📘 ফিকহুল মুয়াসস্যার > 📄 ব্যভিচারের নির্ধারিত শাস্তি

📄 ব্যভিচারের নির্ধারিত শাস্তি


ব্যভিচারকারীর উপর শাস্তি কার্যকর করার জন্য শর্ত হচ্ছে সে মুকাল্লাফ ব্যক্তি হবে। অর্থাৎ প্রাপ্তবয়স্ক, বিবেকবান হওয়া আবশ্যক। অতএব নাবালক এবং পাগলের উপর কোনো শাস্তি নেই। কারণ এ দুই শ্রেণির মানুষের উপর থেকে শরীয়তের বিধান উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে। ইচ্ছাকৃত ব্যভিচার করা। সুতরাং অজ্ঞ, বাধ্য এবং ঘুমন্ত ব্যক্তির উপর কোনো প্রকার শাস্তি নেই। মুসলিম হওয়া। অতএব কাফেরের উপর শাস্তি নেই। কারণ ইসলাম গ্রহণ করাই তার জন্য শাস্তি স্বরূপ।
ব্যভিচারের শাস্তি দুই প্রকার:
প্রথমতঃ ব্যভিচারকারী বিবাহিত হবে: বিবাহিত ব্যক্তির জন্য হদ্দ আবশ্যক হওয়ার ক্ষেত্রে নিম্ন বর্ণিত শর্তসমূহ প্রযোজ্য হবে:
ক. ইতঃপূর্বে বৈধ পন্থায় সহবাস সাব্যস্ত হবে। ব্যভিচারী পুরুষ এবং ব্যভিচারিণী নারীর সামনের রাস্তা দিয়ে সহবাস করেছে এমন হবে।
খ. বিশুদ্ধ বিবাহের মাধ্যমে সহবাস সাব্যস্ত হবে।
গ. স্বামী-স্ত্রীর উভয়ে স্বাধীন ও জ্ঞানবান থাকা অবস্থায় যৌনাঙ্গে সহবাস হতে হবে।
বিবাহিত ব্যক্তি: তাকেই বিবাহিত ব্যক্তি বলা হবে যে, সঠিক বিবাহের মাধ্যমে তার স্ত্রীর সামনের রাস্তায় উত্তেজনার সাথে সহবাস করে উভয়েই স্বাধীন, জ্ঞানবান ও বোধশক্তি সম্পন্ন অবস্থায়।
শাস্তিযোগ্য ব্যক্তিকে বিবাহিত হিসেবে সাব্যস্ত করতে এই পাঁচটি শর্ত অবশ্যই প্রয়োজন। সেই পাঁচটি শর্ত হচ্ছে- প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া, জ্ঞানবান হওয়া, স্বাধীন হওয়া, লজ্জাস্থান দিয়ে সহবাস সাব্যস্ত হওয়া এবং বিশুদ্ধ বিবাহের মাধ্যমে সহবাস সাব্যস্ত হওয়া।
বিবাহিত ব্যক্তির শাস্তি: যখন একজন বিবাহিত ব্যক্তি ব্যভিচারে লিপ্ত হবে তখন তার শাস্তি হচ্ছে, মৃত্যু পর্যন্ত পাথর ছুড়ে রজম করা। চাই সে ব্যক্তি পুরুষ হোক অথবা মহিলা। আর পাথর ছুড়ে হত্যা করার বিষয়টি নাবী এর কথা ও কাজ থেকে মুতাওয়াতির সূত্রে প্রমাণিত। এক সময় পাথর ছুড়ে হত্যা করার বিষয়টি কুরআনুল কারীমে উল্লেখ ছিল। পরবর্তীতে তার শব্দ রহিত হয়েছে কিন্তু বিধান অবশিষ্ট রয়েছে। আর সেই রহিত শব্দ আল্লাহর এই বাণী- الشيخ والشيخة إذا زنيا فارجموهما البتة نكالاً من الله والله عزيز حكيم) “বৃদ্ধ পুরুষ ও নারী যখন উভয়ে ব্যভিচার করবে তখন উভয়কে পাথর ছুড়ে হত্যা করা ওয়াজিব। আর এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি। আল্লাহ তা'আলা মহান পরাক্রমশালী ও প্রজ্ঞাময়।”
উমার হতে বর্ণিত। তিনি খুতবা দিচ্ছিলেন (খুতবায় বললেন),
