📘 দাওয়াত সম্পর্কিত চল্লিশ হাদীস > 📄 তাওরাত ইঞ্জিল বিকৃত

📄 তাওরাত ইঞ্জিল বিকৃত


عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ كَانَتْ مُلُوكٌ بَعْدَ عِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ عَلَيْهِ الصَّلاةُ وَالسَّلَامُ بَدَّلُوا التَّوْرَاةَ وَالْإِنْجِيلَ وَكَانَ فِيهِمْ مُؤْمِنُونَ يَقْرَءُونَ التَّوْرَاةَ قِيلَ لِمُلُوكِهِمْ مَا نَجِدُ شَتْمًا أَشَدَّ مِنْ شَتْمٍ يَشْتِمُونَا هَؤُلَاءِ إِنَّهُمْ يَقْرَءُونَ {وَمَنْ لَمْ يَحْكُمُ بِمَا أَنْزَلَ اللَّهُ فَأُولَئِكَ هُمُ الْكَافِرُونَ } وَهَؤُلَاءِ الْآيَاتِ مَعَ مَا يَعِيبُونَا بِهِ فِي أَعْمَالِنَا فِي قِرَاءَتِهِمْ فَادْعُهُمْ فَلْيَقْرَءُوا كَمَا نَقْرَأُ وَلْيُؤْمِنُوا كَمَا آمَنَّا. فَدَعَاهُمْ فَجَمَعَهُمْ وَعَرَضَ عَلَيْهِمُ الْقَتْلَ أَوْ يَتْرُكُوا قِرَاءَةَ التَّوْرَاةِ وَالإِنْجِيلِ إِلَّا مَا بَدَّلُوا مِنْهَا فَقَالُوا مَا تُرِيدُونَ إِلَى ذَلِكَ دَعُونَا. فَقَالَتْ طَائِفَةٌ مِنْهُمُ ابْنُوا لَنَا أُسْطُوَانَةً ثُمَّ ارْفَعُونَا إِلَيْهَا ثُمَّ اعْطُونَا شَيْئًا نَرْفَعُ بِهِ طَعَامَنَا وَشَرَابَنَا فَلا نَرِدُ عَلَيْكُمْ. وَقَالَتْ طَائِفَةٌ مِنْهُمْ دَعُونَا نَسِيحُ فِي الْأَرْضِ وَنَهِيمُ وَنَشْرَبُ كَمَا يَشْرَبُ الْوَحُشُ فَإِنْ قَدَرْتُمْ عَلَيْنَا فِي أَرْضِكُمْ فَاقْتُلُونَا . وَقَالَتْ طَائِفَةٌ مِنْهُمُ ابْنُوا لَنَا دُورًا فِي الْفَيَانِي وَنَحْتَفِرُ الآبَارَ وَنَحْتَرِثُ الْبُقُولَ فَلَا نَرِدُ عَلَيْكُمْ وَلَا نَمُرُّ بِكُمْ وَلَيْسَ أَحَدٌ مِنَ الْقَبَائِلِ إِلَّا وَلَهُ حَمِيمٌ فِيهِمْ . قَالَ فَفَعَلُوا ذَلِكَ فَأَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ { وَرَهْبَانِيَّةً ابْتَدَعُوهَا مَا كَتَبْنَاهَا عَلَيْهِمْ إِلَّا ابْتِغَاءَ رِضْوَانِ اللَّهِ فَمَا رَعَوْهَا حَقَّ رِعَايَتِهَا وَالْآخَرُونَ قَالُوا نَتَعَبَّدُ كَمَا تَعَبَّدَ فُلاَنٌ وَنَسِيحُ كَمَا سَاحَ فُلَانٌ وَنَتَّخِذُ دُورًا كَمَا اتَّخَذَ فُلانٌ. وَهُمْ عَلَى شِرْكِهِمْ لا عِلْمَ لَهُمْ بِإِيمَانِ الَّذِينَ اقْتَدَوْا بِهِ فَلَمَّا بَعَثَ اللَّهُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَلَمْ يَبْقَ مِنْهُمْ إِلَّا قَلِيلٌ انْحَطَّ رَجُلٌ مِنْ صَوْمَعَتِهِ وَجَاءَ سَائِحٌ مِنْ سِيَاحَتِهِ وَصَاحِبُ الدَّيْرِ مِنْ دَيْرِهِ فَآمَنُوا بِهِ وَصَدَّقُوهُ فَقَالَ اللَّهُ تَبَارَكَ وَتَعَالَى {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَآمِنُوا بِرَسُولِهِ يُؤْتِكُمْ كِفْلَيْنِ مِنْ رَحْمَتِهِ } أَجْرَيْنِ بِإِيمَانِهِمْ بِعِيسَى وَبِالتَّوْرَاةِ وَالْإِنْجِيلِ وَبِإِيمَانِهِمْ بِمُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم وَتَصْدِيقِهِمْ قَالَ {يَجْعَلْ لكُمْ نُورًا تَمْشُونَ بِهِ الْقُرْآنَ وَاتَّبَاعَهُمُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ { لِئَلَّا يَعْلَمَ أَهْلُ الْكِتَابِ} يَتَشَبَّهُونَ بِكُمْ { أَنْ لَا يَقْدِرُونَ عَلَى شَيْءٍ مِنْ فَضْلِ الله} الآية

অর্থ. হযরত ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হযরত ঈসা আ.-কে আসমানে উঠিয়ে নেয়ার পর প্রভাবশালী ব্যক্তিরা তাওরাত ও ইঞ্জিলের বিকৃতি সাধন করলো, কিন্তু তাদের মাঝে ছিল কিছু ঈমানদার ব্যক্তি। যারা তাওরাত পাঠ করতো, তাদের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নিকট অভিযোগ করা হলো যে, তারা আমাদেরকে যে গালিগালাজ করে এর চেয়ে মারাত্মক কোনো গালি হতেই পারে না। তারা আল্লাহর এই আয়াত পাঠ করে { وَمَنْ لَّمْ يَحْكُمْ بِمَا أَنْزَلَ اللَّهُ فَاُولٰئِكَ هُمُ الْكٰফِرُوْনَ } আল্লাহ তা'আলা যে শরীয়ত নাযিল করেছেন যে ব্যক্তি তা অনুযায়ী ফায়সালা করলো না তারাই হলো কাফের। এ সমস্ত আয়াত পাঠের মাধ্যমে তারা আমাদের কৃতকর্মে দোষারোপ করে। সুতরাং তাদেরকে ডাকুন, তারা যেন আমাদের পদ্ধতিতে তাওরাত ইঞ্জিল পাঠ করে। আর যেভাবে আমরা ঈমান এনেছি তারা যেন সেভাবে ঈমান আনে। তখন প্রভাবশালী লোকেরা তাদেরকে ডেকে একত্রিত করলো এবং তাদের সামনে মৃত্যু অথবা তাওরাত-ইঞ্জিল পড়া থেকে বিরত থাকার বিষয়টি তুলে ধরলো। তবে