📘 বিতর নামায > 📄 দু'আ কূনূত রুকূর আগে না পরে?

📄 দু'আ কূনূত রুকূর আগে না পরে?


বিতর নামাযের শেষ রাকাতে ক্বেরাত পড়ার পর রুকূর পূর্বে অথবা রুকু থেকে উঠার পর- উভয় অবস্থায় দু'আ কুনূত পড়া জায়েয।

রুকুর পূর্বে কুনূত পড়ার দলীলঃ উবাই বিন কা'ব (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূলুল্লাহ্ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বিতর নামায পড়তেন, তখন রুকুর পূর্বে কুনূত পড়তেন।”
আলকুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'ইবনে মাসউদ (রাঃ) ও নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর ছাহাবীগণ বিতর নামাযে রুকুর পূর্বে কুনূত পড়তেন।

রুকুর পর কুনূত পড়ার দলীলঃ আবদুর রহামান বিন আবদুল আলক্বারী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, উমার (রাযিয়াল্লাহু আনহু) যখন লোকদেরকে এক ইমামের পিছনে একত্রিত করলেন, তখন লোকেরা বিতরের কুনূতে কাফেরদের প্রতি লা'নত করতেন, অতঃপর দু'আ শেষ করে তাকবীর দিয়ে সিজদা করতেন।"

নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ফরয নামাযে কুনূত পড়ার সময় কখনো রুকুর আগে কখনো রুকুর পরে করেছেন। আনাস বিন মালেক (রাঃ) বলেন, “রাসূলুল্লাহ্ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একমাস রুকূর পর কুনূত পাঠ করেছেন, তাতে তিনি আরবের কয়েকটি গোত্রের উপর বদদু'আ করছেন।”

আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূলুল্লাহ্ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ফজর নামাযের ক্বেরাত পাঠ শেষে তাকবীর দিয়ে রুকু করতেন। রুকু থেকে উঠে 'সামিয়্যাল্লাহুলিমান হামিদাহ্ রাব্বানা লাকাল হামদ্‌' বলে-দাঁড়ানো অবস্থাতেই তিনি দু'আ পড়তেন, 'আল্লাহুম্মা আন্জেল্ ওয়ালিদ বিন ওয়ালিদ ....।"'

ইবনে আব্বাস (রাঃ) বর্ণিত হাদীছে বলা হয়েছে, “রাসূলুল্লাহ্ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পাঁচ ওয়াক্ত নামায যোহর, আছর, মাগরিব, এশা ও ফজরের নামাযে লাগাতার একমাস কুনূত পাঠ করেছেন। প্রত্যেক নামাযের শেষ রাকাতে 'সাম্যিাল্লাহুলিমান হামিদাহ্' বলার পর তিনি দু'আ করতেন। সে সময় তিনি বানী সুলাইম গোত্রের কয়েকটি গোষ্ঠি- রি'ল, যাকওয়ান ও ঊছাই-এর উপর বদদু'আ করতেন। আর পিছনের মুছল্লীগণ তাঁর দু'আয় আমীন বলতেন।”

আনাস বিন মালেক (রাঃ) ফজরের নামাযে কুনূত পাঠ সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হলে তিনি বলেন, 'আমরা রুকুর আগে ও পরে কুনূত পাঠ করতাম।"

শায়খ আলবানী বলেন, 'হাসান সনদে প্রমাণিত হয়েছে যে, আবু বকর, ওমর ও উছমান (রাঃ) রুকুর পর কুনূত পাঠ করতেন।'

সারকথা, দু'আ কুনূত রুকুর আগে বা পরে যে কোন সময় পাঠ করা যায়। এতে কোন দোষ নেই। যখন যেভাবে ইচ্ছা পাঠ করতে পারবে।