إِنَّ اللهَ بَعَثَ مُحَمَّدًا صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِالْحَقِّ، وَأَنْزَلَ عَلَيْهِ الْكِتَابَ، فَكَانَ فِيمَا أُنْزِلَ عَلَيْهِ آيَةُ الرَّجْمِ، قَرَأْنَاهَا وَوَعَيْنَاهَا وَعَقَلْنَاهَا، فَرَجَمَ رَسُولُ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَرَجَمْنَا بَعْدَهُ، فَأَخْشَى إِنْ طَالَ بِالنَّاسِ زَمَانٌ أَنْ يَقُولَ قَائِلٌ : مَا نَجِدُ الرَّجْمَ فِي كِتَابِ اللهِ فَيَضِلُّوا بِتَرْكِ فَرِيضَةٍ أَنْزَهَا اللهُ، وَإِنَّ الرَّحْمَ فِي كِتَابِ اللَّهِ حَقٌّ عَلَى مَنْ زَنَى إِذَا أَحْصَنَ مِنَ الرِّجَالِ وَالنِّسَاءِ، إِذَا قَامَتِ الْبَيِّنَةُ، أَوْ كَانَ الْحَبَلُ، أَوِ الإِعْتِرَافُ
"আল্লাহ তা'আলা মুহাম্মাদ কে সত্য দিয়ে প্রেরণ করেছেন এবং তার উপর কিতাব অবতীর্ণ করেছেন। তিনি যা অবতীর্ণ করেছেন তার মধ্যে পাথর ছুড়ে হত্যা করার আয়াতটি ছিল সেই আয়াত আমরা পড়েছি, মুখস্ত করেছি এবং ভালোভাবে বুঝেছি। নাবী পাথর ছুড়ে হত্যা করেছেন, তার পর আমরাও এমনভাবে পাথর ছুড়ে হত্যা করেছি। যখন মানুষের মাঝে এক দীর্ঘ সময় অতিক্রম হলো, তখন আমি আশংকা করেছিলাম যে, কেউ বলবে আল্লাহর কিতাব আল কুরআনের মধ্যে রজম অর্থাৎ পাথর ছুড়ে হত্যা করার আয়াত খুঁজে পাইনি। এর ফলে তারা আল্লাহ যে ফরজ অবতীর্ণ করেছেন, তা পরিত্যাগ করার মাধ্যমে পথভ্রষ্ট হয়ে যাবে। সুতরাং আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী ওই ব্যক্তিকে পাথর মেরে হত্যা করা অবধারিত যে বিবাহিত হওয়ার পর ব্যভিচার করবে। চাই সে পুরুষ হোক বা নারী হোক। এটি তখন যখন সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যাবে অথবা গর্ভবতী হবে বা স্বীকারোক্তি পাওয়া যাবে।”
আবু হুরায়রা এর হাদীস। তিনি বলেন, أَتَى رَجُلٌ مِنَ الْمُسْلِمِينَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ فِي الْمَسْجِدِ، فَنَادَاهُ، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنِّي زَنَيْتُ، فَأَعْرَضَ عَنْهُ ، فَتَنَحَى تِلْقَاءَ وَجْهِهِ، فَقَالَ لَهُ : يَا رَسُولَ الله، إِنِّي زَنَيْتُ، فَأَعْرَضَ عَنْهُ، حَتَّى ثَنَى ذَلِكَ عَلَيْهِ أَرْبَعَ مَرَّاتٍ، فَلَمَّا شَهِدَ عَلَى نَفْسِهِ أَرْبَعَ شَهَادَاتٍ دَعَاهُ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ: أَبِكَ جُنُونُ؟ قَالَ : لَا ، قَالَ : فَهَلْ أَحْصَنْتَ؟ قَالَ : نَعَمْ، فَقَالَ رَسُولُ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «اذْهَبُوا بِهِ فَارْجُمُوهُ
