📘 ব্রেন ওয়েভস > 📄 ব্যায়াম

📄 ব্যায়াম


ব্যায়ামের সময় ব্রেনে ৫ টি কেমিক্যাল রিলিজ হয়:
১. সেরোটোনিন – মন ভালো করে, বিষন্নতা কমায়।
২. নরইপিনেফরিন – ব্রেনকে সজাগ করে, স্মরণ শক্তি বাড়ায়।
৩. এন্ডোরফিন – মনে ফুর্তি আনে।
৪. ডোপামিন – মোটিভেশন বাড়ায়।
৫. BDNF – নিউরনের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ায়, ফলে ব্রেন বেশি কাজ করে।

ডিপ্রেশনে ব্যায়ামের ভূমিকা:
শারীরিক পরিশ্রম বা ব্যায়ামে ব্রেনে সেরোটোনিন নিঃসৃত হয় যা ডিপ্রেশন দূর করে। প্রতিদিন আধা ঘণ্টা হাঁটলে বা রোদে হাঁটাহাঁটি করলে বিষন্নতা অনেকটা কমে যায়।

স্মরণ শক্তি ও হিপ্পোক্যাম্পাস:
৬-৮ সপ্তাহের নিয়মিত ব্যায়ামে ব্রেনের হিপ্পোক্যাম্পাস (Hippocampus) অংশে নতুন সক্রিয় কোষের সংখ্যা ২-৩ গুণ বাড়ে। এতে শেখার ক্ষমতা ও স্মরণ শক্তি বৃদ্ধি পায়। সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট (দিনে ৩০ মিনিট, ৫ দিন) অ্যারোবিক এক্সারসাইজ করা উচিত।

মনে ফুর্তি ও এন্ডোরফিন:
ব্যায়াম বা দৌড়ানোর ৩০ মিনিট পর এন্ডোরফিন নিঃসৃত হয়। মাঝারি গতির হাঁটায় ১ ঘণ্টা পর এটি নিঃসৃত হয়। এটি মনে প্রাকৃতিক আনন্দের অনুভূতি দেয়। এছাড়া রোদে হাঁটাহাঁটি করলে মেয়েদের পিরিয়ডের আগের ব্যথা (PMS) কমে যায়।

মোটিভেশন বা উদ্দীপনা:
ব্যায়ামের ফলে ডোপামিন নিঃসরণ বাড়ে, যা উদ্দীপনা বা মোটিভেশন বৃদ্ধিতে সাহায্য করে এবং মানসিক চাপ কমায়।

📘 ব্রেন ওয়েভস > 📄 খাওয়া

📄 খাওয়া


বার বার অল্প অল্প খাওয়ার উপকারিতা:
১. খাওয়ার পর এন্ডোরফিন রিলিজ হয় যা মন ফুর্তিতে রাখে।
২. ব্রেনে গ্লুকোজ সাপ্লাই অনবরত থাকে, ফলে ব্রেন ভালো কাজ করে।
৩. ব্লাড গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং অতিরিক্ত ওজন কমে।
৪. স্ট্রেস হরমোন কর্টিসল কম নিঃসৃত হয়।

পরিশ্রমের ধরন ও খাওয়া:
যারা ব্রেনের কাজ করেন, তাদের রাতের খাবার ভালো হওয়া দরকার কারণ ব্রেন ঘুমের মধ্যেও তথ্য গুছিয়ে রাখার কাজ করে। অন্যদিকে শারীরিক পরিশ্রমী ব্যক্তিদের দুপুরের খাবার ভালো হওয়া উচিত কারণ তারা দিনের বেলায় শক্তি খরচ করেন।

রাগ বা মন খারাপের সময় খাবার:
কারো খুব রাগ উঠলে বা মন খারাপ হলে চকলেট, টক বা ঝাল খাবার খেলে এন্ডোরফিন নিঃসরণের মাধ্যমে রাগ দ্রুত কমে যায়।