যা তারা পরিবর্তন করেছে, তা পড়ার অবকাশ রয়েছে। উত্তরে তারা বললো, এগুলো দ্বারা তোমাদের স্কী উদ্দেশ্যে? আমাদেরকে ছেড়ে দাও। তাদের একটি গোত্র বলল, আমাদেরকে একটি উঁচু স্তম্ভ বানিয়ে দাও এবং আমাদের উপরে উঠিয়ে দাও। অতঃপর আমাদেরকে কিছু দাও যার মাধ্যমে আমাদের খাবার পানীয় সরবরাহ করবো। আর তোমাদের কাছেও আসব না। আরেক দল বললো, আমরা যমীনে অবাধে বিচরণ করবো। আর বন্য প্রাণীর মতো পানাহার করবো, যদি তোমরা আমাদেরকে আয়ত্তে পাও তাহলে আমাদেরকে হত্যা করো। আরেকদল বললো, আমাদের জন্য মরুভূমিতে ঘর বানিয়ে দাও। আমরা কূপ খনন করে চাষাবাদ করবো, জীবিকা উপার্জন করবো। তোমাদের কাছেও আসবো না এবং তোমাদের কাছেও ভিড়বো না। আর গোত্রের মধ্যে এমন কেউ ছিলনা, যাদের অন্তরঙ্গ বন্ধু তাদের মাঝে ছিল না। তিনি (ইবনে আব্বাস রা.) বলেন, তারা এমনই করছিল। এক পর্যায়ে আল্লাহ তাআলা আয়াত নাযিল করলেন, { ثُمَّ قَفَّيْنَا عَلٰى اٰثَارِهِمْ بِرُسُلِنَا وَقَفَّيْنَا بِعِيْسَى ابْنِ مَرْيَمَ وَاٰتَيْنٰهُ الْاِنْجِيْلَ وَجَعَلْنَا فِيْ قُلُوْবِ الَّذِيْنَ اتَّبَعُوْهُ رَاْفَةً وَّরَحْمَةً وَرَهْبَانِيَّةً ابْتَدَعُوْهَا مَا كَتَبْنٰهَا عَلَيْهِمْ اِلَّا ابْتِغَاۗءَ رِضْوَانِ اللّٰهِ فَمَا رَعَوْهَا حَقَّ رِعَايَتِهَا فَاٰتَيْنَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوْা مِنْهُمْ اَجْرَهُمْ وَكَثِيْرٌ মِّنْهُمْ فٰسِقُوْنَ } 'আর এই বৈরাগ্যবাদ যা তারা নিজেরাই আবিষ্কার করেছে, তারা শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যেই নিজেদের ওপর অপরিহার্য করেছিল, কিন্তু তারা এর যথাযথ।' আর অন্যরা বললো, আমরা ইবাদত করবো যেভাবে অমুক ব্যক্তি করে। যমীনে বিচরণ করবো যেভাবে অমুক ব্যক্তি করে। ঘর বাড়ি গ্রহণ করবো যেভাবে অমুক ব্যক্তি করেছে। তারা তাদের শিরক-এর উপর বহাল ছিলো। কেননা তারা যাদের অনুসরণ করতো, তাদের ঈমান সম্পর্কে কোনো খবরই ছিল না। যখন আল্লাহ তাআলা হযরত মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রেরণ করলেন, তখন তাদের মধ্যে থেকে অল্প কিছু লোক অবশিষ্ট ছিলো। তখন মানুষ তার গির্জা থেকে, কেউ আবার যমীনে ভ্রমণ কারী তার স্থান থেকে এবং গৃহকর্তা তার গৃহ থেকে বেড়িয়ে এলো এবং তাঁর প্রতি ঈমান এনে তাকে সত্যায়ন করলো। আল্লাহ তাআলা বলেন, { يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَآمِنُوا بِرَسُولِهِ يُؤْتِكُمْ كِفْلَيْنِ مِنْ رَحْمَتِهِ } হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান আনো, তাহলে তোমাদেরকে তিনি রহমত থেকে দুটি অংশ দান করবেন। অর্থাৎ দুটি প্রতিদান দিবেন। একটি হযরত ঈসা আ. ও তাওরাত ঈঞ্জিলের উপর বিশ্বাস স্থাপনের কারণে, অপরটি হলো হযরত মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি ঈমান আনা ও তাকে সত্যায়নের কারণে। তিনি বলেন, তিনি তোমাদের জন্য এমন নূর তৈরী করেছেন যে নূরের সাহায্যে তোমরা চলো। আমরা এও জানতে পারলাম খ্রিস্টানরা তাওরাত-ইঞ্জিল পরিবর্তন করেছে। কিন্তু বর্তমান খ্রিস্টানরা বুঝাতে চায় বর্তমান তাওরাত ইঞ্জিল তথা বাইবেল আল্লাহর কালাম।

প্রচলিত তাওরাত-ইঞ্জিল আল্লাহ তা'আলার কালাম নয়; বরং বিকৃত ও মানবরচিত গ্রন্থ, কুরআনে তার অনেক প্রমাণ পাওয়া যায়। পাঠকদের বোঝার সুবিধার্থে নিম্নে কয়েকটি প্রমাণ উল্লেখ করলাম।
১ নং প্রমাণ: فَوَيْلٌ لِلَّذِينَ يَكْتُبُونَ الْكِتَابَ بِأَيْدِيهِمْ ثُمَّ يَقُولُونَ هَذَا مِنْ عِنْدِ اللَّهِ لِيَشْتَرُوا بِهِ ثَمَنًا قَلِيلًا فَوَيْلٌ لَهُمْ مِمَّا كَتَبَتْ أَيْدِيهِمْ وَوَيْلٌ لَهُمْ مِمَّا يَكْسِبُونَ . অতএব, তাদের জন্য ধ্বংস। যারা নিজ হাতে গ্রন্থ লেখে এবং বলে, এটা আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে অবতীর্ণ- যাতে এর বিনিময়ে সামান্য অর্থ গ্রহণ করতে পারে। অতএব, তাদের প্রতি আফসোস! তাদের হাতের লেখার জন্যে এবং তাদের প্রতি আক্ষেপ তাদের উপার্জনের জন্যে।” প্রিয় পাঠক! উপরিউক্ত কুরআনের বিবরণী থেকে বুঝতে পেরেছেন তারা কীভাবে তাদের ধর্মগ্রন্থের পরিবর্তন করেছে। এখনও পোপ টাকার বিনিময়ে পাপ ক্ষমা করিয়ে দেন। কোনো খ্রিস্টান যদি বড় ধরণের পাপকর্ম করে, তারা পোপের কাছে টাকা দিয়ে পাপ মার্জনা করিয়ে আনে। আয়াতের দ্বিতীয় অংশ তাদের বাস্তব কর্মের সাথে মিলে যায়। আল্লাহ তা'আলা নিজেই তাদের জন্য আক্ষেপ করেছেন। আল্লাহ তা'আলা সকল খ্রিস্টান ও অমুসলিম ভাই-বোনকে তাঁর কথাগুলো অনুধাবন করার তৌফিক দিন এবং হেদায়াত দান করুন। আমিন।