টিকাঃ
১. ছালাতুল মু'মেন ৩৩০, মাজমু' ফাতাওয়া ২৩/৯৯, নায়লুল আওতার- শাওকানী ২/২২৬।
২. ইবনে মাজাহ্, অধ্যায়ঃ নামায প্রতিষ্ঠা করা ও তাতে সুন্নাত, অনুচ্ছেদঃ রুকুর পূর্বে বা পরে কুনূতের বর্ণনা। হা/১১৮২। নাসাঈ, অধ্যায়ঃ ক্বিয়ামুল্লায়ল ও নফল নামায, অধ্যায়ঃ বিতরের ক্ষেত্রে উবাই বিন কা'বের হাদীছ বর্ণনায় বর্ণনাকারীদের বাক্যের মধ্যে বিভিন্নতা। হা/১৬৮১। হাদীছটি ছহীহ, দ্রঃ ইরউয়াউল গালীল হা/৪২৬।
৩. মুছান্নাফ ইবনু আবী শায়বা ২/৩০২। বর্ণনাটি ছহীহ দ্রঃ ইরউয়াউল গালীল ২/১৬৬।
১. হাদীছটির প্রথমাংশ ছহীহ বুখারীতে রয়েছে, অধ্যায়ঃ তারাবীহ নামায, অনুচ্ছেদঃ রামাযানে ক্বিয়াম করার ফযীলত হা/২০১০। শেষাংশ রয়েছে ছহীহ ইবনু খুযায়মাতে ২/১৫৫-১৫৬ শায়খ আলবানী এর সনদকে ছহীহ বলেন, দ্রঃ ছালাতু তারাবীহ্ ৪১-৪২ পৃঃ
২. বুখারী, অধ্যায়ঃ বিতর, অনুচ্ছেদঃ রুকুর আগে ও পরে কুনূত পাঠ করা। হা/ ১০০২। মুসলিম, অধ্যায়ঃ মসজিদ ও নামাযের স্থান, অনুচ্ছেদঃ মুসলমানদের উপর কোন বিপদ আপতিত হলে সকল নামাযে কুনূত পাঠ করা মুস্তাহাব, হা/৬৭৭।
১. মুসলিম, অধ্যায়ঃ মসজিদ ও নামাযের স্থান, অনুচ্ছেদঃ মুসলমানদের উপর কোন বিপদ আপতিত হলে সকল নামাযে কুনূত পাঠ করা মুস্তাহাব, হা/১০৮২।
২. আবু দাউদ, অধ্যায়ঃ বিতর, অনুচ্ছেদঃ নামাযে কুনূত পাঠ করা, হা/১২৩১। শায়খ আলবানী হাদীছটির সনদকে হাসান বলেন, দ্রঃ ছহীহ আবু দাউদ, ১/২৭০।
৩. ইবনু মাজাহ্, অধ্যায়ঃ নামায প্রতিষ্ঠা করা, অনুচ্ছেদঃ রুকুর আগে-পরে কুনূতের বিবরণ হা/১১৭৩। শায়খ আলবানী হাদীছটির সনদকে হাসান বলেন, দ্রঃ ছহীহ ইবনু মাজাহ্ ১/১৯৫। ইরউয়াউল গালীল ২/১৬০।
১. ইরউয়াউল গালীল ২/১৬৪।

📘 বিতর নামায > 📄 ফরয নামাযে কূনূত

📄 ফরয নামাযে কূনূত


পর্বেল্লেখিত হাদীছ সমূহের ভিত্তিতে কাফেরদের পক্ষ থেকে যদি মুসলমানদের উপর বিশেষ কোন বিপদ উপস্থিত হয়, তখন কুনূত পাঠ করা মুস্তাহাব। যে কোন ফরয নামাযে তা পাঠ করতে পারে। এটাকে বলা হয় 'কুনূতে নাযেলা'। কাফেরদের উপর বদদু'আ অথবা দুর্বল মুসলমানদের উদ্ধারের জন্য দু'আ করতে এই কুনূত পাঠ করবে। কারণ দূরীভূত হলে কুনূত পড়া পরিত্যাগ করবে। সর্বদা ইহা পাঠ করা উচিত নয়। কেননা নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একমাস কাফেরদের উপর বদদু'আ করেছেন। অনুরূপভাবে খোলাফায়ে রাশাদাও কুনূত পাঠ করতেন। কিন্তু তারা উহা সর্বদাই পাঠ করতেন না।

টিকাঃ
২. ইমাম ইবনে তায়মিয়া বলেন, ফরয নামাযে কুনূত পাঠের ব্যাপারে আলেমগণ তিনভাগে বিভক্ত হয়েছেনঃ
১) ফরয নামাযে কুনূত পাঠ করা মানসূখ বা রহিত হয়ে গেছে। সুতরাং উহা বিদআত। কেননা নবী উহা একমাস পড়ার পর ছেড়ে দিয়েছেন। তার এই ছেড়ে দেয়ায় প্রমাণ করে যে, উহা রহিত।
২) কুনূত পাঠ করা সর্বদাই বিধিসম্মত ও সুন্নাত। বিশেষ তরে ফজরের নামাযে।
৩) প্রয়োজনের সময় উহা সুন্নাত। অন্য সময় নয়। যেমনটি রাসূলুল্লাহ্ এবং তাঁর পর খোলাফায়ে রাশেদা করেছিলেন। এটাই বিশুদ্ধ কথা। তাঁরা বিপদ দূর হলে কুনূত পড়া ছেড়ে দিয়েছেন। যদি উহা মানসূখ হত, তবে খোলাফায়ে রাশেদা পড়তেন না। (বিস্তারিত দ্রঃ মাজমু ফাতাওয়া ২৩/৯৯, ১০৫-১০৮)

📘 বিতর নামায > 📄 কূনূত পাঠ করার সময় কোন দু'আ পড়বে?

