوَ الَّذِي يَنْزِعُ يَدَهُ ، وَلَا يَصْرِفُ وَجْهَهُ عَنْهُ حَتَّى يَكُوْنَ هُوَ الَّذِيْنَ يَصْرِفُ، وَلَمْ يُرَ مُقَدِّمًا رُكْبَتَيْهِ بَيْنَ يَدَى جَلِيْسٍ لَهُ قَطُّ -

৫৪. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ ﷺ যখন কারো সাথে মুসাফাহা করতেন, তখন ঐ ব্যক্তি তার হাত গুটিয়ে না নেয়া পর্যন্ত তিনি তাঁর হাত মুবারক গুটিয়ে নিতেন না এবং তিনি তাঁর চেহারা মুবারক ঐ ব্যক্তির থেকে ফিরিয়ে নিতেন না, যে পর্যন্ত সে তার চেহারা ফিরিয়ে না নিতো। আর কখনো তাঁকে এমন অবস্থায়ও দেখা যায়নি যে, তিনি তাঁর কাছে কোনো উপবেশনকারীর দিকে তাঁর হাঁটু বাড়িয়ে দিয়েছেন।

عَنْ يَزِيدَ الرُّقَاشِي عَنْ أَنَسٍ مِثْلَهُ

৫৫. ইয়াযীদ রাক্কাশীও হযরত আনাস (রা) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

عَنْ أَنَسٍ قَالَ كَانَ النَّبِيُّ ﷺ مَا سَأَلَ سَائِلَ قَطُّ إِلَّا أَصْغَى إِلَيْهِ حَتَّى يَكُونَ هُوَ الَّذِي يَنْصَرِفُ، وَمَا تَنَاوَلَ أَحَدٌ يَدَهُ قَطُّ إِلا نَاوَلَهَا إِيَّاهُ فَلَمْ يَنْزِعُهَا مِنْ يَدِهِ حَتَّى يَكُوْنَ هُوَ الَّذِي يَنْزِعُهَا

৫৬. হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী -এর নিকট যখনই কোনো প্রশ্নকারী প্রশ্ন করতো, তিনি তার প্রতি পূর্ণ মনোযোগী থাকতেন যে পর্যন্ত সে নিজে সরে না যেতো। আর যখন কোনো ব্যক্তি তার হাতে তাঁর হাত মুবারক নিতো তখন তিনি তাঁর হাত মুবারক তাকে প্রদান করতেন। তারপর যে পর্যন্ত ঐ ব্যক্তি তার নিজের হাত ছাড়িয়ে না নিতো, তিনি তাঁর হাত মুবারক ছাড়িয়ে নিতেন না।

عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ خَدِمْتُ رَسُولَ اللهِ ﷺ عَشَرَ سِنِينَ فَشَمَمْتُ الْعِطْرَ وَلَمْ أَشُمَّ نِكْهَةً أَطْيَبَ مِنْ نِكْهَةِ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ وَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ إِذَا لَقِيَهُ أَحَدٌ مِنْ أَصْحَابِهِ فَقَامَ مَعَهُ لَمْ يَنْصَرِفُ عَنْهُ، وَإِذَا لَقِيَهُ أَحَدٌ مِنْ أَصْحَابِهِ فَتَنَاوَلُ يَدَهُ نَاوَلَهَا إِيَّاهُ ثُمَّ لَمْ يَنْزِعْهَا مِنْهُ حَتَّى يَكُوْنَ الرَّجُلُ هُوَ الَّذِي يَنْزِعُ يَدَهُ مِنْهُ، وَإِذَا لَقِيَهُ أَحَدٌ مِنْ أَصْحَابِهِ فَتَنَاوَلُ أُذُنُهُ نَاوَلَهَا إِيَّاهُ ثُمَّ لَمْ يَنْزِعْهَا مِنْهُ حَتَّى يَكُونَ الرَّجُلُ هُوَ الَّذِي يَنْزِعُهَا مِنْهُ

