📘 গীবত ও তার ভয়াবহ ক্ষতি > 📄 যবানের কারণে অধিকাংশ মানুষ জাহান্নামে যাবে

📄 যবানের কারণে অধিকাংশ মানুষ জাহান্নামে যাবে


সহীহ বুখারীতে হযরত আবু হুরায়রা রাযি. থেকে উল্লেখ আছে। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন:
إِنَّ العَبْدَ لَيَتَكَلَّمُ بِالْكَلِمَةِ، مَا يَتَبَيَّنُ فِيهَا، يَزِلُّ بِهَا فِي النَّارِ أَبْعَدَ مِمَّا بَيْنَ الْمَشْرِقِ
অর্থাৎ, বান্দা এমন কিছু কথা বলে যার পরিণাম সম্পর্কে সে চিন্তাও করে না। অথচ এ কথা বলার কারণে সে নিক্ষিপ্ত হবে জাহান্নামের এতো গভীরে যার দূরত্ব মাশরিক (পূর্ব-পশ্চিম) এর দূরত্বের চেয়ে বেশি। (বুখারী-৬৪৭৭, ৬৪৭৮, ইফা.-৬০৩৩, মুসলিম-২৯৮৮, ৭৩৭১, ৭৩৭২, তিরমিযী-২৩১৪, আহমাদ-৭১৭৪, ৭৮৯৮, ৮২০৬, ৮৪৪৪, ৮৭০৩, ৮৯৬৭, ১০৫১৪, মালিক-১৮৯৪, হাদীসের শব্দাবলী বুখারীর)
অপর এক বর্ণনায় হযরত বিলাল ইবনে হারিস মুযান্নী রাযি. বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি:
وَإِنَّ أَحَدَكُمْ لَيَتَكَلَّمُ بِالْكَلِمَةِ مِنْ سَخَطِ اللَّهِ مَا يَظُنُّ أَنْ تَبْلُغَ مَا بَلَغَتْ, فَيَكْتُبُ اللَّهُ عَلَيْهِ بِهَا سَخَطَهُ إِلَى يَوْمِ يَلْقَاهُ
তোমাদের কেউ আল্লাহর অসন্তুষ্টিমূলক এমন কথা বলে ফেলে, যা সে খেয়াল করে না যে, এ কথা তাকে কতো নিচে নামিয়ে দিবে। ফলে আল্লাহ তার জন্যে কিয়ামত পর্যন্ত অসন্তুষ্টি বহাল রাখেন। (তিরমিযী-২৩১৯, আহমাদ-১৫৪২৫, মালিক-১৮৪৮, হাদীসের শব্দাবলী তিরমিযীর)
ব্যাখ্যা: সাধারণত ক্রোধের সময় মানুষ গালমন্দ ও ফাহেশা কথাবার্তা বলে। আর হাদীসে আছে, ক্রোধের সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করাই হচ্ছে বাহাদুরী। সহীহ বুখারীতে হযরত আবু হুরায়রা রাযি. থেকে উল্লেখ আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন-
لَيْسَ الشَّدِيدُ بِالصُّرْعَةِ إِنَّمَا الشَّدِيدُ الَّذِي يَمْلِكُ نَفْسَهُ عِنْدَ الْغَضَبِ
অর্থাৎ, প্রকৃত বীর সে নয়, যে কাউকে কুস্তিতে হারিয়ে দেয়। বরং সে-ই প্রকৃত বাহাদুর, যে ক্রোধের সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। (বুখারী-৬১১৪, ইফা.-৫৬৮৪, মুসলিম-২৬০৯, ৬৫৩৫, ৬৫৩৭, ৬৫৩৮, আহমাদ-৭১৭৮, ৭২২৩, ৭৬৮৪, ১০৩২৪, মালিক-১৬৮১, হাদীসের শব্দাবলী বুখারীর)
শয়তানের কু-মন্ত্রণা থেকেই মানুষের মধ্যে 'ক্রোধ' সৃষ্টি হয়। আর শয়তান যখন কু-মন্ত্রণা দিয়ে মানুষের মধ্যে ক্রোধ সৃষ্টি করে, তখন আল্লাহর সাহায্য ও আশ্রয় প্রার্থনা করা উচিত। এজন্যে কুরআনের একাধিক আয়াত ও বহু সহীহ হাদীসে বলা হয়েছে যে, যখন তোমাদের মধ্যে 'ক্রোধ' আসবে, তখন তোমরা-
أَعُوذُ بِاللَّهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّحِيمِ
'অর্থাৎ আমি বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই।' এই দুআটি পাঠ করবে। এই দুআটি পাঠ করলে আল্লাহ পাকের মেহেরবানীতে শয়তান দূর হয়ে যাবে এবং ক্রোধও খতম হয়ে যাবে।
নেকীর পাল্লা ভারী হওয়ার এই তাসবীহ
সহীহ বুখারীতে হযরত আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন-
كَلِمَتَانِ حَبِيبَتَانِ إِلَى الرَّحْمَنِ، خَفِيفَتَانِ عَلَى النِّسَانِ، ثَقِيلَتَانِ فِي الْمِيزَانِ: سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ، سُبْحَانَ اللَّهِ الْعَظِيمِ
অর্থাৎ, এমন দু'টি কালিমা রয়েছে, যা দয়াময় আল্লাহর নিকট অতি প্রিয়, উচ্চারণে খুবই সহজ এবং আমলের পাল্লায় অনেক ভারী। (কালিমা দু'টি হচ্ছে)-
سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ، سُبْحَانَ اللَّهِ الْعَظِيمِ
(অর্থাৎ আমরা আল্লাহ তা'আলার প্রসংশাসহ তার পবিত্রতা ঘোষণা করছি, মহান আল্লাহ অতীব পবিত্র)। (বুখারী-৬৪০৬, ৬৬৮২, ৭৫৬৩, ইফা.-৫৮৫১, ৭০৫৩, মুসলিম-২৬৯৪, তিরমিযী-৩৪৬৭, ইবনে মাজাহ-৩৮০৬, আহমাদ-৭১৭০, ইবনে হিব্বান-৮৪১, তারগীব-১৫৩৭, হাদীসের শব্দাবলী বুখারীর)