২নং প্রমাণ: প্রচলিত তাওরাত-ইঞ্জিল আল্লাহ তা'আলার কালাম নয়। এগুলোর পূর্বের কিতাবে যা কিছু ছিল সেগুলোও তারা পরিবর্তন করেছে। দেখুন আল্লাহ তা'আলা বলেন- يَا أَيُّهَا الرَّسُولُ لَا يَحْزُنُكَ الَّذِينَ يُسَارِعُونَ فِي الْكُفْرِ مِنَ الَّذِينَ قَالُوا آمَنَّا بِأَفْوَاهِهِمْ وَلَمْ تُؤْمِنْ قُلُوبُهُمْ وَمِنَ الَّذِينَ هَادُوا سَمَّاعُونَ لِلْكَذِبِ سَمَّاعُونَ لِقَوْمٍ أَخَرِينَ لَمْ يَأْتُوكَ يُحَرِّفُونَ الْكَلِمَ مِنْ بَعْدِ مَوَاضِعِهِ. “হে রাসূল, তাদের জন্যে দুঃখ করবেন না যারা দ্রুত গিয়ে কুফরিতে পতিত হয়, যারা মুখে বলে, আমরা মুসলমান অথচ তাদের অন্তরে ঈমান নেই এবং যারা ইহুদি, মিথ্যা বলে তারা গুপ্তচর বৃত্তি করে। তারা অন্যদলের গুপ্তচর বৃত্তি করে, যারা আপনার কাছে আসেনি। তারা বাক্যকে স্বস্থান থেকে পরিবর্তন করে। ”
উক্ত আয়াতের প্রথম অংশের সম্বোধনটি মিলে যায় বর্তমান কিছু খ্রিস্টানদের সাথে। তারা নিজেদের মুসলমান হিসেবে দাবি করতে চায়। নিজেদেরকে 'ঈসায়ী মুসলিম' বলে। কোথাও আবার 'আহলুল কুরআন' বলে পরিচয় দেয়। এরা মূলত খ্রিস্টান। মুসলমানদের ধোঁকা দেয়ার জন্যই এসব নাম ব্যবহার করে থাকে। তারা মুসলমানদেরকে 'কিতাবুল মোকাদ্দাস' নামক একটি ধর্মীয় গ্রন্থ দেয়। গ্রন্থটি মূলত বাইবেল। মুসলমানদের ধোঁকা দেয়ার জন্য বাইবেলে যোগ করেছে ইসলামী পরিভাষা। বাদ দিয়েছে হিন্দুদের পরিভাষা। যেমন যীশুর স্থানে হযরত 'ঈসা', নতুন নিয়মের স্থানে ইঞ্জিল শরীফ ইত্যাদি।
হে আমাদের প্রতিপালক! তাদেরকে হেদায়াত দান করুন। কাফেরদের চক্রান্ত থেকে মুসলমানদেরকে হেফাজত করুন। এ ব্যাপারে আল্লাহ তা'আলা পবিত্র কুরআনে বলেন- “তারা বাক্যকে স্বস্থান থেকে পরিবর্তন করে।” যেমন, বাইবেল পরিবর্তন করে বানিয়েছে কিতাবুল মুকাদ্দাস। এমন বহু প্রমাণ আমাদের কাছে আছে। বইটির কলেবর বৃদ্ধির জন্য এখানে উল্লেখ করা সম্ভব হলো না।

৩নং প্রমাণ: يَا أَهْلَ الْكِتَابِ قَدْ جَاءَكُمْ رَسُولُنَا يُبَيِّنُ لَكُمْ كَثِيرًا مِمَّا كُنْتُمْ تُخْفُونَ مِنَ الْكِتَابِ وَيَعْفُو عَنْ كَثِيرٍ قَدْ جَاءَكُمْ مِنَ اللَّهِ نُورٌ وَكِتَابٌ مبين . “হে আহলে-কিতাবগণ! তোমাদের কাছে আমার রাসূল আগমন করেছেন। কিতাবের যেসব বিষয় তোমরা গোপন করতে, তিনি তার মধ্য থেকে অনেক বিষয় প্রকাশ করেন এবং অনেক বিষয় মার্জনা করেন। তোমাদের কাছে এসেছে একটি উজ্জ্বল জ্যোতি এবং একটি সমুজ্জ্বল গ্রন্থ।” নবীজী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মাধ্যমে তাদের স্বরূপ উদঘাটিত হয়েছে। কুরআন সমুজ্জল এ গ্রন্থকে খ্রিস্টানদের মানা উচিত। পবিত্র কুরআনের বাণী দ্বারা পরিষ্কারভাবে প্রমাণিত হলো, ইহুদি-খ্রিস্টানগণ তাদের গ্রন্থের কিছু অংশ গোপন করেছে, নিজ হাতে লিখে পরিবর্তন করে। আর বলছে, এইগুলো আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে অবতীর্ণ, আল্লাহ তা'আলার বাণী। এছাড়া, আরও বহু প্রমাণ কুরআনে বিদ্যমান। এখানে কয়েকটি উল্লেখ করলাম।
সুতরাং, উক্ত সংক্ষিপ্ত আলোচনা স্পষ্ট হলো, প্রচলিত ইঞ্জিল যদি ঈসা আ.-এর উপর অবতীর্ণ ইঞ্জিল হতো, তাহলে কখনো সেই গ্রন্থে ঈসা আ. আকাশে উঠিয়ে নেয়ার পরবর্তী ঘটনা থাকতো না। তাওরাত-ইঞ্জিল যদি আল্লাহ তা'আলার বাণী'ই হতো, তবে এই বাইবেলে কোনো প্রকারের ভুল-ভ্রান্তি, বৈপরীত্য বা অশ্লীল কথা থাকতো না। অথচ, তাতে রয়েছে হাজারো ভুল ও বৈপরিত্য। বহু ইহুদি-খ্রিস্টান-গবেষক তাদের গ্রন্থের উপর গবেষণা করে একথা স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছেন যে-এই গ্রন্থ নবীগণের অনেক পরবর্তী যুগের ব্যক্তিবর্গের রচিত। ফলে, এতে রয়েছে ব্যাপক ভুল-ভ্রান্তি ও বৈপরিত্য। পাঠকদের অবগতির জন্য এখানে কিছু বাইবেল তথা প্রচলিত তাওরাত ইঞ্জিলের ভুল-ভ্রান্তি ও বৈপরিত্য পেশ করছি।