📄 কূনূত পাঠ করার সময় কোন দু'আ পড়বে?


১) হাসান বিন আলী (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে বিতর নামাযে পাঠ করার জন্য নিম্ন লিখিত দু'আটি শিখিয়েছেনঃ

اللَّهُمَّ اهْدِنِي فِيمَنْ هَدَيْتَ وَعَافِنِي فِيمَنْ عَافَيْتَ وَتَوَلَّنِي ফِيمَنْ تَوَلَّيْتَ وَبَارِكْ لِي فِيمَا أَعْطَيْتَ وَقِنِي شَرَّ مَا قَضَيْتَ فَإِنَّكَ تَقْضِي وَلَا يُقْضَى عَلَيْكَ وَإِنَّهُ لا يَذِلُّ مَنْ وَالَيْتَ وَلَا يَعِزُّ مَنْ عَادَيْتَ تَبَارَكْتَ رَبَّنَا وَتَعَالَيْتَ

উচ্চারণঃ আল্লাহুম্মাহ্দিনি ফীমান হাদায়তা ওয়া আফেনী ফীমান আফায়তা, ওয়া তাওয়াল্লানী ফীমান তাওয়াল্লায়তা ওয়া বারেক লী ফীমা আ'তায়তা, ওয়া ক্বেনী শারা মা ক্বাযায়তা, ফা ইন্নাকা তাকুযী ওয়ালা ফ্যুকযা আলাইকা, ওয়া ইন্নাহু লা য়্যাযিলু মান ওয়ালায়তা, ওয়ালা ইয়েয মান আদায়তা, তাবারাকতা রাব্বানা ওয়া তাআলায়তা।

অর্থঃ হে আল্লাহ্! আমাকে সঠিক পথ দেখিয়ে তাদের অন্তর্ভুক্ত কর যাদের তুমি হেদায়াত করেছ, আমাকে নিরাপদে রেখে তাদের মধ্যে শামিল কর, যাদের তুমি নিরাপদ রেখেছ। তুমি আমার অভিভাবকত্ব গ্রহণ করে তাদের মধ্যে শামিল কর যাদের তুমি অভিভাবক হয়েছ। তুমি আমাকে যা দান করেছ তাতে বরকত দাও। তুমি আমাকে সেই অনিষ্ট থেকে রক্ষা কর যা তুমি নির্ধারণ করেছ, কারণ তুমি ফায়সালাকারী এবং তোমার উপর কারো ফায়সালা কার্যকর হয় না। তুমি যার সাথে মিত্রতা পোষণ কর তাকে কেউ লাঞ্ছিত করতে পারে না। আর যার সাথে শত্রুতা পোষণ কর, সে কখনো সম্মানিত হতে পারে না। হে আমাদের রব! তুমি খুবই বরকতময়, সুউচ্চ ও সুমহান।

২) দু'আ কুনূত হিসেবে নীচের দু'আটিও পড়া যায়ঃ اللهم إنا نستعينك، ونستغفرك، ولا نكفرك، ونؤمن بك ونخلع من يكفرك ، اللهم إياك نعبد، ولك نصلي ونسجد، وإليك نسعى ونحفد، نرجوا رحمتك ونخشى عذابك، إن عَذَابَكَ الْجِدَّ بِالكُفَّارِ مُلحِقٌ ، اللهُمَّ عَذِّبْ الكَفَرَةَ الدِّيْنَ يَصُدُّوْنَ عَنْ سَبِيْلِكَ

অর্থঃ “হে আল্লাহ্! নিশ্চয় আমরা আপনার নিকট সাহায্য চাই, আপনার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি, আপনার সাথে কুফরী করি না। আপনার প্রতি ঈমান রাখি। আপনার সাথে যে কুফরী করে তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করি। হে আল্লাহ্ শুধুমাত্র আপনারই ইবাদত করি। আপনার জন্যই নামায আদায় করি ও সিজদা করি। আপনার প্রতি অগ্রসর হই ও তৎপর থাকি। আপনার করুণা কামনা করি ও শাস্তিকে ভয় করি। নিশ্চয় আপনার কঠিন শাস্তি কাফেরদেরকে স্পর্শ করবে। হে আল্লাহ্ যে সমস্ত কাফের আপনার পথ থেকে বাধা দেয় তাদেরকে শাস্তি দিন।"

