📘 ফিকহুল মুয়াসস্যার > 📄 চুরি করার পরিচয়, তার বিধান, শরীয়ত কর্তৃক নির্ধারিত শাস্তি এবং তা কার্যকর করার পেছনে হিকমাহ বা উপকারিতা

📄 চুরি করার পরিচয়, তার বিধান, শরীয়ত কর্তৃক নির্ধারিত শাস্তি এবং তা কার্যকর করার পেছনে হিকমাহ বা উপকারিতা


১. চুরির পরিচয়: السرقة এর শাব্দিক অর্থ : الأخذ خفية বা গোপনে নেওয়া।
পরিভাষায়: أخذ مال الغير خفية ظلماً من حرز مثله بشروط معينة "নির্দিষ্ট শর্ত সাপেক্ষে সংরক্ষিত স্থান বা অনুরূপ কোনো জায়গা থেকে অন্যায়ভাবে গোপনে অন্যের সম্পদ গ্রহণ করা।"
এর বর্ণনা অচিরেই আসছে ইনশাআল্লাহ।
২. চুরির বিধান: চুরি করা হারাম। কারণ এর মাধ্যমে অন্যের অধিকারে হস্তক্ষেপ করতঃ সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রহণ করা হয়। কুরআন-সুন্নাহ, আলেমদের ঐকমত্যে তা হারাম হওয়ার উপর প্রমাণ করে। এটি কবীরা গুনাহের অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ তা'আলা এরকম কাজের কর্তাকে অভিশপ্ত করেছেন। যেমন
আবু হুরায়রা এর হাদীস যা আল্লাহর রসূল থেকে বর্ণনা করেছেন। আল্লাহর রসূল বলেছেন: لَعَنَ اللهُ السَّارِقَ، يَسْرِقُ البَيْضَةَ فَتُقْطَعُ يَدُهُ، وَيَسْرِقُ الحَبْلَ فَتُقْطَعُ يَدُهُ
"আল্লাহ তা'আলা চোরের উপর অভিশাপ দিয়েছেন। যখন সে ডিম চুরি করে অতঃপর এর জন্য তার হাত কাটা হয় এবং চোর যখন রশি চুরি করে যার জন্য তার হাত কাটা হয়। " এ ছাড়াও চুরি করা এবং তা থেকে ফিরে আসার ব্যাপারে অনেক হাদীস রয়েছে।
৩. চুরির জন্য শরীয়ত কর্তৃক নির্ধারিত শাস্তি: চোরের উপর নির্ধারিত শাস্তি কার্যকর করা আবশ্যক। আর তা হচ্ছে তার হাত কর্তন করা; চাই সে পুরুষ হোক বা মহিলা। আল্লাহ তা'আলার বাণী: وَالسَّارِقُ وَالسَّارِقَةُ فَاقْطَعُوا أَيْدِيَهُمَا جَزَاءً بِمَا كَسَبَا نَكَالًا مِنَ اللَّهِ وَاللَّهُ عَزِيزٌ حَكِيمٌ
"পুরুষ চোর ও নারী চোর, তাদের উভয়ের হাত কেটে দাও। তাদের কৃতকর্মের ফল ও আল্লাহর পক্ষ থেকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হিসেবে। আর আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।” [সূরা মায়িদাহ: ৩৮] আয়িশাহ এর হাদীস তিনি বলেন: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقْطَعُ السَّارِقَ فِي رُبْعِ دِينَارٍ فَصَاعِدًا
"আল্লাহর রসূল এক দিনারের চারভাগের একভাগ বা এর চেয়ে বেশি দিনারের ক্ষেত্রে চোরের হাত কেটেছেন। " অনুরূপভাবে আয়িশাহ এর থেকে আরেকটি হাদীস। তিনি বলেন, "কুরাইশদেরকে মাখজুম গোত্রের এক মহিলার সম্মান উদ্বিগ্ন করে তুলল, যে চুরি করেছিল। এই ক্ষেত্রে নাবী বলেছেন: وَايْمُ اللَّهِ لَوْ أَنَّ فَاطِمَةَ بِنْتَ مُحَمَّدٍ سَرَقَتْ لَقَطَعْتُ يَدَهَا
"আল্লাহর কসম মুহাম্মাদের মেয়ে ফাতিমাও যদি চুরি করে, অবশ্যই আমি তার হাত কাটবো।" অতঃপর ঐ মহিলা যে চুরি করেছিল তার ব্যাপারে হাত কাটার নির্দেশ দিলে তার হাত কাটা হলো।
মুসলিমগণ একবাক্যে চুরি করা হারাম হওয়া এবং চোরের হাত কর্তন করার উপর ঐকমত্য পোষণ করেছেন।
৪. চুরির শাস্তি কার্যকর করার পিছনে হিকমাহ: ইসলাম সম্পদের মর্যাদা দিয়েছে এবং ব্যক্তির অধীনস্থ অধিকারের মর্যাদা দিয়েছে। সুতরাং চুরি, ছিনতাই, ধোঁকা, খিয়ানত, সুদ, ঘুষ; এ ছাড়াও অন্যায়ভাবে মানুষের সম্পদ খাওয়ার সমস্ত পদ্ধতির মাধ্যমে এই অধিকারে হস্তক্ষেপ করা হারাম করেছে।
আর যেহেতু চোর সমাজের নিকৃষ্টতম অংশ এবং যদি তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়, তাহলে অবশ্যই তার ক্ষতি ও অনিষ্টতা ছড়িয়ে পড়বে। তাই ইসলাম এই হাত কেটে ফেলার বিধান অন্যায় কাজের শাস্তি, অন্যকে এমন অন্যায় কাজ থেকে বিরত রাখা এবং মানুষের সম্পদ ও অধিকার রক্ষা করার উদ্দেশ্যে করেছে।