📘 গীবত ও তার ভয়াবহ ক্ষতি > 📄 জবান সবচেয়ে দামি

📄 জবান সবচেয়ে দামি


যবান এতো দামি যে, একজন ৮০ বছরের কাট্টা কাফিরও মাত্র একটি কথা (লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ) দ্বারা পাক্কা মুমিন হয়ে জান্নাতের উত্তরাধিকার হয়ে যায়, আবার একজন একশত বছরের মুমিনও একটি কথার দ্বারা কাফির হয়ে চিরতরে জাহান্নামীদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়।
আমরা যতো কথা বলি, চাই ভালো কিংবা মন্দ, প্রতিটি কথাই আল্লাহর পক্ষ থেকে নিয়োজিত ফেরেশতাগণ রেকর্ড করেন। কিয়ামতের দিন সেই রেকর্ড অনুযায়ী আমার বিচার-ফায়সালা হবে। এ মর্মে স্বয়ং আল্লাহ তায়ালা বলেন-
مَايَلْفِظُ مِنْ قَوْلٍ إِلَّا لَدَيْهِ رَقِيبٌ عَتِيدٌ
অর্থাৎ, মানুষ যে কথাই উচ্চারণ করে, তা লেখার জন্য তার কাছে প্রহরী ফেরেশতাগণ সদা প্রস্তুত রয়েছে। (সূরা ক্বাফ-১৮)
বেশিরভাগ গুনাহ যবান দ্বারা হয়
গীবত, শেকায়েত, মিথ্যা, ঝগড়া-বিবাদ, বেহুদা গল্প, ফাহেশা কথাবার্তা, অনর্থক কসম, চোগলখুরী, গালমন্দ, ধোঁকাবাজি ইত্যাদি থেকে যবানকে হিফাজত করা জরুরী। কারণ, হাদীসে আছে- মানুষ যতো গুনাহ করে, তার অধিকাংশই যবান ও লজ্জাস্থান দ্বারা সংঘটিত হয়। একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করা হলো, কোন (বদ আমলের) কারণে মানুষ জাহান্নামে প্রবেশ করবে? তিনি বললেন-
الْأَجْوَفَانِ الْفَمُ وَالْفَرْجُ
অর্থাৎ, অধিকাংশ মানুষ যবান ও লজ্জাস্থানের কারণে জাহান্নামে প্রবেশ করবে। সুতরাং তুমি যদি যবান ও লজ্জাস্থান হিফাজতের যিম্মাদারী নাও, তাহলে আমি তোমার জান্নাতের যিম্মাদারী নিয়ে নিবো। (তিরমিযী-২০০৪, আহমাদ-৭৯০৭, ৯৪০৩, ইবনে মাজাহ-৪২৪৬)
অপর এক হাদীসে আছে, হযরত মুয়াজ ইবনে জাবাল রাযি. নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করলেন, আল্লাহর নিকট সর্বাধিক প্রিয় আমল কী? তিনি বললেন, এমন অবস্থায় তোমার মৃত্যু হবে যে, তোমার যবান আল্লাহ পাকের যিকিরে সিক্ত থাকে। অর্থাৎ আল্লাহ পাকের যিকির রত অবস্থায় তোমার মৃত্যু হবে।
তবে এ কথা সত্য যে, মৃত্যুর সময় ঐসব লোকের যবান আল্লাহ পাকের যিকিরে সিক্ত থাকবে, যারা জীবদ্দশায় অধিক পরিমাণ (সর্বাবস্থায়) আল্লাহ পাকের যিকির করে। অর্থাৎ এক মুহূর্তও যিকির শূন্য থাকতে পছন্দ করে না। (তাবারানী কাবীর-১৬৬৩৪, ১৬৬৩৭, ১৬৬০৭, সহীহ তারগীব-১৪৯২, ইবনে হিব্বান-৮১৮, মাযমাউয যাওয়ায়েদ-১৬৭৪৭)