চা:
সবুজ চা-তে (Green Tea) প্রচুর পরিমাণে L-theanine থাকে যা ব্রেনে ডোপামিন নিঃসরণ করে। এটি ব্রেনে থিটা ওয়েভ তৈরি করে যা স্মরণ শক্তি ও শেখার ক্ষমতা কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেয়।

📘 ব্রেন ওয়েভস > 📄 সেরোটোনিন

📄 সেরোটোনিন


সেরোটোনিন হলো সুখের কেমিক্যাল। পড়ার সময় কিছুক্ষণ পর বোরিং লাগার কারণ হলো ব্রেনে সেরোটোনিন কমে যাওয়া। কোরআন তিলাওয়াত শোনা বা জিকির করার মাধ্যমে এটি বাড়ানো সম্ভব।

সেরোটোনিনের ভূমিকা:
১. পায়চারী বা হাঁটা: চিন্তার সময় মানুষ পায়চারী করে কারণ হাঁটার সময় সেরোটোনিন তৈরি হয় যা সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে।
২. ডিপ্রেশন প্রতিরোধ: সেরোটোনিন কমে গেলে মানুষ নিরাশ হয়ে পড়ে এবং আত্মহত্যার চিন্তা করে। কোরআন পড়া, ব্যায়াম এবং সাইকোথেরাপির মাধ্যমে এটি বাড়ানো যায়।
৩. ক্লাস রিফ্রেশমেন্ট: একজন শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ ২০ মিনিট ক্লাসে মনোযোগ দিতে পারে। তাই শিক্ষকের উচিত প্রতি ২০ মিনিট পর গল্প বা মজার আলোচনার মাধ্যমে ক্লাস রিফ্রেশ করা।

বিনা ওষুধে বিষন্নতা দূর করার উপায়:
১. গভীর মনোযোগে ইবাদত বা মেডিটেশন।
২. আমিষ জাতীয় খাবার খাওয়া।
৩. রোদে থাকা এবং নিয়মিত ব্যায়াম।
৪. মনের কষ্ট বিশ্বস্ত কারো কাছে শেয়ার করা।
৫. স্থান পরিবর্তন বা বায়ু বদল।

সেরোটোনিন এবং ইতিবাচক চিন্তা:
ব্রেন শান্ত থাকলে পজিটিভ চিন্তা আসে। ইতিবাচক চিন্তা হৃদরোগের ঝুঁকি কমায় এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করে। উদাহরণস্বরূপ, কোনো জটিল কাজকে "জটিল" না ভেবে "নতুন কিছু শেখার সুযোগ" হিসেবে দেখা উচিত।

📘 ব্রেন ওয়েভস > 📄 মেলাটোনিন

📄 মেলাটোনিন


মেলাটোনিন হরমোনের প্রভাবে ঘুম ভালো হয়। এটি শরীরের ক্ষয় পূরণ করে, সতেজতা দেয় এবং চেহারায় বয়সের ছাপ কমায়।

ঘুম ও পড়াশোনার আদর্শ সময়:
১. রাত ৯টা থেকে ভোর ৩টা: ঘুমানোর শ্রেষ্ঠ সময়। এ সময় মেলাটোনিন সবচেয়ে বেশি নিঃসৃত হয়। দিনের ঘুমে আলোর কারণে মেলাটোনিন নিঃসৃত হয় না।
২. ভোর ৩টা থেকে সকাল ৮টা: পড়াশোনার শ্রেষ্ঠ সময়। এ সময় মনোযোগ সবচেয়ে বেশি থাকে।

রাতের প্রহর বিভাজন:
প্রথম প্রহর (৬টা-৯টা): সবাই জাগে।
দ্বিতীয় প্রহর (৯টা-১২টা): ভোগী বা বিলাসী মানুষ জাগে।
তৃতীয় প্রহর (১২টা-৩টা): তস্কর বা চোর জাগে।
চতুর্থ প্রহর (৩টা-৬টা): যোগী বা ইবাদতকারী জাগে।

মেলাটোনিন পিনিয়াল গ্ল্যান্ড (Pineal Gland) থেকে নিঃসৃত হয় যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতেও ভূমিকা রাখে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00