৩) আলী বিন আবী তালেব (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বিতরের শেষ রাকাতে এই দু'আটি পড়তেন। اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُودُ برضَاكَ مِنْ سَخَطِكَ وَبِمُعَافَاتِكَ مِنْ عُقُوبَتِكَ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْكَ لا أَحْصِي تَنَاءً عَلَيْكَ أَنْتَ كَمَا أَثْنَيْتَ عَلَى نَفْسِكَ

উচ্চারণঃ আল্লাহুম্মা ইন্নী আঊযু বিরিযাকা মিন সাখাতিকা ওয়া বি মুআফাতিকা মিন ঊকূবাতিকা ওয়া আঊযুবিকা মিনকা লা উহী ছানাআন্ আলাইকা, আন্তা কামা আছনায়তা আলা নাফসিকা।

অর্থঃ “হে আল্লাহ্ নিশ্চয় আমি আপনার সন্তুষ্টির মাধ্যমে আপনার অসন্তুষ্টি থেকে আশ্রয় কামনা করছি। আপনার নিরাপত্তার মাধ্যমে আপনার শাস্তি থেকে আশ্রয় চাচ্ছি। আপনার মাধ্যমে আপনার ক্রোধ থেকে আশ্রয় কামনা করছি। আমি আপনার গুণগাণ করে শেষ করতে পারব না। আপনি নিজের প্রশংসা যেভাবে করেছেন আপনি সেরূপই।”

দু'আ শেষ করার সময় পাঠ করবে, صلى الله وسلم على نبينا محمد وآله وصحبه ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين ছাল্লাল্লাহু ওয়া সাল্লামা আলা নাবিয়িয্না মুহাম্মাদ ওয়া আলিহি ওয়া ছাহবিহি, ওয়া মান তাবিআহুম বি ইহসানিন্ ইলা ইউমিদ্দীন।

টিকাঃ
১. তিরমিযী, অধ্যায়ঃ বিতর নামায, অনুচ্ছেদঃ বিতরে কুনূতের বিবরণ হা/৪২৬। নাসাঈ, অধ্যায়ঃ কিয়ামুল্লায়ল ও দিনের নফল নামায, অনুচ্ছেদঃ বিতরের দু'আ হা/১৭২৫। আবু দাউদ, অধ্যায়ঃ বিতর নামায, অনুচ্ছেদঃ বিতরে কুনূতের বিবরণ, হা/১২১৪। ইবনু মাজাহ, অধ্যায়ঃ নামায প্রতিষ্ঠা করা ও তাতে সুন্নাত, অনুচ্ছেদঃ বিতরে কুনূতের বিবরণ, হা/১১৬৮। শায়খ আলবানী হাদীছটিকে ছহীহ বলেছেন, দ্রঃ ইরউয়াউল গালীল, হা/৪৪৯। মেশকাত- আলবানী ১/৩৯৮পৃঃ হা/১২৭৩।
১. ছহীহ ইবনু খুযায়মা হা/ ১১০০। বায়হাকী সুনানে কুবরা ২/২১১। শায়খ আলবানী এর সনদকে ছহীহ বলেন, দ্রঃ ইরউয়াউল গালীল, ২/১৭০।
১. আবু দাউদ, অধ্যায়ঃ বিতর, অনুচ্ছেদঃ বিতরে কুনূত পাঠ করা, হা/১২১৫। নাসাঈ, অধ্যায়ঃ কিয়ামুল্লায়ল ও দিনের নফল নামায, অনুচ্ছেদঃ বিতরের দু'আ হা/১৭২৭। শায়খ আলবানী হাদীছটিকে ছহীহ বলেছেন, (দ্রঃ ইরউয়াউল গালীল, হা/৪৩০। মেশকাত-আলবানী ১/৩৯৯পৃঃ হা/১২৭৬।)
২. কুনূতের শেষে নবীজীর উপর দরূদ পাঠ করা ছাহাবায়ে কেরামের কর্ম থেকে ছহীহ সূত্রে প্রমাণিত। যেমনটি উল্লেখ করেছেন শায়খ আলবানী। দ্রঃ ইরউয়াউল গালীল, ২/১৭৭।