📘 গীবত ও তার ভয়াবহ ক্ষতি > 📄 ইমাম শাফিঈ রহ. যে নীতি গ্রহণ করতেন

📄 ইমাম শাফিঈ রহ. যে নীতি গ্রহণ করতেন


হযরত ইমাম শাফেঈ রহ. সম্পর্কে বর্ণিত আছে, কেউ যখন তাকে কোনো বিষয়ে জিজ্ঞেস করতেন, তিনি কোনো কোনো সময় দীর্ঘক্ষণ নীরব থাকতেন। কোনো উত্তর দিতেন না। একবার কেউ তাকে জিজ্ঞেস করলো, হযরত! এতক্ষণ হয়ে গেল কোনো উত্তর দিলেন না? কোনো কথাই বলছেন না, কারণ কী? উত্তরে তিনি বললেন,
حَتَّى أَعْرِفَ أَنَّ الْفَضْلَ فِي السُّكُوتِ أَوْ فِي الْكَلَامِ
'আমি নিরব থেকে ভেবে দেখেছি যে, আমার জন্য উত্তর দেয়া উত্তম, নাকি চুপ থাকা'।
অর্থাৎ তিনি আল্লাহ প্রদত্ত জ্ঞান-বুদ্ধি দ্বারা পরিমাপ করছেন যে, এখন আমি যা বলবো, তা আমার জন্য কল্যাণকর হবে নাকি ক্ষতির কারণ হবে। আগে চিন্তা করা, তারপর কথা বলা। উপকারী সাব্যস্ত হলে বলা অন্যথায় চুপ থাকা। জবান ব্যবহারের জন্য এটাই উত্তম পন্থা, এর মধ্যেই কল্যাণ।

📘 গীবত ও তার ভয়াবহ ক্ষতি > 📄 জবানের হিফাজতের উপর জান্নাত লাভের ওয়াদা

📄 জবানের হিফাজতের উপর জান্নাত লাভের ওয়াদা


সহীহ বুখারীতে হযরত সাহল ইবনে সা'দ রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন:
مَنْ يَضْمَنُ لِي مَا بَيْنَ لَحْيَيْهِ وَمَا بَيْنَ رِجْلَيْهِ أَضْمَنُ لَهُ الجَنَّةَ
অর্থাৎ, যে ব্যক্তি আমাকে তার দুই চোয়ালের মধ্যবর্তী স্থান অর্থাৎ 'যবান' ও উভয় উরুর মধ্যবর্তী স্থান (যৌনাঙ্গ) হিফাজতের নিশ্চয়তা দেবে, আমি তার জন্য জান্নাতের নিশ্চয়তা দেব। (সহীহ বুখারী-৬৪৭৪, ৬৮০৭, ইফা.-৬০৩০, তিরমিযী-২৪০৮, আহমাদ-২২৩১৬, হাদীসের শব্দাবলী বুখারীর)
ব্যাখ্যা: এক ব্যক্তি নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে আরজ করলো, ইসলামের আমল তথা ফরয ও ওয়াজিবসমূহ অসংখ্য। আপনি আমাকে এমন একটি সংক্ষিপ্ত আমলের কথা বলে দিন যা সবকিছুকে অন্তর্ভুক্ত করে। তিনি বললেন, তোমার যবান যেন সর্বদা আল্লাহ পাকের যিকিরে তরতাজা থাকে। অপর বর্ণনায় নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি এতো অধিক পরিমাণে আল্লাহ পাকের যিকির করো যেন লোকেরা তোমাকে পাগল বলে। (মুসনাদে আহমাদ, ইবনে কাসীর, তাফসীরে মা'আরিফুল কুরআন-১০৮৬)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00