৫৭. হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি দশ বছর পর্যন্ত রাসূলুল্লাহ্ -এর খিদমত করেছি। আর আমি (সব রকমের) আতরের ঘ্রাণ শুঁকেছি কিন্তু রাসূলুল্লাহ্ -এর মুখের ঘ্রাণ থেকে উত্তম কোনো সুগন্ধি শুঁকিনি। সাহাবাদের মধ্য থেকে যখনই কারো সাথে তাঁর সাক্ষাত হতো, তিনি তার সাথে দাঁড়িয়ে থাকতেন, তার থেকে দূরে থাকতেন না। আর যখন তাঁর সাহাবীদের মধ্য থেকে কেউ তাঁর সাথে মিলিত হতো এবং তাঁর হাত মুবারক নিজের হাতে নিতো, তখন তিনি তাঁর হাত মুবারক ঐ ব্যক্তির হাতে প্রদান করতেন এবং সেই সময় পর্যন্ত ছাড়িয়ে নিতেন না যে পর্যন্ত ঐ ব্যক্তি নিজেই তার হাত ছাড়িয়ে না নিতো। আর যখন কোনো সাহাবী তাঁর সাথে মিলিত হয়ে তাঁর কানে কোনো কথা বলতে চাইতো, তিনি তাঁর কান তার দিকে পেতে দিতেন এবং সেই অবধি তা সরিয়ে নিতেন না যে পর্যন্ত ঐ ব্যক্তি নিজেই তা সরিয়ে না নিতো।

৫৮. عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ خَدِمْتُ النَّبِيَّ ﷺ عَشَرَ سِنِينَ لَمْ يَصْرِبْنِي قَطُّ، وَلَمْ يَنْتَهِرْنِي يَوْمًا قَطُّ، وَلَمْ يَعْبَسُ وَجْهَهُ عَلَى يَوْمًا قَطُّ -

৫৮. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি দশ বছর পর্যন্ত নবী -এর সেবা করেছি। (কিন্তু এই সুদীর্ঘ সময়ে) তিনি আমাকে কখনো মারেননি। কোনো দিন আমাকে ধমকাননি। কোনো দিন আমার প্রতি ভ্রুকুটি করেননি।

٥٩. عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكِ أَنَّهُ ذَكَرَ النَّبِيَّ ﷺ فَقَالَ كَانَ أَكْرَمَ النَّاسِ -

৫৯. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) একবার নবী -এর আলোচনা প্রসঙ্গে বলেন, তিনি ছিলেন সবচেয়ে ভদ্র ও দয়ালু।

٦٠. عَنْ أَنَسٍ أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ أَدْرَكَهُ أَعْرَابِيُّ فَأَخَذَ بِرِدَائِهِ فَجَبَذَهُ جَبْذَهُ شَدِيدَةٌ فَنَظَرْتُ إِلَى عُنُقِ رَسُولِ اللهِ ﷺ وَقَدْ أَثَرَتْ فِيْهِ حَاشِيَةُ الرِّدَاءِ مِنْ شِدَّةِ جَبْنَتِهِ، ثُمَّ قَالَ يَا مُحَمَّدًا مُرْ لِیْ مِنْ مَالِ اللهِ الَّذِي عِنْدَكَ فَالْتَفْتَ إِلَيْهِ رَسُولُ الله ﷺ فَضَحِكَ وَأَمَرَ لَهُ بِعَطَاءٍ -

৬০. হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত যে, একবার এক বেদুঈন নবী -এর চাদর ধরে জোরে হেঁচকা টান মারলো। আমি রাসূলুল্লাহ্ -এর ঘাড়ের দিকে তাকিয়ে দেখলাম, তাতে জোরে চাদর টানার কারণে দাগ পড়ে গিয়েছে। তারপর বেদুঈন বললো, হে মুহাম্মদ! আল্লাহ্র যে সম্পদ তোমার কাছে আছে, তা থেকে আমাকে কিছু দান করার নির্দেশ দাও। তিনি তার দিকে তাকিয়ে হেসে দিলেন এবং তাকে কিছু সম্পদ দানের নির্দেশ দিলেন।


টিকাঃ
১ হযরত আনাস (রা)-এর বর্ণনাগুলোর বিষয়বস্তু যদিও অভিন্ন, কিন্তু যেহেতু হাদীসসমূহ বিবিধ সূত্র থেকে বর্ণিত হয়েছে, তাই হাফিয আবূ শায়খ ইস্ফাহানী (র) প্রতিটি বর্ণনাকে ভিন্ন ভিন্ন সূত্রে উদ্ধৃত করেছেন।