বাইবেলে ভুল: ১. কেরী বাইবেলের ভূমিকায় লেখা আছে, “এই কিতাব বহুবার সংশোধন করা হয়েছে। দুই বাংলার বাইবেল সোসাইটির নীতি নির্ধারকগণ মনে করেন, আরো কয়েকবার সংস্কার করার প্রয়োজন আছে।” প্রিয় পাঠক! বলুন তো আল্লাহর কালামের কি সংস্করণ হতে পারে? না হতে পারে না। আর বাইবেলে বহু বার সংস্করণ হয়েছে। ভুল সংশোধন করেছে, তাহলে এটা আবার আল্লাহর কালাম হয় কীভাবে? আর ভুল না থাকলে সংশোধনের প্রয়োজন কেন? এর দ্বারা বুঝা যায়, এর মধ্যে কী পরিমাণ ভুল রয়েছে। আর এই ভুলে ভরা কিতাবে কীভাবে হেদায়াত ও নূর থাকতে পারে? ২. সুলাইমান আ. বারান্দার উচ্চতা বর্ণনায় ভুল: ২ বংশাবলির ৩য় অধ্যায়ের ৪র্থ শ্লোকে আ. মসজিদ বা আল-মাসজিদুল আকসার (বাইবেলের ভাষায়: সলোমনের মন্দিরের) বর্ণনায় বলা হয়েছে: “আর গৃহের সম্মুখস্থ বারান্দা গৃহের প্রস্থানুসারে বিংশতি হস্ত দীর্ঘ ও একশত বিংশতি হস্ত উচ্চ হইল।” “১২০ হাত উচ্চ” কথাটি নিখাদ ভুল। ১ রাজাবলির ৬ অধ্যায়ের ২ শ্লোকে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে যে, শলোমনের নির্মিত মন্দিরের উচ্চতা ছিল ত্রিশ হস্ত। তাহলে বারান্দা কীভাবে ১২০ হাত উঁচু হবে? এজন্য সিরীয় (সুরিয়ানী) ভাষায় ও আরবি ভাষায় অনুবাদে অনুবাদকগণ ১২০ সংখ্যাকে বিকৃত করেছেন। তারা “এক শত” কথাটি ফেলে দিয়ে বলেছেন: “বিশ হাত উচ্চ।” ১৮৪৪ সালের আরবি অনুবাদে মূল হিব্রু বাইবেলের এ ভুল “সংশোধন”(!) করে লেখা হয়েছে: “আর গৃহের সম্মুখস্থ বারান্দা গৃহের প্রস্থানুসারে বিংশতি হস্ত দীর্ঘ ও বিংশতি হস্ত উচ্চ হইল।” ৩. অবিয় ও যারবিয়ামের সৈন্যসংখ্যা বর্ণনায় ভুল: ২ বংশাবলির ১৩ অধ্যায়ে ৩ ও ১৭ শ্লোকে বলা হয়েছে:“(৩) অবিয় চারি লক্ষ মনোনীত যোদ্ধাবীরের সহিত যুদ্ধে গমন করিলেন এবং যারবিয়াম আট লক্ষ বলবান বীরের সহিত তাঁহার বিরুদ্ধে সৈন্য রচনা করিলেন।...(১৭) আর অবিয় ও তাঁহার লোকেরা মহাসংহারে উহাদিগকে সংহার করিলেন; বস্তুত ইস্রায়েলের পাঁচ লক্ষ মনোনীত লোক মারা পড়িল।” উপরের শ্লোকদ্বয়ে উল্লিখিত সংখ্যাগুলি সবই ভুল। বাইবেল ব্যাখ্যাকারগণ তা স্বীকার করেছেন। যে যুগের ছোট্ট দুটি 'গোত্র রাজ্য' যিহূদা ও ইস্রায়েলের জন্য উপরের সংখ্যাগুলি অস্বাভাবিক ও অবাস্তব। এ কারণে ল্যাটিন অনুবাদের অধিকাংশ কপিতে 'লক্ষ'- কে হাজার নামিয়ে আনা হয়েছে, অর্থাৎ প্রথম স্থানে 'চারি লক্ষ' পাল্টিয়ে 'চল্লিশ হাজার', দ্বিতীয় স্থানে 'আট লক্ষ' পরিবর্তন করে 'আশি হাজার' ও তৃতীয় স্থানে 'পাঁচ লক্ষ' পরিবর্তন করে 'পঞ্চাশ হাজার' করা হয়েছে। বাইবেলের ব্যাখ্যাকারগণ এই বিকৃতি ও পরিবর্তনকে মেনে নিয়েছেন। ৪. ফল ভোজন ও মানুষের আয়ু বিষয়ক ভুল আদিপুস্তকের ২য় অধ্যায়ের ১৭ শ্লোকটি নিম্নরূপ: “তাহাতে সদাপ্রভু কহিলেন, আমার আত্মা মানুষের মধ্যে সর্বদা অবস্থান করিবে না; কারণ সেও তো বংশমাত্র; পরন্তু তার সময় একশত বিংশতি বৎসর হইবে।” “মানুষের আয়ু ১২০ বৎসর হবে” -এই কথাটি ভুল। কারণ, পূর্ববর্তী যুগের মানুষের বয়স আরো অনেক দীর্ঘ ছিল। আদিপুস্তকের ৫ অধ্যায়ের ১-৩১ শ্লোকের বর্ণনা অনুসারে আদম ৯৩০ বৎসর জীবিত ছিলেন। অনুরূপ শিস (শখ) ৯১২ বৎসর, ইনোশ ৯০৩ বৎসর, কৈনন ৯১০ বৎসর, মহললেল ৮৯৫ বৎসর, যেরদ ৯৬২ বৎসর, হানোক (ইদরীস আ.) ৩৬৫ বৎসর, মথুশেলহ ৯৬৯ বৎসর, লেমন ৭৭৭ বৎসর পৃথিবীতে জীবিত ছিলেন। নোহ (নূহ) ৯৫০ বৎসর জীবিত ছিলেন। শেম (সাম) 600 বৎসর জীবিত ছিলেন। অর্ফক্দ ৩৩৮ বৎসর আয়ু লাভ করেন। এভাবে অন্যান্যরা দীর্ঘ জীবন লাভ করেছিলেন আর বর্তমান যুগে ৭০ বা ৮০ বৎসর আয়ু পাবার ঘটনাও কম ঘটে। এভাবে প্রমাণিত যে, মানুষের আয়ু ১২০ বৎসর বলে নির্ধারণ করা ভুল। ৫. যিশুর বংশতালিকায় পুরুষ গণনায় ভুল মথিলিখিত সুসমাচারের ১ম অধ্যায়ের ১-১৭ শ্লোকে যীশুর বংশতালিকা বর্ণনা করা হয়েছে। ১৭ শ্লোকটি নিম্নরূপ: "এইরূপে আব্রাহাম অবধি দায়ূদ পর্যন্ত সর্বশুদ্ধ চৌদ্দ পুরুষ; দায়ূদ অবধি বাবিলে নির্বাসন পর্যন্ত চৌদ্দ পুরুষ; এবং বাবিলে নির্বাসন অবধি খ্রিস্ট পর্যন্ত চৌদ্দ পুরুষ।” এখানে স্পষ্ট বলা হয়েছে যে, যীশুর বংশতালিকা তিন অংশে বিভক্ত, প্রত্যেক অংশে ১৪ পুরুষ রয়েছে এবং যীশু থেকে আব্রাহাম পর্যন্ত ৪২ পুরুষ। এ কথাটি সুস্পষ্ট ভুল। মথির ১:১-১৭ ও বংশ তালিকায় যীশু থেকে আব্রাহাম পর্যন্ত ৪২ পুরুষ নয়, বরং ৪১ পুরুষের উল্লেখ রয়েছে। প্রথম অংশ: ইবরাহীম আলাইহি ওয়াসাল্লামের থেকে দায়ূদ আলাইহি ওয়াসাল্লামের পর্যন্ত ১৪ পুরুষ, দ্বিতীয় অংশ সুলাইমান আলাইহি ওয়াসাল্লামের থেকে যিকনিয় পর্যন্ত ১৪ পুরুষ, তৃতীয় অংশ শল্টীয়েল থেকে এবং যীশু পর্যন্ত মাত্র ১৩ পুরুষ রয়েছেন। তৃতীয় শতকে বোরফেরী এই বিষয়টি সম্পর্কে আপত্তি উত্থাপন