টিকাঃ
৯২৪ মুত্তাফাকুন আলাইহি: সহীহুল বুখারী, হা. ৬৭৮৩; সহীহ মুসলিম, হা. ফুআ. ১৬৮৭।
৯২৫ মুত্তাফাকুন আলাইহি: সহীহুল বুখারী, হা. ৬৭৯০; সহীহ মুসলিম, হা. ফুআ. ১৬৮৩।
৯২৬ মুত্তাফাকুন আলাইহি: সহীহুল বুখারী, হা. ৩৪৭৫; সহীহ মুসলিম, হা. ফুআ. ১৬৮৮।

📘 ফিকহুল মুয়াসস্যার > 📄 চুরির শাস্তি ওয়াজিব হওয়ার জন্য কিছু শর্ত

📄 চুরির শাস্তি ওয়াজিব হওয়ার জন্য কিছু শর্ত


চুরি করার শাস্তি কার্যকর করা এবং চোরের হাত কাটার ক্ষেত্রে নিম্নবর্ণিত শর্তগুলো প্রযোজ্য:
১. গোপনে সম্পদ নিতে হবে। সুতরাং যদি এমনভাবে না নেয় তাহলে হাত কাটা হবে না। তাই জোরপূর্বক লুটকারী, ছিনতাইকারী ও ডাকাতের হাত কাটা হবে না। নাবী বলেছেন: لَيْسَ عَلَى خَائِنٍ، وَلَا مُنْتَهِبٍ، وَلَا مُخْتَلِسٍ قَطْعُ "খিয়ানতকারী, ছিনতাইকারী এবং ডাকাতের হাত কাটা হবে না।”
২. চোরকে মুকাল্লাফ তথা শরীয়তের বিধিনিষেধের দায়িত্বপ্রাপ্ত (জ্ঞানবান এবং প্রাপ্তবয়স্ক) হতে হবে। সুতরাং নাবালক বা পাগলের উপর হাত কাটার কোনো বিধান নেই। কেননা এই দুই শ্রেণির মানুষের উপর থেকে শরীয়তের দায়িত্ব উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে। যেমন উক্ত বিষয়ের আলোচনা পূর্বেই গত হয়েছে। তবে ছোটো বাচ্চা যখন চুরি করবে তখন তাকে শিষ্টাচার স্বরূপ হালকা প্রহার করা যাবে।
৩. ইচ্ছাকৃতভাবে চুরি করবে। বাধ্য হয়ে চুরি করলে হাত কাটা হবে না। কেননা সে বাধ্য। رفع عن أمتي الخطأ، والنسيان، وما استكرهوا عليه
"আমার উম্মতের উপর থেকে তাদের ভুল, ভুলে যাওয়া বিষয় এবং তাদের উপরে বাধ্য করে চাপিয়ে দেওয়া হয় তা ক্ষমা করে দাওয়া হয়েছে।”
৪. চুরি করা হারাম হওয়া সম্পর্কে অবগত হতে হবে। সুতরাং চুরি করা হারাম হওয়ার ব্যাপারে অজ্ঞ ব্যক্তির উপর হাত কাটার বিধান নেই।
৫. চুরির জিনিস অবশ্যই সম্মানজনক হবে। তাই সে জিনিস সম্পদ নয়, যার সম্মান নেই। যেমন চিত্তবিনোদনের সরঞ্জাম, মদ, শূকর এবং মৃত প্রাণী। এমনিভাবে সম্পদ হিসেবে গণ্য তবে তার কোনো মর্যাদা নেই। যেমন যুদ্ধরত কাফেরের সম্পদ (কারণ কাফের এর জান-মাল বৈধ), এতে হাত কাটা হবে না।
৬. চুরিকৃত সম্পদ শরীয়ত কর্তৃক নির্ধারিত পরিমাণে পৌঁছাতে হবে। অর্থাৎ এক দিনার স্বর্ণের চার ভাগের এক ভাগ বা এর চেয়ে বেশি হতে হবে। আর রুপার ক্ষেত্রে ৩ দিরহাম পরিমাণ অথবা এই দুটির সমপরিমাণ অন্যান্য অর্থ-সম্পদ হবে। এর কম হলে হাত টাকা হবে না। নাবী বলেন:
لَا تُقْطَعُ يَدُ السَّارِقِ إِلَّا فِي رُبْعِ دِينَارٍ فَصَاعِدًا