📘 হাদিস আখলাকুন নবী সাঃ > 📄 নবী (সা)-এর দয়া, পরম ধৈর্য ও ক্রোধ সংবরণ

📄 নবী (সা)-এর দয়া, পরম ধৈর্য ও ক্রোধ সংবরণ


٤٣. عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا قَالَتْ مَا ضَرَبَ النَّبِيُّ امْرَأَةً قَطُّ وَلَا ضَرَبَ خَادِمًا قَطُّ وَلاَ ضَرَبَ بِيَدِهِ شَيْئًا قَطُّ إِلا أَنْ يُجَاهِدُ فِي سَبِيْلِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ، وَلَا نَيْلَ مِنْهُ فَانْتَقَمَ مِنْ صَاحِبِهِ إِلَّا أَنْ تُنْتَهَكَ مَحَارِمُهُ فَيَنْتَقِمُ -

৪৩. হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী কখনো কোনো স্ত্রীকে মারেননি। কখনো কোনো খাদিমকেও মারেননি এবং কারো উপর তিনি তাঁর হাত কখনো তোলেননি। তবে তিনি যখন আল্লাহর পথে জিহাদ করতে বের হতেন তখনকার কথা আলাদা। আর এমনও কখনো হয়নি যে, কেউ তাঁকে কষ্ট দিয়েছে এবং তিনি তার প্রতিশোধ নিয়েছেন। তবে কেউ যদি দীনের বিধি-নিষেধ অমান্য করতো, তিনি তার প্রতিশোধ গ্রহণ করতেন।

৩৯. عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا قَالَتْ مَا خَيْرَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ فِي أَمْرَيْنِ إِلَّا اخْتَارَ أَيْسَرَ هُمَا مَالَمْ يَكُنْ إِثْمًا فَإِنْ كَانَ إِثْمًا كَانَ أَبْعَدَ النَّاسِ مِنْهُ وَمَا انْتَقَمَ رَسُولُ اللهِ ﷺ لِنَفْسِهِ إِلَّا أَنْ تُنْتَهَكَ حُرْمَةُ اللَّهِ عَزَّ وَجَلٌ -

৪৪. হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ -কে যখন কোন দু'টি বিষয়ের মধ্যে ইখতিয়ার দেয়া হতো, তখন তিনি সবচেয়ে সহজ পন্থাটি গ্রহণ করতেন, আর যদি তা পাপের কাজ হতো, তবে তিনি তা থেকে সবার চেয়ে অধিক দূরে থাকতেন। রাসূলুল্লাহ্ তাঁর নিজস্ব ব্যাপারে কখনো কারো থেকে প্রতিশোধ গ্রহণ করেননি। তবে আল্লাহর বিধি-নিষেধ যদি লঙ্ঘন করা হতো (তখন তিনি তার অবশ্যই প্রতিশোধ গ্রহণ করতেন)।

٤٥. عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا قَالَتْ مَا رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ مُنْتَصِرًا مِنْ ظَلَامَةٍ ظُلِمَهَا قَطُّ إِلَّا أَنْ يُنْتَهَكَ مِنْ مَحَارِمِ اللهِ شَيْءٌ وَإِذَا انْتُهِكَ مِنْ مَحَارِمِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ شَيْءٌ كَانَ أَشَدَّهُمْ فِي ذَلِكَ وَمَا خَيْرَ بَيْنَ أَمَرَيْنِ قَطُّ إِلَّا اخْتَارَ أَيْسَرَهُمَا -

৪৫. হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ ﷺ-কে কখনো তাঁর উপর কৃত জুলুমের প্রতিশোধ গ্রহণ করতে দেখিনি। তবে আল্লাহর বিধি-নিষেধের অবমাননা করা হলে সে সময়ের কথা স্বতন্ত্র। আর যখন আল্লাহর বিধি-নিষেধের সামান্যতমও অবমাননা করা হতো, তখন তিনি সে ব্যাপারে সবার চেয়ে অধিক কঠোরতা অবলম্বন করতেন। আর যখনই তাঁকে কোনো দু'টি বিষয়ের মধ্যে ইখতিয়ার দেয়া হয়েছে, তিনি তার মধ্যে সহজতর পথটি গ্রহণ করেছেন।