করেন, কিন্তু এর কোনো সঠিক সমাধান কেউ দিতে পারেন নি। ৬. মিসর পরিত্যাগের সময় ইস্রায়েলীয়দের সংখ্যা বর্ণনায় ভুল: গণনা পুস্তকের প্রথম অধ্যায়ের ৪৪-৪৭ শ্লোকে উল্লেখ করা হয়েছে: “(৪৪) এই সকল লোক মোশি ও হারোণ... কর্তৃক গণিত হইল। (৪৫) স্ব-স্ব পিতৃকুলানুসারে ইস্রায়েল সন্তানগণ, অর্থাৎ বিংশতি বৎসর ও ততোধিক বয়স্ক ইস্রায়েলের মধ্যে যুদ্ধে গমনযোগ্য (৪৬) সমস্ত পুরুষ গণিত হইলে লোকদের সংখ্যা ছয় লক্ষ তিন সহস্র পাঁচ শত পঞ্চাশ হইল। (৪৭) আলবীয়ের আপন পিতৃবংশানুসারে তাহাদিগের মধ্যে গণিত হইল না।” এ শ্লোকগুলি থেকে জানা যায় যে, ইস্রায়েল-সন্তানগণ যখন মোশির সাথে মিশর ত্যাগ করে তখন তাদের ২০ বৎসরের অধিক বয়সের যুদ্ধে সক্ষম পুরুষদের সংখ্যা ছিল ছয় লক্ষের অধিক (৬,০৩,৫৫০)। লেবীর বংশের সকল নারী, লেবীয় বংশের সকল পুরুষ, অন্যান্য সকল বংশের সকল নারী এবং সকল বংশের ২০ বৎসরের কম বয়স্ক সকল যুবক ও কিশোর পুরুষ বাদ দিয়েই ছিল এই সংখ্যা। চার শ্রেণীর মানুষ এই গণনা থেকে বাদ দেয়া হয়েছে: ১. লেবীয় বংশের সকল নারী। ২. লেবীয় বংশের সকল পুরুষ। ৩. অন্যান্য সকল বংশের সকল নারী। ৪. সকল বংশের ২০ বৎসরের কম বয়স্ক সকল যুবক ও কিশোর পুরুষ বাদ দিয়েই ছিল এই সংখ্যা। তাহলে যদি এই চার প্রকারের নারী, পুরুষ ও যুবক-কিশোরদের গণনায় ধরা হয় তাহলে মিশর ত্যাগকালে তাদের সংখ্যা দাঁড়াবে কমপক্ষে ২৫ লক্ষ। আর এই তথ্য কোনো মতেই সঠিক হতে পারে না। কারণ: প্রথমতঃ আদিপুস্তক ৪৬:২৭, যাত্রাপুস্তক ১:৫, দ্বিতীয় বিবরণ ১০:২২-এ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ইস্রায়েল-সন্তানগণ যখন মিশরে প্রবেশ করে তখন তাদের সংখ্যা ছিল ৭০ জন। দ্বিতীয়তঃ ইস্রায়েল-সন্তানগণ মিশরে অবস্থান করেছিলেন সর্বমোট ২১৫ বৎসর। এর বেশি তারা অবস্থান করেন নি। তৃতীয়তঃ যাত্রাপুস্তকের প্রথম অধ্যায়ের ১৫-২২ শ্লোকে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তাদের মিশর ত্যাগের ৮০ বৎসর পূর্ব থেকে তাদের সকল পুত্র সন্তানকে হত্যা করা হতো এবং কন্যা সন্তানদেরকে জীবিত রাখা হতো। এ তিনটি বিষয়ের আলোকে যে কোনো সাধারণ জ্ঞানসম্পন্ন মানুষ নিশ্চিত হবেন যে, মিশর ত্যাগের সময় ইস্রায়েল সন্তানদের যে সংখ্যা (৬,০৩,৫৫০) উল্লেখ করা হয়েছে তা নিঃসন্দেহে ভুল। আমরা যদি পুত্র সন্তান হত্যার বিষয়টি একেবারে বাদ দেই এবং মনে করি যে, ইস্রায়েল সন্তানগণ মিশরে অবস্থানকালে তাদের জনসংখ্যা এত বেশি বৃদ্ধি পেতো যে, প্রতি ২৫ বৎসরে তাদের সংখ্যা দ্বিগুণ হয়ে যেত, তাহলেও তাদের সর্বমোট জনসংখ্যা ২১৫ বৎসরে ৭০ থেকে ৩৬০০০ (ছত্রিশ হাজার)-ও হতে পারে না। তাহলে সর্বমোট জনসংখ্যা ২৫ লক্ষ হওয়া লেবীয়গণ বাদে মোট পুরুষ যোদ্ধার সংখ্যা ছয় লক্ষ হওয়া কীভাবে সম্ভব! এর সাথে যদি শেষ ৮০ বছরের পুরুষ হত্যার বিষয় যোগ করা হয় তাহলে বিষয়টি আরো অসম্ভব ও অযৌক্তিক বলে প্রমাণিত হয়। প্রসিদ্ধ ঐতিহাসিক ও সমাজবিজ্ঞানী ইবনু খালদুন (৮০৮হি/১৪০৫খৃ) তার ইতিহাস গ্রন্থের ভূমিকায় বাইবেলে উল্লিখিত এ সংখ্যা অবাস্তব বলে মতপ্রকাশ করেছেন। কারণ মূসা ও ইস্রায়েল (ইয়াকূব)-এর মধ্যে মাত্র তিনটি বা চারটি প্রজন্ম। যাত্রাপুস্তক ৬:১৬-২০, গণনাপুস্তক ৩:১৭-১৯ ও ১ বংশাবলী ৬:১৮-এর বর্ণনা অনুসারে: মোশির পিতা অস্রাম (ইমরান), তার পিতা কহৎ, তার পিতা লেবি, তার পিতা যাকোব। যাকোব ও মোশির মধ্যে তিন পুরুষ মাত্র। আর মানবীয় জ্ঞান ও বুদ্ধি-বিবেক কখনোই মানতে পারে না যে, মাত্র চার পুরুষে ৭০ জনের বংশধর ২০-২৫ লক্ষ হতে পারে। ৭. ইস্রায়েল সন্তানদের মিশরে অবস্থান সম্পর্কে ভুল তথ্য: যাত্রাপুস্তকের ১২ অধ্যায়ের ৪০ শ্লোকে উল্লেখ করা হয়েছে যে, 'ইস্রায়েল-সন্তানের চারি শত ত্রিশ বৎসর কাল মিশরে প্রবেশ করিয়াছিল।' তথ্যটি ভুল। ইস্রায়েল-সন্তানগণ ৪৩০ বৎসর নয় ২১৫ বৎসরকাল মিশরে অবস্থান করেছিল। তবে কেনান দেশে ও মিশরে উভয় স্থানে ইস্রায়েল সন্তানগণের পূর্বপুরুষ ও তাদের মোট অবস্থানকাল ছিল ৪৩০ বৎসর। কারণ ইব্রাহীম আ.-এর কেনান দেশে প্রবেশ থেকে তাঁর পুত্র ইসহাক আ.-এর জন্ম পর্যন্ত ২৫ বৎসর। ইসহাকের জন্ম থেকে ইয়াকুব আ. বা ইস্রায়েল-এর জন্ম পর্যন্ত ৬০ বৎসর। ইয়াকুব আ.