📘 বিতর নামায > 📄 দু'আ কুনূতের সময় তাকবীর দেয়া ও তাকবীরে তাহরীমার মত দু'হাত উত্তোলন

📄 দু'আ কুনূতের সময় তাকবীর দেয়া ও তাকবীরে তাহরীমার মত দু'হাত উত্তোলন


সাধারন মানুষ এটাকে উল্টা তাকবীর বলে থাকে। হেদায়ার গ্রন্থকার লিখেছেন, দু'আ কুনূত পড়ার সময় তাকবীর দিবে এবং দু'হাত উত্তোলন করবে। কেননা রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, “সাতটি স্থান ব্যতীত অন্য কোথাও হাত উত্তোলন করা যাবে না। সে সাতটি স্থানের মধ্যে একটি হলো কুনুতের সময়।”

ইমাম যায়লাঈ আল্ হানাফী স্বীয় গ্রন্থে বলেন: এ হাদীছটি হেদায়ার লেখক উল্লেখ করেছেন, কিন্তু হাদীসের মূল এবারতে (বাক্যে) কুনূত শব্দটির উল্লেখ কোথাও নেই।

সুতরাং কুনূতের সময় তাকবীর দিয়ে হাত উত্তোলনের কথাটি নিছক হেদায়ার লেখকের কথা, নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর কথা তো নয়ই, এমন কি কোন সাহাবী বা তাবেঈর কথা নয়। তাছাড়া (সাত স্থান ব্যতীত অন্য কোথাও হাত উত্তোলন করা যাবে না) হাদীছটি মারফু' ও মাওকুফ কোন সূত্রেই ছহীহ নয় তথা রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বা কোন ছাহাবী থেকে প্রমাণিত নয়।

অবশ্য মুহাম্মদ বিন নসর আল মারওয়াযী স্বীয় 'কিয়ামুল লাইল' নামক গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, কতিপয় ছাহাবী কুনূতের সময় তাকবীর দিতেন। কিন্তু আল্লামা মোবারকপুরী বলেন, যে সকল ছাহাবী কুনূতের সময় তাকবীর দিতেন বলে দাবী করা হয়, তার পক্ষে কোন সনদ খুজে পাওয়া যায় না।

হাদীছ শাস্ত্রের কষ্টি পাথরে যাচাই করে প্রমাণিত হলো দু'আ কুনূতের জন্য তাকবীর দেয়া এবং (কাঁধ বা কান বরাবর) উভয় হাত উত্তোলন করা কোন হাদীছের কথা নয়, বরং কুরআন-সুন্নাহর অনুসরনকারীর জন্য উচিত হল আল্লাহর রাসূল মুহাম্মাদ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ছাড়া অন্য কারো কথার প্রতি কর্ণপাত না করা, একমাত্র তাঁরই আনুগত্য করা।

টিকাঃ
১. বিস্তারিত দেখুন ইমাম যায়লাঈ হানাফী (রহঃ) প্রণীত নসবুর রয়া ১ম খন্ড ছালাত অধ্যায়ঃ হাদীস নং ৩৮এর আলোচনা। (১/৪৬৯-৪৭১পৃঃ।) এ হাদীছটি বিভিন্ন সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। যেমন ত্ববরানী মু'জাম কাবীর গ্রন্থে কয়েকটি সূত্রে ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন। কোন বর্ণনাই বিশুদ্ধ নয়। ইমাম বুখারী (রফউল ইয়াদায়ন) গ্রন্থে ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন অতঃপর উহাকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। অনুরূপভাবে বায্যার স্বীয় সনদে ইবনে আব্বাস ও ইবনে ওমার থেকে হাদীছটি বর্ণনা করেন এবং মত প্রকাশ করেন যে হাদীছটি বিশুদ্ধ নয়। এমনিভাবে হাকেম (মুস্তাদরাক) গ্রন্থে ইবনে আব্বাস ও ইবনে ওমার থেকে হাদীছটি বর্ণনা করেন। আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে এই ইবনে ওমার ও ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে একাধিক ছহীহ সূত্রে প্রমাণিত হয়েছে যে, উক্ত সাতটি স্থানের বাইরেও দু'হাত উঠানো যায়। যেমন নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রুকুর পূর্বে ও পরে হাত উঠিয়েছেন, ইস্তেস্কার নামাযে হাত তুলেছেন।
১. দেখুন তোহফাতুল আহওয়াযী ৪৬৪ নং হাদীসের আলোচনা।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00