٤٦. عَنْ أَنَسٍ قَالَ خَدَمْتُ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ عَشَرَ سِنِينَ وَأَنَا غُلَامُ لَيْسَ كُلُّ أَمْرٍ أَمَرَنِي كَمَا يَشْتَهِي صَاحِبِي أَنْ يَكُونَ ، فَمَا قَالَ لِمَ فَعَلْتَ هُذَا؟ أَوْ أَلا فَعَلْتَ هُذَا ؟

৪৬. হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি দশ বছর পর্যন্ত রাসূলুল্লাহ্ ﷺ -এর খেদমত করেছি। আমি তখন ছোট্ট ছিলাম। তাই সব কাজ আমি তাঁর মন মতো করতে পারতাম না। তবুও তিনি কখনো আমাকে এ কথা বলেননি যে, তুমি এরূপ কেন করলে? কিংবা এরূপ কেন করলে না?

৪৭. عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ صَحِبْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ عَشَرَ سِنِينَ فَمَا قَالَ لِشَيْءٍ قَطُّ لِمَ صَنَعْتَ كَذَا أَوْ كَذَا؟

৪৭. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি দশ বছর পর্যন্ত রাসূলুল্লাহ্-এর সাহচর্যে ছিলাম। (এই দীর্ঘ সময়ে) তিনি কখনো কোনো ব্যাপারে আমাকে বলেননি যে, তুমি এরূপ এরূপ করলে কেন?

٤٨ عَنْ أَنَسٍ قَالَ خَدِمْتُ النَّبِيُّ الله عَشَرَ سِنِينَ لَمْ يَقُلْ لِشَيْ فَعَلْتُ لِمَ فَعَلْتَ؟ وَلَا لِشَيْ لَمْ أَفْعَلْهُ أَلَّا فَعَلْتَهُ؟

৪৮. হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি দশ বছর পর্যন্ত নবী-এর খিদমত করেছি। কিন্তু তিনি আমার কোনো কৃতকর্মের উপর একথা বলেননি যে, তুমি এরূপ কেন করলে? আর কোনো কাজ না করলেও বলেননি যে, তুমি এ কাজটি কেন করোনি?

٤٩ عَنْ أَنَسٍ قَالَ خَدِمْتُ النَّبِيُّ الله تِسْعَ سِنِينَ، فَمَا قَالَ لِشَيْ أَسَأْتَ وَلَا بِئْسَ مَا صَنَعْتَ ، وَكَانَ إِذَا أَنْكَرَ الشَّيْئَ يَقُولُ كَذَا قُضِيَ -

৪৯. হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নয় বছর পর্যন্ত নবী -এর খিদমত করেছি। কিন্তু তিনি কোনো ব্যাপারেই একথা বলেননি যে, তুমি খারাপ করেছো এবং একথা বলেননি যে, তুমি মন্দ কাজ করেছো। আর যখন তিনি কোনো বিষয়কে অপছন্দ করতেন, তখন বলতেন, এরূপ কথাই বলা ছিল।

٥٠. عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكَ أَنَّهُ قَالَ خَدِمْتُ النَّبِيُّ اللهَ عَشَرَ سِنِينَ فَمَا قَالَ فِي شَيْءٍ فَعَلْتُ لِمَ فَعَلْتَ؟ وَلَا لِشَئْي لَمْ أَفْعَلْهُ لِمَ لَمْ تَفْعَلْهُ؟ زَادَ مَعْمَرٌ وَمَا سَبَنَّي سَبَّةٌ قَطُّ -

৫০. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি দশ বছর পর্যন্ত নবী-এর খিদমত করেছি। কিন্তু তিনি আমার কোনো কাজ সম্পর্কেই একথা বলেননি যে, তুমি এটি কেন করেছ এবং আমি কোনো কাজ না করলে একথা বলেননি যে, তুমি এটি করলে না কেন? এ রিওয়ায়াতে মামার থেকে এ বাক্যটিও বর্ণিত আছে যে, এবং তিনি আমাকে কখনো গালমন্দও করেননি।

اه عَنْ أَنَسٍ قَالَ لَمْ يَكُنْ رَسُولُ اللهِ ﷺ سَبَّابًا وَلَا فَحَاشًا كَانَ يَقُولُ لاحَدِنَا فِي الْمَعْتَبَةِ مَالَهُ تَرِبَتْ يَمِينُهُ

৫১. হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ ﷺ কাউকে গালাগালও করতেন না এবং কাউকে অশালীন কথাও বলতেন না। তিনি যখন আমাদের কাউকে ভর্ৎসনা করতে চাইতেন, তখন বলতেন: তার কি হয়েছে? তার হাত ধুলিমলিন হোক।

٥٢ . عَنْ ابْنِ عُمَرَ كَانَ النَّبِيُّ الله لَمْ يَكُنْ فَاحِشًا وَلَا مُتَفَحِّشًا، وَإِنَّهُ كَانَ يَقُولُ خِيَارُكُمْ أَحْسَنُكُمْ خُلُقًا

৫২. হযরত ইবন উমর (রা) থেকে বর্ণিত আছে যে, নবী ﷺ না অশ্লীল ভাষী ছিলেন, না নির্লজ্জর মত ভাষা প্রয়োগ করতেন। বরং তিনি বলতেন, তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম সেই ব্যক্তি, যার চরিত্র সর্বোত্তম।

٥٣ . عَنْ أَبِي ذَرٍّ قَالَ كَانَ النَّبِي بِأَبِي وَأُمِّي لَمْ يَكُنْ فَاحِشًا وَلَا مُتَفَحِّشًا وَلَا سَخَّابًا فِي الْأَسْوَاقِ -

৫৩. হযরত আবূ যার (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার মাতা-পিতা নবী ﷺ -এর জন্য কুরবান, তিনি না অশ্লীল ভাষী ছিলেন, না নির্লজ্জের মত ভাষা প্রয়োগ করতেন। আর না তিনি হাট-বাজারে চিৎকার করে কথা বলতেন।

٥٤ . عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللهِ إِذَا صَافَحُ رَجُلًا لَمْ يَنْزِعَ يَدَهُ مِنْ يَدِهِ حَتَّى يَكُونَ الرَّجُلُ هُوَ الَّذِي يَنْزِعُ يَدَهُ ، وَلَا يَصْرِفُ وَجْهَهُ عَنْهُ حَتَّى يَكُوْنَ هُوَ الَّذِيْنَ يَصْرِفُ، وَلَمْ يُرَ مُقَدِّمًا رُكْبَتَيْهِ بَيْنَ يَدَى جَلِيْسٍ لَهُ قَطُّ -

৫৪. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ ﷺ যখন কারো সাথে মুসাফাহা করতেন, তখন ঐ ব্যক্তি তার হাত গুটিয়ে না নেয়া পর্যন্ত তিনি তাঁর হাত মুবারক গুটিয়ে নিতেন না এবং তিনি তাঁর চেহারা মুবারক ঐ ব্যক্তির থেকে ফিরিয়ে নিতেন না, যে পর্যন্ত সে তার চেহারা ফিরিয়ে না নিতো। আর কখনো তাঁকে এমন অবস্থায়ও দেখা যায়নি যে, তিনি তাঁর কাছে কোনো উপবেশনকারীর দিকে তাঁর হাঁটু বাড়িয়ে দিয়েছেন।

عَنْ يَزِيدَ الرُّقَاشِي عَنْ أَنَسٍ مِثْلَهُ

৫৫. ইয়াযীদ রাক্কাশীও হযরত আনাস (রা) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

عَنْ أَنَسٍ قَالَ كَانَ النَّبِيُّ ﷺ مَا سَأَلَ سَائِلَ قَطُّ إِلَّا أَصْغَى إِلَيْهِ حَتَّى يَكُونَ هُوَ الَّذِي يَنْصَرِفُ، وَمَا تَنَاوَلَ أَحَدٌ يَدَهُ قَطُّ إِلا نَاوَلَهَا إِيَّاهُ فَلَمْ يَنْزِعُهَا مِنْ يَدِهِ حَتَّى يَكُوْنَ هُوَ الَّذِي يَنْزِعُهَا