“ নাবী মসজিদের ভিতরে থাকা অবস্থায় মুসলিমদের মধ্য হতে একজন আল্লাহর রসূল এর নিকট আসলেন। সে এসে তাঁকে ডেকে বলল: হে আল্লাহর রসূল! আমি জিনা করেছি। তিনি তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন। অতঃপর তিনি চেহারা ঘুরিয়ে নিলেন। লোকটি অন্যদিক দিয়ে সামনে এসে আবার বলল: হে আল্লাহর রসূল, আমি জিনা করেছি। তিনি আবার মুখ ফিরিয়ে নিলেন। লোকটি উক্ত কথাটি চার বার পুনরাবৃত্তি করলেন। যখন সে তার নিজের ব্যাপারে চারবার সাক্ষ্য প্রদান করল, তখন নাবী তাকে ডাক দিয়ে বললেন, তোমার মধ্যে কী পাগলামির দোষ আছে? সে বলল, না। তিনি বললেন, তাহলে তুমি কি বিবাহিত? সে বলল, হ্যাঁ। তখন নাবী বললেন, তোমরা তাকে নিয়ে যাও এবং পাথর মেরে হত্যা করো।”
সকল আলেম একমত: বিবাহিত অবস্থায় কেউ ব্যভিচার করলে মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত পাথর মেরে হত্যা করতে হবে।
দ্বিতীয়ত: ব্যভিচারকারী অবিবাহিত হলে:
বিবাহিত ব্যভিচারকারীর ক্ষেত্রে পূর্বে উল্লিখিত শর্তসমূহ যে ব্যক্তির ক্ষেত্রে পূর্ণ হবে না, সেই হচ্ছে অবিবাহিত ব্যভিচারকারী।
এমন ব্যক্তির শাস্তি: অবিবাহিত ব্যক্তি যখন ব্যভিচার করবে তখন তারজন্য শরীয়ত কর্তৃক নির্ধারিত শাস্তি হচ্ছে ১০০ বেত্রাঘাত এবং এক বছরের জন্য দেশান্তর। তবে মহিলাকে দেশান্তর করার ক্ষেত্রে শর্ত হচ্ছে, তার সাথে মুহরিম ব্যক্তি থাকতে হবে। আল্লাহ তা'আলার বাণী:
الزَّانِيَةُ وَ الزَّانِي فَاجْلِدُوا كُلَّ وَاحِدٍ مِّنْهُمَا مِائَةَ جَلْدَةٍ )
"ব্যভিচারিণী মহিলা ও ব্যভিচারী পুরুষ; তাদের দুইজনের প্রত্যেকের জন্য ১০০ করে বেত্রাঘাত করো।” [সূরা নূর: ২]
উবাদাহ ইবনে সামিত এর হাদীস। তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল বলেছেন:
خُذُوا عَنِّي، خُذُوا عَنِّي، قَدْ جَعَلَ اللهُ لَهُنَّ سَبِيلًا ، الْبِكْرُ بِالْبِكْرِ جَلْدُ مِائَةٍ وَنَفْيُ سَنَةٍ
"তোমরা আমার থেকে (ব্যভিচারের বিধান) গ্রহণ করো। তোমরা আমার থেকে (ব্যভিচারের বিধান) গ্রহণ করো। কারণ আল্লাহ সুবহানাহু তা'আলা তাদের জন্য পথ নির্ধারণ করেছে। তা হচ্ছে অবিবাহিত ছেলে ও মেয়ের জন্য ১০০ বেত্রাঘাত এবং এক বছরের জন্য দেশান্তর।"
تغريب الزاني অর্থ হচ্ছে- ব্যভিচারকারীকে নিজ দেশ থেকে বিতাড়িত করা ও দূরে পাঠানো।
যদি দাস জিনা করে; চাই সে বিবাহিত হোক বা অবিবাহিত হক, পুরুষ দাস হোক বা মহিলা দাসী হোক, এর জন্য শরীয়ত কর্তৃক নির্ধারিত শাস্তি হচ্ছে পঞ্চাশটি বেত্রাঘাত। আল্লাহ তা'আলার বাণী:
فَعَلَيْهِنَّ نِصْفُ مَا عَلَى الْمُحْصَنَاتِ مِنَ الْعَذَابِ