"স্বর্ণ মুদ্রার চারভাগের একভাগ বা এর চেয়ে বেশি হলে চোরের হাত কাটা হবে।"
৭. চুরিকৃত সম্পদ সংরক্ষণের স্থান থেকে চুরি হবে। আর তা হলো এমন স্থান যেখানে সচারাচর সম্পদ হেফাজতে রাখা হয়। সম্পদ ও দেশভেদে যা বিভিন্ন রকম হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে তা প্রচলিত রীতিনীতির অনুযায়ী হবে। যদি কেউ সংরক্ষণের স্থান ছাড়া অন্য স্থান থেকে নেয়, যেমন সে দরজা খোলা পায় অথবা সংরক্ষণের স্থান ভাঙ্গা অবস্থায় পায়, তাহলে হাত কাটা হবে না।
৮. চোরের ব্যাপারে সন্দেহমুক্ত হওয়া। সে চুরি করেছে, এই ব্যাপারে যদি কোনো প্রকার সন্দেহ থাকে, তাহলে তার হাত কাটা হবে না। কেননা শরীয়তের নির্ধারিত শাস্তিসমূহ সন্দেহ থাকলে কার্যকর হয় না। সুতরাং কেউ তার পিতার সম্পদ চুরি করলে তার হাত কাটা হবে না। অনুরূপভাবে কোনো ব্যক্তি তার ছেলের সম্পদ চুরি করলেও হাত কাটা হবে না। কেননা তাদের উভয়ের একজন অন্যজনের জন্য ব্যয় করা আবশ্যক। কেউ যদি তার অংশীদারের সম্পদ থেকে এমন সম্পদ চুরি করে, যাতে তার অংশ রয়েছে, তাহলে এই চুরির জন্য তার হাত কাটা হবে না। অনুরূপভাবে কোনো ব্যক্তি তার অধিকারভুক্ত সম্পদ থেকে কিছু গ্রহণ করলে তার হাত কাটা হবে না। তবে তাকে শিক্ষামূলক শাস্তি দিতে হবে এবং সে যা গ্রহণ করেছেন তা ফেরত দিবে।
৯. বিচারকের নিকট চুরির বিষয়টি প্রমাণিত হতে হবে। সেটি হতে পারে দুইজন ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তির সাক্ষ্য বা চোরের স্বীকৃতি প্রদান। মহান আল্লাহর ব্যাপক অর্থবোধক বাণীর কারণে:
وَاسْتَشْهِدُوا شَهِيدَيْنِ مِنْ رِجَالِكُمْ
“তোমাদের পুরুষদের মধ্যে হতে দুইজন সাক্ষী রাখো।” [সূরা বাক্বারাহ: ২৮২]
আর স্বীকৃতিকে প্রমাণ করার কারণ হচ্ছে, মানুষ নিজের বিপক্ষে মিথ্যা স্বীকৃতি দিবে না, যাতে সে ক্ষতির সম্মুখীন হয়।
১০. যার থেকে চুরি করা হয়েছে তাকে তার সম্পদের দাবি করতে হবে। কারণ সম্পদ ব্যবহারের বৈধতা দেওয়া যায়। সুতরাং এই সম্ভাবনা থাকে যে, ব্যক্তি হয়তো তার কোনো সাথীকে তার সম্পদ ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে অথবা তার সংরক্ষিত স্থানে প্রবেশের অধিকার দিয়েছে অথবা এমন কিছু করেছে, যার ফলে হদ্দ রহিত হয়ে যায়।

টিকাঃ
৯২৭ তিরমিযী, হা. ১৪৮৮; ইবনু মাজাহ, হা. ২৫৯১; বর্ণনা তিরমিযীর এবং তিনি হাসান সহীহ বলেছেন। ইমাম আলবানী সহীহ বলেছেন, সহীহত তিরমিযী, হা, ১১৭২।
৯২৮ ইবনু মাজাহ, হা, ২০৪৩; বায়হাকী এবং তিনি সহীহ বলেছেন। শাইখ আলবানী সহীহ বলেছেন, ইরওয়া, নং ৮২।
৯২৯ সহীহ মুসলিম, হা. ৪২৯০, ফুআ. ১৬৮৪-(২)।

