📘 ভুলে ভুলে জীবন পার > 📄 ওযুতে কি প্রত্যেকটি অঙ্গ জন্য ভিন্ন ভিন্ন দোয়া রয়েছে?

📄 ওযুতে কি প্রত্যেকটি অঙ্গ জন্য ভিন্ন ভিন্ন দোয়া রয়েছে?


ওযুর পূর্বে ও পরে বিভিন্ন দোয়া সহীহ হাদীসে এসেছে যা প্রসিদ্ধ ও সকলেরই জানা আছে। কিন্তু কোন কোন ওজিফার বইয়ে প্রত্যেক অঙ্গ ধৌত করার যে ভিন্ন ভিন্ন দোয়া বিদ্যমান রয়েছে তা কোন নির্ভরযোগ্য বর্ণনার মাধ্যমে পাওয়া যায় না। আর এক্ষেত্রে অনেক মানুষ ধারণা করে ওযু করার জন্য প্রত্যেক অঙ্গ ধৌত করার ক্ষেত্রে আলাদা আলাদা দোয়া পড়তে হয়। এগুলোকে হাদিসের দোয়া মনে করে থাকে কিংবা ওযুর সুন্নত মনে করে থাকে।

আবার অনেক মানুষকে দেখা যায় কোন হুজুরকে যদি অজু করতে দেখে তাহলে বলে ফেলে হুজুর আযূ অঙ্গ ধৌত করার সময় তো কোন দোয়া পড়তে দেখলাম না। তারা এ সমস্ত বানোয়াট ওজিফার বই পড়ে নিজেকে বড় জ্ঞানী মনে করে। অথচ হুজুর তো হাদীসের বড় বড় কিতাব থেকে জ্ঞান অর্জন করেছে, তাই সে জানে বিধায় তা করেনি। এখন যদি আমরা ছোটখাটো বানোয়াট বই থেকে জ্ঞান অর্জন করে বড়দেরকে প্রশ্নবিদ্ধ করি তাহলে এটা মূর্খতা ছাড়া আর কিছুই নয়।

তবে হ্যাঁ, যদি কেউ জানার উদ্দেশ্যে বলে থাকে তাহলে সেটা ভিন্ন কথা। কিন্তু এমনটি কমই হয়; বরং আরো মানুষের কাছে বলে বেড়ায় হুজুর কিছুই জানেনা। এটাও একটি মারাত্মক জ্ঞানহীনতার পরিচয়। এমনটি ভুল ধারণা। এগুলো হাদিসের নির্ভরযোগ্য কোনো বর্ণনায় পাওয়া যায় না। (আল-আযকার, নববী, আল-ফুতুহাতুর রব্বানিয়্যাহ শরহুল আযকারিন নাবাবিয়্যাহ, ২০/২৭-৩০ পৃঃআসিয়ায়াহ ফী কাশফী মা ফী শরহিল বিকায়াহ, ১/১৮১- ১৮৩)

📘 ভুলে ভুলে জীবন পার > 📄 হাঁটুর উপর কাপড় উঠলে কি ওযু ভেঙ্গে যায়?

📄 হাঁটুর উপর কাপড় উঠলে কি ওযু ভেঙ্গে যায়?


অধিকাংশ মানুষকে বলতে শোনা যায় অজু করার পর হাঁটুর উপর কাপড় উঠলে ওযু ভঙ্গ হয়ে যায়, তেমনি ভাবে পা ধৌত করার সময় যদি হাঁটুর কাপড় উঠে যায় তাহলে ওযু ভঙ্গ হয়ে যায়। তাই আবার নতুন করে শুরু করতে হয়। এরূপ ধারণা করা ঠিক নয়। হাঁটু সতরের অন্তর্ভুক্ত এবং তা ঢেকে রাখা আবশ্যক। তাই পা ধৌত করার সময় সতর্কতার সাথে ধৌত করা উচিত, যেন হাঁটুর উপর থেকে কাপড় সরে না যায়। কিন্তু এমন ধারণা করা ঠিক নয় যে, হাঁটুর উপর থেকে কাপড় সরে গেলে অযু ভঙ্গ হয়ে যায় কিংবা ওযুর মাঝে এমনটি হলে আবার পুনরায় নতুন করে শুরু করতে হয়। এমন ধারণা করা উচিত নয়। কোরআন হাদিসে এর কোন দলিল প্রমাণ পাওয়া যায় না যে, হাঁটুর উপর থেকে কাপড় সরে গেলে উযূ ভঙ্গ হয়ে যাবে। এমনকি ওযু ভঙ্গের কোনো কারণেও এমন কথা বর্ণিত নেই। এটা একটা ভিত্তিহীন কথা ছাড়া আর কিছুই নয়।

📘 ভুলে ভুলে জীবন পার > 📄 গায়ের মাহরামের সাথে কথা বললে ওযু নষ্ট হয়ে যায়

📄 গায়ের মাহরামের সাথে কথা বললে ওযু নষ্ট হয়ে যায়


কিছু মানুষকে বলতে শোনা যায় গায়রে মাহরামের সাথে কথা বললে ওযু নষ্ট হয়ে যায় এমনটি ধারণা করা ঠিক নয়। তবে বিনা প্রয়োজনে গায়রে মাহরামের সাথে কথা বলাও জায়েজ নয়। এমনকি প্রয়োজনে কথা বললেও তা যেন কোমল স্বরে না হয় সে ব্যাপারে কুরআনুল কারীমে সতর্ক করা হয়েছে।

তবে লক্ষণীয় বিষয় হলো গায়রে মাহরামের সাথে কথা বললে ওযু নষ্ট হয় না। এটাও একটি ভুল ধারণা। এসব ভুল ধারণা থেকে আমাদের বেঁচে থাকতে হবে।

📘 ভুলে ভুলে জীবন পার > 📄 অপবিত্র অবস্থা নিয়ে একটি ভুল ধারণা

📄 অপবিত্র অবস্থা নিয়ে একটি ভুল ধারণা


অনেক মানুষ ধারণা করে থাকে যে, গোসল ফরজ হওয়ার পর মানুষ নাপাক হয়ে যায়। অথচ হাদীস শরীফে আছে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন মুমিন কখনো নাপাক হয় না। অথচ বর্তমানে মানুষ ফরজ গোসল হওয়া ব্যক্তিকে ঘৃণিত এবং নাপাক মনে করে থাকে। এমনকি তার কাছেও যেতে চায় না এবং তাকে দিয়ে কোনো কাজকর্ম কিংবা রান্নাবান্নাও করাতে চায় না। অনেক মানুষ ধারণা করে যে, তাকে দিয়ে রান্নাবান্না করালে কিংবা কোনো কাজ করালে সেগুলো বরকতহীন হবে। এটি একটি মারাত্মক ধরনের ত্রুটি ও কুসংস্কার এবং অপর মুমিনকে কষ্ট দেওয়াও বটে। যেখানে মুমিনকে কষ্ট দেওয়ার ব্যাপারে হাদীস শরীফে স্পষ্টভাবে নিষেধ করা হয়েছে অথচ আমাদের এরকম আচরণে সেই ব্যক্তিটি অবশ্যই কষ্ট-ক্লেশ ভুগতে হয়। তাই আমাদের এগুলো থেকে বিরত থাকতে হবে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00