📄 আমরা সকলেই আসক্ত বা addicted
আজ এমন এক বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হবে যার সঙ্গে আমরা প্রত্যেকেই জড়িত। তবে পার্থক্য হল এই—
كُلٌّ يَعْمَلُ عَلَى شَاكِلَتِهِ فَرَبُّكُمْ أَعْلَمُ بِمَنْ هُوَ أَهْدَى سَبِيلًا
প্রত্যেকে তার নিজ রীতি অনুসারে কাজ করে। কিন্তু তোমার প্রতিপালক ভাল করে জানেন, কে সর্বাপেক্ষা নির্ভুল পথে আছে। ২ অর্থাৎ প্রত্যেকেই প্রত্যেকের সুবিধামত জড়িত। বিষয়টির নাম আসক্তি বা addiction. কেউ যখন আসক্ত হয়, তাকে বলা হয় addicted.
যুবক হলে পর্নাসক্তি, মাস্টারবেশনে আসক্তি অথবা নেশা বা মাদকাসক্তি। আর যদি বুড়ো টাইপের হয় তবে পরনারীর প্রতি দৃষ্টি দেওয়ার নেশা। শক্তি নেই, দুর্ঘটনা ঘটাবে এ রকম সুযোগও সে পাবে না জানে; তবু রাস্তাঘাটে দাঁড়িয়ে থাকে। কাজের মেয়েকে 'মা' বলে ডাক দেয়, মনে কিন্তু অন্য চিন্তা। স্কুল ছুটি হলে দাঁড়িয়ে থাকে। এটাও এক প্রকার আসক্তি। এই বুড়োও addicted.
শিশুদের রয়েছে গেম আসক্তি। এমনও হয়, সন্তান যখন খানা খায় না অথবা কথা শোনে না, মোবাইলটা হাতে দিয়ে দিলে খানা খাচ্ছে, কথা শুনছে। একবার আমাকে এক ভাই শোনাচ্ছিলেন, তার সন্তানের খবর। বলছিলেন, হুজুর! সন্তানের বয়স চার বছর/সাড়ে চার বছর। আগে বুঝিনি। এ ৫/৬ মাস থেকে তাওবা করেছি। এখন বাচ্চার হাতে হিন্দি গান না দিলে খানা খায় না। গেম দিলেও খানা খায় না। কুরআন তেলাওয়াত বা অন্য কোনো কিছু দিলেও খায় না। ওই হিন্দি গানটাই দিতে হবে। এটাও আসক্তি। শিশুটি মোবাইল addicted.
আমরা অনেক দীনদার আছি বিভিন্ন সিরিয়ালে আসক্ত। এখন বিভিন্ন সিরিয়াল আছে। হিন্দি সিরিয়াল তো আছেই। কত বছর আগে শুরু হয়েছে কে জানে, আবার কত বছর পর গিয়ে শেষ হবে তাও জানা নেই! আবার ইদানীংকালে ইসলামের নামেও কিছু সিরিয়াল আছে। অনেকে ওগুলাতেও আসক্ত।
এভাবে প্রত্যেকেই যদি চিন্তা করি তাহলে এ আসক্তির ব্যপারটা কিন্তু আমাদের প্রত্যেকের মাঝেই আছে। তবে পার্থক্য হল كُلٌّ يَعْمَلُ عَلَى شَاكِلَيْهِ মিয়া বুড়ার মতো করে আসক্ত, যুবক যুবকের মতো করে আসক্ত। আর আমাদের মতো হুজুররা হুজুরের মতো করে আসক্ত। 'মৌলভি কা শয়তান মৌলভি হোতা হেয়' মৌলভি সাহেবের শয়তান মৌলভি সাহেব হয়! আমরা যারা হুজুর আমাদের শয়তানটাও হুজুর টাইপের। দিন শেষে আমরা প্রত্যেকেই আসক্ত।
টিকাঃ
২ সূরা ইসরা : ৮৪
📄 এ আসক্তিটা কেন এবং ইসলাম কী চায়?
আসলে আসক্তিটা মানুষের স্বভাবজাত, সৃষ্টিগত। সুতরাং আমি আর আপনি যদি চাই যে, এটা থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত হব- সম্ভব নয়।
ইসলাম কী চায়? ইসলাম বলে এটাকে নিয়ন্ত্রণ কর। এটাকে ঘুরিয়ে দাও। তোমার মধ্যে যে স্বভাবটা আছে এটাকে ভালো দিকে নিয়ে যাও। তোমার এই নফসের চাহিদা বা আসক্তি এটা কিন্তু চলমান। তুমি চাইলেও এটাকে বন্ধ করতে পারবে না।
তবে এর দৃষ্টান্ত হল, আটা পিশার চাকতির মতো। চাকতির নিচে যদি গম রাখা হয়, আটা বের হবে, বালি রাখলে বালি বের হবে, ইট রাখলে ময়লা বের হবে, ময়লা রাখলে ময়লা বের হবে।
অনুরূপভাবে আমরা যদি আসক্তির জায়গায় নেক আমলের প্রতি ভালোবাসা, হালাল জিনিসের প্রতি আগ্রহ এনে দিতে পারি তাহলে এ জিনিসটাই অনেক সুন্দরভাবে কাজে আসবে। এ জিনিসটাই আমাদের মধ্যে অনেক নেক আমলের জন্ম দিবে।
📄 কোন্ গুনাহগুলো আমাদের জীবনের জন্য সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ
তাহলে কোন গুনাহগুলো আমাদের জীবনের জন্য সবচেয়ে ভয়াবহ এবং ঝুঁকিপূর্ণ?
ওই গুনাহগুলো যেগুলো আসক্তির পর্যায়ে। আসক্তির পর্যায়ে যে গুনাহগুলো সেগুলোই আমাদের জীবনের জন্য সবচেয়ে মারাত্মক ও ঝুঁকিপূর্ণ।
বিচার দিবসে এমনটা খুব কম হবে যে, একজন ব্যক্তি হাজার হাজার আইটেমের গুনাহের কারণে জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হয়েছে; বরং একই টাইপের গুনাহ বারবার বারবার এবং বারবার করার কারণে জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হয়েছে এমনটা বেশি ঘটবে। আল্লাহ তাআলা এ কথাই বলেন যে بَلَى مَنْ كَسَبَ سَيِّئَةً হ্যাঁ, যে ব্যক্তি গুনাহ করে। অর্থাৎ গুনাহ করে হয়তো একটা। ব্যাস! তারপর মজা পেয়ে যায় এবং একটা পর্যায়ে وَأَحَطَتْ بِهِ خَطِيْتُهُ ওই গুনাহটা তাকে চারিদিক থেকে ঘিরে ফেলে। একটা বাউন্ডারি তৈরি দেয়। সে ওই গুনাহটিতে আসক্ত হয়ে যায়। এখন সে এখান থেকে আর বের হতে পারে না। আল্লাহ বলেন—
فَأُولئِكَ أَصْحَابُ النَّارِ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ
সুতরাং এরাই জাহান্নামী। এ টাইপের গুনাহের কারণে এরা জাহান্নামে যাবে এবং চিরস্থায়ী জাহান্নামে যাবে। ৭
টিকাঃ
৭ সূরা বাকারা: ৮১