"অতঃপর (তারা বিবাহিত হয়ে যদি ব্যভিচারে লিপ্ত হয় তাহলে) তাদের ওপর স্বাধীন নারীর অর্ধেক শাস্তি হবে।” [সূরা নিসা: ২৫]
উক্ত আয়াতে যে উল্লিখিত শাস্তির কথা বলা হয়েছে তা হচ্ছে ১০০টি বেত্রাঘাত। অতএব রজমের শাস্তির অর্ধেকের প্রত্যাবর্তন হচ্ছে বেত্রাঘাতের দিকে। কেননা রজম বা পাথর ছুড়ে হত্যা করার ক্ষেত্রে তার অর্ধেক করা সম্ভব না।
দাসকে দেশান্তর করা যাবে না। কেননা যখন দাস ব্যভিচারে লিপ্ত হবে তখন তাকে দেশান্তর করার ব্যাপারে হাদীসে এর বর্ণনা আসেনি। আর তাকে দেশান্তর করলে তার মনিবের জন্য ক্ষতি রয়েছে। আর মুহরিম ব্যতীত ব্যভিচারিণীর জন্য দেশান্তর নেই যেমনটি পূর্বে অতিবাহিত হয়েছে।

টিকাঃ
৯০৭ মুত্তাফাকুন আলাইহি: সহীহুল বুখারী, হা. ৩৮৭২, সহীহ মুসলিম, হা. ৪৩১০, ফুআ. ১৬৯১।
৯০৮ মুত্তাফাকুন আলাইহি: সহীহুল বুখারী, হা. ৬৮২৫, সহীহ মুসলিম, হা. ৪৩১২, ফুআ. ১৬৯১।
৯০৯ সহীহ মুসলিম, হা. ৪৩১৮, ফুআ, ১৬৯০।

📘 ফিকহুল মুয়াসস্যার > 📄 কীসের মাধ্যমে জিনা সাব্যস্ত হবে?

📄 কীসের মাধ্যমে জিনা সাব্যস্ত হবে?


জিনার শাস্তি কার্যকর করার জন্য জিনা সংঘটিত হওয়া আবশ্যক। দুটি বিষয়ের কোনো একটির মাধ্যমে জিনা সংঘটিত হওয়ার বিষয়টি সাব্যস্ত হবে:
প্রথম বিষয়: জিনাকারী নিজেই চারবার স্বীকৃতি প্রদান করবে, যদিও তা ভিন্ন বৈঠকে হয়। কারণ নাবী মায়েজ এবং গামেদীয়াহ এর স্বীকৃতি গ্রহণ করেছেন। আর চারবার স্বীকৃতি শর্ত করা হয়েছে এই কারণে যে, নাবী এর নিকট মায়েজ নিজের পক্ষ থেকে তিনবার স্বীকৃতি দেন। অতঃপর যখন চতুর্থবার স্বীকৃতি দেন তখন তার ওপর শাস্তি কার্যকর করা হয়।
আর স্বীকৃতির মধ্যে স্পষ্টভাবে জিনা ও সহবাসের বাস্তবতা পরিষ্কার হতে হবে। কেননা এমন সম্ভাবনা থাকতে পারে যে, জিনা করার উদ্দেশ্য ছাড়া এমন কিছু উপভোগ করতে চেয়েছে যার কারণে শাস্তি হওয়া আবশ্যক হয় না। নাবী এর নিকট যখন মায়েজ স্বীকৃতি প্রদান করেছিল তখন নাবী তাকে বলেছিলেন: لَعَلَّكَ قَبَّلْتَ، أَوْ غَمَزْتَ، قَالَ: لَاَ
"সম্ভবত তুমি চুমু খেয়েছে? অথবা একটু স্পর্শ করেছ? সে, বলল না।” বিষয়টি সুস্পষ্ট হওয়ার জন্য কয়েকবার তার সাথে পুনরাবৃত্তি করলেন যতক্ষণ না সম্ভাবনা দূর হলো।
হদ্দ এর শাস্তি কার্যকর করা পর্যন্ত তাকে তার স্বীকৃতির উপর অটল থাকতে হবে। সেখান থেকে ফিরে যাবে না। কেননা নাবী মায়েজের নিকট থেকে কয়েকবার স্বীকৃতি নিয়েছেন। সম্ভবত সে তার স্বীকৃতি থেকে ফিরে আসতেও পারে। অতঃপর মায়েজকে যখন পাথর মারা হচ্ছিল এবং সে পালায়ন করতে চাচ্ছিল। তখন নাবী বললেন: هَلًا تَرَكْتُمُوهُ
"তোমরা কেন তাকে ছেড়ে দিলে না?”