৫৬. হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী -এর নিকট যখনই কোনো প্রশ্নকারী প্রশ্ন করতো, তিনি তার প্রতি পূর্ণ মনোযোগী থাকতেন যে পর্যন্ত সে নিজে সরে না যেতো। আর যখন কোনো ব্যক্তি তার হাতে তাঁর হাত মুবারক নিতো তখন তিনি তাঁর হাত মুবারক তাকে প্রদান করতেন। তারপর যে পর্যন্ত ঐ ব্যক্তি তার নিজের হাত ছাড়িয়ে না নিতো, তিনি তাঁর হাত মুবারক ছাড়িয়ে নিতেন না।

عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ خَدِمْتُ رَسُولَ اللهِ ﷺ عَشَرَ سِنِينَ فَشَمَمْتُ الْعِطْرَ وَلَمْ أَشُمَّ نِكْهَةً أَطْيَبَ مِنْ نِكْهَةِ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ وَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ إِذَا لَقِيَهُ أَحَدٌ مِنْ أَصْحَابِهِ فَقَامَ مَعَهُ لَمْ يَنْصَرِفُ عَنْهُ، وَإِذَا لَقِيَهُ أَحَدٌ مِنْ أَصْحَابِهِ فَتَنَاوَلُ يَدَهُ نَاوَلَهَا إِيَّاهُ ثُمَّ لَمْ يَنْزِعْهَا مِنْهُ حَتَّى يَكُوْنَ الرَّجُلُ هُوَ الَّذِي يَنْزِعُ يَدَهُ مِنْهُ، وَإِذَا لَقِيَهُ أَحَدٌ مِنْ أَصْحَابِهِ فَتَنَاوَلُ أُذُنُهُ نَاوَلَهَا إِيَّاهُ ثُمَّ لَمْ يَنْزِعْهَا مِنْهُ حَتَّى يَكُونَ الرَّجُلُ هُوَ الَّذِي يَنْزِعُهَا مِنْهُ

৫৭. হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি দশ বছর পর্যন্ত রাসূলুল্লাহ্ -এর খিদমত করেছি। আর আমি (সব রকমের) আতরের ঘ্রাণ শুঁকেছি কিন্তু রাসূলুল্লাহ্ -এর মুখের ঘ্রাণ থেকে উত্তম কোনো সুগন্ধি শুঁকিনি। সাহাবাদের মধ্য থেকে যখনই কারো সাথে তাঁর সাক্ষাত হতো, তিনি তার সাথে দাঁড়িয়ে থাকতেন, তার থেকে দূরে থাকতেন না। আর যখন তাঁর সাহাবীদের মধ্য থেকে কেউ তাঁর সাথে মিলিত হতো এবং তাঁর হাত মুবারক নিজের হাতে নিতো, তখন তিনি তাঁর হাত মুবারক ঐ ব্যক্তির হাতে প্রদান করতেন এবং সেই সময় পর্যন্ত ছাড়িয়ে নিতেন না যে পর্যন্ত ঐ ব্যক্তি নিজেই তার হাত ছাড়িয়ে না নিতো। আর যখন কোনো সাহাবী তাঁর সাথে মিলিত হয়ে তাঁর কানে কোনো কথা বলতে চাইতো, তিনি তাঁর কান তার দিকে পেতে দিতেন এবং সেই অবধি তা সরিয়ে নিতেন না যে পর্যন্ত ঐ ব্যক্তি নিজেই তা সরিয়ে না নিতো।

৫৮. عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ خَدِمْتُ النَّبِيَّ ﷺ عَشَرَ سِنِينَ لَمْ يَصْرِبْنِي قَطُّ، وَلَمْ يَنْتَهِرْنِي يَوْمًا قَطُّ، وَلَمْ يَعْبَسُ وَجْهَهُ عَلَى يَوْمًا قَطُّ -

৫৮. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি দশ বছর পর্যন্ত নবী -এর সেবা করেছি। (কিন্তু এই সুদীর্ঘ সময়ে) তিনি আমাকে কখনো মারেননি। কোনো দিন আমাকে ধমকাননি। কোনো দিন আমার প্রতি ভ্রুকুটি করেননি।