-এর অপর নাম বা প্রসিদ্ধ উপাধি ‘ইস্রায়েল’ এবং তার বংশধররাই বনী ইসরাঈল বা ইস্রায়েল সন্তানগণ বলে পরিচিত। ইয়াকুব বা ইস্রায়েল আ. যখন তাঁর বংশধরদের নিয়ে মিশরে প্রবেশ করেন তখন তাঁর বয়স ছিল ১৩০ বৎসর। এভাবে আমরা দেখছি যে, ইব্রাহীম আলাইহি ওয়াসাল্লামের মিশরে প্রবেশ থেকে তাঁর পৌত্র ইয়াকুব আ. মিশরে প্রবেশ পর্যন্ত সময়কাল (২৫+৬০+১৩০=) ২১৫ বৎসর। ইস্রায়েল আ.-এর মিশরে প্রবেশ থেকে মূসা আ.-এর সাথে তাঁর বংশধরদের মিশর ত্যাগ পর্যন্ত সময়কাল ২১৫ বৎসর। এভাবে কেনানে ও মিশরে তাদের মোট অবস্থানকাল (২১৫+২১৫=) ৪৩০ বৎসর। ইহুদী-খ্রিস্টান পণ্ডিতগণ একবাক্যে স্বীকার করেছেন যে, হিব্রু বাইবেলের এ তথ্যটি ভুল। তারা বলেন: শমরীয় তাওরাতে এখানে উভয় স্থানের অবস্থান একত্রে বলা হয়েছে এবং এখানে শমরীয় তাওরাতের বক্তব্যই সঠিক। শমরীয় তাওরাত বা তাওরাতের শমরীয় সংস্করণ অনুসারে যাত্রাপুস্তকের ১২ অধ্যায়ের ৪০ পদটি নিম্নরূপ: “ইস্রায়েল সন্তানগণেরা ও তাদের পিতৃগণ কেনান দেশে ও মিশরে চারি শত ত্রিশ বৎসর কাল অবস্থান করিয়াছিল।” এখানে গ্রীক তাওরাত বা তাওরাতের গ্রীক সংস্করণের ভাষ্য নিম্নরূপ: “কেনান দেশে ও মিশরে ইস্রায়েল-সন্তানগণ ও তাদের পিতা-পিতামহগণের মোট অবস্থানকাল চার শত ত্রিশ বৎসর।” খ্রিস্টান গবেষক ও পণ্ডিতগণের নিকট নির্ভরযোগ্য পুস্তক ‘মুরশিদুত তালিবীন ইলাল কিতাবিল মুকাদ্দাসিস সামীন’ (মহামূল্য পবিত্র বাইবেলের ছাত্রগণের পথ নির্দেশক) নামক গ্রন্থে এভাবেই ইস্রায়েল সন্তানগণের ইতিহাস উল্লেখ করা হয়েছে। এ গ্রন্থের লেখক উল্লেখ করেছেন যে, ইয়াকুব আ.-এর মিশরে আগমন থেকে ঈসা আ.-এর জন্ম পর্যন্ত সময়কাল ১৭০৬ বৎসর। আর ইস্রায়েল সন্তানদের মিশর পরিত্যাগ পর্যন্ত সময়কাল ১৪৯১ বৎসর। ১৭০৬ থেকে ১৪০৯ বাদ দিলে ২১৫ বৎসর থাকে। এটিই হলো ইয়াকুব আ.-এর মিশর আগমন থেকে ইস্রায়েল সন্তানদের মিশর পরিত্যাগ পর্যন্ত সময়। এখানে অন্য একটি বিষয় এ সময়কাল নিশ্চিত করে। মূসা আ. ছিলেন ইয়াকূব আ.-এর অধস্তন ৪র্থ পুরুষ। ইয়াকুবের পুত্র লেবি, তার পুত্র কহাৎ, তার পুত্র অম্রাম (ইমরান), তার পুত্র মূসা আ.। এতে বুঝা যায় যে, মিশরে ইস্রায়েল সন্তানগণের অবস্থান ২১৫ বৎসরের বেশি হওয়া অসম্ভব। আর ইহুদী-খ্রিস্টান ঐতিহাসিক, ব্যাখ্যাকার ও গবেষকগণ একমত পোষণ করেছেন যে, ইস্রায়েলীয়গণ ২১৫ বৎসর মিশরে অবস্থান করেন। তাদের মিশরে ৪৩০ বৎসর অবস্থানের যে তথ্য বাইবেলের হিব্রু সংস্করণে দেওয়া হয়েছে তা ভুল বলে তারা একমত হয়েছেন। ৮. ক্রুশের ঘটনার বর্ণনায় ভুল: মথিলিখিত সুসমাচারের ২৭ অধ্যায়ের ৫০-৫৩ শ্লোক নিম্নরূপ: “(৫০) পরে যীশু উচ্চ রবে চিৎকার করিয়া নিজ আত্মসমর্পণ করিলেন। (৫১) আর দেখ, মন্দিরের তিরস্কারিনী উপর হইতে নীচ পর্যন্ত চিরিয়া দুইখান হইল, ভূমিকম্প হইল ও শৈল সকল বিদীর্ণ হইল, (৫২) এবং কবর সকল খুলিয়া গেল, আর অনেক নিদ্রাগত পবিত্র লোকের দেহ উত্থাপিত হইল; (৫৩) এবং তাঁহার পুনরুত্থানের পর তাঁহার কবর হইতে বাহির হইয়া পবিত্র নগরে প্রবেশ করিলেন, আর অনেক লোককে দেখা দিলেন।" মন্দিরের তিরস্কারিনী (পর্দা) বিদীর্ণ হওয়ার কথা মার্কের ১৫:৩৮ ও লুকের ২৩:৪৫-এ উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু বাকি বিষয়গুলি, অর্থাৎ পাথরগুলি ফেটে যাওয়া, কবরগুলি খুলে যাওয়া, মৃত লাশগুলির বের হয়ে আসা, জেরুজালেমে প্রবেশ করা, তথাকার অধিবাসীদের সাথে মৃত লাশগুলির দেখা-সাক্ষাৎ হওয়া ইত্যাদি বিষয় তারা উল্লেখ করেন নি। মথির দাবি অনুসারে এ বিষয়গুলি প্রকাশ্যে সকলেই অবলোকন করেছিলেন। অথচ একমাত্র মথি ছাড়া সে সময়ের অন্য কোনো ঐতিহাসিক এ ঘটনাগুলি লিখলেন না! এমনকি এর পরের যুগের কোনো ঐতিহাসিকও এ বিষয়ে কিছু লিখেননি। তারা ভুলে গিয়েছিলেন বলে দাবি করার কোনো সুযোগ নেই; কারণ মানুষ সব কিছু ভুললেও এরূপ অস্বাভাবিক অত্যাশ্চর্য ঘটনা কখনো ভুলতে পারে না। বিশেষত লুক ছিলেন আশ্চর্য ও অলৌকিক ঘটনাবলির সংকলনে অত্যন্ত আগ্রহী। এ কথা কীভাবে কল্পনা করা যায় যে সুসমাচার লেখকগণ সকলেই অথবা অধিকাংশই সাধারণ লৌকিক ঘটনা ও অবস্থাদি লিখবেন, অথচ মথি ছাড়া কেউ এ অসাধারণ অলৌকিক ঘটনাগুলি লিখবেন না? এ কাহিনীটি মিথ্যা। পণ্ডিত নর্টন পবিত্র বাইবেলের বিশুদ্ধতা প্রমাণের জন্য সদা সচেষ্ট ছিলেন। কিন্তু তিনিও তার পুস্তকে এ কাহিনীটিকে মিথ্যা বলে বিভিন্ন প্রমাণ পেশ করেছেন। এরপর তিনি বলেন, এ কাহিনীটি মিথ্যা। সম্ভবত জেরুজালেমের ধ্বংসের পর থেকে এই ধরনের কিছু গল্প-কাহিনী ইহুদীদের মধ্যে