দ্বিতীয় বিষয়: জিনাকারীর উপর চারজন সাক্ষী জিনার সাক্ষ্য দিবে। আল্লাহ তা'আলার বাণী: لَوْلَا جَاءُوا عَلَيْهِ بِأَرْبَعَةِ شُهَدَاءَ "তারা চার জন সাক্ষী উপস্থিত করল না কেন?” [সূরা নূর: ১৩]
আল্লাহ তা'আলা আরও বলেন: فَاسْتَشْهِدُوا عَلَيْهِنَّ أَرْبَعَةٌ مِنْكُمْ "অতঃপর তোমাদের মধ্য থেকে তাদের জন্য চারজন সাক্ষী উপস্থিত করে।" [সূরা নিসা: ১৫]
জিনাকারীর উপর সাক্ষীগণের সাক্ষ্য বিশুদ্ধ হওয়ার জন্য কয়েকটি শর্ত করা হয়েছে:
১. পূর্বে উল্লিখিত আয়াতগুলোর মাধ্যমে বোঝা যায় সাক্ষী চারজন হতে হবে। সুতরাং যদি চারজনের কম হয় তাহলে গ্রহণ করা হবে না।
২. সাক্ষীগণ মুকাল্লাফ ব্যক্তি (অর্থাৎ শরীয়ত কর্তৃক বিধানের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি) ও জ্ঞানবান হতে হবে। সুতরাং নাবালগ বা পাগলদের সাক্ষী গ্রহণ করা হবে না।
৩. ন্যায়পরায়ণ পুরুষ হতে হবে। সুতরাং জিনার শাস্তির ক্ষেত্রে মহিলার সাক্ষী গ্রহণযোগ্য হবে না। এটা তাদের জন্য সতর্কতা ও সম্মানের কারণ। কেননা ব্যভিচার একটি নিকৃষ্ট কাজ। অনুরূপভাবে ফাসেক ব্যক্তির সাক্ষ্য গ্রহণ করা হবে না। আল্লাহ তা'আলার বাণী:
وَأَشْهِدُوا ذَوَى عَدْلٍ مِنْكُمْ
"তোমাদের মধ্যে যারা ন্যায়পরায়ণ তাদেরকে সাক্ষী রাখো।" [সূরা তালাক: ২]
আল্লাহ তা'আলা বলেন:
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنْ جَاءَكُمْ فَاسِقٌ بِنَبَإٍ فَتَبَيَّنُوا
"হে বিশ্বাসীগণ! যখন তোমাদের কাছে ফাসেক ব্যক্তি কোনো বিষয়ে সংবাদ নিয়ে আসে, তোমরা তা ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করবে।" [সূরা হুজুরাত : ৬]
৪. সাক্ষীগণ স্বচক্ষে জিনা সংঘটিত হওয়া দেখবে এবং এটি তারা এমন সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করবে যাতে জিনা ছাড়া অন্যান্য হারাম উপভোগের ইচ্ছামূলক সমস্ত সম্ভাবনার বিষয়গুলো দূর হয়ে যায়। সুতরাং তারা বলবে: আমরা তার পুরুষাঙ্গ মহিলার লজ্জাস্থানে ঐভাবে দেখেছি যেমনভাবে কাঠি সুরমাদানিতে দেখা যায়। প্রয়োজনে এরূপ কিছু দেখা বৈধ আছে।
৫. সাক্ষীগণ মুসলিম হওয়া। সুতরাং কাফের ব্যক্তির ন্যায়পরায়ণতা সাব্যস্ত না হওয়ার কারণে তার সাক্ষ্য গ্রহণ করা হবে না।
৬. একই বৈঠকে তারা তার বিরুদ্ধে সাক্ষী দিবে। চাই তারা স্বয়ং ঐ বৈঠকে একত্রে আসবে বা পৃথক হয়ে আসবে।
সুতরাং শর্তসমূহের কোনো একটি ত্রুটিপূর্ণ হলে সমস্ত সাক্ষীদের উপর অপবাদের শাস্তি আবশ্যক হয়ে যাবে। কারণ তারা অপবাদদাতা।

টিকাঃ
৯১০ সহীহুল বুখারী, হা. ৬৮২৪।
৯১১ তিরমিযী, হা. ১৪২৮; ইবনু মাজাহ, হা. ২৫৫৪ এবং ইমাম তিরমিযী হাসান বলেছেন। শাইখ আলবানী বলেন, হাসান সহীহঃ সহীহুত তিরমিযী, হা. ১১৫৪।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00