📘 ফিকহুল মুয়াসস্যার > 📄 চুরির শাস্তির ক্ষেত্রে সুপারিশ এবং চোরকে চুরিকৃত সম্পদ দিয়ে দেওয়া

📄 চুরির শাস্তির ক্ষেত্রে সুপারিশ এবং চোরকে চুরিকৃত সম্পদ দিয়ে দেওয়া


১. চুরির শাস্তির ব্যাপারে সুপারিশ করা: বিচারকের নিকট চুরির বিষয়টি প্রমাণিত হওয়া বা তার নিকট পৌঁছার পর চুরির শাস্তির ব্যাপারে সুপারিশ করা জায়েয নেই। এমনকি অন্যান্য শাস্তির ব্যাপারেও না। কারণ মাখজুম গোত্রের একজন মহিলা যে চুরি করেছিল, তার ব্যপারে উসামা বিন যায়েদ যখন সুপারিশ করার ইচ্ছা করলেন, তখন নাবী বললেন:
أَتَشْفَعُ فِي حَدٍ مِنْ حُدُودِ اللَّهِ তুমি কি আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত শাস্তির ব্যাপারে সুপারিশ করছো? এই ব্যাপারে হুদুদ অধ্যায়ের প্রথম দিকে অনেক কথা অতিক্রম হয়েছে।
২. চোরকে চুরিকৃত সম্পদ দান করে দেওয়া: চোরকে চুরিকৃত সম্পদের কিছু অংশ হেবা বা দান করে দেওয়া এবং উক্ত বিষয়টি বিচারকের নিকট উপস্থাপন এর পূর্বেই যার সম্পদ চুরি করা হয়েছে, চোরকে তার পক্ষ থেকে ক্ষমা করা জায়েয। পক্ষান্তরে বিষয়টি বিচারকের নিকট পৌঁছে গেলে আর জায়েয হবে না। সাফওয়ান ইবনে উমাইয়া এর হাদীস ঐ চোরের
ব্যাপারে যে তার মাথার নিচ থেকে চাদর চুরি করেছিল। অতঃপর যখন সে উক্ত বিষয়টি নাবী এর নিকট উপস্থাপন করল, তখন নাবী তাঁর হাত কাটার নির্দেশ দিলেন। সাফওয়ান বললেন, আমি তাকে ক্ষমা করে দিলাম। অন্য বর্ণনায় রয়েছে, হে আল্লাহর রসূল! চুরিকৃত চাদরটি তাকে দিয়ে দিলাম। একথা শুনে নাবী বললেন:
هَلَّا قَبْلَ أَنْ تَأْتِيَنِي بِهِ "আমার কাছে তাকে নিয়ে আসার পূর্বে কেন তা করলে না?”

টিকাঃ
৯৩০ মুত্তাফাকুন আলাইহি: সহীহুল বুখারী, হা. ৩৪৭৫; সহীহ মুসলিম, হা. ফুআ. ১৬৮৮।
৯৩১ নাসাঈ, হা. ৪৮৮৪; আহমাদ ৬/৪৬৬ সহীহ বর্ণনা। শাইখ আলবানী সহীহ বলেছেন, ইরওয়া নং ২৩১৭।

📘 ফিকহুল মুয়াসস্যার > 📄 হাত কাটার পদ্ধতি এবং হাতের কোন স্থান কাটা হবে?

📄 হাত কাটার পদ্ধতি এবং হাতের কোন স্থান কাটা হবে?


পূর্বে উল্লিখিত শর্তসমূহ যখন পূর্ণ হয়ে যাবে, তখন হাত কাটা ওয়াজিব। চোরের ডান হাতের তালুর জোড়া (কবজি) পর্যন্ত কেটে দেওয়া হবে। হাত কেটে দেওয়ার পরপরই চোরের হাতে আগুনের ছেক বা তেলে চুবিয়ে দেওয়া হবে অথবা এগুলো ছাড়া এমন মাধ্যম বা উপকরণ ব্যবহার করবে, যা রক্ত বন্ধ করে দেয়। যার ফলে এর ক্ষতস্থান শুকিয়ে যাবে এবং যার হাত কাটা হবে সে মৃত্যু বা ক্ষতির সম্মুখীন না হয়।
চোর দ্বিতীয়বার আবার চুরি করলে, তার বাম পা কেটে নেওয়া হবে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00