٥٩. عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكِ أَنَّهُ ذَكَرَ النَّبِيَّ ﷺ فَقَالَ كَانَ أَكْرَمَ النَّاسِ -

৫৯. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) একবার নবী -এর আলোচনা প্রসঙ্গে বলেন, তিনি ছিলেন সবচেয়ে ভদ্র ও দয়ালু।

٦٠. عَنْ أَنَسٍ أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ أَدْرَكَهُ أَعْرَابِيُّ فَأَخَذَ بِرِدَائِهِ فَجَبَذَهُ جَبْذَهُ شَدِيدَةٌ فَنَظَرْتُ إِلَى عُنُقِ رَسُولِ اللهِ ﷺ وَقَدْ أَثَرَتْ فِيْهِ حَاشِيَةُ الرِّدَاءِ مِنْ شِدَّةِ جَبْنَتِهِ، ثُمَّ قَالَ يَا مُحَمَّدًا مُرْ لِیْ مِنْ مَالِ اللهِ الَّذِي عِنْدَكَ فَالْتَفْتَ إِلَيْهِ رَسُولُ الله ﷺ فَضَحِكَ وَأَمَرَ لَهُ بِعَطَاءٍ -

৬০. হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত যে, একবার এক বেদুঈন নবী -এর চাদর ধরে জোরে হেঁচকা টান মারলো। আমি রাসূলুল্লাহ্ -এর ঘাড়ের দিকে তাকিয়ে দেখলাম, তাতে জোরে চাদর টানার কারণে দাগ পড়ে গিয়েছে। তারপর বেদুঈন বললো, হে মুহাম্মদ! আল্লাহ্র যে সম্পদ তোমার কাছে আছে, তা থেকে আমাকে কিছু দান করার নির্দেশ দাও। তিনি তার দিকে তাকিয়ে হেসে দিলেন এবং তাকে কিছু সম্পদ দানের নির্দেশ দিলেন।


টিকাঃ
১ হযরত আনাস (রা)-এর বর্ণনাগুলোর বিষয়বস্তু যদিও অভিন্ন, কিন্তু যেহেতু হাদীসসমূহ বিবিধ সূত্র থেকে বর্ণিত হয়েছে, তাই হাফিয আবূ শায়খ ইস্ফাহানী (র) প্রতিটি বর্ণনাকে ভিন্ন ভিন্ন সূত্রে উদ্ধৃত করেছেন।

📘 হাদিস আখলাকুন নবী সাঃ > 📄 নবী (সা)-এর পরম লজ্জাবোধ

📄 নবী (সা)-এর পরম লজ্জাবোধ


٦١. عَنْ أَبِي سَعِيدِ الْخُدْرِيِّ يَقُوْلُ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ أَشَدُّ حَيَاءً مِنَ الْعَذْرَاءِ فِي خِدْرِهَا ، وَكَانَ إِذَا كَرِهَ شَيْئًا عَرَفْنَاهُ فِي وَجْهِهِ -

৬১. হযরত আবূ সাঈদ খুদ্রী (রা) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ্ পর্দানশীল কুমারী অপেক্ষাও অধিক লজ্জাশীল ছিলেন। তিনি যখন কোনো কিছু অপছন্দ করতেন আমরা তা তাঁর চেহারা মুবারক দেখেই বুঝে ফেলতাম।

📘 হাদিস আখলাকুন নবী সাঃ > 📄 নবী (সা)-এর পরম লজ্জাবোধ

📄 নবী (সা)-এর পরম লজ্জাবোধ


٦١. عَنْ أَبِي سَعِيدِ الْخُدْرِيِّ يَقُوْلُ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ أَشَدُّ حَيَاءً مِنَ الْعَذْرَاءِ فِي خِدْرِهَا ، وَكَانَ إِذَا كَرِهَ شَيْئًا عَرَفْنَاهُ فِي وَجْهِهِ -

৬১. হযরত আবূ সাঈদ খুদ্রী (রা) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ্ পর্দানশীল কুমারী অপেক্ষাও অধিক লজ্জাশীল ছিলেন। তিনি যখন কোনো কিছু অপছন্দ করতেন আমরা তা তাঁর চেহারা মুবারক দেখেই বুঝে ফেলতাম।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00