প্রচলিত ছিল। সম্ভবত কেউ একজন মথি লিখিত সুসামাচারের হিব্রু পাণ্ডুলিপির টীকায় তা লিখেছিলেন এবং অনুলিপি লেখক লেখার সময় তা মূল পাঠের মধ্যে ঢুকিয়ে দিয়েছেন। এরপর সেই কপিটিই অনুবাদকের হাতে পড়ে এবং সেভাবেই তিনি অনুবাদ করেন। পণ্ডিত নর্টনর বক্তব্য থেকে জানা যায় যেহেতু মথির সুসমাচারের (মূল হিব্রু থেকে প্রথম গ্রীক) অনুবাদক ছিলেন 'রাতের আঁধারে কাঠ-সংগ্রহকারীর মত' বিবেচনাহীন। শুকনো ও ভেজার মধ্যে পার্থক্য করার ক্ষমতা তার ছিল না। এ গ্রন্থের মধ্যে শুদ্ধ ও অশুদ্ধ যা কিছু পেয়েছেন সবই অনুবাদ করেছেন। এইরূপ একজনের অনুবাদ ও সম্পাদনার উপরে কি নির্ভর করা যায়? কখনোই না। খ্রিস্টানদের দাবি হল যেই কিতাবে কোনো ভুল নেই, সেটা হলো ইঞ্জিল। আর এতোগুলো ভুল ধরা পড়লো! এতে বুঝা গেল এই ভুলে ভরা গ্রন্থটি আল্লাহ তা'আলার কালাম বা আসমানী কিতাব নয়। এটা প্রকৃত ইঞ্জিল হতেই পারে না। তাহলে এটা কি? অবশ্যই মানবরচিত একটি গ্রন্থ। আমরা জানি কোনো জমির মালিকানা দাবি করতে হলে তার কাছে সেই জমির দলিল থাকতে হয়। দলিলে কোনো ধরনের ভুল ধরা পড়লে সেই দলিল অগ্রহণযোগ্য বা বাতিল বলে সাব্যস্ত হয়। তদ্রুপ ধর্মের যে কোনো ধরনের দলিল হল তার ধর্মীয় গ্রন্থ। সেই ধর্মীয় গ্রন্থটি যদি ভুল হয় তাহলে সেই ধর্মটি ভুল বলে প্রমাণিত হবে, তা অগ্রহণযোগ্য হবে। জমিনের দলিল ভুল থাকার কারণে সেই দলিল বাতিল হয়ে যায়। তেমনি বাইবেলে ভুল থাকার কারণে এই গ্রন্থটি বাতিল। ফলে যারা এই গ্রন্থ মানে বা বিশ্বাস করে তাদের ধর্মও বাতিল বলে প্রমাণিত। মোটকথা, খ্রিস্টধর্ম বাতিল ও অগ্রহণযোগ্য একটি ধর্ম।

বাইবেলে স্ববিরোধ: বাইবেলে অগণিত বৈপরীত্য, ভুলভ্রান্তি ও বিকৃতিতে ভরা। এখানে বহু বৈপরিত্যের মধ্যে মাত্র কয়েকটি পাঠকদের খেদমতে পেশ করলাম। ১. বিন্যামীনের সন্তানদের নাম ও সংখ্যায় বৈপরীত্য ১ বংশাবলির (বংশাবলি ১ম খণ্ড) ৭ম অধ্যায়ের ৬ শ্লোকে বলা হয়েছে: “বিন্যামীনের সন্তান- বেলা, বেখর ও যিদীয়েল, তিন জন।" পক্ষান্তরে, ১ বংশাবলিরই ৮ম অধ্যায়ের ১ম শ্লোকে বলা হয়েছে: বিন্যামীনের জেষ্ঠ্য পুত্র বেলা, দ্বিতীয় অস্বেল, তৃতীয় অহহ, চতুর্থ নোহা ও পঞ্চম রাফা।” কিন্তু আদিপুস্তক ৪৬ অধ্যায়ের ২১ শ্লোকে বলা হয়েছে: “বিন্যামীনের পুত্র বেলা, বেখর, অস্কেল, গেরা, নামন, এহী, রোশ, মুপীম, হুপীম ও অর্দ।” তাহলে বিন্যামীনের সন্তান সংখ্যা প্রথম বক্তব্যে তিন জন এবং দ্বিতীয় বক্তব্যে ৫ জন। তাদের নামের বর্ণনাও পরস্পর বিরোধী, শুধু বেলার নামটি উভয় শ্লোকে উল্লেখ করা হয়েছে, বাকিদের নাম সম্পূর্ণ ভিন্ন। আর তৃতীয় শ্লোকে বিন্যামীনের সন্তান সংখ্যা ১০জন। নামগুলি আলাদা। তৃতীয় শ্লোকের নামগুলির সাথে প্রথম শ্লোকের সাথে দুজনের নামের এবং দ্বিতীয় শ্লোকের দু'জনের নামের মিল আছে। আর তিনটি শ্লোকের মিল আছে একমাত্র 'বেলা' নামটি উল্লেখের ক্ষেত্রে। প্রথম ও দ্বিতীয় শ্লোকদ্বয় একই পুস্তকের। উভয় পুস্তকের লেখক ইয়া ভাববাদী। এভাবে একই লেখকের লেখা একই পুস্তকের দু'টি বক্তব্য পরস্পর বিরোধী বলে প্রমাণিত হলো। আবার তাওরাতের আদিপুস্তকের বক্তব্যের সাথে ইয়ার দু'টি বক্তব্যেও বৈপরীত্য প্রমাণিত হলো। স্পষ্ট পরস্পরবিরোধী বক্তব্য ইহুদী ও খ্রিস্টান পণ্ডিতগণকে হতবাক করে দিয়েছে। তারা স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছেন যে ইযাই ভুল করেছেন। এ ভুলের কারণ হিসেবে তারা উল্লেখ করেন যে, ইযা পুত্র ও পৌত্রের মধ্যে পার্থক্য করতে পারেননি এবং যে বংশতালিকা দেখে তিনি বংশাবলির এই তালিকা লিখেছেন সেই মূল বংশতালিকাটি ছিল অসম্পূর্ণ। ২. ইস্রায়েল ও যিহুদা রাজ্যের সৈনিকদের সংখ্যার বৈপরীত্য শামূয়েলের দ্বিতীয় পুস্তকের ২৪ অধ্যায়ের ৯ম শ্লোকটি নিম্নরূপ: "পরে যোয়াব গণিত লোকদের সংখ্যা রাজার কাছে দিলেন; ইস্রায়েলে খড়গ-ধারী আট লক্ষ বলবান লোক ছিল; আর যিহূদার পাঁচ লক্ষ লোক ছিল।” অপর দিকে বংশাবলি প্রথম খণ্ডের ২১ অধ্যায়ের ৫ম শ্লোক নিম্নরূপ: “আর যোয়াব গণিত লোকদের সংখ্যা দায়ূদের কাছে দিলেন। সমস্ত ইস্রায়েলের এগার লক্ষ খড়গধারী লোক ও যিহূদার চারি লক্ষ সত্তর সহস্র খড়গধারী লোক ছিল।” তাহলে প্রথম বর্ণনামতে ইস্রায়েলের যোদ্ধাসংখ্যা ৮,০০,০০০ এবং যিহূদার ৫,০০,০০০। আর দ্বিতীয় বর্ণনা মতে তাদের সংখ্যা: ১১,০০,০০০ ও ৪,৭০,০০০। উভয় বর্ণনার মধ্যে বৈপরীত্যের পরিমাণ দেখুন! ইস্রায়েলের জনসংখ্যার বর্ণনায় ৩ লক্ষ্য কমবেশি এবং যিহূদার জনসংখ্যার বর্ণনায় ত্রিশ হাজারের কমবেশি। বস্তুত বাইবেলের ইতিহাস বিষয়ক পুস্তকগুলিতে ব্যাপক বিকৃতি ঘটেছে এবং এ বিষয়ে সমন্বয়ের চেষ্টা অবান্তর। বিকৃতি মেনে নেওয়াই উত্তম; কারণ তা অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই এবং বাইবেলের বর্ণনাকারী ও লিপিকারগণ ইলহাম-প্রাপ্ত বা ঐশী প্রেরণাপ্রাপ্ত ছিলেন না। ৩. অহসিয় রাজার রাজ্যগ্রহণকালীন বয়স বর্ণনায় বৈপরীত্য: রাজাবলি দ্বিতীয় খণ্ডের ৮ম অধ্যায়ের ২৬ শ্লোক নিম্নরূপ: "অহসিয় বাইশ বৎসর বয়সে রাজত্ব করিতে আরম্ভ করেন এবং যিরূশালেমে এক বৎসরকাল রাজত্ব করেন।” বরং ২ বংশাবলীর ২২:২ এ আছে অহসিয় ৪২ বছর বয়সে রাজ্যগ্রহণ করেন। উভয় বর্ণনার মধ্যে মাত্র ২০ বৎসরের বৈপরীত্য! দ্বিতীয় তথ্যটি সন্দেহাতীতভাবে ভুল; কারণ, ২ বংশাবলি দ্বিতীয় খণ্ডের ২১ অধ্যায়ের ২০ শ্লোক এবং ২২ অধ্যায়ের ১-২ শ্লোকে উল্লেখ করা হয়েছে যে, অহসিয়ের পিতা যিহোরাম ৪০ বৎসর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন এবং তার মৃত্যুর পরপরই অহসিয় রাজ-সিংহাসনে বসেন। এখন যদি দ্বিতীয় তথ্যটি নির্ভুল হয় তাহলে প্রমাণিত হয় যে, অহসিয় তার পিতার চেয়েও দুই বছরের বড় ছিলেন! আর এ যে অসম্ভব তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এজন্য আদম ক্লার্ক, হর্ন, হেনরি ও স্কট তাদের ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহে স্বীকার করেছেন যে, বাইবেল লেখকের ভুলের কারণে এ বৈপরীত্য দেখা দিয়েছে। ৪. সুলাইমান আ.-এর অশ্বশালার সংখ্যা বর্ণনায় বৈপরীত্য: ১ রজাবলির ৪র্থ অধ্যায়ের ২৬ শ্লোকটি নিম্নরূপ: “শলোমনের রথের নিমিত্তে চল্লিশ সহস্র অশ্বশালা ও বারো সহস্র অশ্বারোহী ছিল।” এর বিপরীতে ২ বংশাবলির ৯ম অধ্যায়ের ২৫ শ্লোকটিতে আছে: “শলোমনের চারি সহস্র অশ্বশালা ও দ্বাদশ সহস্র অশ্বারোহী ছিল।" এখানে, উভয় বক্তব্যের মধ্যে বৈপরীত্য সুস্পষ্ট। প্রথম শ্লোকে দ্বিতীয় শ্লোকের চেয়ে ৩৬,০০০ বেশি অশ্বশালার কথা বলা হয়েছে। ৫. যীশুর আগমন শান্তি না অশান্তির জন্য: মথি ৫/৯ঃ “ধন্য যাহারা মিলন করিয়া দেয়, কারণ তাহারা ঈশ্বরের পুত্র বলিয়া আখ্যাত হইবে। লুক ৯:৫৬ঃ “কারণ মনুষ্যপুত্র মনুষ্যদের প্রাণনাশ করিতে আসেন নাই; কিন্তু রক্ষা করিতে আসিয়াছেন।” মথি ১০:৩৪ঃ “মনে করিও না যে আমি পৃথিবীতে শান্তি দিতে আসিয়াছি; শান্তি দিতে আসি নাই, কিন্তু খড়গ দিতে আসিয়াছি। লুক ১২:৪৯ ও ৫১ঃ “(৪৯) আমি পৃথিবীতে অগ্নি নিক্ষেপ করিতে আসিয়াছি; আর এখন যদি তাহা প্রজ্বলিত হইয়া থাকে, তবে আর চাই কি?...(৫১) তোমরা কি মনে করিতেছ, আমি পৃথিবীতে শান্তি দিতে আসিয়াছি? তোমাদিগকে বলিতেছি, তাহা নয়, বরং বিভেদ সৃষ্টি করিতে আসিয়াছি।” উপরের বক্তব্যগুলির মধ্যে বৈপরীত্য সুস্পষ্ট। প্রথম দুটি বক্তব্যে, ঐক্য ও মিলন সৃষ্টিকারীদের প্রশংসা করা হয়েছে এবং যে যীশু নিজেও ধ্বংস নয়, বরং রক্ষা করতে আগমন করেন। কিন্তু শেষ দুটি বক্তব্যে সম্পূর্ণ বিপরীত কথা বলা হয়েছে। এখানে বলা হয়েছে যে- তিনি খড়গ, হানাহানি, ধ্বংস ও বিভেদ সৃষ্টির জন্য আগমন করেছেন। এ থেকে বুঝা যায় যে, আপনাদের বাইবেল অনুসারে তিনি মুক্তি, শান্তি, মিলন ও রক্ষার জন্য আগমন করেননি; কাজেই যাদেরকে ধন্য বলা হবে এবং ঈশ্বরের পুত্র বলা হবে তিনি তাদের অন্তর্ভুক্ত নন। প্রিয় পাঠক! এখানে মাত্র কয়েকটি বৈপরীত্য উল্লেখ করা হল। এর দ্বারাই প্রমাণিত হয় এটা আল্লাহ তা'আলার কালাম নয়। এধরনের স্ববিরোধে পূর্ণ। সেটা আবার আল্লাহ তা'আলার কালাম হয় কীভাবে? এবং ঈসা আ. মুক্তিদাতা নয় বরং মুক্তিদাতা হলেন একমাত্র আল্লাহ তা'আলা। আল্লাহ তা'আলা খ্রিস্টান ভাইদেরকে সঠিক বুঝ দান করুন। হেদায়াত দান করুন। ইসলাম গ্রহণ করার তৌফিক দান করুন। আমিন।

টিকাঃ
৬৫. সুরা মায়েদা-৪৪
৬৬. ১ সূরা মায়েদা-৫৪
৬৭. সূরা হাদিস-২৭
৬৮. সূরা হাদিদ-২৮
৬৯. সূরা বাকারা ৭৮-৭৯
৭০. সুরা মায়েদা-৪১
৭১. এ বিষয়ে বিস্তারিত জানার জন্য খ্রিষ্টান ভাইদের দাওয়াত দেয়ার পথ ও পদ্ধতি বইটি অধ্যায়ন করা যেতে পারে।
৭২. সূরা মায়েদা-১৫
৭৩. আরও দেখুন সূরা বাকারা-৭৫ সূরা ঈিসা-৪৬ নং আয়াতে।
৭৪. কেরী বাইবেলের ভূমিকা সংক্ষিপ্ত
৭৫. ইজহারুল হক-৬০

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00